somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রোকসানা লেইস
স্রোতের অজানা টানে সমুদ্র বালিয়াড়ি বেয়ে বোহেমিয়ান- গৃহকোন, জীবন যাপন ফেলে চলে যায়। তুমি দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে বাঁধতে চাও জোছনা গলে হারিয়ে যায় সুখ । আছড়ে পরা ঘূর্ণিজল মনে বাজায় অচেনা সবুজ দিগন্ত ..

পুড়ে যায় বনাঞ্চল নিঃশ্বাসে উষ্ণতা

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতে বজ্র বৃষ্টি, ঝড়ের তুমুল মাতনের পরই জোছনা উঠল অকাশ আলো করে। একটু আগেই যখন কিচ্ছু দেখা যাচ্ছিল না। কেবল শব্দ আলোড়িত করছিল। সব শান্ত হয়ে জোছনায় ভেসে যেতে লাগল চড়াচড়। বিদ্যুত চলে গিয়েছিল কয়েকবার ঝড়ের দাপটে। ভেবেছিলাম কতক্ষণ না জানি বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হয়। কিন্তু যাওয়াটা স্থায়ী হয়নি। ভালো কথা ঝড় বৃষ্টির দাপট ছাড়া তেমন ক্ষতি হয়নি চারপাশে।
ডরিয়ান দুই সেপ্টম্বর থেকে প্রবল আক্রশো, হামলা করে বাহামাকে বিছিয়ে দিয়ে আটলান্টা কেরোলিনা বিছিয়ে দিয়ে নোভাস্কসা,নিউফাউন্ডল্যান্ড তছনছ করে কুইবিকের দিকে ধাবিত হয়ে ছিল। গত একটা সপ্তাহ গুমট মেঘলা আর শীতের আধিক্য চলছিল। অতপর কাল দুপুরের তুমুল তাপ প্রবাহে জেনেছিলাম কিছু আসছে। রাতে তার সাথে দেখা হলো।
আজ বুঝি সে তার রাগ থামাল কাল রাতের তুমুল বয়ে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে। সকাল থেকে দারুণ সুন্দর দিন।
এ বছর পুড়ছে বনাঞ্চল কানাডা আমেরিকা আমাজন এখন অস্ট্রেলিয়ায় পুড়ছে বনাঞ্চল।
এমনিতেই আমরা বাসযোগ্য করার জন্য কেটে সাফ করে ফেলেছি বনাঞ্চল । যেটুকু বনাঞ্চল আছে তাতেও আগুন লাগে প্রায়ই। বনের মাঝে কি এমনি এমনি আগুন লাগে, নাকি লাগিয়ে দেওয়া হয়।
দুই বছর আগে কানাডার ব্রিটিশ কলোম্বিয়ার বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে গেল। এবারও সেখানে আবার আগুন লাগল। সেটা নিভাতে না নিভাতে ওন্টারিয়র নর্থে আগুন লাগল। আদিবাসীদের সরিয়ে নেয়া হলো হেলিকাপ্টারে করে আগুনের জন্য। একটার পর একটা বিশাল আকারের আগুন লাগছে এবার, প্যারিসের নটোরডাম চার্চ থেকে শুরু হলো। চার্চের ছাই ভষ্ম পরিস্কার করতে গিয়ে সেখানে ক্ষতিকর পদার্থ পাওয়া গেলে এখন অনেক সাবধানতা নেয়া হচ্ছে। অথচ আগুনে ছাই হয়ে মিশে গেছে সে ক্ষতিকর এডভেস্টার, আসেপাশে এলাকায়। সে সব মানুষ ভীড় করে দেখতে গেছে তাদের নিঃশ্বাসে।
রাতেরবেলা বাড়িতে বসে দেখতাম দূরে পাহাড়ে আগুন জ্বলছে। পাহাড়ে চাষ করার জন্য আগুন জ্বালিয়ে বনাঞ্চল উজাড় করে পাহাড়িরা সেখানে চাষ করত। এটাই নিয়ম ছিল। কেউ ভাবেনি কত কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে মিশে কতটা ক্ষতির পরিমাণ বাড়াচ্ছে ।
মানুষ নিঃশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করে আর কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে প্রশ্বাসে। গাছ গ্রহণ করে কার্বন ডাই অক্সাইড আর ত্যাগ করে অক্সিজেন বিশুদ্ধ করে বাতাস। আমাদের জীবন রক্ষায়। ৪৮ পাউন্ড কার্বন ডাই অক্সাইড নিতে পারে প্রতি বছরে একটি বয়স্ক গাছ।
যদি গাছ কাটা হয় বা অরণ্যবিনাশ হয় কাটা বা পুড়ে যাওয়ার মাধ্যমে। ধারনকৃত সব সব কার্বন ডাই অক্সাইড গাছ থেকে মিশে যায় বাতাসে।
চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া প্রকৃতির এই গ্রহণ পরিত্যাগের, পরিশোধন প্রক্রিয়া কত বিশাল প্রভাব বিস্তার করে আমাদের জীবনে আমরা কল্পনাও করতে পারি না।
জনা কয় শিক্ষিত মানুষ যাও বা জানেন খুব একটা গা করেন না এই বিশাল ব্যাপার নিয়ে। পরিবেশবাদী কিছু মানুষ পরিবেশ রক্ষায় অনেক সময় জীবন মরন পণ করে বসেন।
বছর বিশ আগে একটা খবর পরেছিলাম। আমেরিকার এক মহিলা গাছের উপর চড়ে বসে আছেন গাছ কাটতে দিবেন না সে জন্য।
হুমায়ুন আহমেদ মনে হয় ঢাকায় একবার গাছ বাঁচানোর জন্য বসে ছিলেন।
অথচ মানুষের খানিকের অসর্ততায় পিকনিকের ফেলে যাওয়া আগুন বা সিগারেরটে না নিভানো আগুন। হাজার হাজার গাছ বনাঞ্চল পুড়ে অনেক কার্বন ডাই অক্সাইড এনে দেয় পৃথিবীর বুকে। মানুষ এক সময় কার্বন ডাই অক্সাইডের চাপে হারিয়ে যাবে।
আমাদের আধুনিক জীবন যাপনে, প্রশ্বাসের মতন আমাদের ব্যাবহৃত যন্ত্রপাতি থেকে সমানে বাতাসে ছড়িয়ে দিচ্ছি কার্বন ডাই অক্সাইড।
আমাজনের বিশাল বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হতে সময় লাগল কতক্ষণ। অথচ এক একটা বিশাল গাছ শত বছর ধরে নিজের বুকে জমিয়ে রেখেছিল যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড আকাশে ছড়িয়ে পরল তা এই ভয়াবহ সময়ে। যখন বিশ্ব উষ্ণতার হুমকির কবলে পরে গেছে এ সময়ে আরো আরো কার্বন ডাই অক্সাইড মিশে গেল বাতাসে। মরে গেল শত বছরের গাছ। অনেক ওষুধি গাছ আর কখনোই পাওয়া যাবে না হয় তো যা ছাই হয়ে গেল আগুনে। বিরল প্রজাতির গাছ যা শুধু আমাজানেই দেখা যেত তাদের সাথে দেখা হলো না আর।
প্রকৃতির এই পুড়ে যাওয়ার সাথে মানুষের তৈরি পুড়ে যাওয়া বিশাল প্রভাব ফেলছে মানুষের জীবনে। আজ এগার সেপ্টেম্বর। উনিশ বছর আগে টুইন টাওয়ার পুড়িয়ে যে প্রভাব ফেলা হয়েছে মানুষের জীবনে তার প্রভাবে মানুষের সম্পর্ক কেবল পিছনের দিকে ফিরছে। শত্রুতার চোখ মেলে তাকিয়ে আছে সন্দেহের চোখে মানুষ একে অপরের দিকে। এখন কেউ কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না। অথচ হেইট ক্রাইমের এই চিহ্ন আগে চোখে পড়েনি তেমন। প্রকৃতির ধ্বংসের সাথে মিলে মিশে যাচ্ছে মানুষের ধ্বংস প্রক্রিয়া।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাহি না : পুুণ্যময় মুহররমের শিক্ষা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৭



কৈফিয়ত:
দশ মুহররম গত হয়ে চলে গেছে আমাদের থেকে। মুহররমের আজ ১৪ তারিখ। হ্যাঁ, সময় পেরিয়ে যাওয়ার কিছুটা পরেই দিচ্ছি এই পোস্ট। পোস্ট লিখে রেখেছিলাম আগেই। কিছুটা ব্যস্ততার জন্য কম্পিউটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটোপসি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩২

যে পাহাড়ে যাব যাব করে মনে মনে ব্যাগ গুছিয়েছি অন্তত চব্বিশবার-
একবার অটোপসি টেবিলে শুয়ে নেই-
পাহাড়, ঝর্ণা, জংগলের গাছ, গাছের বুড়ো শিকড়- শেকড়ের কোটরে পাখির বাসা;
সবকিছু বেরিয়ে আসবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব গাঁথা আমাদের ইতিহাস : ঘটনাপঞ্জি ও জানা অজানা তথ্য। [১]

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮


আমার এ পোষ্টটি সবার ভালো না ও লাগতে পারে । যাদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা সর্ম্পকে বিন্দু মাত্র শ্রদ্ধাবোধ বা আগ্রহ নাই তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার পথে পথে- ১৪ (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩



ঢাকা শহরের মানুষ গুলো ঘর থেকে বাইরে বের হলেই হিংস্র হয়ে যায়। অমানবিক হয়ে যায়। একজন দায়িত্বশীল পিতা, যার সংসারের প্রতি অগাধ মায়া। সন্তনাদের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা- সে-ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রলীগ নিয়ে শেখ হাসিনার খোঁড়া সমাধান!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫



Student League News

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, ছাত্র রাজনীতির দরকার ছিলো না; ছাত্ররা ছাত্র, এরা রাজনীতিবিদ নয়, এরা ইন্জিনিয়ার নয়, এরা ডাক্তার নয়, এরা প্রফেশালে নয়, এরা শুধুমাত্র ছাত্র;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×