somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

নতুন প্রজন্ম কী ভাবে শুরু করবে জীবন

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব:এক
Click This Link
পর্ব:দুই
দশ বারো বছরে নিজস্ব ভুবন তৈরী হয় শিশুদের মনে। এই সময় ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকে আপন মনে। অভিভাবক মনে করেন বাচ্চা আমার কথা শুনে চলবে আমার ইচ্ছা মতন চলবে। কিন্তু একটি মানুষের ভিতরের অনুভূতি, মেধা, প্রজ্ঞা তার নিজের মতন বিকশিত হতে থাকে। স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি মানুষ, প্রত্যেকে আলাদা মানুষ । কিন্তু আমরা মনে করি প্রতিটি বাচ্চা এক রকম হবে। ও পারে তুমি পারো না কেন? ধমক, মার দিয়ে শিখাতে চাওয়া, একটা বড় ভুল ধারণা । বাচ্চার প্রতিভা ম্রিয়মাণ করে দেওয়া হয়। আমি পারি না। আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না এমন ধারণা, বাচ্চার স্বাভাবিক চিন্তা চেতনার মাঝে বাসা বাঁধে তাকে নিরাশার দিকে নিয়ে যায়। অবদমিত করে ওর ইচ্ছা, এরা কোন কিছু করার আগ্রহ হারায়। অথবা প্রবল ইচ্ছা সম্পণ্ন বাচ্চারা জেদী হয়ে উঠে। যখন তারা বুঝে সব কিছুতে বাঁধা পাবে তখন তারা গোপনে কাজটি করে। অভিভাবককে জানায় না। বকা খাওয়া, মার খাওয়ার ভয়ে। বাচ্চাকে তার আপন ক্ষমতা অনুযায়ী বাড়তে দেয়া উচিত। জোড় করে অনেক কিছু করাতে চাওয়া ঠিকনা যা তার সাধ্যের বাইরে। সবাই সব কিছু পারে না। এক এক জনের মেধা এক এক রকম।
বাচ্চাদের মনে কৌতুহল থাকে তাই তারা ছটফট করে। জানতে চায় হাজার প্রশ্ন করে। তাদের আগ্রহকে মূল্য দেয়া উচিত। কিছু না পারলে উৎসাহিত করা দরকার। সবচেয়ে বেশী যা করা উচিত তাহলো বন্ধুর মতন আচরণ করুন। আপনি যেন আপনার বাচ্চার সবচেয়ে বড় আশ্রয় স্থল হতে পারেন সে চেষ্টা করুন আপনার বাচ্চারা যেন আপনাকে ভয় না পায়, সমীহ করে, ভালোবাসে, সহজ সাবলীলতায় প্রাণের কথা বলতে পারে সে অবস্থান তৈরী করুন। ছোটবেলার মতন যেন আপনার কাছে জানতে চাইতে পারে যে কোন বিষয়ে।
অভিভাবকের পরে শিক্ষক বাচ্চাদের শিক্ষার ভার নেন, ধৈর্য, ভালবাসা, সহানুভূতিশীল মানুষের শিক্ষক হওয়া উচিত। শিশু শিক্ষার দ্বায়িত্ব যারা নেন তাদের শিশু শিক্ষার উপর পড়াশোনা করা উচিত শিক্ষক হওয়ার আগে। শুধু পড়ালেখা নয় বাস্তবিক ভাবে আপনাকে একজন সুন্দর মনের মানুষ হতে হবে,ধৈর্য, ভালোবাসায়, আন্তরিকতায় শিশু মনের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু হবেন তিনি। নিজের জ্ঞান ভান্ডার বিতরণ করবেন শিশুদের মাঝে গড়ে তুলবেন আগামি দিনের শক্তিশালী নাগরিক, একজন সুন্দর মনের মানুষ। আমাদের দেশে এসব চিন্তা কজন করে? শিক্ষকদের শিক্ষা নেয়ার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান আছে, বি এড কোর্স শিক্ষকদের কতটা শিক্ষিত করে আমি জানি না তবে বাস্তবে তেমন কোন আচরণ দেখি না আমাদের স্কুল গুলোতে। আর ইংরেজী স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক কোথায় প্রশিক্ষন নেন সেটা আমার প্রশ্ন? বাচ্চারা দূর্দান্ত রেজাল্ট করছে, ভালো করছে, এসব কিন্তু অভিভাবকদের কৃতিত্ব। জোড় জবরদস্তি বা ভালোবাসা বা অনেক শিখানোর তাগিতে অভিভাবক বিশেষ করে মা ব্যস্ত থাকেন বাচ্চার জন্য। আবার অনেক মা এর ধ্যান জ্ঞান হয়ে যায় বাচ্চাকে এক নাম্বার বানানোর। বাচ্চার মেধা, সহনশীলতা অনুধাবন না করে যদি প্রতিযোগীতায় প্রথম করার প্রবণতা থাকে, সেটাও সঠিক নয়। তবে আরো বিজ্ঞান ভিত্তিক, মনস্তাতিক ভাবে যদি পুরো বিষয় বিন্যাস হয় প্রজন্ম এগিয়ে যাবে। বিকশিত হবে চিন্তাধারার শিকড়।
ভেবে দেখুন একবার আপনার ছোটবেলার স্মৃতি। আপন মনে খেলছেন হঠাৎ বাবা বা মা প্রচণ্ডধমক দিলেন বা কষে একখানা থাপ্পর কিন্তু কেন যে পিটুনি দেয়া হলো সে সময় আপনি কী তা বুঝতে পেরেছেন? অনেক অভিভাবক আবার রাগ হলে হিতাহিত কাজ্ঞানহীনের মতন মারধর করেন বাচ্চাকে। পরবর্তিতে হয়ত নিজে অনুশোচনা করেন বাচ্চাকে অনেক আদর করেন কিন্তু বাচ্চার মনে স্থায়ী যে ভয়টা ঢুকে যায় সেটা অনেক সময় সারা জীবন বহন করে। শারীরিক বা মানসিক ভাবে। শাসন করার কথা যতই বলেন,আমি পিটুনি দেয়ার পক্ষে কখনোই বলব না। কখনই গায়ে হাত উঠাবেন না দয়া করে। ছোট বেলায় মার খাওয়াটা বড় হয়ে অন্যভাবে ফিরিয়ে দিবে। প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে বড় হবে শিশু। আশার বিষয় স্কুলে মারধর করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে সম্প্রতি। তবে মানসিক ভাবে হেনস্থা যেন না করা হয় সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। কিছু বাচ্চাকে ক্লাসে সবাই মিলে হেনস্থা করে, এক সময় শিক্ষক ও হয়তো তাকে আর সবার মতন ডাকতে শুরু করেন। এমন ঘটনা একটা সময়ে অহোরহো ঘটত। নির্যাতিত বাচ্চাটির একমাত্র ভরষা শিক্ষক, তার কাছে ভরষা না পেলে অসহায় হয়ে যায় বাচ্চাটি, আশা করি এই বিষয় উন্নত হয়েছে ,নতুন দিনের শিক্ষক অন্তত প্রতিটি বাচ্চাকে একরকম ভাবে দেখেন । আর শেষ আশ্রয় স্থল মা, বাবা তাদের কাছে যদি শিশু মন খুলে বিষয়গুলো বলতে পারে তা হলে অনেক সমস্যা সহজ হয়।
আরেকটা জরুরী বিষয় যা আমাদের খুব খোলাখুলি বাচ্চার সাথে আলোচনা করা দরকার। সে বিষয়টাকে আমরা সাত হাত মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখি। কথা বলিনা। লজ্জা পাই। যার ফলে বয়োঃসন্ধীর সময়টা দূরত্ব তৈরী হয় সন্তানের সাথে মা বাবার। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের এই পরিবর্তন শরীরে এর প্রয়োজন, ভালো মন্দ এসব বিষয়ে অভিজ্ঞতার আলোকে আপনি যদি শিক্ষা দান করেন আপনার সন্তানকে, তা হলে অসুবিধা কোথায়? বরঞ্চ তার মনের কৌতুহলের কারণে সে খুঁজবে না গোপন গলি পথ, হবেনা অনভিজ্ঞ কোন বন্ধুর শরণাপন্ন পরে যাবে না নর্দমার দূর্গন্ধের মধ্যে। ভয়ানক কোন ঘটনা থেকেও নিজেকে রক্ষা করতে পারবে, ভালো, মন্দ জানা থাকার কারনে। আপনি শিখিয়ে দেন আপনার সন্তানকে ভালো আর মন্দের পার্থক্য। আপনাদের ভিতর নিবিড় বন্ধন তৈরী হবে দূরে সরে না যেয়ে।
চলবে.........
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:১৫
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×