স্কুল জীবনে ক্লাস এইটে পড়ার সময় প্রথম বাড়ী থেকে একা একা চলাফেরা করার অনুমতি মেলে। এরপর গুলিস্তান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া হতো; এরপর বাসে করে যেখানে ইচ্ছে। এমনি একদিনে বাসের জানালা দিয়ে সেই বিখ্যাত “যুবক ভাইদের জন্য সুখবর” লিফলেট পাই। পাশেই বসা ছিলো এক কাজিন। সে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে।
এরপর জীবনে পরিচিত, স্বল্প-পরিচিত, অপরিচিত বহুজনের কাছ থেকেই এ সমস্যার কথা শুনতে পাই। ব্যাপারটা কেমন যেন পুরুষের জন্য লজ্জার আবরণে মোড়া। কেউ সরাসরি আলোচনা করতোনা; আভাসে ইঙ্গিতে।
সে রকম কয়েকটি ঘটনা, স্থান, কাল, নামগুলো পাল্টিয়ে:
১) নবীন যুবক তপু। স্বাস্থ্যবান, হাসিখুশী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যুথির সাথে প্রেম। অবস্থাপন্ন তপু দ্রুতই যুথিকে বিয়ে করে ফেলে। এরপরই পারিবারিক অশান্তি। তপু আবিষ্কার করে তার severe erectile dysfunction এর সমস্যা। এরপর বহু কবিরাজি...............অর্থহীন সময় আর অর্থের অপচয়।
২) জাহাঙ্গীর সাহেব। প্রথম জীবন দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত। এর মাঝেও এসেছিলো প্রেম। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত না হবার কারণে কনের অভিভাবকগণ বিয়েতে রাজী হলেননা। মনোকষ্টে বহু বছর কাটলো। অবশেষে বহু কষ্টে প্রায় চল্লিশ ছুই ছুই সময়ে জীবনে কিছু প্রতিষ্ঠা লাভ। অনেকটা মায়ের পীড়াপীড়িতে বিয়ে করেন সাতাশ বছরের ঝুমীকে। এরপরেই বুঝতে পারেন যে বেগবান ঝড় তার শরীরে একসময় ছিলো, তার গতি কালের বিবর্তনে আজ অনেকটাই স্তিমিত। বেগবতী স্রোতস্বিনীর সাথে পাল্লা দিতে তা অপারগ। এরপর যথারীতি প্রচুর হামদর্দ। কিন্তু হায় কিছুই যে কাজ করেনা!
৩) আজম সাহেবের বয়স যখন ৪৭ তখন তার ভার্সিটি জীবনের প্রেমিকা ও পরবর্তীতে স্ত্রী মুনা পরপারে চলে যান লিভার ক্যান্সারে। ঘটনা চক্রে একসময় বিয়ে করেন ত্রিশের কাছাকাছি দরিদ্র পরিবারের হাসিনাকে। দেখতে সুন্দরী না হওয়ায় আর বাবার টাকার জোর না থাকায় তার এতকাল বিয়ে হয়নি। আজম সাহেবের জানা ছিলো তার শরীর দুর্বল হয়ে এসেছে। নিজের জন্য তার তেমন দুঃখ নেই। জীবনে তিনি বহু কিছুই পেয়েছেন। তার আক্ষেপ তার নব বিবাহিতা স্ত্রীর জন্য। স্বামীর পরিবারে তার আর্থিক স্বাচ্ছল্য জুটলেও জীবনের এক মধুর আনন্দের স্বাদে সে অনেকাংশেই বন্চিত। আজম সাহেব বিত্তের জোরে মিটফোর্ডের গলি থেকে চড়া দামে ভারতীয় ভায়াগ্রা কিনেছিলেন একবার। খুলনা থেকে এসে তার পক্ষে সবসময় সে কাজ করা সম্ভব নয়। তার জিজ্ঞাসা বাংলাদেশে ভায়াগ্রা নিষিদ্ধ কেন?
৪) মাত্র উনিশ বছরে রুনিয়ার বিয়ে হয় এক ডাক্তার ছেলের সাথে। ঘটকালি করেছিলেন তারই খালু। সাত মাসের মাথায় বিবাহ বিচ্ছেদ। ছেলে impotent। ছেলে নাকি জানিয়েছিলো সে সত্যি সত্যি পুরোপুরি অক্ষম নয়। তার bio available testosterone level নাকি low। যাহোক যা হবার তা হয়েছে।
Erectile dysfunction এর ওপর হাজারো ওয়েব সাইটে যে পরিমাণ তথ্য রয়েছে তা প্রিন্ট করে বাইন্ড করলে গ্রে’জ অ্যানাটমীর চেয়েও মোটা ভলিউম হয়ে যাবে। এদেশে তার চিকিৎসা হচ্ছে কবিরাজি, হামদর্দ, Centrum vitamin, E-Cap, ব্যায়াম, দিনে দুটো করে ডিম, এক চামচ মধু আর প্রচুর দুধের পরামর্শ আর দুনিয়ার সর্বপ্রকার হাতুড়ে পদ্ধতি।
আমার কথা হচ্ছে এদেশে ভায়াগ্রা, লেভিট্রা, সিয়ালিস ইত্যাদি ওষুধগুলো নিষিদ্ধ কেন? সারা পৃথিবীতেই তা ছিলো এক জটিল সমস্যা। অবশেষে ফাইজার কোম্পানীর সিলডেনাফিল সাইট্রেট তথা ভায়াগ্রার মাধ্যমে এ ব্যাপারে সত্যিকারের অগ্রগতি আসে। যদিও ৩০% ক্ষেত্রে এগুলোও কাজ করেনা, সেক্ষেত্রে penile implant ছাড়া বিকল্প থাকেনা। সে অন্য ব্যাপার।
প্রবাসী বন্ধু ও আত্নীয়দের দু’একজন এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শমত এধরণের ওষুধ ব্যবহার করেন। তারা তেমন কোন side effect দেখতে পায়নি।
বিবাহিত জীবনের এক বড় সমস্যা এই erectile dysfunction। এমনকি কোন পুরুষ একাদিক্রমে ৯০ দিন তার দাম্পত্য কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করতে পারেন।
আমি ফাইজার কোম্পানীর কমিশন পাওয়া এজেন্ট নই। আমি যদ্দুর জানি ভায়াগ্রা জাতীয় ওষুধ গুলো স্বাস্থ্যসম্মত, আন্তর্জাতিক মানোত্তীর্ণ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও এর ব্যবহার রয়েছে। যদিও এর প্রকৃত মূল্য খুব চড়া কিন্তু ভারতের মত এদেশেও লাইসেন্সের মাধ্যমে উৎপাদন করলে দাম কমে আসতে পারে।
এক বন্ধু উঁচু পদে DG Health এর চাকুরে। তার কাছে শুনেছিলাম বাংলাদেশের ওষুধনীতি পুরোটাই চিকিৎসকদের পরামর্শমত হয়না। মাথামোটা রাজনীতিকগণ নাকি এখানেও মাথা ফাটান। তাই কাজের কাজ বিশেষ কিছু হয়না। যাহোক সে কথা।
বাংলাদেশের সরকার কি ভয় পান যে এদেশে ভায়াগ্রা জাতীয় ওষুধের প্রচলন হলে সমস্ত বাঙ্গালী পুরুগণ সব কাজ বাদ দিয়ে তাদের সঙ্গীণ উঁচিয়ে রাস্তাঘাটে যন্ত্রযোগের নিমিত্তে দাবড়ে বেড়াবে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

