somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহা! কি আনন্দ আজ আকাশে বাতাসে X( X(( X(

১৩ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত জুলাই মাসটি আমি দৌড়ের উপরে ছিলাম। সেই পয়লা তারিখ থেকে দৌড় শুরু, আর এই ক’দিন হলো থেমেছি। এমন দৌড় যদি অলিম্পিকে দিতাম, নির্ঘাত পুরস্কার পেয়ে যেতাম:)। দৌড় থামার পর জিরোনেরও অবসর পেলাম না। রমজান মাস শুরু হলো। আমি সহজে নফল রোজা মানত করিনা। রোজার কথা মনে হলেই ভয়ে আমার গলা শুখিয়ে কাঠ হয়ে যায়। কিন্তু যতই গলা শুখাক, রাখতে তো হবেই।:| আর হয়তো এই ভীতির কারনেই আল্লাহ আমার উপর রহম করেন, আমি রোজায় কোন কষ্টই অনুভব করিনা। যে আমি দিনে ১২/১৪ লিটার পানি পান করি, সেই আমার গলা শুখায় না, ক্ষিদে পেলে আমার ব্রহ্মতালুতে আগুন জ্বলে, কিন্তু রোজা রেখে ক্ষিদের অনুভুতি ভোতা হয়ে যায়। তাই রোজার প্রস্ততি নিয়েই ছিলাম। প্রায় ২৫/২৬ বছর যাবত আমি সেহরিতে কিছু খাইনা, শুধু প্রেশারের ওষুধ খেয়ে থাকি। রোজাকে স্বাগত জানাতে সেহেরিতে খেলাম। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম সেহেরির সময় কারেন্ট গেলোনা। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা সেহরি, ইফতার, তারাবি, কারেন্ট ছাড়াই পালন করার অভ্যাস করে নিয়েছি। বিস্ময়ে ড্যাবড্যাব চোখে টিউব লাইটের দিকে তাকিয়ে তাকিয়েই সেহরি খেলাম। ফজরের নামাজ পড়ে যেই শুয়েছি, অমনি কারেন্ট গেলো।X( একঘন্টা পর আইপিএসও শেষ হয়ে গেলো। গরমে অবস্থা কাহিল, ঘুম দৌড়ে পালালো।

এবার সিলেটে আমরা গরম তেমন বুঝিনি। কারন বৈশাখের আগে থেকেই রোজ বৃষ্টির সাথে দেখা হচ্চিলো। গত দু’তিনদিন ধরে একেবারে তালপাঁকা গরম পড়েছে। ভাদ্রমাসও এলো বলে। এপাশ-ওপাশ করে উঠে পড়লাম। আমি আবার বেশী সময় শুয়ে থাকতে পারিনা। আমার হাড় মুড়মুড়ি ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। এক ঘন্টা, দু’ঘন্টা করে সময় যাচ্ছে, কারেন্ট তো আর আসেনা। বিদ্যুত অফিসে ফোন করতে করতে আমার আঙ্গুল ব্যাথা হয়ে গেলো, কিন্তু তাদের ফোন আর ফ্রি পেলাম না। বালতি, ডেগ-ডেকচি সব কিছুতে পানি ভরে রাখলাম। পানির ঘাটতি দেখলেই আমার মেজাজ গরম হয়ে যায়। কিন্তু রোজা রেখে তো মেজাজ গরম করতে পারি না। মোবাইলে ফেসবুকে ঢূকে ষ্ট্যাটাসে লিখলাম, “ভোর ৬টা থেকে কারেন্ট নাই, আহা! কি আনন্দ আজ আকাশে বাতাসে”। X(

বাসায় গুড়োগাড়া না থাকায় দুপুরে রান্নার কোন ঝামেলা এতোদিন ছিলোনা। এ বছর গুড়োগাড়া না এলেও ঝামেলাটা এসে গেলো। আহারে! আমার কুম্ভকর্ন তার জীবনের ইতিহাসে এই প্রথম রোজার মাসে দুপুর বেলায় খেলো। কি করবে বেচারা! সদ্য ঘটে যাওয়া ষ্ট্রোক, আর তিনবেলা ইনসুলিনের কারনে এবার আর ডাক্তার রোজা রাখার পারমিশন দিলোনা তাকে। তার জন্য টাকি মাছের ভর্তা, আর মাছের ডিম দিয়ে আমড়ার টক রান্না করে নিলাম, সেহেরির বেঁচে যাওয়া ভাতটুকু গরম করে দিলাম। নাহ! তখনো কারেন্ট আসে নি। জোহরের নামাজ পড়লাম ঘামে জুবজুবা হয়ে। ডানহাতে পাখা নাড়িয়েই চলেছি। দুপুর দুটো, কুম্ভকর্ণকে ভাত খেতে বললাম, মুখ দেখে মনে হলো আপত্তি করতে গিয়েও আমার গনগনে মুখের দিকে নজর পড়তে থমকে গেলো।

তিনটা, চারটা, নাহ! কারেন্ট আসার কোনই আলামত নেই। ইফতার বানানোর প্রস্তুতি শুরু হলো। তোলা পানি দিয়ে কাজ করা যে কি বিরক্তিকর, তা যারা করেছেন, তারাই জানেন। আমি নিজে খেজুর দিয়ে রোজা খুলে একটু ভাত খেয়ে নেই। ইফতারির হাবিজাবি আমার পছন্দ নয়। ইফতারের বাহুল্য আমি পছন্দ করিনা, তাই করিও না। ছোলা, সবজি পোলাও ওরা করলো, আমি পিঁয়াজু বানিয়ে সমাপ্তি টানলাম। গরমে মনে হচ্ছিলো আমার গলা পর্যন্ত শুখিয়ে আছে। বার বার কুলি করলাম। আসর গেলো কারেন্ট নাই। পাড়ার মসজিদে মাইকিং করতে শুনলাম, মসজিদে পানি নাই, মুসল্লিরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে অজু করে আসুন। এই অসহনীয় মুহুর্তেও মেজাজটা ঠিক রাখতে সচেষ্ট ছিলাম। মুঠোফোনে আপডেট দিচ্ছিলাম। সন্ধ্যা ৬টার সময় কাড়েণ্ট এলো। “আহা! কি আনন্দ আজ আকাশে বাতাসে”। ৭টার সময় আবার চলে গেলো। তারপর থেকেই চলছে এই “লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প”। আর আমি একটু পর পর গুনগুন করে কারেণ্টের অপেক্ষা করি। “দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি”।
==========================================
আপডেটঃ এই পোস্টটি যখন দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তার ঘন্টা খানেক আগে থেকে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জানালার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলাম, রাস্তায় পানি জমে গিয়েছে। ক্ষুদে মুসল্লিরা মনের আনন্দে সে পানিতে লাফালাফি, ঝাপাঝাপি করছে। আমার ইচ্ছে করছিলো, আমিও ওদের সাথে যোগ দেই। :) জুম্মা ফেরত বেশীর ভাগ যুবককেই দেখলাম বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে ঘরে ফিরছে। এ বৃষ্টি আল্লাহ তায়ালার অনেক বড় নিয়ামত। আল্লাহ তার সকল বান্দার উপর নিয়ামত বর্ষন করুন, ক্ষমা করুন, রহম করুন। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৪:৫৮
৭০টি মন্তব্য ৬৮টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×