somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ ।আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায়অচেনা সবুজ দিগন্তচনযফ অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপ

স্টিয়ারিং আর আমার ভালোবাসা

১০ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝরাতে গাড়িতে তেল ফুরিযে যাচ্ছে অথচ পথ তখনও অনেক দূর। ব্যাগ খুঁজে দেখলাম ক্যাশ নেই, কার্ডও নেই। কারন বইমেলায় সব খরচ করা হয়ে গেছে ক্যাশ আর ব্যাগ বদলের জন্য কার্ড নেয়া হয়নি। এখন কি করা যায়! দূরের পথের শেষে বাড়ির কাছের গ্যাস স্টেশনটি বন্ধ হয়ে গেছে তখন। বাড়ি ফিরে কার্ড নিয়ে গ্যাস নেয়া যায় যেখান থেকে। কিন্তু ততদূর যাওয়া যাবে কিনা সেটা প্রশ্নবোধক হয়ে আছে মনে। বাড়ি পৌঁছে গেলে রাতে আর সকালে নেয়ায় তফাত হবে না। কথা হলো পৌঁছানো যাবে কিনা অতটা পথ।শেষ রসদ দিয়ে।
প্রচণ্ড তাতানো গরম অথচ কিছুটা গ্যাস বাঁচানোর জন্য এসি ছাড়া চলতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তারপরও আশংকা হচ্ছে শেষ পর্যন্ত যদি না পৌঁছাতে পারি। পথে আটকে গেলে কি হবে, যেমন প্রায় থাকে রাস্তায়, দূর্ঘটনা, রাস্তার কাজ আর জ্যামে আটকে থাকা। তেমন না হলে হয় তো উড়াল দিয়ে একটানা পৌঁছে যাওয়া যাবে। হয়তো ডাকা যাবে রোড সাইড এ্যাসিসটেন্ট কিন্তু তার জন্য কতটা সময় অপেক্ষায় কাটাতে হবে।
ভাবনার হিসাব নিকাশ মনের খাতায় মাইল আর গ্যাসের অংক কষে, যোগ ফল মিলাতে মিলাতে কিছুটা গতি বাড়িয়ে ব্রেক না চেপে চলার চেষ্টা করছি। প্রতিবার ব্রেক মারা মানে বাড়তি গ্যাস খরচ তবু মাঝে মাঝেই থেমে যেতে হচ্ছে কিছু অর্বাচীন চালকের বেকুফি এক্সেপ্রেস পথ আটকে চলার জন্য। হাইওয়েতে ব্রেক না করে গাড়ি চালানোর পরীক্ষা পাশ করতে হয় অথচ তারা চলছে থেমে থেমে , অকারণ ব্রেক মেরে।
চারপাশে যখন অনেক গাড়ি তখন আমি আবার জানলা খোলা রাখতে পারি না। হাওয়ায় চুল উড়ে মুখে পরতে থাকলে অসুবিধা হয়। হুড খোলা গাড়িতে কি ভাবে যে মানুষ চলে, ফ্যাশন করে গায়ে ধূলাবালি আর বাতাস মেখে।
ভাবনার গতি কত পথে বিস্তৃত হয় হাইব্রিড গাড়িটাকে না রাখার আফসুসটাও পেয়ে বসছে সুযোগ পেয়ে। গ্যাস নিয়ে ভাবার দরকার ছিল না জ্যামে বসে। তেল বিহীন অপেক্ষা কি অসাধারন ছিল। কত তলানীতে ঠেকানো তলের ট্যাঙ্ক নিয়ে পেরিয়েছি কত পথ নির্দ্বিধায়।
" আমার যা ছিল তা গেল ঘুচে যা নেই তার ঝোঁকে–" যা আছে তা প্রচণ্ড গরম। ব্যাস্ত রাস্তা আর তলানীতে টেকা তেল নিয়ে পথ চলা আনন্দ উৎকন্ঠা।
হ্যাঁ.. উৎকন্ঠার মধ্যে আনন্দ থাকে। ভাবছিলাম পেট্রোল পাম্প কি ডোনেট করবে পাঁচ, দশ ডলারের তেল হয় তো পরে ফিরিয়ে দেব। এমন ধার নেয়ার সুযোগ আছে কি না!
আর অতি ভাবনায় নিমজ্জিত আমি পেরিয়ে যেতে থাকলাম হাইওয়ে টেনের এক্সিট । এক্সপ্রেস লেফট থেকে চারটা লেইন পেরুতে পারলাম না কিছু স্লথের জন্য সেকেন্ডের জন্য পেরিয়ে গেলাম এক্সিট লেইন। আহা আমার কাঙ্খিত পথ যায় এক দিকে আমি যাই অন্য দিকে এমনই হবে আমার যখন প্রতি বিন্দু বাঁচানোর চিন্তা মাথায়। পথ আবার আসবে ঘুরে তবে যেতে হবে অনেকটা দূর। সেটা এই রাতে করা যাবে না। ভেবে পরবর্তি এক্সিট নিয়ে বেরিয়ে এলাম। আবার নর্থে যাওয়ার রাস্তাটা খানিক পরেই সামনে এলো। আর ঠিক তখনই মনে হলো যা হয় ভালোর জন্যই তো হয়। ভুল হলেও এই কাজটাই করা দরকার ছিল এতক্ষণ মাথায় আসেনি কেন?
দুই কিলো মিটারের মধ্যে ছেলের বাড়ি তাকে বলি গ্যাস ভরে দিক । তবে কথা হলো, সে এখন আছে কিনা। দণ্ডনিও অপরাধটি ঝুঁকি নিয়ে করে ফেললাম গাড়ি চালাতে চালাতে ফোন দিলাম। আহা সোনায় সোহাগ মূহুর্তে কথা হযে গেল। বলল, আসো আমি নিচে নামছি।
গ্যাস নিয়ে ওকে বাড়ি নামিয়ে দিয়ে আবার রওনা হবো। এই এলাকাটায় প্রায় হারিয়ে যাই, তেমন হাতের তালুর রেখার মতন রাস্তাগুলো মুখস্ত নয় বলে। বললাম পথটা বলে দাও। ডান বাম সোজাটা মাথায় এঁকে নেই হাইওয়েতে উঠার পথটা।
জিপিএস দেখো না! আধুনিক মানুষের আধুনিক কথা। জিপিএস দেখে দুবার চক্কর খেয়েছি আসার সময়। চেনাচেনা বলে বের করতে পেরেছি বাড়িটা। সেটা না বলে বললাম, তবু বলে দাও। এই মেশিন ঠিকঠাক মতন কাজ করে না আমার জন্য।
তবু ধারন করে নেই মেশিনে পথটা, এই না ভেবে ফোনটা তুলতে গেলাম অথচ হাত ফসকে চলে গেল সিটের নিচে। বাহ দারুণ! এরপর একটা হালকা সবুজ রঙ ধারন করে বসে থাকল স্ক্রিন। আর কোন সাড়া শব্দ নেই। ইঞ্জিনিয়ার সাহেবও দেখে শুনে বললেন, গেছে এবার এটা ফেলে দিতে হবে তোমার।
ঠিক আছে ঐ আমার মান্ধাতার আমলের রাস্তা মনে রেখেই চলতে হবে।হাইওয়েতে উঠে গেলে আর সমস্যা নেই। শুধু তার আগের পথটুকু পেরুনো একটু ঝামেলা। না পেলে দু চারবার ঘুরতে হবে তবে শেষে পেয়ে যাব ঠিকই এই কনফিডেন্স আছে আমার। ডান বাম বুঝে নিয়ে রওনা দিলাম আমি আর সে মন খারাপ করল, এত রাতে ফোনবিহীন আমার চলায়।
মাথায় এঁকে নেয়া রাস্তা সারা সময়ের সঙ্গী কখনো ভুল পথে নেয় না আর কখনো মেশিনের উপরও নির্ভর করতে হয় না। বেশ চলে এলাম মাথায় গাঁথা রাইট লেফট হিসাব করে হাইওয়ের উপর। এবার আর কোন ভাবনা নেই।
ঘন্টাখানেক পথ চলছি হাওয়ায় হাওয়ায় তারার আলোয়। শহুরে গেঞ্জাম থেকে বেরিয়ে যেতেই আঁধারঘেরা তারার আকাশ সাথে চলছি। ফাঁকা রাস্তার উপর উঠে মোবাইল খানা হাতে নিয়ে পুরানো দিনের রেডিওতে যেমন চড় থাপ্পর দিয়ে চালানো হতো তেমন করে ঝাঁকুনি মারলাম। ওমা কি আনন্দ তিনি দেখি সবুজ রঙয়ের খোলস ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে হাসছেন। এক্কেবারে ঠিকঠাক। কি অসুখ করে ছিল মোবাইলটার কে জানে, ডাক্তারখানায় নেয়ার আগেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন নিজে নিজে। সব ভালো তার শেষ ভালো যার। ছেলেকে জানিয়ে দিলাম তিনি ভালো হয়ে গেছেন। আমিও চলছি ঠিক ভাবে আর খানিক পরই বাড়ি পৌঁছে যাব। জোনকি ও তারারা আলো জ্বেলে অপেক্ষায় আছে আমার তখনও।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:০৫
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনি কি এই ১০ টি উপকারী সাইটে কখনো যাননি? তবে আপনার জন্যে লিংক উইথ রিভিউ নিয়ে এলো সামুপাগলা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৯ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৩১

অন্তর্জালের জালেই আজকাল সবার জীবনের লম্বা সময় কেটে যায়। কে না চায় সেই সময়টি হোক একটু আনন্দদায়ক? শত শত সাইটের মধ্যে অনেক ভালো সাইট চোখের আড়ালেই থেকে যায়। তাই নানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বুক পকেটের স্বপ্ন।(ছোট গল্প)

লিখেছেন কাইকর, ১৯ শে জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৪


গ্রাম থেকে শহরে এসে মেসে থাকি।দারিদ্র্য মানুষকে স্বপ্ন দেখায়।আমি এক বুক স্বপ্ন বুক পকেটে ভরে এসেছিলাম এই জাদুর শহরে।লেখা-লেখি ছাড়া তেমন অন্য কিছু পারিনা।শহরের বড় বড় পত্রিকায় গল্প,কবিতা দিয়ে যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গুলতেকিনের সংসারে হুমায়ূন…’

লিখেছেন নান্দনিক নন্দিনী, ১৯ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:১৪



‘প্রেম আর অপ্রেমের মাঝখানে
হাঁ ও না-এর মাঝখানে অনেক কিছু থাকে।
প্রেমিক মাত্র জানে
প্রেম আর ঘৃণার মাঝখানে বহুকিছু থাকে।

বোধের সমুদ্রে ভাষা,
এক ফোঁটা অশ্রুর মত মিশে যায় মাঝে মাঝে।
এক লক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু অনুভব

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৯ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৩

অনুভব

বেদনা
তীব্র বেদনায় অশ্রুহীন কাঁদে যে চোখ -
হাসির আড়ালের দেখেছি তার শ্রাবন বর্ষন
চিতার দহন দাহন সেথা
সৃষ্টি কর্মে আড়াল সাতকাহন ।

সন্ধান

তুই কি জানিস? তুই আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নয়ন তোমারে পায়না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে..

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৫০


আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, যারা হুমায়ূন আহমেদের লেখা নিয়ে হাসাহাসি করে- তারা হুমায়ূন আহমেদের সব লেখা পড়েন নি। আমার বিশ্বাস যারা হুমায়ূন আহমেদের সব লেখা পড়বেন তারা অবশ্যই হুমায়ূন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×