আমার প্রিয় পোস্ট

দেখি তামাশা দেখাই

জরুরী অবস্থায় প্রেম: ১

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:০৫

শেয়ারঃ
0 0 0

সেদিন মোমের খোঁজে, তাড়া এবং তাড়নার পায়ে
গিয়েছি তোমার মহল্লায়- ক'বছর পর আমি সহজাত ভুল
করলাম! মোম পেলাম না, পকেটে নরম অন্ধকার নিয়ে
আধমরা জোনাকির মতো সামান্য জ্বলেছি, নাকফুল...

ঢাকার সবার মতো তোমার আমার দরকার পড়েছিল একটু আলোর ছায়া;
তোমার দখলে ক'টা মোম ছিল সেই রাতে? জানছিনা, একটা মোমের দেখা পেলে- সে রাতে ওদিকে আমি আর যাই!
যদিবা গেলাম, কিন্তু কুয়াশা মোড়ানো চা দোকানে বৃথা বসি কেন?
না হয় বসেছি: সিগারেট ধরাতে গেলাম কোন দোষে;
ধূমপানতো রোজই করি- ধোঁয়া যে এতোটা ফেরাবে প্রেমেতে
পোড়া অধরের তা জানা ছিল না!

ঘরে ফিরে বুঝি- কৈশোরের রৌদ্রদিনগুলি আজ বেশ কাজে দিচ্ছে-
এই শীতরাতে আমাকে তফাৎ রেখে শুতে হয় কোল বালিশের বিছানায়, ভাবো, যে বছরে সিডরে আমার দেহ গেল একই বছরে শীতের তীব্রতা আমার দু'চোখ খেয়ে যাচ্ছে

আমি শুধু দাড়োয়ানের মতন পাহাড়া দিতেছি সমস্ত কুয়াশা

ফলে আমার সকল খিড়কি দরোজা বন্ধ, আমার পাঁজর দিয়ে
উদরপুর্তি করছে এ কুয়াশা;

আমি দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ক্রমে ছিটকে পড়ছি বন্ধুদের পাড়ায় পাড়ায়...

বড় নির্লজ্জের মতো আমি কুয়াশার সঙ্গে ঘুরছি ফিরছি- আর তা জেনে
ঈর্ষায় কাতরাচ্ছে আমার বয়স্কা প্রেমিকা সকল

তবু এই বাম অলিন্দের আত্নহত্যা বা আত্নত্যাগের কোনো
সুরতহাল রিপোর্ট থাকতে দেবো না-
সাংবাদিকের চরিত্রে তদন্ত কর্মকর্তার পাশে তুমি অযথা করো না ঘুরঘুর

সত্যি কথা, আমার উদ্যত বেঁচে থাকা কখনোবা লাউডগা
ঘাসের আদর হয়ে তোমাকে ডেকেছে! আর বিদ্যুতহীন রাতের গল্পে
কত শতবার আমি হতভম্ব ছাত্রের কাতারে তোমাদের মহল্লায় চলে গেছি,
চুমোর সাহসে!

আমি তবে কোথাও জাগ্রত ছিলাম না, তবু ঘুমের করাতে কেন
আমার দু'চোখ কেটে দেয়া হলো:

জরুরী অবস্থা এতোটা করুণ, শান্ত, দ্যাখ-
ম্রিয়মান অপমানে চলে যাচ্ছে যুগ;
ক্লান্ত চিৎকারের জবাবে, তাই
আমার তত্ত্বাবধানে একটা কিশোরী বনফুল জমা হলো- ত্রাণ তহবিলে...

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৫৫
ফয়সল বলেছেন: আমি সচরাচর কবিতা পড়িনা। এটা পড়লাম। ভাল লেগেছে (খুবই ভাল লেগেছে)। এরচে আর বেশি কিছু বলার নেই। আরও লিখুন।
৩. ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫১
রিজভী বলেছেন: আমি শুধু দাড়োয়ানের মতন পাহাড়া দিতেছি সমস্ত কুয়াশা

--- ক্যায়্যা লাইন হে বস্!

+
৪. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: ফয়সল +রহমান মাসুদ +রিজভী = ধন্যবাদ

৫. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
সুতরাং বলেছেন: কে বলে অলি বলে কেউ নেই? কবিতাটি ভালো লাগলো।
৬. ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:২৫
মাজুল হাসান বলেছেন: জরুরী অবস্থা এতোটা করুণ, শান্ত, দ্যাখ-
ম্রিয়মান অপমানে চলে যাচ্ছে যুগ;
ক্লান্ত চিৎকারের জবাবে, তাই
আমার তত্ত্বাবধানে একটা কিশোরী বনফুল জমা হলো- ত্রাণ তহবিলে...


এই অবস্থা কতদিন চলবে?
৭. ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৪:০৫
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: সুতরাং: মুখটা চেনা লাগছে...অনুমান সত্যি হলে জানাবেন।

মাজুল হাসান: আমারও একই প্রশ্ন ভাই...

দুজনকেই ধন্যবাদ
১০. ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:০০
অ রণ্য বলেছেন: উপর থেকে নীচ পুরো কবিতাটি পড়লাম
প্রথম পাঠে কবিতাটির নিচে বর্ণিত অংশটুকু পর্যন্ত আমাকে আটকে রাখল তারপরে আর বিন্দুমাত্র আটকে রাখতে পারেনি

একঘেয়েমিতে ভরে উঠেছি যত এগিয়ে গেছি.............কেন এমন হল??

কবিতাটি নিয়ে এখনও ভাবছি...........???



[[সেদিন মোমের খোঁজে, তাড়া এবং তাড়নার পায়ে
গিয়েছি তোমার মহল্লায়- ক'বছর পর আমি সহজাত ভুল
করলাম! মোম পেলাম না, পকেটে নরম অন্ধকার নিয়ে
আধমরা জোনাকির মতো সামান্য জ্বলেছি, নাকফুল...]]

এরপরে কি তবে কবিতার সেইরুপ বিকাশ হয়নি ?
নাকি এই শুরুটা থেকে কবিতা পাঠকের মনে যেভাবে বিকাশিত হতে চেয়েছিল
সেবাবে হয়নি বা অবকাশ তৈরী কার হয়নি বাকি অংশে ??

আর কবিতা শুরুর প্রক্রিয়া কিন্তু পাঠক মনেও তার নিজস্ব প্রক্রিয়া তৈরী করে
শুরুতেই ....

সময় নিয়ে ভাবব এবং আর কয়েখবার পঠনের আশায় থাকছি
তখন নাহয় আরও বিশদ কথা বলা যাবে

আপনার নিজস্ব মন্তব্যটা জানবার ইচ্ছেটাও পোষণ করছি............
১১. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৪
মুজিব মেহদী বলেছেন: প্রথম চার লাইনের পরে কবিতাটির বিকাশ অন্যরকম, একটু ঢিলে। কিন্তু ওখানেও একাধিক লাইন এসেছে চমৎকার।

এরকম হতে পারে।
১২. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: আপনার মন্তব্যের পর কবিতাটা ফের পড়লাম। একটা ধারাবাহিকতা নিশ্চয়ই আছে। চার লাইনের পড়ে এসে অসংলগ্ন হয়ে যাবার মতো ব্যাপার আছে কি? যদি পেয়ে থাকেন, সে ভিন্ন ব্যাপার, আমার ব্যর্থতা। হতে পারে, সেনা শাসনামলের বিদ্যুৎহীন বাস্তবতাকে ব্যক্তিগত প্রেমের দুঃসহবোধের সঙ্গে জড়াতে গিয়ে এমনটি ঘটেছে।

তবে ''সময় নিয়ে ভাবব এবং আর কয়েখবার পঠনের আশায় থাকছি
তখন নাহয় আরও বিশদ কথা বলা যাবে '' - এ কথা জেনে ভালো লাগছে । ধন্যবাদ।
১৩. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০০
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: মুজিব মেহদীঃ হা হা । সাহসী মন্তব্য । নমস্য।
১৪. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৭
অ রণ্য বলেছেন: না অসংলগ্ন বলা যাবেনা

আসলে কবিতার শুরুার একটা আলাদা প্রক্রিয়া থাকে বলে আমি মনে করি
তাছাড়া কবিতা এখন এতটাই উৎকর্ষতা পেয়েছে যে
একি কবিতায় পাঠক

নানাভাবে প্রক্রিয়ান্বিত হতে পারে........

আমার মন্তব্যটা ছিল এই যে উক্ত ৪ লাইনে পাঠক মনের প্রক্রিয়াটা পরবর্তীতে সেই অনুপাতে বিকাশ লাভ করেনি

বা বলা যায় কবিতাটি পূরণ করতে পারেনি

এটা ছিল পাঠক হিসেবে আমার নিজস্ব মতামত যা ভিন্ন ভিন্ন পাঠকে ভিন্ন হতে পারে.............
১৫. ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: ধন্যবাদ। গঠনমূলক মন্তব্য।
১৭. ১৯ শে মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫
সোমেশ্বর অলি বলেছেন: জ কোথায়, ভাই? ধন্যবাদ।
১৮. ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৪৫
আফরোজা সোমা বলেছেন: সেদিন মোমের খোঁজে, তাড়া এবং তাড়নার পায়ে
গিয়েছি তোমার মহল্লায়- ক'বছর পর আমি সহজাত ভুল
করলাম! মোম পেলাম না, পকেটে নরম অন্ধকার নিয়ে
আধমরা জোনাকির মতো সামান্য জ্বলেছি, নাকফুল...

.....খুবই ভালো লাগলো।
২১. ১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩
ঘোর-কলিযুগ বলেছেন: ''জরুরী অবস্থা এতোটা করুণ, শান্ত, দ্যাখ-
ম্রিয়মান অপমানে চলে যাচ্ছে যুগ;''---- এখন শোনা যাচ্ছে এই করুণ, শান্ত জরুরি অবস্থা চলে যাচ্ছে! কিন্তু রেখে যাচ্ছে কি?
১২ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৮

লেখক বলেছেন: ক্ষত ও ক্ষতি!

২২. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০১
আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেল বলেছেন: কবিতাটি তে আমি কোন প্রেম খুজে পাইনি, কিন্ত প্রগার মমতা ছিল সেখান

কি লাভ রে মামা?

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৮৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো
তার আকাশ কী আমার চে' বড়ো...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই