আমার প্রিয় পোস্ট

ভালোবাসার ঊর্বশী বুকে লেখা আছে এক নাম- সে আমার দেশ, আলগ্ন সুন্দর ভূমি- বিমূর্ত অঙ্গনে প্রতিদিন প্রতিরাত জেগে ওঠে তার উদ্ভাসিত মুখ

পদ্য রচনা ও আধুনিক কবিতা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৪৫

শেয়ারঃ
0 0 0

পদ্য রচনা ও আধুনিক কবিতা/ শেখ জলিল

আধুনিক কবিতা হলো একটি শব্দ শব্দ খেলা। উপমা, উৎপ্রেক্ষা এবং ভাবানায় তা হয়ে ওঠে আরো পরিপূর্ণ। যিনি যতো বেশি শব্দ নিয়ে খেলবেন তিনি ততো বেশি ভালো লিখবেন। প্রতিটি শব্দ যদি হ’য়ে ওঠে চিত্রকল্প তবেই না কবিতার স্বার্থকতা। তারপর অন্তমিল, ছন্দের বুনন, শব্দ চয়ন তো আছেই। তবে ছন্দহীন টানা গদ্যের শেষে অন্তমিল কোনো কবিতার পর্যায়ে পড়ে না। সেটাকে নিতান্ত পদ্যের পর্যায়েও ফেলা যায় না। পদ্যেও কিন্তু ছন্দ থাকে, তবে কবিতার মতো ভাবানার বিশালতা, উপমা, উৎপ্রেক্ষা বা চিত্রকল্পের বালাই নেই সেখানে। আছে শুধু গল্প-উপন্যাসের মতো ধারা বর্ণনা। বিশ্ব-কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ অনেক কবিই অনেক ভালো ভালো কবিতার মাঝে বেশ পদ্যও লিখে গেছেন।

আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে
পার হয় কত গরু পার হয় গাড়ি
দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি----রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
............................এটি নিতান্তই একটি পদ্য।

হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে
সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরে অনেক ঘুরেছি আমি
আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে-----জীবনানন্দ দাশ
.............................এটি একটি আধুনিক কবিতা।

প্রথমক্তো পদ্যে রয়েছে ধারা বর্ণনা একটি ছোটো নদীর, গ্রামের জীবনের। এটি একটি অন্তমিলযুক্ত মাত্রাবৃত্ত ছন্দে ছন্দোবদ্ধ পদ্য- যা অনেকটাই সরল রৈখিক গদ্যের বর্ণনার মতো। কিন্তু আধুনিক কবিতার ভাষা অনেক নান্দনিক, শব্দ-শাসিত, চিত্রকল্পে ভরপুর ও ছন্দ বৈচিত্রপূর্র্ণ। তাই দ্বিতীয়টি একটি আধুনিক কবিতা। যার পংক্তি শেষে অন্তমিল নাই কিন্তু অন্তস্থলে রয়েছে মুক্তক অক্ষরবৃত্ত ছন্দ। এখানে কবি তার চল্লিশোর্ধ বয়সে হাজার বছর ধ’রে হাঁটার কথা বলেছেন, যা হাজার বছরের বাঙ্গালী নাবিকের পরিভ্রমণের ঈঙ্গিত বহন করে। কবিতার শুরুতেই এই যে শব্দ-চয়ন বা বাক্য-গঠন এটাই হলো কবিতা।

আমি বিশ্বাস করি- কবিতা হবে মানুষের ঠোঁটের ভাষা, মনের কথা। আমরা যারা কবিতা লিখি তারা যদি সহজবোধ্য কথায় বড়ো মেসেজ দিতে পারি তবেই না আমাদের স্বার্থকতা। কবিতা লিখতে ছন্দ লাগে এ কথা আমিও মানি। আমি আমার কবিতায় ছন্দও ব্যবহার করি। সেটা মানে শুধু শেষে মিল বা অন্তমিল নয়, অন্তর্নিহিত ছন্দ। আধুনিক কবিতায় যেটা মুক্তক অক্ষরবৃত্ত বা গদ্যছন্দের পর্যায়ে পড়ে। তবে এটাই শেষ কথা নয়। আধুনিক অনেক কবিই ছন্দ মানেন না বা জানেন না। তাতে কোনো অসুবিধাও নেই, কবিতা হবেই। তারা বড়ো কবিও হ’লে হ’তেও পারেন। তবে আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি কোনো কিছু ভাঙতে হলে তা কেমন করে গড়া হয়েছে তা জানতে হয় আগে। যেটা করেছেন শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল-মাহমুদ, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, রফিক আজাদ, হেলাল হাফিজ, নির্মলেন্দু গুণসহ আরও অনেক কবি।

১১.০৫.২০০৬

**লেখাটি পূনরায় পোস্ট করা হলো।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতার কথা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা বিষয়ক  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:৫৬
মুকুল বলেছেন:
জলিল ভাই, অনেক ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানতে পারছি। আপনার অব্যাহত লেখা আশা করছি। শুভ কামনা।
*****
২. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১০:৫৯
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: খুব ভালো লাগলো লেখাটা।
শুভেচ্ছা নিন।
৩. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৯
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন: ভালো লিখেছেন।

আমারও একই মত যে ক্লাসিক ছন্দের নিয়ম বা রীতিগুলো জেনে তাকে অস্বীকার করাই উত্তম,কেননা ছন্দ না জানলে ছন্দ ভাঙার বিষয়টি কেউ বললে তা হাস্যকর বটে।আধুনিক কবিদের প্রবনতা খুবই ভাংচুর করা,কিন্তু মৌলিক বিষয়গুলি না জেনেই!আমার মনে হয় ছন্দ বিষয়টি জানা অপরিহার্য নয় তবে গতিশীলতা আনার জন্য অনেক অপরিহার্য।

যাহোক বনলতা সেন কবিতায় জীবনানন্দ মুক্তক অক্ষরবৃত্ত ছন্দ ব্যবহার করেছেন তা ঠিক,কিন্ত বাক্য শেষে অন্তমিল নেই এটা ভুল।

বনলতা সেনের অন্তমিলগুলো অনেকটা সনেটের অন্তমিলের মতো,অন্তমিলগুলো এরকম:-<br />
পথে -ক
সাগরে-খ
জগতে-ক
নগরে-খ
সফেন-গ
সেন -গ

নিশা- ঘ
পর-ঙ
দিশা-ঘ
ভিতর-ঙ
ছিলেন-গ
সেন-গ

মতন-গ
চিল-চ
আয়োজন-গ
ঝিলমিল-চ
লেনদেন-গ
সেন- গ

"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা"-এ বাক্যো অন্তানুপ্রাসের চমতকার ও দরুন প্রয়োগ দেখি!"তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার" মধ্য "র" অন্তানুপ্রাসে চমতকার ব্যবহৃত।

ভালো লাগলো আপনার লেখা+
৪. ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৯
ফারহান দাউদ বলেছেন: জানার মত লেখা। খুব দারুণ।
৫. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:৪৫
মুজিব মেহদী বলেছেন: ব্লগে কবিতা বিষয়ে এরকম অ আ ক খ ধরনের লেখা প্রকাশ করা খুব জরুরি। অনেকের কাছেই কবিতা ও পদ্যের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট নয় বলে মনে হয়। তারা বেশ উপকৃত হবেন। তাছাড়া আজও বোধহয় একজনের পোস্টে দেখলাম 'কীভাবে কবিতা লিখতে হয়' তা জানতে চাচ্ছেন। এই শ্রেণির ব্লগারদের জন্যও এরকম পোস্ট বেশ কাজে দেবে।

কবি শেখ জলিল, আপনি কিছুদিন এরকম একটি সিরিজ চালিয়ে যেতে পারেন।
৬. ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ১১:৪৩
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: আমি নিদারুন উপকৃত.....আনন্দিত। আপনার লেখা চলতে থাকুক

আমার ব্লগিং সার্থকতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে দেখি....
৭. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:১২
কাল্‌বেলা বলেছেন:
কবি শেখ জলিল,
আপনার এই ধরনের লেখাগুলো চলতে থাকুক............

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬১৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রথম লেখালেখির প্রচেষ্টা (ছড়া-কবিতা): ১৯৭৫ সালে বড়ো ভাইয়ের প্রেরণায়।

প্রথম লেখা প্রকাশ (কবিতা): ১৯৮৩ সালে ‌'পত্রমুকুল' নামক একুশে সংকলনে, কলাবাগান স্টাফ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ