‘আমার মৃত্যুর জন্য তড়ড়ষড়মু বিভাগ দায়ী। সেশনজটি অতিষ্ঠ হয়ে আমি সুইসাইড করলাম।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্নতোকোত্তর শ্রেনীর (৩৩ তম ব্যাচ) ছাত্র সোহান উল হাসান আত্মহত্যার আগে তার ব্যক্তিগত ডায়রিতে কথাগুলো লিখে রেখে গেছে । তার ব্যাক্তিগত ডায়রিতে লেখা ভাষ্য অনুযায়ী গত ২৫ জুলাই (সোমবার) সে টেকনাফের সেন্ট মার্টিনে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল (বুধবার) সকালে টেকনাফ থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর থানায় নিয়েছে।
সূত্র জানায়, পড়াশোনা শেষ না হওয়ায় সে এখনও কোন চাকুরীতে যোগ দিতে পারেনি। এ হতাশা থেকেই সে আতœহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার লিখে যাওয়া চিঠিতে এর সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের (ক নং ৩২১) আবাসিক ছাত্র ছিল। জানা গেছে ২৩ জুলাই সে গ্রামরে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে আসে। পরে সে এক চিঠি লিখে তার করে আলমারিতে রেখে যায়। পরে তার রুমমেটকে ই-মেইল করে জানায় যে তার আলমারিতে চিঠি লেখা আছে। সে চিঠি পড়ার পর তার আত্মহত্যার ব্যাপারে আতঙ্কিত হয় বন্ধরা। তার চিঠিতে মৃত্যুর জন্য প্রানিবিদ্যা বিভাগ দায়ি বলে সে লিখে রেখা যায়। এছাড়াও সে বঙ্গোপসাগরের নিটকবর্তী সেন্ট মার্টিনের কোথাও আত্মহত্যা করবে বলেও লিখে রেখে যায়। গত ২৩ জুলাই থেকে সে নিখোঁজ হয়। তার বড় ভাই জহির রায়হান এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানায় গত ২৬ জুলাই একটি জিডি করেন। জিডির সাথে আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া ডায়েরির কয়েকটি পৃষ্ঠা থেকে তার আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। সে আতœহত্যার কারণ লিখে রাখা ছাড়াও একটি কবিতা লিখেছেন। ‘এ কেমন নেশা পেয়েছে আমাকে, যাতে ভোগাবো নিজেকে/ যে নিশি আসবেনা কভু, তার প্রতীায় জাগাবো নিজেকে।’-এটি তার লেখা একটি কবিতা।
সোহানের গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। তার বাবা ফ্যামিলি প্ল্যানিংএ চাকরি করতেন। কিছু দিন আগে অবসর নিয়ে এখন বাড়িতে আছেন। এব্যাপারে সোহানের মামা ফোনে জানান ‘গত শুক্রবারে সে বাড়ি থেকে আসে। তার সাথে বাড়ির সকলের সু-সম্পর্ক ছিল। এব্যাপারে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ড. মো. আব্দস সালাম বলেন, কক্সবাজার থেকে তার মৃত দেহ আনার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেশন জটের কারণে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটানো দুখঃজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর কবিরুল বাশার। এদিকে তার এমন অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে তার বন্ধু মহলে। তার বিভাগের সহপাঠী সেলিম, তোহফ,ি ফারজানা ও পার্থ জানান ‘ আসলে আমাদের বিভাগে সেশন জ্যামের আবস্থা খুবই করুন। এ কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে। এছাড়া অন্য কোন কারণ আমরা ভাবতে পারছিনা।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



