হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেছি অস্থির পথিক
মানুষের দিনমালা থেকে ধরতে পারিনি তার বর্ণচোরা রং
একটি মানুষ কখন কোন্ পথে হাঁটে
তেমাথার মোড়ে এসে ভুলে যাই সেই পথ।
এক টুকরো কাপড়ে নেংটি পরে যে ছেলেটি কেটেছে সাঁতার
তার মুখে এখন ভিনদেশী ভাষার খই ফোটে
বাড়ির পাশের মাছ-ধরা খাল সে আর চেনে না
তাকে গুঠু নামে ডাকা এখন অনেক অপরাধ!
ঘোমটার আড়ালে ঢাকা মুখ শত চেষ্টায় হয়নি দেখা কোনোদিন
অথচ সেই কী-না আজ বারের সেরা নাচনেওয়ালী
হাজারো মুখের দিকে নির্লজ্জ তাকিয়ে থাকতে একটু দ্বিধা নেই তার!
এইসব দেখে দেখে কতোবার ভেবেছি বদলে যাবো আমি
ক্রমাগত সভ্যতার ধাপে সম্পন্ন মানুষ হবো
হৃদয় দুয়ারে লকার ঝুলিয়ে কতোবার কৃত্রিম খাঁচায় বন্দীত্ব নিয়েছি।
অথচ আমারই জানালার ধারে শিস্ দিয়ে গেছে ভোরের দোয়েল পাখি
শৈশবের ঘুলঘুলিতে যে চড়ুই পাখিটি বেঁধেছিলো বাসা
সেও ডেকে উঠেছে একটিবার
দক্ষিণের বকুল গাছটি খোলা বাতায়নে ছড়িয়েছে সুগন্ধী বাতাস।
সবুজের সমারোহ দেখে বারবার বলেছি, কোথায়?
প্রকৃতিতো বদলেনি একটুও!
ভাঙনের ধাপে ধাপে বারবার শুধু গড়েছে নতুন পথ
সুদৃশ্য পথের মোড়ে হেঁটে গেছে অনেক পথিক
প্রকৃতির খাঁচায় পোষা অথচ এই আমি পাখি উড়ে যেতে যেতে
অন্য আকাশ পাইনি খুঁজে কোথাও কখনো।
২০.০৯.১৯৮৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

