somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... টোঙ দোকানের চা
খুব মনোযোগ দিয়ে চা খাচ্ছেন আনিস সাহেব। এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। সারাদিন শেষে এই চা তার কাছে প্রাণের সমান। কারণ ঘরের চায়ে তার মন ভরে না। প্রতিদিন নিয়ম করে দু'বেলা দু'কাপ চা করে দেন গিন্নী। এক টুকরো ক্যান্ডেরাল ফেলে দেন তাতে। কৃত্রিম মিষ্টি বানানোর চেষ্টা। কারণ আনিস সাহেবের এখন চিনি, চিনিজাত খাবার নিষেধ। রক্তে শর্করার আধিক্য তার স্ত্রীকেই ভাবাচ্ছে বেশি, তাকে বোধ হয় নয়।

আনিস সাহেব চা খাচ্ছেন আর ভাবছেন। ছাত্রাবস্থায় কলেজ কেন্টিন, হোস্টেল কেন্টিনের চা খেয়েও মন ভরতো না তার। বিকেলবেলা হাঁটতে হাঁটতে যেতেন রেলস্টেশন কিংবা আঠারোবাড়ি বিল্ডিং। তাকে টানতো টোঙ দোকানের চা। এখনও মনে পড়ে মুকুলের চায়ের কথা। বন্ধুরা মিলে প্রায় প্রতিদিনই খাওয়া হতো সেই চা। অমৃতের মতো অনেকক্ষণ জিভে লেগে থাকতো চায়ের স্বাদ। সবাই মিলে ময়মসিংহ শহরের অলিগলি চষে বেড়াতেন সারা বিকেল। জীবনের সেই মধুরতম দিনগুলো এখনও স্মৃতিতে অ¤ান তার।

মুকুলের দোকানের চা খেতে খেতেই তার সাথে দেখা হয়েছিলো শাহনাজের। আনিস সাহেব তখন নিয়মিত সঙ্গীত বিদ্যালয়ে যান। চা শেষে ঢুকবেন সঙ্গীতের কাসে। এমন সময় একটি রিক্সা এসে থামলো। অপরূপা সুন্দরী এক কিশোরী রিক্সায় বসে আড়চোখে আনিস সাহেবের চা খাওয়া দেখছে। সেদিকে চেয়ে আনিস সাহেবের তো চোখ ছানাবড়া। এমন সুন্দর গায়ের রং, শারীরিক গঠন সে কমই দেখেছে জীবনে। অথবা এমনও হতে পারে কিশোর বয়সে যাকে দেখে তাকেই ভালো লাগে। পরে জানা গেলো শাহনাজ সঙ্গীত বিদ্যালয়ে এসেছে গান শিখতে। আনিস সাহেবের মন তখন আনন্দে মাতোয়ারা। এই বুঝি পেয়ে গেছে সে সোনার হরিণ!

এরপরের গল্প সরল। কিন্তু কাছাকাছি আসার সহজ পথও ছিলো না। মফস্বল শহরের আবহাওয়া। অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে তাকে। আনিস সাহেব ও শাহনাজ দুজনেই সঙ্গীতের শিক্ষার্থী, অনুরাগী। সঙ্গীতকে ভালোবেসে দুজনার ভালোলাগা, ভালোবাসা। তাদের এই সম্পর্ক টিকে ছিলো একটানা আট বছর। কিন্তু আনিস সাহেব ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করলে শাহনাজের বিয়ে হয়ে যায় অন্যখানে। শাহনাজের গার্জিয়ান ফেল করা ছাত্রের সাথে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না। আর ফাইনাল পাসের পর আনিস সাহেবও সে সম্পর্ক ব্রহ্মপুত্রে ভাসিয়ে দিয়ে ঢাকায় চলে আসেন পাকাপোক্তভাবে ।

উচ্চশিক্ষা শেষ হলো। চাকরী জুটলো আনিস সাহেবের। কিন্তু টোঙ দোকানের চা খাওয়ার অভ্যাস আর বদলানো না। প্রথম পোস্টিং মাদারীপুরের কালকিনি। উপজেলার এমন কোনো টোঙ দোকান বাকি ছিলো না- তিন বছরের চাকরিজীবনে যেখানকার চা আনিস সাহেব খাননি। আর সে ক'বছরে হোন্ডা সিডি ৮০ সারাক্ষণই সঙ্গী ছিলো তার। সুযোগ পেলেই গ্রামের পাড়ামহলার মোড়ে মোটর সাইকেল থামিয়ে তাতে আরাম করে বসে টোঙ দোকানের চা খেতেন। এমনি কতো বৃষ্টিভেজা দিনে মোটর সাইকেলে সহকর্মী মিসেস নীরুকে নিয়ে কতো ঘুরছেন তিনি। বৃষ্টিতে ভিজেছেন, টোঙ দোকানের চা খেয়েছেন। সেই শ্যামাঙ্গিনীর বৃষ্টিভেজা শরীরের ভাঁজ মনে হলে এখনও গায়ে শিহরণ দিয়ে ওঠে তার।

যখন পোস্টিং হলো ঢাকায় তখনও তার সে অভ্যাস গেলো না। ১৪ তলা বিল্ডিং-এর পরিপাটি কেন্টিনের চায়ে তার মন ভরতো না। সুযোগ পেলেই নেমে যেতেন নিচে রাস্তার ধারে। টোঙ দোকানের এক কাপ চা এক হাতে, আর অন্য হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। আহা, কী আরাম! যখন বাইরে ট্যুর-এ যেতে হতো আনিস সাহেবের মন তখন আনন্দে আত্মহারা হতো। মফস্বলে গিয়ে গ্রামের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সেই পুরনো স্মৃতি রোমন্থন। অফিসের গাড়ি থামিয়ে অচেনা স্থানে, অজানা মানুষের সাথে বসে টোঙ টোকানের চা খাওয়ার মজাই আলাদা। নতুন মুখ, নতুন দোকান, নতুন করে টোঙ দোকানের চায়ের স্বাদ।

এ সবকিছুই স্মৃতি আজ আনিস সাহেবের কাছে। এখন ধানমণ্ডির এই লেক তার শেষ আশ্রয়। টোঙ দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে লেকের পানির বুদবুদ, মাছের সাঁতার দেখা, দখিনা বাতাস বুকে টেনে চা খাওয়া আর ভাবনায় ডুব দেয়া নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে তার। এইমাত্র শেষ হলো হাতের চায়ের শেষ নির্যাসটুকু। লম্বা করে চুমুক দিয়ে দেখলেন সিগারেটও প্রায় শেষ। এখন তার হাঁটার পালা। দোকানীকে টাকা দিয়ে পথ ধরেন লেকের পাড় ঘেঁষে। ইটকাঠের এই শহরে লেকের পাড়ের এই জায়গাটুকু না থাকলে বোধ হয় আনিস সাহেবের দম বন্ধ হয়েই যেতো।

আনিস সাহেব হাঁটছেন আর ভাবছেন। এই বয়সেও ছাড়তে পারেননি সিগারেট। তবে সংখ্যায় অনেক কমে গেছে এখন। যে কনডেন্সড মিল্কের চা তিনি খান তাতেও আছে কিছুটা চিনি। দুটোই তার জন্য ক্ষতির কারণ। তবে এই তিকর দু'টো জিনিসের টানেই লেকের পাড় ধরে হাঁটা নিয়মিত হয় তার। নেশার টানে হলেও প্রতিদিন বিকেলবেলা চলে আসেন ধানমণ্ডি লেকে।

একটানা পয়তাল্লিশ মিনিট নিয়ম করে হাঁটেন। ছোট্টবেলার গ্রামের সেই সবুজের মাঝে যেন হারিয়ে যান তিনি। সমস্ত বুক ভরে যায় মুক্ত বায়ুতে। আর অতিরিক্ত ঘাম পুড়িয়ে দেয় দেহের বাড়তি শর্করা। ধীরে ধীরে হেঁটে তিনি ঘরে ফেরেন এক কান্ত অথচ হালকা, সতেজ শরীরে। অনাবিল প্রশান্তিতে ভরে যায় মনটা। আনিস সাহেব ভাবেন- কিছু কিছু নেশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, সুস্থ কিছু করতে উদ্বুদ্ধও করে। কিছু নেশার সাথে জড়িয়ে থাকে কিছু অমর স্মৃতি- যা মানুষকে বাঁচার প্রেরণা জোগায়।
তার একটাই নেশা, টোঙ দোকানের চা। সাথে এক শলা সিগারেটের শেষ সুখটান!

১৫.০৫.২০০৮
©Sheikh Jalil
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28835777 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28835777 2008-08-27 23:27:39
অতৃপ্ত কবিতা- দুই যেদিকেই যাই শিমুল ঝরানো পথ
তপ্ত দুপুরে রোদেলা ফাগুন উদাস বেলা
কুহুস্বরে ডেকে ওঠে স্মৃতির কোকিল
সুর ও বাণীতে বাজে অব্যক্ত প্রেমের গান।

সূর্যোদয়ে, সূর্যাস্তে যে রক্তিম আলোর আভা
তাকে ছুঁয়ে দু'নয়ন খোঁজে পথ আগামীর
যাপিত জীবনে ভরে দিতে চায় সুখের সবুজ
তবু কেন শিমুলের টকটকে লাল রং এসে
তাবৎ বসন্ত রক্তাক্ত বিদীর্ণ করে যায়!

তাকে নিয়ে এ আমার কোন্ অনুভব
প্রথম প্রেমের পাখি করে কলরব।

২.
আরও একটি দিন চলে গেলো গান লিখে-
আমার হলো না কিছু, কিচ্ছু হবে না আমার!
লোকে বলে স্বরস্বতী, লক্ষ্মী একসাথে জোটে না কপালে
তবে যার হয় সব হয়, তামাম দুনিয়া আসে হাঠের মুঠোয়।

যে গায় বাজেট তার কণ্ঠের অনুশীলনে
যে সুর করে বাজেট তার জন্যও অটুট
এমন কি যে বাজায় বাজেট বরাদ্দ তার যন্ত্রেরও
শুধু লিরিকের নেই কোনো মূল্য সুরের বাণিজ্যে!

গান শুনে স্টেজে যখন বাহবা দেয় লোকে
নাম হয় কণ্ঠশিল্পীর- এ যেন শুধু তারই গান
বিস্মৃতির উঠোনে গড়াগড়ি খায় কাব্যকথা
সৃষ্টির প্রসব যাতনায় কাঁদে গীতিকার।

১৮.০৮.২০০৮
©Sheikh Jalil
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28832900 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28832900 2008-08-20 20:36:32
অতৃপ্ত কবিতা- এক নদীকে নদীর মতো তরতর করে
চলে যেতে দেখলাম আমার সামনে দিয়ে।

ঘনবর্ষায় দুচোখে যার পড়েছিলো চোখ
তপ্ত খরায় হঠাৎ রাজপথে তার দেখা
কিশোরী বুকের উচ্ছাসে কি জেগেছিলো ঢেউ?
কেনই বা তর সইলো না তার এতোদিন পরে
আমি কি দাবদাহ নিতাম শুষে বুকের সমস্ত জল?

কতোকাল পরে দেখা বললে না একটিও মিষ্টি কথা
নদীর জলেই করলে ভরাট সেই বেদনার দুঃখগাথা!

২.
খোলাপথে মাইশা নিচে খেলা করে
দোতলার রেলিঙে ঝুঁকে পড়ে ডাকে মাইশার মা-
মাইশা, মাইশা, সাবধানে খেলো মা মণি!

সামনের ফ্যাটে পাঁচতলায় আমি
জানালার ফাঁক গলে ফুটে ওঠে রূপ
চুপিসারে দেখি মাইশার মা'র মুখ
মেদমত্ত শরীরের খাঁজকাটা ভাঁজ।
পর নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরতে চায় মন
তপ্তদুপুরে নিকারীর শরীর তরপায় কামস্রোতে!

ওপাশের জেলেরা মাছ ধরতে গেছে দূরে
নিকারির বউ ঘরে একা, এপাশে আমিও
আমার নদীরা মরে গেছে অকাল খরায়
ওদের ঘরে এতো মাছ এখনও জীবন্ত কেন!

০৯.০৮.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28829928 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28829928 2008-08-12 01:02:28
ছেড়ে দাও পথ এখনই আলগা করো হাত, ছেড়ে দাও তাঁকে
আমি কাপালিক হাতে উন্মুক্ত দা, চোখে রক্ত
এক কোপে আলাদা করতে পারি
ধড় থেকে তোমার মস্তক, ঘৃণিত শরীর।

সেই একাত্তরের অমানিশায় ঘোর অন্ধকারে
বুনো ঝোঁপের আড়ালে দাঁড়িয়ে যেভাবে
এক এক করে নামিয়েছিলাম তিন-তিনটে মস্তক
এখনও সে শক্তিশিখা জ্বলছে বুকেতে দুর্নিবার।

এক বোন রাহেলা দিয়েছে প্রাণ নরপশুদের হাতে
তাঁর ধর্ষিতা শাড়ির আঁচল রেখেছি বেঁধে শক্ত করে
উন্নত মস্তকে রক্তজ্বলা শিরা-উপশিরার প্রমত্ত ভাঁজে
দ্রোহী চোখে আগুন জ্বলার আগে ছেড়ে দাও পথ
নইলে তোমারও পরিনতি হবে ঘাতকদের মতো
ওই গলিত ভাগাড়ে, ইতিহাসের ঘৃণিত আস্তাকুঁড়ে।

৩০.০৬.২০০৮
©Sheikh Jalil

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28827898 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28827898 2008-08-06 09:27:27
তোমার সঙ্গম উৎসবে যতোক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি সশরীর
সারাক্ষণ মনে হয় তুমি আছো
এই শহরে আমারই পাশাপাশি।

দুই বেনী চুল দুলিয়ে যে বালিকাটি
হেঁটে যায় স্কুলে খুব ভোরে সদর রাস্তাটি ধরে
তার মুখে দেখি তোমারই নিষ্পাপ মুখ
বিদ্যাময়ী স্কুলের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর
অপলক চেয়ে দেখে যেন সেই তোমারই আদল।

কলেজ পড়ুয়া যুবতীরা যখন হঠাৎ অকারণে
হেসে ওঠে খিলখিল নিউমার্কেটের ব্যস্ত মোড়ে
যুবক হৃদয়ে টগবগ করে প্রেমের উনুনটা আরও
মনের খোরাকে ফেলে দেই তাতে কিছু শস্যকণা।

স্টেথো হাতে রোজ রোজ যে ডাক্তার মেম
সমস্ত ওয়ার্ড ঘুরে দেখে যায় রোগীদের
তার সফেদ এ্যাপ্রোনে খুঁজে পাই যেন
তোমারই কোমল হাত শুশ্রুষায় মমতার
যার কল্যাণে পেয়েছিলাম নতুন জীবন একদিন।

নীরব রাত্রিতে একা হয়ে যাই স্মৃতির খাঁচায়
খুঁজে ফিরি তোমারই সুখের ছোঁয়া অনুক্ষণ
অথচ কী আশ্চর্য মিলন দেখো এ আমার
পাশে শোয়া বধূটির কমনীয় শরীর লুটিয়ে পড়ে
যখন এ দেহের উন্মত্ত আঙিনার ভাঁজে ভাঁজে
তোমারই সঙ্গমের উৎসবে মাতি প্রতিরাত
আমি তোমারই দেখা পাই তার চাঁদমুখে অবিকল!

১৪.০৭.২০০৮
©Sheikh Jalil]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28825528 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28825528 2008-07-30 09:55:55
কেন যে কবিতা লিখি কবিতা খেয়েছে এ পোড়া শরীর, রয়েছে কিছুটা বাকি
খেয়েছে সুখের ধন, যাপিত তাবৎ জীবনের টুকিটাকি
পুড়েছে অন্তর, ভিতর বাহির, স্বপ্নীল চোখের মণি
বৃহস্পতি তুঙ্গেতে যখন এনেছে দারুণ শনি
তবু লিখেছি কবিতা কতো করেছি তাতেই বাস
ভালোবেসে তাতেই এনেছি আরো বৈষয়িক সর্বনাশ!

মাথার উপরে সুনীল আকাশ কতো রঙছবি তার
বিশাল করেছে হৃদয়টা আরো চোখটাকে ক্ষুরধার
সবুজে শ্যামলে প্রকৃতির কাছে যতোনা গিয়েছি আমি
স্বপন বুনেছি দুই চোখে আরো প্রতিটি দিবসযামী
নদীখালবিলপাহাড়পর্বত দেখেছি যতোনা ঘুরে
হৃদয়ে জেগেছে প্রকৃতির গান অজানা নতুন সুরে।

কেন যে কবিতা লিখি!
পৃথিবীর সব ছুঁয়ে দেখা হলো, হলো নাতো ঐ মানুষের অন্তর
লেখার কলম তাইতো সচল আঁধারটা করি এফোঁড় ওফোঁড়
মানুষের কাছে বসে থেকে দেখি মানুষেরই আজব নানান রূপ
কবিতা রূপসী আজো বাঁচে মনে তাইতো বাঁচার মধুভরা সুখ!

২০.০৫.২০০৮
©Sheikh Jalil
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28824266 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28824266 2008-07-26 09:26:26
নতুন করে পুরান কবিতা- ৩ দূরের দেশের মেয়ে

কোন্ ঠিকানায় কোথায় থাকো
দূরের দেশের মেয়ে?
ভাবলে তোমায় শিস দিয়ে যায়
মনের দোয়েল গেয়ে।

সাইবেরিয়া? ভ্যানকুভারে
কোথায় এতো বরফ পড়ে?
গরম কাপড় জড়াও গায়ে
শীতল দিনে তুষার ঝড়ে-
উষ্ণতা চাও তখন তুমি
কারো আশায় চেয়ে?
কোন্ ঠিকানায় কোথায় থাকো
দূরের দেশের মেয়ে?

এই দেশেতে গরম বেশি
জ্বলছে হৃদয় দিবানিশি
গরম হাওয়ায় খুঁজে বেড়াই
একটু হিমেল হাসি-
ডাকবে তুমি আমায় কাছে
উষ্ণ পরশ চেয়ে?
কোন্ ঠিকানায় কোথায় থাকো
দূরের দেশের মেয়ে?

০৬.০৩.২০০৬
©Sheikh Jalil


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28823703 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28823703 2008-07-24 15:18:06
নতুন করে পুরান কবিতা- ২ সেকেলে প্রেমের চিঠি

মনের ভেতর সুর তুলে যাও উছলে ওঠে ব্যথা,
তুমি আমার দেহের ভাঁজে কাঁচা বর্ষার লতা।
জীবন আছে যে ক'টা দিন আছো শুধু জড়িয়ে,
তোমার প্রেমের সুবাস আমার হৃদয় গেছে ভরিয়ে।
বুকের ভেতর ঢেউ খেলে যায় তোমার যতো কথা,
তাইতো তুমি জড়িয়ে আছো গাছের যেমন লতা।
লতার মতোন থাকবে জানি সারাটাকাল ধরে,
এমনি যেন নীরব ভাষা হৃদয় আমার ভরে।
প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সেদিন থেকে আমি,
তোমার ছবি হৃদয়পটে আঁকছি দিবাযামী।
এখন তুমি হয়তো দূরে কিন্তু ভাবি কাছে,
থাকবে তুমি সেই ক'টা দিন প্রাণ যতোদিন বাঁচে।
আজকে আমি দিলাম ইতি এই কথাটি লিখে,
দেখা হলে তোমার সাথে প্রেমটি নেবো শিখে।

২০.১২.১৯৮৫
©Sheikh Jalil

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28822280 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28822280 2008-07-20 17:22:42
নতুন করে পুরান কবিতা- ১ বালিকা তোমার

বালিকা তোমার তন্বী তনু কায়া
যেন ফোটা ফুল সদ্য
শান্ত দিঘিতে উচ্ছল ছবি
টুকটুকে লাল পদ্ম।

বালিকা তোমার কালো চুলে রং
মেঘের কাঁজলে আঁকা
উদাস দুপুরে গাছের ছায়ায়
নিষ্পলক চেয়ে থাকা।

বালিকা তোমার মুখে হাসি ফোটে
পূর্ণিমা চাঁদের সাথে
মায়াবী আলোর জ্যোৎস্না ছড়ায়
ঘুমঘুম আঁখিপাতে।

বালিকা তোমার রূপে কী যে নেশা
বুঝেছে কী আর কেউ
দিয়েছে হঠাৎ এই বুকে দোলা
সাত সাগরের ঢেউ!

বালিকা তোমার বুকের ভূ-ভাগে
কতোনা গোলাপ ফোটে
সে ফুলের ঘ্রাণ ছুঁয়ে যায় মন
দখিনা বাতাস ছোটে।

বালিকা তোমার কোমল অধর
রাঙা কমলার কোয়া
শরীরে তোমার সোঁদা মাটি ঘ্রাণ
মাতাল সুগন্ধে ধোয়া।

বালিকা তোমার হেলেদুলে চলা
যেন এক ধন্যি বালা
কার লাগি তুমি গাঁথছো মালা
সাজিয়ে প্রেমের ডালা?

বালিকা তোমার হাত রেখে হাতে
যেতে পারি বহুদূর
আমার পাশে কি সাথী হয়ে যাবে
অচিন হৃদয়পুর?

১৬.০৭.২০০৮

©Sheikh Jalil]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28821525 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28821525 2008-07-18 11:13:32
ভুলো মন, স্বস্তি চাই তোরও কপালে আছে লেখা অচিন বসতে ঠাঁই
শহরে বন্দরে ঘুরে ঘুরে যা কিছু মাড়ালি তুই
সেখানে কালের ভাঁজে যতো পদছাপ চিহ্ন জুড়ে
তোর কোনো আলো করা স্মৃতিছবি সুখছোঁয়া নাই
ভুলো মন তোর ভুল করা জীবনে সুস্থিতি চাই।

কালের অতলে চলে গেছে চার চারটে দশক
এখনো বুকেতে ধুকপুক প্রাণ যতোটুকু আছে
ততোটুকু নিয়ে হোক এক নতুন যাত্রার দিশা
সে যাত্রায় জীবন তরীটা ফের কূল ফিরে পাক
ভুলো মন- আর ভুলে কোনো ভুলভাল দেখা নয়
হৃদয় আলোতে হোক এই দুই চোখ আলোময়।

ওরে মন- যতো মরি, ততো বাঁচি সমস্ত জীবন
আগামীর আয়নায় জাগে এই বুকের স্বপন!

২৬.০৬.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28820812 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28820812 2008-07-16 09:27:21
নৈঃশব্দে একাকী বাস সব সম্পর্কের সূতা ছিঁড়ে বেছে নিয়েছি অচিন বাস বহুদূরে
হাসি নেই, কান্না নেই- আছে শুধু নৈঃশব্দের রিক্ত হাহাকার
উদাসী স্বপ্নেরা হাসে বেদনার সুনীল দিগন্তে মিলেমিশে।

নিরালায় মৌনতার ঘুম ভাঙে স্মৃতির পাখিরা ডাকে
যতোদূর চোখ যায় উড়ে উড়ে ডানা ঝাপটায় অতীতে
তার নরম পালক ওম জাগায় হৃদয় কন্দরে যতনে
চোখ বেয়ে আসে জল আষাঢ়ের টুপটাপ বৃষ্টিধারা
সরাতে পারি না তার স্মৃতির পাথর বুকের চাতালে
সে আমার নৈঃশব্দের সুখ আজন্ম মিলন অভিসারে।

এই ঘোর সন্ধ্যার মেঘমালায় ডাকে দেয়া ঢাক গুড় গুড়
সব সুখ ঝরে যায় মাটির অন্তরে বিরহে ভাসিয়ে দিয়ে
তার সাথে দেখা নেই, কথা নেই পুরো আঠোরো বছর
তবুও সে রয়ে যায় লেখায় কবির খেরোখাতার পাতায়।

সে কি বোঝে তার হতে গিয়ে নিয়েছি একাকী বাস
কবিতার পরতে পরতে এঁকে যাই শুধু বিরহ নির্যাস!

২০.০৬.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28819405 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28819405 2008-07-12 11:16:55
স্মৃতির পাখিরা কাঁদে অতীত স্মৃতি, ভালোবাসাও তুচ্ছ হয় বৈষয়িক যাপিত জীবনে!
তার সাথে কথা হয় সাধারণ বোলচালে, বলি হাই-হ্যালো
বুকের গভীরে আকুপাকু করে স্মৃতির পায়রা পাখ নেড়ে
মন খুলে যতো বলি 'ভালো থেকো, মাঝে মাঝে দিও ফোন'
তবু ফোনালাপে কাটে না ঘোর যাপিত উচ্ছাসের নিয়মে।

মনের জানালা খুলে যদি পাতি কান শুনি তার সুরের বেহাগ
হৃদয় কন্দরে জাগে ঢেউ অগণন ভালোলাগা স্রোতের সোহাগ
সে কি বোঝে আমি তার কণ্ঠপ্রেমী লিখি গান তারই জন্যে
স্মৃতির পাখিরা সব নীরবে গুমরে কাঁদে এই বুকেরই অরণ্যে!

১৩.০৬.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28818035 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28818035 2008-07-08 11:53:18
অমরত্ব নয় ভাগাড়ের ময়লার স্তূপ, ড্রেনের আবর্জনা, গলিত মানুষ
দেখেছে পচতে সে প্রতিটা দিন, প্রতিক্ষণ, প্রতিরাত
পচনশীল খাবার দেহে প্রতিনিয়ত দেয় যে পুষ্টি
সেই পুষ্ট শরীর কি হবে অমর অক্ষয় কোনোদিন?
বোঝে জীবজন্তু গাছপালা, বোঝে না কবির মনন শুধু।

কী লেখে কবি? অমরত্বের বাণী, অমিতাভ শব্দাবলী?
বোঝে না মানুষ কোনো, বোঝে কবি একা নিজে
সাদা কাগজের ললাটে যে ছবি এঁকে যেতে চায় কবি
সেও তো ক্ষয়িষ্ণু যুগে যুগে, কালের মরিচীকায়
বোঝে নাতো কবি সময়টা নাশ, শরীরের সর্বনাশ!

ঘরকোণে নিরালায় লেখে কবি, জমে শব্দের ভাণ্ডার
বয়স্ক শরীরে বাড়ে অতিরিক্ত মেদ, রক্তের শর্করাভার
এভাবে বাড়তে বাড়তে হঠাৎ সচল দু'হাত হয় স্থির
বার্ধক্যে পচনে তার ক্ষয়ে যায় স্থিত সাধের শরীর
আসলে মৃত্যুকে শুধু খুঁজে পায় কবি অবশেষে
পায় না শব্দের অমরত্ব ধরাধামে কোনোদিন!

২৫.০৪.২০০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28817624 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28817624 2008-07-07 10:48:16
ধূসর বিকেল কাঁদে ক্লান্ত চোখ ঝাপসা হয়ে যায় ঘনীভূত বাষ্পে
চাদ্দিক আঁধার করে আসে দুঃখের জমাট মেঘ
আউলা বাতাস ছিন্নভিন্ন করে দেয় বুকের বেলুন।

তার কথা লিখতে হাতের কলম থমকে দাঁড়ায়
চোখের বারান্দায় কাঁপে সুখের পায়রাগুলো কুঁ কুঁ
এই বুঝি উড়ে যাবে বৈশাখী ঝড়ে, ভাঙবে ডানা তার
আশালতার ফুলগুলো ঝরে যায় বিরহ তাণ্ডব জলে ভেসে।

আসার কথা ছিলো যার আসেনি, এসেছে বৈশাখী ঝড়
কষ্ট রজনীতে কাটাই অবেলা আমি অক্লান্ত বিরহ প্রহর।

০৪.০৭.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28817264 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28817264 2008-07-06 08:02:26
ঋণ পৃথিবীর সমস্ত জলের ধারা উবে যায় রোদনের হুতাশনে
হিমালয়ের চূড়ার অখণ্ড বরফমালা যতো গলে যায়
তবু তাঁর কাছে থেকে যায় কিছু অশোধিত দেনা।

দিব্যচোখে তাকাই যখন নিজের গভীরে নিরালায়
অপত্য স্নেহের শৈশব দাঁড়ায় স্মৃতির উঠোনে এসে
কৈশোরে দুরন্তপনা সয়ে যে দেয় বাড়িয়ে দু'টি হাত
এক আকাশ জ্যোৎস্নার আলো পেয়ে তাঁর কাছে
স্বপ্নীল দু'চোখ হয় আলোকোজ্জ্বল সূর্যের রশ্মিভরা
রক্তের সুতীব্র স্রোতে ভাসে আজন্ম বিশ্বাস অফুরান।

তাঁর কাছে ঋণী আমি দেহ ও রক্তের প্রতিজ্ঞায়
জননী ও দেশমাতা সে আমার জন্ম মহিমায়।

২৯.০৬.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28816913 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28816913 2008-07-05 07:56:04
ভুল লিরিক এই ভুলগুলো পায়ের কাছেই থাক
জড়াবো না আর বুকে
পাথর দুচোখ থাকুক পলকহীন
নড়াবো না কোনো সুখে।

২.
কিছু মানুষ ভুল বুঝেও
বারবার ভুল করে
পারাপার দুস্তর জেনেও
ভুলের নদীর কূল ধরে।

৩.
ভুলের সূতোয় বুনেছি চাদর
বিছিয়ে রাখবো কার বিছানায়
দুঃখের শীতল হিমরাত এলে
সে চাদর জড়াই আমারই গায়।

৪.
একবার ভুল করে করি মনস্তাপ
করবো না আর ভুল
নতুন করে ভুলেরা এসে
দিয়ে যায় তার দ্বিগুণ মাশুল।

৫.
তুমি ভুল, আমি ভুল
ভুলের উঠোনে বাঁধি সংসার
বিরহ প্রহরে জ্বলেপুড়ে মরি
হৃদয়টা হয় শুধু ছারখার।

০৩.০৭.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28816434 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28816434 2008-07-03 15:25:44
শব্দকাহন আগাছায় যাচ্ছে ভরে লেখার খসড়াগুলো
কবি তার জানে না কিছুই, মানে না নিয়মরীতি
যেন লিখতে পারলে শেষ হবে সব সৃষ্টির বেদনা!

আমরা যা বলি সব কথার কি থাকে মানে
আমরা যা শুনি সব শব্দ কি শ্রুতিমধুর?
বলায় শোনায় তবু যানজট এই শব্দ কোলাহলে
শব্দই বাঁচায় এ যান্ত্রিক জটিল জীবন শেষে।

যাপিত জীবনে কবি যতো কথা শোনে চারদিকে
ঘরকন্যার কোঠরে যতো ধ্বনি তার ঠোঁটে বাজে
ছন্দে বর্ণে শব্দে সবকিছুর করে সে অনুবাদ
আসলে কবির কলম থামে না কোনো দ্বিধার দেয়ালে।

এভাবে লিখতে লিখতে লিখতে শেষে একদিন
সুসবুজ ঘাস হয়ে ওঠে মহীরুহ কোনো ভুঁয়ে
গুল্মলতাপাতায় হঠাৎ ফোটে সুসিক্ত গোলাপ ফুল
সে ফুলের ঘ্রাণ নেয় মানুষ, বিমুগ্ধ কবিতার প্রেমী।

আদ্যপে পাঠককুল কবিতার ভক্ত, কবির নয় কখনো
শব্দের অনুবাদ চায় মানুষ, চায় না শব্দকরকে কোনোদিন!

০২.০৫.২০০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28816129 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28816129 2008-07-02 17:53:21
বিষ গেরো সম্পর্কের দেনা শোধ হয় না কিছুই
কিছু ঋণ থেকে যায় হৃদয়ের কাছে।
গোলাপের পাঁপড়ি এক এক করে খুলে
শেষ অব্দি যদি বলো 'হি লাভস মি নট'
তবুও থেকে যায় কিছু ভালোবাসার টান।

ভালোবাসার ক্ষুধা এমনই বুভুক্ষ কাতর
আস্ত কাঁঠাল গোগ্রাসে পেটে পুরেও
গোঁফে মেখে রাখে তার নাছোড়বান্দা আঁঠা
'দিল্লী কা লাড্ডু' লোকে বারবার খায়!

সম্পর্ক ভাঙলেই যদি ভাবো হয়ে যাবে পর
চাওয়ার কিছুই নেই, নেই দেয়ারও কিছু
তবে তুমি করছো ভুল নিশ্চিত জেনো
যে ভুলের সূতোয় খাবে বারবার টান
বিষ গেরো খুলে যাওয়া নয়তো সহজ
যতোই খুলতে যাবে হবে পোক্ত ততো।

আমার না থেকেও আছো তুমি পাশে আরও
যাওনা অনেক দূরে চলে যতোটুকু পারো!

১২.০৫.২০০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28815251 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28815251 2008-06-30 10:23:22
জাঙ্গল সাফারি দিন তার কথা মনে পড়ে 'জাঙ্গল সাফারি' দিনে
সুঠাম হাতির পিঠে চড়ে মেলে দু'পা চিতোয়ান বনে
হেঁটেছিলাম গহীন অরণ্যের ভাঁজে একদিন ভোরে
যদিও নরশার্দুল দেয়নি সাক্ষাৎ কোনো সেই ক্ষণে
দু’নয়ন ভরে দেখা হয়নি হরিণ শাবকেরও ছোটাছুটি
তবু তার নরম কোমল শরীরের উষ্ণ ছোঁয়াটুকু
বারবার শিহরিত করছিলো এক আদিম নেশায়
এক অনিন্দ্য সুন্দরী বিদেশিনী ছিলো পার্শ্ব সহচরী
বুঝিনি মুখের ভাষা তার, জিজ্ঞেস করিনি বসত কোথায়
শুধু মন বুঝেছিলো আদিম ছোঁয়াচ ক্ষণিক উন্মাদনায়!

যার জন্য এই 'জাঙ্গল সাফারি' হলো না সে প্রাণী দেখা
দেখা হলো তার সাথে, ছোঁয়া হলো মোলায়েম হাত
বুকের কন্দরে বেজে গেলো শিহরিত স্পর্শের স্পন্দন
নিষ্পলক চোখ দু'টি পেলো মুগ্ধতার সুনীল আকাশ
'জাঙ্গল সাফারি' শেষে মিতভাষ্যে জানালো সবাই 'গুড বাই'
আমার ভেতরে ছিলো অনেক কিছুই, শুধু তারটাই জানা নাই!

২৫.০৫.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28814874 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28814874 2008-06-29 10:50:35
সম্পর্কের গিঁট কোথাও থাকছে না বাঁধন ঠিকঠাক।

কৈশোরের বন্ধুও যেদিন হলো শত্রু
প্রতিঘাতের আকাঙ্ক্ষাও গেলো উবে
যেদিন রক্তের সম্পর্কের স্বজনেরাও দেখালো বিষদাঁত
বুঝলাম একা হতে যাচ্ছি, খুলছে পারিবারিক বন্ধন।

এক যুগ তার সাথে থেকে যখন হলাম একা
বুঝলাম ভালোবাসা বলে কিছু নেই আর
শুধু আছে স্বার্থান্বেষ, অন্তরের হুতাশন-
বিরহের গিঁট খুলছে যান্ত্রিক সময় ঘড়িটা বারবার।

আমাদের সময়গুলো এখন একাহারে কাঁদে
যূথবদ্ধ সম্পর্ক আলগা হয় ঐশ্বর্য বিবাদে!

২৭.০৪.২০০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28814377 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28814377 2008-06-27 23:06:10
দাও যে সূতায় টান এ মন বিবাগী হয় বুকে কাঁপে যে পরান!
সংসারে আশার আলো হয় যদি প্রিয়
নিঃশেষ করে যে দাও সেই শিখাটিও।
আঁধারে আলোতে চলে এ কোন্ নতুন খেলা
কার লাগি কাঁদছে নয়ন এ ঘোর অবেলা?
আমার আমিতে তবে নেই কি গো আমি
আড়ালে কেন যে হাসো ধ্যানী অন্তর্যামী!

নিও না কেড়ে আমায় করে সংসার বিরান
ঘরের বাউল আমি রাখো ঘরেতে শয়ান।

২৯.০৪.২০০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28813448 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28813448 2008-06-25 09:31:17
ফিরিয়ে নিয়েছিলাম মুখ বিস্ফারিত এই দু'নয়ন জ্বলছিলো রাগে, অভিমানে
অপরূপ তোমার সে সাজ আমার লাগেনি ভালো।
শেষে ফিরিয়ে নিয়েছিলাম মুখ লজ্জায়, ঘৃণার ভারে
অথচ কী আশ্চর্য! তোমাকে সাজলেই লাগে ভালো
এ কথা বলেছিলাম আমি দিব্বি কেটে মাথা ছুঁয়ে।
তাহলে কি এ আমি হিংসুটে পরশ্রীকাতর লোক
যারা অন্যদের ভালো দেখে জ্বলে বিষের মতোন?

নাহ্, আমি লোকটা ভালোই আছি বোধ হয়
বুকে ভালোবাসা ছিলো খুব গভীর সেদিন
আর সে ক্ষণটা ছিলো তোমার বিয়ের রাত
সদাহাস্যে দাঁড়িয়েছিলে অন্যের হাত ধরে!

১১.০৬.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28811680 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28811680 2008-06-20 15:23:14
আমার গচ্ছিত কবিতা সেদিন সন্ধ্যায় আকাশে একটি তারাও পড়েনি চোখে
আমার সামনে ছিলো অচেনা আঁধার আর কালো রাত্রি
কলেজ রোড ক্রসিং থেকে হেঁটেছিলাম বাগমারা পর্যন্ত
স্টেশনের পরিত্যক্ত বগির আড়ালে পরিহাসে হেসেছিলো
নেশাখোর মাতাল যুবক আর একটি কুকুর নির্দ্বিধায়।

ঘোরলাগা মনে রেলপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে
যে কবিতার লাইনগুলো আসছিলো মনে ভেসে
আমি তা রেখেছিলাম জমা ছিন্নমূল মানুষের কাছে
আঠারে বছর পরে আজো আমি খুঁজি তাকে রাস্তায় রাস্তায়
নুলো ভিখিরী সে সবের বদলে চায় কিছু টাকা পয়সা
পঙ্গু লোকটাও পকেটে লুকিয়ে রাখে সেইসব পঙ্ক্তি
তোমাকে নিয়ে সম্পূর্ণ কবিতা হারিয়ে গেছে জনারণ্যে
দেড় যুগ বয়সী কিশোর কবিতা হাসছে মিটিমিটি চোখে।

তুমি তো জানো না কতো অভিমান বুকে, কতো প্রতিজ্ঞা প্রত্যয়ে
কালাবর্তে মিছেমিছে নষ্ট হতে দেবো না অমূল্য কিশোর প্রণয়
চোখের আড়াল থেকেই লিখবো আরো বিরহী গানের কলি
অভিমানী বুকে ঘরে ফিরে তাকে খেতে দেবো না ঘুমের বড়ি
পরিপূর্ণ আনবোই তুলে পরিত্যক্ত এ মনের পরশ পাথর
মনের আলোতে জ্বলবে তা আজীবন ঠিক আমারই মতোন।

সখী আমি পুড়ে পুড়ে এতোকাল হয়েছি যে সোনা
সোনার মূল্য হৃদয় হারিয়ে হয়েছি আনমোনা!

১৬.০৬.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28811064 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28811064 2008-06-18 22:06:54
সহ্যের অতীত কিছু সহ্যের অতীত থাকে না কিছুই কোনোকালে
দুঃখের বসত পাল্টায় গলির মোড়ে এসে
ঠিকঠাক সাজিয়ে নেয় তৈজসপত্র, আসবাব, বাড়ি
নতুন ঠিকানা খোঁজে পোড়খাওয়া মাটির হৃদয়
যে দেনায় কেটেছে অতীত দিনলিপিভার
মৌসুমী প্রণয়ে শোধ হয় তার সকল বিষয়।

একদা দুঃখেরা প্রশ্ন করেছিলো- তুমি কি জনমদুঃখী?
মানুষের দেয়া সব দুঃখগুলো তার কাছে জমা রেখে
শেষে পালিয়েছিলাম বাউলের নৈকট্য সন্ধানে
অচিন বনের পাশে দেখেছিলো ময়ূর আমাকে
পাখিসুখ ভেবে তার সাথে ঘুরেছিলাম সমস্ত বন
অক্লান্ত ভ্রমণ শেষে নম্র শরীরে পেখম মেলে
সহসাই দূর করেছিলো আমার চোখের ক্লান্তি।

মানুষের অসহ্য থাকে না কিছু, থাকে নাকো রেশ
অচেনা নতুন পরিবেশে সে মানিয়ে চলে বেশ
বিশ্বচরাচরে যা কিছু বেঢপ তাতেই সুন্দর হাসে
পরিবর্তনের ছোঁয়া পেয়ে মন নতুনকে ভালোবাসে।

১১.০৬.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28809332 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28809332 2008-06-14 06:50:40
বুক না পিঠ যে কোনোটাই দেখাতে পারো তুমি এ ক্ষণে
তবু বন্ধু তুমি শৈশব, কৈশোর, যৌবন কিংবা প্রৌঢ়ে
বার্ধক্যে ক্ষয়ে যায় যদি জীবনীশক্তি দিন দিন
কপালে পড়ে বলিরেখা, চোখের জ্যোতি যায় কমে
তবু বন্ধু তুমি আশৈশব, আজীবন, আমরণ!

শৈশবে পুতুলখেলা, মার্বেল, ডাংগুলি, বউচি
কৈশোরে খালবিল, মাছধরা, নদীতে সাঁতার
সুউচ্চ গাছের ডালে আম, জাম, পেয়ারা পারা দিন
যৌবনে সংগ্রাম- একসাথে রুটি ভাগ করে খাওয়া
কিছুই ভুলবো না আমি এবেলায় এসে।

জীবন ফুরিয়ে গেলে জেগে থাকে স্মৃতি
বন্ধু হারিয়ে গেলে বেঁচে থাকে প্রীতি
আমার স্মৃতি-প্রীতি দু'টোই তোমার বন্ধু
বলো তুমি দেখাবে বুক না পিঠ?

০২.০৬.২০০৬
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28808274 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28808274 2008-06-10 21:59:19
সম্পর্ক কথন সব চলে যায়, সব চলে যায় স্বার্থপরতার মোহে
অকাট্য সম্পর্ক সূতার বাঁধনে আটকাতে পারে না কাউকে
ভরাট নদীর ছলাৎ ছলাৎ জল শূন্য হয়ে যায় শেষে
হৃদয়ে ফারাক্কা বাঁধ শুষে নেয় সম্পর্কের সুজলা আধার
তারপর রক্ষশ্বাস শীত এলে সবুজ পাতারা ঝরে পড়ে
এক এক করে ভেঙে যায় সব সম্পর্কের ডালপালা
হৃদয়ের গহীন জঙ্গলে বাজে ঝরাপাতার বিরহী গান।

তুমি সম্পর্ক স্থাপন করে পণ করেছিলে সম্পর্ক ভাঙার
সে ভাঙন পূর্ণ হলো আজ চৈত্রের ঊষর দিনে এসে
কাকে বলে হৃদয়? পারে না মায়ার বাঁধন গড়াতে
তুমি আমি জন্মেছি শুধুই যেন বিরহ ঝরাতে!

২৬.০৫.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28803952 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28803952 2008-05-28 21:56:05
নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছি তপ্ত শ্বাস পড়ছে তোমার পিঠে, চুলে
বুঝতে পারো কি কার উপস্থিতি?
এ নিস্তব্ধ অপেক্ষা অনেক কাল ধরে
ভোরের আলোটা ফুটবার সাথে সাথে
চুপিসারে দাঁড়াই নীরবে পাশে এসে
মাঝরাতে ভেঙে গেলে ঘুম বুঝতে পারো কি
তোমাকে দেখছে একজন কেউ নিষ্পলক জড় চোখে?

কোনো এক রঙঝরা সন্ধ্যায় সেই যে গেলে
ছয় বেহারার পালকিতে চড়ে বধূ সাজে
সানাইয়ের সুর আতশবাজি ছিলো সেই রাতে
অদূরে অপেক্ষমান নিষ্কম্প নিথর দুটি হাত
ছুঁতে চেয়েছিলো একবার তোমার কপোল, অধর
চেয়েছিলো জানতে ভালো কি বেসেছিলো তুমি
হৃদয় কন্দর কেঁপেছিলো কি কারো আকুল ডাকে?

বস্তুত জড় ও জীবে পার্থক্য তেমন নেই কিছু
ধরাধামে যেমন পার্থক্য নেই প্রেম ও বিরহে
আমিও তোমার তাই আজো হাঁটি পাশাপাশি
ছায়াহীন শরীরে দাঁড়াই এসে, বলি 'ভালোবাসি'!

২১.০৫.২০০৮
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28801001 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28801001 2008-05-21 20:27:33
জলরং ছবি সবুজ শেওলা গুল্মলতা রূপের কাজল
আবিষ্ট চোখের মায়ায় ধ্যানের মুখচ্ছবি
কবে হারিয়েছে নাকছাবি জলের পরীর
অক্লান্ত ডুবুরী খুঁজি জলের গভীরে তাকে।

সোনাডাঙা বিলে যাই, কাজল দিঘিতে নামি
এক বুক ঢেউ ভাঙে পিপসার্ত উষ্ণ প্রাণ
সারারাত জলস্রোতে জলজ জীবের খলবল
ঘুমহারা চোখে আনে মদিরা নেশার বান।

যাহারে হারায়ে আমি খুঁজি দিঘির আঁচলে
সে আদল মিশে আছে সেই জলের কাজলে
প্রাণের অতলে খুঁজি জলরং ছবি এক
জলের পরীর মায়া চোখে মুগ্ধ ঘুরপাক!

১৩.০৫.২০০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28798169 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28798169 2008-05-15 06:52:14
চির-দুঃখিনী মা আমার যখন কিশোরী ছিলে তুমি মা-বাবার আদরে
ডুব-সাঁতারে পুকুরে ভাসতে যখন- করতে জলের খেলা
কিম্বা গাছে চড়ে পারতে পেয়ারা আঁচলটা ভ'রে
সারা পাড়া চষে বেড়াতে দারুণ দুষ্টুমিপনায়
ঠিক তখনই পেতেছিলে সংসার-
মা আমার, চির-দুঃখিনী মা যে আমার!

কতোটা পেয়েছো সুখ স্বামীর সংসারে?
কখনো বলোনি তুমি কতো ঘানি টেনেছো জীবনে
ঢেঁকির পিছায় রেখে শক্ত দু'পা কতো রাত করেছো প্রভাত
সকলের উদর-ভোজন শেষে কতোদিন জোটেনি আহার
শ্বশুড় ও শ্বাশুড়ীর মুখকালা উপহাস শুনেছো কতোটাবার
কখনো বলোনি গল্পটি যে তার-
মা আমার, চির-দুঃখিনী মা যে আমার!

নয়-নয়টি সনতান করেছো মানুষ তুমি
নিজের খাবার খাইয়ে ছেলেকে পাঠিয়েছো স্কুলে
জ্বালতে শিক্ষার আলো ক্ষয়েছে জীবনীশক্তি
জঠরের তাপ শুধু তুমিই করেছো অনুভব
করতে পারোনি ভাগ সংসারে অন্যের সাথে
ছিলো ছেলে-মেয়ে বেশি দায়িত্ব অপার-
মা আমার, চির-দুঃখিনী মা যে আমার!

অনেক হয়েছে বড়ো ছেলে-মেয়ে সকলই তোমার
পেতেছে সংসার তারা ভিন্ন পাতে ভিন্ন সঙ্গী নিয়ে
অথচ তোমার কাছের মানুষ জমিয়েছে পাড়ি
চিরকাল থাকবে তোমার যে জীবনে ও মরণে
রাখেনি কথাটি তার বলেছিলো সেই একদিন
সাথী করে আছো তাই একানত আঁধার
মা আমার, চির-দুঃখিনী মা যে আমার!

এ ঘর ও ঘর ঘুরছো তুমি যে আশার প্রদীপ হাতে
একটু নিরালা ছায়া একটু বিশ্রাম দিনান্তের আলো
কী ছেলে কী মেয়ে কেউ জ্বালতে পারেনি তাও
সকলই ঝাপসা লাগে ছানিপড়া চোখেতে তোমার
নিজের জীবন করেছো আঁধার সবার সুখের জন্য
ষাটোর্ধ বয়সী এক মহীয়সী তুমি মা সবার-
মা আমার, চির-দুঃখিনী মা যে আমার!

২১.০৩.২০০৬

**কবিতাটি রিপোস্ট করা হলো। ২০০৬ সালের 'মা দিবস' ছিলো ১৪ মে। এই কবিতাটিই সামহোয়্যারইনব্লগে আমার প্রথম পোস্ট। তখন মা বেঁচে ছিলেন, এখন নেই!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28796650 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28796650 2008-05-11 19:24:22
শুদ্ধ'র গল্প
শুদ্ধ'র একটি ছোট্ট বোন ছিলো। বয়স আড়াই মাস। মা'র বুকের দুধ খেতো। সেও খুব কান্নাকাটি করছিলো। কারণ তাকে জোর করে সবাই ফিডারে দুধ খাওয়াতে চেয়েছিলো। শুদ্ধ'র খুব খারাপ লাগছিলো তখন। ভাগ্যিস! সেদিন ছোটো চাচী এসেছিলো। সেই নাকি বুকের দুধ খাইয়েছিলো তার বোনকে। তারপর ছোটো চাচী পালতে নিয়ে গিয়েছিলো তাকে।

তার বাবা আবার সেদিন ঢাকায় ছিলো না। অফিসের কাজে বাইরে ছিলো। ফিরেছিলো অনেক রাতে। সাথে অফিসের গাড়ি, অনেক লোকজন। ফিরেই শুদ্ধকে জড়িয়ে ধরে বাবা খুব কেঁদেছিলো। শুদ্ধ অবাক হয়ে গিয়েছিলো। তার বাবাকে কোনোদিন কাঁদতে দেখেনি। আজ কাঁদলো কেন? শুদ্ধ’র আর জিজ্ঞেস করা হয়নি সেদিন।

এরপর পাঁচ বছর হলো। শুদ্ধ'র মা আর ফিরে আসেনি। মা কি মরে গেছে না বেঁচে আছে, শুদ্ধ কিছুই জানে না। বাবাকে জিজ্ঞেস করলে বলে- তার মা নাকি খুব খারাপ। ডাইনী মহিলা। এজন্য পালিয়ে গেছে। শুদ্ধ বোঝে না মায়েরা কীভাবে খারাপ হয়। মানুষ আবার ডাইনী হয় কীভাবে! এজন্য বাবাকে তার একটুও ভালো লাগে না। তবু কিচ্ছু বলে না শুদ্ধ। কারণ বাবার খুব রাগ। আর বাবাই তাকে বেশি আদর করে।

শুদ্ধ'র এখন নতুন মা হয়েছে। কিন্তু শুদ্ধ তাকে মা বলে ডাকে না। তার একটি ছোট্ট বোনও হয়েছে। দুই বছর বয়স, বেশ ফুটফুটে। তাকে ভাইয়া বলে ডাকে। শুদ্ধ তাকে খুব আদর করে। নতুন বোনটিকে দেখে তার সেই আগের বোনটির কথা মনে পড়ে। এভাবে ভালোই কাটছে তার দিনগুলো। কিন্তু নতুন মা যখন বোনকে বেশি আদর করে শুদ্ধ'র খুব মন খারাপ হয়। তার দুচোখ জুড়ে শুধু কান্না আসে। বাড়ি থেকে চলে যেতে ইচ্ছে করে। আর তার সেই মাকে মনে পড়ে। সে ভেবে পায় না তার মা আসে না কেন!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28796359 http://www.somewhereinblog.net/blog/SheikhJalilblog/28796359 2008-05-10 23:48:17