somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাকিবকে ক্যাপ্টেন্সি থেকে সরানো পুরোপুরি রাজনৈতিক,মোটেই স্পোর্টিভ নয়!

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাকিব আল হাসান অবিসংবাদিতভাবে বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা খেলোয়াড়, এতে দ্বিমত করার মত মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। কি বোলিং,কি ব্যাটিং আর কি ফিল্ডিং প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে সাকিবের সাথে পাল্লা দেওয়ার মত কেউ নাই দলে। এই সাকিবকে একসময় ক্যাপ্টেন্সি দেওয়া হল একরকম তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই,বলা যায় মানসিকভাবে অপরিণত অবস্থায়। তারপরও ক্যাপ্টেন্সি করতে গিয়ে সাকিব হতাশ করেননি,বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জয়,জিম্বাবুয়ের সাথে তিনটা সিরিজ জয়,ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটা এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে একটা ওয়ানডে ম্যাচ জয়,নিউজিল্যান্ডকে ৪-0 তে হোয়াইট ওয়াশ এইসবগুলাই সাকিবের হাত ধরে। শুধু দুর্দান্ত ক্যাপ্টেন্সিই নয় প্রত্যেকটা সিরিজে সাকিব রান করেছে,উইকেট নিয়েছে।প্লেয়ার সাকিব আর তার ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে সাবেক কোচ সিডন্স আজকে এক সাক্ষাতকারে বলেছে দেখলামঃ "He is a great thinker, and is also the team's best and most-respected player, perfect credentials for a captain,he [Shakib] is the only person to lead the side," শুধু সিডন্স না বর্তমান কোচ স্টুয়ার্ট ল ও সাকিবকে সাপোর্ট দিয়েছেঃ "Captain and vice-captain are basically the leaders of the group. They have the respect of the players and they dish out their respect as well" তো যে ক্যাপ্টেনকে কোচ সাপোর্ট করে,প্লেয়ার রেসপেক্ট করে তাকে কেন সরানো হল? আবার যে জিম্বাবুয়ের কাছে হারার জন্য এতকিছু তারা কিন্তু পাকিস্তানের সাথে দুর্দান্ত খেলতেছে,তাই ওরা এখন আর হেলাফেলার মত দল নাই।
সুতরাং বোঝাই যায় যে সাকিবকে সরিয়ে দেওয়াটা পুরাই রাজনৈতিক! কালেরকন্ঠের মত কিছু পত্রিকা আর পটলমার্কা কিছু সাবেক খেলোয়ারের টিভি টকশোতে কূত্‍সা রটনা করেছে ঠিকই কিন্তু আসল কাজ করেছে বোর্ডের কিছু কর্তা আর হেড অব ডেলিগেশন ব্যাটার রিপোর্ট,যেই ব্যাটারে কোচ ড্রেসিংরুম থেকে বের করে দেওয়ার দোষ সাকিবের উপর চাপিয়েছে। এইসব মিডিয়া টক নিয়ে কোচ ল গতকাল মিডিয়ায় সামনে বলেনঃ "What you guys have been told and what isbeing reported is far from the truth about what's going on inside the dressing room. From what I'veseen, they are a very disciplined bunch of boys. They enjoy a good time and they're allowed to. We're dealing with very young men in that dressing room and they should be given their chance to grow up" মিডিয়ার সাথে ল এর বাতচিতের কিছু অংশের তর্জমা দেখেনঃ
কাল ল-র কথোপকথনে উত্তর মিলেছে বাতাসে ভেসে বেড়ানো আরও বেশ কিছু প্রশ্নের, দূর হয়েছে কিছুবিভ্রান্তি। জিম্বাবুয়ে সফরে হেড অব ডেলিগেশন শফিকুর রহমান মুন্না ও নির্বাচক হাবিবুল বাশারকে ড্রেসিংরুম থাকতে মানা করেছিলেন সাকিব—কিছু সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্রে এ ধারণা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু সাকিব দাবি করেছিলেন, তিনি বা তাঁর সতীর্থরা নন, নিষেধ করেছিলেন কোচ। ল নিজেও কাল মেনে নিলেন সাকিবের দাবি, ‘কোনো ক্রিকেটার কিন্তু আমাকে এসে বলেনি তাঁদের বের করে দিতে। আমিনিজেই সবকিছু খেয়াল করে ক্রিকেটারদের জিজ্ঞাসা করেছি। ওরা বলেছে, ‘‘হয়তো, হয়তো তাঁরা না থাকলে আমাদের জন্য ভালো হতেও পারে।’’ ওদের কেউ আমাকে এসে বলেছে, এটা মোটেও সত্য নয়।’
এ পদক্ষেপের পেছনে ল-র ব্যাখ্যাটাও যথেষ্ট যুক্তিসংগত, ‘দেখুন, আমি অনেক দিক থেকেই আলাদা। জীবনে এই প্রথম আমি দেখলাম হেড অব ডেলিগেশন এবং নির্বাচক ম্যাচের প্রতিটি অংশে, দিনের প্রতিটি মিনিট ড্রেসিংরুমে থাকছে। আমারজন্য এই অভিজ্ঞতা নতুন। তারা ড্রেসিংরুমে থাকলে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনোসমস্যা নেই। আমি ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথা ভেবেছি। ওদের ভালো ক্রিকেট খেলার পরিবেশ তৈরি করে দিতে চেয়েছি। ড্রেসিংরুম হলো খেলোয়াড়দের অভয়ারণ্যের মতো। নিজেদের নিয়ে, খেলা নিয়ে ভাবার জন্য, পরিকল্পনা করার জন্য সব খেলার খেলোয়াড়দেরই জায়গাদরকার।’
সাকিব-তামিমের সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক উষ্ণ নয়, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ভারী—কখনো অকাট্য প্রমাণ না পাওয়া গেলেও কীভাবে যেন বাংলাদেশে এসব ধারণা জনপ্রিয় হয়ে গেছে! সংক্ষিপ্ত সময়ে ল-রড্রেসিংরুম অভিজ্ঞতা কিন্তু অন্যকিছু বলছে, ‘আগে দেখা ড্রেসিংরুমের সঙ্গে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের কোনো পার্থক্য চোখে পড়েনি। অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ককে সতীর্থরা ওদের শ্রদ্ধা করে, ওরাও সতীর্থদের শ্রদ্ধা করে। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে যা এসেছে, এসব সত্যের ধারেকাছেও নেই। আমি যা দেখেছি, এই ছেলেরা দারুণ শৃঙ্খলাপরায়ণ।’
বিস্ময়টা তবু এই পর্যন্ত সীমিত ছিল। কোচের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করায় তামিম-শাহরিয়ারের জরিমানা করতেযাচ্ছে বোর্ড, এটা শুনে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লেন ল। শুরুতে তো বুঝতেই পারছিলেন না, ‘কী সেটা? আইহ্যাভ নো আইডিয়া! কেউ কিছু করেনি...আমি বুঝতে পারছি না...আমার সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছে, আমি তো জানি না!’"
আসলে আমরা আম পাবলিকও এক জটিল জিনিস,কারো বিরুদ্ধে একবার লাগলে হয়, সত্যাসত্য যাচাই না করেই তুলাধুনা শুরু করি! একবারের জন্যও মনে পড়ে না সাকিবের ক্যাপ্টেন্সিতে কতগুলা সিরিজ জিতেছি,সাকিব কতটা ভাল পারফর্ম্যান্স করেছে! আসলে যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা!!
সাকিবকে সরানো নিয়ে এত আফসোস করতাম না যদি দলে ক্যাপ্টেন্সি করার মত নির্ভরযোগ্য কেউ থাকত,আসলে কেউই নাই। মুশফিককে যদি বিবেচনা করাও যায় তবুও ওর মধ্যে ঐধরণের ব্যক্তিত্ব্য আছে বলে মনে হয় না,আর তাছাড়া ও যে বোর্ডের পুরো সাপোর্ট পাবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? সিডন্সের মতে আশরাফুল ছাড়া আর কেউ ক্যাপ্টেন্সি নিতে আগ্রহী হবে বলে মনে হয় নাঃ "Not one other player in the side apart from maybe Ash [Mohammad Ashraful] is willing totake it [captaincy] on.They know there is no support around them and they will beblamed for any results."
আপনারা কেউ কি আবার আশরাফুলকে ক্যাপ্টেন্সিতে দেখতে চান নাকি? ভয় লাগে বাংলাদেশ ক্রিকেট কি আবার পাকিস্তানের পথই ধরে নাকি!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:০৪
৩৭টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×