somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ড. অনুপম: অনিরাপত্তার এই চক্র থামবে কোথায়?
অনুপম হীরা মণ্ডলের জীবনে ক্যাম্পাসে ছাত্রনেতাদের হাতে মার খাওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। প্রথমটি যখন ঘটে, তখন তিনি শিক্ষক ছিলেন না। তিনি তখন ছাত্র। সম্ভবত ২০০২ সালের ঘটনা। সরকারে আসীন থাকায় সেই সময়ের ইন-ফর্ম সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডারদের হাতে তার মধ্যযুগীর নির্যাতনের শিকার হবার খবরটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়ছিলো। অনুপমকে ঘরে আটকে রেখে পেটানো হয়েছিলো। কী অপরাধ যে ছিলো তার জানা যায় নি।

ব্যক্তিগতভাবে অনুপমকে আমরা ছাত্র অবস্থাতেই চিনতাম। পড়াশোনায় আমার এক বছরের জ্যেষ্ঠ ছিলেন। পরিচয় হয়েছিলো ছাত্র ফেডারেশনের পাঠচক্রে। এরপর ঘনিষ্ঠতা হয় জামিউল আহসান সিপুর মাধ্যমে। সিপু তখন জনকণ্ঠের রাবি প্রতিনিধি ছিলেন। পড়তেন অনুপমের বিভাগেই। নিরীহ-গোবেচারা আচরণ আর কথাবার্তার কারণে আড়ালে তাকে নিয়ে কম হাসাহাসি করেছি, তা নয়। সেই অনুপমকে একদিন শিবির এমন ঠ্যাঙানি দেবে- ভাবতেও পারি নি। ছাত্র অনুপম ঠ্যাঙানি খাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'প্রগতিশীল' মানুষগুলোর বক্র্তৃতার সবচে বড় অস্ত্র! পারলে তারা বিবৃতিতে ভাসিয়ে দেন অনুপমকে। ভেসে তিনি প্রায় চলেই গিয়েছিলেন। না, বিবৃতির ঠেলায় নয়, ঠ্যাঙারেদের হুমকিতে। যদ্দূর মনে পড়ে, অনুপমের জন্য ক্যাম্পাস অনিরাপদ হয়ে উঠেছিলো। দীর্ঘদিন তাকে ক্যাম্পাস ছাড়া হয়ে থাকতে হয়।

ছাত্র অনুপমের মার খাওয়া চক্রের সেই সূচনা। এরপর জীবনচক্রে মাস্টারি করছেন এবং এখানেও শিক্ষক অনুপম ছাত্রলীগ ক্যাডার এমদাদের হাতে মার খেয়ে তার চক্রের রেখায় আরো একটি বিন্দু যোগ করে নিলেন! অনিরাপদ ছাত্র আর শিক্ষক জীবন চক্রের কী চমৎকার দৃষ্টান্ত আমাদের অনুপম!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আরো নির্দিষ্ট করে বললে লটবহর সমেত প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এখন কী করছেন? পান থেকে চুন খসলেই যারা শিক্ষার্থীদের কলার ধরে টানা হেঁচরা করছেন, ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছেন, তাদের ভূমিকা এখানে কোথায়? না, তারা ভূমিকা পালন করেছেন; অস্বাভাবিক দ্রুততায় একজন সহকারী প্রক্টর ঘটনার দিনই 'শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধে' আন্দোলনকারী এক ছাত্রের কলার ধরে নিজের পৌরুষ জাহির করেছেন। কী চমৎকার নিরাপত্তার নমুনা! সন্ধ্যা না হতেই খাঁচায় ছাত্রীরা আবদ্ধ হচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করতে তাদের যে তোড়জোড় তার কানাকড়িও কি ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা ব্যয় করছেন?

তারা তা করবেন- এমন আশা অনেকেই করেন না। কারণ সরকারি দলের চামুচ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাদের চেষ্টার অন্ত নেই, তাদের কাছ থেকে এই আশা বাতুলতা।

গতকালের ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসের কিছু পুরনো কলের গান আবার চালু হয়েছে। তারা গাইছেন: ছাত্ররাজনীতিটাই যতো নষ্টের গোড়া। এটাকেই বন্ধ করে দেওয়া উচিত! নানা উসিলায় ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নামে যারা রাজনৈতিক চেতনাকেই বিকশিত হবার পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান তাদের অনেককেই আমরা চিনি ও জানি। ঈদ সামনে রেখে বিশেষ একটি ছাত্র সংগঠনকে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ নারায়ণ সমর্পণ করে তারাই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন। অথচ তারাই ক্যাম্পাসে ছাত্রদের ন্যায্য দাবি নিয়ে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে নোংরা ছাত্ররাজনীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাদের কি আমরা চিহ্নিত করছি না কি তাদের পেছনের প্রগতিশীলতার ছাপ্পরটার জোরে তাদের কথাকেই বেদবাক্যসম ধরে মাথায় তুলে নাচছি। এমদাদের মতো কথিত নেতাদের অপকর্মের দায় তো তারা এড়াতে পারেন না। শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের নিরাপত্তাহীন করে ফেলার অভিযোগ তো তারা খণ্ডাতে পারেন না।

ছাত্র রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে বলে যে গোড়া আমরা কাটতে চাইছি, সেই একই অভিযোগে তো প্রশাসনের গোড়াটাও কেটে ফেলার কথা ওঠা উচিত। দলীয় আনুগত্যের যে বিবেচনায় খবরদারি করার শক্তি বন্টন হয়, তার শেকড়েই তো যতো গলদ। সেটাকে চিহ্নিত করে না উপড়ে ফেললে ড. অনুপমদের জীবনচক্রে এমন কতো বিন্দু যে পূর্ণতা দেবে, তার হিসাব কষেও শেষ করা যাবে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/29069088 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/29069088 2009-12-31 16:47:27
আসুন সবাই জনগণের নিরাপত্তাকে আগে প্রাধান্য দিই http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28916840 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28916840 2009-02-26 13:50:55 সবকিছু নিয়ে যাও, দয়া করে আমাদের শান্তিটুকু ফিরিয়ে দাও আমি বাসায় কখন কীভাবে ফিরবো বা আদৌ তা পারবো কি না তাও জানি না। আজকে হয়তো আর ব্লগেও কিছু লিখতে পারবো না। কারণ অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ- এইসব কিছু এখন আমার অসহ্য লাগছে। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে, 'সবকিছু নিয়ে যাও। কিন্তু দয়া করে আমাদের শান্তিটুকু ফিরিয়ে দাও। আমার শিশুসন্তানটি নিশ্চিন্তে একটু ঘুমুতে চায়।' কিন্তু আমি চিৎকার করলেই কি সবাই শুনবে আমার কথা?]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28916764 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28916764 2009-02-26 12:36:38 ভেজাল দুধ প্রসঙ্গে মনে হচ্ছে টাকা চিবিয়ে খেয়েই বাঁচা যাবে আসলে কাগজের নোটগুলো না খেলেও আমরা তো টাকাই খেয়ে চলেছি। আমার বউয়ের জরায়ু বেচে, মায়ের মমতা বেচে, সন্তানের জীবন বেচে আমরা তো আর কিছু না, শুধু টাকা খাচ্ছি। কর্পোরেটদের টাকা বড় মহান। এর কাছে অন্য সব কিছু বড় তুচ্ছ।
গুঁড়ো দুধ নিয়ে গুঁতোগুঁতি, অতঃপর লাল ক্রস তো আমরা জানিই। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাঘাবাড়ির তরল দুধেও ভেজাল। ভেজাল ধরা পড়ার পর দেখা যাচ্ছে ওইখানে বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানের দুধক্রয় কেন্দ্র রয়েছে, তারা এখন আর আগের মতো দুধ পাচ্ছে না। তারমানে আগে অর্ধেকের বেশি দুধ তারা কিনতো ভেজাল। সর্বনাশের কথা। অথচ এই সর্বনাশ আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বোঝে না। এরা টাকা বোঝে, কেবল টাকা। কারণ ইঁদুর দৌড়ে সামিল হতে গেলে মুখের সামনে যেমন টাকা থাকতে হয়, তেমন পেছনের অংশ দিয়েও টাকা বেরোতে হয়! সে কারণেই ল্যাকটোমিটার ছাড়া আর কিছু নেই পরীক্ষা করার। টেকনিশিয়ানদের ডিগ্রি নেই। দেদারসে ভেজাল দুধ তারা কিনেছেন আর আমাদের খাইয়েছেন। আর আমাদের 'বদলের কান্ডারি' সবগুলো মিডিয়ায় মোটা টাকার বিজ্ঞাপন দিয়েছে, পাস্তরিত বিশুদ্ধ খাঁটি তরল দুধ বলে। আমরাও মহানন্দে বিজ্ঞাপনে আস্থা রেখে কিনেছি আর খেয়েছি। ভোরের ডাক বলে একটি অখ্যাত দৈনিককে এখানে ধন্যবাদ না দিলেই নয়। কারণ তারাই প্রথম এ অঞ্চলে ভেজাল দুধ তৈরি হচ্ছে বলে শীর্ষ সংবাদ করে। এরপর বাজার চলতি কাগজের মধ্যে প্রথম আলো বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে হৈ চৈ শুরু হয়।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এরপর থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামে। তারা গত বৃহস্পতিবার ভেজাল দুধ ও তা তৈরির উপকরণসহ এবং দক্ষতা ও মাননিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে ১৫ জনেক আটক করে। এদের মধ্যে ব্র্যাক, কোয়ালিটি, প্রাণসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও ছিলেন। তাদের জরিমানা করা হয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। তাদের আটক করা হয়। রাতারাতি প্রতিষ্ঠানগুলোর উধর্্বতন কর্মকর্তারা সিরাজগঞ্জে গিয়ে লহমায় টাকা পরিশোধ করে তাদের ছাড়িয়ে নেন। উল্টো ভ্রাম্যমাণ আদালতে সংশ্লিষ্টদেরই নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। কে দেখবে এসব? আমাদের ক্ষমতাসীনরা তো এখন নির্বাচনের ডামাডোলে সব খুইয়েছেন। আমরাও কাপড় খুলে নাচছি। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছি, জনগণের টাকা শুষে টাকার কুমীর হয়ে ওঠা একেকটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে আমাদের মৃত্যুর দিকে তিলে তিলে ঠেলছে? আমরা অসহায় হয়ে আছি।
তাই আমি ঠিক করেছি, আর কিছু খাবো না। শুধু টাকার নোট চিবিয়ে চিবিয়ে খাবো। আমার সন্তানকেও টাকাই খাওয়াবো। আপনাদেরও দাওয়াত দিলাম। আসেন টাকা খেয়ে বাঁচার প্রস্তুতি নিই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28866415 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28866415 2008-11-08 20:42:41
আমাদের একজন ব্লগার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন মাসকাওয়াথ আহসান এই বদল ঘটাচ্ছেন। তিনি বিকল্পধারা বাংলাদেশ থেকে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে মনোনয়ন তুলেছেন। সেখান থেকে তিনি নির্বাচন করতে চান। সহ ব্লগার হিসেবে তথ্যটা জানানো কর্তব্য মনে করলাম।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28865972 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28865972 2008-11-07 18:03:35 কী বদলায়, কতোটুকু বদলায়? তারপরেও বারাক ওবামার বিজয়কে বদলের সূচনা বলে ঢাকঢোল কম পেটানো হচ্ছে না। এই ঢাকের আওয়াজ সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পেরিয়ে আমাদের কানেও যে আসছে। সেই অপার মহিমা যে আমরাও আস্বাদন করছি। কিন্তু আসলে কী বদলায়, কতোটুকু বদলায়- তা তো পরিষ্কার। সারা বিশ্বে নানা পদের অসংখ্য ঘটনা-দুর্ঘটনার পেছনে থাকা সিআইএ নামক সংস্থাটি কি ওবামার দায়িত্ব নেবার পর বদলে যাবে? নিজেদের কর্তৃত্ব জাহির করতে বিশ্বব্যাপী এই সংস্থাটি কি তাদের কূটচাল অব্যাহত রাখবে না? পররাষ্ট্র নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন চাল গ্রহণ করবে বলে শোনা যাচ্ছে, তা কি অবশিষ্ট বিশ্বে লহমায় শান্তির বাতাস বইয়ে দেবে? অন্য রাষ্ট্রের খনিজ সম্পদের ওপর লালসার জিভ কি ফিরিয়ে নেবে যুক্তরাষ্ট্র? যদি এসব হয়, তাহলে কি ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা আর অবশিষ্ট থাকবে? তা যদি না থাকে তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র নামক রাষ্ট্রব্যবস্থাটি তা মেনে নেবে? এই রাষ্ট্রের পরতে পরতে যে নীতি নির্ধারক আমলা, আধা আমলা আর পুঁজির মালিক গোষ্ঠী রয়েছে তাদের পসার আর আয় উপার্জন তো তাহলে হুমকির মুখে পড়ে যাবে। ওবামা তো রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি পদের ধারক মাত্র। কিন্তু রাষ্ট্রের কলকব্জা যে আরো অনেক গভীরে। তাহলে সমগ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা না বদলালে ওবামার কাছ থেকে আমরা কী বদল আশা করতে পারি? আর সেই আশা কেন করবো?
না, সেই আশা করতে হবে। কারণ, গত প্রায় দু'বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র তার সাম্রজ্যবাদী প্রক্রিয়ার নতুন চেহারা আমাদের সামনে হাজির করার খেলা একটু একটু করে ছাড়তে শুরু করেছে। কাজেই তাদের ছক মতোই আমরা সেই বদলের আশা করবো। এই আশা আমাদের করানো হবে। তাই হচ্ছে। পুঁজিবাদ যেহেতু নিজেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনে, সেহেতু তার কর্মপ্রক্রিয়ায় মাঝে মধ্যেই হালকা ধরনের বদল প্রয়োজন হয়। পুরানো চুনকাম তুলে আধুনিক প্লাস্টিক পেইন্ট আর কী। সেই প্লাস্টিক পেইন্টের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করানোর জন্য সমাজের মধ্যেই নানা নামে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর সব রকম ব্যবস্থা পুঁজিবাদই করে রাখে। কাজেই কখনো কখনো একেকটি শব্দ সেই সৃজনশীলতার উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। এখন যেমন সেই শব্দ 'বদল'। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর পুরানো চুনকাম তুলে সেই প্লাস্টিক পেইন্ট লাগাতে দুনিয়াজুড়ে তার সেই 'বদল' সব সমাজের হৃদয়ে নিতে সমাজের প্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বদলের কথা বলতে থাকবে।
এভাবে আমরা 'বদল' হুজুগে ভেসে যাবো। কিন্তু খাওয়া-না খাওয়া, অধিকার পাওয়া- না পাওয়ার প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে যাবে। ঝকঝকে ছবি আর তকতকে লেখায় সবকিছু বদলে যাবে। কিন্তু আসলে ভেতরে সব পুরনোই থেকে যাবে। চুনকাম থাকলে তবু আস্তরণ পাতলা হয়। প্লাস্টিক পেইন্ট যে অনেক পুরো! সেই আস্তরণ ভেদ করা তো আরো দুর্ভেদ্যই হয়ে উঠবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28865491 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28865491 2008-11-06 14:02:37
একটি সেতু ও একটি সড়কের গল্প স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় তাই যমুনা সেতু আর বনপাড়া সড়কটি বেশি আলোচিত। দু'টিই এখন নিজের স্থায়ীত্ব খুঁইয়েছে। যমুনা সেতুর ফাটলের বিষয়টি আমরা সবাই জানি। কে দায়ী, কার দায় এসব নিয়ে হৈ চৈ হয়েছে ভালোই। কিন্তু কাজের কাজ নেই। সরকার দায়ীদের এখনো পযর্ন্ত চিহ্নিত করতে পারে নি। পেশাগত কারণে যমুনা সেতুর ফাটল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। এই ফাটলের জন্য দায়ী কে, তা বের করতে সরকারের এতো সময় লাগছে। কিন্তু আমার মনে হয়, যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, কে দায়ী নয়, তাহলে বোধহয় বলা যাবে, এমন কেউই নেই। নিমার্ণকালীন ত্রুটি এবং নকশার ত্রুটি যে যমুনা সেতুর আজকের পরিণতির জন্য দায়ী, তা আমাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই বলেছেন। এই সেতুটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হুন্দাই নিমার্ণ করেছে। নকশা তৈরি করে নিয়েছে আরেক প্রতিষ্ঠান থেকে। বিশ্বজুড়ে হুন্দাই পরিচিত হলেও এই প্রতিষ্ঠানটির বড় বড় অনেক স্থাপনার স্থায়ীত্বও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মালয়েশিয়ার পেনাং সেতু এগুলোর একটি। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার এখনো পযর্ন্ত হুন্দাইকে কঠোর ভাষার একটা ধমক পযর্ন্ত দিতে পারেনি। আসলে মুজরা নৃত্য আমাদেরই মানায়! মাগার্নেট ওয়ান নামের রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর সেতু কতৃর্পক্ষের প্রকৌশলীদের নানা ধান্দাবাজির কাহিনী না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু এতোটুকু নিশ্চিত, যমুনা সেতু তার তিনভাগের একভাগ স্থায়ীত্ব হারিয়েছে।
আরো খারাপ পরিস্থিতি বনপাড়া-নলকা-হাটিকমরুল সড়কটির। বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পটি এখন সংস্কার করে চালানো যাবে না। মাত্র ৫ বছরে এই অবস্থা! বিশ্বব্যাংকের কনসালট্যান্টরা যেখানে ছিলেন এই প্রকল্বপ পরিচালনার মূল্ ব্যক্তি, সেখানে সড়কটি কীভাবে নিমির্ত হয়েছিলো যে, ৫ বছর পর বিশ্বব্যাংক নিজেই বলছে, রাস্তাটি সংস্কার করে আর চালানো যাবে না? এই রাস্তা পুণঃনিমার্ণ করতে হবে, যাতে ব্যয় হবে প্রায় দু'শ কোটি টাকা। বুঝুন, তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে যে সড়ক নিমার্ণ করা হয়েছে, মাত্র ৫ বছরের মধ্যে আরো দু'শ কোটি টাকা খরচ করে সেই রাস্তাকে চলাচলযোগ্য করতে হবে। আন্তজর্াতিক নানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন আমাদের সরকারের মাননীয় উপদেষ্টারা কিন্তু বিশ্বব্যাংকের জন্য এ পযর্ন্ত একটি কথাও খরচ করেননি। তারা প্রশ্ন তুলেননি, সব দুনীর্তি দূর করার ছবক দিয়ে বেড়ানো মানুষদের পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়া বিশ্বব্যাংকের কনসালট্যান্টদের দুনীর্তির কারণে যখন আমাদের মতো রাষ্ট্র লোকসান গোনে, তখন তার দায় কে নেবে? বিশ্ব উন্নয়নের ঠিকা নিয়ে রাষ্ট্রের পাছায় উন্নয়ন সূচকের সিলমোহর মারিয়ে বেড়ানো বিশ্বব্যাংকের মোড়লি যে শেষপযর্ন্ত আমাদের নিঃস্ব করে ছাড়ছে তার আরো একটি দৃষ্টান্ত কেবল এটি। আমাদের রাষ্ট্রের কণর্ধাররা কি এতোটাই বোকা যে তারা বুঝছেন না? তা তো হবার কথা নয়। ডক্টরেট ডিগ্রিধারীরা কি এতোটা অবুঝ? না অবুঝ তারা নন। কিন্তু তারা কিছু বলছেন না, কারণ যাহা বাহান্ন তাহাই তেপান্ন। কারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা যায় না। প্রথম আলো-স্টার-আই-সিপিডিদের তৈরী সুশীল সমাজ এই সত্যটা বুঝতে পারছেন কি না কে জানে!

ব্যবহৃত ছবিটি আনোয়ার আলী হিমুর তোলা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28861175 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28861175 2008-10-28 19:19:17
থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড় এরপর আমি জানতাম, নির্যাতিত সেই ব্যক্তিটি ভালোই আছেন। কিন্তু আমার ভুল ভাঙালেন আমার একসময়ের এক সিনিয়র সহকর্মী। এখন তিনি কাজ করেন ঢাকায়। রোজার মধ্যে তিনি রাজশাহী এসেছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, নির্যাতিত সেই ব্যক্তি পূর্ব সম্পর্কের কারণে এখনও তাকে ফোন করেন। আমার প্রাক্তন সহকর্মী জানালেন, ওই ব্যক্তি ভয়াবহ দুঃসময়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ওই ব্যক্তি আমার প্রাক্তন সহকর্মীকে জানিয়েছেন, এক এগারোর পটপরিবর্তনের পর একদিন তার থানার ওসি তাকে পুলিশ পাঠিয়ে থানায় নিয়ে যান। এরপর তার সামনে আগে থেকে লিখে রাখা একটি কাগজ রেখে বলেন সই করে দিতে। তিনি সই করার আগে জানতে চান কী এটা। ওসি তাকে বলেন, তুই নির্যাতনের বিচার চাইবি না? মামলা কর। এটা তার এজাহার। ওই ব্যক্তি শীর্ষ নামটি দেখে বলেন, এতোবড় মানুষের নামে মামলা করবো? ওসি তাকে অভয় দেন। এরপর আসামী তালিকা পড়ে শোনানোর সময় ওই ব্যক্তি দেখেন, এমন কিছু লোকের নাম লেখা, যারা ওই ঘটনার সঙ্গে আদৌ যুক্ত নন। এইবার ওই ব্যক্তি জানতে চাইলে ওসি বলেন, তোর কাজ সই করা, সই কর। এতো কিছু বুঝতে হবে না। তখন ওই ব্যক্তি ওসিকে বলেন, আমারও দু'য়েকজনের নাম ঢোকাতে হবে। ওসি মৃদু হেসে সায় দেন। নতুন করে এজাহার তৈরি হয়, ওই ব্যক্তি তাতে টিপসই দেন। এমন একটি এজাহারেই হয় আলোচিত একটি মামলা। তারপর সেই মামলায় সবার সাজা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে গত তিন মাস ধরে বিএনপির ওই শীর্ষ নেতার লোকজন হুমকি ধামকি দিচ্ছেন তাকে। পুলিশ কিছুতেই গা করছে না। অবশেষে আবারো সে এলাকা ছেড়েছে। সর্বশেষ সংবাদ হলো, পলাতক নেতা দেশে এসেছেন, দু'য়েকদিনের মধ্যেই আত্মসমর্পনও করবেন।
আমি জানি না, মামলার সেই বাদীর কী অবস্থা হবে। তবে নিশ্চিত জানি এই লেখাটা পড়ে অনেকে বলতে পারেন, আবার সেই পুরানো রাজনীতিতেই ফিরে যাচ্ছি। তার কুফল এসব। কিন্তু আমার মনে হয় না যে আমরা পুরানো রাজনীতিতে ফিরছি। আসলে আমার মনে হচ্ছে, আমরা পুরানো রাজনীতি থেকে কখনো বেরই হতে পারিনি। এই ব্লগেও অনেকে ওয়ান এলোভেনের চেতনার কথা বলেছেন। আমার মনে হয় না ওয়ান এলোভেনের কোনো চেতনা কোথাও কোনো সময় উপস্থিত ছিলো। যা আমরা পেয়েছি, তা হলো, নতুন ধরনে শোষণ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক চেহারার সঙ্গে পরিচিতি। আরোপিত কোনো রদবদল সাময়িক পরিস্থিতি বদলাতে পারে বটে। তবে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন কখনোই তা আনতে পারে না। চটকদারি রদবদলের আড়ালে তা বরং আমাদের দীর্ঘস্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে বিঘ্নিত করে। এই পরিবর্তন তো একটি সর্বব্যাপী প্রক্রিয়া হবার কথা। তা না হয়ে প্রতিনিধিত্বশীলতার নাম-গন্ধ যদি কোথাও খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে কিছুদিন পরে রদবদলের কর্মে নিযুক্তদের জন্য এই কথাটাই বলা স্বাভাবিক যে, রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলা যায় না। এই পুরানো সত্য কথাটা অনেকটা পথ হেঁটে তখনই নতুন করে উপলব্ধির প্রয়োজন হয়, যখন পেছনে জনগণের কমন উইলিং না থাকে। সেই কমন উইলিং রাজনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যতোদিন আমরা গড়ে তুলতে না পারবো, ততোদিন আমরা এমন সব ঘটনা বলে যাবো আর অন্যরা বলবেন, থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়। আর যতোবার আমরা একথা বলবো, ততোবার আমাদের আলস্য পাবে, বৈরাগ্য আসবে, ঔদাসীন্য ভর করবে। আমরা পথ হারাতে হারাতে একদিন যে পথ ছিলো সে কথাই এভাবে ভুলে যাবো হয়তো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28852404 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28852404 2008-10-08 18:37:12
এইটা আবার সচলায়তন বিষয়ক কোন কাহিনী? This Domain (sachalayatan.com) Has Been Disabled

--------------------------------------------------------------------------------
For information on restoring your account please call customer service as soon as possible

When/If you call our support help line, please have your site name ready.

সচলায়তন দিয়ে এক্সপ্লোরার খুললাম। একই অবস্থা। ব্যাপারটা কী ঘটেছে কিছু জানেন নাকি কেউ? আমি বুঝতে পারছি না। সচলায়তনের ডোমেইনে কোনো সমস্যা হয়েছে, নাকি এইটা আবার কোনো ব্যান কাহিনী?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28834892 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28834892 2008-08-25 20:41:10
আমি এমন অনেক আগন্তুককে চিনি, এমন অনেক নেতাও আমার অচেনা নয় http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28829810 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28829810 2008-08-11 20:15:55 অনেকদিন পর রাজশাহীর রাস্তায় হাঁটলাম একসঙ্গে আজ আমরা আর পাথর হয়ে থাকি না। আজ আর কনক্রিটের ভিড় নেই। পুরানো শহর, স্মৃতির শহর রাজশাহীতে প্রায় ৪ বছর পর আমরা পুরানো ৪ বন্ধু একসঙ্গে হলাম। মাহবুব আলম, সমীর কুমার দে আর আবু নোমান সজীব। সঙ্গে আমি। সিটি নির্বাচন কাভার করতে তারা ঢাকা থেকে এসেছে। পেশাগত কাজেই আমরা একত্রে। কিন্তু তারপরেও রাজশাহীর রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে আমরা যেনো আবার নতুন করে ফিরে পেলাম নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সময়। নিজেদের মধ্যে মগ্ন হয়ে পথচলা আমাদের এই ছবিটি সমকাল রাজশাহী ব্যুরো অফিসের চারতলার বারান্দা থেকে টুক করে তুলে নিয়েছেন আমাদের দীর্ঘ দিনের সহকর্মী জাবীদ অপু। ছবি আর অনুভূতিগুলো ব্লগার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারলাম না। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28827068 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28827068 2008-08-03 21:56:39 এই সময়ই নির্ধারিত হবে বাংলা ব্লগের ভবিষ্যত আমি যদ্দূর জানি, সচলে ঢোকা যাচ্ছে না এই মর্মে সমপ্রতি প্রথম আলো ও বিডি নিউজে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম আলোতে প্রকাশিত খবরটি আমি দেখেছি। সেখানে সচলায়তন নিষিদ্ধ বলে একটি প্রশ্নবোধক দেয়া হয়েছে। ওই খবর থেকে আশঙ্কা করা যাচ্ছে যে, সরকারিভাবেই কোনো এক কারণে সচলে অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন' আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই খবর প্রকাশের পর থেকে এখনো পর্যন- দেশের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কী কারণে তারা ব্যাখ্যা দেয়া থেকে বিরত থাকছেন?
দেশের দায়িত্বশীলরা যদি ব্যাখ্যা না দেন তাহলে অনেক শঙ্কাই মনে জাগে। রাষ্ট্রের তরফে যদি ব্লগ অ্যাক্সেস বন্ধের কোনো সিদ্ধান- না নেয়া হয়, তাহলে এটা কি কোনো নাশকতামূলক তৎপরতা? যদি তাই হয়, তাহলে এই তৎপরতার পেছনে যারা রয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করার দায়িত্ব কার?
সচলে অ্যাক্সেস বন্ধ হবার পর আমাদের ব্লগার মহলেই অনেকে নানাভাবে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। ঘটনা যাই হোক, আমি উদ্বিগ্ন, কারণ বাংলা ব্লগিংয়ের যে জোয়ার এসেছে, তা সচলের এই ঘটনার পর বাধাগ্রস' হতে পারে বলে আশঙ্কা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে কিংবা তথ্য অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বাংলাদেশ থেকে এই সাইটে ঢুকতে না পারা আমাদের, ব্লগারদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। কারণ আজ সচলের ক্ষেত্রে যা হয়েছে, সেই পরিণতি অন্য ব্লগসাইটের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে হবে না তা কি আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি?
কাজেই আমাদেরও উচিত এই বিষয়টি নিয়ে বেহুদা বিতর্ক তৈরি না করে নির্মোহ দৃষ্ঠিকোণ থেকে কারণ অনুসন্ধান করা। কারণ আমি মনে করি এই সময়টাতেই আমরা বেছে নেবো বাংলা ব্লগের ভবিষ্যত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28821851 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28821851 2008-07-19 13:39:03
When the media turns into evil
Sunita Paul - 6/8/2008

Media can play important role in up building a nation, while the same media, being influenced by evil forces or vested interest, could turn into devastating element for any nation. Take the example of Bangladesh's leading media group named Transcom Media, which owns a vernacular daily newspaper named Prothom Alo, an English language daily named The Daily Star, two periodicals named Shaptahik 2000 and Anandadhara. Recently the group has acquired ownership of an FM radio station named 'Aina Broadcasting Corporation' (ABC). The group is rather known as 'Daily Star Group' in Bangladesh, because of tremendous influence of its English language daily as well as its top most position amongst all competitor dailies.

Before going into notoriety of Daily Star group, let me first put focus at the back ground of the emergence of this business-media group. During early nineties, present owners of 'Star Group' turned financially bankrupt when its main figure Latifur Rahman's paternal property W Rahman Jute Mills at country's Chandpur district had to declare lay-off thus leaving thousands of workers and labors unemployed. Numerous cases were filed with the Chandpur district labor and criminal courts against Latifur Rahman and other members of the factory, as they defaulted payment of worker's wages. On the other hand, W Rahman Jute Mills was listed as one of the top defaulting enterprises with Bangladesh Bank (Central Bank) for long standing loans.

But, luck started moving in positive direction, when Latifur Rahman's wife's cousin Anup Chetia (leader of ULFA separatist group) came forward with hidden help of finance in businesses in Bangladesh through Rahman. It is learnt that a few million dollars were placed with Latifur Rahman in re-organizing his collapsed business and ULFA kept a secret stake of shares in all businesses initiated by Latifur Rahman after receipt of this secret fund.

Latifur Rahman understanding his failure in running industrial enterprise profitably launched a company named Transcom, which began businesses as the sole distributor of Nestle brand milk products in Bangladesh. Initial response although was very poor from the local market, due to solid financial back up from ULFA, Latifur Rahman managed to ultimately penetrate in the business and in few years, Transcom emerged as one of the mightiest enterprises in Bangladesh. Meanwhile, when Dhaka's well respected journalist S M Ali took the initiative of launching an English language newspaper, Latifur was suggested by ULFA to buy shares, as such investment would buy media influence for the separatist group, which fights against Indian government in separating seven North-Eastern states within India.

S M Ali was successful in placing Daily Star at the forefront of Dhaka's English press, because of his extra-ordinary qualities and courage. Just in few years, this newly launched newspaper sub sided most of the competitor dailies such as Bangladesh Observer, Bangladesh Times (now defunct), New Nation, Morning Sun (now defunct) and Financial Express. But sudden demise of S M Ali opened the opportunity for Latifur Rahman to swallow the newspaper. He brought Mahfuz Anam as the editor of the newspaper, who subsequently ousted ancestors of S M Ali and grabbed his shares. This was the beginning of notorious journey of Daily Star group.

Later, when Anup Chetia was arrested by Bangladeshi law enforcing agencies, Latifur Rahman stopped paying any share to ULFA. This was the first beginning of feud between notorious ULFA separatists and Latifur Rahman. It is widely rumored in Dhaka that, ULFA had hidden hands behind murder of Latifur's daughter Shazneed Rahman, who was brutally raped and murdered right inside her residence at Dhaka's posh Gulshan area.

But, the handsome investment from ULFA, gave Transcom an excellent opportunity to grow. Latifur decided to launch a vernacular daily newspaper with the initial capital of 10 million Taka in 1997. Prothom Alo recruited large number of top newsmen from Dhaka's press community. It also had dynamic Matiur Rahman as its editor, which helped the newspaper to rapidly turn into one of the leading dailies in the country. Later two vernacular periodicals were also launched by this group, one with celebrated journalist Shahadat Chowdhury as its editor.

In some years, Transcom group acquired ownership of Pepsi, Phillips and several large industrial enterprises. Luck always clicked in favor of this business group, as far as its investments in media was concerned. None of the newspapers, belonging to Transcom group had ever faced any financial adversity.

Due to such influential ownership of media projects, Latifur Rahman got the excellent opportunity of continuing various illegal businesses including import of goods from abroad under false declaration. Several consignments imported by Transcom were stopped by customs officials in Bangladesh and evidence of revenue evasion of millions of Taka was unearthed. But, everything was managed, by using the influence of Prothom Alo and Daily Star. Even after the political changes in Bangladesh on January 11, 2007, Daily Star group managed to send its Executive Editor Syed Fahim Munayem as the Press Secretary to the Chief Executive of the interim government. Even at later stage, when Anti Corruption Commission (ACC) issued notice on Latifur Rahman asking declaration of his wealth and assets, the entire issue was some how put into suppression with the help of Daily Star-Prothom Alo group.

Everyone knows the news about cracks in Jamuna Multi-purpose Bridge in Bangladesh. But, possibly no one knows the fact that the main reason behind such cracks was due to use of a particular brand of cement, which in the name of Portland Grey Cement is in fact fly ash mixed lowest grade cement. And, this inferior quality of cement went into various high cost projects in Bangladesh just because; chairman of the company producing and marketing this brand is none but Transcom's Latifur Rahman. No one in the government dares to utter even a single word about Holcim, which supplied such cement to various projects, as they are afraid of wrath of Daily Star and Prothom Alo. Despite the fact that, both the newspapers are largest in circulation in Bangladesh, main purpose of these publications is serving the interests of Corporate Crime.

Prime intention of Daily Star group is to stand against various business groups, whenever there is any business rivalry with that specific company or individual. This group went into heinous propaganda against Beximco Group, Bashundhara Group and many others in past. There is even clean track record of dubious behavior of this group is sabotaging various projects in Bangladesh, with the ulterior motive of either supporting businesses of Latifur Rahman, Transcom or members of this syndicate.

Many projects were already sabotaged by this group, thus causing tremendous loss to Bangladesh's economy. The latest episode of such rivalry of Daily Star group was with Bangladesh's lone hard rock mining project at country's Dinazpur district. Maddhyapara Hard Rock Mining Project (MHMP) became a pray of Daily Star for past several years. It is learnt that, some vested interest groups, including importers of stones and stone-chips from India, Myanmar and Malaysia are patronizing such media terror by Star, thus attempting to sabotage country's most prospective project, which not only is already saving millions of dollars, but, also is set to turn into a huge prospect of earning millions of dollars from export of world-class Granite Tiles.

First rivalry with the MHMP began when Bangladesh government appointed Polish consulting firm Kopex SA, defying the fact that this firm had no experience of hard rock mining. It is learnt that, appointment of this Polish firm was a result of heavy persuasion from some high level corrupt bureaucrats in the Energy Ministry and Petrobangla. From the very appointment, the Polish consultant had been frantically trying to sabotage the project for reason unknown.

In June 2006, Kopex SA submitted a paper with the Energy and Mineral Resources Division saying, "Maddhyapara Hard Rock Mining project has become 'virtually sick' and the employer (the government) has suffered huge financial loss."

It said Petrobangla and the project authorities, Madhyapara Granite Mining Company Limited, should ask Nam-Nam for final commissioning and test production immediately to ascertain the actual status of mine development.

"The Petrobangla and MGMCL should take over the mine after ascertaining its actual state and on documentation to establish the legal ownership of the mine," it said.

Kopex said, "The Nam-Nam has complemented major installation of the mine in over 12 years but they have not yet done the final commissioning and test run although the original development period of the mine was 6.5 years since the signing of the agreement between Petrobangla and the company in 1994."

Sources in Petrobangla, however, ditched the Kopex report, saying that the consultant should also be held responsible for the delay as it failed to come up with proper plan.

"Kopex also wants to be involved more with the mine for which it came up with such a report," Petrobangla source added.

Meanwhile, on October 15, 2005, The Daily Star published a front page news item titled 'North Korean company looks for legal coverage to finish task'. In this report, Daily Star said, "When completed, the Maddyapara hard rock mine will commercially sell 1.65 million tonnes of granite a year. The country annually imports 3.4 million tonnes of granite. Local production will save between $38 million to $58 million US dollars. The project has a life span of 45 years. However, the price of Maddhyapara granite will not be cheaper than the rocks that are commonly imported from India because of the increased project cost"

It was clearly understood that the report was published with the very intention of killing the project to protect the interest of importers-exporters syndicate, which enjoys business of millions of dollars every year by continuing to import stone from India and other countries. In this report, Daily Star claimed that the cost of production of MHMP hark rock was higher than imported one, which is nothing but a clean deviation from truth. It is learnt from dependable sources that, production cost for each tons of hard rock from Maddhyapara project stands at US$ 10 while the minimum import cost is US$ 22.

On May 18, 2006, Daily Star once again published a front page report titled "Petrobangla to take it over from DPRK firm", where it repeated the same lie on the price of the locally extorted hard rock. It said, "Maddhyapara granite will however not be cheaper than the rocks that are commonly imported from India because of the increased project cost."

Nam-Nam Corporation successfully completed and handed over the project in May last year and meanwhile; commercial production in the project is already going on. Due to timely steps taken by the present government in Dhaka, locally produced stones are purchased and used in various domestic projects on priority basis, while the cost of local stones are more than half the cost of imported ones. Being totally frustrated at the completion of the project, vested interest groups once again managed to published another front page report in The daily Star on May 16, 2008 titled "Miner now wants return of non-existent loans".

In this report, Daily Star wrote, "Nam-nam is now operating the mine with 65 South Koreans under a one-year service contract due to expire on May 27. As it did not fully transfer the South Korean technology to the MGMCL, it will get yet another year's service contract, the sources said."

This part of the news shows two things. One, the reporter knows nothing of the project but was writing thing being dictated by vested interest groups. In the same news, while the reporter said Nam-Nam is a North Korean company, how he could discover 65 South Koreans in the project (does he lack the minimum knowledge that North and South Korea do not have any diplomatic relations as yet?). The reporter also said that, Nam-Nam is not fully transferring South Korean technology to MGMCL. Ridiculous, who edits and passes such rubbish news in Daily Star? Being Dhaka's leading dailies, it should be ashamed of such poor journalistic quality. The entire report as well as all previous reports is part of propaganda and conspiracy to kill the entire project, which stands as the most prospective one for Bangladesh. Anyone can easily understand that, vested interest groups, including enemies of North Korea are patronizing such dangerous campaign not only to sabotage the project, but, also to give a good lesson to the North Korean company for being dedicated and helpful to Bangladesh is saving millions of dollars from import of hard rock.

Bangladesh government not only needs to patronize this extremely profitable and viable project, but even needs to go into fresh negotiations with Nam-Nam or the North Korean government in signing fresh agreements for exploration of more mining projects in the country. According to mining experts several more hard rock mines are already existing in the Northern region of Bangladesh, which will be able to help the country in stopping import of stones from abroad, thus saving billions of dollars each year. At the same time, government needs to identify vested interest groups within Energy Ministry and Petrobangla in order to not only protect the national interest but also to punish the culprits for their notorious roles.

Further harassment of the North Korean company will earn bad reputation for Bangladesh from the potential foreign investors. Nam-Nam deserves to be appreciated for completion of the MHMP despite series of harassments and non-cooperation from the Energy Ministry and Petrobangla.

This article has been taken from http://www.globalpolitician.com/24880-media ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28820515 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28820515 2008-07-15 13:45:07
এই মুহূর্তে: ফজলে হোসেন বাদশা মেয়র পদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন ছবি জাবীদ অপুর তোলা]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28819848 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28819848 2008-07-13 16:25:37 শাশ্বত সত্যকে বাচাতে এগিয়ে আসুন শাশ্বত সত্যকে বাচাতে এগিয়ে আসুন সবাই। বিস্তারিত জানতে সুজনের পোস্ট দেখুন। এই লেখাটিতে ক্লিক করুন। সুজনের পোস্টটি স্টিকি করার দাবি আবারো।

শাশ্বতকে নিয়ে এই লেখাটি লিখেছেন তার শিক্ষক আ-আল মামুন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28803850 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28803850 2008-05-28 17:16:14
শাশ্বত সত্য'র জন্য আ-আল মামুনের লেখা শাশ্বত সত্যকে নিয়ে সুজনের দেয়া এই পোস্টটি স্টিকি করার আহ্বান আবারো

শাশ্বত সত্যকে নিয়ে তার শিক্ষক আ-আল মামুনের এই লেখাটি ক'দিন আগে আমার হাতে এসেছে একটি জাতীয় দৈনিকে ছাপার জন্য। লেখকের অনুমতি সাপেক্ষে লেখাটি ব্লগে দিলাম।- ব্লগার

শাশ্বত সত্য’র পাশে দাঁড়াবোই আ-আল মামুন


প্রথম বর্ষের ক্লাস নিতে গিয়ে আমি বিস্মিত হয়েছি, বহুদিন পরে। ক্লাসে আমি মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাস পড়াচ্ছি, মাঝে মাঝে প্রশ্ন করিজ্জএক দিন, দুই দিন, তিন দিন। একটা ছেলে প্রশ্নগুলোর জবাব জানে। অনেকদিনের অভিজ্ঞতায় হতাশা জন্মেছে, ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছেজ্জযদি বলি মহাভারত পড়েছ? জবাব পাই, না স্যার পড়িনি, তবে কেউ কেউ বলে টিভিতে দেখেছি। সেহেতু হতাশা জন্মেছে, তবু অভ্যাসবশে বক্তৃতার মাঝে মাঝে প্রশ্ন করি উত্তরের প্রত্যাশা না-করেই। এবার অবাক হয়েছি, একটা ছেলে জবাবগুলো জানে। বলি, কাগজ কোন দেশের মানুষ আবিষ্কার করেছিল, জবাব আসে চীন দেশে। প্রশ্ন করি, আধুনিক মুদ্র্রণশিল্পের জনক কাকে বলা হয়, তার সাকিন কোথায়জ্জজবাব পাই গুটেনবার্গ, জার্মানীর মেনজ শহরে। বরীন্দ্রনাথের উপন্যাসগুলো পড়েছো? হ্যাঁ। মানিক পড়েছ? হ্যাঁ স্যার কিছু পড়েছি। আমার চোখ বারবার ঘুরে যায় উত্তরদাতার দিকে।

আমি ছেলেটা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠি, মনোযোগ দিই। নাম শাশ্বত সত্য। প্রাণবন-, উজ্জ্বল চোখের দৃষ্টি। বামহাতে ক্র্যাচে ভর দিয়ে তার চলাফেরা। ও মাঝেমধ্যে আলাপ করতে আসে, আমি পরামর্শ দিই, অবশ্যপাঠ্য বইগুলো পড়তে বলি, সাংবাদিকতার অ-আ-ক-খ শেখাইজ্জআমার ভালো লাগে। পড়ালেখা-করা ছেলে নজরে পড়লে শিক্ষক হিসেবে আমি স্বভাবতই তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হয়ে উঠি। ভাবি, বেশতো পড়ালেখা করছে ছেলেটি, এখন আরও বইপত্র পড়িয়ে ও আলাপচারিতার মাধ্যমে গড়েপিঠে নেবজ্জরাষ্ট্রকাঠামো, সমাজ আর মিডিয়ার সমাজতত্ত্ব বিষয়ে সচেতন করে তুলবো। এভাবেই দিনগুলো চলছিল, এভাবে আমরা ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠতে থাকি।

এর মধ্যে ওদের প্রথম ইনকোর্স পরীক্ষা হলো। জিজ্ঞেস করি, কেমন পরীক্ষা দিলে শাশ্বত? ও বলে, ‘ভালো হয়নি স্যার।’ আমি মনক্ষুন্ন হই, বলি ‘কেন ভালো হলো না?’ জবাব পাই: ‘বেশিক্ষণ একটানা লিখতে পারি না, হাত অবশ হয়ে আসে স্যার।’ এতোদিন আমি ওর মনোজগতের বিকাশ নিয়ে আগ্রহী ছিলাম, এখন ওর শরীরতত্ত্বও সামনে এসে হাজির হয়।

আপন শরীর নিয়ে ওর লড়াইয়ের ইতিহাস বড়ই করুন আর দীর্ঘ। সেই ১৯৯৮ থেকে ২০০৮। পরিসি'তির নিয়মিত অবণতি ঘটেছে, শরীরের অঙ্গগুলো একটার পর একটা বিদ্রোহ করেছে, অচল হয়ে যাচ্ছে। আর প্রচণ্ড মনোবল সম্বল করে ও এগিয়ে চলেছে, সামনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও। ডাক্তারিবিদ্যা ও বিজ্ঞান বলছে ওর পরাজয় ঘটবেজ্জহাত-পা-কোমরের জয়েন্টগুলো অচিরেই অচল হবে, মেরুদণ্ড আরষ্ট হয়ে যাবে, ও চলচ্ছক্তিরহিত একদলা মাংশপিণ্ডে পরিণত হবে। তারপরে মৃত্যু অনিবার্য। কিন' বিজ্ঞান মানুষের মনের তালাশ এখনও করতে পারেনি। বিজ্ঞান জানে না মানুষের মন কী অপরিমেয় শক্তি ধারণ করে, কতোটা অমৃত ফলাতে পারে। প্রতিটি মানুষের মনে যে আল্লা বাস করে করে এবং অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে তার তালাশও বিজ্ঞান করতে পারেনি, অদূর ভবিষ্যতেও করতে পারবে না বলেই মনে হয়।

২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন- বিছানায় পড়ে ছিল শাশ্বত, পিঠে গোটা গোটা ঘা হয়েছিল। সবাই ওর পঙ্গুত্ব মেনে নিলেও মানতে পারেনি শাশ্বত নিজে। দেহ-মনের সর্বশক্তি জড়ো করে ২০০৬ সালের প্রথম দিকে ও হামাগুড়ি দিয়ে, ছেঁচড়ে উঠে বসেছিল। তারপর একসময় দুই ক্র্যাচে ভর দিয়ে কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে এক পা দুই পা করে হাঁটতে শুরু করেছিল, শরীরের অসীম যন্ত্রণা উপেক্ষা করে। এবং ২০০৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে এক ক্র্যাচে ভারসাম্য রেখে এবছর আমাদের বিভাগে ভর্তি হয়েছে। একটা ক্লাসেও ওকে অনুপসি'ত দেখি না। ও যেন মৃত্যুর সাথে, পরাজয়ের সাথে পাশা খেলে চলেছেজ্জনিয়মিত বিলম্বিত করে তুলছে আজরাইলের কাজটি। আমি ওর লড়াই দেখি আর অবাক মানি।

এই লড়াইয়ের কাহিনী শুনতে একদিন শাশ্বতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে বসেছিলাম আমার বাসায়। বাবা-মা স'ানীয় ডাক্তার ছেড়ে একসময় নিয়ে গেছেন কোলকাতার পেয়ারলেস হাসপাতালে। জেনেছেন, সিরোনেগেটিভ রিউমেটয়েড আর্থারাইটিস নামের নাম না-জানা দুরারোগ্য ব্যাধি ধরেছে শাশ্বতকে। তিন মাস অন-র গিয়ে দেখাতে হবে। ফিরে আসার সময় ব্যাথা সামান্য কম থাকলেও দুই মাস পেরোতে না পেরোতেই ব্যাথার তীব্রতা এতোই বাড়ে যে তিন মাসের অপেক্ষা না-করেই তাকে ছুটতে হয় কোলকাতা। ঐ অবস'াতে ক্লাস না-করে ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয় সে। ফল ৩.৫০। কথা বলতে বলতে খুব উৎফুল্ল হয়ে বলে, ‘২০০১ থেকে ২০০৩ এর মে মাস পর্যন- আমি অনেক ভালো ছিলাম। ব্যাথা প্রায় হতোই না। কিন' মে মাসে হঠাৎ করেই এমন পরিসি'তি হলো যে আমার পক্ষে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা চিন-া করাও অসম্ভব ছিল।’ ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ওর শরীরের ওজন ছিল ৬০ কেজি আর ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে গিয়েছিল ২৮ কেজিতে। বাহ্যজ্ঞান বিলুপ্ত হয়েছিল প্রায়। দিনে ২/৩ চামচ বার্লির বেশি কিছু খেতে পারতো না, এটুকু খেলেও নীল বমি হয়ে বেরিয়ে আসতো। বাবা অরুণ সত্য তাকে কোলকাতায় আর না-দেখিয়ে নিয়ে এবার গেলেন ভেলোরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজে। সেখানেও ডাক্তার জানালেন পিত্তথলী ভর্তি অসংখ্য পাথর। সিরোনেগেটিভ রিউমেটয়েড আর্থারাইটিস তো আছেই। ঔষুধ নিয়ে যখন দেশে ফিরে আসে তখন তার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি আর অবশিষ্ট নাই। একটার পর একটা ঔষুধে ক্লান- শাশ্বতর এবার বুকে ব্যাথা শুরু হয়েছে, আর রাত্রে জ্বর হচ্ছে, শরীর বিছানাগত। বাবা-মা তার জীবনের আশা ছেড়ে দিলেন।

‘কোলকাতায় থাকতে আমি একটা বইতে প্রাণায়ামের বিষয়টি পড়ি। সেটা করে মনের দৃঢ়তা ফিরিয়ে এনে আমি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াই ২০০৬ সালের প্রথমদিকে, তাও কুঁজো হয়ে,’ শাশ্বত বলে। ছেলের এই চেষ্টা অসহায় বাবা-মাকে আশান্বিত করে। আবার নিয়ে যান ভেলোরে জুন মাসে। চিকিৎসক বললেন, সিরোনেগেটিভ রিউমেটয়েড আরথাইটিস আরো একধাপ এগিয়ে এনকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস এ রূপান-রিত হয়েছে। আরও জানান, বাম পায়ের হিপ জয়েন্ট বা অসি'সন্ধি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং শরীরের প্রত্যেকটি জয়েন্ট নষ্ট হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। যদি-না তাকে ৪টি বিশেষ ইনজেকশন অতিসত্ত্বর দেয়া হয় তাহলে তার দেহের অন্যান্য হাড়ের জয়েন্টও নষ্ট হয়ে যাবে।

এক একটি ইনজেকশনের দাম দুই লাখ রুপি, মানে বাংলাদেশী ১৬ লাখ টাকা। বাবার সামর্থ্য নাই, গত দু’বছর তার চিকিৎসা তাই বন্ধ রয়েছে। বাম পা ও মেরুদণ্ড ইতোমধ্যে একটু বেঁকে গেছে। ডান দিকের হিপ-জয়েন্ট ও পা আক্রান- হয়েছে। হাত দিয়ে লিখতে পারে না বেশিক্ষণ, ফুলে যায়। নিজে পোশাক বদলানো, একটানা একঘণ্টার বেশি শুয়ে থাকা, একটানা পনেরো মিনিট বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিও তার নাই এখনজ্জমেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যায়, বুকের খাঁচা হৃদপিণ্ড কামড়ে ধরে।

স্বাসে'্যাজ্জল শরীরের ছেলেটিকে দেখলে কে বলবে প্রতিনিয়ত তার জয়েন্টগুলো খুলে খুলে যাচ্ছে। কে বলবে প্রতি রাতে দু’হাজার পাওয়ারের ব্যাথানাশক খেয়ে বিছানায় যায় সে। অনেকটা সময় কথা বলতে বলতে চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বলে, ‘স্যার আমার চার্জ শেষ হয়ে আসছে। বাসায় গিয়ে রাতে একটা ব্যাথার ওষুধ খেয়ে ঘুম দিব। তবেই কাল সকালে ক্লাসে আসতে পারবো। এই ওষুধই এখন আমার চার্জার।’ আমরা ওকে রিকসায় উঠিয়ে দিয়ে আসি। নির্ভার শরীর নিয়ে আমরা কেউ কারো সাথে কথা বলতে পারি না। শাশ্বতর কথাগুলো এপ্রিলের গরম বাতাসে আর আমাদের মগজে রাজত্ব করতে থাকে।

শাশ্বতর মা গৃহিণী, বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল-শিক্ষক। পনেরো বিশবার কোলকাতা ও তিনবার ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে, আর উচ্চ-ক্ষমতা-সম্পন্ন ব্যথানাশক কিনতে কিনতে আর্থিক অবস'া তলানিতে ঠেকেছে। লিখিত হিসাব অনুযায়ীই তারা ১১ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন, আর অ-লিখিত ব্যয় কতো তা আমরা জানি না। সর্বশান- বাবা-মা জানেন না সন-ানকে কীভাবে বাঁচিয়ে তুলবেন।

কিন' আমরা জানি। আমরা জানি কীভাবে শাশ্বতকে পঙ্গুত্ব ও অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা করা যায়। শাশ্বতর বাবার একার পক্ষে যা নিশ্চিতভাবেই অসম্ভবজ্জযে কারণে তিনি ২০০৬ সালে ১৬ লক্ষ টাকার কথা ভেবে ভেলোর থেকে পাংশু মুখে ফিরে এসেছিলেনজ্জসেকাজ আমাদের লক্ষ হাতের জন্য অনায়াশসাধ্য। আমরা জানি, লক্ষ হাত সহজাত প্রবণতাবশে শাশ্বত’র দিকে এগিয়ে আসবেই। আমরা জানি, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এখনও ‘মনুষত্ব্যের বোধ’ প্রবল।

তাই আমরা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী মিলে শাশ্বত চিকিৎসা-সহায়তা কমিটি গঠন করেছি। ২টি ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে আমরা অর্থ সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি-১) ‘শাশ্বত চিকিৎসা-সহায়তা’ একাউন্ট নং: ৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা; এবং ২) ‘Saswota Chikitsa-Sohayota’ AC no: 135-101-33705, Dutch-Bangla Bank Limited.
শরীরের যেটুকু ক্ষমতা তারচে অনেক বেশি আদায় করে নিতে চেয়েছিল শাশ্বত। তাই শরীর আবার বিগড়ে গেছে। এই মে মাসে ওদের দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষা চলছিল। ও দুটো পরীক্ষা পার করতে পেরেছে কোনোমতে, তারপর শরীরের কাছে হার মেনে আবারও বিছানা নিয়েছে। আমরাও বুঝে নিয়েছি, বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষা না-দিতে পারা অবসন্ন শাশ্বতকে আমি পিঠে হাত বুলাতে গেলে বলে, ‘স্যার প্লিজ হাত দেবেন না, ব্যাথা’। ডাক্তার-কথিত ইনজেকশন নিলে শাশ্বত অনিবার্য পঙ্গুত্ব ও অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা পাবে হয়তো। কিন' হাড়ের গিটে গিটে ব্যাথা নিয়েই ওকে জীবন পার করতে হবে, কোনোদিনই সারবে না।

আমরা চাই, এক-শরীর ব্যাথা নিয়ে হলেও শাশ্বত যেন আমাদের মাঝে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওর উজ্জ্বল সক্রিয় উপসি'তিটুকু বজায়ে রাখতে পারে। ও যে মুক্তো ফলানোর স্বপ্ন দেখে, বিষময় শরীর নিয়ে হলেও যেন সেই স্বপ্নের মানচিত্রজুড়ে হাঁটতে পারে। ওকে দেখি আর আবুল হাসানের পদ্যের দুটো লাইন বারবার মনে পড়ে আমার: ‘ঝিনুক নীরবে সহো, নীরবে সয়ে যাও/ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তো ফলাও।’

আমরা যেন এই নিশ্চয়তাটুকু ওকে দিতে পারি।

২৩শে মে ২০০৮ (লেখক: সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28803483 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28803483 2008-05-27 20:05:51
দ্বিতীয়বার সামনা সামনি দেখলাম ফরহাদ মজহারকে বিকাল ৪ টা থেকে সেমিনার শুরুর কথা ছিলো। হলোও তাই। মূল প্রবন্ধ ছিলো তারেক শামসুর রেহমানের। ফরহাদ মজহারের সঙ্গে ঢাকা থেকে এসেছিলেন সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান। সেমিনার শুরুর আগেই জেলা পরিষদ মিলনায়তন উপচে মানুষের ভীড় চলে আসে রাস্তা তক। দর্শকদের বেশিরভাগই ইসলাম ধর্মে অনুরাগী বোঝা গেলো। দাড়ি আর টুপি পরিহিত মানুষই ছিলেন বেশি। দু'তলার ব্যালকনিতে নারীরা আসছেন। তারা সবাই বোরখা পড়া। শেষ পর্যন্ত আয়োজকরা বাইরে চেয়ার দিয়ে বসার ব্যবস্থা করলেন। এই আয়োজকদের মধ্যে সবচে ব্যস্ততম ছিলেন ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল। তিনি এখানকার নগর জামাতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক। সেমিনারটির শুরুতেই বাদ্যযন্ত্র ছাড়া স্বভাবসুলভ সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিকল্প ও প্রত্যয় শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যরা। পুরো সেমিনারে দু'বার নামাজের বিরতি দেয়া হলো। ওই বিরতির ফঁাকেও ছাত্রশিবিরের সহযোগী সংগঠন বিকল্প আর প্রত্যয় একই কায়দায় গান গাইলেন। আলোচক যারা ছিলেন তাদের বেশিরভাগই জামাতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বাইরে একটি স্টল বইয়ের। আমি বই দেখলাম। ফরহাদ মজহার তখন বলছিলেন, আমরা ঐক্য চাই। আমি স্টলে দেখলাম, নাজিব ওয়াদুদ, আমানুল্লাহ আসুদ হাসান, ফজলুল হক তুহিন, সরদার আবদুর রহমান ছাড়া আর কারো বই সেখানে নেই। আয়োজকরা সব লেখকের ঐক্যে বিশ্বাসী কি না, তা জানবার সুযোগ ছিলো না। কারণ ফিরে নিউজের তাড়া ছিলো।

ব্যবহৃত ছবিগুলো ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপের সেমিনার থেকে তোলা। তুলেছেন জাবীদ অপু। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28799932 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28799932 2008-05-19 18:34:42
জেফরি আর্চারের ঝাড়ু: গল্পটি না পড়লেই নয় আইনসভায় তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পলিসি বক্র্তৃতায় তিনি সরকারি কর্মকাণ্ডে ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করার অঙ্গীকার করেন এবং এমপিদের এই বলে হুঁশিয়ার করে দেন যে, নিষ্কলুষ জীবনযাপন না করলে সরকারি পদে বহাল কেউ নিজেকে নিরাপদ বোধ করতে পারবেন না৷ প্রথম বক্র্তৃতার একেবারে শেষ বাক্যে তিনি বলেন: আমি নাইজেরিয়ার বহু বছরের জঞ্জল সাফ করে ছাড়বো।
মন্ত্রী সাহেবের বক্র্তৃতা কেউ গুরুত্ব সহকারে নিল না৷ এটার কোনো উল্লেখই পাওয়া গেল না লেগোস থেকে প্রকাশিত ডেইলি টাইমস-এর পাতায়৷ সম্পাদক সাহেব হয়তো ভাবলেন, তাঁর পত্রিকা আগের ষোলো মন্ত্রীর বক্র্তৃতা যেহেতু বিস্তারিতভাবে কাভার করেছে, কাজেই এবার পাঠক মনে করতে পারেন, আ রে, এসব কথা তো আমরা আগেও শুনেছি৷
তার ওপর আস্থার এই অভাব টের পাওয়া স্বত্বেও ইগনেশিয়াস কিন্তু হতাশ হলেন না৷ পূর্ণ উদ্যমে তাঁর নতুন দায়িত্ব পালন শুরু করলেন তিনি৷ নিয়োগ পাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় খাদ্যশস্য আমদানিসংক্রান্ত একটা বিষয়ে কাগজপত্র জালিয়াতির দায়ে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক অধস্তন কর্মকর্তাকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়লেন৷ ইগনেশিয়াসের নতুন ঝাড়ুর পরবর্তী ঘা গিয়ে পড়ল শীর্ষস্থানীয় এক লেবানিজ অর্থদাতার গায়ে৷ বিদেশি মুদ্রা-নিয়ন্ত্রণ-নীতিমালা লঙঘনের দায়ে বিনা বিচারে তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হলো৷ পরের মাসে আরেকটা ঘটনা ঘটল, যেটাকে এমনকি ইগনেশিয়াসও ব্যক্তিগত এক অভ্যুত্থান বলে মনে করেন: ঘুষ নেওয়ার দায়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক গ্রেফতার হলেন৷ লেগোসের নাগরিকেরা ঘুষটুষকে এত দিন চাকরিরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বিবেচনা করতেন৷ এই ঘটনার পর অবশেষে ডেইলি টাইমস-এর প্রথম পাতায় ঠাঁই পেলেন অর্থমন্ত্রী৷ পত্রিকার মাঝের পাতায় এক নেতা তাঁকে ঝাড়ু ইগনেশিয়াস্থ হিসেবে অভিহিত করলেন, এ এমনই এক নতুন ঝাড়ু, প্রতেক অপকর্মকারী যার ভয়ে কম্পমান৷ গ্রেফতারের পর গ্রেফতার চলতে থাকল আর মিস্টার ক্লিন হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকল ইগনেশিয়াসের৷ শেষে রাজধানীতে এমন অসমর্থিত গুজবও শোনা যেতে লাগল যে, রাষ্ট্রপ্রধান জেনারেল ওটোবি পর্যন্ত তাঁর নিজের অর্থমন্ত্রীর তদন্তের মুখে পড়েছেন৷
এখন এক শ মিলিয়ন ডলারের ওপরের সকল বিদেশি চুক্তি যাচাই, বাছাই, নিরীক্ষা ও অনুমোদনের কাজটা এককভাবে করেন ইগনেশিয়াস৷ তাঁর প্রতিটা কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খুভাবে নজরদারি করে শত্রু শিবির, কিন্তু তাঁর মুখে কেলেঙ্কারির একটা আঁচড়ও কেউ কাটতে পারেনি৷
অর্থমন্ত্রী হিসেবে ইগনেশিয়াস যখন তাঁর দ্বিতীয় বছরটি শুরু করলেন, তখন এমনকি বিশ্বনিন্দুকেরাও তাঁর সাফল্য স্বীকার করতে শুরু করল৷ আর এ রকমই একসময় জেনারেল ওটোবি এক অনির্ধারিত বৈঠকে ডেকে পাঠালেন ইগনেশিয়াসকে৷
দোদান সেনানিবাসে মন্ত্রীকে স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপ্রধান৷ তাঁর স্টাডি রুমের আরামদায়ক চেয়ারে তিনি বসতে দিলেন মন্ত্রীকেকে৷ ্তুইগনেশিয়াস, এইমাਠ আপনার সবગশেষ বাজেট রিপোটગ পড়ে োশষ করলাম৷ আপনি যা লিখেছেন, পড়ে সতিઘ আমি উਦিগੱ হয়ে পড়েছি৷ আপনি লিখেছেন, বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির তরফ োথকে োদওয়া ঘুষের কারণে আমাদের রাষ্ট্রীয় োকাষাগার এখনো পઝতিবছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার হারা੧েছ৷ আপনার কি োকানো ধারণা আছে, এই টাকা কাদের পকেটে যা੧েছ? এটা জানতেই আপনাকে ডাকা৷্থ
ইগনেশিয়াস টান টান হয়ে বসে ছিলেন৷ োচাখ একবারের জনেઘও সরেনি রাੈચপઝধানের ওপর োথকে৷
-আমার সন্দেহ, এই অথেગর একটা বড় অংশ সুইস ব্যাংকের বিভিনੱ প্রাইভেট অ্যাকাউন্টে গিয়ে জমা হ੧েছ৷ কিন্তু এ মুহূর্তে এটা প্রমাণ করার কোনো পথ আমার কাছে নেই।
সেক্ষেত্রে সেটা প্রমাণের জন্যে যা যা অথরিটি আপনার দরকার, আমি আপনাকে দেব। বললেন োজনারেল ওটোবি৷ কিন্তু এই বদমায়েশগুলোর মুখোশ উন্মোচনের জনઘ োযকোনো পন্থা অবলਹন করার এখতিয়ার আপনি রাখবেন৷ আমার মন্ত্রিসভার সাবেক-বতગমান সকল মন্ত্রীর ব্যাপারে তদন্ত দিয়ে শুরু করুন৷ তাদের পদ বা যোগাযোগ যাই োহাক না োকন, এ কাজে কাউকেই ভয় পাবেন না বা কাউকে ছাড় োদবেন না৷
-কিন্তু এ কাজে সফল হতে হলে আপনার স্বাক্ষর করা একটি বিশেষ অনুমতিপত্র দরকার, জেনারেল
সেক্ষেত্রে আজ সন্ধ্যা ছয়টার মমধ্যে সেটা আপনার োটবিলে োপৗঁছে যাবে, রাষ্ট্রপ্রধান বললেন৷
্তুআর আমি বিদেশ সফরে োগলে আমাকে অઘাਹাসেডর োপઇনিপটেনশিয়ারির মযગাদা দিতে হবে৷্থ
্তুদিলাম৷্থ
্তুধনઘবাদ,্থ ইগনেশিয়াস বলেন৷ আলাপ োশষ হয়েছে ধরে নিয়ে তিনি োচয়ার োছড়ে উঠে দাঁড়ান৷
্তুএ জিনিসটারও হয়তো পઝয়োজন োদখা দিতে পারে আপনার,্থ দরজার কাছে এগিয়ে োযতে োযতে বলেন োজনারেল৷ ইগনেশিয়াসের হাতে একটা োছাট অটোমেটিক পিએ੪ল তઓলে োদন রাੈચপઝধান৷ ্তুোকননা, আমার অনઓমান, এ মઓহકতગ োথকে আপনার শਠઔর সংখઘা আমার শਠઔর সংখઘার সমান হয়ে োগছে৷্থ
কিছઓটা োবকায়দা ভਔিতে ৌসনিকের হাত োথকে পিએ੪লটা োনন ইগনেশিয়াস, োসটা পকেটে োরখে বিড়বিড় করে ধনઘবাদসકচক কিছઓ আওড়ান৷
তাঁদের মধেઘ আর োকানো কথা হয় না৷ ইগনেশিয়াস তাঁর োনতার কাছ োথকে বিদায় নিয়ে গাড়ি োচপে নিজ মੰ੬ণালয়ে োফরেন৷
নাইজেরিয়ার োস੯টચাল বઘাংক গভনગরকে কিছઓই জানতে না দিয়ে, পઝজাতੰে੬র োকানো সিনিয়র কমગকতગার তরফ োথকে োকানো রকম বাধা ছাড়াই তাঁর এই নতઓন কমગযਛ পূণગ উদઘমে ੂরઔ করেন ইগনেশিয়াস৷ রাতের োবলা একা তিনি কাগজপਠ পরীਉা করেন, োযসব তথઘ পান, দিনের োবলা োসਊলো নিয়ে কারও সাথে োকানো আলাপ করেন না৷ তিন মাসের মধেઘ ঝাঁপিয়ে পড়ার জনেઘ পઝએ੫ত হয়ে োগলেন তিনি৷
এক অনিধગারিত বিদেশযাਠায় োবরিয়ে পড়ার জনেઘ আগઍট মাসটাকেই োবছে নিলেন মੰ੬ী৷ োকননা োবশির ভাগ নাইজেরীয় নাগরিক এই মাসে অবকাশ কাটাতে োবর হয়৷ ফলে এ সময়টায় োগলে তাঁর অনઓপએিઐতি নিয়ে োকানো কথা উঠবে না৷
নিজের એઐায়ী োসਠেઙটারিকে তিনি নিদেગশ দিলেন অরলઘাਫোগামী ফઆাইটে তাঁর, তাঁর એ੬ী এবং দઓই োছলেমেয়ের জনઘ টিকেট বઓক করতে৷ টিকেটের টাকা যাতে তাঁর বઘਡিઙগত অઘাকাউ੯ট োথকে োকটে োনওয়া হয়, োসই নিদেગশও তিনি দিলেন৷
োফઆারিডায় োনমে মੰ੬ীর পরিবার মઘারিয়ট োহাটেল নামে একটা সাদামাটা োহাটেলে উঠল৷ ওঠার পর োকানো রকম ভકমিকা বা বઘাখઘা না দিয়ে ইগনেশিয়াস তাঁর એ੬ীকে বললেন, দরকারি কাজে তিনি কয়েক দিন নিউইয়কেગ অবએઐান করবেন৷ ফিরে এসে ছઓটির বাকি দিনਊলোয় তিনি োযাগ োদবেন তাদের সাথে৷ পরদিন সকালে পরিবারকে ডিজনি ওয়াੀেગর রহসেઘর মধেઘ োরখে তিনি নিউইয়কেગর একটা ফઆাইট ধরলেন৷ লা ਊয়ারডিনা োথকে োকনেডি এয়ারপোটગ টઘাਈিতে সামানઘ সময় লাগে৷ োসখানে োনমে োপাশাক পাઈটালেন তিনি৷ নগদ টাকায় কিনলেন রিটানગ টিকেট৷ তারপর োজনেভাগামী সઓইস এয়ারের একটা ফઆাইটে োচপে বসলেন৷ োকউ তাঁকে লਉ করল না৷
োজনেভা োপৗঁছে খઓব সাদামাটা একটা োহাটেলে উঠলেন ইগনেশিয়াস৷ বিছানায় ੂয়ে টানা আট ঘ੩টা গভীর ঘઓম ঘઓমালেন৷ পরদিন সকালের নাশতা সারতে সারতে তিনি বিভিনੱ বઘাংকের একটা তালিকা পরীਉা করতে লাগলেন৷ নাইজেরিয়ায় গবেষণাকমગ চালানোর সময় খઓব সতকગভাবে এই তালিকা তিনি বানিয়েছেন, পઝতিটা নাম তাঁর নিজ হাতে োগাটা োগাটা অਉরে োলখা৷ গারবার অઘাট সিয়ে বઘাংক দিয়েই ੂরઔ করবেন বলে ঠিক করলেন ইগনেশিয়াস৷ তাঁর োহাটেলের োবডরઔম োথকে োদখা যায়, এভিনিউ দઘ পারচিনের পઝায় অধেગক রাએ੪াজઓড়ে দাঁড়িয়ে আছে বઘাংকটার ভবন৷ োফান করার আগে নਹরটা তিনি োচক করে নিলেন৷ বઘাংকের োচয়ারমઘান তাঁর সাথে োদখা করতে সমઅতি দিলেন দઓপઓর বারোটায়৷
একটা জীণગ বিચফকেস হাতে ইগনেশিয়াস বઘাংকে হাজির হলেন সাਉাতের সময়ের কয়েক মিনিট আগে৷ মমગর পাথরে োমাড়ানো হলরઔমে তাঁর জনেઘ অপেਉমান যઓবকের গায়ে ধકসর রঙা એੱাটગ সઓઘট, শাদা শাটગ, ধકসর সিਿের টাই৷ যઓবক মনে মনে ভাবল, নাইজেরিয়ার োকানো নাগরিকের এমন সময়ানઓবতিગতা একেবারে োবমানান৷ মੰ੬ীর সামনে মাথা নিচઓ করে সંাগত জানাল োস, নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিল োচয়ারমઘানের বઘਡিઙগত সহকারী হিসেবে৷ োচয়ারমઘানের রઔম পযગੰ੪ োস ইগনেশিয়াসের সਔে থাকবে, এটাও জানাল৷ যઓবক এਈিকিউটিভ মੰ੬ীকে পথ োদখিয়ে নিয়ে োগল অপেਉমান একটি লিফটে৷ এগারো তলায় োপৗঁছানো পযગੰ੪ তাঁদের দઓজনের মধেઘ একটা শਲ਼ও বিনিময় হলো না৷ োচয়ারমઘানের রઔমের দরজায় োলখা: ্তুপઝবেশ্থ৷ যઓবক োভতরে পઝবেশ করল৷
্তুনাইজেরিয়ার অথગমੰ੬ী, সઘার৷্থ
নিজের োডੌের ওপাশ োথকে উঠে দাঁড়ালেন োচয়ারমઘান৷ অতিথিকে স਼াষণ জানাতে এগিয়ে এলেন কয়েক পা৷ ইগনেশিয়াস লਉ না করে পারলেন না োয, ইনিও ধકসর সઓઘট, শাদা শাটગ আর ধકসর সিਿ টাই পরেছেন৷
্তুਊড মনিગং, মিনিઍটার,্থ োচয়ারমઘান বললেন৷ ্তুবসবেন না?্থ ইগনেশিয়াসকে তিনি নিয়ে এলেন কਉের এক োকানায়, োসখানে একটা কাচের োটবিলকে ঘিরে কয়েকটি আরামদায়ক োচয়ার৷ ্তুআমি দઓজনের জনেઘই কফির অডગার দিয়েছি, যদি অবশઘ োসটা আপনার অপছ੯দ না হয়৷্থ
ইগনেশিয়াস মাথা নাড়েন, জরাজীণગ বিચফকেসটা োচয়ারের পাশে োমঝেতে রাখেন, তারপর সઓপরিসর কাচের জানালাপথে দકরে তাকান৷ এখান োথকে অপরખপ ঝনગাটা চমਅকারভাবে োচাখে পড়ে৷ োসই পઝসਔে কিছઓ োখজઓরে আলাপ পাড়েন তিনি৷ এর মধেઘ একটা োময়ে তিন জনকেই কফি দিয়ে যায়৷
োময়েটা ঘর োছড়ে োবরઔনোমাਠ ইগনেশিয়াস কাজের কথায় আসেন৷
্তুআমার রাੈચপઝধান আমাকে আপনার বઘাংকে আসতে বলেছেন একটা অনઘ রকম অনઓরোধ নিয়ে,্থ তিনি ੂরઔ করেন৷ োচয়ারমઘান বা তাঁর যઓবক সহকারীর মઓখে বিએੱয়ের োলশমাਠ ছাপ পড়ে না৷ ্তুআপনার বઘাংকে নাইজেরিয়ার োকান োকান নাগরিকের অઘাকাউ੯ট আছে, োসই তথઘ উদঘাটনের দায়িতં তিনি আমার ওপর নઘએ੪ করেছেন৷্থ
এ কথা োশানার পর ੂধઓ োচয়ারমઘান সাহেবের োঠাঁট নড়ল৷ ্তুোসটা পઝকাশ করার সંাধীনতা আমার়়়্থ
্তুআমার বਡઙবઘটা আমাকে বઓঝিয়ে বলতে দিন,্থ হাত তઓলে মੰ੬ী বলেন৷ ্তুপઝথমত, আমি আপনাকে এটা নিઉিচত করতে চাই োয, আমার সরকারের চકড়াੰ੪ অথরিটি নিয়েই আমি এখানে এসেছি৷্থ ਦিতীয় োকানো কথা না বলে তিনি োভতরের পকেট োথকে একটা খাম োবর করেন৷ োসটা তিনি োচয়ারমઘানের হাতে োদন৷ োচয়ারমઘান চিঠি োবর করে ধীর গতিতে োসটা পড়েন৷
পড়া োশষ করে গলা খাকারি োদন বઘাংকার৷ ্তুবলতে বাধઘ হ੧িছ, সઘার, এই ডকઓমে੯েটর োকানো কাযગকারিতা আমার োদশে োনই৷্থ চিঠিটা আবার খামে ভরে তিনি োসটা ইগনেশিয়াসকে োফরত োদন৷ তিনি বলেন, ্তুএকই সਔে মੰ੬ী এবং অઘাਹাসেডর হিসেবে আপনি োয আপনার রাੈચপઝধানের পূণગ অনઓমোদন নিয়ে এসেছেন, এতে আমার বি੯দઓমাਠ স੯েদহ োনই৷ কিੰ੫ এসব োਉਠে োগাপনীয়তার োয নীতি বઘাংক োমনে চলে, তাতে োকানো পরিবতગনই ঘটবে না৷ োকানো পরিએিઐতিতেই আমরা আমাদের অઘাকাউ੯ট োহাੀারদের নাম পઝকাশ করব না, যদি না তাঁরা অনઓমতি োদন৷ আপনাকে োকানো সাহাযઘ করতে পারছি না বলে দઓঃখিত৷ তবে বઓঝতেই পারছেন, এਊলো বઘাংকের নিয়ম-কানઓন, এবং সব সময় এਊলো এ রকমই থাকবে৷্থ োচয়ারমઘান োচয়ার োছড়ে দাঁড়ান৷ মিটিং োশষ হয়ে োগছে বলেই ধরে নিয়েছেন তিনি৷ কিੰ੫ ঝাড়ઓ ইগনেশিয়াসের সাথে তাঁর তখনো কিছઓ দরকষাকষি বাকি৷
ইগনেশিয়াস এবার তাঁর গলা কিছઓটা নরম করে বলেন, ্তুভবিষઘতে আমাদের োদশ ও সઓইজারলઘাਫের মধেઘ যত আথিગক োলনদেন ঘটবে, আপনার বઘাংককে তাঁর সবਊলোর ই੯টারমিডিয়ারি হওয়ার পઝએ੪াব োদওয়ার কতৄગতં আমার রাੈચপઝধান আমাকে দিয়েছেন৷্থ
্তুআমাদের ওপর আপনার এই আએઐায় আমরা সতিઘ মઓਐ, মিনিઍটার,্থ দাঁড়িয়ে োথকেই জবাব দিলেন োচয়ারমઘান৷ ্তুতবে আমি নিઉিচত, এটা বઓঝতে আপনার কੈ হবে না োয, এর ফলে আমাদের কাઍটমারদের োগাপনীয়তা রਉার নীতিতে োকানো পরিবতગন ঘটবে না৷্থ
ইগনেশিয়াস অনড় বসেই আছেন৷
্তুোস োਉਠে আমি দઓঃখের সাথে জানাতে বাধઘ হ੧িছ, মিઍটার গারবার, োয, োজনেভায় আমাদের রাੈચদકতকে আমরা নিদেગশ োদব, তিনি যাতে সઓইস পররাੈચ মੰ੬ণালয়ে একটা অফিশিয়াল চিঠি োলখেন৷ োসই চিঠিতে আমাদের নিজ োদশের নাগরিকদের সઃপকেગ তথઘ োদওয়ার অনઓরোধে আপনার বઘাংক কী ধরনের অসহযোগিতা করেছে, োসটার উলেઇখ থাকবে৷্থ কথাਊলো থিতઓ হতে োদওয়ার জনઘ অপেਉা করলেন ইগনেশিয়াস৷ ্তুএ রকম বিবચতকর পরিએিઐতি আপনারা সহজেই এড়াতে পারেন৷ আমাকে ੂধઓ বলে দিন গারবার অઘাট সিয়ে বઘাংকে আমার োদশের কার কার অઘাকাউ੯ট আছে আর োসসব অઘাকাউ੯েট কত টাকা জমা আছে৷ আমি আপনাকে নিઉচয়তা দি੧িছ, এসব তথেઘর উਅস আমরা পઝকাশ করব না৷্থ
্তুোস রকম চিঠি ছাড়লে আপনারা ছাড়তে পারেন, সઘার৷ আমি নিઉিচত জানি, আমাদের মੰ੬ী অতઘੰ੪ হખদઘতাপূণગ কકটনৈতিক ভাষায় আপনার রাੈચদકতকে বઓঝিয়ে বলবেন োয, সઓইজারলઘাਫের আইন অনઓযায়ী এ ধরনের তথઘ চাওয়ার অধিকার পররাੈચ মੰ੬ণালয়ের োনই৷্থ
্তুযদি তাই হয়ে থাকে, োস োਉਠে আমি আমার বাণিজઘ মੰ੬ণালয়কে নিদেગশ োদব, আপনারা এসব নাম পઝকাশ না করা পযગੰ੪ নাইজেরিয়ায় োযকোনো সઓইস নাগরিকের সাথে সকল ভবিষઘਅ বઘবসায়িক োলনদেন বਬ করে দিতে৷্থ
্তুোসটা আপনার মজিગ, মিনিઍটার,্থ অনড়ভাবে বললেন োচয়ারমઘান৷
্তুআর এ মઓহકতেગ নাইজেরিয়ায় আপনাদের োদশের োযকোনো নাগরিকের সাথে োযসব বઘবসায়িক চઓਡিઙ আছে, োসਊলো নতઓন করে বিবেচনা করতে হতে পারে আমাদের৷ োসই সাথে আমি বઘਡিઙগতভাবে োদখব োয, এ জনেઘ োকানো জরিমানার শতગ োথকে থাকলে, োসটাও যাতে তাদেরকে োদওয়া না হয়৷্থ
্তুআপনার কি মনে হ੧েছ না, এটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে?্থ
্তুআপনাকে এটা নিઉিচত করছি, মিઍটার গারবার, োয, এ সিਤাੰ੪ নিতে আমি আমার রাতের ঘઓম োথকে একটি মઓহકতગও বিসজગন োদব না,্থ ইগনেশিয়াস বলেন৷ ্তুএসব নাম উਤার করতে গিয়ে আপনার োদশকে যদি নতজানઓ করতে বাধઘ হতে হয়, তবઓ আমি পিছপা হব না৷্থ
্তুতবে তাই োহাক, মিনিઍটার,্থ োচয়ারমઘান বলেন৷ ্তুতবઓ োগাপনীয়তার পઝশেੱ এই বઘাংকের পলিসি বা কমગপਤতির োকানো পরিবতગন ঘটবে না৷্থ
্তুতাই যদি হয়, আজ এਉઓনি আমি আমার রাੈચদકতকে নিদেગশ োদব োজনেভায় আমাদের দકতাবাস বਬ করে োদওয়ার৷ োসই সাথে োলগোসে আপনাদের রাੈચদકতকেও অবাਘিত োঘাষণা করা হবে৷্থ
এই পઝথমবারের মতো োচাখ তઓললেন োচয়ারমઘান৷
ইগনেশিয়াস বলে চললেন, ্তুএখানেই োশষ নয়, লਫনে আমি একটা োপઝস কনফারে੯স ডাকব, তাতে এই বઘাংকের কমગকাਟের বઘাপারে আমার রাੈચপઝধানের অসੰে੪াষ জানতে পারবে বিশেੴর সব পਠপਠিকা৷ এ রকম পઝচারণার পর আমার দৃঢ় বিশੴাস আপনারা আবিઊকার করবেন, আপনাদের অনেক কাઍটমার অઘাকাউ੯ট োকઆাজ করে দিতে ੂরઔ করেছেন৷ আর এত দিন ধরে যারা আপনাদের বઘাংককে নিরাপদ সંগગ মনে করতেন, তারাও অনઘ োকাথাও আশઝয় খઓঁজছেন৷্থ
এটઓকઓ বলে মੰ੬ী অপেਉা করতে থাকেন৷ কিੰ੫ োচয়ারমઘান োকানো জবাব োদন না৷
্তুতাহলে আপনি আমার জনেઘ আর োকানো পথ োখালা রাখলেন না,্থ ইগনেশিয়াস আসন োছড়ে উঠতে উঠতে বলেন৷
োচয়ারমઘান তাঁর হাত বাড়িয়ে োদন, তাঁর মনে হয়, যাক, এতਉণে মੰ੬ী মহোদয় বিদায় হ੧েছন৷ কিੰ੫ আতਓে োকঁপে উঠে তিনি োদখেন, ইগনেশিয়াস তাঁর জઘাকেটের পকেটে হাত ঢઓকিয়ে োসখান োথকে একটা োছাট পিએ੪ল োবর করে এনেছেন৷ বরফের মতো জমে োগলেন দઓই সઓইস বઘাংকার৷ নাইজেরিয়ার অথગমੰ੬ী এগিয়ে এসে োচয়ারমઘানের কপালে োচপে ধরেন পিએ੪লের নল৷
্তুওই নামਊলো আমার দরকার, মিઍটার গারবার আর এতਉণে নিઉচয়ই বઓঝে োগছেন োকানো কিছઓই আমাকে দমাতে পারবে না৷ নামਊলো আমাকে এখনই জানিয়ে না দিলে আমি আপনার ঘিলઓ উড়িয়ে োদব৷ বઓঝতে পারছেন আমার কথা?্থ
োচয়ারমઘান মাথাটা সামানઘ নাড়েন, তাঁর কপালে বি੯দઓ বি੯দઓ ঘাম জমতে ੂরઔ করেছে৷ ্তুআর উনি হবেন ਦিতীয় শিকার,্থ যઓবক অઘাসিসটে੯েটর দিকে ইশারা করে বলেন ইগনেশিয়াস৷ কয়েক পা দકরে বাকরઔਤ એઐাণઓ দাঁড়িয়ে আছে অઘাসিসটে੯ট৷
্তুআপনার বઘাংকে অઘাকাউ੯ট োখালা পઝতেઘক নাইজেরীয় নাগরিকের নাম আমাকে এনে দিন,্থ যઓবকের দিকে তাকিয়ে শাੰ੪ গলায় বলেন ইননেশিয়াস৷ ্তুনা হলে আপনার োচয়ারমઘানের ঘিলઓ আমি ছড়িয়েছিটিয়ে োদব এই নরম কাপেગটে৷ জলদি করઔন, কথা কানে যায়?্থ
যઓবক োচয়ারমઘানের দিকে তাকায়৷ োচয়ারমઘান এখন কিছઓটা কাঁপছেন, তবে খઓব એপੈ গলায় তিনি বলেন, ্তুনন, পিয়েরে, জামাইস৷্থ (োকারো না পিটার)৷
্তুডি আকডગ,্থ (ঠিক আছে) ফিসফিস করে বলে অઘাসিসটে੯ট৷
্তুআপনারা বলতে পারবেন না োয, আমি আপনাদের োকানো সઓযোগ োদইনি,্থ ইগনেশিয়াস পিએ੪লের োঘাড়া টানেন৷ োচয়ারমઘানের মઓখ োবয়ে এবার দরদর করে ঘাম ঝরছে৷ যઓবক অઘাসিসটে੯ট োচাখ বਬ করে৷ পিએ੪লের আওয়াজ োশানার জনেઘ আতਓের পઝহর ਊনতে থাকে োস৷
্তুদઓদગাੰ੪!্থ োচয়ারমઘানের কপাল োথকে পিએ੪ল সরিয়ে নিয়ে নিজের োচয়ারে গিয়ে বসতে বসতে বলেন ইগনেশিয়াস৷ এখনো কাঁপছেন দઓই বઘাংকার৷ কথা ফઓটছে না তাঁদের মઓখে৷
োচয়ারের পাশ োথকে জীণગ বিચফকেসটা তઓলে োনন মੰ੬ী৷ সামনের কাচের োটবিলের ওপর োসটা রাখেন৷ কઆઘাপਊলোয় চাপ দিতেই ডালা খઓলে যায়৷
দઓই বઘাংকার নিচઓ হয়ে তাকান৷ বিચফকেসে এক শ ডলারের োনাট থরে থরে সাজানো৷ পઝতিটি ইਗিতে ডলার োঠসে ভরা৷ োচয়ারমઘান দચઔত হিসাব কষে োফলেন, পাঁচ মিলিয়ন ডলারের কম হবে না৷
্তুআমি ভাবছি, সઘার,্থ ইগনেশিয়াস বলেন৷ ্তুআপনাদের বઘাংকে একটা অઘাকাউ੯ট খઓললে োকমন হয়৷্থ

োজফরি আচગার (জੰੱ ১৯৪০) জনপিઝয় বিચটিশ োলখক৷ পালગামে੯ট সদসઘ ছিলেন৷ কনজারভেটিভ পাটিગর োডপઓটি োচয়ারমઘানও হয়েছিলেন৷ তাঁর একাধিক বই বিચটেন ও আমেরিকায় োবઍট োসলারের তালিকায় એઐান োপয়েছে৷ ওপরের গઈপটি তাঁর এ টઓইઍট ইন দઘ োটল গઈপগઝੰઐ োথকে োনওয়া৷

কায়সার আলম অনূদিত গল্পটি প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকী থেকে নেয়া। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28799828 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28799828 2008-05-19 13:54:56
ফরহাদ মজহার রাজশাহীতে পানি ও সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত বয়ানের জন্য আসছেন। কিন্তু আয়োজক কারা? আর তার সঙ্গে যারা থাকছেন তারাই বা... সেমিনারের আয়োজক ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (এনআইজি), রাজশাহী। এর কোঅর্ডিনেটর রাবি পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. এম. সরোয়ার জাহান, সদস্য সচিব ডা. নাজিব ওয়াদুদ। আর সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর তারেক শামসুর রেহমান। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচক থাকবেন সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক আতাউস সামাদ, মে. জে (অবঃ) আ ল ম ফজলুর রহমান, ঢাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর রাজিয়া আকতার বানু, প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ, রাবি অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর শাহ মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর আবদুর রহমান সিদ্দিকী ও রাজশাহী বারের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাদাত।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28798033 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28798033 2008-05-14 20:24:33 বি নেগেটিভ রক্ত প্রয়োজন http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28797638 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28797638 2008-05-13 20:36:05 তিস্তা ব্যারেজ আর কাকজোছনার ২০ এপ্রিল আমাদের ভাবনার কেন্দ্রে যারা বসবাস করেন শামীম ভাই তাদের একজন। সৎকাম এবং বদকাম দুই জাতীয় কর্মেই তার পরামর্শ শিরোধার্য হতে পারে! তবে কর্ম যাই হোক পরামর্শের সঙ্গে তাতে শামীম ভাইয়ের অংশগ্রহণ ঘটলে তা আসলে রীতিমতো কর্মযজ্ঞ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের সৈয়দপুর থেকে তিস্তা ব্যারেজ ভ্রমণের কর্মটিতে শামীম ভাইয়ের পরামর্শ তো বটেই রীতিমতো সশরীর অংশগ্রহণ ছিলো তার। কাজেই আমরা সড়ক পথে সকাল ৬টায় রাজশাহী থেকে যখন যাত্রা করলাম, তখন ভাবছিলাম, বেশ মজাই মনে হয় অপেক্ষা করছে সামনে।
সৌরভের বন্ধুর প্রায়-সচল মাইক্রোখানা নওগাঁ পর্যন্ত গিয়েই সামনের চাকা পাঙচার। আধাঘন্টা উড়ে গেলো টায়ারের মর্মবেদনা দূর করতে। এরপর নওগাঁর বাইপাস হয়ে যখন ঢুকলাম, তখন মনে হলো, না আসলেই বুঝি ভালো করতাম! পুরো রাস্তা জুড়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত সেটি যে কোনোকালে রাস্তা ছিলো তা ভাববার জো রাখেনি। নওগাঁ আমার বাড়ি বলে মরমেই মরছিলাম। সৌরভ আকারে ইঙ্গিতে বলছিলো, পুঠিয়ায় জন্মেছি, জন্মের পরেই চোখের সামনে মহাসড়ক পেয়েছি... ইত্যাদি। বাইপাসের যন্ত্রণা শেষে তিলকপুরের রাস্তায় ঢুকতেই আমাদের চালক মহাশয় সতর্ক হয়ে গেলেন! আক্কেলপুর পৌঁছার পর চেপে রাখা বাতাস মুখ দিয়ে ফোঁস করে ছেড়ে দিয়ে চালক মহাশয় জানালেন, ২০ কিলো রাস্তায় ৩০টা বাঁক পেরিয়ে আমরা আক্কেলপুর এলাম। এরপর জয়পুরহাট হয়ে হিলি, বিরামপুর, ফুলবাড়ী। তারপর পার্বতীপুর। রাস্তা আর মাত্র ১৭ কিলোমিটার। কিন্তু হলে কী হবে, পার্বতীপুর থেকে সৈয়দপুরের রাস্তাটা মনে হচ্ছিলো শুকনো নদী; দু'ধারে সারি বাঁধা পাথরের স্তুপ পাহাড়ের মতো উঁচু উঁচু হয়ে আছে। মনে হলো, নদীর দু'ধারে যেনো বাঁধ দেয়ার কাজ চলছে! মাইক্রোবাসখানা স্বস্তি নিয়েই সাইকেলের গতিতে চলছিলো। ৬টায় রওয়ানা দেয়া আমরা যখন সৈয়দপুর পৌঁলাম, তখন প্রায় ১২টা। রতন ভাই মাঝপথে ফোন করে যখন জেনেছেন আমরা ভেতরের রাস্তা ধরে আসছি, তখন, আমি নিশ্চিত, ভেতরে ভেতরে খুব একটা হেসে নিয়েছেন! কারণ তিনিও যে মোহন ভাইয়ের সঙ্গে ট্রেনপার্টি।
সৌরভের বন্ধুর মাইক্রোকে অবসর দিয়ে আগে থেকেই ঠিক করে রাখা একখানা ঠাণ্ডার মেশিন যুক্ত আধুনিক মাইক্রোতে চাপলাম। সামনে সৌরভ, ইউসুফ আলমগীর, মাঝে শামীম ভাই, পল্লবী আর আমি। পেছনে মোহন ভাই, রতন ভাই আর আলমগীর চৌধুরী। গাড়ি ডিমলার উদ্দেশ্যে ছাড়তেই মোহন ভাই মুখ খুললেন। তার আক্রমনের উদ্দেশ্য আমার নাদুস নুদুস শরীর। শামীম ভাই তো সুযোগ তৈরি করতেই মুখিয়ে থাকেন, আর এখানে মোহন ভাই সুযোগ তুলে দিচ্ছেন। বাঘ কি আর মাংস না খেয়ে থাকে। অতএব খাজা নাজিমউদ্দিন দিয়ে গল্পের শুরু হলো এবং তা চলতে থাকলো পুরো সময় জুড়ে। আমার নধর দেহখানাই যে শুধু লক্ষ্যবস্তু হলো তা নয়, শেষ পর্যন্ত মোহন ভাইয়ের কাগজ ছাড়া নিউজ না করা, ইউসুফ আলমগীরের পাটকাঠি শরীর, আলমগীর চৌধুরীর চশমা, রতন ভাইয়ের মস্তিস্কের সুস্থিরতা প্রসঙ্গ এমনকি সৌরভের ব্যবসা- সবই হামলার অংশ হলো।
তিস্তায় পৌঁছে আমরা প্রায়-মরা নদীটার যে অংশে পানি আছে, সেদিকে নামলাম। মচকে যাওয়া পা নিয়ে ফটোসেশনে নিজেও অংশ নিলাম। কতো মানুষের স্বপ্ন যে জুড়ে আছে তিস্তাকে ঘিরে তা ভাবার চেষ্টা করেও কুলিয়ে উঠতে পারলাম না। এরপর ফেরার পালা। শামীম ভাই, মোহন ভাই, রতন ভাই আর আলমগীর চৌধুরী একসঙ্গে ট্রেনে যাবেন বলে থেকে গেলেন সৈয়দপুর ফিরে। সেখান থেকে সৌরভের বন্ধুর সেই মাইক্রোতে করে আমি, সৌরভ আর ইউসুফ আলমগীর যাত্রা করলাম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। ইউসুফ রংপুরে নেমে গেলেন। আমি আর সৌরভ নাকে খত দিয়ে রংপুরের হাইওয়ে ধরে ফিরতে লাগলাম। কাক জোছনা টের পেলাম আলোকিত হয়ে থাকা রাস্তা আর কাকের চিৎকারে। এরই মাঝে সৌরভ কবিতা আবৃত্তি করে চলেছে। অদ্ভূত সুন্দর মুহূর্তগুলোকে স্মৃতির সঙ্গে পেছনে রেখে আমরা ছুটেছি। সৌরভ যে এতো ভালো আবৃত্তি করে তা তো এতোদিন একসঙ্গে কাজ করেও জানতে পারিনি। আজ সেই অজানাকে জানার দ্বার খুলে গেলো কীভাবে? সেই বিস্ময় নিয়েই রাত দেড়টায় রাজশাহী পৌঁছলাম। মাঝপথে বগুড়া থেকে কেবল সুজন আর ওর এক বন্ধুকে তুলে নিয়েছিলাম। বাড়ি ঢোকার আগেই জানলাম, রাত ১২টা পেরিয়েছে অনেক আগেই। মানে ২০ এপ্রিল শেষ হয়েছে।

ছবিতে বাঁ থেকে: সমকালের নীলফামারি প্রতিনিধি ইশরাত জাহান পল্লবী, ডিমলার স্থানীয় সাংবাদিক মিজান ভাই, কুড়িগ্রামের এটিএন বাংলা প্রতিনিধি ইউসুফ আলমগীর, সমকালের যুগ্ম বার্ত সম্পাদক খায়রুল বাশার শামীম, আমি, সমকালের নওগাঁ প্রতিনিধি এমআর ইসলাম রতন, বগুড়া বু্রো প্রধান মোহন আখন্দ ও ক্ষেতলাল প্রতিনিধি আলমগীর চৌধুরী।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28793756 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28793756 2008-05-03 13:39:27
নারী, গৃহ নির্যাতন ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল নিয়ে একটি আলোচনাসূত্র নারী নির্যাতনের এ জাতীয় সংজ্ঞায়ন ভীষণ পরিকল্পিত উপায়ে এটিকে সমাজের অন্য সব বঞ্চনা থেকে সযতনে আলাদা করে ফেলে। নির্যাতকের সাধারণীকরণের বদলে ব্যক্তি চেহারাকে মুখ্য করে তোলে। ব্যক্তি চরিত্রের ওপর নির্যাতকের তকমা লাগিয়ে অথবা শুধুমাত্র পরিবার ও সমাজকে অগণতান্ত্রিক অথবা বড়জোড় পুরুষতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করে আমরা আমাদের দায়িত্ব খতম করে দিই। এর ফলে যে সমস্যাটি তৈরি হয়, তা হলো, আমরা আমাদের নিজেদের অজ্ঞাতেই ঢুকে পড়ি আগে থেকেই প্রস'ত করে রাখা নারী নির্যাতনের এক ধারনার মধ্যে। যে প্রাথমিক ধারনা নির্যাতনের শেঁকড়ে ঢুকে পড়ার জন্য কখনোই সহায়ক হয় না। যে ধারনা কেবল ব্যক্তি চরিত্র বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং নারী নির্যাতনকে আমজনতা তো বটেই, শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের কিংবা অভিজাত উচ্চবিত্তদের কাছেও হাজির করে বিচ্ছিন্ন এক প্রপঞ্চ হিসেবে। আমাদের দেশে কালে কালে পুঁজির পাহাড়ের পাহারাদারের ভূমিকা নিয়ে গড়ে ওঠা মিডিয়াগুলোর কৌশলী ভূমিকা এই বিচ্ছিন্ন প্রপঞ্চটাকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রেখে কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেয়।
নারীর সত্তা: স্বাধীন নারী বনাম মুক্ত মানুষ
নারী নির্যাতন নিয়ে যেকোনো আলোচনার শুরুতেই মানব সত্তা ও তার বিকাশের ধারার প্রতি মনোযোগ জরুরি। সত্তা জিনিসটা কী? মানব সভ্যতার যে ইতিহাস বিবর্তনের ধারায় তাকে মানুষ করেছে, সেই ইতিহাস আর মানুষের সত্তা বিকাশের ইতিহাস একই সময় ও পথের যাত্রী। সভ্যতার পথপরিক্রমায় ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদী যে ধারনা আমাদের মধ্যে দৃশ্যমান, সেই ধারনায় আমরা যাকে স্বাধীন নারী বলি, সেই স্বাধীনতা আসলে কী? পুঁজিবাদী সমাজে এই স্বাধীনতার অর্থ হলো ব্যক্তির বড় হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে সামিল হয়ে ব্যক্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেকে স্বাধীন বলে জাহির করা। অথচ এই স্বাধীনতার চেহারাটা ভালো মতোন আমলে নিলে দেখা যায়, চরম প্রতিযোগিতা হাজির করে এই পরিসি'তিটাকে এমন করে তোলা হয়েছে যে, এখানে ব্যক্তিক উন্নয়ন মূল কেন্দ্রে থাকায় সমাজের সব মানুষ সমানভাবে বিকাশের সুযোগ পেয়ে ওঠে না। ফলে নারীর স্বাধীনতা তো দূরের কথা প্রানি-ক পুরুষরাও এই প্রতিযোগিতায় অসহায় হয়ে পড়ে। ফলে মানব সত্তার বিকাশই যেখানে দুরূহ সেখানে স্বাধীন নারীর সত্তার বিকাশ আশা করা আর অশ্বডিম্ব প্রত্যাশা করা সমতুল্য? যে স্বাধীন নারীর ধারনা আমাদের মগজে বাসা বাঁধে সেই প্রক্রিয়াটির দিকে চাইলে বোঝা যায়, সভ্যতার ইতিহাসের মানুষের সব অর্জনকে বিবেচনায় নিলে এই প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অনবদ্য সৃজনশীল কর্তা হিসেবে বারবার আমাদের সামনে পুরুষ এসে হাজির হয়। নারী সেখানে গৌন। তার ভূমিকা কখনো সহকারী আবার কখনো উৎসাহদাতার। মানুষের ইতিহাস নির্মাণের বিচারে পুরুষ ‘কর্তাসত্তা’ আর নারী ‘কর্মসত্তা’। তো সেই কর্তার কর্তৃত্বে আমাদের ধারনাগত স্বাধীন নারী চিড়েচ্যাপ্টা হন। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, এই যে মানব সত্তাকে অবরুদ্ধ করে প্রতিযোগিতার পথ তৈরি করা হচ্ছে এখানে নারীকে স্বাধীন তো করতে চাইছে, কিন' মুক্ত মানুষ হিসেবে বিকাশের পথ তৈরি করছে না।
শ্রেণীবিভক্ত সমাজব্যবস'া: অধঃস-নের অধঃস-ন নারী
শ্রেণীবিভক্ত সমাজব্যবস'ায় স্বাভাবিকভাবেই শোষণের শিকার হয় অধঃস-নরা। শোষণকে পাকাপোক্ত করে জিইয়ে রাখতে হলে উর্ধ্বতনদের কয়েক হাতিয়ারের মধ্যে নির্যাতন একটি। নির্যাতন আসলে শক্তির উন্মত্ত প্রকাশ। অধঃস-নকে বশে রাখতে নিপীড়ন নানা রূপে ও স-রে নিপীড়কের কাছ থেকে হাজির হয়। আর শ্রেণীবিভক্ত সমাজব্যবস'ায় শোষক ও শোষিতের যাবতীয় সংঘাত আর কর্মের মধ্য দিয়েই তাবৎ উদ্দেশ্য হাসিল হয়। এই সম্পর্ক বা এই সংঘাতের নেপথ্যে প্রথমতই রয়েছে সম্পত্তি মালিকানা ও উৎপাদন ব্যবস'ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি। সম্পত্তি মালিকানা ও উৎপাদন ব্যবস'ায় নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতেই উর্ধ্বতনরা অধঃস-নদের ওপর তাদের শোষণের ছড়ি ঘুরিয়ে চলেন। সেই মালিকানা রক্ষার স্বার্থে হাজির করেন নানা ধরনের মূল্যবোধ আর সংস্কারের বেড়াজাল। এই প্রশ্নে দুনিয়ার অধিকাংশ পুরুষই অধঃস-ন। আমার পাশের রহিমুদ্দি ইত্যাদি অধঃস-ন স্কয়ার, র‌্যাংগস, ট্রান্সকমের অধিকর্তাদের। এরকম অসংখ্য পুরুষ অধঃস-ন টাটা বিরলা বা মাইক্রোসফটের কর্ণধারদের। তাহলে দেখা যাচ্ছে, স্বাধীন সত্তার নামে পুঁজিবাদ যে ইঁদুর দৌড়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হবার তালিম আমাদের দেয়, তা আসলে এমন উর্ধ্বতন আর অধঃস-ন তৈরি করার। কিন' যেহেতু ইঁদুর দৌড়ে পরের বছর নিজেকে আরো উঁচুতে নিয়ে যাবার স্বপ্ন এই কাঠামো আমাদের সামনে মুলোর মতোন ঝুলিয়ে রেখেছে, সেহেতু আমরা এই সিস্টেমের বাইরে আর কোনো কিছু দেখতে পাই না। আমাদেরকে এই সিস্টেম বেঁধে ফেলে পুরো প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অধঃস-ন হতে (কারণ সবাই তো সমানভাবে আর উর্ধ্বতন হতে পারেন না) আর এভাবেই অধঃস-নের ওপর ছড়ি ঘোরানোর বিষয়টি আমাদের সবার সম্মতি উৎপাদন করে নেয় ভীষণ কৌশলে।
এবার শুধু নারীর প্রশ্নে যদি আসি, তাহলে দেখবো, সেখানে সমাজ কাঠামোর আরেকটা পর্দা টেনে রাখা হয়েছে। যে পুরুষটা দুনিয়ার সবচেয়ে অধঃস-ন হিসেবে নিজেকে দিনে কয়েকশ বার আবিস্কার করেন, সেই তিনিও জানেন, ঘরে তার অধঃস-ন একজন আছেন। এই অধঃস-নেরও অধঃস-ন হলো নারী। কাজেই শ্রেণীবিভক্ত সমাজব্যবস'ায় নারী হলো ‘তস্য’ অধঃস-ন। কাজেই যে নারী উৎপাদন ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন একজন মানুষের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধনে রয়েছেন, তিনি উর্ধ্বতনদের স্বার্থে পুরো সমাজের যে নিপীড়ন, তা সহ্য করেন। সেই সঙ্গে একই কায়দায় তাকে সহ্য করতে হয় তার অপেক্ষাকৃত উর্ধ্বতন কর্তার নির্যাতন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সুনিপুণভাবে পরিচালনার জন্য একটি নিস্কণ্টক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলা হয়। এই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ভাষা ব্যবহার থেকে শুরু করে আমাদের বোধের রাজ্য সবখানেই হানা দেয়। এর মাধ্যমে নারী সামাজিক সম্পর্ক ধরনেই (সোশ্যাল রিলেশনশিপ প্যাটার্ন) অধঃস-নতা প্রকাশ পায়। পরিচিতির সংকট তৈরি করে। আর কে না জানে, যার পরিচিতির সংকট বিদ্যমান তার সামনে পেছনে দু’চারটে লাথি হাঁকালেও বলার কেউ থাকে না!
গৃহী নারী, নির্যাতনও গৃহেই
প্রাকশিল্প অর্থনীতিতে উৎপাদন হতো জ্ঞাতি সম্পর্ক, সমপ্রদায়, গোষ্ঠী বা পরিবারের ভিত্তিতে। সেখানে লিঙ্গীয় শ্রম বিভাজন ছিলো নগণ্য। পরিবার ভিত্তিক এইসব উৎপাদন অর্থনীতিতে নারীর শ্রম বিবেচিত হতো নিখাদ শ্রম হিসেবেই। যাযাবর জীবনে (হান্টিং অ্যান্ড গ্যাদারিং) সন-ানের উপযোগিতা তাকে পেলে পুষে বড় করার তুলনায় কম ছিলো। ফলে সভ্যতার ওই সময়টুকুতে নারীর মাতৃত্বের মহিমা উছলে ওঠেনি। কিন' কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি যখন শুরু হলো, তখন কিন' পরিসি'তি গেলো পাল্টে। সন-ান দুই কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো: এক, সম্পত্তির মালিকানার উত্তরাধিকার নির্ধারণ, দুই, কাজের হাত তৈরি। এরপর নারী সন-ান ধারন ও লালন আর গার্হস'্য কাজের জন্য তার শ্রম নির্ধারিত করার পর পুরুষেরা ক্রমেই বিস-ৃত করেছে তাদের সীমানা। নারী গৃহী হতে শুরু করে, পুরুষ হতে শুরু করে দিগ্বিজয়ী। পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস'ায় উৎপাদনের মূল কেন্দ্র গৃহ থেকে সরে যখন কারখানা অফিসে স'ানান-রিত হয়, তখন গৃহী নারীদের শ্রম আর্থিক বিবেচনায় মূল্য হারায়। কারখানা শ্রমিকদের শ্রম যেহেতু অর্থের অঙ্কে নির্ণীত, তাই সমাজে তাদের কর্তৃত্বও প্রতিষ্ঠিত হতে বেশি দেরি হয় না। গৃহী নারী পুঁজির রমরমা রাজত্বে গৃহে স'ান নেয় বিচ্ছিন্ন হয়ে। তাদের সঙ্গে পুঁজির সম্পর্কও অবশ্য স'াপিত হয়, তবে তা পুরুষের মাধ্যমে। নারীর বিরামহীন গৃহসেবা নতুন শ্রমিক জন্ম দেয়, আবার চলমান শ্রমিককেও রাখে ফুরফুরে।
নারী পরিবার ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস'া থেকে সরে এসে থেকে গৃহী হয়েছে এবং গৃহেই তার শ্রম নিয়োগ করছে। কিন' পুঁজিবাদী সমাজব্যবস'া নিদারুন কৌশলে সেই শ্রম-মূল্য অস্বীকার করছে। পুঁজির প্রবাহের পথে কর্তৃত্বের সমস- জন-রমন-র স'াপিত হচ্ছে। এই পুরো কর্তৃত্ববাদী ব্যবস'ায় পয়লা নির্যাতনের শিকার নারী এভাবে, এই কাঠামোতে তার গৃহেই হচ্ছে। বিষয়টি একটু পরিস্কার করতে হলে পরিসংখ্যানের আশ্রয় নেয়া জরুরি। জাতিসংঘের দেয়া তথ্য মতে, নারী প্রতি বছর গৃহে যে শ্রম দেয় তার বাৎসরিক মূল্য দাঁড়ায় ১১ ট্রিলিয়ন ডলার। নারীরা গৃহে যে শ্রম দেয় তা বাজারমূল্যে জিডিপিতে যুক্ত করলে বিশ্বের মোট উৎপাদন পরিমাণ আরো ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এই পরিসংখ্যান তো পরিস্কারই বলছে, নারীর গার্হস' শ্রমকে অর্থনৈতিকভাবে মূল্যহীন করে তুলে একদিকে নারীর শ্রমমূল্য শোষণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে এই শ্রমকে মূল্যহীন বলে অধঃস-ন হবার মানসিকতা ও সেই মোতাবেক এই শোষণ ব্যবস'া টিকিয়ে রাখার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি করা হচ্ছে। কর্তৃত্বের কারণে সমাজে যে পুরুষতান্ত্রিক ভাবধারা তৈরি হয়, সেই ভাবধারা এমন ব্যবস'াকে পাকাপোক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে ব্যক্তিগত মালিকানা যতো বিস-ৃত হয়েছে কর্তৃত্ব ততো বেড়েছে এবং পুরুষতন্ত্র ততোই পাকাপোক্ত হয়ে আসন গেড়েছে। গৃহে অন-রীণ নারী আরো শৃঙ্খলিত হয়েছে। গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নির্যাতন শুধু নিছক লৈঙ্গিক বিবেচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। যে সামাজিক সম্পর্কগুলো তাকে অধঃস-ন করে তুলেছে, সেগুলোর কর্তৃত্বের কেন্দ্রে বসবাসকারী নারীরাও (শাশুড়ী, ননদ ইত্যাদি) যোগ দিয়েছেন সেই নির্যাতনের মিছিলে। এই পুরো প্রক্রিয়া আরো সহজতর হচ্ছে সামাজিক প্রথা, রাষ্ট্রীয় আইন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কৌশলী প্রয়োগের মধ্য দিয়ে।
সামপ্রতিক সময়ে গৃহী নারীদের নানা কায়দায় স্বাধীন করে তোলা হচ্ছে এবং বাইরে আনা হচ্ছে। কিন' সেখানেও নজর দিলে দেখা মিলবে শুভঙ্করের ফাঁকির। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীদের পণ্যায়ন করা হচ্ছে। এই বিষয়টি আবার ছড়িয়েও দেয়া হচ্ছে নানান কায়দায়। ফলে গৃহের কর্তৃত্ববাদী নির্যাতকরা এই দোহাই দিয়েই নারীকে আরো বেশি শৃঙ্খলিত রাখতে চেষ্টা করছে। আর উৎপাদন প্রক্রিয়ার যে অংশে নারীর শ্রম অপরিহার্য করে তোলা হয়েছে সেখানেও মজুরি বৈষম্যের মাধ্যমে নির্যাতিত হচ্ছে নারীরা। মজুরি শ্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের পরেও দেখা যাচ্ছে, গৃহের দাসত্ব থেকে তার মুক্তি ঘটেনি। ফলে গৃহে সেই বাজারমূল্যহীন শ্রমের মাধ্যমে নারী নির্যাতনের পরতে আটকাই থেকে যাচ্ছে। আর সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে চমৎকার কৌশলে স্বামীর ঘরকেই নারীর ঘর বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।
আর্থিক পুঁজি সঞ্চয়ে গৃহ নির্যাতন
বিশ্ব স্বাস'্য সংস'া ২০০৫ সালে ১০টি দেশের ২৪ হাজার নারীর ওপর গবেষণা কাজ চালিয়েছিলো। বাংলাদেশও সেই গবেষণায় অন-র্ভুক্ত ছিলো। এতে পাওয়া যায়, ইথিওপিয়ার গ্রামীণ সমাজে সর্বোচ্চ ৭১ শতাংশ নারী গৃহ নির্যাতনের শিকার। তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী গৃহ নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে, ৬২ শতাংশ। বাংলাদেশের শহুরে সমাজে এ হার পঞ্চম সর্বোচ্চ, ৫৩ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি ৬ জন নারীর একজন নির্যাতনের শিকার। আর প্রতি ৬ জনের ৩ জনই এই নির্যাতনের বিষয়টিকে গা সওয়া বা এমন তো হয়ই বলে মনে করেন। অর্থ্যাৎ ‘স্বামীরা তো এমনই...’। সেই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গঠনের কাজ কী চমৎকারভাবেই না করে ফেলা হয়েছে! ওই গবেষণায় আরো দেখা যায়, যারা নির্যাতনের শিকার হন, তাদের বেশিরভাগই ভগ্নস্বাস'্য। মূলত দারিদ্র্য পীড়িত এলাকাগুলোতে এই হার বেশি হলেও সম্পদশালীদের গৃহেও এ ধরনের ঘটনা বিদ্যমান। গবেষণা থেকে পাওয়া যায়, গৃহ নির্যাতনের প্রথম শুরুটা হয় আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশে এক্ষেত্রে যৌতুক বা শ্বশুরের সম্পদের হিস্যা উল্লেখযোগ্য। এখানে লক্ষণীয়, কর্তৃত্ব রয়েছে বলে নির্যাতন হচ্ছে ঠিকই, কিন' সেই নির্যাতনের সূচনা কিন' হচ্ছে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিকে ঘিরে। এর মাজেজা কী? নারীর শ্রমের মূল্য নাই বা থাকলো। যৌতুকের কিন' বাজারমূল্য রয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য শ্বশুরের সম্পদের হিস্যার ক্ষেত্রেও। ব্যক্তি প্রতিষ্ঠার ইঁদুর দৌড়ে সামিল হতে চাই পুঁজি। আর সেই পুঁজি সঞ্চয়ের অভিপ্রায়ে গৃহে নারীর ওপর নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে।
নারীদের ক্ষমতায়ন ও তাদের এইসব নির্যাতন থেকে মুক্তি দিতে তাদেরকে পুঁজির মালিক হবার চকচকে লোভ দেখিয়ে আমাদের দেশে অনেক আয়োজনই হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি নির্ভর এই দেশে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আয়োজন হলো তত্ত্ব হিসেবে বিদেশে ‘রফতানি’যোগ্য ক্ষুদ্র ঋণ (অন-তঃ উদ্যোক্তারা তো তাই বলেন)। কিন' প্রত্যাশিতভাবেই এই ক্ষুদ্র ঋণে গ্রামীণ নারীদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি (সংশ্লিষ্ট অন্যদের বেলায় কথাটা উল্টো করে পড়তে হবে)। আমার কথা নয়, গবেষণার কথা। ২০০০ সালে আইসিডিডিআর,বি’র সোশাল ও বিহেভিয়ারাল সায়েন্স ইউনিট থেকে গ্রামীণ সমাজের ওপর ‘ঘধঃঁৎব ড়ভ ফড়সবংঃরপ ারড়ষবহপব ধমধরহংঃ ড়িসবহ রহ ধ ৎঁৎধষ ধৎবধ ড়ভ ইধহমষধফবংয: রসঢ়ষরপধঃরড়হ ভড়ৎ ঢ়ৎবাবহঃরাব রহঃবৎাবহঃরড়হং’ শিরোনোম একটি গবেষণা চালানো হয়। তাতে দেখা যায়, গ্রামীণ সমাজে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেনি এমন নারীদের তুলনায় ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেছে এমন নারীর ওপর গৃহ নির্যাতনের হার বেশি। কারণ পুরুষরা পুঁজি সঞ্চয়ের অস্ত্র হিসেবে স্ত্রীদের দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করায়। এরপর যখন সেই মহান ঋণের ফাঁস গলায় চেপে বসে, তখন তার জের এসে পড়ে স্ত্রীদের ওপর। নির্যাতনের মাত্রা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন স'ানে পৌঁছে যে, অনেক নারীকে ঘর ছাড়া হতে হয়।
সম্ভ্রম খুঁজতে হয়রান মিডিয়া
গত ১৮ এপ্রিল সমকালের ১২ পৃষ্ঠায় দুই উন্মত্ত ষাঁড়ের লড়াইয়ের ছবির ঠিক নিচে ‘সম্ভ্রম হারানোর ১৭ দিন পর উলিপুরে কিশোরীর আত্মহত্যা’ শিরোনামে একটি খবর ছাপা হয়েছে। ১৩ বছরের এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর সে আত্মহত্যা করেছে- এটিই খবরের বিষয়বস'। শুধু শিরোনামেই নয়, পত্রিকাটির দাবি অনুযায়ী ওই স্কুলছাত্রী যে সম্ভ্রম হারিয়েছে, সে কথা খবরের ভেতরেও একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। এতোক্ষণ ধরে নারী নির্যাতনের যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো, তার ভেতরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্যাতনের অনুকূল নিরাপদ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলার প্রক্রিয়া। আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোর কল্যাণে নারী নির্যাতন কমছে বলে অনেকে দাবি করেন অবশ্য। আমি সেই সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে না গিয়ে কিংবা মিডিয়ার অবদানকে ছোট বড় করার দিকে না গিয়ে শুধু বলতে চাই, সেই নির্যাতনের জন্য নিরাপদ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে ভাষা-সংস্কৃতি নির্মাণ করছে মিডিয়া। ধর্ষণের শিকার একজন নারীর সম্ভ্রম খুঁজতে হয়রান হওয়াটা তারই অংশ। মিডিয়া এই সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সম্মতি উৎপাদনের জন্য যে ভাষা সংস্কৃতি নির্মাণ করে তাতে আবশ্যিকভাবেই নারীকে দুর্বল, অধঃস-ন হিসেবেই হাজির করা হয়। এই যে সম্ভ্রম, তা কিন' নারীর কোনো সম্পদ নয়। কিন' মিডিয়া নারীর প্রতি চুক চুক শব্দ করে সহমর্মিতা জানানোর আড়ালে সম্ভ্রমের মতো একটি শক্তিশালী পুরুষতান্ত্রিক শব্দ ও নির্যাতনের ভাষাগত অস্ত্র নিপীড়কদের হাতে তুলে দিচ্ছে। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, আমাদের দেশের মিডিয়াগুলোর বাংলা শব্দ ভাণ্ডার অস্বাভাবিক সীমিত, অথচ এসব শব্দ ভাণ্ডার যেনো অফুরন-। আমরা মাঝে মধ্যেই মিডিয়াতে ধর্ষক বা নিপীড়কদের পাষণ্ড, নরপশু বলে চালান করি। এতে যে ভাষিক বৈধতা নির্মিত হয়, তা হলো, নির্যাতনের আসল তাৎপর্য চাপা পড়ে যায়। নির্যাতনকে তখন বিচ্ছিন্ন বলে মনে হতে থাকে। মনে হয়, এসব কাজ আসলে মানুষের নয়, অমানুষদের। মনে হয়, এর পেছনে অর্থনৈতিক সামাজিক রাজনৈতিক কারণ নেই। এর পেছনে পুরো কারণটাই ওই ‘নরপশু’ ইত্যাদিদের মানসিক বিকৃতি দায়ী? কিন' আসলে কি তাই? মিডিয়া প্রতিনিয়ত যে কাঙ্ক্ষিত বাস-বতা উৎপাদন করে চলেছে তা আসলে কী? মিডিয়াগুলো যে নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিজেদের উচ্চকিত হিসেবে জাহির করে তার তো আলাদা কোনো অবস'ান আমরা দেখতে পাই না। মিডিয়া বিদ্যমান সমাজ ও রাষ্ট্রের এজেন্ডাই বাস-বায়ন করে। কারণ নিপীড়িত নারীর প্রতি সহানুভূতি আনতে যে ভাষাগুলোকে মিডিয়া বৈধতা দান করছে তা থেকে পরিস্কার তারা নারীকে মানুষ হিসেবে নয়, মা, বোন, স্ত্রী বা কন্যার চিরাচরিত রূপেই রাখতে আগ্রহী। মিডিয়া সমাজে এইসব নির্যাতনকে যে ঘৃণ্য কাজ বলে উল্লেখ করে তার নেপথ্যে এটা নেই যে, নারীরা যাতে মানুষ হিসেবে তাদের ন্যায্য অধিকার পায়। বরং তার নেপথ্যে সেই পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব, নারীকে সন-ান উৎপাদনের জন্য ও সমাজের নির্ভরশীল অংশ হিসেবে রক্ষা করার জন্য। এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন- নারীর অসি-ত্ব রক্ষার জন্য পুরুষের প্রতি নির্ভরশীলতাকে প্রকাশিত করে, যা নারী নির্যাতনের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
কাজেই চলমান সমাজ কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস'ায় নারী নিপীড়ন রোধ বা নারী মুক্তি তো দূরের কথা মানুষের মুক্তিই কষ্টকল্পনা হতে চলেছে। আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নারীদের একটি অংশ নারীমুক্তির লড়াইয়ে সক্রিয় অংশ নেন না। তারা মূলতঃ সামাজিক কিছু অসুবিধার জায়গা থেকে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে উচ্চকিত হন। তথাকথিত পুরুষদের বড় অংশের অবস'াও আলাদা কিছু নয়। কিন' এর নেপথ্যে যে মুনাফালোভী পুঁজিবাদ তা আড়াল করে রাখাও তাদের বড় ধরনের প্রচেষ্টায় থাকে। আর এই ছোট খাট উচ্চকণ্ঠ পুঁজিবাদ ধারন করে এবং তা প্রত্যাশাও করে। কারণ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ অমিত বলশালী ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কাজেই ছোট ছোট প্রতিরোধ সেইসব মানুষের পিঠ খানিকটা দেয়াল থেকে এগিয়ে আনে, শোষণ আরো দীর্ঘস'ায়ী করে। আমরা কি দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবার অপেক্ষায় অনন-কাল থাকবো? #

লেখাটি ২০ এপ্রিল রাজশাহীতে বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টা'র সেমিনারে মূল প্রবন্ধ হিসেবে পাঠ করা হয়েছিলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28792592 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28792592 2008-04-29 18:56:32
হাসান আজিজুল হকের সঙ্গে আলাপচারিতা
*প্রথমেই আনন্দ পুরস্কার পাবার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। পুরস্কার নিয়ে কিছু বলুন।
** পুরস্কার পাবার পর থেকে আমাকে অজস্রবার প্রতিক্রিয়া বলতে বলা হচ্ছে। কিন' আমার তো মনে হয় না, পুরস্কারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে কিছু বলার থাকে। কারণ আমি যে ক্রিয়াটা করেছি, পুরস্কারটা তো তারই প্রতিক্রিয়া। তবে পুরস্কার নিয়ে অনেক কথা বলা যায়। পুরস্কার পেলে সাধারণভাবে ভালো লাগে, খুশি হই। কিন' আমি সব সময় একটা বিষয় মনে রাখি। আমি যে কাজটা করি, লোকে বলে, সাহিত্যের কাজ করছি। সেই কাজের স্রষ্টা যিনি, তিনি কিন' কাজটা এককভাবেই করেন। স্রষ্টা খুব বড় শব্দ। আমি নিজের ব্যাপারে ওই শব্দটি ব্যবহার করতে সঙ্কোচ বোধ করি। তবে এটা ঠিক যে সাহিত্যের কাজ যিনি করেন তিনি তো সৃষ্টিই করেন। তো সেই সৃষ্টির কাজটা কিন' তাকে কোনো সহযোগিতা ছাড়া একাকীই করতে হয়। কাজটা কখনো দায়িত্ব হিসেবে আসে, কখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে। আমি যখন কোনো কিছু সৃষ্টি করি তখন অবশ্যই সেটা অসম্ভব রকম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও আশঙ্কা তৈরি করে আমার ভেতরে। সেই কারণে যখন আমি লেখালেখির মধ্যে ঢুকে যাই তখন আমার মেজাজ খিঁচড়ে থাকে। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, এটাই আমার কাজের জায়গা এবং এইখানটায় কারোর সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সহযোগিতা পুরস্কারেও মেলে না কোনোকিছুতেই মেলে না। কাজের সেই জায়গায় লেখককে একা সব যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। সফল হলে তার আনন্দটাও তাকে সহ্য করতে হয়। এরপরে পুরস্কারের বিষয়টা আসে। পুরস্কার আসলে সেই কাজগুলোকে অনুসরণ করে। পুরস্কার পেলে তখন লেখক মনে করেন যে তিনি যে কাজ করেছেন, তার একটা স্বীকৃতি পাওয়া গেলো। সেই কাজ এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে মনে হয়। আমার সমস- অভিজ্ঞতার, সংগ্রামের, ভালোবাসার, প্রীতির, ক্রোধের, রাগের যা কিছু আছে সেটিকেই তো আমি লেখক হিসেবে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। সাহিত্য আর কী কাজ করে? কখনো ভালো সমাজের স্বপ্ন দেখে, রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখে, রাষ্ট্রের ব্যাধিগুলো চেনার চেষ্টা করে। নানাভাবে সাহিত্য তো এই কাজগুলোই করে। সেইটা যখন অন্যের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে পুরস্কার তখন তার এক ধরনের স্বীকৃতি জ্ঞাপন। পুরস্কার পেলে মনে হয়, কাজটা হয়তো ব্যর্থ হয়নি। কিন' তাতে আমার কাজের ভারটা যে কমে গেলো বা আমার কাজে যে সাহায্য করা হলো তা কিন' নয়। আবার যখন আমি লিখতে যাবো, তখন আমাকে একাকী সেই একই পরিসি'তির মুখোমুখি হতে হবে। এর বাইরে পুরস্কারের অর্থমূল্য কিংবা যশখ্যাতি আছে। আমি কোনোদিনই সেসবের তোয়াক্কা করিনি। পুরস্কার আসলে মূল কাজটাকে অনুসরন করে- এর বেশি পুরস্কার নিয়ে আমার বলার কিছু নেই।
*আপনার আগে বাংলাদেশের যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? আপনার ‘আগুনপাখি’ পুরস্কৃত হবার মূল জায়গাটিকে কীভাবে চিহ্নিত করছেন?
**সাহিত্যের পাঠক হিসেবে যদি বলি, তাহলে আমার শামসুর রাহমান-পাঠ, কি ইলিয়াস-পাঠ, কি তসলিমা-পাঠ ও তাদের সম্পর্কে আমার যে মূল্যায়ন তা কোনো ইতর বিশেষ পুরস্কার পাওয়ার ফলে হয়নি। পুরস্কারের ওপর নির্ভর করে যা পছন্দ করি না তা পছন্দ করতে শুরু করলাম, যেটাকে বড় সাহিত্য বলে মনে করি না, সেটাকে পুরস্কার পেয়েছে বলে বড় সাহিত্য বলে মনে করলাম- এ দশা আমার এখনো হয়নি। আমার ক্ষেত্রেও একই কথা। আগুনপাখি আনন্দ পুরস্কার পেয়েছে বলে আগুনপাখি খুঁজে বের করে পড় কিংবা পুরস্কার পেয়েছে বলেই অসাধারণ সাহিত্য হয়েছে- তা আমি মানতে রাজি নই। যাচাইয়ের প্রশ্নটা সবক্ষেত্রে থেকেই যাবে। কারণ আমি সব সময় বলবো, একজন লেখক তার লেখার চেয়ে বড়, একজন মানুষ তার প্রতিভার চেয়ে বড়। পুরস্কারকে পুরস্কারের জায়গায় রেখে এটা আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিত।
*মূলতঃ ছোটগল্প নিয়ে আপনি দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন? তারপর উপন্যাসের পথে এসেছেন। কিন' প্রথম যে উপন্যাস ‘বৃত্তায়ন’ তাকে কিন' আপনি লেখার পর একরকম খারিজ করে দিয়েছিলেন। এর কারণ কী ছিলো?
** ‘বৃত্তায়ন'কে মানতে চাইনি তার কারণ কিন' ভিন্ন। লেখক হিসেবে আমি যে রাস-াটা ধরেছি, সেখানে ওই লেখাটি যেনো ভিন্ন পথ ধরেছিলো। ‘বৃত্তায়ন’ রচনার পর আমি কখনো এই পথে হাঁটবো না বলে সিদ্ধান- নিই। পরে আর হাঁটিও নি কোনোদিন। সে কারণে ওই লেখাটি একাকী পড়ে আছে। সে কারণে আমি আমার স্ট্যাম্পটা ওখানে দিতে চাইনি। কিন' আমি কখনো এই রচনাটিকে আমার লেখা হিসেবে অস্বীকার করিনি।
*কিন' সেটিকে তো আপনি উপন্যাস হিসেবেই মানেননি...
** আমার কোনো লেখা সম্পর্কেই আমি কখনো অভিধা তো দিই না। এইটা ছোট গল্প বা ওইটা উপন্যাস এমন তো আমি কখনো বলি না। আমি কেবল লিখি। যারা তা পড়েন তারা সচরাচর এইসব অভিধা দিয়ে দেন আর কী! কাজেই উপন্যাস হলো কি না তা ভেবে নয়, অন্য কারণে আমি বৃত্তায়ন প্রকাশ করতে চাইনি। কিন' আমি যে এটা সৃষ্টি করিনি তা তো বলতে পারবো না। আমার লেখার ইতিহাসের সঙ্গে যে তা জড়িয়ে গেছে। কিন' পরে যখন একজন প্রকাশক আগ্রহ দেখালেন তখন সেটিও প্রকাশে আমি সম্মত হয়েছি।
*পরের উপন্যাস ‘শিউলী’র ক্ষেত্রে কী হয়েছিলো?
** ‘শিউলী’র ব্যাপারে আমি সবার আগে যা বলতে চাই সেটি হলো, আমি খুব সিরিয়াসলি এই লেখাটি শুরু করেছিলাম...
* তা করেছিলেন। কিন' আমরা যদ্দূর জানি, ষাটের দশকে আপনি ‘শিউলী’ লিখেছিলেন, আর আমরা তা পড়তে পেরেছি ২০০৬ সালে।
** হ্যাঁ, ষাটের দশকে আমি লেখাটা শুরু করেছিলাম। একজন নারীকে মূল চরিত্র করে আমি একটি বড় পরিবারকে দেখিয়েছি। যেই পরিবারে পুরুষ মানুষ বলতে মূলতঃ কেউ নেই। বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেছে। সেই পুরো পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ওই নারীর দেশত্যাগকে ঘিরে আমি বিষয়টিকে আনতে চেয়েছিলাম। আমার যদ্দূর মনে পড়ে, এটা ১৯৬৬-৬৭ সালের দিকে আমি শুরু করেছিলাম। যখন লিখছিলাম, তখন আমার মনে হতো, লেখাটি বোধহয় ভালোই হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আমার লেখা খানিকদূর এগিয়ে তা বন্ধ হয়ে গেছে। ‘শিউলি’র আগেও এমন হয়েছে। ‘শিউলি’ও খানিকদূর এগিয়ে আমি ছেড়ে দিলাম। সেই লেখাটা আর ধরা হয়নি। পরবর্তীতে ৩৫ থেকে ৩৮ বছর পরে আবার আমি ওই লেখাটা যখন বের করলাম, তখন মনে হলো, অনেক কাঁচা ছিলাম আমি। ঔপন্যাসিক হিসেবে যে জায়গা থেকে আমার দেখা দরকার, যে বিশ্লেষণ ও যুক্তি কাজ করা দরকার, তা থেকে সরে গিয়ে আমি একটু বেশি ভাবপ্রবণ হয়ে লিখতে শুরু করেছিলাম। কাজেই আমি ঠিক করেছিলাম, ওই লেখাটা আর ধরবো না। কিন' তারপর হলো কী, জনকণ্ঠ থেকে এখলাসউদ্দিন আহমদ আমাকে বললেন, ঈদ সংখ্যায় একটা লেখা আমায় দিতে হবেই হবে। এখলাস আমার খুব ঘনিষ্ঠ একজন মানুষ, নাছোরবান্দা। ও যেমন করে মানুষের ঘাড় মুচড়ে লেখা আদায় করতে পারে, তা খুব কম জনই পারেন। তো সেই নাছোরবান্দার চাপাচাপিতে আমি এক প্রকার বিপদে পড়েই ওই লেখাটাকে আর বের করলাম। আর সেই একই আপত্তি আমার থেকে গেলো, লেখাটা তো খুব কাঁচা। এখন এতোদিন পরে এই কাঁচা লেখাটা বের করবো? অনেককে জিজ্ঞাসা করলাম। অনেকে বললেন, কাঁচা হলেও নতুন লেখকদের লেখার যে সজীবতা, তা ‘শিউলি'তে আছে। তখন আমি মূল লেখাটিকে হাত না দিয়েই শুধু বললাম, লেখাটা বড় একটি উপন্যাসের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছিলো। এখন যে বয়সে পৌঁছেছি তাতে ওই লেখায় ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয়। এই অবস'াতেই লেখাটা প্রকাশিত হয়।
* ‘শিউলী'তে আপনি যে মূলসুর আনতে চেয়েছিলেন, সেই সুরটিই কি আপনি ‘আগুনপাখি'তে তুলে আনেননি?
** বিষয়টা তো খানিকটা ঠিক বটেই। অন্য ফর্মে, অন্য ভাষায়, নতুন আঙ্গিকে- যা বাংলা উপন্যাসে আগে কখনো হয়নি ‘আগুনপাখি’ সেভাবেই এগিয়েছে। ঠিক কীভাবে বললে আমার বলাটা ঠিক ঠাক মতো হয়, আমি সেভাবেই সচরাচর বলে থাকি। এতেও তাই করেছি। আমি দেশভাগের বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে চেয়েছি। রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব বা ওই সময়কার আন-র্জাতিক দৃশ্যপট সেসব অনেক বড় ব্যাপার। কে দায়ী, কার দোষ- দেশভাগ নিয়ে এমন অনেক আলোচনাই চলে। কিন' যে একেবারে সাধারণ মানুষ, যার এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো অংশীদারিত্ব ছিলো না, তার ঘাড়ে এই দায় চাপবে কেন? তাকে দেশত্যাগ করতে হবে কেন? অন্যসব হিসাব বাদ দিই, ‘আগুনপাখি’র সেই নারীকে দেশত্যাগ করতে হবে কেন? এবং বিষয়টা যে তাকে কোনোভাবেই বোঝানো সম্ভব হয় না। কাজেই এক অর্থে কথাটা ঠিকই আছে, ‘শিউলি’তে যা আনতে চেয়েছিলাম, অন্যভাবে ‘আগুনপাখি'তে আমি সেই জায়গাকেই ধরতে চেয়েছি। আমি যদি সময় করে উঠতে পারতাম, তাহলে এই পুরো ইতিহাসটাই বড় পরিসরে ভলিউম আকারে লিখে হাজির করতাম। জানি না, সেই কাজটা হবে কি না। তবে করার তাগিদ ও ইচ্ছে দু'টোই আছে।
* ‘আগুনপাখি’তে আপনার কেন্দ্রীয় চরিত্রটি শেষ পর্যন- একা হয়ে যায়। সামাজিক ইতিহাসের যে অংশের বয়ান আপনি তুলে ধরতে চেয়েছেন, সেখানে কি সবাইকে আপনি একা-ই দেখেছেন?
** হ্যাঁ, একাই তো। শেষ পর্যন- সেই মানুষগুলো একাই তো রয়ে যায়। বিশেষ করে ভেঙে যাওয়া পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একথা তো বেশি প্রযোজ্য। আসলে এ নিয়ে অনেক বলার আছে। অনেক হিসাব আছে, শুনি, সেগুলো পণ্ডিতি হিসাব। সেগুলো আসলে বাস-বে খাটে না। দেশভাগ নিয়ে বড় বড় কথা হয়: বাংলা ভাগটা শেষ পর্যন- কংগ্রেসই করলো, মুসলিম লীগের একাংশ বিরোধিতা করেছিলো, শরৎ বোস বিরোধিতা করেছিলেন, নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছিলো- এরকম অনেক কথা। কিন' একটা কথা ছেড়ে যাওয়া হয়, যে জীবনটা মানুষ যাপন করে, সেখানে এর প্রতিক্রিয়াটা কী? কাজেই একাকীত্ব তো প্রায় অবশ্যম্ভাবী। দেশভাগের সময় যারা এদেশ থেকে ওদেশ, ওদেশ থেকে এদেশ করেছে, তাদেরকে আমি একা-ই দেখেছি। এক দেশ থেকে আরেক দেশে এলেই যে সঙ্গী সাথী জুটে যায় এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। গ্রামের ৭০ বছরের একটা মানুষের কথা যদি চিন-া করি, সে যদি হঠাৎ এসে রাজশাহী শহরে বসবাস শুরু করে, তাহলে সে একা নয় তো কে একা? একাকীত্ব কি শুধু নির্জনতা? তা নয়, সহস্রের মাঝেও মানুষ সম্পূর্ণ একা থাকতে পারে। আমি তো সেটাকেই ধরবার চেষ্টা করেছি।
* আপনার লেখাগুলোতে দেশভাগের প্রসঙ্গ এভাবে উঠে আসে কেন?
** আমার সমস- অসি-ত্বে দেশভাগ, দেশত্যাগ, এদেশ থেকে ওদেশ, ওদেশ থেকে এদেশ এই পুরো ব্যাপারটা এমন ক্ষত সৃষ্টি করেছে যে, কোনোভাবেই তা সারবে না। কোনো মলমেই তা সারানো সম্ভব নয়। আমার লেখায় জ্ঞানতঃ বা অজ্ঞানতঃ সেই বিষয়টিই ফিরে ফিরে আসে।
*এই দেশভাগ সাংস্কৃতিক বিভাজনের ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রেখেছে বলে আপনি মনে করেন।
** আমরা অনেক সময় বলি যে, সাংস্কৃতিক বিভাজন ঘটানো যায় না। কিংবা আমরা বলে থাকি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজন এক কথা নয়। তবে আমার মনে হয়, কথাটা বলার আগে কী ধরনের রাষ্ট্রীয় বিভাজন আসছে তা বিবেচনায় নেয়া জরুরি। একটা বিষয় ঠিক যে, সাংস্কৃতিক বিভাজন সব সময় এক রকম হয় না। যেমন জার্মানির কথা যদি ধরি। যুক্ত হবার আগে সেখানে প্রুশিয়া বলে একটি দেশ ছিলো। অনেক মানুষ ছিলেন প্রুশিয়ান, কিন' পরিচিত হতেন জার্মান বলে। যেমন দার্শনিক কান্ট কিন' জার্মান ছিলেন না। ছিলেন প্রুশিয়ান। কিন' তাতে কিছু আসে যায়নি। বিনা আপত্তিতে কান্টকে জার্মান বলে আমরা জেনেছি। কারণ ওই রাষ্ট্রীয় বিভাজনটি এমন এক ধরনের বিভাজন ছিলো যে তা কাজ করেনি। কিন' আমাদের অবস'াটা কিন' ঠিক তা নয়। কিন' আমাদের এখানে যেহেতু রাষ্ট্র কাঠামোটাই আলাদা, সে কারণে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতা তো হবেই। আর কতগুলো বাস-ব বিভাজন আলাদা আলাদা জায়গার প্রেক্ষিতে তো থাকেই। আমাদের রংপুরের সাংস্কৃতিক জগত আর চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক জগত মোটেই এক নয়। এক দেশের মধ্যে হলেও এক নয়। কাজেই এ সমস- পার্থক্য তো আছেই। এই পার্থক্যগুলো আরো বেশি প্রকাশিত হয়েছে দেশভাগের কারণে। এপারে কে কী করছে, ওপারে তা জানছে না; ওপারের চিন-া আমরা বুঝছি না। বিষয়টাকে যদি অখণ্ডতার নিরিখে বিবেচনা করা হয় তাহলে তা তো খণ্ডিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা আংশিক পাচ্ছি, সমগ্র নয়। এটা এপারের মানুষদের জন্য যেমন সত্য, তেমনি ওপারের মানুষের জন্যও। এ কারণেই কিন' রবীন্দ্রনাথ, নজরুলকে নিয়ে অনেক কথা বলতে হচ্ছে। তাদের পরিচয় নির্ধারণে ‘আমাদের’ ‘আমাদের’ রব তুলতে হয়েছে। তো এভাবে সেই মহাপ্রতিভাদের কাটছাট করার প্রয়াস তৈরি হয়েছে।
* আপনার সব লেখার উপজীব্য যে সাধারণ মানুষ, বর্তমান সময়ে সেই মানুষগুলো কেমন সময় অতিক্রম করছে?
** ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়ে গেছে সাধারণ মানুষ। গোটা দেশ সংকটে, এর সব মানুষ সংকটে। সমস- জায়গায় আমরা শুধু ব্যর্থতা দেখতে পাচ্ছি। সবকিছু এমন মুখ থুবড়ে পড়েছে যে আমি কিন' অসম্ভব ভীত হয়ে পড়েছি। বিশ্বটাও যেন কেমন হয়ে উঠেছে- আমি বহু চেষ্টায়ও তা বুঝতে পারি না। যেমন খাদ্যের দাম। সারা জীবন ধরেই বিশ্বে খাদ্যের দাম ওঠানামা আছে। লোক তো আর হুট করে বাড়েনি। তাহলে বিশ্বজোড়া কোনো একটি বিশেষ সময়ে খাদ্যের দাম এমন ধারা বাড়লো কী কারণে? কোন অর্থনৈতিক অপনীতি এখানে চলেছে? তথাকথিত অর্থনীতিবীদদের কথাবার্তাও আমি ঠিক ভালোমতো বুঝতে পারি না। খাদ্যের দাম যে বাড়লো, তাতে বাজারের বিচিত্র গতিটা কী? বিশ্বব্যাপী সেখানে কাদের স্বার্থ কাজ করছে? স্পষ্ট বলে দেয়া হচ্ছে, সস-ায় খাবার কেনার দিন শেষ। তো এমন হলো কেন? বলা যেতে পারে, মানুষ বেড়েছে, উৎপাদন কমেছে। কিন' মানুষ তো এক লাফে দ্বিগুণ হয়নি, খাদ্যও তো এক লাফে অর্ধেক কমে যায়নি। তাহলে তার জন্য এই মহাসংকট কেন আর কী কারণেই বা একেবারে বলে দেয়া হচ্ছে, সস-ার দিন আর নেই? আগে বিশ্বে অস্ত্র নিয়ে, এটা সেটা নিয়ে শোষণের জায়গা তৈরি হয়েছিলো। এখন তো দেখছি, খাদ্য নিয়ে সেই শোষণের জায়গা তৈরি করা হয়েছে। কাজেই সারাবিশ্বেই মানব অসি-ত্ব এখন নিদারূণ হুমকির মুখে। আর আমাদের দেশের কথা যদি বলি তো যে রাষ্ট্র কাঠামো দেখছি, তাতে সাধারণ মানুষের প্রতি যে উদাসীনতা দেখানো হচ্ছে, তা অমার্জনীয়।
* দীর্ঘ সময় ধরে দেশে মৌলবাদী ও জঙ্গিদের নানা তৎপরতা চলেছে। বাঙালির উৎসব আয়োজনগুলোও নানাভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এবার আমরা পহেলা বৈশাখে সবকিছু উপেক্ষা করে যে প্রাণের জোয়ার দেখলাম, তা আগে কখনো আসেনি বলেই মনে হয়। এ বিষয়ে কি কিছু বলবেন?
** এমন হতেই পারে। নিজের সংস্কৃতি তো মানুষ কোনো না কোনোভাবে ধারন করে। হয়তো তারই বহিঃপ্রকাশ কোনো একটি সময়ে এমন ব্যাপকভাবে হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে তোমরা যেভাবে আশাবাদী হচ্ছো, আমি কিন' ততোটা নই। কারণ এই উৎসবে প্রাণের যে মিলন হয়, তা আসলে শক্তি। সেই শক্তি জন্ম নেয় এইরকম মিলন থেকে ঠিক আছে, কিন' শক্তিটাকে তো অশুভ’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে তো এমন শক্তির জন্ম হবে, ক’দিন পরেই আবার সেই শক্তির নীরবতার সুযোগে অশুভ দখল করে নেবে। কাজেই তখনই আশাবাদী হওয়া যায়, যখন সঞ্চিত শক্তি সব অর্থেই অশুভ’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজে লাগানো যাবে।
*অন্য প্রসঙ্গে যাই। আপনি তো ‘প্রাকৃত’ নামের একটি কাগজ সম্পাদনা করতেন। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দিলেন। এ ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
** বাংলায় একটা কথা আছে-‘যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ’। যতোক্ষণ নিঃশ্বাস ফেলছি, ততক্ষণ একটা আশা আছে। কাজে এখনই পরিকল্পনা না থাকলেও ছেড়ে দেব কী করে? যদি কখনো পারা যায়, তখন তো করবোই।
* শিশুসাহিত্যের ভাণ্ডারে আপনার অংশগ্রহণ তো একেবারেই কম...
** নিশ্চয়ই। অস্বীকারের উপায় নেই, আগ্রহ থাকার পরেও শিশুসাহিত্যে আমি আলাদা করে কিছু করতে পারিনি। এরকম অনেক ব্যর্থতা তো আছেই। আর এর কারণটা বিশেষ কিছু নয়। মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, লেখার চেয়ে আমি গল্প করায় সময় দিই বেশি। অবশ্য এই গল্পও আমায় রসদ জোগায়।
* শিল্প-সাহিত্যের যে চর্চা চলছে তা গতি-প্রকৃতি কোন পথে বলে আপনার মনে হয়।
** পরিসি'তি বিশেষ ভালো নয়। শিল্প-সংস্কৃতি আর সৃষ্টির জগতে দৈনদশা চলছে। কতোরকম আক্রমন যে চারপাশ থেকে আসছে। আকাশ সংস্কৃতি, বিশ্ব সংস্কৃতি, পণ্য সংস্কৃতি- এগুলো তো আছেই। চারপাশে এগুলোর এমন ঝাপটাঝাপটি যে মানুষ নিবেদিত হয়ে কিছু সৃষ্টি করতে পারছে না। সেই কারণেই আজকে পরিসি'তিটা সন'ষ্ট হবার মতো নয়। তারপরেও তো সৃষ্টি থেমে থাকে না। সৃষ্টি তার নিজের গতিতেই এগিয়ে যায়, তার পথ করে নেয়। শিল্প-সংস্কৃতিও এভাবেই পথ করে নেবে। #

ছবি কৃতজ্ঞতা: জাবীদ অপু
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28792456 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28792456 2008-04-29 12:23:06
নব্য ঔপনিবেশিকতা http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28790463 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28790463 2008-04-23 13:58:07 আনন্দ পুরস্কার গ্রহণে হাসান আজিজুল হক সম্মত হলেন পহেলা বৈশাখে বাংলা ছোটগল্পে অর্ধশতাব্দীকাল বাঙালি সমাজ জীবনের সার্থক রূপকার হাসান আজিজুল হক ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বৃত্তায়ন নামের একটি উপন্যাস রচনা করেন। এর দীর্ঘ সময় পর ২০০৬ সালে সন্ধানী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় তার আরেক উপন্যাস কেন্দ্রীয় চরিত্রের আঞ্চলিক বয়ানের মধ্য দিয়ে সামাজিক ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়াস ‘আগুনপাখি’। নিরীক্ষাপ্রবণ এই কথাশিল্পী লেখার পর নিজেই বৃত্তায়নকে উপন্যাস বলে মানতে রাজি হননি। তবে আগুনপাখি প্রকাশের পর থেকেই তা আলোচনার ঝড় তোলে। প্রথম আলোর বিচারে বর্ষসেরা বইয়ের তালিকায় স'ান পায়। ‘আগুনপাখি’ উপন্যাসের জন্য গত ২৮ মার্চ মৌখিকভাবে কলকাতা থেকে টেলিফোনে আনন্দ পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে ১৪১৪ বঙ্গাব্দের আনন্দ পুরস্কার পাবার বিষয়টি হাসান আজিজুল হককে জানানো হয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এই পুরস্কার পাবার বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক অভীক সরকার চিঠি দিয়ে হাসান আজিজুল হককে জানান। গত সোমবার হাসান আজিজুল হক পুরস্কার গ্রহণে সম্মত হয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন অভীক সরকারের কাছে।
বরেণ্য এই কথাশিল্পী সমকালকে বলেন, অভীক সরকার তার চিঠিতে বৈশাখ মাসে এক বিশেষ সাহিত্য সমাবেশে পুরস্কারটি অর্পণ করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য পরে বিশদভাবে জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। তবে হাসান আজিজুল হকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মৌখিকভাবে আনন্দ পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে, তিনি পুরস্কার গ্রহণে সম্মত হলে আগামী ২৬ এপ্রিল কলকাতায় এই সাহিত্য সমাবেশটি হবে। এই সমাবেশে যোগ দিতে ও পুরস্কার গ্রহণ করতে আগামী ২৩ এপ্রিল হাসান আজিজুল হক সস্ত্রীক কলকাতার উদ্দেশ্যে রাজশাহী ছাড়বেন।
প্রসঙ্গত ১৯৬১ সালে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত আনন্দ পুরস্কার পান সৈয়দ মুজতবা আলী। এ বছর হাসান আজিজুল হকের আগে বাংলাদেশের আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (খোয়বানামার জন্য ১৯৯৬ সালে) ও তসলিমা নাসরিন (নির্বাচিত কলামের জন্য ১৯৯২ ও আমার মেয়েবেলার জন্য ২০০০ সালে) পেয়েছেন এই পুরস্কার। ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমিকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণে অসম্মতি জানানো হয়।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28788322 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28788322 2008-04-16 12:14:58
আরিফুর রহমানের খায়েস পুরা করা হইলো http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28786670 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28786670 2008-04-10 21:16:09 এই লাখ ট্যাকা দিবো ক্যাঠায়?

ছবি কৃতজ্ঞতা জাবীদ অপু]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28780592 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28780592 2008-03-19 19:57:33
জুজু হ্যাজ কাম, জুজু আইসা পড়ছে জুজু আইসা পড়ছে। যেই জুজুর লাইগা ম্যালা দিন বইসা থাকছিলো কন্ডমাগী, সেইডা বাজারে ছাড়া হইছে। আসেন, প্রস্তুত হই।
এইখানে ঢোকেন

আচ্ছা, জাফর ইকবাল আর কায়কোবাদ সাহেবের হেল্প নিয়া (মতিউর রহমানেরও নেয়া যায়) অঙ্কটা করেন: ১৯৯৮ সালের কামের জন্য যদি কন্ডমাগীগোরই এদ্দিন লাগে। তাইলে আমগো কদ্দিন লাগবো?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28777106 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28777106 2008-03-07 07:41:52
মাননীয় মডারেটর মহোদয়, দয়া করে রেসপন্স করবেন একটু আগে আমি পর পর দু'টি পোস্ট করেছি। অভিন্ন জিনিস নয়। সেলিম রেজা নিউটন নামের একজন শিক্ষক রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নামক একখানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নামের একখানা বিভাগে তিনি পড়ান। কারাগার থেকে মুক্ত হবার পর তিনি প্রথম যে লেখাটি লিখেছেন, সেটি দুই কিস্তিতে ভাগ করে ব্লগে দিয়েছিলাম। প্রথম কিস্তিটা আপনারা প্রথম পৃষ্ঠায় রাখার কৃপা করেছেন। আমি কৃতজ্ঞতায় গদগদ। তবে মহাত্মনের সমীপে আমার আরজী এই যে, দ্বিতীয় কিস্তিখানা কোনো কারণ না দর্শিয়েই প্রথম পাতা থেকে উধাও করে দিয়েছেন। কারণটা আমার বোধগম্য নয়। প্রথমতঃ দু'টি অভিন্ন পোস্ট নয়। দ্বিতীয়তঃ এটি ফ্লাডিং নয়। তৃতীয়তঃ উমুক ব্লগার তমুকের পুঙ্গি বাজিয়েছে মার্কা অখাদ্য এবং সামহয়ারকে দেউলিয়াদের আড্ডাখানা হিসেবে প্রমাণ করবার জন্য যথেষ্ট এমন কোনো পোস্টও এটি ছিলো না, যে তাকে তুলে দিয়ে সামহয়ারের মহিমা উচ্চে ওঠানোর প্রশ্ন আসবে। অতএব, মডারেটর মহোদয়, এর একখানা যুক্তিগ্রাহ্য কারণ দিয়ে কি আমাকে বাধিত করবেন?]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28763195 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28763195 2008-01-22 13:29:44 কারামুক্তির পর সেলিম রেজা নিউটনের প্রথম লেখার শেষ কিস্তি সেলিম রেজা নিউটন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ান। আগস্ট ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনায় কারাগারে ছিলেন। কারামুক্ত হয়ে প্রথম এই লেখাটি লিখেছেন। সমকালে এর কিছু অংশ ছাপা হয়েছে। যারা পুরোটা পড়তে চান, তাদের জন্য তার অনুমতি নিয়েই দুই কিস্তিতে লেখাটা ব্লগে দিলাম। এইটা শেষ কিস্তি।

আইনের শাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ-২

(প্রথম কিস্তির পর)
জনগণের স্বাধীনতার পরিসর বাড়াতে গেলে অনিবার্যভাবে তাই আসে রাষ্ট্রের কেন্দ্রীভূত আমলাতান্ত্রিক শক্তিকে ক্রমশ দুর্বল করার প্রশ্ন, এবং জনগণের সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ-সঙ্ঘ-শক্তিকে ক্রমাগতভাবে প্রসারিত করার এ-যাবৎ অনালোচিত প্রশ্ন। কেননা, জরুরি হোক আর শিথিল হোক অল্পকিছু লোকের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলেই স্বৈরতন্ত্রী জুলুমের আশঙ্কা দেখা দেয়। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় কিনা বলা মুশকিল, কিন' সুন্দর নাম দিয়ে শাসন-নিপীড়ণের বাস-বতা ঢাকা যায় না। খেয়াল করা জরুরি যে, আইনের শাসন মানেও কিন' ঐ শাসন-ই। সুশাসকও শাসক, দুঃশাসকও শাসক। বাংলা একাডেমীর ব্যবহারিক এবং সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান দুটিতে, শাসন মানে হলো ‘দমন’, ‘নিগ্রহ’, ‘অত্যাচার’, ‘তিরস্কার’, ‘শাসি-দান’, ‘ভর্ৎসনা’, ‘নির্দেশ’, ‘আজ্ঞা’, ‘বিধি’ ইত্যাদি। ‘সুব্যবস'ার সাথে প্রতিপালন’ বা ‘পরিচালনা’ জাতীয় দুই-একটা কথাও অভিধানে (এবং শাসকদের লোকশোনানো বুলিতে) আছে বটে। কিন' কে না জানে, কোনো শাসকই বলে না যে আমি তোমাদের দমন এবং অত্যাচার করার জন্য এসেছি, সুতরাং বাঁচতে চাইলে সুবোধ বালকের মতো ‘একান- বাধ্যানুগত’ থাকতে হবে। (ঔপনিবেশিক ধাঁচের আবেদনপত্রগুলোর ‘ইতি আপনার একান- বাধ্যানুগত’ জাতীয় শব্দরাজি স্মরণ করে দেখুন।) সবাই বরঞ্চ ‘সুব্যবস'ার সাথে প্রতিপালন’ তথা ‘সুশাসনের’ বুলিই শোনায়, কিন' বাস-বে যা করে তার নাম শাসন। আসলে হাজার বছরের নিরলস চেষ্টায় গানে-কবিতায়-শাস্ত্রে-নিপীড়ণে শাসনের ধারণাটিকে পরাজিত মানুষের অভ্যাসের মজ্জায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘শাসন করা তারই সাজে আদর করে যে’, ‘পেটে খেলে পিঠে সয়’, ‘ভাত দেওয়ার ভাতার না, কিল মারার গোঁসাই’ এইসব আদতে বস-াপচা কিন' দাসত্ব-মনোবিকারগ্রস-দের দ্বারা অভিনন্দিত প্রবাদ-প্রবচন শাসনের সুপ্রাচীন ধারণার অনুমোদন দেয়। এক অর্থে, পাঁচ হাজার বছরের সভ্যতার ইতিহাস তো একদিকে কেন্দ্রীভূত শাসন-কর্তৃত্ব, অন্যদিকে গণদাসত্বের ইতিহাসও বটে। এই ইতিহাস জুড়ে আপাত বিচারে কর্তৃত্বেরই জয়জয়কার হয়েছে। ফলে শাসকশ্রেণী দিবারাত্রি যখন আইনের শাসনের বুলি প্রচার করে তখন খুব কম লোকেরই খটকা লাগে, সব প্রচারণাই মনে হয় স্বাভাবিক। ফলত, পদ্মা নদী এবং তার পরিপার্শ্বস' নিসর্গে ঢাকা বিশাল জেলখানা দেখেও কারও খটকা লাগে না, মনে হয় যেন পদ্মা নদীর মতোই এটাও কোনো প্রাকৃতিক প্রতিষ্ঠান। এটা দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ তথা শাসক শ্রেণীর দীক্ষায়ণ প্রকৌশলের পরিণাম।
কিন' মানুষের ইতিহাস আদতে প্রতিরোধের ইতিহাসও বটে। বোধগম কারণে সেই ইতিহাস খুব একটা রচিতও হয় নি, প্রচারিতও হয় নি। অনেক ন্যায্য কারণে মহা-প্রশংসিত বাঙালীর ইতিহাস: আদিপর্ব গ্রনে'ও দেখবেন জেলজুলুম-কয়েদ-কারাগার-নিপীড়ণ-নির্যাতন-পরাধীনতা এবং সেসবের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধের ইতিহাস নিয়ে কোনো কথা সে-বইয়ে নাই বললেই চলে, এ-বিষয়ে আলাদা একটা অধ্যায় থাকা তো নিছক কষ্ট-কল্পনা। তথাচ মানুষের নিরন-র প্রতিরোধ জারি আছে। সেগুলোকে বিদ্রোহ নামে ডাকা হয় না, যেন সেগুলো ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিসি'তির অবনতি’ মাত্র। গত এক বছরের জরুরি অবস'ায় দমবন্ধ-করা মহামান্য ভয়ের রাজত্বেও কৃষকেরা শ্রমিকেরা গার্মেণ্টস-কর্মীরা ছাত্রেরা শিক্ষকেরা প্রতিরোধ-আন্দোলনের আগুনে স্বাধীনতার শিখা সমুন্নত রেখেছেন। মানুষের অন-রাত্মা এই শিক্ষা কখনও ভোলে নি, মুখে যদিও সকলে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার বুলিই আওড়ায়, তবু ‘যে যায় লঙ্কায় সে-ই হয় রাবণ’। মানুষের যৌথ-স্মৃতিতে রাবণ-রাক্ষসের রাজ-নীতি এখনও বহাল আছে। লেনিনের অনেক আগেকার রুশ বিপ্লবী বাকুনিনও এই কথাই বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে বিপ্লবী লোকটিকে আপনারা রাশিয়ার মহান শাসক বানিয়ে দিন, এক বছর পার হওয়ার আগেই সে জারের চেয়ে বড় জারে পরিণত হবে।’ বলশেভিকদের ইতিহাস বাকুনিনকে অভ্রান- প্রমাণিত করেছে।
ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আপনি যদি মানুষকে সেই ‘শাসন’ই করতে চান, আপনার রাষ্ট্র-পরিচালন-কাঠামোটা যদি উচ্চ-নিচ ধারার কর্তৃত্ব-ক্রমতান্ত্রিক এবং আমলাতান্ত্রিকই হয় এবং রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষমতা যদি অল্প কয়েকজনের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে মানুষের দুর্ভোগ এড়ানোর উপায় থাকে না। এ-রকম ‘গণতন্ত্রের’ বুদ্ধি-ঠাসা মাথায় স্বৈরতন্ত্রীর শিঙ গজাবেই। মহামতি লেনিন বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো শ্রেষ্ঠ নেতাকেও আমরা সাংঘাতিক স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে দেখেছি এবং সেটাই ছিল স্বাভাবিক। আমাদের এই এক বছরের জরুরি জমানাতেও আমরা কখনো কখনো জারের ছায়া দেখতে পেয়েছি। লেনিনের চেকা, হিটলারের গেস্টাপো, শাহের সাভাক বাহিনীর সুদূরবর্তী নিশানও এখানে-সেখানে অগোচর থাকে নি। তদুপরি সেই যুগ আর নাই। সেকালের গুপ্ত খুনের বদলে এখন এসেছে প্রকাশ্য রাষ্ট্রীয় খুনের যুগ। রাষ্ট্র এখন তার অপছন্দের নাগরিকদের চাইলে খুন করে, চাইলে হাতে-পায়ে নল ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু বানিয়ে পত্রিকায় খবর পাঠায়, টিভি-ক্যামেরা ডেকে পাঠায়। সম্ভাব্য প্রতিবাদীদের জন্যে, স্বাধীন মানবাত্মার জন্যে বার্তা ঘোষিত হয়: বুদ্ধিমানের জন্য বন্দুকের ইশারাই যথেষ্ট। আমাদের ভাই-বন্ধুদেরকেই কিন' অপরাধী দমনের মতাদর্শ খাড়া করে রাষ্ট্রীয় নিধনযজ্ঞে নিয়োজিত করা হচ্ছে। এই নিধনযজ্ঞ থেকে তাঁদেরকে অব্যাহতি দানের ব্যবস'া করার প্রশ্ন তোলাটাও আমাদের বৃহত্তর পারিবারিক কর্তব্যই বটে।
নীতি-নির্ধারক যে-ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রকে জালেম বানিয়ে তোলেন, তাদের রক্তমাংসের মুখ আড়াল করার জন্য জারের শাসন বা ফুয়েরারের শাসন না ব’লে আজকের শাসকেরা নিজেদেরকে ব’লে থাকেন আইনের শাসন। অব্যাহতিপ্রাপ্ত এক উপদেষ্টার মতোন প্রতিদিন মানুষকে তাঁরা ধমকান আর বলতে থাকেন, ‘আইন তার নিজ গতিতে চলবে’। কিন' আইনের নিজের গতি মানে যে কর্তা-শাসকদের মতিগতি মাত্র সে-কথা এই যুগের পাগল এবং শিশুদেরও না বোঝার কথা না। আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা কিন' প্রতি সপ্তাহে একদিন করে জেলে ঢুকেছে তাদের বন্দী পিতাদের দেখার জন্য। জেলখানা চিনে এসেছে পুষ্পসম শিশুরা। তারা ঠিক করেছে, বড় হয়ে তারা সকলকে বুঝিয়ে বলবে যে, সমাজে জেলখানার আসলে দরকার নেই। কেননা মানুষকে বন্দী করে রাখার মতো পাপ আর নেই। শাসকশ্রেণীর পাঁচ হাজার বছরের কর্তৃত্ববাদী সভ্যতার পাপের ফলে সৃষ্ট ক্ষতগুলো লুকানোর জন্যই বারো হাত তেরো হাত উঁচু ঐসব একটানা দেওয়াল রচনা করা হয়েছে। ঐসব দেওয়ালেরও নাম হয় আইনের শাসন।
সুতরাং, ছাত্র-শিক্ষকদের মুক্তি দেওয়াটা অতীব দরকারী হলেও, তার চেয়েও জরুরি প্রশ্নটা হলো, অতীতের মতোই, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে কখনো জরুরি কখনো ‘স্বাভাবিক’ আইনের স্টিম রোলার যদি চলতেই থাকে তাহলে কেউ না কেউ তার তলায় পিষ্ট হতেই থাকবে। এটাই কিন' নীতিগত বিচারে গোড়ার প্রশ্ন। মানুষকে বন্দী করে রাখার কোনো অধিকার আদৌ কি কোনো শাসক বা শাসনতন্ত্রের আছে? জেলখানায় আমি অনেক নিরাপরাধ মানুষ দেখে এসেছি, কেউ কখনো যাদের মুক্তি দাবি ক’রে পত্রিকায় লেখে নি, লিখবে না। অথচ তাঁরা আমাদের মুক্তির জন্য আন-রিকভাবে উৎকণ্ঠিত থেকেছে, দোয়া করেছে। তাঁদের কী হবে? দমনমূলক রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ, কারাগার, আইনের শাসনের বিদ্যমান মৌলিক কর্মপ্রক্রিয়া ও নীতি-পদ্ধতিগুলোকে আমাদের বিদ্বৎসমাজ যদি এটা-ওটা অজুহাতে সঠিক বলে অনুমোদন করেন, তাহলে তাদেরকে এ-কথাও মানতে হবে যে, শিক্ষক-ছাত্রদের কয়েদ-খাটা ঠিকই আছে। অসংখ্য নিরাপরাধ লোক (যাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষকও আছেন) যদি দশ বিশ তিরিশ চল্লিশ বছর জেল খাটতে পারেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা পারবেন না কেন? আর এই বিদ্বৎসমাজ যদি মনে করে থাকেন, সমাজে শিক্ষক বা শিক্ষিত এলিট লোকদের মূল্য বেশি, তাহলে সেটা গণতান্ত্রিক সম-চেতনার করুণ কন্ট্রাডিকশনকে চিত্রায়িত করবে। আমাদেরকে তার মানে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস'া প্রতিষ্ঠা করতে গেলে বিদ্যমান আইনের শাসনের খোদ প্রক্রিয়াটিকেই প্রশ্ন করতে হবে। জনগণের সৃজনশীল মনুষ্য-গুণাবলীর স্বাধীন বিকাশ ও আত্মকর্তৃত্বের সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার কথা ভাবতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবেক ও চিন-া-প্রকাশের স্বাধীনতা যারা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তারা কেমন করে বিস্মৃত হবেন যে, বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস'া যদি কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ণ থেকে মুক্ত না-হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে না? লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তন-প্রক্রিয়া ও প্রকৃতির সাথে লেনদেন থেকে অর্জন করা বিবেক, সহানুভূতি, সহযোগিতা, সংহতি, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পথে চলতে গেলে আপনাকেও হয়ত কারাগারে যেতে হবে। নিপীড়ক রাষ্ট্র-শাসকরা আপনাকে সহ্য করবে না। তিয়াত্তরের অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বাধীনতার বেশ খানিকটা বিধান করেছিল। তবু শিক্ষকেরা স্বাধীন হন নি; একদিকে পদ-প্রমোশন-হালুয়া-রুটির লোভে এবং অন্যদিকে রাষ্ট্র-রাজনীতির বলপ্রয়োগের ভয়ে। আসলে আইন করে কাউকে স্বাধীন বানানো যায় না। বাজারে রূপান-রিত হওয়া আজকের সমাজের প্রচুর মানুষ ঐ লোভ আর ভয়ের তাড়ণাতেই স্বাধীনতা তথা মনুষ্যত্বকে একটু একটু করে হারিয়ে ফেলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাহিরে ভয় আর লোভের চোখে চোখ রেখেই আমাদেরকে স্বাধীন হয়ে উঠতে হবে। রাজনৈতিক দলীয় ও প্রাইভেট অস্ত্রধারী বাহিনী, রাষ্ট্রীয় রক্তচক্ষু এবং সরকারী বন্দুকধারীদের হুকুমকে চ্যালেঞ্জ করে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকেরা যদি চিন-া-বিবেক-প্রকাশের স্বাধীনতা ও মনুষ্যত্ব পাহারা দিয়ে রাখতে পারতেন, তাহলে আজ বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের এই হাল হতো না।
আমরা কি রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ, কারাগার এবং জুলুমের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে একটা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার আলোচনা শুরু করতে পারি না? কারাগারের পেট থেকে বের হয়ে আসার পর এ-কথা আমাদের ভুলে যাওয়ার উপায় নাই যে, বলপ্রয়োগের প্রতিষ্ঠান থাকলে কিন' কারো না কারো ওপর বলপ্রয়োগ করা হবেই। তাতে চলেশ রিছিলদের মৃত্যু হবে। কারাগার থাকলে কিছু লোককে সেখানে ঢোকানো হবেই। বলপ্রয়োগের কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র ও কারাগার ব্যতিরেকেই কেবলমাত্র একটা রাষ্ট্র সত্যিকারের সুশীল রাষ্ট্র হতে পারে। বলপ্রয়োগ করে, গায়ের জোরে, লাঠির জোরে, বন্দুকের জোরে শুভ-মঙ্গল-কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। মানুষকে বন্দী করে তার ‘অপরাধ’ সংশোধন করা যায় না, বন্দী করে মানুষকে স্রেফ নিঃস্ব ও ধ্বংসই করা যায়।
মানুষ তবু ধ্বংস হয় না। তার আত্মার ভেতরে আছে সৃষ্টিকর্তার আলো। জন্মসূত্রে মানুষ স্বাধীন। রুশো তাঁর ডিসকোর্স অন ইনইকুয়ালিটি (১৭৫৫) গ্রনে' বলেছিলেন, “মানুষের মৌলিক ও নির্ধারক ধর্ম হচ্ছে তার স্বাধীনতা। দাসত্বের প্রতি স্বাভাবিক ঝোঁককে যাঁরা মানুষের ধর্ম বলে চালাতে চান, তাঁরা ভেবে দেখেন না যে, স্বাধীনতা এবং নিষ্পাপতা ও সৎকর্মের প্রতি স্বাভাবিক ঝোঁকও মানুষের ধর্ম।” (নোম চমস্কি, ১৯৭০) স্বাধীনতাই সৃজনশীলতার ধাত্রী। আর, স্বাধীনতা আসে শুধু স্বাধীনতারই পথে। কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহই স্বাধীনতার সূচনা ঘটায়। দ্রোহ ও সংগ্রামের পথে আসে সংহতি। উৎপাদনের উপায়-উপকরণের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা এবং তার পাহারাদার সশস্ত্র কর্তৃত্বের হাজার হাজার বছরের নিষ্পেষণে মানুষ তার হারিয়ে ফেলা বিবেক, সহানুভূতি, সহযোগিতা, সংহতি, ভালোবাসা, বিশ্বাস তথা মনুষ্যত্বকে মানুষ ফিরে পায় সংগ্রাম-সংহতি-স্বাধীনতার পথে। প্রতিটা বিদ্রোহ আর সামাজিক আন্দোলন মানুষের মধ্যে শ্রেয়োচেতনা, উন্নত নীতিবোধ, হিতাকাঙ্ক্ষা আর সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্ম দেয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০০৭ সালের আগস্ট-বিদ্রোহ এই প্রশ্নগুলোকেই সামনে টেনে আনলে আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। (শেষ)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ১২ই জানুয়ারি ২০০৮

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28763184 http://www.somewhereinblog.net/blog/ShibleeNomanblog/28763184 2008-01-22 12:49:28