দেখতে দেখতে রোজা শেষ হয়ে এলো। কাল কিংবা পরশু সন্ধ্যায় বেজে উঠবে সেই গান, যেটা আমি সেই কোন ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। "ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশীর ঈদ"। এ গান ছাড়া রোজার শেষে ঈদ যেন ভাবাই যায়না। সময় বদলে গিয়েছে, মানুষ বদলে গিয়েছে কিন্তু এই গানের আবেদন এখনও ঠিক তেমনি আছে, যেমন ছিলো আমাদের সেকালে।
সেকালের ঈদ নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। সবই মুটামুটি এক রকম। সেই ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে সাজুগুজু করে পাড়া বেড়ানো শুরু হতো। পাড়া থেকে সব সংগী যোগাড় করে নদীর চরে, বা অজানা অচেনা পথ ধরে হেটে যাওয়া। অপরিচিত বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে তৃষ্ণা মেটানো। গোধুলী বেলায় ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে আসা। সেকালে সন্ধ্যার আগে ঘরে ফেরার অলিখিত আইন সব বাচ্চারাই মেনে চলতো। আর মা-বাবারাও নিশ্চিত জানতেন, তাঁদের বাচ্চারা যেখানেই থাকুক, নিরাপদে, সুস্থ অবস্থায় ঘরে ফিরে আসবে।
কিশোরী বেলায় রাত জেগে ছোট বোন আর পাড়ার ছোট ছোট মেয়েদের হাতে সুনিপুন ভাবে মেহেদীর নকশা ফুটিয়ে তোলা। ঘর-দোর গুছিয়ে রাখা, বাসন-প্লেট ধুয়ে-মুছে ঠিক করে রাখা। ফুলদানীর জন্য তাজা ফুল জোগাড় করা। রান্নাঘরে মাকে সাহায্য করা। ঈদের দিন ভাইয়ার পাঞ্জাবীর বোতাম লাগিয়ে দেয়া ও চুল আচড়িয়ে দেয়া ছাড়াও পুতুলের মতো সুন্দর ছোট বোনটাকে সাজানোর ব্যর্থ চেষ্টা করা। সে চুল বাধবেনা, ক্লিপ আটকাবেনা, আর আমি জোর করে ওর চুল বেধে, চুলে ক্লিপ আটকিয়ে দিতাম। বান্ধবীরা বাসায় এলে আড্ডা, হিহি হা হা হতো। না এলেও আমরা তিন ভাই-বোনই যথেষ্ট ছিলাম।তখনও মফস্বল শহরে টিভি থাকলেও সেটা দেখা যেতোনা।
ঈদের চাঁদ দেখা গেলেই সাইরেন বেজে উঠতো। আর অমনি শুরু হতো আমার ব্যাস্ততা! আমি ঢুকতাম রান্না ঘরে। স্বামীর, শ্বশুর, দেবর, ননদ, ছেলে-মেয়ের পছন্দের রান্না খুশী হয়ে রান্নায় লেগে যেতাম। সঙ্গে সাহায্য করতো ননদেরা, পরে কাজের লোকেরা, মেয়ে। ঘর গোছানো, ইস্তী করা পর্দা, কুষন কাভার এসব লাগাতো কুম্ভকর্ন। অবশ্যই তাকে সাহায্য করতো তার বোনেরা। পরে এসব কাজ মেয়েই করতো। তারও পরে আমার দীর্ঘদিনের সাহায্য-কারিনী খুশীই সব করতো। শুধু কোর্মা, কালিয়া রান্নাটা আমি করতাম আর বাকি সব সেই সামাল দিতো। আর এখন? ঈদ এলেই আমার কোথাও হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।
দীর্ঘ একমাস সংযমের পর ঈদ আসছে রকমারী খাবার নিয়ে। সে খাবার দেখে রসনা সংযত করা অনেক মুশকিল হলেও নিজের শরীরের কথা আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে। একমাস রোজায় আমাদের শরীরের পর্যাপ্ত পানি পুরন হয়না। তাই শরীরের পানির ঘাটতি পুরনের কথা মাথায় রেখে আমাদের প্রচুর পরিমানে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার রান্না বা খাওয়া থেকে বিরত থাকবো। একবারে বেশী করে গপাগপ না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাবো। ঈদের দিন টমেটো, শশার সালাদের সঙ্গে সব্জির আইটেম দু একটা রাখলে মন্দ হয়না। খাবার পরে ডেজার্ট হিসেবে দই রাখতে পারি। দই পেটকে ঠান্ডা রাখে।
ঈদে সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, নিরাপদ থাকুন। সবার জন্য ঈদের অসংখ্য শুভেচ্ছা।
ঈদ মোবারক।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



