গত জুলাই মাসটি আমি দৌড়ের উপরে ছিলাম। সেই পয়লা তারিখ থেকে দৌড় শুরু, আর এই ক’দিন হলো থেমেছি। এমন দৌড় যদি অলিম্পিকে দিতাম, নির্ঘাত পুরস্কার পেয়ে যেতাম
এবার সিলেটে আমরা গরম তেমন বুঝিনি। কারন বৈশাখের আগে থেকেই রোজ বৃষ্টির সাথে দেখা হচ্চিলো। গত দু’তিনদিন ধরে একেবারে তালপাঁকা গরম পড়েছে। ভাদ্রমাসও এলো বলে। এপাশ-ওপাশ করে উঠে পড়লাম। আমি আবার বেশী সময় শুয়ে থাকতে পারিনা। আমার হাড় মুড়মুড়ি ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। এক ঘন্টা, দু’ঘন্টা করে সময় যাচ্ছে, কারেন্ট তো আর আসেনা। বিদ্যুত অফিসে ফোন করতে করতে আমার আঙ্গুল ব্যাথা হয়ে গেলো, কিন্তু তাদের ফোন আর ফ্রি পেলাম না। বালতি, ডেগ-ডেকচি সব কিছুতে পানি ভরে রাখলাম। পানির ঘাটতি দেখলেই আমার মেজাজ গরম হয়ে যায়। কিন্তু রোজা রেখে তো মেজাজ গরম করতে পারি না। মোবাইলে ফেসবুকে ঢূকে ষ্ট্যাটাসে লিখলাম, “ভোর ৬টা থেকে কারেন্ট নাই, আহা! কি আনন্দ আজ আকাশে বাতাসে”।
বাসায় গুড়োগাড়া না থাকায় দুপুরে রান্নার কোন ঝামেলা এতোদিন ছিলোনা। এ বছর গুড়োগাড়া না এলেও ঝামেলাটা এসে গেলো। আহারে! আমার কুম্ভকর্ন তার জীবনের ইতিহাসে এই প্রথম রোজার মাসে দুপুর বেলায় খেলো। কি করবে বেচারা! সদ্য ঘটে যাওয়া ষ্ট্রোক, আর তিনবেলা ইনসুলিনের কারনে এবার আর ডাক্তার রোজা রাখার পারমিশন দিলোনা তাকে। তার জন্য টাকি মাছের ভর্তা, আর মাছের ডিম দিয়ে আমড়ার টক রান্না করে নিলাম, সেহেরির বেঁচে যাওয়া ভাতটুকু গরম করে দিলাম। নাহ! তখনো কারেন্ট আসে নি। জোহরের নামাজ পড়লাম ঘামে জুবজুবা হয়ে। ডানহাতে পাখা নাড়িয়েই চলেছি। দুপুর দুটো, কুম্ভকর্ণকে ভাত খেতে বললাম, মুখ দেখে মনে হলো আপত্তি করতে গিয়েও আমার গনগনে মুখের দিকে নজর পড়তে থমকে গেলো।
তিনটা, চারটা, নাহ! কারেন্ট আসার কোনই আলামত নেই। ইফতার বানানোর প্রস্তুতি শুরু হলো। তোলা পানি দিয়ে কাজ করা যে কি বিরক্তিকর, তা যারা করেছেন, তারাই জানেন। আমি নিজে খেজুর দিয়ে রোজা খুলে একটু ভাত খেয়ে নেই। ইফতারির হাবিজাবি আমার পছন্দ নয়। ইফতারের বাহুল্য আমি পছন্দ করিনা, তাই করিও না। ছোলা, সবজি পোলাও ওরা করলো, আমি পিঁয়াজু বানিয়ে সমাপ্তি টানলাম। গরমে মনে হচ্ছিলো আমার গলা পর্যন্ত শুখিয়ে আছে। বার বার কুলি করলাম। আসর গেলো কারেন্ট নাই। পাড়ার মসজিদে মাইকিং করতে শুনলাম, মসজিদে পানি নাই, মুসল্লিরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে অজু করে আসুন। এই অসহনীয় মুহুর্তেও মেজাজটা ঠিক রাখতে সচেষ্ট ছিলাম। মুঠোফোনে আপডেট দিচ্ছিলাম। সন্ধ্যা ৬টার সময় কাড়েণ্ট এলো। “আহা! কি আনন্দ আজ আকাশে বাতাসে”। ৭টার সময় আবার চলে গেলো। তারপর থেকেই চলছে এই “লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প”। আর আমি একটু পর পর গুনগুন করে কারেণ্টের অপেক্ষা করি। “দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি”।
==========================================
আপডেটঃ এই পোস্টটি যখন দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তার ঘন্টা খানেক আগে থেকে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জানালার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম, রাস্তায় পানি জমে গিয়েছে। ক্ষুদে মুসল্লিরা মনের আনন্দে সে পানিতে লাফালাফি, ঝাপাঝাপি করছে। আমার ইচ্ছে করছিলো, আমিও ওদের সাথে যোগ দেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

