আমার প্রিয় পোস্ট
- হাজার বছরের পুরোনো রক্তে ভেজা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি, অমর একুশের চেতনা এবং ভিনদেশী সংস্কৃতির নগ্ন আগ্রাসন - ইশতিয়াক আহমেদ চয়ন
- একজন নাগরিক কবিয়াল প্রিয় লতিফুল ইসলাম শিবলি ভাইকে খুব মনে পড়ে! - কবি ও কাব্য
- জীবনানন্দ দাশ : 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ - একরামুল হক শামীম
- আজম খানকে নৈবেদ্য - তাঁর কীর্তি সমগ্র - কবির চৌধুরী
- যুগে যুগে বাংলা সাহিত্য - বৃষ্টিধারা
- জায়গীরনামা---একটি বই , একটি ইতিহাস, একজন ডাক্তার/ব্লগার/লেখকের উত্থান কষ্ট - পথিক!!!!!!!
- শেখ জলিলের ‘জায়গীরনামা’-এক কিশোরের অন্য আবাস এর গল্প - সুনীল সমুদ্র
- ২০০৮ : সামহোয়্যারইন ব্লগের বর্ষসেরা কবিতা (ব্লগারদের মনোনয়ন) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- আজ কি আমার বিকেলগুলো, অন্য কারো? - সুনীল সমুদ্র
- শীতার্ত সেমিনার - মুজিব মেহদী
- বাংলা ব্লগের বিবর্তন ও সম্ভাবনা - রেজওয়ান
- আমার কোনদিন দুধ চা খাওয়া হবেনা - নজমুল আলবাব
- কবির আত্মকথন ,কবিতার সুষম সাম্রাজ্য - ফকির ইলিয়াস
- কবিতার কৃত্য - রায়হান রাইন
- সুনীল সমুদ্রের কবিতা - শেখ জলিল
- ব্লগারদের বই নিয়ে ব্লগব্লগর- ১ - শেখ জলিল
- । । বাবা ও তাঁর নি:শ্বাস এবং 'বু জি'র জন্য এলিজি । । - হাসান মোরশেদ
- চির-দুঃখিনী মা আমার - শেখ জলিল
- বাবাকে মনে পড়ে! - শেখ জলিল
- ব্লগীয় স্মৃতিচারণ ২০০৭ ( পর্ব ২ ) - মাহবুব সুমন
- পড়লাম ব্লগার শেখ জলিল ভাইয়ের গল্পের বই -' অতৃপ্ত আকাঙ্খা' - পথিক!!!!!!!
- । । কবি শেখ জলিলের সাথে কবিতা বিষয়ক আলাপচারিতা । । - হাসান মোরশেদ
- শেখ জলিলের লেখা কেমন লাগে? (৪) - এস এম মাহবুব মুর্শেদ
ভালোবাসার ঊর্বশী বুকে লেখা আছে এক নাম- সে আমার দেশ, আলগ্ন সুন্দর ভূমি- বিমূর্ত অঙ্গনে প্রতিদিন প্রতিরাত জেগে ওঠে তার উদ্ভাসিত মুখ

কবিতার প্রাথমিক ছন্দ
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৪
কবিতার প্রাথমিক ছন্দ/ শেখ জলিল
প্রথমেই বলতে হয় আমি ছন্দ বিশারদ নই কিংবা বাংলার ছাত্রও ছিলাম না। কবিতা লিখতে গিয়ে যতটুকু শিখেছি, তার বেশি জানি না। হাতের কাছে তেমন বইও নেই যা পড়েছিলাম আগে। সেই যে মাহবুবুল আলম-এর বাংলা ছন্দের রূপরেখা, ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের-এর বাংলা কবিতার ছন্দ কিংবা কবি আব্দুল কাদির-এর ছন্দ সমীক্ষণ কোনো বই-ই নেই এখন আমার কাছে। তাই ভুল হলে প্রথমেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
কবিতার প্রাথমিক ছন্দ মূলত তিনটি- স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত এবং অক্ষরবৃত্ত। আবহমানকাল ধরে এই তিন ছন্দেই ছড়া, কবিতা, গান বা গীতিনাট্য লেখা হয়ে আসছে। তাই এই তিন ছন্দের প্রাথমিক ধারণাই আজ দেবো।
স্বরবৃত্ত বা লৌকিক ছন্দ এসেছে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে। এই ছন্দ নাকি মানুষের ভেতর আপনাআপনি খেলে। তাইতো খনার বচন, আদি ছড়া এই ছন্দে সমৃদ্ধ। শ্বাসাঘাত বা একবারে উচ্চারিত অংশই এর একক মাত্রা। একটি ছড়ার লাইন দিয়ে একে বোঝানো যেতে পারে-
আয় ছেলেরা/ আয় মেয়েরা/ ফুল তুলিতে/ যাই
১+৩/১+৩/১+৩/১
ফুলের মালা/ গলায় দিয়ে/ মামার বাড়ি/ যাই
২+২/২+২/২+২/১
এখানে শ্বাসাঘাত বা একবারে যাতোটুকু উচ্চারিত হয়েছে তাতোটুকুকে একমাত্রা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ মাত্রাবিন্যাস দাঁড়িয়েছে এমন-
৪/৪/৪/১
৪/৪/৪/১
অথবা আর একটি ছড়া-
ঐ দেখা যায় তাল গাছ
১+২+১/১+২ (ব্যতিক্রম-এখানে গাছ-কে ২ মাত্রা ধরা হয়েছে)
ঐ আমাদের গাঁ
১+৩/১
ঐ খানেতে বাস করে
১+৩/১+২
কানা বগীর ছা
২+২/১
অর্থাৎ মাত্রাবিন্যাস দাঁড়িয়েছে এমন-
৪/৩, ৪/১, ৪/৩, ৪/১......এভাবেই চলে আসছে কবিতায় স্বরবৃত্ত ছন্দের খেলা।
এবার আসি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের কথায়। মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা কবিতাগুলো একটু টেনে টেনে পড়লেই ছন্দটা কানে বাজে বেশি। যারা গান করেন তাদের বুঝতে সুবিধা হবে- স্বরবৃত্ত যদি চলে কাহারবা বা ঝুমুর তালে তবে মাত্রাবৃত্ত চলবে দাদরা বা তেওড়া তালে। বেশ আগে থেকেই কবিরা এ ছন্দে কবিতা লিখে আসছেন। আধুনিক অনেক ছড়াকাররাও এ ছন্দ নিয়ে বেশ খেলছেন।
সন্ধি বিচ্ছেদে যেমন শব্দকে ভাঙতে হয়, তেমনি এ ছন্দেও শব্দকে ভেঙ্গে মাত্রার একক নির্ণয় করতে হয়। যারা স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি বোঝেন তাদের জন্য এ ছন্দ বুঝতে সুবিধা হবে। যেমন- সন্ধান=সন্+ধান=২+২=৪ মাত্রা, অভিধান=অ+ভি+ধান=১+১+২=৪ মাত্রা বা মৃত্যু=মৃত্+তু=২+১=৩ মাত্রা, শৈত্য=শৈত্+ত=২+১=৩ মাত্রা অথবা ল=লক্+খ=২+১=৩ মাত্রা,
আব= আ+বক্+খ=১+২+১=৪ মাত্রা বা কবিতা=ক+বি+তা=১+১+১=৩ মাত্রা, সুচরিতা=সু+চ+রি+তা=১+১+১+১=৪ মাত্রা। অর্থাৎ সংযুক্ত বর্ণের সংযোগ অংশের একবারে উচ্চারিত অংশ বা ধ্বনিকে সব সময় ২ মাত্রা ধরা হয়। যেমন একটি কবিতায়-
এইখানে-- তোর/ দাদীর --কবর
২+১+১--২/ ১+২--১+২=৬+৬
ডালিম --গাছের/ তলে
১+২--১+২/ ১+১=৬+২
তিরিশ বছর/ ভিজায়ে-- রেখেছি
১+২--১+২/ ১+১+১--১+১+১=৬+৬
দুই --নয়নের/ জলে
২--১+১+২/ ১+১=৬+২
অর্থাৎ মাত্রাবিন্যাসটা এ রকম--৬+৬, ৬+২, ৬+৬, ৬+২।
অথবা আর একটি কবিতায়-
আমাদের/ ছোট নদী/ চলে বাঁকে/ বাঁকে
১+১+২/১+১--১+১/১+১--১+১/১+১=৪+৪+৪+২
বৈশাখ/ মাসে তার/ হাঁটু জল/ থাকে
২+২/১+১--২/১+১--২/১+১=৪+৪+৪+২
অর্থাৎ মাত্রাবিন্যাসটা এ রকম--৪+৪+৪+২, ৪+৪+৪+২।
ছন্দের যাদুকর নামে খ্যাত কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কেমন করে স্বরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্ত নিয়ে খেলেছেন, এমনকি একই কবিতায় দুই ছন্দের ব্যবহারও করেছেন- সে গল্প পরের লেখায় বলার ইচ্ছে রইলো।
আমাদের তৃতীয় প্রাথমিক ছন্দ হলো অক্ষরবৃত্ত। এই অক্ষরবৃত্ত ছন্দ নিয়ে আধুনিক কবিরা সবচেয়ে বেশি খেলায় মেতেছেন আজকাল। পয়ার থেকে চতুর্দশপদী, অমিত্রাক্ষর, মুক্তক, গদ্যছন্দ কতভাবেই না এই ছন্দ ভাঙছেন তাঁরা কবিতায়- তার ইয়ত্তা নেই। তবে বোঝার দিক দিয়ে এই ছন্দ সবচেয়ে সোজা। শুধুমাত্র অক্ষর গুণে গুণে এই ছন্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। একক অক্ষর বা সংযুক্ত অক্ষরকে ১ মাত্রা ধরা হয়। তবে কখনো কখনো সংযুক্ত অক্ষরকে ২ মাত্রাও ধরা হয়। সেটা নির্ভর করবে কবির লেখার বানান-রীতির উপর। আরও একটি সহজ নিয়ম হলো হসন্ত বর্ণ স্বরবৃত্তে ১ মাত্রা, মাত্রাবৃত্তে ২ মাত্রা, অক্ষরবৃত্তে শব্দের প্রথমে বা মাঝখানে ১ মাত্রা কিন্তু শেষে ২ মাত্রা হবে। এবার আসা যাক ছন্দ বিশ্লেষণে। পয়ার চর্চার যুগে পুঁথি সাহিত্যের একটি কবিতায়-
১.
লাখে লাখে সৈন্য মরে/ কাতারে কাতার
২+২+২+২/ ৩+৩
শুমার করিয়া দেখে/ চল্লিশ হাজার
৩+৩+২/ ৩+৩ অথবা
২.
ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ/ হাঁটিয়া চলিল
৩+৩+২/ ৩+৩
কিছুদূর গিয়া মর্দ/ রওনা হইল
৪+২+২/ ৩+৩
অর্থাৎ ছন্দবিন্যাসটা এ রকম-
প্রথমটির ৮/৬, ৮/৬ এবং দ্বিতীয়টিরও ৮/৬, ৮/৬
কিংবা মুক্তক ছন্দে রচিত জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতায়-
অর্থ নয়, কীর্তি নয়,/ সচছ্লতা নয়-
২+২+২+২/ ৪+২
আরো / এক বিপন্ন বিস্ময়
২/ ২+৩+৩
আমাদের অন্তর্গত / রক্তের ভিতরে
৪+৪/ ৩+৩
খেলা করে
২+২
অর্থাৎ ছন্দবিন্যাসটা এ রকম- ৮/৬, ২/৮, ৮/৬, ৪
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে কবিতাগুলোতো একটা অষ্টক রীতি বা ৮ মাত্রা মিলানোর প্রচেষ্টা রয়েছে সর্বদা। এটাই হলো পয়ারের রীতি। আর হ্যাঁ, যেখানে ৮ মাত্রা মেলেনি সেখানে কিন্তু জোড় মাত্রা মেলাতে হবে, বিজোড় নয় কখনো। এটাই হলো অক্ষরবৃত্তের প্রাথমিক নিয়ম।
** লেখাটি পূনরায় পোস্ট করা হলো।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কবিতার ছন্দ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা বিষয়ক বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মুয়ীয মাহফুজ বলেছেন:
চমতকার লিখেছেন,প্রিয় পোস্টে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: প্রিয় পোস্টে রাখার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, ঠিক তাই। আমার ব্লগিং শুরুর প্রথমদিকের লেখা।
চলুক............।।
সেই সময়ের কিছু ভালো ভালো মন্তব্য আমি কষ্ট করে এডিট করে এ্যাড করে দিলাম জলিল ভাই। আশাকরি আরো নতুন কিছু পাব।
২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫
অতিথি বলেছেন:
সহজ, কনসাইজ এবং সুন্দর বর্ণনায় কতিার ছন্দ তুলে ধরবার জন্য ধন্যবাদ। উত্তর আধুনিক কবিতা কি ছন্দ মেনে লেখাহয় নাকি ছন্দই এসে ধরা দেয়? সুমন যে সংজ্ঞা দিয়েছেন সেটা অবশ্যি পছন্দ হয়েছে।
আরো লেখা আশা করছি।
২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫
হযবরল বলেছেন:
আপনার কথা ঠিক অপবাক , কিন্তু উনি যে বিষয় গুলি লিখছেন , সেটা কাউকে বলা না যে এ ভাবেই লিখতে হবে ।
২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫
অতিথি বলেছেন:
ভাল লিখেছেন । ছন্দ ভাঙতে গেলে আগে তাকে জানতে হবে । তবে আপনি যেগুলো বললেন তার বাইরেও কিন্তু ছন্দ আছে । এমনকি সোজা গদ্য হিসেবে লিখে গেলেও তাতে ছন্দ থাকে । সেই ছন্দকে অনুভব করতে হয় । ছন্দের মূল কথা হচ্ছে পূণরাবৃত্তি ।আমরা যে ভঙ্গিতে কথা বলি তারও একটা নিজস্ব ছন্দ আছে । তাতে নানাভাবে পূণরাবৃত্তি দেখতে পাবেন মন দিয়ে শুনলে । নিয়মিত ভাবে কেউ যদি এই পূণরাবৃত্তিগুলোকে ভাংতে থাকে সেখানে নতুন ছন্দের উৎপত্তি হয় । তবে ছন্দের জানা রূপগুলো থাকা না থাকার সঙ্গে কবিতার তেমন সম্পর্ক নেই । ছন্দ আঁটোসাঁটো হবে না ভাঙ্গা , সেটা নির্ভর করে বিষয়বস্তুর উপর । আর কবিতা হলো কিনা তার নিধর্ারণ আসলে কোন গৎ বাপা মাপকাঠিতে সম্ভব না । আমি যা বুঝি তাতে কবিতা তাই যা গদ্য নয় । অনেক পন্ডিতি করে ফেল্লাম না বুঝে । আসলে আপনার লেখাটি পড়ে ভালো লেগেছে , এটা বলতেই আসা । আরও লিখুন ।
২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫ কালপুরুষ বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। নিজের ভুল গুলো শুধরে নেয়া যাবে।
২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫ অপ বাক বলেছেন: কবিতা যারা লিখছে এবং যারা ছন্দ নিয়ে লিখছে তারা ভিন্ন ভিন্ন মানুষ, মজা হলো একই কবিতা নিয়ে তারা 2টা 3টা ছন্দে ভাঙছেন, বিষয়টা নিজস্ব অভিরূচির মতো। তবে রবি বাবুর কথা সত্য মানলে বলতে হয় কবিতার ছন্দ কবিতা পড়ার সাথে আসে, ওখানে এইসব মাত্রাগোনা, অক্ষর গোনা কোনো কাজে আসে না।
২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ৮:০৫ হযবরল বলেছেন: ভীষণ ভাল লিখা । থ্যাংকস । আমার কাজে আসবে । কারণ আমার কাছে কোন বই নেই এখন । আর আমার মনে হয় লাইনটা হবে , 'শুমার করিয়া দেখি , চল্লিশ হাজার '
২৩ শে মে, ২০০৬ রাত ১০:০৫ শমিত বলেছেন: তথ্যপূর্ণ উপকারী লেখা । আমার দু' পয়সা যোগ করলাম ।
>>> বাংলা ধ্বনিকে মোটা ভাবে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় ।
1. একক ধ্বনি :
যে ধ্বনিতে শুধু একটি মাত্র একক স্বরধ্বনি থাকে । ব্যঞ্জনধ্বনি থাকতে পারে তবে তা শেষে থাকে না । স্বরান্তধ্বনি নানাবিধ হতে পারে :
1.1 যেকোনোএকক স্বরবর্ণ। যেমন: অ , আ , ই , ঈ , উ , ঊ , ও , এ
1.2 ব্যঞ্জনবর্ণ + একক স্বরবণ ।
যেমন: থ (থ্ + অ) , চ (চ্ +অ) , কি (ক্ + ই) , কে (ক্ + এ) , ছি (ছ্ + ই) , সু (স্ + উ) ,
1.3 ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + একক স্বরবণ ।
যেমন : ক্ষ (ক্ + ষ্ + অ ) , হ্মী(হ্ + ম্ + , ব্লু (ব্ + ল্ + উ , প্রী (প্ + র্ + ঈ)
1.4 ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + একক স্বরবণ । যেমন: স্ক্রু (স্ + ক্ + র্ + উ) , ন্দ্র (ন্ + দ্ + র্ + অ)
2. যুগ্মধ্বনি :
যে ধ্বনিতে যুগ্ম স্বর এককভাবে বা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকে । যুগ্মধ্বনিও নানারকমের হতে পারে ।
2.1 যুগ্ম স্বরধ্বনি । যেমন : ঔ (ও + উ) , ঐ (ও + ই)
2.2 ব্যঞ্জনবর্ণ + যুগ্ম স্বরধ্বনি । যেমন : বৌ (ব্ + ও + উ) , সৈ (স্ + ও + ই)
2.3 ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + যুগ্ম স্বরধ্বনি । প্রৌ (প্ + র্ + ও + উ )
3. হলন্ত ধ্বনি বা হসন্তধ্বনি : যে ধ্বনির শেষে হল চিহ্ন বা হসন্ত চিহ্ন থাকে । এই ধ্বনি উচ্চারনগতভাবে দীর্ঘও গঠনগতভাবে জটিল হয় । একক স্বরধ্বনি , যুগ্ম স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি - সবকিছুই থাকতে পারে । তবে শর্ত একটাই , শেষে হসন্ত( ্ ) ধ্বনি থাকতে হবে ।
যেমন: কাক (ক্ + আ + ক্) , টাক (ট্ + আ + ক্ ), প্রাক্ (প্ + র্ + আ + ক্ ), ক্রৌন্ (ক্ + র্ + ও + উ + ন্ ), স্ত্রৈন্ (স্ + ত্ + র্ + ও + ই + ন্ )
উপরের ব্যাপারটা ঈষৎ জটিল লাগেেলা ের পরের ব্যাপারটি সোজা ।
>>> জলিলভাই যে তিনটি মূল ছন্দের কথা বলেছেন, সেই মতে ,
স্বরবৃত্ত : একক , যুগ্ম ও হলন্ত এই তিনটি ধ্বনিই এক (1) মাত্রা ।
মাত্রাবৃত্ত : একক ধ্বনি এক (1) মাত্রা । যুগ্ম ও হলন্ত ধ্বনি সবসময়েই দুই (2) মাত্রা ।
অক্ষরবৃত্ত : একক ধ্বনি সবসময়েই এক (1) মাত্রা । যুগ্ম ও হলন্ত ধ্বনি শব্দের শুরুতে বা মধ্যে বসলে এক (1) মাত্রা আর শব্দের শেষে বসলে দুই (2) মাত্রা ।
>>> এই সব আবর্জনা , নিয়মনিধি ও নামতাতত্ত্ব এই মুহূর্তে সাহিত্যের চারচৌহদ্দি থেকে হাটিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন । ছন্দ থাকুক কানে ; বই ও পন্ডিতের ভ্যাকর ভ্যাকরে নয় । প্রতিটি কবিতাই হোক নতুন ছন্দে লেখা , যার নিয়মনীতি গড়ে উঠুক শুধু সেই লেখাটির বিষয় ও আঙ্গিকের উপর ভিত্তি ক'রে । প্রতিটি কবিতার থাকুক নিজস্ব ছন্দ ।
২৪ শে মে, ২০০৬ ভোর ৫:০৫
অতিথি বলেছেন:
সবাই যে কবিতার ছন্দ বিষয়ক আমার লেখাটা সাদরে গ্রহণ করেছেন, সেটাই আমার পরম পাওয়া। নামোল্লেখ না করে সবাইকেই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সুমন এবং শমিত দু-জনকেই বিশেষ ধন্যবাদ নতুন তথ্য যোগকরার জন্য। আপনারাও লিখুন।
আমি আমার আর একটি লেখায় লিখেছিলাম- ছন্দ যে মানতেই হবে এমন কথা নেই, তাতেও কবিতা হবেই। আসলে কানের সাথে মনোসংযোগটাই বড়ো কথা। আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতায় দেখুন..কীসুন্দর শব্দচয়ন, উপমা, উৎপ্রেক্ষা। আবার যে জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, উপমাই কবিতা....তিনিও কিন্তু সারা জীবন মুক্তক অক্ষরবৃত্তেই পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবিতা লিখে গেছেন। রবীন্দ্রনাথও তাঁর শেষ কবিতায় গদ্যছন্দকে স্বাগত জানিয়ে গেছেন। আর আমাদের আধুনিক কবিরাতো সারাক্ষণই গদ্যছন্দেই বা মুক্তক অক্ষরবৃত্তেই বিচরণ করছেন।
মনে হয় অনেক বলে ফেললাাম। কাউকে ছন্দ শিখতেই হবে এমন কোনো উদ্দেশ্যে এ লেখাটি লিখিনি; তবে পড়ে কারো উপকারেও আসতে পারে..কেউ কেউ কবিতা বিষয়ে আরও আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন..সে জন্যেই আমি এ লেখাটি পোস্ট করেছি।
সবই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:৩৯
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
ছন্দ নিয়ে আমিও দুতিনটি বউ পড়েছিলাম। কিন্তু কবিতা মনের ভাব প্রকাশ , অয়কের সমীকরণে ফেলতে গেলেই ভাবে বাধা আসে। মনের আপন ছন্দই মেনে চলরাম পড়ে।
তবে জানা উচিৎ সবার।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:৪৯
অতিথি বলেছেন:
হা হা হা! লিখা দারুণ কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু কবিতা লিখা শুরুর আগে কেউ এই জ্ঞান নিতে গেলে তার আর কবিতা লিখা হবে কিনা এ ব্যাপারে আমার গভীর সন্দেহ।
৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ দুপুর ২:৫৫
রাগ ইমন বলেছেন:
খাইসে ............আমি তো দেখি কিছুই জানি না!!!!
পড়ার সময় নাই।
প্রিন্ট আউট নিয়া বাসায় যাই।
দেখি, মাথায় ঢুকাই!!!
[ এইটা "কাজের চাপে মাথার ঠিক নাই" ছন্দ.........]
৩১ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৩:০১
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর লেকা একটি বই ও আছে
নামঃ ছন্দ
বেশ জটিল .........বাব ব্যাকরন দিয়ে হয়না , মন দিয়ে হয়।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১১:১৭
অতিথি বলেছেন:
ডিম আগে না মুরগী আগে বিতর্কটা এই জায়গায় যাওনের চানস তৈরী হইছে। ছন্দ বাইরই হইছিলো কানের লেইগা, যাতে কবি যা লিখবো পাঠকও সেই সুরটা ধরতে পারে। এখন যদি কারো সামনে এই জ্ঞান আহরণের সুযোগ থাকে তাইলে নিবেন না ক্যান?
১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১১:২৫
অতিথি বলেছেন:
ছন্দ না জানার কারণেই ভাব আর ছন্দের সংঘাত নিয়া প্রশ্ন তৈরী হয়। জীবনানন্দ তো হাজার হাজার কবিতা লিখছেন...তার ভাবের সমস্যা কোথায় হইছে!? রবি ঠাকুর নিজে নতুন ছন্দ বানাইছেন তার কবিতায় তার নিদর্শণ আছে বহুত। আমাগো আল মাহমুদ কিম্বা শামসুর রাহমানরেও ছন্দ মাথার থেইকা ফালাইয়া খালি ভাবে লেখতে দেখি নাই কোন দিন। ছন্দ আর ভাব কখনোই কন্ট্রাডিক্টরী না! কবিতার ভাবের প্রয়োজনই তার ছন্দ তৈরী করে অনেকসময়।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১১:২৭
অতিথি বলেছেন:
জীবনানন্দ উপণ্যাস পর্যন্ত লিখছেন অক্ষরবৃত্ত প্রধান কইরা কোন সমস্যা হয় নাই তো গদ্যে বা ভাবে।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ সকাল ১১:২৮
অতিথি বলেছেন:
কার্যকর লেখা, উৎকৃষ্ট মন্তব্য।
১০ ই অক্টোবর, ২০০৬ দুপুর ১২:২৬
অতিথি বলেছেন:
পথিক!!!!!!!
চোর
রাগ ইমন
জামাল ভাস্কর
এবং
অন্যমনস্ক শরৎ
...সবাইকে অনেক ধন্যবাদ পুরনো পোস্টটিতে নতুন করে মন্তব্য দেবার জন্য।
..যারা বলেছেন- কার্যকরী পোস্ট, কাজে লাগবে তাদের কাছে আমি কৃতার্থ।
কবিতা লেখার ব্যাপারে আমি জামাল ভাস্করের কথার সাথে একমত। ভাব এবং ছন্দের কোনো বিরোধ নেই। আমি আগে থেকেই ছন্দ অনুসরণ করে লিখি। দু'একটি গদ্য কবিতা লিখি নাই এমন নয়। তবে আমি সবসময় ছন্দেই অভ্যস্ত।এমনকি গদ্য কবিতার মতো দেখতে কবিতাতেও মুক্তক অক্ষরবৃত্ত ব্যবহার করি। এক্ষেত্রে আল মাহমুদ বা শামসুর রাহমান-এর মতো আমি একটু একগুঁয়ে স্বভাবেরই। আমি লিখবোই ছন্দে- আমার কবিতার শব্দ-শাসন হবে তাতে এবং শ্রুতিটাও কানে বাজবে তাতে।
..সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।
০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৫৯
লাল মিয়া বলেছেন: এইয়া কি ?
২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৭ রাত ১:০০
হিজিবিজি হিজিবিজি বলেছেন:
তিতলী ভাইয়া তিতলী ভাইয়া, হিজিবিজি হিজিবিজি !
কবিতা লেখার কাম নাই... মাফ চাই!
লেখক বলেছেন: আমারও ইচ্ছে ছিলো। তবে পোস্ট বড় হবার ভয়ে দেইনি। মন্তব্যগুলোও বেশ উপকারী। অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: উপকারে আসছে বলে আমারও ভালো লাগছে। আপনাকেও ধন্যবাদ।
মাঠশালা বলেছেন:
একটা প্রয়েজনীয় পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকেও।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
অসাধারন। বান্ধাইয়া না রাখলে পাপ হইয়া যাইবো!
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
সবা্ই কত সুন্দর লেখেরে ...ভালো লাগল্আবারো
বিবেক সত্যি বলেছেন:
+
তনুজা বলেছেন:
শোকেসে
সুবিদ্ বলেছেন:
অনেক আগেই প্রিয়তে নিয়েছিলাম.......কিন্তু ছন্দের খেলাটা সবসময়ই আমার খুব কঠিন লাগে......আর তাই এখনো আমি ছন্দে হাস্যকর রকমের কাঁচা........
রুমানবিডি বলেছেন:
প্রিয় পোস্টে
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
আজ আবারও পড়লাম
শেখ জলিল বলেছেন:
এই লেখাটা অনেকে পড়ছে দেখে ভালো লাগছে। কারও যদি কিছু কাজে লাগে তবে কৃতার্থ হবো। আর কেউ যদি কবিতা বিষয়ক কিছু পোস্ট দেন আরও খুশী হবো।বিহংগ, উদাসী স্বপ্ন, পথিক!!!!!!!, তপন বাগচী, গুল্লা, রুমানবিডি, সুবিদ্, তনুজা, শূন্য আরণ্যক, বিবেক সত্যি- সবার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















