somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনার শিশুকে বেশি জ্ঞান দেবেন না

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
যারা শিশু বিষয়ক আমার লেখাগুলি নিয়মিত পড়ছেন তারা নিশ্চই ক্ষেপে গেছেন শিরোনাম দেখে। হয়তো মনে মনে বলছেন, "শিবলী ভাই, আপনার লেখার দুই একটা ভালো কমেন্ট করেছি বলে কি শিশুদের নিয়ে যা খুশি তাই বলবেন? আরে আমরা আমাদের সন্তানকে ভালো শিক্ষা আর জ্ঞানে জ্ঞানী করার জন্য কতো কিছু করি! ভালো স্কুলে ভর্তীর জন্য যুদ্ধু করি, ভালো কোচিংগুলোতে সকাল বিকাল পড়াই, ভালো শিক্ষক খুঁজে বেড়াই, উন্নত নোট পড়াই, নানা ধরনের অডিও ভিজুয়্যাল সেশন করাই, শুধুই যেন আর সবার চাইতে ড্যাস্‌ ড্যাস্‌ ড্যাস্‌। আর আপনি বলছেন বেশী জ্ঞান দেবো না? বোকা বানিয়ে রাখবো নাকি? ধুরু, আপনার লেখা আর পড়বই না..." প্লীজ্‌ একটু শান্ত হোন, আমি বরং একটু ঝেড়েই কাশি, নইলে আমাকে ভুল বুঝবেন।

ভালো কথা, আমি অনুরোধ করবো যাদের সন্তানের বয়স -১ থেকে শুরু করে ৫-৬ কিংবা ৮ পর্যন্ত, তারা দয়াকরে পড়ুন। আর বরাবরের মতো এই বিষয়টির পডকাষ্ট শুনতে এখানে ক্লীক করুন। এবার আসল কথায় আসা যাক। আমি বিস্তারিত কিছু বলার আগে বরং দুটি কথোপোকথন পড়ুন। সুনাতা তার বাবার কাছে গিয়ে বলে,
সুনাতা: আব্বু, গাছ হয় কেমন করে?
জ্ঞানী আব্বু বলেন: ও...ও...ও তোমার জানতে ইচ্ছে করছে, গাছ হয় কেমন করে? আসো বলি তবে। মনোযোগ দিয়ে শুনবে কিন্তু। আমরা যে ফল খাই, সেই ফলের ভেতর বীচি থাকে না? সেই বীজের ভেতরে থাকে ছোট্ট একটা গাছ। বীচিটা আমরা মাটিতে পুঁতে দেই, ধীরে ধীরে সেখান থেকে গাছ বের হয়। আর গাছটা কোথা থেকে খাবার পায় জানো? এর শেকড় দিয়ে মাটি থেকে চুষে চুষে পানি খায়, খাবার খায়। আর সূর্য্য থেকে আলো নেয়। সেই আলো গাছের পাতায় লাগে আর সেই পাতাও খাবার বানায়। গাছ আমাদের খুব ভালো বন্ধুও কিন্তু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় আর আমরা সেটাই নিশ্বাস নেই, গাছ ছায়া দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়...... (এভাবে চলতে থাকে)

পাঠক, এবার বলুন উপরের কথাগুলি পড়তে কেমন লাগলো? ভালোইতো, তাই না? আপনারা যারা ভাবছেন যে আমি পরামর্শ দিতে চাইছি যে উপরের মতো করে জ্ঞান দেবেন তবে ভুল ভাবছেন। বরং আমি বলতে চাইছি মোটেও এভাবে সকল জ্ঞান দেবেন না আপনার কৌতুহলি সন্তানকে। কেন ওভাবে জ্ঞান দেবোনা শিবলী ভাই? ওয়েল, ওভাবে জ্ঞান দেবেন না কারন তাতে আপনি আসলে আপনার সন্তানের সকল কৌতুহল মিটিয়ে দিচ্ছেন খুব সহজে এবং তার চিন্তা করার ক্ষমতা, আবিষ্কার করার ক্ষমতা, আরো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছেন। কি বলেন শিবলী ভাই, এভাবে detail বললেই কি একটা শিশুর চিন্তা আর আবিষ্কার করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় নাকি, যত্তো সব ফালতু কথা? দেখুন পাঠক, একটু ফালতু হলে হতেও পারে কিন্তু আমি পরামর্শ দেবো আপনার শিশু সন্তানকে সকল বিষয়ে এভাবে detail ব্যাক্ষ্যা করবেন না (অন্তত ওর অল্প বয়সে)। বরং তাকে একটু একটু করে clue দিন আর দেখুন সে আরো চিন্তা করে অধিক প্রশ্ন করে কিনা। তাকে আরো ভাববার সুযোগ করে দিন। প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিন। সে যেন আরো গভীর চিন্তা করে। হতে পারে আপনার একটু একটু clue তে সে ভীন্ন কিছুও চিন্তা করে ফেললেও ফেলতে পারে যা বাস্তব নয় কিন্তু তাতে আপনি বিচলিত বা বিভ্রান্ত হবেন না। আমার পরামর্শ অনুযায়ী কথাবার্তাগুলি এমন হতে পারতো।
- গাছ হয় কেমন করে, আব্বু?
- গাছ হয় বিচি থেকে।
- বিচি থেকে হয়! ও আমরা যে ফল খাই, ওটার ভেতরে বিচি থাকে সেই বিচি থেকে হয়?
- হুম্‌ সেই বিচি থেকেই হয়।
- বিচিরতো হাত পা নেই তবে মাটির কাছে কেমন করে যায়?
- সত্যিইতো মজার কথা! যদিও বিচির পা নাই তাও যেতে পারে। আসলে, আমরা মানুষরাই বিচিগুলোকে মাটিতে লাগাই। কৃষক বিচি নিয়ে জমিতে লাগায়।
- তাই? তাহলে ঐ বাসার কোনায় কেন একটা গাছ হলো? ওখানেও কি কৃষক গিয়ে বিচি লাগিয়েছে?
- উম্‌... ঐটা মানুষ লাগয়নি। ওটা মনে হয় পাখি লাগিয়েছে।
- পাখিও গাছ লাগায়? ও বুঝতে পেরেছি, পাখি গাছ থেকে ফল খায় আর বিচিটা ঠোঁটে নিয়ে বাসার ছাদে ফেলে দেয়, তাই না আব্বু?
- হুম্ অনেকটা তাই। আবার মজার একটা কাজও হয়। পাখি ফল খায় কিন্তু সব ফলের বিচি হজম হয়না। যখন পাখি হাগু করে, তখন ওখানেও গাছ হতে পারে।
- (খিল্‌ খিল্‌ করে হাসতে হাসতে) ও তাই, পাখি পুত্‌ পুত্‌ করে হাগু করে আর হাগুতে বিচি থাকলে সেখানেও গাছ হয়? পাখিতো হাগু করবেই, তা না হলেতো পাখির পেট থেকেই গাছ হবে, তাই না আব্বু?
- (হাসতে হাসতে) না, তা না। পেটের ভেতর কখনই গাছ হয়না সোনা।
- কিন্তু এই ছোট্ট বিচির ভেতের এতো বড় গাছ কেমন করে থাকে?
- হুম্‌ খুব চিন্তার বিষয়! তুমি যখন তোমার আম্মু পেটের মধ্যে ছিলে তখন কি এতো বড় ছিলে? তখনতো এই এতুটুকু ছিলে।
- ও-ও-ও, ছোট বিচির ভেতর ছোট গাছ থাকে আর বিচি থেকে বের হয়ে ধীরে ধীরে আমাদের মতো বড় হয়।
(এভাবে চলতে থাকতে পারে আমাদের কথাবার্তা। আর এভাবে সে এক বিষয় থেকে নানা বিষয়ে জাম্প করতে পারে। যাই হোক, আমি পরামর্শ দেবো, সময় করে একটু পডকাষ্টটিও শুনুন, সেখানে উপরোক্ত কথাবার্তা আরো প্রানবন্ত আকারে প্রকাশ পেয়েছে।)

প্রতিটি শিশুর মাঝেই আছে অনেক কৌতুহল। পৃথিবীর সকল বিষয়ে তাদের কৌতুহল। নানা প্রশ্ন তাদের মনে জানে। সকল কিছুই জানতে চায়। সকল বিষয় জানানোও আমাদের দ্বায়ীত্ব। কিন্তু detail জানাবেন না। তার চিন্তার খোরাক দিন। তাকে সমস্যা বের করতে দিন। ভাবতে দিন তার সমাধান। যদি সেটা করেন তবে সেটা হবে তার প্রতি অনেক বড় একটা উপকার করা।

আশা করি আমার পরামর্শ আপনারা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু যদি আপনি মনে করেন যে আপনার বাচ্চার ম্যাচ্যুরিটি অনুযায়ী ডিটেইল বলার পরও তার অনেক কিছু চিন্তা করার অবকাশ থেকে যাচ্ছে এবং সে চিন্তা করতেও পারে সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। মোট কথা তাকেই চিন্তা ভাবনা করতে দিন। যদি দেখেন যে অল্পঅল্প ক্লু দেবার পরও সে যথেষ্ট চিন্তা করতে পারছে না, তবে তখন নিজ গরজে আরো একটু বেশী তথ্য দিন এবং এভাবে ক্রমে ক্রমে তাকে সমস্যা নিয়ে ভাবতে দিন, চিন্তায় ফেলে দিন। আমি যেভাবে উদাহরন দিলাম সেটাকেই লিমিট ধরবেন না। বরং আপনার সন্তানকে বুঝুন। বুঝুন তার মেধা ও ম্যাচ্যুরিটি। তারপর আপনিই সিদ্ধান্ত নিন যে কতুটুকু বললে তার জন্য ক্লু আর কতুটুকু বললে বিস্তারিত বলা হয়ে যাবে। মোট কথা দুজনের কথাবার্তাটা যেন চালু থাকে। শুধুই যেন একপাক্ষিক কথা বলা না হয়ে যায় (যা প্রথম উদাহরনে দিয়েছি)।

ছবি: ইন্টারনেট থেকে।

শিশু বিষয়ক আরো লেখাগুলি পড়তে এখানে ভিজিট করতে পারেন।
১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×