somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

বির্সজনের নারী

০৬ ই মে, ২০১০ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েরা মায়ের জাত প্রতিটি মেয়ে চায় মাতৃত্বের স্বাদ। সত্যি কি তাই প্রতিটি মেয়ে যারা মা হয়েছে তারা কি সেই সন্তান তখন ধারন করার জন্য মানষিক ভাবে প্রস্তুত ছিল তাদের জীবনে । নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম অস্বীকার করার উপায় না থাকার জন্য বাধ্য হয়ে মা হতে হয়েছে। শুধু কি প্রাকৃতিক নিয়ম? পরিবেশ পরিস্থিতি, সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক চাওয়া না চাওয়া কোন একটা বিষয় কি মেয়েদের পক্ষে কথা বলে? মেয়েদের চিন্তা চেতনা বিবেচনা করে কী তাদের চাওয়া, কী ভালোলাগা, তাদের নিজস্ব জীবন চিন্তা চেতনা?
মেয়েরা শারীরিক ভাবে র্দূবল। এর মধ্যেও যারা মানষিক ভাবে শক্তি সঞ্চয় করে নিজের ইচ্ছায় চলতে চায়, তারাও সমাজ সংসারের নানারকম র্নিযাতনের শিকার হচ্ছে। সামাজিক নিয়ম শৃঙ্খলা, পরিবারের অহেতুক সম্মানবোধ, একটা মেয়ের জীবন যাপন যে কতটা দূর্বিষহ করে তোলে তা যদি কেউ ভাবত! এখনও ভাবলে মেয়েদের নির্যাতিত হওয়ার সংখ্যা কিছু কমত। জীবনের চেয়ে কি আর কিছু মূল্যবান হতে পারে? মেয়েদের মানসিক চিন্তা চেতনার বিকাশ সমাজ, সংসার, একান্ত আপনজন প্রতিটি মানুয় দ্বারা বিঘিœত হয় প্রতিমুহুর্তে, তাদের পক্ষে করা সম্ভব হয় না সুস্থ স্বাভাবিক প্রাণখোলা ভাবনা।
একটি মেয়ে স্বাভাবিক সতস্ফূর্ত আপন মনে রাস্তায় হাঁটলে ভেসে আসে তার উদ্দেশ্যে কুমন্তব্য। নিজস্ব স্বকীয়তায়, যোগ্যতায় সে যদি অর্জন করে কোন পুরস্কার বা কোন সুযোগ, স্বাভাবিক সে বিষয়টিকে দ্বিতীয় কোন পথে অর্জিত হয়েছে এই ধারনাই দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হতে থাকে সমাজে। এছাড়া অবিবাহিত একটি মেয়ে স্কুল কলেজের বা কোন শিক্ষা বিষয়ক অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলে সেই মেয়েটির সে অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বাড়ির বাইরে অন্য শহরে যেতে হলে, পরিবারের আপত্তি উঠে এর প্রধান কারণ মেয়েটির নিরাপত্তা। শেষ পর্যন্ত যেতে দিলে পরিবারের কোন সদস্যকে সঙ্গী করে পাঠানো হয়। পরিবারের এ আশঙ্কা অমূলক নয় অনেক র্দূঘটনার শিকার হয় কিশোরী বা তরুণী বয়সের মেয়ে কোন সুন্দর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে। যা পারিবারিক ভাবে গোপন করে ফেলা হয় বা মেয়েটি নিজেই চেপে যায় সারা জীবনের জন্য। অথচ একাকী ভোগ করে সেই যন্ত্রনা সারা জীবন।
নারী পুরুষের শারীরিক সম্পকের্র বিষয়টি নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই সমান আনন্দের। কিন্তু কয়টা পুরুষ স্ত্রী বা সঙ্গিনীর আনন্দের কথা ভাবে। মানসিক মিল না থাকলে শারীরিক সম্পর্ক আনন্দময় হয় না। কয়জন পুরুষ এবিষয়টা জানে বা ভাবে সঙ্গীকে সুখ দেয়ার কথা। আজ ইচ্ছা আছে কিনা বা ইচ্ছা না থাকলেও যে সুন্দর ভাবে রাজী করা যায়। এটুকু সময়ও অনেক পুরুষ দিতে রাজী না। যার ফলে নিরানন্দময় নির্বীকার একটি শারিরিক মিলন হয় প্রায় প্রতি সময় প্রতি যুগলের। অথচ আনন্দময় সময় কাটানোর প্রচেষ্টায় ভাবের আদান প্রদানের মাধ্যমে যে নারী সঙ্গীনিকে জাগিয়ে তোলা যায় ভালোবাসায় সেটুকু সময় ব্যয়ে কার্পণ্য থাকে।
ছেলেদের ভালোবাসার ইচ্ছা জাগে বিশেষ করে দেখা যায় বিবাহীত পুরুষদের মধ্যে বান্ধবী অফিস সেক্রেটারী, নারী সহকর্মি, ভাবী, বন্ধুর স্ত্রী, বন্ধুর বোন পরিচিত নানা রকম সম্পর্কের মহিলাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। ভালোবাসার সম্পর্কের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক এসে গেলে পুরুষের কোন চিন্তা থাকে না। বর্তমানে নানা রকম প্রটেকশন নেয়ার পরও মেয়েরা প্রেগনেন্ট হওয়ার ভয়ে ভোগে এবং অনেক ক্ষেত্রে হয়েও যায় প্রেগনেন্ট। এর খেসারত দিতে হয় সে মেয়েটির সারা জীবন। খুব কম ছেলেরা এগিয়ে আসে এ পরিস্থিতিতে মেয়েদের সহযোগীতায়। এ ঘটনার জন্য যে উভয় সমান দায়ী ছেলেরা মূহুর্তের মধ্যে সে কথা বিস্মৃত হয়ে একটা খুব কমন ডায়লগ দেয়। কেমন করে এমনটা হলো তুমি কেয়ারফুল থাকতে পারলে না? তোমার তো সচেতন থাকা দরকার ছিল। প্রটেকশন নেয়ার ব্যাপারে মেয়েদের সচেতনতা দেখাতে হবে। আর মজা করার ব্যাপারটা ছেলেদের একচেটিয়া। তারা ভুল করেও ভাবে না মেয়েরাও তাদের মতই বিষয়টাতে আনন্দ পায় এবং হারায় দুজন দুজনার মধ্যে। এখানে একটি পার্থক্য মেয়েরা সঙ্গীটির উপর ভরসা করে আর ছেলেটি তখনি সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করে না। একটি শিশুর বোঝা নিয়ে মেয়েটার বাকি জীবন কতটা দূর্বিষহ কাটে অনেক প্রেমিক প্রবর আর জানেই না তা। তারা সুন্দর নতুন সম্পর্ক করে বেশ ভালো ভাবে নতুন জীবন যাপন করে। একবার কি তাদের মনে হয় তাদের ঔরসজাত সন্তান কোথায় কি ভাবে পালিত হচ্ছে? অথবা যার সাথে এক সময় ছিল অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক সে মেয়েটি কলংকময় জীবনের বোঝা নিয়ে কেমন আছে। শারীরিক সম্পর্ক দূরের কথা কোন মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও সে হয়ে যায় অপাংতেয় অস্পৃশ্য। এমন কি কোন বাড়ির এক মেয়ের নামে কোন রকম দূর্নাম থাকলে ঐ বাড়ির অন্য মেয়েদের বা বংশের অনান্য মেয়েদের এর জের টানতে হয়। অথচ একই ঘটনা ছেলেটির জীবনে কোন প্রভাবই ফেলে না। বছর কয়েক আগের এক সংখ্যা যায় যায় দিনে একটি ঘটনা পড়েছিলাম। এইচ, এস, সি, পরীক্ষা দিয়ে একটি ছেলে বাসায় বসে আছে। ”অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডা” ইন্টারনেটে পর্ণ ছবি দেখে মা বাবার অনুপস্থিতিতে। সাথে বাসার সমবয়সি কাজের মেয়েটিও যোগ দেয় এবং দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যায়। কিছু দিনের মধ্যে মেয়েটার আনন্দ ফুরিয়ে যায়। সে জানায় প্রেগনেন্ট হয়ে গেছে। অশান্তি অস্থিরতা, দূর্ভাবনায় সকল দায় একা নিয়ে ছেলেটাকে শান্তনা দিয়ে মেয়েটা চলে যায়। ছেলেটা কষ্ট পাচ্ছে বলে এঘটনা লিখেছে কিন্তু সামাজিকতার কাছে নতি স্বীকার করে মেয়েটকে কোথায় ঠেলে দিল? কাজের মেয়ে বলে কি তার মা বাবা নেই ? মান সম্মান, সামাজিকতা নেই? ছেলেটার এই দুঃখ পাওয়া তো মেয়েটির কোন উপকার করল না। যদি সে তার দায় ভার নিত তা হলে সত্যিকারের কাজ হতো।
মেয়েরা যদি সন্তান কামনায় শারিরীক মিলন ঘটাত, তা হলে এবরশনের কোন প্রয়োজন ছিল না। মেয়েরা মহা খুশী হয়ে মাতৃত্ব মেনে নিত। যে কোন ভাবে বাচ্চা হলে মেয়েদেরই কেন সে দায় বহন করতে হয়। কয়জন পুরুষ এগিয়ে আসে এই বলে যে, আমার বাচ্চা, দায়িত্ব আমি নেবো। ছোট একটা শিশু পালন করার সমস্ত দ্বায়িত্ব কেন মেয়েদের একার?
গ্রাম পর্যায়ের নারীরা এখন আগ্রহি ফ্যামেলী প্ল্যানিংয়ে। অশিক্ষিত নিরক্ষর মেয়েরাও বোঝে সংসারে অনেক বাচ্চার দায়িত্ব এবং একটার পর একটা সন্তান ধারনের কষ্ট কত তীব্র। তাই তারাও এবিষয়ে অব্যহতি চায় কিন্তু গোঁয়ার স্বামী নিজেরা কোন ব্যবস্থা নেয় না স্ত্রীকেও কোন ব্যবস্থা নিতে দেয়না। উপরন্ত বোকাগুলো বছর বছর ছেলের আশায় মেয়ে সন্তানের বীজ বোনে অথচ জানে না যে মেয়ে বা ছেলে হওয়ার জন্য স্ত্রীর কিছু করার নেই। উল্টা স্ত্রীকে মেয়ে হওয়ার জন্য গাল দেয় মার দেয় তালাক দেয়। আরো একটি মেয়েকে চট করে বিয়ে করে নিয়ে আসে একই যন্ত্রনায় জর্জরিত করার জন্য। এই নতুন বউটির পরিবার একবারের তরেও ভাবে না কেন লোকটার আগের বউ তালাক দিয়েছে। মেয়ে বিয়ে দিয়ে উদ্ধার পেতে চায়।
শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত নারীরা নিজেদের অনেক বিষয়ে সচেতন। অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে তারা প্রতিবাদ করতে পারে। তবে সে প্রতিবাদ তখনি কার্যকর হয় যখন তার সঙ্গী শিক্ষিত, সুন্দর মননশীল মার্র্জিত হন। এরকম একজন সঙ্গী প্রত্যেক মেয়ের কাম্য। কিন্তু দূর্ভাগ্য এমন পুরুষের সংখ্যা নেহাতই হাতে গোনা। অধিকাংশ পুরুষ অমার্জিত, দ্বৈতমুখের অধিকারী। শিক্ষায় দিক্ষায় বংশে সমাজের গুরুত্ব পূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেও, তাদের ভিতরের পশু শিক্ষিত হয় না। ভাবলে অবাক লাগে একটি পশুকে শিক্ষা দিলে শিক্ষিত হয় কিন্ত মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব কেন সুসভ্যতার এই যুগেও সুসভ্য শিক্ষিত হয় না।
বছর দশেক আগের ঘটনা। ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গের একটি মেয়ে স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকা আসে। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় একটি শ্রীলঙ্কার ছেলের সাথে ভাব হয়। পড়ালেখা শেষে দুজনে বিয়ে করে। ছেলেটির বংশ ব্রাক্ষ্মণ, মেয়েটি নয় তাই ছেলের পরিবার থেকে আপত্তি ছিল। তারপরও মেয়েটিকে বিয়ে করে। অল্প কিছু দিন পর শোনা গেল স্ত্রীর হাতে স্বামীটি খুন হয়ে গেছে। পুলিশ তদন্ত করে পায়, ডাইরি ভর্তি ছেলেটির হাতে এক কথা বারবার লেখা। গার্বেজ বীনে অনেক ছেড়া কাগজ যাতে লেখা আছে ”আর ওর গায়ে হাত উঠাব না”। দুজনে ভালো চাকরি করে। আমেরিকার মত জায়গায় প্রতিষ্ঠিত কিন্ত দেখা গেল কিছু দিন পর থেকে ছেলেটি মেয়েটির গায়ে হাত তুলছে কারণে অকারণে। একদিন মেয়েটি রান্না ঘরে কাজ করার সময় ওর গায়ে হাত উঠালে মেয়েটি নিজেকে বাচাঁতে তাৎক্ষণিক রাগে হাতের ছুরি বসিয়ে দেয়। সুন্দর সাজানো জীবন এক নিমিষে ধূলিসাত হয়ে যায়। সেকেন্ড ডিগ্রিমার্ডার কেইসে কিছুদিন জেল খাটে। মেয়েটি বের হয়ে ক্রিমিনাল রেকর্ডের কারণে ভালো কাজ পায় না। অনেক গোপনীয়তায় দেশে কাজ জোগার করে চলে যায়। ছেলেটির ব্রাক্ষ্মণ বাবা তার মা কে মারতো সেই পশুত্ব তার মধ্যেও কাজ করে। অনেক শিক্ষাদিক্ষার পরও ছোটবেলায় দেখা পারিবারিক পরিবেশের অমার্জিত আচরন থেকে নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করেও বর্বর ব্যবহারের উর্ধে উঠতে পারেনি। ছোট বেলার দেখা বীজ মাথা চারা দিয়ে উঠে সাংসারিক জীবনে।
শিশুদের শিক্ষার জন্যও একটি সুন্দর পরিবারের প্রয়োজন।
প্রকৃতি মেয়েদের উপর সন্তানধারনের পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে এই ভার মেয়েরা বহন করে চলেছে। সখ করে কি কেউ নয় মাস দশ দিনের সন্তান ধারনের কষ্ট, এরপর প্রসবের কষ্ট, এত সব কষ্ট বাধ্য না হলে নিত? উন্নত অনেক দেশে সুযোগ থাকার কারণে মেয়েরা বিয়ে এবং সন্তান ধারণ থেকে দূরে থাকছে যতদিন নিজে থেকে পবিবার গঠনের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ উপযুক্ত মনে না করছে।

আজ যদি কোন সিস্টেম বের হয় ছেলেরা সন্তান ধারন করতে পারবে ক’জন পুরুষ এগিয়ে আসবে আনন্দিত মনে ?
মেয়েরা মায়ের জাত, মাতৃত্ব, মমত্ব, মায়ায় ভরা মেয়েদের শরীর । অনেক অত্যাচার, অবিচারে, জর্জরিত হয়েও অনিচ্ছার পরও মেয়েরা সন্তানের মায়া ত্যাগ করতে পারে না। সন্তানের কারণে ধুকে ধুকে বিসর্জন দিতে থাকে নিজের জীবনের সকল চাওয়া পাওয়া। পরিবারের কোন সদস্য কি খেয়াল করে নিরবে নিভৃতে একাকি একজনের নিঃশেষ হয়ে যাওয়া। বরঞ্চ যার কারণে মেয়েটি হতে পারতো মহাসুখি সেই একটি মানুষ হয় তার দুঃখের কারণ। স্বামী নামক লোকটি কি কখনো ভেবে দেখেন স্ত্রী তার জন্য কতটা সেক্রীফাইস করেন। স্ত্রী মহিলাটি যখন কারো মেয়ে ছিল তখন কেমন ছিল তার জীবন যাপন কি সে করত, কি ভাবত? স্বামীর সংসারে আসার জন্য কি তার নিজের চাওয়া পাওয়া কাজ কর্ম সব কবর দিয়ে দিতে হবে। যে মেয়ে নাচ করে, গান করে, শিল্প সংস্কৃতিতে জড়িত ছিল যার গান শুনে অথবা নাচ দেখেই তাকে পছন্দ করা হয়েছে বিয়ের জন্য । বিয়ের পর ক’জন সে নাচ, গান ধরে রাখতে পারে? যারা চাকরি করেন তাদের চাকরি করতে দেয়া হয় প্রয়োজন অনুযায়ী। সংসারে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হলে স্ত্রী কাজ করার অনুমতি পায়। চাকুরিজীবি মহিলাদের সংসারে কতবেশী কাজ করতে হয় সে শুধু চাকরিজীবি মহিলারাই জানেন। পুরুষ চাকরী করেন বলে সংসারে রান্না, ঘর গোছানো, কাপড় ধোয়ার কাজ বা বাচ্চা দেখা শোনা, খাওয়ানো, পড়ানোর মতো কাজ কিছুই করেন না। কিন্তু স্ত্রী কখনোই এসব কাজ থেকে অব্যহতি পান না। আর যদি বাড়তি টাকা প্রয়োজন না হয় তা হলে স্ত্রী যত ভালো কাজ করুন না কেন কাজ ছেড়ে দিতে হয়। তার লেখা পড়া, মানসিক চাওয়া পাওয়ার কোন মূল্য থাকে না। সব পুরুষ এমন তা আমি বলছি না। সব কিছুরই ব্যাতিক্রম থাকে। তাইতো এখনো বহু মহিলা নানা রকম কাজে নিয়োজিত আছেন। তবে সবাই যে মহা সুখে আনন্দে স্বামীর ভালোবাসায় কাজ করে যাচ্ছেন তা কিন্তু নয়। বেশির ভাগ মহিলারা অনেক ঝড় ঝঞ্জা বুকে নিয়ে চাকুরিজীবি, শিল্প, সাহিত্য কর্মী। তারা জানেন প্রতিদিন তাদের কতটা উজান ঠেলে চলতে হয়। অথচ ভালোবাসার সুন্দর সম্পর্ক প্রত্যেককে আরো দৃঢ় বাধনে বাঁধে। অনেক বেশী এর্নাজি দেয়। সব শিক্ষার পরও সেই শ্রীলঙ্কান ছেলেটির মত পরিশিলীত হয়ে উঠতে পারে না অনেক পুরুষ। পৌরুষের গর্ব নিয়ে নারীকে নিঃস্পেষিত করেন। যারা সমাজে সনামধন্য, সামাজিক কাজে যাদের অনেক অবদান সে সব পুরুষের কয়জন ঘরে নিজের স্ত্রীকে সত্যিকারের সম্মান মর্যাদা দেন?
যুগে যুগে নারীরা পৃথিবী তে চাষবাস থেকে শুরু করে অনেক প্রয়োজনীয় পারিবর্তনে অবদান রেখেছেন। নেপোলীয়ন বলেছিলেন,” শিক্ষিত নারীরাই শিক্ষিত জাতী তৈরী করতে পারে”। মা একটি পরিবারের মূল চালনা শক্তি। মা যত ভালো জানবে সন্তান তত ভালো শিক্ষা পাবে। কিন্তু দুজনের পরিবারে মা একা কতটা করতে পারে যদি সন্তানের বাবা সহযোগীতা না করেন? মায়ের ত্বত্তাবধানের সাথে যদি বাবার ভালোবাসা যত্ন পেয়ে বেড়ে উঠে শিশু, মানষিক ভাবে সুস্থ, সাবলীল একজন মানুষ হয় সেই সুন্দর পরিবারের শিশুটি । একটি শিশুকে পৃথিবীতে আনার আগে দুজনের মিলিত শতস্ফূর্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া অত্যন্ত জরুরী।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১০ রাত ১১:২৭
১৫টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×