অনেক দিন সামুতে কোন পোস্ট দেয়া হয়নি। কি দিবো ভাবতে ভাবতেই সময় পার! তাই ঈদ-পরবর্তী কিছু রেসিপি নিয়ে এলাম। আমার রেসিপি মানেই হলো চটপট/ ঝটপট করে কিছু রান্না। চরম আইলসা হইলে যা হয় আর কি?
ঈদ তো শ্যাষ! গুস্ত খাইতে খাইতে মুখের চাপা-চুপা বেদনা হইছেনি? গুস্ত দ্যাখলে মিজাজ বিলা হয়? হইলে আমার উন্দালে বইতে পারেন। আপনারার লাইগ্যা আইজ আনছি মুলা, আলু, বেগুন, ইলিশ মাছ সহযোগে শুটকি, ছোটমাছ চচ্চড়ি, আর গরুর ভুড়ি ভুনা বা ভা্জা। আর যারা ভুড়ি শুইন্যা ফাল দিয়ে নাকে হাতচাপা দেন, তাগোরে কই,- ভাই এই পুস্ট থাইকা ১০০ হাত দূরে থাকেন।
সবজি, মাছ সহযোগে শুটকি
২টি মুলা চাক চাক করে কেটে মাঝখান দিয়ে দুই টুকরা করে নিন।
১টা বড় আলুও মুলার সাইজে কেটে নিন।
১টা বড় আলুও মুলার সাইজে কেটে নিন।
৪ টুকরা ইলিশ মাছ অথবা আধ কাপ কুচো চিংড়ি।
রসুন কোয়া ৬/৭টি, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ,
কাঁচামরিচ ফালি ৭/৮টা ( আপনার রুচিমত)
হলুদ গুড়া ১ চা-চামচ, মরিচ গুড়ো ১ চা-চামচ।
লবন পরিমান মতো, তেল ১ টেবিল চামচ।
চ্যাঁপা শুটকি ৩/৪টি ভালো করে ধুয়ে নিন।
সব সবজি ধুয়ে একটি হাড়ি/কড়াইতে নিন। সব্জির উপর ইলিশ মাছ ছাড়া বাকি সব কিছুই দিয়ে দিন। চিংড়ি মাছ হলে তাও দিয়ে দিন। আধ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে চুলায় বসিয়ে দিন। মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নেড়ে দিবেন। সবজি সেদ্ধ হয়ে গেলে ইলিশমাছ হালকা ভেজে/ না ভেজেও দিতে পারেন। ঝোল মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিন। ( আমার মত যারা চরম আইলসা, তাদের জন্য সুবিধা)
ছোটমাছ চচ্চড়ি
ছোটমাছ ( কাঁচকি/মলা/ বা পাঁমেশালি ) ২ কাপ।
পেঁয়াজকুচি এককাপ, রসুনকুচি ১ চা-চামচ, হলুদ আধ চা-চামচ,
মরিচ গুড়ো আধ-চা-চামচ, কাঁচামরিচ ৪/৫টি, লবন, তেল ধনেপাতা পরিমানমত।
প্রথমে কড়াইতে তেল দিন। পেয়াজকুচি হাত দিয়ে কচলে তেলের উপর দিন। ছোটমাছ ও অন্যান্য মসলাও দিয়ে দিন। এখন আলতো হাতে সব কিছু মাখিয়ে ১ কাপ পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন ঐ কড়াইএর উপরই। তাতে করে হাতে লেগে থাকা তেল মশলাটা নষ্ট হলোনা। পানিতে মাছ ডুবেছে কিনা খেয়াল করুন। লাগলে আরেকটু পানি দিয়ে চুলায় কড়াই বসিয়ে ঢেকে দিন। ছোটমাছ কখনও হাতা/খুন্তি দিয়ে নাড়বেন না। মাঝে মাঝে কড়াইএর হাতল ধরে ঝাকিয়ে দিন। যাতে নিচে না ধরে যায়। পানি শুখিয়ে এলে ধনে পাতা দিয়ে ঢাকনা সরিয়ে দিন। একেবারে শুকনো শুকনো হলে নামিয়ে নিন।
ভুড়ি ভাজা বা ভুনা( অবশ্যই ভুড়িটি গরু বা খাসীর)
যারা ভুড়ি খেতে পছন্দ করেন তারা নিশ্চয় কোরবানীর সময় গরু খাসীর ভুড়ি পরিস্কার করিয়ে নিয়েছিলেন। আর যদি অসুবিধার কারনে নিতে না পারেন মন খারাপ করার কিছু নেই। বাজারে পরিস্কার করা ভুড়ি কিনতে পাওয়া যায়। স্বপ্ন এর মতো বড় শপেও পাওয়া যায়। যতই অন্যে পরিস্কার করুক, নিজের হাতে আরো পরিস্কার না করে নিলে কি সন্দহমুক্ত হওয়া যায়? না তৃপ্তি পাওয়া যায়? তাই বাজার থেকে কিনে এনে চুন দিয়ে মাখিয়ে রেখে দিন ঘন্টা-খানিক। তারপর ভালো করে চেঁ্ছে পরিস্কার করে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। আমি চারকোনা টুকরো করে কাটি। তারপর ভালো করে ধুয়ে একটি হাড়িতে নিন। তাতে লবন, হলুদ, আদাবাটা দিয়ে সিদ্ধ করুন ঘন্টা-খানিক। এভাবে ২ বেলা জ্বাল দিন ৩ দিন। আর আপনার হাতে যদি সময় কম থাকে তবে প্রেশার কুকারে ৩/৪ ঘন্টা সিদ্ধ করে আবার ভালো করে ধুয়ে নিন। ব্যাস! আপনার ভুড়ি থুক্কু!!!
কি কি লাগবেঃ পেয়াজ কুচি ২ কাপ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরা গুড়ো ১ টেবিল চামচ, হলুদ ১ চা-চামচ, মরিচ গুড়ো ১ চা-চামচ, ( ঝাল বেশী খেলে বেশী দিবেন) দারচিনি ৩/৪ টুকরা, তেজপাতা ২টা, এলাচ ৪/৫টা, আস্ত শুকনা মরিচ অর্ধেক করে নিবেন ৩/৪টা, লবন ও তেল পরিমানমত।
চুলায় ননস্টিক কড়াই বা ফ্রাইপ্যান দিয়ে তাতে তেল দিন। তেল গরম হলে শুকনা মরিচ, এলাচ, দারচিনি দিয়ে একটু নেড়ে পেয়াজ ও লবন দিন। মনে রাখবেন ভুড়ি সেদ্ধ করার সময় লবন দিয়েছিলেন। তাই প্রথমে অল্প করেই দিন। লাগলে পরে দিবেন। পেয়াজ লালচে হয়ে এলে আধ কাপ পানি দিয়ে বাকি মশলা দিয়ে ভালো করে কষান। মশলা ভালো করে কষিয়ে ভুড়ির টুকরো দিয়ে দিন। অল্প আঁচে ঢেকে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিবেন। পানি শুখিয়ে এলে আপনার রুচি মত ভাজা ভাজা করে নামিয়ে নিতে পারেন। আবার ইচ্ছে হলে মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিন।
দ্রষ্টব্যঃ উপরে যে ভুড়ি ভাজার ছবিটি দেখছেন সেটি আমার এক ছোটবোন রোজী ভাজা ভাজা করে রান্না করেছে। আমি এখনও রান্না করিনি। তবে আমি ভাজা ভাজা না করে মাখা মাখা অবস্থায় নামিয়ে নেই। আর খাবার টেবিলে আমার কুম্ভকর্ণের নানান রকম তির্যক বাক্য সহযোগে মনের আনন্দে খাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


