somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... স্নানঘর থেকে শুরু... কারণ ব্যাখ্যায় যেতে নেই
ব্যাখ্যা করতে গেলেই
পুরুষের প্রেম হয়ে যায়
কামরূপকামাখ্যা

দ্যাখ উলঙ্গ পুরুষে
শিল্প সভ্যতার কতো দাগ
নারী বিবস্ত্র হলেই বৃষ্টি আসে

পাতার পোষাক খুলে
নারী পড়লো জলের অন্তর্বাস
ঝড় কিংবা নাবিকের শ্বাসে
শুধুই এলিয়ে পড়ে ধ্বনি

পুরুষেরা পোশাকেও সমান সুন্দর
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
শার্টের কলার গোছাতে গোছাতে
কিংবা
বোতাম লাগাতে গিয়ে
তার নিজের পেছনে
একটা নারীর উপস্থিতি আশা করে

রমণী কোথাও বর্তমান নেই
কারণ সভ্যতা বলতে মানুষ
ইতিহাস বোঝে
পুরুষ লেখক
নারী মানে অতীতের কোনো ডোবা

ডোবার মলিন জলে
পুরুষের বহুরূপী ছায়া পড়ে
খাদ থেকে উঠে আসে আদিম জনতা

জলের নিকটে গিয়ে মনে করা ভালো
পূর্ববর্তী নটীদের মুখ
স্তনের গোপন গুহাছিদ্রে
যারা ধরেছিল পুঁজ

রূপসী নারীকে ক্ষমা করে দাও
আর প্রেমিকের কাঁধে তুলে দাও
পৃথিবীর সব জঞ্জাল

আছে প্রেমিকের বাহু প্রসারিত
ধরা দাও বিনোদিনী নষ্টা ও নন্দিতা

মিলনের ক্ষণটুকু শুধু মনে থাকে
মিলনের আগে পরে কেবল শৃঙ্গার
শৃঙ্গার জেনেছে বহুগামী রাস্তা ধরে
চলা আর চলা

পুরুষ গিয়েছে পৌঁছে
রণাঙ্গনে
নারী তাকে চুমো খেয়ে বলেছিল
বীর্যবান থাকো
যোদ্ধা হও

রক্তপাতের শুরু ও শেষে
চাই কোমল শুশ্রুষা
সেবিকার ভালো নাম নারী

পুরুষের জন্মান্ধ হওয়া আছে
যখন সে প্রেমিকের ভূমিকায়
অর্ধোলঙ্গ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
একা ও ভাবুক

কবির শিয়রে রাখো নাচের হাঙ্গামা

বিশুদ্ধ নর্তকী খোঁজে
বিদগ্ধ নটরাজের উন্মাদ আঙিনা
নর্তকীর পায়ে বাজে কোকিলার সুর

তেমন আদিম না হলে প্রেমের
সৌন্দর্য কোথায়
কেননা কামান্ধ না হলে চোখের
পরমায়ু কমে যায়

রাতের উরুতে ফোটে বেহায়া শর্বরী
ভোরের বাতাসে কাঁদে কুমারী শামুক

পুরুষ নারীকে সোহাগী নূপুরে বেঁধেছিল
পুরুষ দেখলো কলা
নারী শেকল ছেঁড়ার গান গেয়ে পাহাড়ে লুকায়

ক'মুঠো স্তনের বিশালতা
পাহাড় আঁড়াল করে আছে
পাহাড়ে বেড়াতে গেলে বাড়ে রমণেচ্ছা

যতোটা সমুদ্র দ্যাখ
ততোধিক নীলের ভাসান
কিশোরী কপোলে নাচে
অসম সাম্পান

ধরো নারী মানে
ভালো লাগার চিক্কন একটি মুহূর্ত
এই পাশে জল ওপাশে তরঙ্গ
নিচে ওপরে পিপাসা

তৃষ্ণার গভীরে গেলে
কামের ডায়েরি খুলে যায়
দীর্ঘ হতে থাকে পাঠের প্রক্রিয়া

যুবক ঢুকবে কেন জরাজীর্ণ গ্রন্থাগারে
তরুণী পুস্তকে সেতো নতজানু

পুরুষ উলঙ্গ হলে
পৃথিবীর সবক'টি নদী টলটলে
সব ধরনের ফল আপেল কমলালেবু

নারীকে ভাবতে হবে ফুল
নিজে সুবাসিত হবার আগেই
শুকে দেখুন পাপড়ি

সুগন্ধ ছড়ালে বোঝো
আশপাশে কোথাও চলছে
সহবাসের প্রস্তুতি

আকাশে তাকালে কেবল আকাশ
নারীতে মিশেছে সাহারা তাজমহল
নীলনদ আমাজন নিসর্গ ভূগোল

আজ কেন নগরের পর নগর বিলীন
পৃথিবীতে কেন ঈশ্বর বাঁচে না
এই রহস্য খুলতে পারে রমণীর নাভি

কতোটা গভীরে যেতে হয়
কেমন মধূতে স্নান করে সার্থক মৌমাছি
মানুষের জানা নেই

পুরুষ বোঝে না প্রেমিকার জল
যা প্রত্যহ ঝরে প্রতি মাসে ঝরে

দৃষ্টির সীমানা ভেঙে দূরে
হঠাৎ বিবর্ণ হয়ে যাওয়া দিগন্ত
তার নাম প্রেম
পুরুষের সাধ্য নেই ছুঁয়ে দ্যাখে
নারী অসহায়

প্রেমের বলিতে কাতর পৃথিবী
পুরুষাঙ্গ চুষে বাঁচে
পুরুষকে স্বার্থবান করে যায়

প্রেমিককে ভাবতে হয়েছে স্মৃতি
তাকে ভাঙতে দিও নদী
তীর ছাড়া সে হাঁটতে জানে বেশ
তীর ধরে যতবার গন্তব্য চেয়েছে
পেয়েছে সবই
হারিয়েছে ততোধিক

পুরুষের বাড়ি সেতো রমণীর ঘর

দীর্ঘ প্রণয়ের নাম করে
মানুষ শিখেছে ব্যথা পেতে
ব্যথা দিতে
পুরুষের বেদনা বুঝতে পারে কিনা কেউ

নারীর যাতনা হলো
রংধনুর নষ্ট সাত রং
নারী ডোম্বী
পুরুষের আছে কাপালিক ধ্যান

স্নানঘর থেকে আসে সাবানের ঘ্রাণ
স্নানঘর থেকে শুরু
কামের বাহানা

রন্ধনশালায় পোড়ে চুম্বনের ধোঁয়া
চুলার পাঁজর ভাঙে বাঁশির আগুন

ঘরে ফেরা মানে নারীর কোমরে ফেরা

ঘর ছেড়ে অজানায় চলে যেতে চেয়ে
কিংবা ফিরে আসার প্রান্তরে
উলঙ্গ বৃক্ষের মতো নারী
যোনিপথে ডাকে আর ডাকে

সেও তো পথের দিশা
যে গেছে সে যায় নাই
যে হারিয়েছে সে পেয়েছে কখনো




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28816122 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28816122 2008-07-02 17:16:54
পলায়নপর
আমি চাঁদের খোঁপায় ফুল গুঁজে,
সেই কবে ছেড়েছি গ্রামের বায়ু; তবে
এখানে বসেই খবর রাখছি: কিশোরের হাত ধরে
ঘর পালানো রমণী- দুধের সন্তান তার কাঁদছে কাঁদছে-
স্বামী তার হতভাগা- গলা দিয়ে নামছে না ভাত...

পলাতক কিশোরের কী খবর? কমলালেবু, আপেল তাকে
কতভাবে ডেকেছিল।
গুহাবাসী হয়ে সেই স্বাদ পেতে পেতে তবে একঘেয়ে লাগে?

ঘর পালানো রমনী খোঁজে প্রিয় গৃহের ব্যাঞ্জনা, কিন্তু
খুলে যাওয়া খোঁপার সৌজন্যে আমাকে ডাকছে না সেই চাঁদ
আমি কিশোরের মতো পালিয়ে বেড়িয়ে বাঁচি-

চাঁদ কিংবা মোহন রমণী
কেবল একবারই পালাতে সাহায্য করে?

রমণী কবজা করে রাখে কিশোরের অগোছালো চুল,
চাঁদের খোঁপাটি বেঁধে দিতে
আমি ফের পালাতে পারি না নদীতীরে...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28804466 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28804466 2008-05-30 13:39:38
সৌন্দর্যকে নেড়েচেড়ে দেখতে গেলেই বিপত্তি...
তবু, কোনো কারণ নেই, মিছেমিছিই, আমার খালি মনে হয়, এমন অনেকদিন গেছে- আমি ভেবে কূলকিনারা করতে পারিনি- শুধু মনে হতে থাকে, মনে হ-তে-ই থাকে, সুর্যোদয়ের তীব্রতার সঙ্গে, জ্যাম দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে, মুখে গ্রাস তোলার কালে, এমনকি হোঁচট খাওয়ার সময়, যেন মনে হওয়াটা কোনো পাপ নয়, বিরাট পুণ্যি, মনে হলেই লাভ, জীবনের সার্থকতা, মনে না হলেই যেন সবকিছু অলৌকিক হয়ে যাবে, আমার কোনো উপায় থাকবে না, মনে না হলে যেন অন্ধ গলি ধরে ঘরে ফেরা অসম্ভব হবে, দ্রুত বেড়ে যাবে চুলের খুশকি, মরে যাবে নখের সৌন্দর্য, বুঝি অর্থহীন হয়ে পড়বে এ স্ট্রাগল, স্বার্থপরের মতো দ্রুত নাগরিক হতে চাওয়া মনের কূটচাল ব্যর্থ হবে, শুধু মনে না হলে;

তাই মনে হওয়া ভালো, আমার খালি মনে হয় সে থাকে এই শহরে, এই শহরের একদম শেষ বাড়িটিতে তার বাস...

সত্যি? বুঝিবা ওখানেই তার থাকার কথা, ওখানে ছাড়া তাকে আর কোথায় মানাবে পৃথিবীর? ওখানেই সে যুৎসই আছে; ভাবি, শহরের এক্কেবারে প্রান্তে- যেখানে কেবল গ্রামের সুচনা, শহর আর গ্রামের ব্যবধান রেখা বলতে একটা পুরনো মাঠ, শিশির-দগ্ধতা নিয়ে ঘাসেরা বেঁচে রয়েছে, ঐতিহাসিক মসজিদ-মন্দির আর প্রত্ন শিল্পের বিরাট সে অঞ্চল, ভূগোলের সবচেয়ে উজ্জ্বল সেই মাটি, সেখানে সে বাড়ি করে আছে বহুদিন-

সে কি একলা থাকে? তা কি হয়? পৃথিবী কত নির্মম হয়েছে... মানুষের মৃত্যুর পেছনে এখনো মানুষই দায়ী, বাঘ-টাঘ আসলে এত ভয়ংকর নয়, বোধ করি, ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে তবু পশুবৃত্তি বেড়েছে কোনো সুত্রে!

আরো মনে হয়, সে এমন এক নৃত্যের মুদ্রা জানে, আমি তার খোঁজ পাইনি কোনো বইয়ে, আমি দীনহীন, সে দাঁড়িয়ে আছে, কোনোদিন আমার পা পড়েনি এমন এক নিষ্ফলা আঙিনায়, তবে কে জেনেছে তার নিভৃতবাসের গল্প, তার দুধফর্সা হাতের ইশারা; সে জনকে আমি প্রতিদ্বন্দ্বী মানি, তার সব রাশিফল বৃথা হোক, সে আঁস্তাকুড়ে যাবে, যেমন আমি গেছি; অবশ্য আমার এখনো যাওয়া হয়নি পুরোপুরি, যাত্রার শেষ পথে আছি, সেই লোক আমার ঠিক এক মুহুর্ত আগে পৌঁছে যাবে গোল্লায়; আমি তাকে আশিস করছি, অবশ্য এরই মধ্যে আমি চাইব সেই দুধফর্সা হাতের ইশারা, নিভৃতবাসের গল্প যদি সে জন ভুলে যায়, চিরতরে, আর কখনো যদি তার মনে না পড়ে শহরের শেষ বাড়ির প্রসঙ্গ, তবে, আমি তার প্রভাবক হবো- স্রষ্টা তাকে রক্ষা করুন...
তবু কোনোদিন, ওই বাড়িতে আমার যাওয়া হবে কিনা, আমার তাও মনে হয় না, কেন মনে হয় না কে জানে, আমি তবে রহস্য ভালোবাসি!
যেন ও বাড়িতে গেলে সব চমকের অবসান ঘটবে, তার মুখোমুখি হলে বুঝি থেমে যাবে চেনা নদীটির চলাচল, ফুসফুসে হাওয়া থাকবে না,
দেখা হলেই সব প্রত্ন শিল্প বিলীন হবে পম্পেই নগরীর মতো, তা-র-প-র অনেক অনেক যুগ পর সে আবিষ্কৃত হবে একদল শিল্পীর গবেষণায়, সে তখন মুর্তি, উলঙ্গ সৌন্দর্য তাকে দেবী করেছে, আমি চাই না সে দেবী হোক; বরং সে যেভাবে আছে তেমনি থাক, আমার অদেখা থেকে যাক, সাক্ষাতে পাওয়ার চেয়ে তাকে উঁকিতে দেখে যাব, যদি কোনোদিন ওপথে হেঁটে যাই, তবে, উঁকি দিয়ে দেখে যাব;

কারণ, আমি জানি, মানুষ মাত্রই উপলব্ধি করার কথা যে, সৌন্দর্যকে নেড়েচেড়ে দেখতে গেলেই বিপত্তি, সামান্য উঁকিতে তাকে দেখে নেয়া ভালো...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28799038 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28799038 2008-05-17 18:33:35
নিজের মৃত্যুতে নিজেকে কাঁদতে নেই... নিজের শোকসভায় গিয়ে দেখি সবাই হাসছে।

যার সঙ্গে হ্যাণ্ডশেক করিনি কখনো
তার হাতে আমার কবিতা-
কতোটা আবেগ আর কবির প্রয়াণব্যথা নিয়ে
কবিতাটিও হয়েছে প্রদর্শণীর বিষয়...

সত্যি,
আমি সবাইকে উৎসবের উঠোনে দেখতে চেয়েছি
আমার সামান্য মৃত্যু তোমাদের সাক্ষাতের শ্রেষ্ঠ
উপলক্ষ হলে- এ স্মরণসভারও হবে অন্য তরজমা...

মৃত্যু একটা গুরুগম্ভীর ব্যাপার
নিজের মৃত্যুতে নিজেকে কাঁদতে নেই
দ্যাখ,
আমি মুখ কালো করে আছি...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28792092 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28792092 2008-04-28 12:56:08
এ্যাশট্রের আয়ু নিয়ে কৌতুক করছে মুহুর্তের সিগারেট
আর
আমার বিরান হয়ে আসা নখ
তার ত্রিসীমা পেরিয়ে অরণ্যের শুরু
তারপর নদী, তারপর খোলা মাঠ, তারপর
কিছু নেই যেখানে সেখানে শুয়ে
প্রহর গুণছে আমার আকাশ;
কতকাল তার ছায়া পড়ছে না
এই নখের সমুদ্রে, আমি
শীতার্ত বাঘের চরিত্রে নিস্তেজ
থাবা নিয়ে একা-

স্টেশনের শেষ ট্রেনের বাঁশিতে
আমার অনেক ভয়
একদিন,
কোনো এক অন্ধকার যুগে
আলো বলতে মানুষ
যখন কেবল চোখকে বুঝতো
যে সময়ে খেঁকশিয়ালরা এতো
ক্ষুধার্ত ছিল না, সশস্ত্র ছিল না
সেইসব দিনে,
আমি প্রাণ দিয়েছি ট্রেনের তলে-
ভাবা যায়, আমার সকল আত্মা
মৃত-
শুধু যুদ্ধবাজ দেহ নিয়ে কোনো মতে
বেঁচে আছি
পোটলা হারানো টোকাইর মতো-

তাই এই বাঁশি
এই পাতা ঝরা সুর
আর দেহের ঘর্মাক্ত হাসি
আর আঙুলের পরমায়ু
এবং নখের ঐতিহ্য ও বিনাশ
শেষাবধি একাকার হয়ে যাচ্ছে
সমস্থ চৈতন্যে-

এদিকে কুয়াশা যেভাবে রয়েছে
সেইভাবে, একদিন
আমি ও বিধাতা- বিধাতা ও আমি
খোলা পায়ে,
শীতের অতিথি হয়ে গেছি
পৌষের গ্রামের বাড়ি;
শীতের বিরাট সুনাম যে,
তিনি পর্দাশীলা ঋতু
তার রসালো কেচ্ছার কথা মানুষমাত্রই জানে-
অন্যদিকে, অথর্বের মতো
নগরীর ফুটপাথে দাঁড়িয়ে দেখেছি
শীতের পিঠার নির্মাণ কৌশল
(এ সময় আমার সহিত ঈশ্বর ছিলনা)
শিল্পী রমনীর অগ্নিগর্ভ চোখ দেখে
এবার আমার নখ
খামছে ধরছে
ভাপা পিঠার মতন অবিকল
কিছু হৃদপিণ্ড:
ফলে আকাশ যেনবা
দুরের নক্ষত্র; তার কোন কর্ম নেই
শুধু আলোর গরিমা ছাড়া
ঝিকিমিকি ছাড়া কিছু নেই
আর ছায়া ছাড়া
নিজের উত্থান নেই কোনো,
তাই নক্ষত্র না
আয়াসে আমার নখের গভীরে
ঢুকে যাচ্ছে
ঢুকে যাচ্ছে শত কোটি বস্তি
শত সহস্র সভ্যতা
ও দুর্ভিক্ষ
এবং স্বাধীনতা-

এই দিনে
প্রসঙ্গত: বলে রাখি
অতিথি পাখির সঙ্গে
প্রতিদিন ডানা মেলে
এই আমি গুলিবিদ্ধ হতে আছি
তোমাদের হাওড়ে-বাওড়ে;
একদিন-
চেয়েছি আমার মৃত্যু হবে
বজ্রপাতে,
তীব্র বজ্রপাতে আমার প্রয়াণ হোক
এ প্রার্থনা জানিয়েছি
প্রকৃতিকে-
আমি চেয়েছি এমন
সাদামাটা মৃত্যু
যাতে যমদূতের সহিত
কোনো জবাবদিহিতা
থাকবে না-
তা আমার না পছন্দ;
এমন বিবেচনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে
ঝাঁঝড়া হওয়া মন্দ নয়
বরং অত্যধিক ভালো এই হঠাৎ প্রস্থান
(সর্বোপরি, প্রস্তুতিমুলক মৃত্যু নিয়ে আমার ধারণা খুব কম)

পাশাপাশি
তীব্র কুয়াশায় শীতকালীন সংসদ
অধিবেশন এবার বসছে না
জেনে,
আমার আনন্দ;
খবরে প্রকাশ,
সুদক্ষ ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে গেছেন স্পিকার
আর মন্ত্রী-এমপিরা
(যার কুয়াশা বলতে দশজন কুমারীকে বোঝে)
চরম দুর্ভোগে পড়েছেন
রীতিমতো আগুন পোহানো যাচ্ছেনা বিধায়-

সত্যি, সাংসদদের মতন
শীত কালে মানুষকে বড় মেকি লাগে
এ সময় তার মগজে ও গায়ে
এক ধরনের আরোপিত ভঙ্গি চলে আসে
যেন তারা প্রফেশনাল মডেল
অথবা চরম দু:খি- যেন
তারা সকলে শুক্কুর আলী,
খালি গায়ে হাওয়া লাগলে
কাঁপতে থাকবে, কাঁশতে থাকবে
তারপর মরে যাবে-

ভাবো,
বৃক্ষেরা যখন পাতার পোষাক
খুলে,
পুরোপুরি আদিম হয়েছে; এ সময়
মানুষ কেবল গরম পোষাক পড়ে
জানাতে চাইছে,
সে উলঙ্গ ছিলনা কখনো, কোনোদিন
বড় কথা,
গত চৈত্রের উত্তাপ আর
তার মনে থাকছে না,
থাকবে কী;
পোষাকের ওপর পোষাক চাপানোর ফলে
এই শীতে,
মানুষকে আর মানুষ লাগেনা...

তাই মৃদুমন্দ এই বেঁচে থাকা-
আর তাই এ্যাশট্রের আয়ু নিয়ে
কৌতুক করছে মুহুর্তের সিগারেট;
আর ছাই,
ধোঁয়া এবং কুয়াশার নামে
বলি করছে অনেক সন্ধ্যা
আর শীতের অরণ্য
আর আলোর সামান্য মুখ
এবং সৌন্দর্যের নখ
আর...
















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28783249 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28783249 2008-03-28 18:53:39
জরুরী অবস্থায় প্রেম: ১ গিয়েছি তোমার মহল্লায়- ক'বছর পর আমি সহজাত ভুল
করলাম! মোম পেলাম না, পকেটে নরম অন্ধকার নিয়ে
আধমরা জোনাকির মতো সামান্য জ্বলেছি, নাকফুল...

ঢাকার সবার মতো তোমার আমার দরকার পড়েছিল একটু আলোর ছায়া;
তোমার দখলে ক'টা মোম ছিল সেই রাতে? জানছিনা, একটা মোমের দেখা পেলে- সে রাতে ওদিকে আমি আর যাই!
যদিবা গেলাম, কিন্তু কুয়াশা মোড়ানো চা দোকানে বৃথা বসি কেন?
না হয় বসেছি: সিগারেট ধরাতে গেলাম কোন দোষে;
ধূমপানতো রোজই করি- ধোঁয়া যে এতোটা ফেরাবে প্রেমেতে
পোড়া অধরের তা জানা ছিল না!

ঘরে ফিরে বুঝি- কৈশোরের রৌদ্রদিনগুলি আজ বেশ কাজে দিচ্ছে-
এই শীতরাতে আমাকে তফাৎ রেখে শুতে হয় কোল বালিশের বিছানায়, ভাবো, যে বছরে সিডরে আমার দেহ গেল একই বছরে শীতের তীব্রতা আমার দু'চোখ খেয়ে যাচ্ছে

আমি শুধু দাড়োয়ানের মতন পাহাড়া দিতেছি সমস্ত কুয়াশা

ফলে আমার সকল খিড়কি দরোজা বন্ধ, আমার পাঁজর দিয়ে
উদরপুর্তি করছে এ কুয়াশা;

আমি দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ক্রমে ছিটকে পড়ছি বন্ধুদের পাড়ায় পাড়ায়...

বড় নির্লজ্জের মতো আমি কুয়াশার সঙ্গে ঘুরছি ফিরছি- আর তা জেনে
ঈর্ষায় কাতরাচ্ছে আমার বয়স্কা প্রেমিকা সকল

তবু এই বাম অলিন্দের আত্নহত্যা বা আত্নত্যাগের কোনো
সুরতহাল রিপোর্ট থাকতে দেবো না-
সাংবাদিকের চরিত্রে তদন্ত কর্মকর্তার পাশে তুমি অযথা করো না ঘুরঘুর

সত্যি কথা, আমার উদ্যত বেঁচে থাকা কখনোবা লাউডগা
ঘাসের আদর হয়ে তোমাকে ডেকেছে! আর বিদ্যুতহীন রাতের গল্পে
কত শতবার আমি হতভম্ব ছাত্রের কাতারে তোমাদের মহল্লায় চলে গেছি,
চুমোর সাহসে!

আমি তবে কোথাও জাগ্রত ছিলাম না, তবু ঘুমের করাতে কেন
আমার দু'চোখ কেটে দেয়া হলো:

জরুরী অবস্থা এতোটা করুণ, শান্ত, দ্যাখ-
ম্রিয়মান অপমানে চলে যাচ্ছে যুগ;
ক্লান্ত চিৎকারের জবাবে, তাই
আমার তত্ত্বাবধানে একটা কিশোরী বনফুল জমা হলো- ত্রাণ তহবিলে...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28770203 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28770203 2008-02-14 00:05:12
আকুপাকু/ উঁকিজুকি/ এলেবেলে গান আমি বন্ধু বাদুড়ঝোলা মেঘের ডাল-পালায়
আকুপাকু আকুপাকু শহুরে হাওয়ায়
এখানে বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা শুন্য শতকরায়
যদিবা বৃষ্টি আসে রাস্তাগুলো নদী হয়ে যায়
আমার ঘরে ফেরা বন্ধু মুখ থুবড়ে হায়।।

আজ নদীগুলো দিশেহারা বৃষ্টি শুন্যতায়
আমি অন্ধ জীবনানন্দ ধানসিড়ি মোহনায়
উঁকিজুকি উঁকিজুকি নগর সভ্যতায়
এখানে চিঠি পাবার নিশ্চয়তা শুন্য শতকরায়
যদিবা চিঠি আসে শব্দগুলো চুরি হয়ে যায়
আমার লেখাজোখা বন্ধু চোখ পাল্টি খায়।।

কালো কাক মরে গেলে কার কিবা আসে যায়
আমি তবু বৃক্ষপ্রেমিক পাতাহীন গাছটায়
এলেবেলে এলেবেলে ধুলির ঝরনায়
এখানে মুক্ত পাখির ওড়াওড়ি শুন্য শতকরায়
যদিবা পাখি ডাকে গানগুলো ম্লান হয়ে যায়
আমার ভালোবাসা বন্ধু ভুল বালিকা চায়।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28766048 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28766048 2008-02-01 13:41:32
বন্দি কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমান/ আমি তবে মুক্ত বিহঙ্গের মতো তত্বাবধায়ক আকশে...
২.
ঘুম ভাঙার কারন দাড় করাতে গিয়ে অবেচেতন মন চলে গেল হাসপাতালে শায়িত রক্তরোগে আক্রান্ত কিশোর ভাতিজার কাছে। তক্ষুনি খোজ নিয়ে জানলাম ও ঠিক আছে। তবে কার জন্য আমার ঘুম ভেঙে গেল এ কুয়াশার নির্বোধ রাতে? এবং আচমকা অন্ধকারে ১২ বছর বয়সী আমার ভাতিজার অসুখী মুখটি সরিয়ে দিয়ে হাজির হলো আরিফ, কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমান! কতোদিন আয়নায় মুখ দেখেনি ছেলেটা...

৩.
বাতিটা জ্বেলে দিই। আরিফ চলে গেছে। আশ্চর্য, আজ কতোদিন হলো- আমরা বন্ধুরা ওর প্রসঙ্গই তুলছিনা। কোনো আড্ডাতেই ঢুকতে সাহস পাচ্ছেনা নাকি ছেলেটা? আমরা দিন দিন ওকে এতটা অস্পৃশ্য অবস্থায় নিয়ে গেছি যে আরিফের উপস্থিতি আমাদের দু:স্বপ্নের মধ্যেও নেই। আচ্ছা ওর কি জেল জরিমানা কিছু হলো? নাকি হাজতবাসেই কাটাতে হবে পুরোটা জীবন? ওর অপরাধের মানদন্ড ধরে শাস্তির তীব্রতা কতোটা ভয়ংকর হতে পারে? ধরলাম, একদিন কারাগার থেকে বেরিয়ে এলো- তবু ও কি পারবে কোনো দৈনিকে নতুন করে কন্ট্রিবিউট শুরু করতে? ধর্মীয় অনুভুতিশীল বন্ধুরা ওকে ডাকবে তো আগের মতো আড্ডায়! এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারছে না কোনো সংবাদ মাধ্যম। অথচ দ্যাখ, প্রথম আলো ৯ বছর পেরিয়ে ১০ বছরে পা দিয়ে সপ্তাহব্যাপী অবাধ উত্থানকাহিনী ছাপলো। বিলবোর্ড,রেডিও,টিভিতে প্রথম আলোর এত গুনগান দেখে আমারও খারাপ লাগেনি। কেন? এখন লাগছে, হারিয়ে যাওয়া আরিফের মুখটা আমার শেষ রাতের ক্লান্তিকে চেপে ধরেছে বলে। আমার বোধ হচ্ছে- প্রথম আলোর পাহাড় সমান সফলতা-জনপ্রিয়তার আড়ালে একটি সত্য ও বস্তুনিষ্ট, পাঠকপ্রিয় সংবাদ ঢেকে দেয়া হয়েছে। সত্যি ও নির্মম ব্যপার যে, আরিফুর রহমানের জন্য প্রথম আলো একবার অন্তত একবার মাটিলেপা হয়েছিল। এ খবরটা ধরেই আরিফের প্রতিপক্ষে দাড়িয়ে, আগের মতো একটা সাহসী সম্পাদকীয় লিখতে পারতেনর মি. মতিউর রহমান। তবে আমি, আরিফুর রহমানের সহমর্মী হিসেবে, আজ, এই ভরা মজলিশে এতগুলো প্রশ্ন তুলতাম না, সত্যি...

৪.
''চলতে চলতে অনেকটা পথ চলে এলাম
বলতে বলতে অনেক কথা বলে গেলাম
প্রভু, আখের রসে আরেকটু মিষ্টি দিও...''
(সঞ্জীব চৌধুরীর গান)

বন্ধ করে দিলাম ক্যাসেট প্লেয়ার। এত ভাবনার ভিড়ে, শেষ রাতে গানের ভারি কথা আজ আমি বইবার যোগ্য নই। এই ভালো নিকোটিনে ভেসে যাচ্ছে আমার ঘর। একটু পরেই বাইরে গিয়ে কুয়াশায় দাড়ালাম, আহ। আরিফ, চলে আয়, দেখে যা কি মিষ্টি কুয়াশা নেমেছে আমার জন্য, হতভাগা। আমি চাইলেই এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে উড়তে পারি তত্বাবধায়ক আকাশে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28751751 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28751751 2007-12-15 19:38:34
প্রিয় অতিথি পাখি, এখানেই থাকো/ মাঝে মাঝে বেড়াতে যেও নিজের দেশে...অথবা পাখি সব করে রব তবু। এতো দুর্যোগ, দুর্দশা, দুর্মূল্য ও সুবিধাবঞ্চিত থেকেও আমাদের অনেকেই কেদে ওঠে পাখির মৃতদেহ দেখে, তাই সঙ্গিনীর খাবার আনতে গিয়ে নিখোজ পাখির জন্য আমাদের উদ্বেগ দীর্ঘতর হয়। এ দেশের হাওরে-বাওড়ে, বনবাদাড়ে ও কারো বাড়ির নিরাপদ প্রশ্রয়ে বাসা বাধে পাখি। আমরা অতিথি পাখির জন্য উদ্যোগ নিই নিরাপদ কৃত্রিম আবাসস্থলের। সত্যি ও আনন্দদায়ক ব্যাপার যে, শীতে এখানে বেড়াতে এসে কিছু পাখি আর ফেরে না নিজ দেশে, এরা স্থায়ী জীবন সূচনা করে এসব আবাসস্থলেই। ফলে আমাদের পাখিমেলা বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা হয়। পাখি নিধনের বিরুদ্ধে তাই আমরা ক্যাম্পেইন করি। শুধু পাখির ভবিষ্যৎ ভেবে, তাদের নিরাপত্তার বিবেচনা করে আমাদের আছে বার্ড ক্লাব, বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন, পাখি সংরক্ষণ কমিটি, পর্যটন কেন্দ্র, পাখির অভয়ারণ্য, পচামারিয়ার মতো পাখি গ্রাম, পাখি শুমারি, সুনামগঞ্জের ১৩১টি হাওর ছাড়াও সারা দেশের অসংখ্য জলাশয় ও বনবাদাড়, সর্বোপরি আছে পাখিকে ভালোবেসে দায়িত্ববান হওয়ার সরল-সবুজ মন। অতঃপর আমাদের কাছে খবর আসেÑ উপকূলীয় ও জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার দেশের ৪ স্থানে কোস্টার অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে; এ পর্যন্ত হাকালুকিতে বিলুপ্ত ৪ প্রজাতির ৪টি বুলুয়া পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে এবং প্রজননের মাধ্যমে এর বংশ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হচ্ছে; হাকালুকিতে এবার দেড়শ হাজার অতিথি পাখির আগমন ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। পাখির পক্ষে, অতিথি পাখির জন্য, নান্দনিকতার প্রয়োজনে এতোসব উদ্যোগ-ভালোবাসার নিশ্চয়ই একটা সুন্দর ফলাফল দাড়াবে। নিরাপদ ও উপযোগী আবাস নিশ্চিত করে, সঠিক আতিথেয়তার কথা বলে নিচু স্বরে আমরা তাই বলতেই পারিÑ প্রিয় অতিথি পাখি, এখানেই থেকে যাও, বরং মাঝে মাঝে বেড়াতে যেও নিজের দেশে...। ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28750030 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28750030 2007-12-07 19:11:52 অকৃতকার্য পৃষ্ঠায় শুন্যের বদলে: সোমেশ্বর অলি আমাকে খুঁজতে গ্রামে যাবে না কখনো।

অকৃতকার্য পৃষ্ঠায় শুন্যের বদলে, তুমি
একটা ঘুড়ির লেজ এঁকে দিও-
লাল কালির কলমে...

খাতাটা পৌঁছাবে কিনা মঙ্গার আগের দিন?

ডাকপিয়নকে বলা আছে বিস্তারিত;
যেন আমার নামের বানান লিখোনা
ভুলভাল...

শুনেছি দুর্ভিক্ষ শুরুর আগেই ঘটে ফল বিপর্যয়-
সেই ভালো; পরিক্ষা দেবার নামে ঘর ফাঁকি দিয়ে
কালো কালিতে লিখতে বিশ্রী লাগে, বারবার

এই শেষ। তোমার অজান্তে এবার খাতায়
সবুজ কালিতে এঁকেছি ঘুড়ির ডানা, ঘুড়ি
আঁকতে গিয়েই পড়েছি বিপদে-
লাল কালি শেষ!

তাই অকৃতকার্য পৃষ্ঠায় তুমি শুন্যের বদলে
ঘুড়িটার লেজ এঁকে দিও লাল কালির কলমে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28749220 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28749220 2007-12-03 22:16:29
তর্জনি ও অন্যান্য আঙুল কালচার: সোমেশ্বর অলি এই আঙুল পোড়ানো ছাইদিনে, নখের অথর্ব মহাকালে
গোলাপ যেভাবে চেয়ে আছে, সেইভাবে,একটা ভাবনা
পাপড়ি ছড়াচ্ছে, সেই ব্যথা টের পাচ্ছি সমস্থ আঙুলে,
কেন? আমার এতোযে প্রত্যঙ্গ রয়েছে,এতো প্রসঙ্গ বেড়াচ্ছি
কাঁধে নিয়ে-কোনখানে নয়-কেবল আঙুলে এমনটা ঘটে
যাচ্ছে, বীভ্তস্যভাবে ঘটে যাচ্ছে, অতর্কিত হামলার মতো;

এই হেতু মনে করা ভালো কী এমন তবে ছঁয়েছি আঙুলে,
কী ব্যাপার ঘটেছিলো ফুলে ও আঙুলে, দুই জনের ইশারা
একক বিন্দুতে মিলেছিলো কিনা, দুই বিপরীত লিঙ্গীয় প্রানের
মৈথুন কতোটা দীর্ঘতম সন্তুষ্টির সেতু এবং সম্ভাবনার জল
ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাঁটুর প্রশান্তি, কোমরের দেনা, আঙুলের
ব্যবহার স্পষ্ট করেছিলো, সেই কথা মনে তুলে রাখা শ্রেয়!


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28739008 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28739008 2007-10-22 13:36:52
আমার দুই চোখে পর্দাশীলা রিপানা/ দুই কানে অনিতার উলুধ্বনি অনিতা। নিতান্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক বালিকার নাম। আমার ছেলেবেলায় পাশের বাড়ির বাসিন্দা ছিল, সঙ্গতই আমরা পুতুল বিয়ে দেয়া কিংবা গোল্লাছুট খেলেছি, ঈদ-পূজোয় একে অন্যের ঘরে অবাধে গতায়াত করেছি। এক কথায়, অনিতাদের উঠোন ছিল আমার দৌড়- ঝাপের অন্যতম ময়দান। তেমনি অনিতারও প্রিয় প্রাঙ্গন ছিল কিনা আমাদের উঠোন? কি জানি, বুঝতে পারিনা আজ; অনিতা সেই কবে ভারত চলে গেছে। ওদের উঠোন এখন আমাদের সবজি ক্ষেতের ঊর্বর মাঠ। আমার দিব্যি মনে আছে, এক ভোরে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি অনিতাদের এলোমেলো উঠোন, ওকে কোথাও পেলাম না খুজে, কিছু খেলনা পেলাম কুড়িয়ে...। ফজরেরও অনেক আগে ওরা ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল সেদিন, মার কাছে শুনেছি।

আজ পরিনত বয়েসে দাড়িয়ে আমি কার কাছে জানতে চাইবো অনিতার কেন অন্ধকারে দেশ ছাড়লো? আব্বাকে বেশ অপরাধী মনে হয়। আমার খালি মনে হয়, বাবা অত্যধিক পরহেজগার হওয়ার কারনে কিংবা অনিতারাই ভীষন হিন্দু থাকার কারনে অনিতার দেশত্যাগের এই মর্মান্তিক গল্প আমাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে আজও, সব সময়...

'' আজ আমার দুই চোখে পর্দাশীলা রিপানার হাসি
আর দুই কানে অনিতার উলুধ্বনি...''

রিপানার বাড়ি সিলেট। পড়াশুনার পাশাপাশি মায়ের সংসার, ধর্মকর্ম নিয়ে তার ব্যস্থতা। ওর সাথে পরিচয় হয় পাপ্ত বয়সে এসে যখন, ' মন কিযে চায় বলো/ যারে দেখি লাগে ভালো' অবস্থা। তবু কখনো, এত মৌন মত বিনিময়ের পরও না রিপানা না আমি বলতে পারবো 'ভালোবেসেছি'। কেন?

রিপানা বেশ ভালো করে জেনেছিল, আমি শীতের অতিথি পাখি। হয়তো আমিও রিপানার ব্যাপারে এই ভেবে চুপ ছিলাম যে, সৌন্দর্যকে ছুঁয়ে দেখতে নেই...

কি জানি। অনিতাকে আমার কুয়াশা মনে হয়। বাল্যস্মৃতিকে এ ছাড়া আর কি বলবো? কিন্তু রিপানাতো সাম্প্রতিক অতীত- ওর মুখটা তবে এত ঝাপসা লাগে কেন? সুদুর অতীতের অনিতা কিংবা গতকালের রিপানার জীবনে আমি আজ মৃত ফড়িঙের মতোই অসহায়- কিছু বলার নেই, কিছুই নেই জানাবার...





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28732672 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28732672 2007-09-21 17:19:29
আমি নির্বাক হয়ে গেলে তাদের পতন অনিবার্য
দুরদর্শীরা যে কোন ব্যাপার আগেভাগেই টের পেয়ে যান এবং সেই ঈঙ্গিত প্রকাশ করেন তার কাজে, শিল্পকর্মে। যে কারনে সমকালীন সমালোচনা অনেকাংশে তার বিরুদ্ধেই যায়- যা পরবর্তীতে তার অনন্য কাজ হিসেবে স্বীকৃতও হয়। যা হোক, নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কয়েক বছর আগে তেমনি একটি দুরদর্শী ম্যাসেজ দিয়েছিলেন 'ব্যাচেলর' চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্র হিসেবে এটি যথাযোগ্যতা অর্জন করুক বা বিতর্কিত থাক- এ ব্যাপারে আজ মাথা ঘামাবো না, এই রচনার উদ্দেশ্য ভিন্ন...
২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বা মোবাইল কোম্পানী কত ছিল? হাতেগোনা। এই সময়ে চারপাশে তাকালে কি দেখা যায়? আমিতো দেখি যে, পথচারীদের অনেকই তাদের মোবাইলটা এমনভাবে আগলে নিয়ে যায় যে বোধকরি একে বহন করে নিয়ে যাওয়াই তার মূল কর্ম! ফারুকী নতুন শতাব্দীর শরুর দিকে ভিজ্যুয়ালে এই প্রসঙ্গটির ভবিষ্যতবানী করেছিলেন তার সিনেমার মাধ্যমে। সত্য কথা, সে সময় এই বলে ব্যাচেলর নিয়ে সমালোচনা উঠেছিল যে, মোবাইলে এত প্রেম/পরকীয়া করে কারা? এই প্রশ্নটা এখন আপনাকে করা হলে সঠিক জবাবটা নিশ্চয়ই দিতে পারবেন...
আমার বেশ অবাক লাগে মাঝরাতে। পড়াশুনার ফাকে বা একটু কম খরচে দুরের বন্ধুটির সাথে কুশলাদি বিনিময়ের সুযোগ আর পাইনা। কেননা আমার সাথে নিরস আলাপ করার চেয়ে সেই বন্ধুটি ব্যস্ত কোন মেয়ে বন্ধুর ফোনে 'ফাও গ্যাজানো'তে। যে মেয়েটির সঙ্গে হয়তো তার দেখাটিও নেই, যার নাম্বার সে নিয়েছে আরেকজনের কাছে চেয়ে, সেই মেয়েটিও বেশ জানে টাইম পাস ছাড়া আর কিছু নয়; তবু সারা রাত, দিনের পর দিন চলে এ খেলা, যতক্ষন না তারা নতুন কোন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে।
ঢাকা, বিভাগীয় অন্যান্য শহর, জেলা শহর, মফস্বল এমনকি গ্রামেও প্রসারিত হয়ে গেছে এ প্রবনতা। পরিবর্তনটা ক'দিনের?

আমি স্বীকার করতে কার্পন্য করছি না যে, মোবাইল যন্ত্রটা অনেক উপকারী, এর বদৌলতে গ্রামে বসে আমার মা জানতে পারছেন আমার সর্দির কি খবর, ফার্মগেটে জ্যামে আমি কতক্ষন আটকা ছিলাম কিংবা বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে আমি কোথায় নিঁখোজ হয়ে গেলাম নতুবা তিনি চাইলেই পান চিবুতে চিবুতে অফিস যাওয়ার পথে আমাকে শোনাতে পারছেন বাবার ছেলেমানুষীর গল্প ইত্যাদি ইত্যাদি...।
কিন্তু তবু দু:খ লাগে- যখন দেখি আমার বোনটি রাত জেগে কথা বলছে অজানা একটি ছেলের সঙ্গে, দিনে দিনে সে নিশাতুর হয়ে উঠছে, টেবিলে পাঠ্যবই তো দুরে থাক একটা উপন্যাস নিয়েও তার বসা হয়না। দেখি রাস্তায় হেঁটে চলা বালকের চোখে রাত জাগার ক্লান্তি, সেলফোনে কান চেপে থাকার অভ্যাসটা তার দীর্ঘতর হচ্ছেই, বানোয়াটা গালগল্প শেষে বিরস ভোর আসে, অনৈতিক ও অসামাজিক উচ্চারনে তার ঠোট-জিহ্বা আর বাধেনা, কবির নাম ভুল করে সে ওপর প্রান্তে পাঠাচ্ছে রোমান্টিক কবিতা, একই ব্যবহার ও উপলব্ধি সে একই রাতে শেয়ার করছে অন্য কোন নম্বরে, অন্য কোন মেয়ের সাথে...। কেন? উদ্দেশ্য কি? প্রেম? ভালোবাসা!

যারা সিরিয়াস প্রেম করছেন, করুন। কিন্তু আমার এই পর্যবেক্ষন একবার আপনার চোখ দিয়ে দেখুন, পরিষ্কার হয়ে যাবে সব।

লক্ষ্য করুন: ছাত্র সমাজে এ ব্যাপারটি দারুন জনপ্রিয় করে তুলেছে মোবাইল কোম্পানীগুলো। অপেক্ষাকৃত কম পয়সায় কথা বলার সর্বোচ্চ সুযোগটি আপনাকে দিতে তারা কোমর বেধে মাঠে নেমেছ। উদ্দেশ্য, ব্যবসা- সেবা নয়। এবং তারা সফল হয়েছে। তাই আরো গ্রেট অফার প্রতিদিনই আপনাকে চমকে দেয়...
এরা ধরেই নিয়েছে যে, এই দেশের ছেলেপুলেদের পড়াশুনার দরকার নেই, এরা শুধু রাত জেগে মোবাইলে কথা বলবে, এদের মাথা খাওয়া বেশ সোজা, এদের সৃজণশীল হওয়ার দরকার নেই, রাত জাগতে জাগতে আর মোবাইলে চাপা মেরে মেরে এরা সব্বাই বুদ্ধিজীবি ও মহা মনীষী হয়ে উঠবে। তাই আমরা প্রতিরাতে তাদের দেয়া সুযোগগুলোর সদ্ব্যাবহার করবো, প্রতিরাতে জড়িয়ে পড়বো নতুন প্রমে, নতুনজন যদিবা প্রতারিত করে হামেশাই আরেকটি নম্বর চেয়ে নেবো বন্ধুর কাছ থেকে। তবু কথা বলা থামানো যাবেনা, কথা আমাকে বলতেই হবে, কারণ আমি বাক স্বাধীনতা চেয়েছি, মোবাইল কোম্পানীগুলো সেই সুবিধা আমাকে দিচ্ছে, তারা এ স্বাধীনতা দিয়েছে কারন তারা বেশ ভালোভাবেই জানে- আমি নির্বাক হয়ে গেলেই তাদের পতন অনিবার্য...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28730574 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28730574 2007-09-11 14:26:11
ওরা আমার দৈনিকের আইডি কার্ড দেখে বলল '' তুই তো ছাত্র, তোকে দেখলেই বোঝা যায় তুই ছাত্র, সার্ভিস''
"পুরুষ ছিনাল জাত এই যদি ভাবো কন্যা
আমিও ধর্ষক তবে অনেক লোকের মতো
তুমিও ধর্ষিতা জেনো তোমারও রয়েছে ক্ষত
তোমার লালাভ দেহ যেন এবারের বন্যা"
(সোমেশ্বর অলির কবিতা থেকে উদ্ধৃত)

বিশ্বাস করুন, লেখাটা আমি এভাবে শুরু করতে চাইনি। একটা অন্যরকম লেখা, অন্যরকম ক্ষতের কথা বলতে চেয়েছিলামা আজ। কিন্তু কি করবো উপায়হীন ভাবনা বিন্যস্ত হলো ব্যাকরণহীন রচনায়। সত্যি বলতে, এই রচনায় ' আমার অনেক কিছুই ভালো লাগেনা' শব্দগুলো লেখার পর আমি বসাতে চেয়েছি ' সেদিন আমার মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে সেনা বাহিনী'। লিখতে চেয়েছি এ আঘাত যতটা না শক্ত তারচে বেশি যন্ত্রনা আমি বোধ করছি মেরুদন্ডে, মস্তিষ্কে ও মনে। ব্যাথিত পিঠের কাতরতা কাছের বন্ধুরা ছাড়া আমি আর কাউকে জানতে দিয়েছি? আমার মা, বয়েসী বাবা. বোনটা, এক গাদা ভাই গ্রামে বসে এ খবর পেলে নির্ঘাত কাদাকাটি করতো না! আমার মনে নেই, মনে থাকার কোনো কারনও নেই, বাবা-মা কেউই স্মরনে আনতে পারবে না সর্বশেষ কবে আমি তাদের হাতে সিম্পলি একটা চড় খেয়েছি। অথচ আমার ভাইয়েরা, জাতির গর্বিত রক্ষাকারীরা আমাকে কুকুরের মতো পেটালো, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের চারতলার খোলা জায়গায় মনের মতো করে কাদালো। আমি নিজের রক্ত দেখিনি, দেখেছি অন্যের যন্ত্রনা, কাকুতি মিনতি, আহাজারি। ঢাকা ভার্সিটি? ঢাকা কলেজের ছাত্র? কোন কথা নেই একটার পর একটা লাঠির বাড়ি পড়তে থাকলো। সেনা বাহিনীর ভাষায় একে বলে 'সার্ভিস'? সেদিন আজিজে বসবাসকারী ছাড়াও রাতে নিরুপায় কিছু ছাত্র এখানে আশ্রয় নিয়েছিল সত্য কিন্তু তাদের সবাই কি আন্দোলনকারী ছিল। কি দোষ ছিল আমার? পত্রিকার আইডি কার্ড দেখেও '' তুই তো ছাত্র, তোকে দেখলেই বোঝা যায় তুই ছাত্র, তু্ই আবার কিসের সাংবাদিক, সার্ভিস'' বলে গায়ের জোরে আমাকে লাটিপেটা করার ব্যাপারটাকে আপনি কিভাবে ব্যখ্যা করবেন?
ওরা আমাকে সার্ভিস করে ছেড়ে দিল, অধিকাংশই সেদিনকার প্রতিশোধপরায়ন সেনা বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি পেল। সত্যি আমরা কি মুক্তি পেয়েছি? আমার পিঠের ব্যথাটা পুরোপুরি সারতে তিনমাস লাগবে, বাম চোখের কাছের আচরটা প্রায় মুছে গেছে, ডান হাতের কনুইয়েও শক্তি পাচ্ছি। সত্যি কি তিনমাস পর আমি যখন সম্পুর্ন ভুলে যাব মেরুদন্ডের ব্যথার কথা? না। আমি চাইলেই কি ভুলে থাকতে পারছি নিরাপরাধ ১০/১২ জন সহযোদ্ধার কথা যাদেরকে মারার পর কোমর বেধে আসামী করে নিয়ে গেছে সেনা বাহিনী? শুনেছি এদের মধ্যে তিনজনের খোজ জানে না কেউ। তবে তারা কোথায় গেল? এদের পরিবার এখন কেমন আছে? ওদেরকে আরো আঘাত করা হচ্ছে? ওরা বাচবে তো? আমি কল্পনও করতে পারছি না ওরা এখন কেমন আছে, কোথায় আছে। ওদের মধ্যে কেউ না কেউ প্রেমিক ছিল? প্রেমিকাদের কি খবর? ওদের কান্না কে থামাবে? এসব হাজার প্রশ্নের একটা জবাবও আমাকে জানতে দেয়া হচ্ছেনা। আমি ওদের হাতে মার খেয়ে সত্যি ঝিমিয়ে পড়েছি। ওরা আমাকে বেশ ভয় পাইয়ে দিয়েছে। আমার সততা, আদর্শ, প্রেমিক ও বিদ্রোহী মনের ওপর দিয়ে ওরা রোলার চালিয়ে দিয়েছে। আমার আর কোন প্রতিভা নেই। আমি যেন ফুরিয়ে গেছি...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28729379 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28729379 2007-09-04 13:30:49
নাকফুল টের পাচ্ছি
তোমার মুখের বাগিচায়, আমার হাতের
এইটুকু চাষাবাদ। মনে রেখো।

নাকফুল ফুটতেছে সারারাত,
তোমার ঘুমন্ত মুখের আলোয়। আমি
তাকাতে পারিনা নাকফুলে...

এইটুকু মুখের বাগান !একে প্রদক্ষিণ করে
আসতে সময় লেগেছে শতাব্দী কাল

নাকফুলে রাত শুরু ,এভাবে সকাল...

প্রিয় নাকফুল, উজ্জ্বল আসনে বসে আছো
মুখপ্রাণকেন্দ্রে। তার চোখ ভুলে যাচ্ছি,
ঠোট ভুলে যাচ্ছি,
হাতে অজুহাতে শুধু নাকফুল টের পাচ্ছি...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28728701 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28728701 2007-08-31 16:09:51
কবিতা: আমি হতবাক কেউ বলছেনা গত রাতে গুলির শব্দের
সঙ্গে একটা শিশুর কান্না ছিল- কি জানি বৃষ্টির
তোড়ে আমি ভুল শুনলাম কিনা!

তবু মিথ্যে নয় শব্দ:
বৃষ্টি কিংবা গুলি অথবা শিশুর কান্নায় কেউ
কান পেতে দাঁড়িয়েছিল জানালা ধরে;
সারা রাত বৃষ্টি হলো সত্য, খবরে প্রকাশ পলো রক্ত!

আমি কারো কাছে কোনো নবজাতকের খোজ পেলাম না... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28728071 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28728071 2007-08-27 13:21:56
নগর নন্দন (শামসুর রাহমান বুঝেছিলেন নাগরিক ব্যঞ্জনা)
সব ধরনের প্রতীক্ষার ফলাফল পেতে
আমি বন্ধুদের বাড়ি গেছি এবং
ওদের দরোজাসমূহ তালাবদ্ধ থাকতে দেখেছি।
অবশ্য আমাকে তাড়া করেছিল
কতিপয়
বুনো
মহিষের পা ও হুংকার!
আর আমি, কিছু চিতকার কিংবা কান্নার শব্দকে
অনুবাদ করতে চেয়েছি: সেই ছেলেবেলায় অনেক
বড় হয়ে উঠেছিলাম অহেতু; ফলে বড়বেলা এসে
দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠোনে ঘাসের পরিবর্তে শিশু-
দীর্ঘতর হচ্ছে তাই পাঠ পরিক্রমা?

অন্যদিকে, আর কী করে বলবো
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নয় কিছুতেই পাঠশালা! বরং অন্যকিছু...
যে কারনে তালাবদ্ধ সকল দরোজা দেখে ভাবি
পৃথিবীর
সব
পাঠশালা
আজ
বন্ধ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28726311 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28726311 2007-08-17 12:09:54
মৃত ফড়িংয়ের জীবন-২
ছেলেবেলা, গ্রামের বাতাসে যখন ছড়াতে শিখেছি শিস, পালিত ঘুড়ির হারিয়ে যাওয়াকে প্রশ্রয়ের সুতোয় বেধে অপার আনন্দ লাভ কিংবা রাতে যাত্রানুষ্ঠান দেখতে না পারার চাপা ও যৌক্তিক লোভ যখন পরহেজগার বাবার কাছে পরাজিত, যখন পাশের হিন্দু বাড়ির উলুধ্বনি অনিতার আহবান হয়ে আমাকে ডাকতো- আমি পাঠ্য বইয়ের পৃষ্ঠায় কোনো চিন্হ না এঁকেই উদাসের মতো কলম চিবোতাম...
আজ যৌবনের তীর্যক রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে দেখছি তালাবদ্ধ পৃথিবীর নকশী দরোজাসকল। আমার বয়স্কা প্রেমিকারা আজ কেমন আছেন, তাদের পরিপাটি জানালার কাছে গিয়ে শার্সির বাতাসে হোচট রাখছে আমার অজস্র চোখ-

একই সঙ্গে অধ্যাবধি নাগরিক না হয়ে ওঠা রাজধানীবাসীর সঙ্গে আমার সখ্যতা। তাদের মতো আমিও মানছি না রাস্তার সবুজ-হলুদ- লাল সিগনাল, ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বন্ধুটির মতো জিপার খুলে পেশাব ছাড়ছি রাষ্ট্রীয় কার্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই চিপায়, সপ্তাহে দু তিন দিন মদে টালমাটাল ছোট ভাইয়ের মুখে শুনছি হস্তমৈথুনের সিনেম্যাটিক গল্প, দেখছি অটো রিক্সায় ব্যস্থ মোড়ের জ্যামের ঝামেলার ভিতরে কিশোর-কিশোরীর ধস্তাধস্তি, বেসামাল প্রেমের চুম্বন...

২. এবং বিদ্যুত চলে যাওয়া রাত যেন শেষ হতে চায় না, ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছি সিলিং ফ্যানের ঘূর্ণনের অপেক্ষায়, অথবা সাদামাটা রাতেও বেহুদা জাগছি বিপরীত লিঙ্গীয় কারোর সঙ্গে অনৈতিক, অসামাজিক ফোনালাপে- অথচ আমাকে আরো সকাল সকাল বিছানায় যাবার কথা ছিল কিংবা বসার কথা ছিলো বইয়ের টেবিলে- বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে আনা বইটি এরই মধ্যে শেষ করে ফেরত দেবার কথা; কিন্তু আমি কোনো কথাই রাখতে পারছি না, কোনোদিক দিয়েই যেন কুলিয়ে উঠতে পারছি না, চাকরিটা ঝুলে থেকে থেকে অবশেষে যখন হলো ভাবছি ছেড়ে দেবার কথা, প্রতিষ্ঠানের পক্ষপাতি আমি আরো করেছি এখানেও করছি- তবু... এই নাগরিকত্ব আমাকে ক্রমশ: দিচ্ছে পিছিয়ে, আমার হাটুর জোর কমে যাচ্ছে বন্ধু!

নাগরিক হিসেবে আমি প্রায়ই ভাবি আমার মৃত্যু হবে বজ্রপাতে, স্রেফ একটা বজ্রের হুংকার শুনবো এবং লুটিয়ে পড়বো মাটিতে। এরকম মৃত্যু আমি কামনা করছি: যখন স্বাভাবিক মৃত্যুর ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রন করছে অদৃশ্য কেউ, যখন লাশঘরে বাড়ছে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা, যখন অস্রোপচারের পর মরে যাচ্ছে রোগী, আচমকা গুলিতে যখন মরে যাবার শংকা, যখন গাড়ির তলে বলি হয়ে যাওয়াটা নৈমিত্তিক, সেই সমকালের রক্তাক্ত মাঠে দাঁড়িয়ে আমি কামনা করছি আমার মুত্যু হোক বজ্রপাতে। সিটি করপোরেশনের কাছে নাগরিক হিসেবে আমি কি বেশি কিছু চাইছি? (চলবে)


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28725136 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28725136 2007-08-11 13:52:42
মৃত ফড়িংয়ের জীবন-১
ছেলেবেলা, গ্রামের বাতাসে যখন ছড়াতে শিখেছি শিস, পালিত ঘুড়ির হারিয়ে যাওয়াকে প্রশ্রয়ের সুতোয় বেধে অপার আনন্দ লাভ কিংবা রাতে যাত্রানুষ্ঠান দেখতে না পারার চাপা ও যৌক্তিক লোভ যখন পরহেজগার বাবার কাছে পরাজিত, যখন পাশের হিন্দু বাড়ির উলুধ্বনি অনিতার আহবান হয়ে আমাকে ডাকতো- আমি পাঠ্য বইয়ের পৃষ্ঠায় কোনো চিন্হ না এঁকেই উদাসের মতো কলম চিবোতাম...
আজ যৌবনের তীর্যক রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে দেখছি তালাবদ্ধ পৃথিবীর নকশী দরোজাসকল। আমার বয়স্কা প্রেমিকারা আজ কেমন আছেন, তাদের পরিপাটি জানালার কাছে গিয়ে শার্সির বাতাসে হোচট রাখছে আমার অজস্র চোখ-

একই সঙ্গে অধ্যাবধি নাগরিক না হয়ে ওঠা রাজধানীবাসীর সঙ্গে আমার সখ্যতা। তাদের মতো আমিও মানছি না রাস্তার সবুজ-হলুদ- লাল সিগনাল, ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বন্ধুটির মতো জিপার খুলে পেশাব ছাড়ছি রাষ্ট্রীয় কার্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই চিপায়, সপ্তাহে দু তিন দিন মদে টালমাটাল ছোট ভাইয়ের মুখে শুনছি হস্তমৈথুনের সিনেম্যাটিক গল্প, দেখছি অটো রিক্সায় ব্যস্থ মোড়ের জ্যামের ঝামেলার ভিতরে কিশোর-কিশোরীর ধস্তাধস্তি, বেসামাল প্রেমের চুম্বন... (চলবে) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28724943 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28724943 2007-08-10 00:45:07
ত্রান বিতরন: ওয়ান কাইন্ড অফ ফটোসেশন!
২. বিগত সরকারগুলোর আমলে দেখেছি বন্যায় ত্রান দেয়ার হিড়িক। টিভিতে, পত্রিকায় সেসব দৃশ্য দেখে আমরা যারা ত্রান দিতে পারতাম না তারা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকতাম এই খেবে যে, বিতর্কিত রাজনীতিকরা আর যাই হোক দুর্যোগের দিনে অন্তত জনগনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

৩. বর্তমানের কেয়ার টেকার সরকার সারা দেশে ত্রান দিচ্ছে। জলে স্থলে জঙ্গলে তাদের অবাদ গতায়াত। খাটাখাটুনির শেষ নেই সেনা পোষাকধারীদের। তবু ত্রানের কুল কিনারা করতে পারছেনা তারা। সেনা প্রধান বা উচ্চ পদস্থরা ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছেন, বন্যার্তদের সাহায্যার্তে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছেন। দৃশ্যগুলো দেখতে নান্দনিক। তবে ঐতিহাসিক সত্যতা একই। নেতারা যেকাজে ত্রান বিতরন করেছেন, সেনারাও একই উদ্দেশে ত্রান দিচ্ছেন বলে আমার সন্দেহ। ফটোসেশনই সার কথা...?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28724612 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28724612 2007-08-07 18:37:19
নির্মলেন্দু গুণ যে কবিতাটি লিখবেন না কখনো (সওয়ারী)
সওয়ারী হয়ে উজ্জ্বল করেছ রিক্সাওয়লার মুখ। এর অর্থ এই সকালবেলা নাস্তা না খেয়ে পথে নামা চল্লিশোর্ধ রিক্সাশ্রমিকের তেতানো মহানগরী রসালো হয়ে উঠলো তোমাকে পেয়ে। আর তোমার কোমরে ও নিতম্বে ভরে গেছে রিক্সার জাজিম- ব্যাপারটা এরকম যে, তুমি রিক্সায় উঠেছো ওমনি আশপাশের পুরুষগুলো কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেলো- বুঝিবা তুমি সওয়ারী না হলে রিক্সাশ্রমিকটির দাঁড়িমুখের কোনো মাজেজাই খুজে পেতাম না এই ভর রোদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে...
রাস্তা মানে কিছুলোকের ঘর আর রাস্তা মানেই ঘন ঘন মোড়। তোমার রিক্সা অসংখ্য মোড় পেরিয়ে যাচ্ছে- সামান্য স্পীড ব্রেকারে তুমি দোল খাচ্ছো- যেন তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ছো শহরে শহরে। এদিকে তোমার গোপন শারীরিক ব্যথা স্পষ্টতর হতে চায়, তবু রিক্সায় যেতে যেতে তোমার ভালো লেগে যায় বখাটেদের দলে কিছুটা হুল্লোড় ছড়াতে পেরে; রাস্তায় নেমে তাই রোজ সঙ্গমের সাহস খুজে পাও, রাস্তায় যেতে যেতে পথচারিদের চোখে তাকিয়ে বুঝতে পারো নিজর সৌন্দর্য। তোমার এ সামান্য পথযাত্রায় অগুনতি চোখে তোমার স্তনের গোলাপি ছায়া, নাভী ও নিতম্বের গঠনশৈলী কামবোধ এনে দেয়... রোজ এই কথাটি ভাবতে পারছো বলে পরবর্তী সঙ্গমে তোমার ভূমিকা দীর্ঘতর হয় পরবর্তী পুরুষটির তুলনায় ...

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28724280 http://www.somewhereinblog.net/blog/SomeshwarOlyblog/28724280 2007-08-05 12:14:17