somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

ক্যানাডার বারোমাস তার সাথে বসবাস- ক্রিসমাস পর্ব

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বছরের শেষ মাস ডিসেম্বর আনন্দের বার্তা বয়ে আনে প্রত্যেকের মনে। শীতে ঘরে বসে জবুথবু হওয়ার বদলে প্রচণ্ড উৎসাহ উদ্দীপনায় শুরু হয় ক্রিসমাসের কেনা-কাটা নভেম্বরের শেষ থেকে। আলোয় আলোয় সাজে ঘর বাড়ি, এ্যাপার্টমেন্ট, দোকান রাস্তা। নতুন সামগ্রীর ভীড় বিপণী বিতানে। প্রতিটি মানুষ ব্যাস্ত আনন্দের ভাগ আত্মিয় বন্ধু সবার সাথে ভাগ করার জন্য। উপহার কেনার ধুম লেগে যায় এসময়ে। বিভিন্ন সংস্থা সংগ্রহ করতে থাকে নানা রকম সামগ্রীর ডোনেশন। খাদ্য কাপড়, খেলনা নানান কিছু দিয়ে প্যাকেট করা হয় দরিদ্র পরিবার গুলোর জন্য। বাড়ি বাড়ি পৌঁছেও দেয়া হয় উপহার সামগ্রী। সবাই ব্যাস্ত কেউ নিজের কেনাকাটায় কেউ অন্যদের সাহায্য সহায়তার জন্য। বাড়ির টেলিফোন গুলো বাজে ঘন ঘন। ডোনেসনের আবেদন চলে ঘরে ঘরে। সাধ্যমতন সাহায্য প্রায় সবাই করেন। ক্রিসমাসের আনন্দ যেন পৌঁছায় সবার ঘরে সে চেষ্টা থাকে সংস্থা গুলোর। অফিস, স্কুল, হাসপাতাল, প্রতিটি, সংস্থা, ওর্গানাইজেশন নিজেদের মতন, ক্রিসমাস পার্টি করে ডিসেম্বর মাস জুড়ে নিজেদের সুবিধা মতন আর উপহার দেয়। সহপাটি, শিক্ষক, ছাত্র, সহকর্মি সবাই সবাইকে উপহার দেয়, বছরের এই বিশেষ দিনটির উপলক্ষে। স্কুল গুলো আয়োজন করে বাচ্চাদের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠান যেখানে অভিভাবক থাকেন আমন্ত্রিত
উৎসবের আনন্দে বাজতে থাকে ক্রিসমাসের গান মাস ব্যাপী,
ইউ বেটার ওয়াচ আউট
ইউ বেটার নট ক্রাই
বেটার নট পাউট
আই এম টেলিং ইউ হুয়াই
সান্তাক্লোজ ইজ কামিং টু টাউন।
সান্তার বিশাল ভুমিকা এখন ক্রিসমাসের সিজনে। ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে সান্তাক্লজ আর ক্রিসমান এখন। লাল পোষাকের সাদা দাড়ির মোটাসোটা মানুষটি চুপিচুপি বাড়ির চিমনি বেয়ে নেমে আসবে ঘরে আর রেখে যাবে উপহার সামুগ্রী সাজানো ক্রিসমাস ট্রীর নীচে। যদিও বৈদ্যুতিক হিটিং ব্যবস্থায় আগের চিমনীর ব্যবহার প্রায় নাই এখন তবুও ছেলে ভুলানো গল্পের সেই কাহিনী বাচ্চাদের মনে এখনো স্বপ্ন জাল বিছায়। ক্রিসমান ইভের রাত্রে সান্তা রেইন ডিয়ারের গাড়ীতে উত্তর মেরু থেকে সারা পৃথিবীর প্রতিটি শিশুর কাছে উপহার নিয়ে পৌঁছে যায়। অবাক করা প্রশ্ন শিশুদের কিভাবে সান্তা এই অসাধ্য কাজটি করে এক রাত্রে? ক্রিসমাস ইভের রাত্রের উজ্জ্বল তারা গুলো সান্তার সহায়ক। আকাশ জুড়ে কিছু তারা অদ্ভুত এই যাত্রায় হীরার দ্যুতি ছড়িয়ে সাহায্য করে সান্তাকে শিশুদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে তার ভালোবাসার শুভেচ্ছা। এই উজ্জ্বল তারাগুলোর নাম থাকে গোপন। দু একজন শিশুকে সান্তা বলে দেয় দু একটা তারার নাম আর সে শিশুরা সাফল্যে উজ্জ্বলতায় ধরা দেয় সবার কাছে। এই মীথ বিশ্বাস করতে ভালোবাসে শিশুদের সাথে বড়রাও তাই,
প্রায় প্রতিটি মলে সাজানো হয় সান্তার বাড়ি আর টুংটাং শব্দে রেইন ডিয়ারের টানা গাড়ীতে চেপে সান্তা হো হো হো শব্দ তুলে ছুটে চলেছে বরফের পথ বেয়ে। সান্তার কোলে বাচ্চার ছবি প্রতি বাড়িতে আছে। মাস ধরে চলে সান্তার সাথে ছবি তুলার পর্ব মলগুলোতে। লাইন দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে সবাই ছবি তুলার জন্য। উনিশ শতকের শুরুতে সেন্ট নিকলাস নিজের উদ্দোগে বাচ্চাদের আনন্দ দানের জন্য উপহার দিতে শুরু করেন তা আজ উত্তর আমেরিকার সংস্কৃতি আর ছাড়িয়ে পরেছে পৃথিবীর সর্বত্র ।
এই আনন্দের পাশাপাশি সতর্কতা শুরু হয় জোড়ে সোরে। আনন্দে বেসামাল কেউ অতিরিক্ত মদ্য পানে যেন র্দূঘটনার শিকার না হন বা আক্রান্ত না করেন পথিক, গাড়ী চালাতে তার জন্য চেকিং চলতে থাকে ডিসেম্বর জুড়ে। মদ পান করে গাড়ী চালানো মোটামুটি জিরো টলারেন্সে চলে এসেছে ক্যানাডায়। সাবওয়েতে চলো, ড্রাইভার কল করো অথবা ট্যাক্সী ভাড়া করো। সাবধানে চলো আনন্দ করতে গিয়ে নিজে মরো না অন্যকে মেরো না। এত সাবধানতার পরও কিছু দুর্ঘটনা ঘটে। বেয়ারা কিছু মানুষ তো থাকেই সব খানে আনন্দ মাটি করতে।
সাজ সাজ রবে শীত আর বরফের মাঝে ঝলমলে আলোয় সেজে উঠে শহর। লাল আর সবুজের আধিক্য ক্রিসমাসের সময় কেন, এর কোন কারণ নাই, প্রচলন হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যদের সাথে এই সুন্দর দিনটি উপভোগ করার জন্য সবার চেষ্টা থাকে। কেনা কাটা উপহার সামগ্রীর সাথে, তৈরী হতে থাকে নানান রকম খাদ্য। বদলানো হয় বাড়ি ঘরের সাজ। ঘরের কোনে ক্রিসমাস ট্রি অলংকরনে আর্কষনিয় আর তার নিচে সুদৃশ্য মোড়কে উপহারের বাকস প্রতিটি সদস্যর জন্য। অনেক কাজ তবু আনন্দ আর উৎসাহের কমতি নাই।
”জিংগল বেল জিংগল বেল জিংগল ওলদ্যা ওয়ে”
”রুডোলপ দ্যা রেড নোজড রেইন ডিয়ার হেড এ ভেরী সাইনি নোজ”
এমনি অসংখ্য সব গান আর সুর বাজতে থাকে মল, দোকান, রেডিও স্টেশনে। সান্তাক্লজ প্যারড আর ক্রিসমাস প্যারডের জন্য অপেক্ষা থাকে ছোট বড় সবার। সান্তাক্লজ প্যারড হয়ে যায় নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে। আর ক্রিসমাস প্যারড হয় ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। বরফের ক্রিস্টাল মূর্তি আর আলোর সজ্জার আয়োজন হয় ন্যাথনফিলিপস স্কোয়ারে। এই সাজ দেখতে অনেকে বেড়িয়ে পরেন স্বপরিবারে। আর স্নো-স্কেটিং খেলায় মাতে বাচ্চা বয়স্ক সবাই। শীত যেন ধারে কাছেও ঘেসতে পারে না আনন্দের উচ্ছাসে।
এছাড়া বরফ সাদা ক্রিসমাসের প্রত্যাশা থাকে। তবে গ্লোবাল ওর্য়ামিং বদলে দিয়েছে আবহাওয়া গত কয়েক বছরে খুব কম দেখেছি হোয়াইট ক্রিসমাস।
সবুজ ক্রিসমাস ট্রীগুলো বরফে ঢাকা এর মাঝে হীরার দ্যুতি ছড়িয়ে রঙিন আলোয় আলোয় ঝলমল করে বরফ কুচি। চারপাশ যেন অপার্থিব সৌন্দর্যে ভরে উঠে । এমন আনন্দ এমন ভালোলাগার সময়ে হ্যান্স ক্রিশচিয়ান এন্ডারসনের ”দ্যা লিটিল ম্যাচ র্গাল” গল্পের ছোট্ট মেয়েটির মতন কষ্ট যেন কেউ পায় না এই প্রার্থনা। উই উইস ইউ এ ম্যারি ক্রিসমাস এন্ড হ্যাপি নিউ ইয়ার”
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১০ সকাল ১০:৪৯
৭টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×