ভালো কথা, আমি অনুরোধ করবো যাদের সন্তানের বয়স -১ থেকে শুরু করে ৫-৬ কিংবা ৮ পর্যন্ত, তারা দয়াকরে পড়ুন। আর বরাবরের মতো এই বিষয়টির পডকাষ্ট শুনতে এখানে ক্লীক করুন। এবার আসল কথায় আসা যাক। আমি বিস্তারিত কিছু বলার আগে বরং দুটি কথোপোকথন পড়ুন। সুনাতা তার বাবার কাছে গিয়ে বলে,
সুনাতা: আব্বু, গাছ হয় কেমন করে?
জ্ঞানী আব্বু বলেন: ও...ও...ও তোমার জানতে ইচ্ছে করছে, গাছ হয় কেমন করে? আসো বলি তবে। মনোযোগ দিয়ে শুনবে কিন্তু। আমরা যে ফল খাই, সেই ফলের ভেতর বীচি থাকে না? সেই বীজের ভেতরে থাকে ছোট্ট একটা গাছ। বীচিটা আমরা মাটিতে পুঁতে দেই, ধীরে ধীরে সেখান থেকে গাছ বের হয়। আর গাছটা কোথা থেকে খাবার পায় জানো? এর শেকড় দিয়ে মাটি থেকে চুষে চুষে পানি খায়, খাবার খায়। আর সূর্য্য থেকে আলো নেয়। সেই আলো গাছের পাতায় লাগে আর সেই পাতাও খাবার বানায়। গাছ আমাদের খুব ভালো বন্ধুও কিন্তু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় আর আমরা সেটাই নিশ্বাস নেই, গাছ ছায়া দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়...... (এভাবে চলতে থাকে)
পাঠক, এবার বলুন উপরের কথাগুলি পড়তে কেমন লাগলো? ভালোইতো, তাই না? আপনারা যারা ভাবছেন যে আমি পরামর্শ দিতে চাইছি যে উপরের মতো করে জ্ঞান দেবেন তবে ভুল ভাবছেন। বরং আমি বলতে চাইছি মোটেও এভাবে সকল জ্ঞান দেবেন না আপনার কৌতুহলি সন্তানকে। কেন ওভাবে জ্ঞান দেবোনা শিবলী ভাই? ওয়েল, ওভাবে জ্ঞান দেবেন না কারন তাতে আপনি আসলে আপনার সন্তানের সকল কৌতুহল মিটিয়ে দিচ্ছেন খুব সহজে এবং তার চিন্তা করার ক্ষমতা, আবিষ্কার করার ক্ষমতা, আরো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছেন। কি বলেন শিবলী ভাই, এভাবে detail বললেই কি একটা শিশুর চিন্তা আর আবিষ্কার করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় নাকি, যত্তো সব ফালতু কথা? দেখুন পাঠক, একটু ফালতু হলে হতেও পারে কিন্তু আমি পরামর্শ দেবো আপনার শিশু সন্তানকে সকল বিষয়ে এভাবে detail ব্যাক্ষ্যা করবেন না (অন্তত ওর অল্প বয়সে)। বরং তাকে একটু একটু করে clue দিন আর দেখুন সে আরো চিন্তা করে অধিক প্রশ্ন করে কিনা। তাকে আরো ভাববার সুযোগ করে দিন। প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিন। সে যেন আরো গভীর চিন্তা করে। হতে পারে আপনার একটু একটু clue তে সে ভীন্ন কিছুও চিন্তা করে ফেললেও ফেলতে পারে যা বাস্তব নয় কিন্তু তাতে আপনি বিচলিত বা বিভ্রান্ত হবেন না। আমার পরামর্শ অনুযায়ী কথাবার্তাগুলি এমন হতে পারতো।
- গাছ হয় কেমন করে, আব্বু?
- গাছ হয় বিচি থেকে।
- বিচি থেকে হয়! ও আমরা যে ফল খাই, ওটার ভেতরে বিচি থাকে সেই বিচি থেকে হয়?
- হুম্ সেই বিচি থেকেই হয়।
- বিচিরতো হাত পা নেই তবে মাটির কাছে কেমন করে যায়?
- সত্যিইতো মজার কথা! যদিও বিচির পা নাই তাও যেতে পারে। আসলে, আমরা মানুষরাই বিচিগুলোকে মাটিতে লাগাই। কৃষক বিচি নিয়ে জমিতে লাগায়।
- তাই? তাহলে ঐ বাসার কোনায় কেন একটা গাছ হলো? ওখানেও কি কৃষক গিয়ে বিচি লাগিয়েছে?
- উম্... ঐটা মানুষ লাগয়নি। ওটা মনে হয় পাখি লাগিয়েছে।
- পাখিও গাছ লাগায়? ও বুঝতে পেরেছি, পাখি গাছ থেকে ফল খায় আর বিচিটা ঠোঁটে নিয়ে বাসার ছাদে ফেলে দেয়, তাই না আব্বু?
- হুম্ অনেকটা তাই। আবার মজার একটা কাজও হয়। পাখি ফল খায় কিন্তু সব ফলের বিচি হজম হয়না। যখন পাখি হাগু করে, তখন ওখানেও গাছ হতে পারে।
- (খিল্ খিল্ করে হাসতে হাসতে) ও তাই, পাখি পুত্ পুত্ করে হাগু করে আর হাগুতে বিচি থাকলে সেখানেও গাছ হয়? পাখিতো হাগু করবেই, তা না হলেতো পাখির পেট থেকেই গাছ হবে, তাই না আব্বু?
- (হাসতে হাসতে) না, তা না। পেটের ভেতর কখনই গাছ হয়না সোনা।
- কিন্তু এই ছোট্ট বিচির ভেতের এতো বড় গাছ কেমন করে থাকে?
- হুম্ খুব চিন্তার বিষয়! তুমি যখন তোমার আম্মু পেটের মধ্যে ছিলে তখন কি এতো বড় ছিলে? তখনতো এই এতুটুকু ছিলে।
- ও-ও-ও, ছোট বিচির ভেতর ছোট গাছ থাকে আর বিচি থেকে বের হয়ে ধীরে ধীরে আমাদের মতো বড় হয়।
(এভাবে চলতে থাকতে পারে আমাদের কথাবার্তা। আর এভাবে সে এক বিষয় থেকে নানা বিষয়ে জাম্প করতে পারে। যাই হোক, আমি পরামর্শ দেবো, সময় করে একটু পডকাষ্টটিও শুনুন, সেখানে উপরোক্ত কথাবার্তা আরো প্রানবন্ত আকারে প্রকাশ পেয়েছে।)
প্রতিটি শিশুর মাঝেই আছে অনেক কৌতুহল। পৃথিবীর সকল বিষয়ে তাদের কৌতুহল। নানা প্রশ্ন তাদের মনে জানে। সকল কিছুই জানতে চায়। সকল বিষয় জানানোও আমাদের দ্বায়ীত্ব। কিন্তু detail জানাবেন না। তার চিন্তার খোরাক দিন। তাকে সমস্যা বের করতে দিন। ভাবতে দিন তার সমাধান। যদি সেটা করেন তবে সেটা হবে তার প্রতি অনেক বড় একটা উপকার করা।
আশা করি আমার পরামর্শ আপনারা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু যদি আপনি মনে করেন যে আপনার বাচ্চার ম্যাচ্যুরিটি অনুযায়ী ডিটেইল বলার পরও তার অনেক কিছু চিন্তা করার অবকাশ থেকে যাচ্ছে এবং সে চিন্তা করতেও পারে সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। মোট কথা তাকেই চিন্তা ভাবনা করতে দিন। যদি দেখেন যে অল্পঅল্প ক্লু দেবার পরও সে যথেষ্ট চিন্তা করতে পারছে না, তবে তখন নিজ গরজে আরো একটু বেশী তথ্য দিন এবং এভাবে ক্রমে ক্রমে তাকে সমস্যা নিয়ে ভাবতে দিন, চিন্তায় ফেলে দিন। আমি যেভাবে উদাহরন দিলাম সেটাকেই লিমিট ধরবেন না। বরং আপনার সন্তানকে বুঝুন। বুঝুন তার মেধা ও ম্যাচ্যুরিটি। তারপর আপনিই সিদ্ধান্ত নিন যে কতুটুকু বললে তার জন্য ক্লু আর কতুটুকু বললে বিস্তারিত বলা হয়ে যাবে। মোট কথা দুজনের কথাবার্তাটা যেন চালু থাকে। শুধুই যেন একপাক্ষিক কথা বলা না হয়ে যায় (যা প্রথম উদাহরনে দিয়েছি)।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে।
শিশু বিষয়ক আরো লেখাগুলি পড়তে এখানে ভিজিট করতে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


