গাফ্ফার চৌধুরী গতকাল ফেনীর গডফাদার জয়নাল হাজারীর বই এর 'আমি জয়নাল হাজারী বলছি' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন। এরপরে তিনি অনুষ্ঠানে যা বলেছেন সে প্রসঙ্গে পরে যাচ্ছি। কিন্তু তিনি জয়নাল হাজারীর মতো গডফাদারের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন এ কারনেই আজ থেকে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা চলে গেলো। গাফ্ফার চৌধুরী একজন সাংবাদিক। একজন সাংবাদিক হয়ে তিনি কিভাবে একজন সাংবাদিক নির্যাতনকারির অনুষ্ঠানে গেলেন? এরপরে তিনি যা বললেন তা যেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্য নয় কোন নেতা তোষন করতে তার পালিত পাতি নেতার বক্তব্য। তিনি বক্তৃতায় বলেন,'শেখ হাসিনা কানকথা শুনে হাজারীর মতো ত্যাগী-নিষ্ঠাবান নেতাকে বহিষ্কার করে গুরুতর অন্যায় করেছেন। তিনি পুনরায় হাজারীকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন।'
হায়রে!
২০০১ এর নির্বাচনে এ জয়নাল হাজারীরর মতো গডফাদারদের জন্যই জনমত আওয়ামীলীগের বিপক্ষে ছিলো। আওয়ামীলীগকে এর মাশুল দিতে হয়েছে। ২০০৯ এর নির্বাচনে এসব জজ্ঞাল বাদ দেয়ার কারনেই আওয়ামীলীগের এ বিপুল বিজয় হয়েছে।
আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের পক্ষে এদেশে বেশ কিছু মৌলবাদি বুদ্ধিজীবি আছে। এদের কেউ আওয়ামী মৌলবাদি, কেউ বিএনপি মৌলবাদি। আর আসল মৌলবাদি, রাজাকার জামাত-শিবির চক্র তো আছেই। কিন্তু গাফ্ফার চৌধুরীকে আমি এতদিন সে তালিকায় ফেলতে পারিনি। কবি আবু হাসান শাহরিয়ারের ভাষায় 'দলকানা' মনে করিনি গাফ্ফার চৌধুরীকে । কিন্তু এ অনুষ্ঠানের পর থেকে তিনি আমার চোখে তার চেয়েও নিচে নেমে গেলেন।
গাফ্ফার চৌধুরী কি জানেন না সাহসি সাংবাদিক টিপু সুলতানের উপর হাজারী কি নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিলো? জানেন নিশ্চই। কিন্তু দলকানা লোকদের চোখে অনেক কিছুই এড়িয়ে যায়। তিনি অবশ্য আরেক ধাপ এগিয়। তিনি 'হাজারী কানা'। হায়ারে তার কি অধ:পতন। দেখা যাক আওয়ামীলীগ তার হাজারীকে দলে ফিরিয়ে নেয়ার ফাঁদে পা দেয় কিনা? যদি দেয় তবে আবারো আওয়ামীলীগ ডুববে। আগে বেশ কয়েকবার এসব অতি উতসাহিতদের কাজকর্ম প্রতিক্রিয়াশীলদের সূযোগ তৈরী করে দিয়েছে। আওয়ামীলীগের দু:সময় এসেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

