আমার অন্তর্গত আমি-কে আমার হলো না চেনা কোনোদিন!
শৈশব-কৈশোর উধাও, যৌবনও শেষ প্রান্তে
মধ্য বয়সের চোখে বিনিদ্র রাতের পরী
পাখা মেলে নিয়ে যায় দুরন্ত অতীতে।
খেলনা বড়শি হাতে যে ছেলেটি গিয়েছিলো মাছের শিকারে
কোনো এক স্রোতোস্বিনী খালের ওপারে
পা ফসকে ডুবে গিয়ে হতে বসেছিলো মাছের আহার
সে এখন চল্লিশের কোটায় জীবিত সংসারী মানুষ;
শীতের আগুনে ঝলসে যাওয়া কষ্ট, রাত্রির শরীর
বয়ে বেড়াচ্ছে পুরনো ক্ষত আজো দু'টি পায়ে।
দুর্ভিক্ষের করাঘাতে লিকলিকে গায়ে আজ তার
জমেছে মেদের ভার, বয়সের ছাপ, কপালের রেখা
তবুও সে ঘুমহীন চোখে এখনো করছে চাষ শব্দের জমিন
সে-তো আমি, আমারই অন্তর্গত আমি সেই এক।
মিলনে-বিরহে, দুঃখ-সুখে আজো আমি বাঁচি
জীবনের আঙিনায় বুনি স্বপ্নের ফসল যতো।
কেউ কাছে আসে, কেউ ছেড়ে যায় দূরে
বদলায় পৃথিবীটা, জীবনও পাল্টায় সবার
সম্ভ্রান্ত সংসারে আসে নতুন স্বাদের নুন।
একরোখা স্বভাবের আমি শুধু ধরি শিকড় আঁকড়ে
প্রতিটি বছরে এ বৈশাখী হাওয়ায় তাই বুঝি আজও
আমার অন্তর্গত আমি-কে আমার হলো না চেনা কোনোদিন!
১৪.০৪.২০০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

