ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাদা পুলিশের একটি দল দুটি ছেলে মেয়েকে আটক করেছে। বৃষ্টিভেজা এক সন্ধ্যায় তারা হাতধরাধরি করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসেছিল। কি তাদের অপরাধ? জানতে চাইলে, মোটসোটা এক দারোগা এগিয়ে এলো। আমি বিনীতভাবে আমার পরিচয় দিলাম। তিনি আমাকে জানালেন, এরা অসামাজিক কাজ কর্ম করছিল। আমি বললাম কি সেটা। দারোগা বললো আর কইয়েন না,মাইকে এলাউন্স করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগতরা এখানে আর থাকবেননা। পরিচয় পত্র সঙ্গে রাখুন। চেক করা হবে।... এরপরও তারা এখানে বসে বসে প্রেম করছে। আমি দেখলাম দুজনই প্রাপ্ত বয়স্ক। অপমানে মাথা নীচু করে দাড়িয়ে আছে দুটি সুন্দর ছেলেমেয়ে। পুলিশ তাদের নানারকম অশালীন কটুক্তি করছে। দারোগার কাছে জানতে চাইলাম। হাত ধরে থাকা অসামাজিক হবে কেন? এটাই সামাজিক নিয়ম একজন আরেকজনের হাত ধরে থাকবে, এখানে অসামাজিক কর্মকান্ডটা দেখলেন কোথায়? তিনি জানালেন এরা বহিরাগত। আমি জানতে চাইলাম কি ভিনদেশী? পাসপোর্ট নাই? বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে সুবিধা করতে না পেরে তাদের ছেড়ে দেয়া হোল।
একই স্থানের রাত দেড়টার একটি দৃশ্যের কথা এবার জানালাম ঐ দারোগাকে ...........
গোটা চল্লিশেক রিকশা থেমে আছে। জন পনেরো মানুষ একজন মহিলা ও একজন রিকশা চালকের যৌনকর্ম আড়াল করে জড়ো হয়ে আছে। বাদ বাকি চালকেরা সবাই নির্বিকার দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে ঐ মহিলার জন্য। কারো হাতে সিগারেট, কেউবা ঘামছে আর ঘাড়ের গামছায় মুখ মুছছে। কারো মুখে কোন কথা নেই। থমথমে একটা পরিবেশ।
পুলিশ তা জানে। রিকশাওয়ালারা জানিয়েছে মাঝে মাঝে পুলিশও ঐ মহিলার উপর চড়াও হয়ে ক্ষুধা মেটায়। মজার ব্যাপার হোল এই ঘটনা একদিনের নয়,প্রতিদিনের। অথচ প্রেম করতে দিবেনা!...
আমার হতাশ লাগে...
নিরানন্দে ভরা একটি শহরে আমি থাকি। রাত হলেই কালো অন্ধকারে ঢেকে যায় গোটা শহর। চারদেয়ালের বন্দি করে ফেলার চতুর কৌশল। মৃত একটি নগরের বোবা বাসিন্দা আমি। রাস্তার বের হলে ধাতব শব্দ ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাইনা। সবাই কি কি যেন বলছে কিন্তু কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা। সকাল হলে আমি যুদ্ধ করতে করতে অফিসে যাই। সন্ধ্যা হলে অফিস থেকে বেড়িয়ে আমি আর কোথাও মার্কেটের অস্তিত্ব খুঁজে পাইনা। আলো ঝলমল শহরটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে? অন্ধকারে হাতরাতে থাকি।আমার একটা ট্রাউজার কেনা দরকার গত কয়েকমাস হোল আমি কেনার সময় পাচ্ছিনা। নিজেকে শহরের একটি বিব্রত মানুষ মনে হয়। আমার ইচ্ছা করে কোথাও গা এলিয়ে বসি। কিন্তু শহরের কোথাও গা এলিয়ে বসার জায়গা রাখা নেই। তখন ভুলে যাই শতাব্দীর আধুনিকতার কথা। ৯৯ সালে আমরা যারা শাহবাগ আজিজ মার্কেট কেন্দ্রিক আড্ডা দিতো তাদের জন্য শহরটা অনেক উন্মুক্ত ছিল। ধীরে ধীরে শহরের আড্ডার জায়গা সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। এক সময় পিজি হাসপাতালের বর্হিবিভাগের আজিজ সংলগ্ন দেয়ালের উপর বসে থাকতাম। সন্ধ্যা নাগাদ জমে উঠতো আড্ডা। দেয়াল উচু করে ঘিরে দেয়া হোল পুরো জায়গা। আমরা উঠে গেলাম। শাহবাগের পুবালী ব্যাংকের সামনে যারা বসতো এখন তাদের সামান্য চা খাবার দোকানটিও আর রাখতে দিচ্ছেনা সরকার। যাদুঘরের সামনে শব্দ দুষনের একটি মেশিন বসিয়ে দেয়া হোল । চারুকলার ছবির হাটেও হানা দিচ্ছে সরকারী বাহিনী। কোথাও লোকজন জড়ো হয়ে সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করবে তার সুযোগ না দেয়াই আধুনিক সরকারের রাজ্য পরিচালনার কৌশল হয়ে উঠেছে। আমরাও সবাই অসামাজিক মানুষে পরিনত হচ্ছি। আর যাই হোক অসামাজিক মানুষ সংঘবদ্ধ হতে পারেনা। ফলে যৌথতার চর্চাও হয়না। মানুষগুলোও আর সামাজিক প্রয়োজনের কথা ভেবে সৃষ্টিশীল কোন অবদান রাখার কথা মাথায় আনেনা। যৌথ প্রয়াস ছাড়া সমাজের উন্নয়ন কিভাবে হবে। এতদিন ধরে একটি শহর অন্ধকারে। ব্যাবসা বাণিজ্য থমকে আছে। পেশাগত কারনে জেনেছি বিগত দুবছরে মার্কেটগুলোর বিক্রি কমেছে ৬০ভাগ। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে আমার বিনোদনের প্রয়োজন। মেগাসিটির কি শর্ত পুরন করছে এই রাজধানী ঢাকা? আমি এই জীবনে খুবই ক্লান্ত আমার বিনোদনের জন্য শহরে কি কি ব্যবস্থা আছে কেউ কি বলবেন?
আমার গুরু বলেছিল, সেক্স হচ্ছে গরীবের একমাত্র বিনোদন। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে বাসায় ফিরে সেক্স করা। জনসংখ্যা বাড়বে নাতো কি হবে? আমি উত্তরে বলেছিলাম বহুজাতিক কোম্পানীর ফ্লেভারড কনডমের ব্যবসা বিস্তৃত হবে। এই চাল করছে আধুনিক সরকারগুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুরুল ইসলাম নাজেম নামের এক নগরপরিকল্পনাবিদ আমাকে জানালো ,আধুনিক নগরে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য আড়াই একর খোলা জায়গা প্রয়োজন। সর্বশেষ সরকারী হিসেবে শহরের জনসংখ্যা এককোটির বেশি। (এডিট চলছে)
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


