
ফেইসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার এক কলেজছাত্রী মামলা দায়েরের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা।
গত ১৫ ফেব্র"য়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
বাদিনির আইনজীবী তুষার রায় জানিয়েছেন, আদালত নতুন করে দিন ধার্য করেছে আগামী ৪ মে।
নিজেকে প্রতারণার শিকার দাবি করে গত ৩০ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলাটি করেন ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের øাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের ওই ছাত্রী।
মহানগর হাকিম একেএম এমদাদুল হক নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ঘটনাটি তদন্ত করে ১৫ ফেব্র"য়ারির মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
ওই নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্ব পান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান।
মামলাটি করা হয় তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ও ৬৬ ধারায়। এ আইনে এটাই ঢাকার আদালতে প্রথম মামলা।
মিজানুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, উত্তরার ঠিকানায় আসামিদের পাওয়া যায়নি। তাদের স্থায়ী ঠিকানা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ফেইসবুকে দেওয়া তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে মামলার বাদিনির আইনজীবী তুষার রায় জানিয়েছেন, আসামিরা টেলিফোন করে ও অন্যান্য উপায়ে বাদিপক্ষকে মামলা তুলে নিতে অনবরত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
মামলার আসামিরা হলেন- উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ এভিনিউয়ের ৪২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আবু রেজা ও সঞ্জয় দে রিপন। আলোছায়া নামে একটি পত্রিকার রেজা প্রকাশক এবং রিপন ওই পত্রিকার সহসম্পাদক বলে মামলায় বলা হয়।
আরজিতে বলা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে রিপন বাদির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, আলোছায়া দৈনিক কালের কণ্ঠের একটি প্রকাশনা। তারা বাদিকে বসুন্ধরা সিটিতে কালের কণ্ঠ কার্যালয়ে নিয়ে এ ধারণা দেয়। পরে আলোছায়ার কার্যালয় উত্তরায় নিয়ে তাকে গত ১ জুনে চাকরি দেওয়া হয়।
চাকরিরত অবস্থায় রিপনের দেওয়া বিয়ের প্রস্তাব বাদি প্রত্যাখ্যান করলে রেজার যোগসাজসে রিপন বিভিন্ন সময়ে বাদির তোলা ছবি বিকৃত করে ফেইসবুকে একটি ভুয়া একাউন্ট খুলে তাতে তুলে দেন মামলায় বলা হয়।
বাদিনি অবিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা তার কাছে চাঁদাও দাবি করে এবং তার একটি বিয়ে ঠিক হলে তা ফেইসবুকের ভুয়া একাউন্টের চিত্র হবু বরের কাছে তুলে ধরে তা ভেঙে দেয়।
ফেইসবুকে এক ছাত্রীর বিকৃত ছবি তুলে সম্ভ্রমহানির অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রামের হালিশহরে আলিমউদ্দিন নামে এক প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



