আমার প্রিয় পোস্ট

দেখি তামাশা দেখাই

আমি নির্বাক হয়ে গেলে তাদের পতন অনিবার্য

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:২৬

শেয়ারঃ
0 0 0



দুরদর্শীরা যে কোন ব্যাপার আগেভাগেই টের পেয়ে যান এবং সেই ঈঙ্গিত প্রকাশ করেন তার কাজে, শিল্পকর্মে। যে কারনে সমকালীন সমালোচনা অনেকাংশে তার বিরুদ্ধেই যায়- যা পরবর্তীতে তার অনন্য কাজ হিসেবে স্বীকৃতও হয়। যা হোক, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কয়েক বছর আগে তেমনি একটি দুরদর্শী ম্যাসেজ দিয়েছিলেন 'ব্যাচেলর' চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্র হিসেবে এটি যথাযোগ্যতা অর্জন করুক বা বিতর্কিত থাক- এ ব্যাপারে আজ মাথা ঘামাবো না, এই রচনার উদ্দেশ্য ভিন্ন...
২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বা মোবাইল কোম্পানী কত ছিল? হাতেগোনা। এই সময়ে চারপাশে তাকালে কি দেখা যায়? আমিতো দেখি যে, পথচারীদের অনেকই তাদের মোবাইলটা এমনভাবে আগলে নিয়ে যায় যে বোধকরি একে বহন করে নিয়ে যাওয়াই তার মূল কর্ম! ফারুকী নতুন শতাব্দীর শরুর দিকে ভিজ্যুয়ালে এই প্রসঙ্গটির ভবিষ্যতবানী করেছিলেন তার সিনেমার মাধ্যমে। সত্য কথা, সে সময় এই বলে ব্যাচেলর নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল যে, মোবাইলে এত প্রেম/পরকীয়া করে কারা? এই প্রশ্নটা এখন আপনাকে করা হলে সঠিক জবাবটা নিশ্চয়ই দিতে পারবেন...
আমার বেশ অবাক লাগে মাঝরাতে। পড়াশুনার ফাকে বা একটু কম খরচে দুরের বন্ধুটির সাথে কুশলাদি বিনিময়ের সুযোগ আর পাইনা। কেননা আমার সাথে নিরস আলাপ করার চেয়ে সেই বন্ধুটি ব্যস্ত কোন মেয়ে বন্ধুর ফোনে 'ফাও গ্যাজানো'তে। যে মেয়েটির সঙ্গে হয়তো তার দেখাটিও নেই, যার নাম্বার সে নিয়েছে আরেকজনের কাছে চেয়ে, সেই মেয়েটিও বেশ জানে টাইম পাস ছাড়া আর কিছু নয়; তবু সারা রাত, দিনের পর দিন চলে এ খেলা, যতক্ষন না তারা নতুন কোন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে।
ঢাকা, বিভাগীয় অন্যান্য শহর, জেলা শহর, মফস্বল এমনকি গ্রামেও প্রসারিত হয়ে গেছে এ প্রবনতা। পরিবর্তনটা ক'দিনের?

আমি স্বীকার করতে কার্পন্য করছি না যে, মোবাইল যন্ত্রটা অনেক উপকারী, এর বদৌলতে গ্রামে বসে আমার মা জানতে পারছেন আমার সর্দির কি খবর, ফার্মগেটে জ্যামে আমি কতক্ষন আটকা ছিলাম কিংবা বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে আমি কোথায় নিঁখোজ হয়ে গেলাম নতুবা তিনি চাইলেই পান চিবুতে চিবুতে অফিস যাওয়ার পথে আমাকে শোনাতে পারছেন বাবার ছেলেমানুষীর গল্প ইত্যাদি ইত্যাদি...।
কিন্তু তবু দু:খ লাগে- যখন দেখি আমার বোনটি রাত জেগে কথা বলছে অজানা একটি ছেলের সঙ্গে, দিনে দিনে সে নিশাতুর হয়ে উঠছে, টেবিলে পাঠ্যবই তো দুরে থাক একটা উপন্যাস নিয়েও তার বসা হয়না। দেখি রাস্তায় হেঁটে চলা বালকের চোখে রাত জাগার ক্লান্তি, সেলফোনে কান চেপে থাকার অভ্যাসটা তার দীর্ঘতর হচ্ছেই, বানোয়াটা গালগল্প শেষে বিরস ভোর আসে, অনৈতিক ও অসামাজিক উচ্চারনে তার ঠোট-জিহ্বা আর বাধেনা, কবির নাম ভুল করে সে ওপর প্রান্তে পাঠাচ্ছে রোমান্টিক কবিতা, একই ব্যবহার ও উপলব্ধি সে একই রাতে শেয়ার করছে অন্য কোন নম্বরে, অন্য কোন মেয়ের সাথে...। কেন? উদ্দেশ্য কি? প্রেম? ভালোবাসা!

যারা সিরিয়াস প্রেম করছেন, করুন। কিন্তু আমার এই পর্যবেক্ষন একবার আপনার চোখ দিয়ে দেখুন, পরিষ্কার হয়ে যাবে সব।

লক্ষ্য করুন: ছাত্র সমাজে এ ব্যাপারটি দারুন জনপ্রিয় করে তুলেছে মোবাইল কোম্পানীগুলো। অপেক্ষাকৃত কম পয়সায় কথা বলার সর্বোচ্চ সুযোগটি আপনাকে দিতে তারা কোমর বেধে মাঠে নেমেছ। উদ্দেশ্য, ব্যবসা- সেবা নয়। এবং তারা সফল হয়েছে। তাই আরো গ্রেট অফার প্রতিদিনই আপনাকে চমকে দেয়...
এরা ধরেই নিয়েছে যে, এই দেশের ছেলেপুলেদের পড়াশুনার দরকার নেই, এরা শুধু রাত জেগে মোবাইলে কথা বলবে, এদের মাথা খাওয়া বেশ সোজা, এদের সৃজণশীল হওয়ার দরকার নেই, রাত জাগতে জাগতে আর মোবাইলে চাপা মেরে মেরে এরা সব্বাই বুদ্ধিজীবি ও মহা মনীষী হয়ে উঠবে। তাই আমরা প্রতিরাতে তাদের দেয়া সুযোগগুলোর সদ্ব্যাবহার করবো, প্রতিরাতে জড়িয়ে পড়বো নতুন প্রমে, নতুনজন যদিবা প্রতারিত করে হামেশাই আরেকটি নম্বর চেয়ে নেবো বন্ধুর কাছ থেকে। তবু কথা বলা থামানো যাবেনা, কথা আমাকে বলতেই হবে, কারণ আমি বাক স্বাধীনতা চেয়েছি, মোবাইল কোম্পানীগুলো সেই সুবিধা আমাকে দিচ্ছে, তারা এ স্বাধীনতা দিয়েছে কারন তারা বেশ ভালোভাবেই জানে- আমি নির্বাক হয়ে গেলেই তাদের পতন অনিবার্য...

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৩৭
মদন বলেছেন: সুন্দর লেখা
একমত
২. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৩৭
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: অংশত পর্যবেক্ষণ দোষে দুষ্ট।
৪. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪০
বায়েজীদ বলেছেন: শিরোনামটা চমৎকার হয়েছে। লেখাটাও ভাল।
৫. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪৩
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: মদন, বায়েজীদ ধন্যবাদ
৬. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪৪
কৌশিক আহমেদ বলেছেন: আপনার পর্যবেক্ষণের কত শতাংশ ছাত্ররা এমন কাজ করছে বাংলাদেশের সমগ্র ছাত্রসংখ্যা থেকে? কত শতাংশ ছাত্র এখনও মোবাইল ব্যবহার করতে পারছে - এ বিষয়টা।
৭. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৪৮
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: জরিপ জানি না। দু:খিত
৯. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ২:৫৬
প্রাকৃতজন বলেছেন: অলি, তোকে দেখেতো মনে হয়না এতো কিছু ভাবিস। লিখতে থাক, চিন্তা গুলো আরো পরিস্কার হবে। ভালো লেগেছে, লেখাটা।
১০. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:০৩
রিউ বলেছেন: ভাল পর্যেবক্ষণ। একমত।
১১. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩০
প্রশ্ন কত বলেছেন: আপনিও কি ওরকম ব্যবহারকারীদের দলে ? না হলে শিরোনামে ওরা না হয়ে আমি কেন ?
১২. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৯
অন্যরকম বলেছেন: .... রওয়ানা হয়ে আমি কোথায় নিঁখোজ হয়ে গেলাম নতুবা তিনি চাইলেই পান চিবুতে চিবুতে অফিস যাওয়ার পথে আমাকে শোনাতে পারছেন বাবার ছেলেমানুষীর গল্প ইত্যাদি ইত্যাদি...।
---অসাধারন হয়ছে!!! আমারও একই অবস্থা। বেশীরভাগ সময় মা-ই ফোনে কথা বলে। আর আমি মাঝে মাঝে হাঁ হু করি... কিছু প্রতিউততর দিই, আর আফসোস করি (আফসোস না স্বস্তি বুঝি না) তাদের দিকে তাকিয়ে যারা রাতের বড় একটা অংশ ফোনে এরকম কথা বলে... হাসি ঠাট্টা... ফিস ফাস করে। নিজেকে তখন রসকসহীন এক কাঠখোট্টা মানুষ মনে হয়।
৫চাইলাম

১৩. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:১৭
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: প্রাকৃতজন, আপনিও আমাকে নিয়ে এরকম ভাবেন জানতাম না।
১৪. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪১
মাথামোটা বলেছেন: না আপনেরে নিয়া ভাববো না আপনে তো চান্দের দেশের মানুষ!
তয় লেখাতে ৫ দিলাম।
১৫. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৩৩
রিজভী বলেছেন: জীবন থেকে নেয়া লেখাটার জন্য ৫।
১৬. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:৪৬
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: মাথামোটা ও রিজভীকে ধন্যবাদ
১৯. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ২:০৭
নাজিরুল হক বলেছেন: ৫ এর মধ্যে ৬ পাওয়ার যোগ্য লেখা।
আমার এক খালাতো ভাই মাসুম ক,দিন আগে একটা ঘটনা বললো, সে একটা নাম্বারে মিস কল দিয়েছিল, কিন্তু সেটা তার কাঙ্কিত নাম্বারে না গিয়ে অন্য কোন নাম্বারে দিয়েছে, আর সেটা ছিল একটা মেয়ের নাম্বার। মেয়েটা তো রাগে তর্জন গর্জন শুরু করলো ফোনে। মাসুম সরি বললো। অবাক করা কান্ড হলো পরদিন রাতে সে মেয়েটা তাকে ফোন করে বন্ধুত্ব করতে চাইলো। প্রায় ৬ মাস একজন আরেকজনকে না দেখে অন্য জগতে হারিয়ে ছিল.........
২০. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৩
ফিরোজ কবীর বলেছেন: মোবাইলে যোগাযোগ আছে এরকম বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আমার সখ্য আছে। তাদের সাথে আমার নৈতিক সম্পর্কই আছে, কিন্তু দেখা নেই কখনো। ভালো লেখা, গো এহেড মি. অলি
২১. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৫১
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: নাজিরুল, লেখা পড়ে আনন্দিত হয়েছেন জেনে ভালো লাগছে। আশপাশের ঘটনা ও বাস্তবতা থেকে লেখা। আমার প্রায়ই জানতে ইচ্ছে করে- মোবাইল যন্ত্রটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের জন্য ক্ষতিকারক কিনা?
২২. ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৭
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: দেখা না দেখা কোন প্রসঙ্গ নয়। সম্পর্কটা কতোটুকু নৈতিক বা জরুরী সেটাই বিচার করা ভালো...
২৩. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:০৮
মানবী বলেছেন: অচেনা বাংলাদেশ!

২৪. ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:১৭
জোনাকি বলেছেন: এই জন্যই তো আমি র্নিবাক হব না!
২৫. ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:২০
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: জোনাকি ও মানবী ভালো বলেছেন
২৬. ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৯
সারওয়ারচৌধুরী বলেছেন: ভালো লিখেছেন।
২৭. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:৩১
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: ভালো লিখেছি? অকপট স্বীকারোক্তি গৃহীত হলো।
২৮. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৪৯
আহমেদ ফারুক বলেছেন: অলি খুব খুব খুব সুন্দর লেখেছ
২৯. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৫১
সাইমুম বলেছেন: মোবাইল কোম্পানি বুঝি এই লেহা অহনও পড়ে নাই। পড়লে খবর আছে অলির!!!
৩০. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৪:২০
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: আহমেদ ফারুক, সিরিয়াসলি বলেছেন? সাইমুম, এভাবেই বলে থাকেন। ধন্যবাদ

 

মোট সময় লেগেছে ১.৩৬৯০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো
তার আকাশ কী আমার চে' বড়ো...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই