বাংলা ছোটগল্পে অর্ধশতাব্দীকাল বাঙালি সমাজ জীবনের সার্থক রূপকার হাসান আজিজুল হক ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বৃত্তায়ন নামের একটি উপন্যাস রচনা করেন। এর দীর্ঘ সময় পর ২০০৬ সালে সন্ধানী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় তার আরেক উপন্যাস কেন্দ্রীয় চরিত্রের আঞ্চলিক বয়ানের মধ্য দিয়ে সামাজিক ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াস ‘আগুনপাখি’। নিরীক্ষাপ্রবণ এই কথাশিল্পী লেখার পর নিজেই বৃত্তায়নকে উপন্যাস বলে মানতে রাজি হননি। তবে আগুনপাখি প্রকাশের পর থেকেই তা আলোচনার ঝড় তোলে। প্রথম আলোর বিচারে বর্ষসেরা বইয়ের তালিকায় স'ান পায়। ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের জন্য গত ২৮ মার্চ মৌখিকভাবে কলকাতা থেকে টেলিফোনে আনন্দ পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে ১৪১৪ বঙ্গাব্দের আনন্দ পুরস্কার পাবার বিষয়টি হাসান আজিজুল হককে জানানো হয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এই পুরস্কার পাবার বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক অভীক সরকার চিঠি দিয়ে হাসান আজিজুল হককে জানান। গত সোমবার হাসান আজিজুল হক পুরস্কার গ্রহণে সম্মত হয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন অভীক সরকারের কাছে।
বরেণ্য এই কথাশিল্পী সমকালকে বলেন, অভীক সরকার তার চিঠিতে বৈশাখ মাসে এক বিশেষ সাহিত্য সমাবেশে পুরস্কারটি অর্পণ করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য পরে বিশদভাবে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তবে হাসান আজিজুল হকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মৌখিকভাবে আনন্দ পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে, তিনি পুরস্কার গ্রহণে সম্মত হলে আগামী ২৬ এপ্রিল কলকাতায় এই সাহিত্য সমাবেশটি হবে। এই সমাবেশে যোগ দিতে ও পুরস্কার গ্রহণ করতে আগামী ২৩ এপ্রিল হাসান আজিজুল হক সস্ত্রীক কলকাতার উদ্দেশ্যে রাজশাহী ছাড়বেন।
প্রসঙ্গত ১৯৬১ সালে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত আনন্দ পুরস্কার পান সৈয়দ মুজতবা আলী। এ বছর হাসান আজিজুল হকের আগে বাংলাদেশের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (খোয়বানামার জন্য ১৯৯৬ সালে) ও তসলিমা নাসরিন (নির্বাচিত কলামের জন্য ১৯৯২ ও আমার মেয়েবেলার জন্য ২০০০ সালে) পেয়েছেন এই পুরস্কার। ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমিকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণে অসম্মতি জানানো হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

