somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ছলাত-সালাম পাঠের গুরুত্ব ও ফযীলত “হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার যিকিরকে বুলন্দ করেছি।” (সূরা আলাম নাশরাহ ৪)
কাজেই মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্‌সাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর ছলাত-সালাম পাঠ করেন। সেখানে তাঁর উপর ছলাত-সালাম পাঠ করা উম্মতের জন্য যে কতটুকু জরুরী, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কেননা আল্লাহ পাক আদেশ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার হাবীব-এর প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ কর।”
আল্লাহ পাক-এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্‌সাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করার ফযিলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার ছলাত-সালাম পাঠ করেব, আল্লাহ পাক তার প্রতি দশটি রহমত নাযিল করবেন।” (মুসলিম শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার ছলাত (দরূদ শরীফ) পাঠ করবে, আল্লাহ পাক তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন এবং তার দশটি গুনাহ্‌ ক্ষমা করবেন এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।” (নাসাঈ শরীফ)
ছলাত-সালাম পাঠ করার ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তিই ক্বিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটে থাকবে, যে আমার প্রতি বেশী বেশী ছলাত (দরূদ শরীফ) পাঠ করবে।” (তিরমিযী শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নিশ্চয়ই দোয়া আকাশ ও যমীনের মধ্যখানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। তোমরা রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ না করা পর্যন্ত দোয়া মোটেও উপরে উঠবে না।” (তিরমিযী শরীফ)
আর ইমাম, মুজতাহিদগণ বলেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্‌সাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি জীবনে একবার ছলাত-সালাম পাঠ করা ওয়াজিব। এরপর প্রতিবার হযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারক শুনে ছলাত-সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব।” (তাফসীরে রহুল বয়ান)
কাজেই শুধুমাত্র ছলাত বা সালাম পাঠ করা মাকরূহ অর্থাৎ ছলাত ও সালাম উভয়টাই পাঠ করতে হবে। আল্লাহ পাক আমাদেরকে প্রতিটি মুহুর্তে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29083215 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29083215 2010-01-21 22:17:17
আখিরী চাহার শোম্বা-এর ফযীলত উল্লেখ্য যে, অনেকে আখিরী চাহার শোম্বা উদ্‌যাপন করাকে নাজায়িয ও বিদ্‌য়াত বলে আখ্যায়িত করে থাকে। যা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ ও ভুল। বরং হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণে আখিরী চাহার শোম্বা উপলক্ষ্যে সাধ্যমত গরীব-মিসকীনদের দান-সদকা করা এবং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলত ও মর্যাদা লাভের কারণ। আল্লাহ পাক আমাদেরকে আখিরী চাহার শোম্বা যথাযথভাবে পালন করার তৌফিক দান করুন। (আমিন)]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29082459 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29082459 2010-01-20 19:03:10 *** ছফর মাস ও সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত কুফরী আক্বীদা *** “তোমরা আল্লাহ পাক-এর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না।” (সূরা লুকমান ১৩)
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচা ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে- বিশ্বাস করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এরূপ কুফরী, শিরকী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।
যে কোন বিষয়ে অশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করা ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। যেমন, অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচার মধ্যে ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে বলে বিশ্বাস করা ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ।
আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাসের মূলোৎপাটন করেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) কারণে বৃষ্টি হওয়াও ভিত্তিহীন এবং ছফর মাসে অশুভ বলতে কিছু নেই।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭১)

উল্লেখ্য, জাহিলী যুগ হতে এখন পর্যন্ত কিছু লোকের এরূপ ধারণা বদ্ধমূল রয়েছে যে, ঘুম থেকে উঠে পেঁচা দেখা কিংবা রাতে পেঁচার ডাক শোনা কুলক্ষণ বা অমঙ্গলের পূর্বাভাস। আবার বিশেষ তারকা বা গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। অথচ এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণ কুফরী ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
খাছ করে ছফর মাসের মধ্যে কোন প্রকার অশুভ ও খারাবী নেই। আর আমভাবে কোন মাস ও দিনের মধ্যেই খারাবী বা অশুভ বলতে কিছু নেই। মাস-দিন-সময়কে খারাপ বলার অর্থ হলো, মহান আল্লাহ পাককে খারাপ বলা। কেননা, মাস-দিন-সময় এগুলো আল্লাহ পাকই সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আদম সন্তান মাস-দিন-সময়কে গালি দিয়ে সমালোচনা করে, খারাপ বলে আমাকে কষ্ট দেয়। অথচ আমিই সৃষ্টিকর্তা এবং আমার নির্দেশেই এরা পরিবর্তিত হয়। অর্থাৎ আমিই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করি।” তাই ছফর মাসসহ কোন মাস-দিন-সময়কেই খারাপ ও অশুভ বলা বা মনে করা যাবে না। যদি কেউ তা বলে বা মনে করে তবে সে কুফরী-শিরকী করার গুনাহে গুনাহগার হবে।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্ল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে কোন বিষয়কেই অশুভ ও কুলক্ষণে মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। তিনি এ বাক্যটি তিনবার উল্লেখ করেন।” (তিরমিযী শরীফ, মাওয়ারিদ, মুসনাদে আহমাদ ইবনে হাম্বল-১/৪৩৮, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭৪, মিশকাত শরীফ/৩৯২, শরহুত ত্বীবী-৮/৩২)
কোন রোগই সংক্রামক নয়। কাজেই রোগ-ব্যাধিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে মনে করা কুফরী-শিরকীর অন্তর্ভুক্ত। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কোন রোগই সংক্রামক নয়। পেঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই এবং ছফর মাসের মধ্যেও অশুভ কিছু নেই। তখন এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উটের এ অবস্থা হলো কেন? যে উটগুলো ছিল জংলী হরিণের মত তরু-তজা, যেগুলো ময়দানে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতো। এমতাবস্থায় কোথা হতে এক চর্মরোগাক্রান্ত উট এসে সে উটের পালে মিলিত হলো এবং উটগুলোকে চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। ফলে এ উটগুলোও খুজলীযুক্ত হয়ে গেল। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আচ্ছা তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা থেকে হলো?” অর্থাৎ প্রথম উটটি যেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছিল ঠিক পরবর্তী উটগুলোও সেভাবে খুজলীযুক্ত হয়েছে। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৩৯১, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৬৫)
স্মর্তব্য যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের পাঠ্যসূচিতে অদ্যাবধি ইসলামী আক্বীদা সংক্রান্ত কোন ইলম সূচিভুক্ত না থাকার কারণে অনেক সময় কোন কোন চিকিৎসক কিছু কিছু রোগ সম্পর্কে যেমন- চর্মরোগ, খুজলী-পাঁচড়া, কুষ্ঠ, কলেরা-বসন্ত ইত্যাদিকে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে বলে অভিমত ব্যক্ত করে থাকে। যা সম্পূর্ণ কুফরী শিরকীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদা হতে বিরত থাকা ফরয-ওয়াজিব।
তবে ভাল লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা করার অবকাশ আছে তথা মুস্তাহাব।
আল্লাহ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন বিষয়কে অশুভ কুলক্ষণে মনে করোনা, তবে শুভ লক্ষণ আছে। ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! শুভ লক্ষণ কি? তখন তিনি বললেন, উত্তম কথা, যা তোমাদের মধ্য হতে কেউ শুনতে পায়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ /৩৯১, শরহুত্‌ ত্বীবী-৮/৩১৩, শরহুস সুন্নাহ-৬/২৭২)
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী আক্বীদা সংক্রান্ত ইলম না থাকার কারণে অনেকে এরূপ কুফরী আক্বীদা পোষণ করে থাকে। মূলকথা হলো- অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু রয়েছে, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কোন রোগ রয়েছে, পেঁচা ও ছফর মাসের মধ্যে অশুভ ও খারাবী রয়েছে বলে বিশ্বাস করা শিরক-এর অন্তর্ভুক্ত। এরূপ কুফরী-শিরকী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29080569 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29080569 2010-01-17 21:35:34
জাকারিয়া কান্দালভী দেওবন্দীর কারচুপি “ফাজায়েলে আমল” দেওবন্দের মুখপাত্র তাবলীগ জামাত কর্তৃক বহুল পঠিত একটি গ্রন্থ,। বইটিতে ফাযায়েলে নামায, ফাযায়েলে দুরূদ, ফাযায়েলে হজ্জ ইত্যাদি অধ্যায় রয়েছে। যার প্রকৃত নাম ছিল “তাবলীগী নিসাব” তবে পরবর্তীতে ফাযায়েলে দুরূদ অধ্যায়টি বাদ দেয়া সহ অন্যান্য পরিমার্জন করে এর নামকরণ করা হয় “ফাজায়েলে আমল”। উক্ত গ্রন্থটির “ফাজায়েলে নামায” অধ্যায়ের শেষে জাকারিয়া লিখেছে-
“............ নামাযের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল যিকির, (অর্থাৎ) নামাযের মধ্যে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা। যদি তিলাওয়াত গভীর মনোযোগ সহকারে করা না হয় তবে একে আল্লাহ্‌ পাকের ইবাদত (মুনাজাত ওয়া কালাম) বলা যাবে না। এটা জ্বরাক্রান্ত রোগীর আবোল-তাবোল বলা ও প্রলাপ বকার মত।”

যদি কেউ নামাযের মধ্যে অমনোযোগী হয়ে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে তবুও তা কুরআন তিলাওয়াতই থাকে এবং এই তিলাওয়াতকে বকওয়াজ (প্রলাপ বকা) বলা যায় না কেননা এটি কুরআন শরীফ-এর অবমাননার শামিল।

(উর্দুতে) লাল দাগ দ্বারা চিহ্নিত বাক্যে লিখিত ছিলঃ “ইয়ে কালাম নেহি হ্যায়। এইছি হে জেইছে কি বুখার কি হালত ম্যাঁ হিজইয়ান আওর বকওয়াজ হোতি হ্যায়।” বাক্যটিতে বকওয়াজ শব্দটিকে নীল রঙ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।



পরবর্তী সংস্করণে তারা নিজেদের ভূল আড়াল করার জন্য উক্ত বক্তব্যটি থেকে “বকওয়াজ” শব্দ তুলে দিয়ে নিচের বাক্য লিখেঃ

“ইয়ে কালাম নেহি হ্যায়। এইছি হে জেইছে কি বুখার কি হলত ম্যাঁ হিজ্যান হোতি হ্যায়।” এখানে সবুজ চিহ্নিত অংশে বকওয়াজ শব্দটি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।



লক্ষ্য করুন “ইয়ে কালাম নেহি হ্যায়। এইছি হে জেইছে কি বুখার কি হলত ম্যাঁ হিজ্যান আওর বকওয়াজ হোতি হ্যায়।”- এই বাক্যটিতে “হিজ্যান” শব্দটি পুংলিঙ্গ বাচক শব্দ এবং “বকওয়াজ” শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ বাচক। তাই “বকওয়াজ” শব্দের পরে স্ত্রীলিঙ্গ বাচক শব্দ “হোতি হ্যায়” ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সংস্করণে “বকওয়াজ” শব্দটি বাদ দিলেও “হিজ্যান” শব্দটির পরে “হোতি হ্যায়” লিখা হয়েছে। মজার ব্যাপার হল “হিজ্যান” পুংলিঙ্গ বাচক শব্দ আর তার পরে ব্যবহৃত “হোতি হ্যায়” স্ত্রী বাচক শব্দ !!! অথচ লিখা উচিত ছিল “হোতা হ্যায়।”

সোজা ভাষায় বলতে গেলে আমি ও তুমি স্বুলে যাই। এখন আমি শব্দটি বাদ দিয়ে যদি লিখি তুমি স্বুলে যাই। তাহলে খুব সহজে বুঝা যায় এখানে আমি শব্দটি ছিল। কারণ আমি শব্দটির সাথে যাই বসে। তেমনি পুংলিঙ্গ শব্দের পরে পুংলিঙ্গ বাচক শব্দ বসবে।

হায়রে চোর, চুরিটাও ঠিক মত করতে জানিস না।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29079014 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29079014 2010-01-15 17:40:29
দেওবন্দের কাছিম নানুতবীই কাদিয়ানী ফিৎনার মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং দেওবন্দ মাদ্‌রাসা কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সূতিকাগার ‘তাহ্‌যীরুন্নাছ’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করে; যার ২৫ পৃষ্ঠায় সে কুরআন শরীফ-এর সূরা আহযাব-এর ৪০ নম্বর আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত ‘খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন'-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করে যে, “খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন অর্থ হলো মূল নবী। অন্যান্য নবীগণ ছিলেন সাময়িক নবী। যারা খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন-এর অর্থ শেষ নবী বলে তারা জাহিল ও মূর্খ। নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগে বা সর্বশেষে আসার মধ্যে কোন ফযীলত নেই। ফযীলত হলো মূল নবী হওয়ার মধ্যে। তার পরে যদি ১০০০ নবীরও আগমন মেনে নেয়া হয়, তাতেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খতমে নুবুওয়াত-এর কোনরূপ তারতম্য হবে না।” নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!
কাছিম নানুতবীর বাতলে দেয়া এই পথ ধরে ১৯০৫ সালে মির্জা গোলাম কাদিয়ানী নবী দাবি করে বসে। পরবর্তিতে গোলাম কাদিয়ানীকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে যে, “মাওলানা কাছিম নানুতবী ছাহেব তো তার ‘তাহ্‌যীরুন্নাছ’ গ্রন্থে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে ১০০০ নবীর আগমনের সম্ভাবনা স্বীকার করে নিয়েছে। সুতরাং আমি (কাদিয়ানী) একজন নবী দাবি করাতে দোষ কোথায়? আরো তো ৯৯৯ জন দাবি করতে পারে।” নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কাদিয়ানী সমপ্রদায়ের মূল প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে দেওবন্দের কাছিম নানুতবী, আর মির্জা গোলাম কাদিয়ানী তার রূপদানকারী। এখন মির্জা গোলাম কাদিয়ানী যদি আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের ফতওয়া মুতাবিক কাফির হয়, তাহলে কাছিম নানুতবীর ব্যাপারে ফায়ছালা কি হবে? এর সহজ জাওয়াব একই হবে।
শুধু তাই নয়, কাছিম নানুতবীর এই কাদিয়ানী সূতিকাগার তথা দেওবন্দ মাদ্‌রাসা হতে যে সমস্ত মাওলানা পয়দা হয়েছে তাদের অনেকেরই লিখিত গন্থে কুফরী-শিরকীর অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়, যা কোন মুসলমানের পক্ষে ধারণা করাও অসম্ভব। পরিশেষে ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে দেওবন্দ মাদ্‌রাসার বার্ষিক অনুষ্ঠানে হিন্দু যোগী রামদেবের কাছে দীক্ষা নেয়ার মধ্যে দিয়ে তাদের মুখোশ পরিপূর্ণরূপে উন্মোচিত হয়েছে এবং প্রকাশ পেল যে, দেওবন্দীরা মুশরিক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29074483 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29074483 2010-01-08 16:56:46
কারবালার নরপশু ইয়াজিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি-এর বন্দনায় কাফির জোকার নায়েক “Political Battle” বলে উল্লেখ করেছে। অথচ ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। ইতিহাস মতে, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হক্বকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজের জীবন কারবালার ময়দানে দান করে শাহাদাৎ বরণ করেছেন। জোকার নায়েক কারবালার ময়াদানের ঘৃনিত পশু ইয়াজিদের নামের শেষে “রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু” উচ্চারণ করে থাকে। অথচ কুরআন শরীফ-এর সূরা নিসার ৯৩ নম্বর আয়াত শরীফ-এর ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় কোন মু’মিনকে কতল করে সে জাহান্নামী।” আর বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসিকী ও কতল করা কুফরী।” কাজেই সাধারণ মু’মিন মুসলমানকে কতল করা যদি কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ হয় তাহলে আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লখতে জিগর ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ আহলে বাইত-এর অন্যান্য সম্মানিত সদস্য ও সঙ্গীগণকে যারা শহীদ করেছে তাদের ব্যাপারে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, তারা সকলেই কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী। কারবালার নরপশু ইয়াজিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি-এর সাঙ্গপাঙ্গ ও বর্তমানে ইয়াজিদের কায়িমক্বাম জোকার নায়েকের উপর অনন্ত কাল ধরে আল্লাহ পাক-এর লা’নত বর্ষিত হোক।

জোকার নায়েকের সেই কুফরী বক্তব্য]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29070220 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29070220 2010-01-02 08:19:59
আশূরা ও আক্বাইদ এছাড়াও এই আশূরার সাথে হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত-এর ঘটনা জড়িত। অথচ এই আশূরা আসলেই আমাদের দেশে কিছু নিম মোল্লা তাদের কিল্লতে ইল্‌ম কিল্লতে ফাহম অর্থাৎ কম জ্ঞান কম বুঝের কারণে মুসলমানদের মাঝে আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর বিপরীত, কুফরী আক্বীদা ছড়িয়ে থাকে। তারা নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণকে দোষারোপ করে বলে থাকে অমুক নবী অমুক ভূল করেছে, অমুক নবী তমুক ভূল করেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) অথচ আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদা হলো “সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ মাছুম বা নিষ্পাপ।” আবার তারা হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাতিবে ওহী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দোষারোপ করে থাকে, তাঁকে “রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা” বলে থাকে। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) অথচ আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদা হলো “সমস্ত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ মাহফুজ বা সংরক্ষিত।”
এখানে উল্লেখ্য যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারীদেরকে “রাবী” বলা হয়। এই রাবীগণের মধ্যে যাঁরা প্রথম শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত, তাঁদেরকে বলা হয় “ছেক্বাহ্‌ রাবী।” হাদীছ শরীফ বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম) “ছেক্বাহ রাবী” হওয়ার জন্য যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে মূল বিষয় হচ্ছে- (১) আদালত ও (২) জব্‌ত।
“জব্‌ত” হলো প্রখর স্মরণশক্তি যা একবার শুনলে আর কখনো ভুলে না। আর “আদালত”-এর মধ্যে চারটি শর্ত। তার মধ্যে প্রধান দু’টি হলো (ক) তাক্বওয়া, (খ) মুরুওওয়াত।
(ক) “তাক্বওয়া” হচ্ছে কুফরী, শেরেকী, বিদ্‌য়াতী, ফাসিকী কাজ থেকে বেঁচে থাকার সাথে সাথে কবীরা গুনাহ থেকে এমনকি ছগীরা গুনাহও বার বার করা থেকে বেঁচে থাকা। (খ) “মুরুওওয়াত” হচ্ছে অশালীন, অশোভনীয়, অপছন্দনীয় এমনকি দৃষ্টিকটু কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন- রাস্তায় হেঁটে-হেঁটে খাদ্য খাওয়া, রাস্তায় অট্টহাস্য করা, চিৎকার করা ইত্যাদি।
আরো উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফ বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম) তাদের বর্ণিত হাদীছকে “মওজূ” বা বানোয়াট বলে সাব্যস্ত করেছেন, যারা জীবনে একবার মাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে হাদীছ শরীফ-এর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর যারা জীবনে ব্যক্তিগতভাবে মিথ্যা বলেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে তাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফকে “মতরুক” বা পরিত্যাজ্য বলে সাব্যস্ত করেছেন। (তাদরীবুর রাবী, মুকাদ্দামাতুশ শায়খ, মীযানুল আখবার)
এখন ফিকিরের বিষয় এই যে, হাদীছ শাস্ত্র বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম) আল্লাহ্‌ পাক-এর বান্দা ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত, এমনকি তাঁরা কোন দিন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সমমর্যাদার অধিকারীও হতে পারবেনা, তা সত্ত্বেও তাঁদের মতে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে রাবীগণকে “বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী বা ছেক্বাহ রাবী” হিসেবে মনোনীত বা চিহ্নিত করতে ছেক্বাহ রাবীর যদি এত শর্ত-শারায়েত ও যোগ্যতার প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ যদি কেউ জীবনে একবার মিথ্যা বলে তাহলে ছেক্বাহ রাবী হওয়া তো দূরের কথা তার কোন হাদীছই গ্রহণযোগ্য নয় বলে শর্তারোপ করা হয়েছে। এরপর ছগীরা গুণাহ্‌ তো দূরের কথা যা সাধারণ মুরুওয়াতের খিলাফ, যেমন রাস্তায় হেঁটে হেঁটে যদি কেউ খাদ্য খায় সেও ছেক্বাহ্‌ রাবীর অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না। তবে যিনি হাদীছ বিশারদগণ (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ) সকলেরই রব ও খালিক, তিনি তাঁর পবিত্র কালাম বর্ণনা করা বা পৌঁছে দেয়া বা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে যাঁদেরকে নবী ও রসূল (আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালাম) হিসেবে মনোনীত করেছেন, তাঁদের জন্য কি মানদন্ড নির্ধারণ করেছেন বা কতটুকু শর্তারোপ করেছেন? তাঁদেরকে কতটুকু যোগ্যতা দান করেছেন? আর তাঁরা কতটুকু মা’ছূম হওয়া শর্তারোপ করেছেন? আর ছেক্বাহ্‌ রাবীর তুলনায় তাঁদের কত বেশী যোগ্যতা, মা’ছূম ও নিষ্পাপ হওয়া প্রয়োজন? বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ ছেক্বাহ্‌ রাবীগণের চেয়েও বহু বহু গুণে যোগ্যতা সম্পন্ন ও মা’ছূম। অতএব, তাঁদের দ্বারা ভুল-ত্রুটি, গুণাহ্‌ ইত্যাদি প্রকাশ পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। ঠিক একইভাবে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ, যাঁরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর নাযিলকৃত কুরআন শরীফ পরবর্তী উম্মতদের নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য আল্লাহ্‌ পাক কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন, তাঁদের জন্য আল্লাহ্‌ পাক কি মানদন্ড নির্ধারণ করেছেন বা কতটুকু শর্তারোপ করেছেন? তাঁদেরকে কতটুকু যোগ্যতা দান করেছেন? আর তাঁরা কতটুকু মাহফুজ হওয়া শর্তারোপ করেছেন? আর ছেক্বাহ্‌ রাবীর তুলনায় তাঁদের কত বেশী যোগ্যতা, মাহফুজ ও সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন? বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ছেক্বাহ্‌ রাবীগণের চেয়েও বহু গুণে যোগ্যতা সম্পন্ন ও মাহফুজ। অতএব, তাঁদের দোষারোপ করা করা কোন ভাবেই বৈধ নয়।
এখন নিম মোল্লারা প্রশ্ন করতে পারে যে, নবী ও রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ যদি মা’ছূম হয়ে থাকেন তাহলে কুরআন শরীফ-এর তাঁরা গুণাহ্‌-খতা করেছেন বা তওবা করেছেন বলে আয়াত শরীফ নাযিল হলো কেন? মূলতঃ তাদের আক্বল-সমঝের চরম ঘাটতির কারণে তারা এ ধরণের কথা বলতে পারে। কুরআন শরীফ-এ যে আয়াত শরীফগুলোতে গুণাহ্‌-খতা করেছেন বা তওবা করেছেন বলে উল্লেখ আছে যে সমস্ত আয়াত শরীফগুলোর সরাসরি অর্থ করা হারাম। যেমন আল্লাহ্‌ পাক সূরা আলে ইমরান-এর ৫৪তম আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন,
مَكَرُوْا وَمَكَرَ اَللهُ وَاَللهُ خَيْرُ الْمَاكِرِيْنَ٭
আয়াত শরীফ-এ ব্যবহৃত “মকর” (مَكَر) শব্দের অর্থ হচ্ছে ধোকা, যা সকল অভিধানে উল্লেখ আছে। সে হিসেবে উক্ত আয়াত শরীফ-এর অর্থ দাঁড়ায়- “তারা (কাফিররা) ধোকাবাজী করলো, আল্লাহ পাকও ধোকাবাজী করলেন, আল্লাহ পাক সর্বত্তোম ধোকাবাজ।” (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) আল্লাহ্‌ পাক-এর শান-এ এই অর্থ করলে ঈমান থাকবে কি? থাকবে না। আর তাই এর অর্থ ঘুরিয়ে করতে হবে, যা আল্লাহ্‌ পাক-এর শান-মান সম্মত। সেজন্য আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর ইমাম-মুজতাহিদ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি উক্ত আয়াত শরীফ-এর অর্থ করেছেন- “তারা (কাফিররা) ধোকাবাজী করলো, আল্লাহ পাক প্রজ্ঞা অবলম্বন করলেন, আল্লাহ পাক সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী।”
এখানে আল্লাহ পাক-এর শান-এ “মকর” (مَكَر) শব্দের শাব্দিক অর্থ গ্রহন করলে সুস্পষ্ট কুফরী হয় বিধায় তাঁর শান-এ “মকর” (مَكَر) শব্দের অর্থ গ্রহন করা হয়েছে সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী। ঠিক একইভাবে নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ-এর শান-এও এমন অর্থ গ্রহণ করতে হবে, যাতে তাঁদের শান-মান-এর খিলাফ না হয়। যেমন সূরা ত্ব-হা-এর ১২১তম আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ্‌ পাক হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম সম্পর্কে ইরশাদ করেন,
وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى
আবার, কুরআন শরীফ-এর অন্যত্র (সূরা নাযিয়াত ২১) আল্লাহ্‌ পাক ফিরাউন সম্পর্কে ইরশাদ করেন,
فَكَذَّبَ وَعَصَى
আয়াত শরীফদ্বয়ে ব্যবহৃত আ’ছা (عَصٰي) শব্দের অর্থ হচ্ছে নাফরমানী করা, যা সকল অভিধানে উল্লেখ আছে। সে হিসেবে ফিরাউন সম্পর্কে ইরশাদকৃত আয়াত শরীফ-এ ব্যবহৃত আ’ছা (عَصٰي) শব্দের যে অর্থ হবে হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম সম্পর্কে ইরশাদকৃত আয়াত শরীফ-এ ব্যবহৃত আ’ছা (عَصٰي) শব্দের একই অর্থ হয় কি করে? আল্লাহ্‌ পাক-এর খলীফা ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম ও আল্লাহ্‌ পাক-এর শত্রু ফিরাউন কি করে একই মর্যাদাসম্পন্ন হতে পারে? কোন দিনই পারে না। যে বা যারা একই অর্থ করবে তারা কোন দিনই মুসলমান হতে পারেনা, তারা কাট্টা কাফির।
এমনিভাবে নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালাম তওবা করেছেন বলে যেসব আয়াত শরীফ-এ উল্লেখ আছে, সেসব আয়াত শরীফ-এরও অর্থ ঘুরিয়ে তাঁদের শান-মান অনুযায়ী করতে হবে। যেমন আল্লাহ্‌ পাক সূরা আরাফ-এর ২৩তম আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেন, হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম আল্লাহ্‌ পাক-এর দরবারে দু’য়া করলেন-
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আবার, সূরা আম্বিয়া-এর ৮৭তম আয়াত শরীফ-এ আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম মাছের পেটে থেকে আল্লাহ্‌ পাক-এর দরবারে দু’য়া করলেন-
لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
আল্লাহ্‌ পাক কাফিরদের সম্পর্কেও “জালিম” (ظَالِمْ) শব্দটি কুরআন শরীফ-এর বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করেছেন। এখন হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম এবং হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর শান-এ ব্যবহৃত “জালিম” (ظَالِمْ) শব্দটি এবং কাফিরদের সম্পর্কে ব্যবহৃত “জালিম” (ظَالِمْ) শব্দটির একই অর্থ হবে কি? কস্মিনকালেও নয়। অনুরূপভাবে কুরআন শরীফ-এ ব্যবহৃত যে শব্দগুলো আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শান-এর খিলাফ হয়, সে শব্দগুলোর অর্থ তাঁদের শান-মান অনুযায়ী করতে হবে। অন্যথায় ঈমান থাকবে না, কাট্টা কাফির হতে হবে।
আবার এটাও বলতে হয় যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ যেখানে আল্লাহ্‌ পাক-এর পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, সেখানে তাঁদের ভূল হয় কি করে? বরং তাঁরা ভূল করেছেন বলার অর্থ হলো ওহীতে ভূল ছিল বলা, যার অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ্‌ পাক ভূল করেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
সুতরাং সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের দ্বারা কখনই কোন প্রকার ভূল-ত্রুটি করা সম্ভবপর নয়। আর এটিও প্রমাণিত হলো যে, যে সমস্ত নামধারী মুফাস্‌সিরে কুরআন, মুহাদ্দিছ, শায়খুল হাদীছ, ইমাম, খতীব তথা আলিম দাবীদার যারা নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শান-এর খিলাফ বক্তব্য প্রদান করে তারা কাট্টা কাফির।
কোন নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামকে যেমন কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই তদ্রুপ কোন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকেও কোন ব্যাপারে দোষারোপ করা জায়িয নেই। এ বিষয়ে আল্লাহ্‌ পাক তাঁর কালামে পাকে ইরশাদ করেন,
وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى
অর্থঃ “একজনের পাপের বোঝা অপরজন বহন করবেনা।” (সূরা আনয়াম ১৬৪)
এ আয়াত শরীফ দ্বারা বুঝা যায় যে, সন্তানের অপরাধের জন্য পিতাকে এবং পিতার অপরাধের জন্য সন্তানকে দায়ী করা বৈধ নয়। যদি ইয়াযীদের অপরাধের জন্য হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দায়ী বা দোষারোপ করা হয়, তাহলে কাবিলের জন্য হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) একইভাবে কিনানের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালামও দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) মূলতঃ হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন তাঁর ছেলে ইয়াযীদকে খলীফা নিযুক্ত করেন তখন ইয়াযীদ ভাল ছিল। কিন্তু মুনাফিকদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে পরবর্তীতে ইয়াযীদ গুমরাহ্‌ হয়ে যায়।
ঠিক একইভাবে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফতের পর তাঁর ছেলে খলীফা নিযুক্ত হওয়ায় যদি তাঁকে “রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা” বলা হয়। তাহলে আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী ও রসূল হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম যিনি ছিলেন খলীফাতুল্লাহ্‌ অর্থাৎ আল্লাহ্‌ পাক-এর খলীফা, তাঁর পর তাঁর ছেলে হযরত সুলাইমান আলাইহিস্‌ সালামকে আল্লাহ্‌ পাক সারা পৃথিবীর খলীফা নিযুক্ত করায়, আল্লাহ্‌ পাকই তো রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাকারী সাব্যস্ত হন। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) এছাড়া হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পর তাঁর ছেলে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুও তো খলীফা নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাই বলে কি, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে রাজতন্ত্র ও রাজবংশ জারী হয়েছে? (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক) মূলতঃ আল্লাহ্‌ পাক, হযরত নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম কেউই রাজতন্ত্র ও রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নন। কেউ যদি তা বলে তবে সেটা হবে প্রকাশ্য তোহ্‌মত ও কুফরী।
আরো উল্লেখ্য যে, রাজতন্ত্র বা রাজবংশ ইসলামের অনেক পূর্বকাল থেকেই চলে আসছে। আর তাই আমরা হাদীছ শরীফ-এ দেখতে পাই যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্‌ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোম, পারস্য, আবিসিনিয়া, চীন, মালাবার, গুজরাট ইত্যাদির সম্রাট বা রাজাদের নিকট ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়ে দূত মারফত পত্র পাঠিয়েছেন।
অতএব, সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রাজতন্ত্র বা রাজবংশ কোনটিরই প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না। এছাড়া হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর পরবর্তী খলীফাগণের তালিকায় দেখা যায় ইয়াযীদের সাড়ে তিন বছর খিলাফতের পর ইয়াযীদের ছেলে দ্বিতীয় মুয়াবিয়া শুধুমাত্র তিন মাস খিলাফত পরিচালনা করতঃ ইন্তিকাল করেন। তিনি ইন্তিকালের সময় খিলাফত পরিচালনার ব্যাপারে ওছীহত করেন যে, আপনারা যাকে উপযুক্ত মনে করবেন তাকেই খলীফা নিযুক্ত করবেন। অতঃপর যে খলীফাগণ খিলাফত পরিচালনা করেছেন তাদের কেউই হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বংশধর ছিলেন না।
সুতরাং বুঝা গেল যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণের কারণেই এরূপ বক্তব্য প্রদান করা হয়। আর আল্লাহ্‌ পাক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ সম্পর্কে ইরশাদ করেন,
لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ
অর্থঃ “কাফিররাই তাঁদের (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের) প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।” (সূরা ফাতহ্‌ ২৯)
আর হাদীছ শরীফ-এও ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ্‌ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে কাফির।” (নাসীমুর রিয়ায)
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদরের দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মর্মান্তিক শাহাদাত-এ মুসলিম উম্মাহ্‌র অন্তর ব্যাথাতুর হবে তা চরম সত্য কথা এবং এটা ঈমান মজবুতীর আলামতও বটে। কিন্তু এজন্য আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জলীলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দোষারোপ করা কস্মিনকালেও শরীয়তসম্মত হতে পারে না। যারা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে দোষারোপ করে তারা মূলতঃ তাঁর মহান মর্যাদা সম্পর্কে নিতান্তাই অজ্ঞ।
স্মরণযোগ্য যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছাহাবীগণের (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) মধ্যে একজন বিশেষ শ্রেণীর ছাহাবী যাঁকে উলুল আ’যম বা জলীলুল ক্বদর ছাহাবী বলা হয়। তিনি ছিলেন আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, কাতিবীনে ওহীর সদস্য, হাদীছ শরীফ-এর রাবী, ফক্বীহ ইত্যাদি মর্যাদার অধিকারী। তাঁর ইল্‌মের পূর্ণতা, হিদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা, তাঁর দ্বারা লোকদের হিদায়েত লাভ, কিতাব শিক্ষাদান এবং জাহান্নাম থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্‌ পাক-এর নিকট দু’য়া করেছেন। এ প্রসঙ্গে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,“আমার উম্মতের প্রথম যে দল সমুদ্রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে তাঁদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব।” (বুখারী শরীফ)
হযরত ইমাম তারাবী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ২৮ হিজরীতে সর্বপ্রথম সমুদ্র যুদ্ধের মাধ্যমে কাবরাসের উপর আক্রমণ করেন এবং কাবরাস তিনিই বিজয় করেন।” (তাবারী)
হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মর্যাদা-মর্তবার মধ্যে অন্যতম মর্যাদা হলো, তিনি ছিলেন একজন আদিল বা ইন্‌সাফগার খলীফা। তাঁর ন্যায় বিচার ও ইন্‌সাফ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয় যে, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “আমার দৃষ্টিতে হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, এরপর হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর চেয়ে অধিক ন্যায় বিচারক কেউ নেই।” (বিদায়া)
এক ব্যক্তি মুয়াফা ইবনে ইমরানকে বললো, ন্যায় বিচারের দিক দিয়ে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর মধ্যে কি সম্পর্ক রয়েছে? একথা শুনে তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের প্রতি কোন প্রকার ক্বিয়াস করা যাবে না। হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ছাহাবী, বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয়, কাতিবে ওহী ও আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আমীন (আমানতদার)।” (নাসীমুর রিয়ায)
হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফযীলত সম্পর্কে আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মুবারক রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শ্রেষ্ঠ? না হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ পাক-এর কসম! হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ঘোড়ায় চড়ে জিহাদে যেতেন, তখন ঘোড়ার নাকে যে ধুলাবালিগুলো প্রবেশ করতো সে ধুলাবালিগুলোও হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি হতে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ।” (ফতওয়ায়ে হাদীছিয়াহ্‌)
সুতরাং এত সকল মর্যাদা-মর্তবার পরও যারা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাদের জন্য ইমাম শিহাবুদ্দীন খাফ্‌ফাযী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর কথাই অধিক প্রযোজ্য। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, গালি দেয়, নাকিস বলে, সমালোচনা করে, সে হাবিয়া দোযখের কুকুরসমূহের মধ্য হতে একটি কুকুর।” (নাসীমুর রিয়ায)
অতএব স্পষ্ট প্রমাণিত হলো যে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শুধু ছাহাবীই ছিলেন না, বরং মর্যাদাপূর্ণ, জলীলুল ক্বদর, ন্যায়পরায়ণ একজন খলীফাও ছিলেন। আর আল্লাহ্‌ পাক হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ সকল ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-এর প্রতি সন্তুষ্ট। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন,
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ
অর্থঃ “আল্লাহ পাক তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা মায়েদা ১১৯, সূরা তওবা ১০০, সূরা বাইয়্যিনাহ ৮)
কাজেই আশূরার দিনে সংঘটিত নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণ-এর বরকতময় ঘটনা ও হযরত হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত-এর ঘটনা থেকে আমাদেরকে ইবরত-নছীহত গ্রহণের পাশাপাশি, এই বিষয়ে আমাদের আক্বীদাকেও শুদ্ধ করে নিতে হবে। আর তথাকথিত আলিমদের বদ সংশ্রব থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ্‌ পাক আমাদের সকলকে আক্বীদা শুদ্ধ করার এবং তথাকথিত আলিমদের বদ সংশ্রব থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। (আমিন)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29066534 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29066534 2009-12-27 16:10:25
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৯) হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম সম্পর্কে তাবলীগ জামায়াতের লোকদের আক্বীদা হলো যে, দাওয়াতের কাজ বন্ধ করার কারণে আল্লাহ্‌ পাক হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে বিপদে ফেলেছেন এবং তিনি সেখানে নিজের অপরাধ স্বীকার করে চল্লিশ দিন কাঁদা-কাটার পর আল্লাহ্‌ পাক তাঁর অপরাধ ক্ষমা করেন। এ প্রসঙ্গে তাদের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে যে, “দাওয়াত বন্ধ করার কারণে, আল্লাহ্‌ পাক হযরত ইউনূছ (আঃ)কে অবশ্য গযবে ফেলিলেন ..............।” “........... হযরত ইউনূছ (আঃ) মাছের পেটে ৪০ দিন আবদ্ধ থাকিয়া নিজ ত্রুটি স্বীকার করিয়া তাওবা ..... করার কারণে বিপদ হইতে উদ্ধার পাইলেন।” (তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব, লেখক- মাওলানা ইসমাঈল হোসেন দেওবন্দী, পৃষ্ঠা ৬২ ও ৮৯) (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
------------------------------------------------------------------------------------
প্রচলিত তাবলীগ জামায়েতের উপরোক্ত বক্তব্য নেহায়েতই অজ্ঞতামূলক, বিভ্রান্তিকর ও নবী-রসূল বা আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ-এর শানের সম্পূর্ণ খিলাফ। মূলতঃ নবী-রসূল বা আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ সম্পর্কিত ছহীহ্‌ ও গ্রহণযোগ্য ইসলামী আক্বীদাগত অজ্ঞতা হেতুই তারা এরূপ আপত্তিকর আক্বীদা পোষণ করে থাকে।
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা যে বলে থাকে, “দাওয়াত বন্ধ করার কারণে, আল্লাহ্‌ পাক হযরত ইউনূছ (আঃ)কে অবশ্য গযবে ফেলিলেন” তা সম্পূর্ণ মনগড়া, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। মূলতঃ তারা নবী হিসেবে হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর মর্যাদা না বুঝার কারণে এবং তাঁর সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস বা তথ্য না জানার কারণে এরূপ গুমরাহী ও কুফরীমূলক কথা বলে থাকে। নিম্নে হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস উল্লেখ করা হলো-
আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম যখন তাঁর সম্প্রদায়কে বা ক্বওমকে ঈমান ও সৎকাজের দাওয়াত দিলেন ও নছীহত করলেন, তখন তারা অবাধ্যতা প্রদর্শন করলো। এতে হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম তাদেরকে বললেন, তোমরা যদি এরূপ কর, তবে আল্লাহ্‌ পাক-এর আযাব তোমাদের পাকড়াও করবেন। এ কথা শুনে উক্ত ক্বওম বলল, ‘ঠিক আছে আপনি যদি পারেন তাহলে আল্লাহ্‌ পাক-এর আযাব আনুন।’ তখন হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম আল্লাহ্‌ পাক-এর নির্দেশে ৩ দিন পর আযাব আসার সংবাদ শুনিয়ে আল্লাহ্‌ পাক-এরই নির্দেশে নিজের অবস্থান থেকে বাহিরে চলে গেছেন। অতঃপর যখন আযাবের কিছু কিছু লক্ষণ বা আলামত প্রকাশ পেল, তখন ঐ ক্বওম কুফরী ও শেরেকী থেকে তওবা করে। আর আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকলেই জঙ্গলে চলে যায়, সাথে তাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলিকেও নিয়ে যায়। অতঃপর তারা নিজ নিজ বাচ্চাদেরকে মা থেকে আলাদা করে দিয়ে সকলে মিলে কান্নাকাটি শুরু করে এবং কাকুতি-মিনতি সহকারে আল্লাহ্‌ পাক-এর কাছে তওবা করে। আর বাচ্চারা মা থেকে আলাদা হওয়ার কারণে করুণ স্বরে কান্নাকাটি করতে থাকে। তখন আল্লাহ্‌ পাক তাদের তওবা কবুল করেন এবং আযাব দূর করে দেন। এদিকে ৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম সংবাদ পেলেন যে, উনার ক্বওম আযাবে ধ্বংস হয়নি। তখন তিনি চিন্তা করলেন যে, আল্লাহ পাক উনাকে যতটুকু সরে যেতে বলেছেন তা কি সরা হয়েছে? না কিছু বাকি রয়েছে। কারণ আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী (আলাইহিস্‌ সালাম) যেখানে অবস্থান করেন সেখানে গযব নাযিল হয় না। তাঁর নির্দিষ্ট স্থান ত্যাগ করার পরই গযব নাযিল হয়, এ কথা চিন্তা করে তিনি আরো সরতে লাগলেন।
উল্লেখ্য, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর ক্বওমের মধ্যে নিয়ম ছিল যে, কেউ মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তাই নির্দিষ্ট স্থান ত্যাগ না করার কারণে যদি তাদের প্রতি গযব না আসে এবং তাঁকে তারা মিথ্যাবাদী বলে, তবে তাদের সকলের পরকালে আরো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, একথা চিন্তা করে তিনি আরো সরতে লাগলেন। পথিমধ্যে নদী পড়লো, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম একটি নৌকায় আরোহণ করলেন। নৌকার লোকজন অতিরিক্ত হওয়ার কারণে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে, মাঝি একজনকে নৌকা থেকে নেমে যেতে হবে ঘোষণা দিল। কে নামবে তা লটারী করা হলে লটারীতে একবার দুইবার তিনবার হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর নাম মুবারক উঠলো। যদিও লোকজনের ইচ্ছা ছিল না হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে নামিয়ে দেয়ার। তা সত্ত্বেও তিনি অতিরিক্ত কাপড় খুলে নদীতে নেমে গেলেন। আর আল্লাহ্‌ পাক-এর নির্দেশে এক বিশেষ মাছ উনাকে তা’যীম-তাকরীমের সাথে পেটে ধারণ করলো এবং মাছ বললো, হে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম! আপনি চিন্তিত হবেন না, আমাকে আল্লাহ্‌ পাক খাছ করে আপনার জন্য তৈরী করেছেন। আমার পেটকে আপনার জন্য ইবাদতখানা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং আমার সমস্ত শরীরে আল্লাহ্‌ পাক-এর যিকির জারী রয়েছে, এ কথা শুনে হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম সে মাছের পেটে আল্লাহ্‌ পাক-এর যিকির-আযকার ও ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হলেন।
মূলতঃ আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম মাছের পেটে প্রবেশ করার পিছনে শত-সহস্র কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো এই যে, সে যামানায় পানির নীচে যত মাছ ছিল, সমস্ত মাছ রোগাক্রান্ত হয়ে আল্লাহ্‌ পাক-এর কাছে সুস্থতার জন্য আরজু করছিল। আর আল্লাহ্‌ পাক তাদের বলেছিলেন, “অপেক্ষা কর।” যখন আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম মাছের পেটে অবস্থান নিলেন, তখন আল্লাহ্‌ পাক মাছদেরকে নির্দেশ দিলেন, “তোমরা আমার নবী, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম যে মাছের পেটে অবস্থান করছেন, সে মাছকে শুঁক বা ঘ্রাণ নাও। যারা তাঁকে শুঁকবে বা ঘ্রাণ নিবে, তারা সুস্থতা লাভ করবে এবং দূরবর্তী যেসব মাছ রয়েছে, যারা সরাসরি হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে ধারণকৃত মাছকে শুঁকতে বা ঘ্রাণ নিতে পারবে না, সে সমস্ত মাছ যদি ঐ সমস্ত মাছ, যারা হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে ধারণকৃত মাছকে শুঁকে বা ঘ্রাণ নিয়ে সুস্থতা লাভ করেছে, তাদেরকে শুঁকবে বা ঘ্রাণ নিবে, তবে তারাও সুস্থতা লাভ করবে।”
উল্লেখ্য, এভাবে সমস্ত মাছের সুস্থতা লাভ করতে প্রায় ৪০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল। অতঃপর আল্লাহ্‌ পাক হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে ধারণকৃত মাছকে নির্দেশ দিলেন যে, “তুমি আমার রসূল, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে তা’যীম-তাকরীমের সহিত নদীর পাড়ে পৌঁছে দাও।” তখন সে মাছ আল্লাহ্‌ পাক-এর নির্দেশে তাঁকে নদীর পাড়ে এক কদু গাছের নীচে তা’যীম-তাকরীমের সহিত পেট থেকে বের করে রাখলো।
মূলতঃ এই হচ্ছে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর ৪০ দিন যাবৎ মাছের পেটে অবস্থান করার সঠিক তথ্য বা ইতিহাস। যা তাফসীরসমূহে ও নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের নির্ভরযোগ্য সীরাতের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে।
অতএব, যারা বলে, দাওয়াত বন্ধ করার কারণে আল্লাহ্‌ পাক হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে গযব স্বরূপ ৪০ দিন মাছের পেটে রেখেছেন সে কথা আদৌ সত্য নয়। কারণ, যেখানে আল্লাহ্‌ পাক উম্মতদের মধ্যে যারা নেককার, আল্লাহ্‌ পাক-এর রহ্‌মত তাঁদের নিকটবর্তী বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন, আল্লাহ্‌ পাক কুরআন শরীফ-এ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ পাক-এর রহ্‌মত মুহসিনীন (নেককারদের) নিকটবর্তী।” (সূরা আ’রাফ ৫৬)
সেখানে যিনি আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, উনার প্রতি কি করে আল্লাহ্‌ পাক গযব নাযিল করতে পারেন? মূলতঃ নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের উপর গযব নাযিল হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। বরং তাঁরা যে স্থানে অবস্থান করেন, সে স্থানে সবসময় আল্লাহ্‌ পাক-এর তরফ থেকে রহ্‌মত বর্ষিত হয়। যার কারণে আমরা কুরআন শরীফ-এর অনেক স্থানেই দেখতে পাই যে, আল্লাহ্‌ পাক যে ক্বওমকে তাদের নাফরমানির কারণে শাস্তি দিতে ইচ্ছে পোষণ করেছেন, তখন সে ক্বওমের নবী আলাইহিস্‌ সালামকে সে নির্দিষ্ট স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ যতক্ষণ পর্যন্ত সে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ স্থানে আযাব-গযব নাযিল হবেনা। মূলতঃ নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের অস্তিত্বই সার্বক্ষণিক রহ্‌মতের কারণ। অতএব হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর গযব সম্পর্কিত প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের উক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ জিহালতপূর্ণ ও গুমরাহীমূলক।
এরপর আরো বলা হয়েছে যে, “হযরত ইউনূছ (আঃ) মাছের পেটে ৪০ দিন আবদ্ধ থাকিয়া নিজ ত্রুটি স্বীকার করিয়া তাওবা ..... করার কারণে বিপদ হইতে উদ্ধার পাইলেন।” অর্থাৎ তিনি ত্রুটি করেছেন এবং ত্রুটি স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে আল্লাহ্‌ পাক তাঁকে ক্ষমা করেছেন।
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের এ বক্তব্যটিও সম্পূর্ণ মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর শানের খিলাফ। কারণ তাঁরা (নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ) আল্লাহ্‌ পাক-এর ওহী দ্বারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার ফলে তাঁরা (নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ) ছগীরা, কবীরা, কুফরী, শেরেকী, ভূল-ত্রুটি, এমনকি অপছন্দনীয় কথা ও কাজ হতেও পবিত্র। কাজেই এ ব্যাপারে হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর কোন ত্রুটি ছিল না। বরং তা ছিল, আল্লাহ্‌ পাক-এর নির্দেশেরই অন্তর্ভূক্ত।
এখন কেউ বলতে পারে যদি আল্লাহ্‌ পাক-এর নির্দেশেই হয়ে থাকে আর হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর যদি কোন প্রকার ত্রুটিই না থাকে, তবে তিনি এ কথা কেন বললেন যে, لآَ اِلٰهَ اِلاَّ اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ
অর্থঃ “আপনি পবিত্র, আল্লাহ্‌ পাক ব্যতীত আর কোন ইলাহ্‌ নেই। আর আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আম্বিয়া ৮৭)
এটার ব্যাখ্যা এই যে, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম মাছের পেটে প্রবেশ করার পর চিন্তিত হলেন যে, আমার তো স্বাভাবিকভাবে যমীনের উপর অর্থাৎ পানির উপর চলার কথা ছিল। কারণ আমি তো রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের অন্তর্ভুক্ত। আমি তো জালিমের অন্তর্ভুক্ত নই। কিন্তু আমি মাছের পেটে প্রবেশ করলাম, এর হাক্বীক্বত কি? তখন তিনি উপরোক্ত দোয়া করতে লাগলেন। তখন আল্লাহ পাক জবাবে বললেন, فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ وَكَذَالِكَ نُنْجِي الْمُؤْمِنِيْنَ
অর্থঃ “আমি উনার (হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর) আহবানের জবাব দিলাম এবং উনাকে নাযাত দিলাম দুশ্চিন্তা থেকে। আমি এমনিভাবে মুক্তি দিয়ে থাকি মু’মিনদেরকে।” (সূরা আম্বিয়া ৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্‌ পাক হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে জানিয়ে দিলেন যে, আপনি মাছের পেটে প্রবেশ করার কারণে যে চিন্তায় মশগুল আছেন, আপনাকে সে চিন্তা থেকে নাযাত দেয়া হলো। অর্থাৎ আপনি রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের অন্তর্ভুক্ত এবং আপনি কখনই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত নন।
এখানে স্মরণযোগ্য যে, আল্লাহ্‌ পাক তাঁর বান্দাদেরকে মুছীবতের দ্বারা পরীক্ষা করে থাকেন, তার কয়েকটি অবস্থা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছু বিষয় দ্বারা, যেমন- ভয়, ক্ষুধার দ্বারা, মাল ও জানের ক্ষতি করে এবং ফসল ও ফলাদি নষ্ট করার মাধ্যমে এবং সুসংবাদ দান করুণ সবরকারীদেরকে, যখন তারা মুছীবতে পতিত হয়, তখন তারা বলে নিশ্চয়ই আমরা সকলেই তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবো। তাঁরাই ঐ সমস্ত লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ্‌ পাক-এর অফুরন্ত রহ্‌মত রয়েছে এবং তাঁরাই হিদায়েতপ্রাপ্ত।” (সূরা বাক্বারা ১৫৫-১৫৭)
এই আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে, বান্দাদেরকে ৩ কারণে মুছীবতগ্রস্থ করা হয়।
(১) নাফরমানীর কারণে গযব নাযিল হয়। (২) গুণাহ্‌ মাফ করার জন্য মুছীবতগ্রস্থ করা হয়। (৩) মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মুছীবতগ্রস্থ করা হয়।
আর এ ৩ প্রকার মুছীবতের ৩টি লক্ষণ রয়েছে। যার দ্বারা প্রত্যেক বান্দার জন্যই বুঝা সহজ হয়ে যায় যে, এ মুছীবত কোন কারণে পতিত হয়েছে।
(১) যখন কোন বান্দার প্রতি অতিরিক্ত নাফরমানীর কারণে গযব নাযিল হয়, তার লক্ষণ হলো- সে আল্লাহ্‌ পাককে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। (২) যখন কোন বান্দার গুণাহ্‌ মাফ করার জন্য মুছীবতগ্রস্থ করা হয়, তার লক্ষণ হলো- সে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে। (৩) যখন কোন বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মুছীবতগ্রস্থ করা হয়, অথচ বান্দা গুণাহ্‌গার নয়, এক্ষেত্রে তার লক্ষণ হলো- সে মুছীবতগ্রস্থ হয়ে বেশী বেশী ইস্তিগ্‌ফার করতে থাকে। (সমূহ তাফসীরের কিতাব)
উল্লেখ্য যে, সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ কোন মুছীবতগ্রস্থ হলে, বেশী বেশী ইস্তিগ্‌ফার করতেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের প্রতি যে সকল মুছীবত এসেছে, তা তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধিরই কারণ। স্বয়ং আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও আকাশ একটু অন্ধকার দেখলেই মসজিদে প্রবেশ করে ইস্তিগ্‌ফার করতেন। তদ্রুপ আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম মুছীবতগ্রস্থ হয়ে ইস্তিগ্‌ফার করেছেন, তাও উনার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণেই, কোন গুনাহ বা ত্রুটি করার কারণে নয়। এই ইস্তিগ্‌ফার করার অর্থ এই নয় যে, গুণাহ্‌ বা ত্রুটি রয়েছে।
বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, ‘স্বয়ং আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন সত্তর থেকে একশত বার ইস্তিগ্‌ফার করতেন। অর্থাৎ অসংখ্যবার ইস্তিগ্‌ফার করতেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে যে, “আল্লাহ্‌ পাক-এর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহ্‌ পাক-এর দরবার-এ সত্তর বারেরও বেশী ইস্তিগ্‌ফার ও তওবা করে থাকি।” (বুখারী শরীফ, উমাদাতুল ক্বারী, ফতহুল বারী, ইরশাদুস্‌ সারী, তাইসীরুল ক্বারী)
অথচ আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন গুণাহ্‌ বা ত্রুটি কিছুই ছিল না বরং তা উম্মতকে তালিম দেয়ার জন্য তিনি ইস্তিগ্‌ফার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে যে, বিশ্বখ্যাত কবি, বিশিষ্ট ছূফী সাধক, হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি যখন তাঁর পীর ছাহেব, হযরত শাম্‌স তাবরীজী রহ্‌মতুল্লাহি-এর নিকট বাইয়াত হওয়ার আরজু করলেন, তখন হযরত শাম্‌স তাবরীজী রহ্‌মতুল্লাহি মাওলানা রূমী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। তার মধ্যে একটি হলো- তিনি বললেন, হে মাওলানা রূমী (রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি)! বলতো দেখি, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে প্রতিদিন সত্তর থেকে একশত বার ইস্তিগ্‌ফার করতেন, তার কারণ কি? তাঁর কি কোন গুণাহ্‌খাতা ছিল? জবাবে মাওলানা রূমী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বললেন, না, তাঁর কোন গুণাহ্‌খাতা ছিল না। বরং উম্মতকে তা’লীম দেয়ার জন্য ও রফ্‌য়ে দারাজাত বা মর্যাদা বৃদ্ধির ফলে তিনি ইস্তিগ্‌ফার করতেন।
অতএব, প্রমাণিত হলো যে, নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ যে ইস্তিগ্‌ফার বা তওবা করেছেন, তা বিনয় প্রকাশ করার জন্য করেছেন। কাজেই যদি বলা হয়, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম ভুল বা ত্রুটি করার কারণে তওবা করেছেন, তবে বলতে হবে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বেশী ভুল বা ত্রুটি করেছেন, যার কারণে তিনি প্রতিদিন সত্তর থেকে একশত বার ইস্তিগ্‌ফার করতেন। (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
মূলতঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেরূপ ভুল বা ত্রুটি করার কারণে তওবা করেননি, বরং বিনয় প্রকাশ বা মর্যাদা বৃদ্ধির ফলে করেছেন, তদ্রুপ হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামও ভুল বা ত্রুটি করার কারণে তওবা করেননি, বরং বিনয় প্রকাশার্থে ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণেই তওবা করেছেন।
উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ ফরমান, “তোমরা হযরত ইউনূছ ইবনে মাত্তা আলাইহিস্‌ সালাম-এর উপর আমাকে প্রাধান্য দিওনা।”
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, “আমি বলিনা যে, নিশ্চয় কেউ হযরত ইউনূছ ইবনে মাত্তা আলাইহিস্‌ সালাম থেকে অধিক উত্তম।” (মায়ারিফুল কুরআন)
হাদীছ শরীফ-এ এ প্রসঙ্গে আরো ইরশাদ হয়েছে যে, “হযরত আবূ হুরায়রাহ্‌ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কারো জন্য একথা বলা উচিৎ হবে না যে, আমি হযরত ইউনূছ ইবনে মাত্তা আলাইহিস্‌ সালাম হতে উত্তম।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, ফতহুল বারী, উমাদুল ক্বারী, ইরশাদুস্‌ সারী, তাইসীরুল ক্বারী, শরহে নববী, মিরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, তা’লীকুছ্‌ ছবীহ্‌, শরহুত ত্বীবী, মুযাহিরে হক্ব, মিরআতুল মানাযীহ্‌)
অর্থাৎ আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বা অন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যেন হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামকে হীন বা খাট না করা হয়।
উল্লেখ্য, আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত নবীদের নবী, রসূলদের রসূল। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন। কোন নবী আলাইহিস্‌ সালামকে নুবুওওয়াত দেয়া হয়নি এবং কোন রসূল আলাইহিস্‌ সালামকে রিসালত দেয়া হয়নি, তাঁর প্রতি ঈমান আনা ব্যতীত, যা আল্লাহ্‌ পাক সূরা আল ইমরান-এর ৮১তম আয়াত শরীফ-এ উল্লেখ করেছেন। সেই আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেখানে হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর মর্যাদা হীন বা খাট করতে নিষেধ করার সাথে সাথে তা’যীম-তাকরীম করতে আদেশ করেছে, সেখানে উম্মতে মুহম্মদীর পক্ষে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম-এর মর্যাদা হানিকর উক্তি করা, যেমন- তিনি আল্লাহ্‌ পাক-এর নির্দেশ ব্যতীত দাওয়াত বন্ধ করেছেন, তাঁকে গযবে ফেলা হয়েছে, তিনি ত্রুটি করেছেন, অতঃপর তওবা করার পর মাফ করা হয়েছে ইত্যাদি মন্তব্য করা বা আক্বীদা পোষণ করা কি করে জায়িয হতে পারে? এবং তা কতটুকু গুরুতর অপরাধ হতে পারে তা বিশেষভাবে অনুধাবনীয়।
মূলতঃ হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালাম সম্পর্কিত উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ আপত্তিকর, বিভ্রান্তিমূলক, নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণের শানের খিলাফ, আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদার সম্পূর্ণ বিপরীত, যা স্পষ্টতঃ কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত এবং যা থেকে তওবা করে বিরত থাকা ফরয।
সুতরাং হযরত ইউনূছ আলাইহিস্‌ সালামসহ সকল আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ সম্পর্কেই সঠিক ও শরীয়তসম্মত আক্বীদা পোষণ করতে হবে। এটাই বিশ্বাস করতে হবে যে, সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণই সর্বপ্রকার গুণাহ্‌, পাপ, লগজেশ, ভুল-ত্রুটি ইত্যাদি থেকে পবিত্র। যারা আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শানে আপত্তিকর বক্তব্য পেশ করে তাদের সে বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল, মনগড়া, দলীলবিহীন ও কুফরীমূলক।
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৮)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29064133 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29064133 2009-12-23 11:55:53
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৮) প্রচলিত ৬ উছূল ভিত্তিক তাবলীগ জামায়াতের সমর্থনপুষ্ট প্রায় কিতাবেই একথা লেখা আছে যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ কোন কোন ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। যেমন- হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম গন্দম ফল খেয়ে ভুল করেছিলেন, ইত্যাদি। (মালফুযাতে শাইখুল হাদীছ, পৃষ্ঠা ২৩১; তাবলীগ গোটা উম্মতের গুরু দায়িত্ব, লেখক- মাওলানা ইসমাঈল হোসেন দেওবন্দী, পৃষ্ঠা ৬১) (নাঊযুবিল্লাহ্‌ মিন যালিক)
------------------------------------------------------------------------------------
এরূপ আক্বীদা পোষণ করা গুমরাহী ও কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। কারণ সকল নবী-রসূল বা আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণই ছিলেন আল্লাহ্‌ পাক-এর খাছ ও মনোনীত বান্দাগণের অন্তর্ভূক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ পাক বলেন, “আল্লাহ্‌ পাক যাকে ইচ্ছা (আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণকে) মনোনীত করেন।(সূরা শুয়ারা ১৩)
আল্লাহ্‌ পাক আরো বলেন, “আল্লাহ্‌ পাক ফেরেশ্‌তা ও মানুষের মধ্যে থেকে রসূল মনোনীত করেন।” (সূরা হজ্জ ৭৫)
অর্থাৎ আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণকে আল্লাহ্‌ পাকই খাছভাবে মনোনীত করেন। কারো পক্ষে সাধনা বা রিয়াজত মুশাক্কাত করে কস্মিনকালেও নবী-রসূল (আলাইহিমুস্‌ সালাম) হওয়া সম্ভব নয়। আর তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন ওহীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কুরআন শরীফ-এর একাধিক স্থানে ইরশাদ হয়েছে, “আমি তাঁদের (আম্বিয়া আলাইহিমুস্‌ সালামগণের) প্রতি ওহী পাঠাতাম।” (সূরা ইউসূফ ১০৯, সূরা নহল ৪৩, সূরা আম্বিয়া ৭)
অর্থাৎ আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের যাবতীয় কার্যাবলীই ওহীর দ্বারা পরিচালিত হতো। যার প্রেক্ষিতে আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, “সকল আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ মা’ছূম বা নিষ্পাপ।”
আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, “সকল আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণই ছগীরা, কবীরা, কুফরী এবং অপছন্দনীয় কাজ হতেও পবিত্র।” (ফিক্বহে আকবর)
এ উছূলের ভিত্তিতে আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদা হলো, কোন নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম কখনো ভুল-ত্রুটি, গুণাহ্‌, পাপ, খতা, লগজেশ ইত্যাদি কিছুই করেননি। ইচ্ছাকৃত তো নয়ই, অনিচ্ছাকৃতও নয়। (শরহে আক্বাইদে নসফী, ফিক্বহে আকবর, তাকমীলুল ঈমান, আক্বাইদে হাক্কাহ্‌)
অতএব, যারা নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণের গুণাহ্‌ বা ভুল সম্পর্কে বলে থাকে, তারা আক্বাইদ ও ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ বা মূর্খ থাকার কারণে এবং কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে আম্বিয়া আলাইহিমুস্‌ সালামগণের শানে এরূপ বেয়াদবীমূলক ও কুফরী কথাবার্তা বলে থাকে। উল্লেখ্য, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণের সাথে কতটুকু আদব রক্ষা করতে হবে, সে প্রসঙ্গে কিতাবে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়,
আশেক্বে ইলাহী, ইমামুশ্‌ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমাম মারূফ কারখী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রধান খলীফা ও সাইয়্যিদুত্‌ ত্বইফা হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর পীর ছাহেব, হযরত ইমাম সাররী সাক্‌‌তী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি যিনি তাঁর যামানায় আল্লাহ্‌-এর লক্ষ্যস্থল এবং ইমামুশ্‌ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত ছিলেন। তিনি একবার আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্‌ সালামকে স্বপ্নে দেখে প্রশ্ন করেছিলেন, হে আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী, হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্‌ সালাম! আপনার অন্তরে আল্লাহ্‌ পাক-এর মুহব্বত সত্যিকারভাবেই প্রবল, তারপরেও আপনি কেন আপনার ছেলে হযরত ইউসুফ আলাইহিস্‌ সালাম-এর জুদাইয়ের (বিচ্ছেদের) কারণে তাঁর মুহব্বতে ৪০ বছর যাবত কেঁদে কেঁদে আপনার চক্ষু মুবারক নষ্ট করেছিলেন? এ কথা বলার সাথে সাথে গায়েব থেকে নেদা (আওয়াজ) হলো, “হে হযরত সার্‌রী সাক্‌তী! নবী (আলাইহিমুস্‌ সালাম)দের শানে সাবধানে কথা বল।” এরপর হযরত ইউসুফ আলাইহিস্‌ সালামকে তাঁর সামনে পেশ করা হলে তিনি দেখে বেহুশ হয়ে পড়েন এবং এভাবে একাধারে ১৩ দিন ১৩ রাত বেহুশ থাকার পর হুঁশ ফিরে পান। তখন গায়েব থেকে নেদা হয়, আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী (আলাইহিমুস্‌ সালাম)দের শানে এরূপ কথা বললে তাদের অবস্থা এরূপই হয়ে থাকে। (তাযকিরাতুল আউলিয়া)
উপরোক্ত ওয়াকিয়া বা ঘটনার আলোকে প্রতিভাত হয় যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শানে তাঁদের শানের খিলাফ কথা বলা সম্পূর্ণই নিষিদ্ধ। অতএব, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শানে প্রতিক্ষেত্রেই তাঁদের শান ও মর্যাদা রক্ষা করে কথা বলতে হবে। তাঁদের প্রতি সর্বাবস্থায় সুধারণা বা ছহীহ্‌ আক্বীদা পোষণ করতে হবে এবং যে সকল আয়াত শরীফ, হাদীছ শরীফ ও ঘটনাসমূহ বাহ্যতঃ নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণের শানের খিলাফ ও ছহীহ্‌ আক্বীদা পরিপন্থী তা পরিহার করতঃ শান ও ছহীহ্‌ আক্বীদাসম্মত অর্থ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে হবে। হযরত ইমাম সাররী সাক্‌‌তী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর ঘটনা আমাদের এ শিক্ষাই দেয়।
এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের প্রতি যথাযথ আদব রক্ষা করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের বরকতময় জীবনীতেও রয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে যে, একদা জনৈক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি বড় না হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড়? জবাবে বিশিষ্ট ও মর্যাদাবান ছাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অত্যন্ত হিকমতপূর্ণ জবাব দিলেন এই বলে যে, তিনি অবশ্যই আমার চেয়ে অনেক বড় (মর্যাদাবান)। তবে আমি দু’বছর আগে বিলাদত লাভ করেছি। (সুবহানাল্লাহ্‌)
অতএব, বিশিষ্ট ও মর্যাদাবান ছাহাবী হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উপরোক্ত হিকমতপূর্ণ কথা বা বক্তব্য দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, হযরত আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ সম্পর্কে খুব আদব ও সতর্কতার সাথে কথা বলতে হবে। কারণ বেয়াদব সম্পর্কে হযরত জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “বেয়াদব আল্লাহ্‌ পাক-এর রহ্‌মত থেকে বঞ্চিত।” (মসনবী শরীফ)
স্মরণীয় যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ ভুল করা তো দূরের কথা, কোন প্রকার অপছন্দীয় কাজও তাঁরা করতেন না। বরং সর্ব প্রকার অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পবিত্র। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়,
“একবার আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুজরা শরীফ-এ বসা ছিলেন। এমতবস্থায় এক ব্যক্তি এসে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাইলেন। এ সংবাদ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দিক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট পৌঁছালেন। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সে ব্যক্তিকে অপেক্ষা করতে বললেন। এ কথা বলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পাগড়ী মুবারক, কোর্তা মুবারক ইত্যাদি গুছগাছ করে নিলেন। এমনকি হুজরা শরীফ থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে পানির গামলাতে নিজের চেহারা মুবারক দেখে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। তা দেখে সে সময় হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনিও কি এরূপ করেন?’ তিনি বললেন, ‘কিরূপ?’ হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বললেন, ‘এরূপ পরিপাটি।’ এর জবাবে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমরা আল্লাহ্‌ পাক-এর নবী ও রসূল। আমাদের কোন কাজ কারো অপছন্দ হলে, সে ঈমানহারা হয়ে যাবে।” (আল মুরশিদুল আমীন)
অতএব, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ যে, কতটুকু অপছন্দীয় কাজ থেকে বেঁচে থাকতেন, এ হাদীছ শরীফ থেকে বর্ণিত ঘটনা তারই প্রমাণ। তাহলে কি করে এ কথা বলা যেতে পারে বা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ ভুল-ত্রুটি, গুণাহ্‌, নাফরমানী ইত্যাদি করেছিলেন? বস্তুতঃ এরূপ আক্বীদা পোষণ করা সম্পূর্ণই হারাম ও কুফরী এবং ঈমানহারা তথা বেঈমান হওয়ার কারণ।
আরো উল্লেখ্য যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারীদেরকে “রাবী” বলা হয়। এই রাবীগণের মধ্যে যাঁরা প্রথম শ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত, তাঁদেরকে বলা হয় “ছেক্বাহ্‌ রাবী।” হাদীছ শরীফ বিশারদ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ “ছেক্বাহ রাবী” হওয়ার জন্য যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে মূল বিষয় হচ্ছে- (১) আদালত ও (২) জব্‌ত। “জব্‌ত” হলো প্রখর স্মরণশক্তি যা একবার শুনলে আর কখনো ভুলে না। আর “আদালত”-এর মধ্যে চারটি শর্ত। তার মধ্যে প্রধান দু’টি হলো (ক) তাক্বওয়া, (খ) মুরুওওয়াত। (ক) “তাক্বওয়া” হচ্ছে কুফরী, শেরেকী, বিদ্‌য়াতী, ফাসিকী কাজ থেকে বেঁচে থাকার সাথে সাথে কবীরা গুনাহ থেকে এমনকি ছগীরা গুনাহও বার বার করা থেকে বেঁচে থাকা। (খ) “মুরুওওয়াত” হচ্ছে অশালীন, অশোভনীয়, অপছন্দনীয় এমনকি দৃষ্টিকটু কাজ থেকে বিরত থাকা। যেমন- রাস্তায় হেঁটে, হেঁটে খাদ্য খাওয়া, রাস্তায় অট্টহাস্য করা, চিৎকার করা ইত্যাদি। আরো উল্লেখ্য যে, হাদীছ শরীফ বিশারদ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ তাঁদের বর্ণিত হাদীছকে “মওজূ” বা বানোয়াট বলে সাব্যস্ত করেছেন, যারা জীবনে একবার মাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে হাদীছ শরীফ-এর ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। আর যারা জীবনে ব্যক্তিগতভাবে মিথ্যা বলেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে তাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফকে “মতরুক” বা পরিত্যাজ্য বলে সাব্যস্ত করেছেন(তাদরীবুর রাবী, মুকাদ্দামাতুশ শায়খ, মীযানুল আখবার)
এখন ফিকিরের বিষয় এই যে, হাদীছ শাস্ত্র বিশারদ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ আল্লাহ্‌ পাক-এর বান্দা ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়া সত্ত্বেও তাদের মতে আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে রাবীগণকে “বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী বা ছেক্বাহ রাবী” হিসেবে মনোনীত বা চিহ্নিত করতে ছেক্বাহ রাবীর যদি এত শর্ত-শারায়েত ও যোগ্যতার প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ যদি কেউ জীবনে একবার মিথ্যা বলে তাহলে ছেক্বাহ রাবী হওয়া তো দূরের কথা তার কোন হাদীছই গ্রহণযোগ্য নয় বলে শর্তারোপ করা হয়েছে। এরপর ছগীরা গুণাহ্‌ তো দূরের কথা যা সাধারণ মুরুওয়াতের খিলাফ, যেমন রাস্তায় হেঁটে হেঁটে যদি কেউ খাদ্য খায় সেও ছেক্বাহ্‌ রাবীর অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না। তবে যিনি হাদীছ বিশারদ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণসহ সকলেরই রব ও খালিক, তিনি তাঁর পবিত্র কালাম বর্ণনা করা বা পৌঁছে দেয়া বা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে যাঁদেরকে নবী ও রসূল (আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালাম) হিসেবে মনোনীত করেছেন, তাঁদের জন্য কি মানদন্ড নির্ধারণ করেছেন বা কতটুকু শর্তারোপ করেছেন? তাঁদেরকে কতটুকু যোগ্যতা দান করেছেন? আর তাঁরা কতটুকু মাহ্‌ফুজ ও মা’ছূম হওয়া শর্তারোপ করেছেন? আর ছেক্বাহ্‌ রাবীর তুলনায় তাঁদের কত বেশী যোগ্যতা, মা’ছূম ও নিষ্পাপ হওয়া প্রয়োজন? বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণ ছেক্বাহ্‌ রাবীগণের চেয়েও বহু বহু গুণে যোগ্যতা সম্পন্ন মাহ্‌ফুজ ও মা’ছূম। অতএব, তাঁদের দ্বারা ভুল-ত্রুটি, গুণাহ্‌ ইত্যাদি প্রকাশ পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
মূলতঃ তাদের এ কথা সঠিক নয় বরং ভুল ও কুফরীযুক্ত। প্রকৃত ঘটনা হলো- আল্লাহ্‌ পাক যখন হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম ও হযরত হাওয়া আলাইহাস্‌ সালামকে আদেশ করেছিলেন যে, “আপনারা এই (গন্দম) গাছের নিকটবর্তী হবেন না।" (সূরা বাক্বারা ৩৫)
তখন তাঁরা আল্লাহ্‌ পাক-এর আদেশ অনুযায়ী সে গাছের নিকটবর্তী হননি। বরং উক্ত গাছের অনুরূপ বিপরীত দিকের অন্য একটি গাছ দেখিয়ে ইবলিস শয়তান এসে হযরত হাওয়া আলাইহাস্‌ সালামকে মিথ্যা কছম খেয়ে বলেছিল যে, যদি আপনারা এই গাছের ফল খান, তবে আপনারা ফেরেশ্‌তা হয়ে যাবেন অথবা স্থায়ীভাবে বেহেশ্‌তে বসবাস করতে পারবেন। কোন কোন বর্ণনা মুতাবিক তখন হযরত হাওয়া আলাইহাস্‌ সালাম সে গাছ হতে ফল এনে শরবত বানিয়ে হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালামকে খাইয়েছিলেন। অপর বর্ণনায় ফল কেটে খাইয়েছিলেন। এ ঘটনা হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর অজান্তে সংঘটিত হয়েছিল। সুতরাং যা অজান্তে সংঘটিত হয়, তা কি করে ভুল বা অপরাধ হতে পারে? বাস্তবিক তা কখনোই ভুল হতে পারে না। (সমূহ তাফসীরের কিতাব)
এর মেছাল বা উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর শাহাদাত-এর ঘটনা। তিনি শাহাদাত বরণ করেছিলেন, এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। উনাকে ইসলামের শত্রুরা শহীদ করার জন্য একে একে পাঁচবার বিষ পান করায়। কিন্তু আল্লাহ্‌ পাক-এর রহ্‌মতে তিনি প্রত্যেক বারই বেঁচে যান। ষষ্ঠবার তাঁকে শহীদ করার জন্য তাঁর পানির কলসিতে, যে কলসির মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতেন, যেন তার ভিতরে কিছু ফেলা না যায়, সেই কাপড়ের উপর শত্রুরা হিরক চূর্ণ বিষ তাঁর অজান্তে মিশিয়ে দিয়েছিল। তিনি গভীর রাতে হিরক চূর্ণ বিষ মিশ্রিত পানি কলস থেকে ঢেলে পান করেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। যা তাঁর অজান্তেই সংঘটিত হয়েছিল। (সিররুশ্‌ শাহাদাতাঈন, শুহাদায়ে কারবালা, সীরাতে ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা)
এখন প্রশ্ন উঠে, শরীয়তের দৃষ্টিতে তাঁর শাহাদাতকে আত্মহত্যা বলতে হবে, না ভুল করার কারণে ইন্তিকাল করেছেন তা বলতে হবে? মূলতঃ উপরোক্ত দু’টির কোনটাই বলা যাবে না। যদি কেউ কোন একটি বলে, তবে সে মিথ্যা তোহমত দেয়ার গুনাহে গুনাহগার হবে, যা কুফরীর শামিল হবে। তদ্রুপ হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর ঘটনাও। যা তাঁর অজান্তে সংঘটিত হয়েছিল। অনুরূপ অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণের ঘটনাও। কাজেই এক্ষেত্রে হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর গুণাহ্‌ হওয়া তো দূরের কথা প্রকৃতপক্ষে তাঁর কোন ভুলও হয়নি।
এখন কেউ বলতে পারে, যদি হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর কোন ভুলও না হয়ে থাকে তবে, وَعَصٰٓي اٰدَمُ رَبَّهُ এ আয়াত শরীফ-এর সঠিক অর্থ কি?
মূলতঃ এ আয়াত শরীফ-এর সঠিক অর্থ হলো, “(মহান আল্লাহ্‌ পাক-এর হিকমত হেতু) হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর দ্বারা (তাঁর অজান্তেই) তাঁর রবের হুকুমের খিলাফ কাজ সংঘটিত হয়ে গেল।”
অনুসণীয় মুহাক্কিক ও মুদাক্কিক্বগণ উক্ত আয়াত শরীফ-এর এরূপ অর্থই করে থাকেন। আর এরূপ অর্থই নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শান ও আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদাসম্মত। অর্থাৎ হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অজান্তেই তাঁর দ্বারা বিষ পানের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কারণে যেরূপ একথা বলা জায়িয নেই যে, তিনি ভুল ও আত্মহত্যা করেছেন। ঠিক তদ্রুপ হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর দ্বারা তাঁর অজান্তে গন্দম খাওয়ার কাজ সংঘটিত হওয়ার কারণে এ কথা বলা জায়িয হবে না যে, হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম ভুল-ত্রুটি, খতা, লগজেশ, নাফরমানী, গুণাহ্‌, পাপ, আদেশ অমান্য ইত্যাদি করেছেন।
মানুষ সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে এবং কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর সঠিক ব্যাখ্যা না জানার ও না বুঝার কারণে নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস্‌ সালামগণের শানে বেয়াদবীমূলক কুফরী কথাবার্তা বলে থাকে। আর উনাদের শানের বিন্দুমাত্র খিলাফ কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম ও কুফরী। এ ধরনের কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সমস্ত মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয।
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৭)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29060681 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29060681 2009-12-17 19:08:51
পবিত্র আশূরা তথা ১০ই মুহর্‌রম-এর দিনের শ্রেষ্ঠত্ব, ফযীলত ও আমলসমূহ এ প্রসঙ্গে “মিরকাত শরহে মিশকাত” কিতাবে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমরা মুহর্‌রম মাসকে এবং এর মধ্যস্থিত আশূরার দিনকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মুহর্‌রম মাসকে তথা আশূরার দিনকে সম্মান করবে, আল্লাহ পাক তাঁকে জান্নাত দ্বারা সম্মানিত করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবেন।”
এ মাসে বেশি বেশি তাওবাহ-ইস্তিগফার, যিকির-ফিকির, দোয়া-দুরূদ, তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করার মাধ্যমে পরিপূর্ণ বরকত অর্জন করা সকল মু’মিন-মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য।
এ মাসের ফাযায়িল-ফযিলত বর্ণনা করতে গিয়ে আরিফবিল্লাহ হযরত মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর “মু’মিনকে মাহ ওয়া সাল” কিতাবের ১৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, “ছাহাবী হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন যে, মুহর্‌রম মাস হচ্ছে সমস্ত মাসের সরদার।” (দাইলামী শরীফ, মাসাবাতা বিস্‌ সুন্নাহ)

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশে নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা তারিখে যেমন- ১লা বৈশাখ, ১লা জানুয়ারি, পহেলা মুহর্‌রম ইত্যাদি তারিখে ভাল ভাল খাওয়ার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়, ইহা আদৌ শরীয়তসম্মত নয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখ, পহেলা জানুয়ারি বা পহেলা মুহর্‌রম ভাল খাওয়ার জন্য আলাদাভাবে কোন তাগিদ করা হয়নি। বরং দশই মুহর্‌রমে অর্থাৎ পবিত্র আশূরা-এর দিনে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান ব্যক্তিকে তার পরিবারের সদস্যদেরকে ভাল খাদ্য খাওয়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

১০ই মুহর্‌রম বা আশূরার দিনের বরকতময় ঘটনাসমূহঃ
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, এই আশূরার দিনে অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হয়েছে- যা সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হলো
১. মহান আল্লাহ পাক এই মুহররমের ১০ তারিখে সৃষ্টির সূচনা করেন।
২. আশূরার দিন শুক্রবার ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
৩. এ দিনই আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র ওজুদ মুবারক সৃষ্টি করা হয় এবং মর্যাদা, সম্মান ও খুছূছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। (সুবহানাল্লাহ)
৪. এই দিনে হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম-এর দোয়া মুবারক কবুল করা হয়।
৫. এই দিনে হযরত ইদ্‌রিস আলাইহিস্‌ সালামকে আকাশে তুলে নেয়া হয়
৬. এই দিনে হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালাম এবং উনার সঙ্গী সাথী যারা ছিলেন, আল্লাহ পাক তাঁদের মহাপ্লাবন থেকে মুক্তি দেন।
৭. আল্লাহ পাক এদিনে হযরত মূসা আলাইহিস্‌ সালাম-এর সাথে কথা বলেন এবং তাওরাত শরীফ উনার উপর নাযিল করেন।
৭. এদিনে বণী ইস্‌রাঈল সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ পাক লোহিত সাগরের উপর দিয়ে রাস্তা করে দেন। যার উপর দিয়ে হযরত মূসা আলাইহিস্‌ সালাম এবং তার সম্প্রদায় পার হয়ে যান। আর ফেরাউনের দলবল ও সৈন্যসামন্তসহ পানিতে ডুবে মারা যায়।
৯. আল্লাহ পাক এদিনে হযরত ইউনূস আলাইহিস্‌ সালামকে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেন।
১০. হযরত আউয়ুব আলাইহিস্‌ সালামকে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থতা দান করেন।
১১. এদিনে দীর্ঘ দিন বিচ্ছেদের পর হযরত ইউসূফ আলাইহিস্‌ সালামকে উনার পিতা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস্‌ সালাম-এর কাছে ফিরিয়ে দেন।
১২. এদিনে হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম-এর দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করেন।
১৩. হযরত সোলায়মান আলাইহিস্‌ সালামকে উনার রাজত্ব বা কর্তৃত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন।
১৪. আল্লাহ পাক এ দিনে হযরত ঈসা আলাইহিস্‌ সালামকে আসমানে তুলে নেন।
১৫. এই ১০ই মুহররম আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয়তম দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন, যে ঘটনা কায়িনাতবাসীকে ব্যথিত ও মর্মাহত করে তবে মুসলিম উম্মাহকে শিক্ষা দেয় ত্যাগের ও সত্যের। সুব্‌হানাল্লাহ!

আহ্‌লে বাইতগণ-এর আলোচনাঃ
মুহর্‌রম মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হচ্ছে- আহ্‌লে বাইত তথা হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-পর্যালোচনা করা। কেননা যার আলোচনা যত বেশী করা হয় তার মুহব্বত ততই বৃদ্ধি পায়। আর আহ্‌লে বাইতগণ-এর প্রতি গভীর মুহব্বত ভালবাসা, পরকালীন মুক্তি এবং আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টির কারণ। রহমত, বরকত ও সাকীনা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়।
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে দোয়া করেন যে, “হে আল্লাহ পাক! আমি হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে মুহব্বত করি। আপনিও উনাদেরকে মুহব্বত করুন এবং যে ব্যক্তি উনাদেরকে মুহব্বত করবে তাঁকেও আপনি মুহব্বত করুন।” (তিমমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৫৭০)
সাথে সাথে আশূরা থেকে আরেকটি ইবরত ও নছীহত হাছিল করতে হবে যে, হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কুখ্যাত ইয়াযিদের কুখ্যাত বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন কিন্তু তবুও অসত্যকে মেনে নেননি। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। কাজেই মুহর্‌রমের দশম তারিখে কুখ্যাত ইয়াযিদ কর্তৃক নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদরের নাতি সাইয়্যিদাতুন্‌ নিসা হযরত মা ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তায়ালা আনহা-এর নয়নের মণি হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নির্মম শাহাদতবরণ বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুঃখজনক, কষ্টদায়ক এবং বেদনাদায়ক হলেও প্রকৃত পক্ষে এর মাঝেই মুসলমানদের জন্য এক বিরাট নছীহত ও ইবরত রয়েছে। আর তাহলো মাল-সম্পদ এমনকি জীবন দিয়েও হক্বের জন্য বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে মুকাবিলা ও আমরণ কোশেশ করা।

আশুরার রোযার ফযীলতঃ
মহান আল্লাহ পাক-এর রহমত, বরকত ও সাকীনা এবং মাগফিরাত-ক্ষমা সম্বলিত মুহররম মাসের অন্যতম আমল হচ্ছে, আশূরার রোজা। রমাদ্বান শরীফের রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে আশূরার রোযাই ফরয ছিল।
কাজেই রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার পরই হচ্ছে, এ রোযার স্থান। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রমাদ্বান শরীফ-এর রোযার পর আল্লাহ পাক-এর মাস মুহর্‌রমের রোযাই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ তথা ফযীলতপূর্ণ।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, তিরমিযী শরীফ ও রিয়াদুছ্‌ ছালেহীন)
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি এসে আল্লাহ পাক-এর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! রমাদ্বান মাসের পর আর কোন্‌ কোন্‌ মাসের রোযা রাখতে মুবারক নির্দেশ দিয়ে থাকেন? তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি তুমি রমাদ্বান মাসের পর আরো রোযা রাখতে চাও তবে মুহর্‌রম মাসে রোযা রাখ। কেননা এটা আল্লাহ পাক-এর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন আল্লাহ পাক এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন এবং তিনি আর এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করবেন।” (তিরমিযী শরীফ, আহমাদ)
উক্ত হাদীছ শরীফ মুয়াফিক শাইখুল আলম, আরিফ বিল্লাহ্‌, আশেকে রসূল, আল্লামা হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যে কোন কঠিন গুণাহ্‌গার ব্যক্তি যদি আশূরার দিন তওবা করে তাহলে আল্লাহ পাক অবশ্যই তার তওবা কবুল করবেন।” (মাছাবাতা বিস্‌ সুন্নাহ্‌, মু’মিন কে মাহ ওসাল)
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং আশূরা-এর দিন রোযা রেখেছেন এবং ঐ দিনে সকলকে রোযা রাখার হুকুম দিয়েছেন।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, রিয়াদুস্‌ সালেহীন)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত আছে, আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশূরার রোযার ফযীলত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এটা বিগত বৎসরের সমস্ত গুণাহর কাফ্‌ফারা স্বরূপ।” (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য যে, অন্যান্য মাসে একটি রোযা রাখতে কোন অসুবিধা নেই; কিন্তু আশূরার রোযা একটি রাখা মাকরূহ। কেননা ইহুদীরা আশূরার দিনে রোযা রেখে থাকে। আর আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদী-নাছারাদের অনুসরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। হাদীছ শরীফ-এ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভূক্ত নয়। কাজেই তোমরা ইহুদী এবং নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করোনা।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ-৩৯৯ পৃষ্ঠা)
কাজেই আশূরা উপলক্ষ্যে কমপক্ষে দু’টি রোযা রাখতে হবে। ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ এ দু’দিন রোযা রাখতে হবে। তবে ৯ ও ১০ তারিখে রোযা রাখাই উত্তম।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, হযরত আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার দিন রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়লা আনহুমগণ আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এদিনকে ইয়াহুদী ও নাছারারা সম্মান করে। তখন নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যদি আমি আগামী বৎসর মহান আল্লাহ পাক-এর সাক্ষাতে না যাই অর্থাৎ বিছাল শরীফ যদি না হয় তাহলে অবশ্যই নবম তারিখেও রোযা রাখবো।” (মিশকাত শরীফ ১৭৮ পৃষ্ঠা)

ইফতারের ফযীলতঃ
আশূরার রোযার ইফতারীর ফযীলত সম্পর্কে আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আশুরার দিন যে ব্যক্তি কোন আশূরার রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেন সমস্ত উম্মতী হাবীবীকে ইফতার করালো।” (রিয়াদুস্‌সালেহীন, মা সাবাতাবিস্‌ সুন্নাহ)


আশূরার দিন পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়ানোঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন তার পরিবারবর্গকে ভাল খাওয়াবে-পরাবে আল্লাহ পাক সারা বৎসর তাকে স্বচ্ছলতা দান করবেন।” (তিবরানী শরীফ, শোয়াবুল ঈমান, মা-ছাবাতা-বিস্‌সুন্নাহ্‌)

আশূরার দিন চোখে সুরমা দেয়ার ফযীলতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, আখিরী রাসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন মিশ্‌ক মিশ্রিত সুরমা চোখে দিবে সেদিন হতে পরবর্তী এক বৎসর তার চোখে কোন প্রকার রোগ হবেনা।” (শুয়াবুল ঈমান, দায়লামী, মাছাবাতা বিস্‌সুন্নাহ্‌, মুমিনকে মাহ ওসাল-২৩)

আশুরা উপলক্ষে গোসলের ফযীলতঃ
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আশূরার দিন গোসল করবে আল্লাহ পাক তাকে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কোন কঠিন রোগ হবেনা এবং অলসতা ও দুঃখ-কষ্ট হতে নিরাপদ থাকবে।”

আশূরার দিন গরীবদেরকে খাদ্য দানের ফযীলতঃ
মাওলানা ইকবালুদ্দীন আহমাদ সাহেব উনার “মু’মিনকে মাহ ওসাল” কিতাবের ২৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, “আশূরার দিন যে ব্যক্তি আহ্‌লে বাইতের গরীব-মিসকীনগণকে পেট ভরায়ে খাদ্য খাওয়াবে সে ব্যক্তি বিদ্যুতের গতির ন্যায় পুলসিরাত পার হবে।”
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আশুরার দিন কোন মুসলমান যদি কোন ইয়াতিমের মাথায় হাত স্পর্শ করে এবং কোন ক্ষুধার্তকে খাদ্য খাওয়ায় এবং কোন পিপাসার্তকে পানি পান করায় তাহলে আল্লাহ পাক তাঁকে বেহেশতের দস্তর খানায় খাদ্য খাওয়াবেন ও জান্নাতের খালিস শরবত “সালসাবীল” ঝর্ণা থেকে পানি পান করাবেন।”
সুতরাং, বুঝা যাচ্ছে, মুহর্‌রম মাসকে সম্মান করা এবং আশূরা মিনাল মুহর্‌রমকে সম্মান করা ওয়াজিব। তাই মুহর্‌রমকে অসম্মানকারীরা জাহান্নামী তথা জান্নাত থেকে বঞ্চিত। মুহর্‌রম মাসে ও অন্য যে কোন মুহূর্তে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-এর অসম্মানী করা, তা’জিয়া করা, মাতম করা, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে গালমন্দ করা হারাম ও কুফরী। এগুলো আশূরাকে অসম্মান করার পরিচায়ক; যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কার্যকলাপ। আয় আল্লাহ পাক! বিশ্ববাসীকে মুহর্‌রমুল হারামের যথাযথ তা’যীম করে বরকত, রহমত অর্জন করার তাওফিক দান করুন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29060613 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29060613 2009-12-17 16:43:09
এ বছর হজ্জ নষ্টের উদ্দেশ্যে সৌদী ওহাবী সরকার কর্তৃক চাঁদের তারিখ হের-ফের-এর প্রমাণ “সৌদী ওহাবী সরকার কর্তৃক চাঁদের তারিখ হের-ফের করার প্রমাণ”-বিষয়টি তুলে ধরার পূর্বে নিচের বিষয়গুলো আলোচনা করা একান্ত জরুরী বিধায় তা তুলে ধরলামঃ
New Moon আসলে নতুন চাঁদ নয়ঃ ইংরেজিতে অমাবস্যাকে New Moon বলে। New Moon এর অভিধানিক অর্থ অমাবস্যা হলেও সাধারণ মানুষ এর অর্থ মনে করে থাকে নতুন চাঁদ। বিভিন্ন অনুবাদ গ্রন্থেও New Moon এর অর্থ নতুন চাঁদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই New Moon শব্দটির পরিবর্তন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। অনেক মহাকাশ বিজ্ঞানী কখনো কখনো New Moon এর পরিবর্তে No Moon, Black Moon ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রকৃতভাবে এ শব্দগুলোও সঠিক অর্থ বহন করেনা। যেমনঃ “No Moon”-এর অর্থ “চাঁদ নেই”, প্রকৃতপক্ষে অমাবস্যায় চাঁদের উপস্থিতিতো অবশ্যই থাকে কিন্তু তা দৃশ্যমান হয়না। আবার “Black Moon” এর অর্থ “কালো চাঁদ”, কিন্তু তাও সঠিক নয় কেননা পৃথিবীর দিকে চাঁদের যে অংশটুকু থাকে তা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে বলে দৃশ্যমান হয়না। কিন্তু সূর্যের দিকের অংশটুকু আলোকিতই থাকে।
Zero Moon মানে অমাবস্যাঃ বস্তুত অমাবস্যাকে New Moon এর পরিবর্তে Zero Moon হিসেবে আখ্যায়িত করা উচিৎ। কেননা অমাবস্যার সময় চাঁদ, পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে অবস্থান করে এবং সে সময় চাঁদ দৃশ্যমান হয়না।
অমাবস্যা সংঘটনের চিত্র
সে সময় চাঁদের বয়স ধরা হয় শূন্য ঘন্টা, শূন্য মিনিট। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অমাবস্যার পর চাঁদ নিদিষ্ট বয়সে (সাধারণত তা ১৮-২১ ঘন্টা) পৌঁছালে এবং চাঁদের বয়সের পাশাপাশি আরো কিছু শর্ত পূরণ হলে চাঁদ পৃথিবী থেকে দেখা যায়। এ যাবৎ কালে মুসলিম গবেষকরা চাঁদ দেখার যে শর্তদি আবিষ্কার করেছেন সেগুলো হলঃ (১) চাঁদের বয়স, (২) চাঁদ ও সূর্যের কৌণিক দুরত্ব, (৩) দিগন্ত রেখার উন্নতি কোণ, (৪) সূর্যের লাল আভা বিকিরণের বিস্তৃতি এবং স্থায়ীত্ব, (৫) চাঁদের তীর্যক পথ ও খাড়া পথে গমন, (৬) চাঁদের আলোকিত অংশ বা চাঁদের পুরুত্ব, (৭) পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব, (৮) সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা অমাবস্যার সময় চাঁদের বয়স শূন্য ধরেই তাদের সকল গণনার কাজ করেন। ফলে অমাবস্যার পর যখন চাঁদ দৃশ্যমান হয় তখন উল্লেখ করা হয় এভাবে যে ২০ ঘন্টা, ২২ ঘন্টা বা ৩৬ ঘন্টার চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছে। সুতরাং গণনার সময় চাঁদের বয়স যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চাঁদের উপস্থিতি যেহেতু সবসময়ই থাকে তাই No Moon অথবা Black Moon না বলে Zero Moon বলাই যুক্তিসঙ্গত।
অমাবস্যার চাঁদ বুঝাতে New Moon শব্দটি বিভ্রান্তিমূলকঃ ইংরেজীতে অমাবস্যার চাঁদকে New Moon বলার পেছনে কারণ হচ্ছে অমাবস্যার পর থেকেই চাঁদ আবার ধীরে ধীরে পৃথিবীর চারপাশ প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন দশায় পৌঁছে এবং শেষে আবার পৃথিবীর আড়ালে চলে যায়। সে সময় পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের একবার প্রদক্ষিণ শেষ হয়। এছাড়া ইহুদীরা অমাবস্যার চাঁদকে New Moon বা নতুন চাঁদ হিসেবে ধরে তাদের ক্যালেন্ডার রচনা করে থাকে। ফলে অমাবস্যার চাঁদ তাদের কাছে মাসের নতুন চাঁদ তথা New Moon। মুসমানদের কাছে গণনার দিক থেকে এই অমাবস্যার চাঁদের কোন গুরুত্ব নেই।
বাঁকা চাঁদের শরয়ী ব্যাখাঃ কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনাকে বাঁকা চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আপনি বলুন এটি মানুষের (আরবী মাস এবং ইবাদতের) সময় এবং হজ্জের সময় নির্ধারণ করার মাধ্যম। ” (সূরা বাক্বরা ১৮৯)
আবার হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা শুরু কর এবং চাঁদ দেখে ঈদ কর। আর যদি ২৯শে শা’বান চাঁদ দেখা না যায় তবে শা’বান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ কর।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ যে চাঁদের বর্ণনা করা হয়েছে তা বাঁকা চাঁদ বা হিলাল যা অমাবস্যার পরে পৃথিবীতে দৃশ্যমান হয়। এই বাঁকা চাঁদ বা হিলালকে বলা হয় Crescent Moon যা শরীয়তের নতুন চাঁদ। আর অমাবস্যার চাঁদ হচ্ছে Zero Moon যার বয়স শূন্য ঘন্টা, শূন্য মিনিট এবং তা কখনোই দৃশ্যমান হয় না।
যারা মনে করে অমাবস্যায় নতুন চাঁদের জন্ম হয় ফলে জন্মের পরেই চাঁদ দৃশ্যমান হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। অমাবস্যায় নতুন চাঁদের জন্ম হয় সত্য তবে তা দেখতে পাবার জন্য কমপক্ষে ১৮-২১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে বিষয়টিকে এভাবে অপব্যাখ্যা করে যে, এই নতুন যাত্রার চাঁদই হচ্ছে শরীয়তের নতুন চাঁদ। তাদের কাছে চাঁদ দেখতে পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং নতুন মঞ্জিলে চলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এরকম ব্যাখ্যা শরীয়তসম্মত নয় কারণ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বাঁকা চাঁদ বা হিলাল বা Crescent Moon-এর কথা বলা হয়েছে।
সুতরাং, অমাবস্যার চাঁদ বুঝাতে New Moon শব্দটি বিভ্রান্তিমূলক বলে তা পরিত্যাজ্য। New Moon শব্দের পরিবর্তে Zero Moon শব্দটির ব্যাপক প্রচার জরুরী। ইহুদী-মুশরিকদের কাছে অমাবস্যার চাঁদের গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু মুসলমানদের কাছে নয়। মুসলমানদের কাছে New Moon হচ্ছে অমাবস্যার চাঁদ। আর অমাবস্যার পরপরই চাঁদ দৃশ্যমান হয়না। অমাবস্যা অনুযায়ী আরবী মাস গণনা করা কখনোই শরীয়ত সমর্থিত নয়।
আরবী মাস ও ইহুদীদের মাস গণনার তুলনামুলক চিত্র
উপরের চিত্রে দেখানো হয়েছে যে, ইহুদীরা চাঁদ দেখে মাস গণনার ক্ষেত্রে যে New Moon থেকে মাস গণনা করা হয় সেটা আসলে আরবী মাস গণনার ক্ষেত্রে Zero Moon বা অমাবস্যা। অর্থাৎ ইহুদীরা অমাবস্যা থেকে মাস গণনা শুরু করে।

এবার মূল বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করা যাক।
সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ষড়যন্ত্রঃ সৌদী ওহাবী সরকার চাঁদের নতুন তারিখ ঘোষণার ক্ষেত্রে বর্তমানে উম্মুল কুরার ক্যালেন্ডারে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাতে বলা হয়েছে যদি কোন আরবী মাসের ২৯তম দিনের সন্ধ্যায় নিচের ২টি অবস্থা পূর্ণ হয় তবে সন্ধ্যার পর থেকে হবে নতুন মাসের ১ম তারিখ গণনা করা হবে।
ক) যদি জিওসেন্ট্রিক অমাবস্যা সূর্যাস্তের পূর্বে ঘটে।
খ) যদি চাঁদ, সূর্য অস্ত যাবার পরে অস্ত যায়।
এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় যে, উভয় শর্ত পূর্ণ হলেও সেক্ষেত্রে চাঁদটি Zero Moon বা অমাবস্যা হতে পারে। কারণ অমাবস্যা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে চন্দ্র অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময় যদি ১৮ ঘন্টার কম হলে চাঁদটি Zero Moon হবে ফলে চাঁদটি দৃশ্যমান হবেনা। নিচের চিত্রে তা দেখানো হলঃ
উম্মুল কুরার শর্তে ত্রুটি
এই বছর (১৪৩০ হিজরী) হজ্জ নষ্টের প্রমাণঃ এ বছর সৌদি ওহাবী সরকার যিলহজ্জ মাসের তারিখ হের-ফের করার কারণে হজ্জ নষ্ট হবে। নিচে প্রমাণ গুলো তুলে ধরা হলঃ
(১) সৌদি ওহাবী সরকার যেদিন (১৮ নভেম্বর ২০০৯) যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ ঘোষণা করে, সেদিন তাদের পত্রিকাগুলোতে তারিখের গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে। যেমনঃ অন্যান্য পত্রিকাগুলি (যেমনঃ Saudi Gazette ) যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ দেখালেও ASHARQ AL-AWSAT পত্রিকাটি ৩০শে যিলক্বদ দেখায়। এমনকি সোদি প্রেস এজেন্সী (SPA) এর website এ ইংরেজী এবং আরবী ভার্সনে গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে।
(২) যেহেতু সৌদি আরব যেদিন (১৮ নভেম্বর ২০০৯) যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ ঘোষণা করে ঠিক সেদিন ইসরাঈলের পত্রিকাগুলোতে কিসলভ মাসের এক তারিখ (Kislev ) দেখায়। ইহুদীরা যেহেতু চাঁদ দেখে তাদের মাস গণনা করে (তাদের অমাবস্যার দিন এক তারিখ) সুতরাং সৌদি ওহাবী সরকার চাঁদ না দেখেই অমাবস্যার দিন এক তারিখ ঘোষণা করেছে বলে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল। লিংকটি দেখুন
(৩) এছাড়া বাংলাদেশের যুগান্তর পত্রিকায় ১৯শে নভেম্বর সৌদি ওহাবী সরকার কর্তৃক চাঁদের তারিখ হের-ফের করার খবর উল্লেখ করেছে।
(৪) ১৭ই নভেম্বর ২০০৯ ঈসায়ী, মঙ্গলবার সৌদি আরব চাঁদ দেখার মিথ্যার দাবি করে ১৮ই নভেম্বর, বুধবার থেকে পবিত্র যিলহজ্জ মাস গণনা শুরু করেছে। অথচ মহাকাশ বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী এবং সউদী আরবের উম্মুল কুরার তথ্য অনুযায়ী প্রমাণিত হয়, ১৭ই নভেম্বর, মঙ্গলবার চাঁদ দেখার কোন সম্ভাবনাই ছিল না। যেখানে সূর্যাস্তের সময় দিগন্তরেখার উপর চাঁদ ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি উপরে থাকলে এবং পাশাপাশি চাঁদ দেখার অন্যান্য মান অনুকূলে থাকলে চাঁদ দৃশ্যমান হয় সেখানে ১৭ই নভেম্বর, মঙ্গলবার সউদী আরবে চাঁদ মাত্র ৩ ডিগ্রির কিছু বেশি উচ্চতায় ছিল। যে উচ্চতায় খালি চোখে তো নয়ই বরং বাইনোকুলার এবং টেলিস্কোপ দিয়েও চাঁদ দেখার সম্ভাবনা ছিল না। সুতরাং মিথ্যা সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে আরবী মাস শুরু করলে তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে না। সউদী আরবে পবিত্র যিলহজ্জ মাস চাঁদ না দেখে একদিন পূর্বে শুরু হওয়াতে অকুফে আরাফা অনুষ্ঠিত হবে ৯ই যিলহজ্জের পরিবর্তে ৮ই যিলহজ্জ। ফলে হজ্জের একটি ফরয আমল আদায় না হবার কারণে পবিত্র হজ্জ বাতিল হবে। সূত্রঃ দৈনিক আল-ইহসান
উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এ বছর আরবী মাসের তারিখ চাঁদ না দেখে ইহুদীদের ক্যালেন্ডার অনুসরণে যিলহজ্জ মাসের শুরু করে কোটি কোটি হাজীর হজ্জ বরবাদ করছে। এদের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিৎ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29049580 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29049580 2009-11-25 18:46:51
চাঁদের তারিখ হের-ফের করার কারণে এ বছরও হজ্জ নষ্ট হতে যাচ্ছে চাঁদের তারিখ হের-ফের এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত একটি ব্লগ লিখেছিলাম যেখানে আমি তুলে ধরেছিলাম কিভাবে সৌদী ওহাবী সরকার ইহুদীদের গোলামী করে আরবী মাসের তারিখ হের-ফের করে হজ্জ নষ্ট করে যাচ্ছে। মূলতঃ হজ্জের প্রতিটি আহ্‌কাম তারিখের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় তারিখ হের-ফের হলে কারোই হজ্জ হবেনা। সাধারণ একটি উদাহরণ দিলে জিনিসটি পরিস্কার হবে যাবে। একজন মুসল্লি যদি জুময়ার নামায শনিবার বা বৃহস্পতিবারে আদায় করে তাহলে জুময়ার নামায আদায় হবে না কারণ জুময়ার নামায শুক্রবার তথা বারের সাথে সংশ্লিষ্ট। ঠিক তেমনি হজ্জের সকল আহ্‌কামগুলিও তারিখের সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমনঃ ৯ তারিখে আরফার ময়দানে অবস্থান (উকূফে-আরাফা)। এখন কেউ যদি তারিখ হের-ফের করার কারণে ৮ বা ৭ বা ১০ তারিখে আরফার ময়দানে অবস্থান করে তাহলে কস্মিনকালেও তার হজ্জ আদায় হবে না। উল্লেখ্য যে, তারিখ হের-ফের করার কারণ এ বছর উকূফে-আরাফা হবে ৮ তারিখে।

সাধারণ ভাবে, চন্দ্র ও সূর্য পূর্ব থেকে উদিত হয়ে পশ্চিমে অস্ত যায়। তাই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরান ইত্যাদি দেশেরগুলোর আগে সৌদী আরবে চাঁদ দেখতে পাওয়াটা কি করে বিশ্বাস যোগ্য হতে পারে।

আমার চাঁদের তারিখ হের-ফের এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত ব্লগটির ৯ নম্ব্বর মন্তব্যের জবাবে বলেছিলাম যে “সৌদী ওহাবী সরকার এ যাবৎকাল ধরে হাদীস শরীফের অনুসরণ না করলেও অধিকাংশ মাসেই ইহুদীদের ক্যালেন্ডারের অনুসরণ করেছে।” সৌদী ওহাবী সরকার এ মাসেও ইহুদীদের ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে জিলহজ্জ মাস ঘোষণা করেছে। নিচে তার প্রমাণস্বরূপ সৌদী আরব ও ইসরাঈলী পত্রিকা তুলে ধরা হলঃ



বড় ছবি দেখতে চাইলে
jerusalempost
arabnews

এখানে যে ব্যাপারটা লক্ষণীয় তাহলো- আজকের (১৯ নভেম্বর ২০০৯ তারিখ) ইসরাঈলী (ইহুদী) পত্রিকা Jerusalem Post এর ইহুদী ক্যালন্ডারের তারিখ হল 2 Kislev 5770 এবং একই দিনের সৌদী পত্রিকা arabnews এর হিজরী ক্যালন্ডারের তারিখ হল 02 Dhul Hijjah 1430

বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং সৌদী আরবের প্রতিবেশী দেশ ইরান, সৌদী আরবের পূর্বে হওয়ার পরও সে সব দেশে আজকে জিলহজ্জ মাসের ১ তারিখ। আপনারা ইচ্ছে করলে নিচের পত্রিকার লিংকগুলো দেখতে পারেন।

বাংলাদেশঃ
http://www.eprothom-alo.com

পাকিস্তানঃ
http://www.dawn.com
http://www.pakistantimes.net/pt/index.php

ইরানঃ
http://www.jamejamonline.ir

সৌদী আরবঃ
http://www.alnadwah.com.sa
http://www.nooralfajr.com
http://www.al-jazirah.com
http://www.al-madina.com

ইসরাঈলঃ
http://www.haaretz.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29046142 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29046142 2009-11-19 14:32:37
আজব জিনিস ( সাময়িক পোষ্ট)

বড় করে দেখতে চাইলে
http://img43.imageshack.us/img43/4949/agel.jpg]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29045933 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29045933 2009-11-19 08:54:30
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা-১ (হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হায়াতুন নবী) “যারা আল্লাহ পাক-এর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন তোমরা তাদেরকে মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত। অথচ তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারছো না।” (সূরা বাক্বারা/১৫৪)
আর ওলীআল্লাহগণের শানেও বলা হয়েছে, “ওলীআল্লাহগণ মৃত্যুবরণ করেন না। বরং তারা অস্থায়ী জগৎ থেকে স্থায়ী জগতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন।” (মিরকাত ৩য় খণ্ড, ২৪১ পৃষ্ঠা)। এছাড়া সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণও স্বীয় রওযা মুবারকে জীবিত রয়েছেন। যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “নিশ্চয়ই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মুসা আলাইহিস্‌ সালামকে উনার রওজা মুবারকে নামাযরত অবস্থায় দাঁড়ানো দেখেছেন। অনুরূপভাবে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস্‌ সালামকে দেখেছেন।” (মিরকাত ৩ জিলদ ২৪১ পৃষ্ঠা)
এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণ স্বীয় রওযা শরীফ-এ জীবিত থাকেন। উনারা রওযা শরীফ-এ নামাযও আদায় করেন।” (তারিখে ইস্পাহান ২/৮৩, ফয়জুল ক্বাদীর ৩/১৮৪, আবু ইয়ালা, দায়লামী শরীফ/৪০৪)
শুধু তাই নয়, বরং সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণই স্বীয় রওযা শরীফ-এ অবস্থান করে আল্লাহ পাক-এর ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল রয়েছেন এবং রিযিকও পাচ্ছেন। যেমন হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, “আল্লাহ পাক-এর নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণ স্বীয় রওজা মুবারকে জীবিত রয়েছেন এবং উনারা খাদ্যও খেয়ে থাকেন।” (ইবনে মাযাহ, মিশকাত, মিরকাত/৩খণ্ড, ২৪১)। অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক যমীনের জন্য নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণের শরীর মুবারককে ভক্ষণ করা (নষ্ট করা) হারাম করে দিয়েছেন।” (আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ, ইবনু হিব্বান, মুস্তাদরাকে হাকিম, কানযুল উম্মাল, মিরকাত)
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার রওযা মুবারকের নিকট এসে আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করে আমি অবশ্যই তার দুরূদ শরীফ শুনতে পাই।” (বায়হাক্বী, মিশকাত/৮৭) অন্য হাদীছ শরীফ-এ এসেছে আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “হে আমার ছাহাবীগণ! হে আমার উম্মতগণ!! তোমারা আমার প্রতি প্রত্যেক সোমবার ও শুক্রবার দুরূদ শরীফ পাঠ করো। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সেই দুরূদ শরীফ বিনা মধ্যস্থতায় শুনতে পাই।” উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমি হাক্বীক্বীভাবে বিনা মধ্যস্থতায় তা শুনতে পাই।” (মিরকাত ২য় খণ্ড, ৩৪৭ পৃষ্ঠা)। কিতাবে আরো উল্লেখ আছে, “নিশ্চয়ই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওযা মুবারকে জীবিত অবস্থায় আছেন।” (মিরকাত/২/২২৩)
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা এটাই প্রমাণিত হলো যে, ওলীআল্লাহগণসহ শুহাদায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ এবং সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণ স্বীয় মাযার শরীফ বা রওযা শরীফ-এ জীবিত রয়েছেন। আর আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ তিনি হায়াতুন নবী। কিয়ামত পর্যন্ত তথা অনন্ত কাল পর্যন্ত উম্মতের অবস্থা তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29043877 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29043877 2009-11-15 15:11:23
নিজামী ও মুজাহিদ একাত্তরে কি বলেছে, কি করেছে-১ “ইসলামে নারী নেতৃত্বকে অযোগ্য বলা হয়নি, আমরা নারী নেতৃত্বের জোটে যোগ দিয়েছি ইসলাম নির্মূলকারীদের হাত থেকে দেশকে হিফাযত করতে। আওয়ামী লীগ এদেশ থেকে ইসলামী মূল্যবোধের চিহ্ন মুছে ফেলে ইসলামী রাজনীতি ধ্বংস করতে চেয়েছিল” (দৈনিক যুগান্তর: ২৭.১০.২০০১)
বিগত মন্ত্রিসভায় জামাতের শীর্ষপদের দু’জন- দলের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ যথাক্রমে শিল্প ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হয়েছিল। তবে জামাত শুধু এবারই যে মন্ত্রী হল তা নয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি কয়েকদিনের জন্য মন্ত্রিত্বের অমৃত স্বাদ পেয়েছিল। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনে ঘাতক মন্ত্রী মহোদয়দের কারাগারে পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল। গো. আযমসহ কেউ কেউ রাতের আঁধারে দেশ ছেড়ে পালিয়ে জানে বাঁচে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে আগস্ট মাসে ডা. মোত্তালিব মালিককে পূর্ব-পাকিস্তানের গভর্ণর বানায়। চরমপত্রখ্যাত এই ‘ঠ্যাঁটা মালেইক্যার’ মন্ত্রিসভায় উচ্ছিষ্ট গ্রহণের জন্য এগিয়ে এসেছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে জামানত বাজেয়াপ্ত দুই জামাত নেতা আব্বস আলী খান ও মাওলানা একেএম ইউসুফ। আব্বাস আলী খান পরবর্তীকালে জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর এবং মাওলানা ইউসুফ নায়েবে আমীর হয়েছে। তারা মালিক মন্ত্রিসভায় যথাক্রমে শিক্ষা ও রাজস্ব মন্ত্রী ছিল। সেদিনের জামাতের দু’মন্ত্রীও তাদের আদর্শ অনুশাসনের বিপরীতে পাকিস্তানী বাহিনীকে পূর্ব-পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার জন্য অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছিল।
দলীয় এক সংবর্ধনা সভায় একাত্তরের ২৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিত্ব গ্রহণের যৌক্তিকতা সম্পর্কে ধর্মব্যবসায়ী জামাতের সেদিনের বয়ান ছিল- “জামাতে ইসলামী পাকিস্তান ও ইসলামকে এক ও অভিন্ন মনে করে। ........কাজেই পাকিস্তান যদি না থাকে, তাহলে জামাতের কর্মীরা দুনিয়ায় বেঁচে থাকার কোন সার্থকতা মনে করে না।”(দৈনিক সংগ্রাম, ২৬.৯.১৯৭১)। অবশ্য পাকিস্তান টেকেনি, ভেঙে বাংলাদেশ হয়েছে। এখনও অবশ্য বাংলাদেশে পাকিস্তানের স্মৃতি জামাতের দিল থেকে মুছে যায়নি- তা বিভিন্ন ইস্যুতে বার বার প্রমাণিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরও জামাতের মধ্যে পুরোদমেই বিরাজমান। তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে সাবেক জামাতী মন্ত্রীদ্বয়।
শহীদ মিনারে যাওয়া, ফুল দেয়া এতদিন নাজায়িয ফতওয়া দিলেও মন্ত্রীত্বের স্বাদে সে ফতওয়া ভুলে অবলীলায় নাজায়িয কাজটি করেছে। এমনকি মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ দুর্গা পূজামণ্ডপেও গিয়েছিল। তীলক এঁকেছে জামাতের ধর্মীয় উদারতা দেখানোর নামে। তবে ক্ষমতার বাইরে থাকলে বরাবরের মতো ফতওয়া পরিবর্তনও হয়ত জামাতের জন্য স্বাভাবিক।
মাওলানা নিজামী দু’বার সাংসদ হয়। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদের সদস্যদের জীবনীভিত্তিক দু’টি বই প্রকাশিত হয়েছে এবং তার জীবনীও ছাপা হয়েছে। উভয় গ্রন্থে তার ১৯৬০ এর দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন ও ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃস্থানীয় ভূমিকার বর্ণনা রয়েছে। এরপর এক লাফে ১৯৭৯ সালে তার ‘উজ্জ্বল’ (?) কর্মজীবনের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ৬০ এর দশকের গৌরবময় ভূমিকার পাশাপাশি ৭০ এর দশকের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এ প্রজন্মের অনেকের জানার আগ্রহ প্রবল। হয়ত এসব বইয়ে ৬০ এর দশকে ‘ফুলের মতো পবিত্র’ ভূমিকার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধে তার অন্ধকারাচ্ছন্ন ভূমিকার কথা প্রকাশ করতে সে দ্বিধা করেছে বা লজ্জা পেয়েছে (যদি লজ্জা থাকে)। অথবা ভুলে থাকতে চেয়েছে সেসব দিনের বিভীষিকাময় অপকর্মের স্মৃতি। সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের এ ধরনের জীবনীগ্রন্থ বের হওয়ার অবশ্য সুযোগ আগে হয়নি। কেননা, সে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যায় এবং ২০০১ সালে জোট থেকে মনোনয়নে ব্যর্থ হলেও মন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিল।
একাত্তরে দু’জন ছিল জামাতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘের শীর্ষস্থানীয় নেতা। মাওলানা নিজামী ছিল পাকিস্তান (পাকিস্তানের উভয় অংশের) ছাত্রসংঘের (বর্তমান ছাত্রশিবির) সভাপতি। আর আলী আহসান মুজাহিদ পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সভাপতি। আজকের মত মিলেমিশে দুই নেতা সেদিন মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। দলে দলে তরুণ-যুবকরা সেদিন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিলেও সেদিনের এই দুই তরুণ মুক্তিযুদ্ধ বিনাশ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিধনে আত্মনিয়োগ করেছিল। দুই সভাপতির নেতৃত্বে গড়ে উঠে ঘাতক ‘আল-বাদর বাহিনী’। এটি ছিল মূলত ছাত্রসংঘের একটি আর্মস ক্যাডার বাহিনী। যদিও এই বাহিনী গো. আযমের সার্বিক নির্দেশে কাজ করত কিন্তু এর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ছিল মাওলানা নিজামী। সে এই বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং মুজাহিদ ছিল প্রধান সংগঠক। আল-বাদর বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার। স্বাধীনতাকামীদের খুজে বের করা এবং হত্যা করা। এর উদ্দেশ্য সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মানুষ হত্যা ছাড়াও স্বাধীনতার উষালগ্নে ঢাকাসহ সারাদেশে জঘন্য হত্যাযজ্ঞে অংশ নেয় এই ঘাতক বাহিনী।
অবশ্য জামাত এখন আর এ কথা স্বীকার করে না। বরং ১৯৯১ সালের ডিসেম্বর মাসে অধুনা লুপ্ত ‘আজকের কাগজে’ তৎকালীন জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা নিজামী দাবি করে যে, “জামাত নয়, আওয়ামী লীগই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে” (দৈনিক আজকের কাগজ, ১৫.১২.১৯৯১)
বিগত কয়েক বছর ধরে জামাত বুদ্ধিজীবী দিবস পালন এবং পরিকল্পিতভাবে গণহত্যার দায় অস্বীকার করছে। অথচ যে কোন সুস্থ মানুষমাত্রেই জানেন, ১৯৭১ সালের ১০-১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের সহযোগী হিসেবে জামাত-মুসলিম লীগের সৃষ্ট রাজাকার, আল-বাদর ও আল-শামস্‌দের হাতে প্রাণ দিয়েছে অগণিত স্বাধীনতাকামী মানুষ। জামাত যতই বিকৃত ও বিভ্রান্ত বক্তব্যই দিক না কেন, কয়েকজন পাকিস্তানী জেনারেল এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির তৎকালীন প্রধান জেড.এ. ভুট্টো এসব নৃশংতার সঙ্গে জামাতের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া এর বড় প্রমাণ জামাতের মুখপত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম’ সহ অবরুদ্ধ বাংলাদেশের নয় মাসের পত্রপত্রিকা। এর থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, জামাত নেতা বিশেষ করে জামাতের দুই প্রাক্তন মন্ত্রী মাওলানা নিজামী ও মুজাহিদের বক্তৃতা বিবৃতি ও কর্মকাণ্ড গণহত্যার সহায়ক হয়েছিল। দৈনিক সংগ্রামে বর্ণিত এ দুই নেতার কিছু বক্তৃতা ও বিবৃতি এখানে উদ্ধৃত হল। পাঠকই বিচার করবেন তারা গণহত্যার জন্য দায়ী কি-না?
১৯৭১ সালের মাঝামাঝি দেশব্যাপী ঘাতক শান্তিকমিটি, রাজাকার বাহিনী গঠন সম্পন্ন হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে গড়ে উঠে আলবাদর ও আল শামস। রাজাকার, আল-বাদর বাহিনীর সংগঠনে জামাতের এই দুই প্রাক্তন মন্ত্রী দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যায়। ২৫ জুলাই মাওলানা নিজামী বরিশাল টাউন হলে ছাত্রসংঘের এক সভায় বক্তৃতায় পাকিস্তানী বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে ছাত্র-যুবক সবাইকে দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী) দমনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায় (দৈনিক সংগ্রাম, ২৬.৭.১৯৭১)
’৭১এর আগস্ট মাসে মুক্তিবাহিনী বেশ কিছু সফল অভিযান পরিচালনা করলে পাক বাহিনীর সাথে তাদের দোসররাও অধিক তৎপর হয়ে উঠে। ১০ আগস্ট ময়মনসিংহে ছাত্রসংঘের এক সভায় সভাপতির ভাষণে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী দেশের শত্রুদের (মুক্তিযোদ্ধা) খুঁজে বের করা এবং তাদের তালিকাভুক্ত করার কাজে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানায়। (দৈনিক সংগ্রাম, ১১.৮.১৯৭১)। অবশ্য সে আবেদন করেই দায়িত্ব শেষ করেনি। বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে মূলত জামাতের দেয়া দেশপ্রেমিক তালিকার ভিত্তিতেই পাকিস্তানী বাহিনী তাদের হত্যা করে। ১১ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধাদের এক অভিযান দালাল মাওলানা সায়িদ মাহমুদ মোস্তফা মদনী নিহত হলে এর প্রতিবাদে পরের দিন ধর্মব্যবসায়ী মাওলানা নিজামী বিবৃতি দেয়। সে এতে বলে যে, ‘ইসলামী আন্দোলনের দুই একজন নেতাকে হত্যা করে পাকিস্তানে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা স্তব্ধ করা যাবে না এবং দুষ্কতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) এর পরিণাম ভোগ করতেই হবে’ (দৈনিক সংগ্রাম ১২.৮.১৯৭১)।
৪ আগস্ট পাকিস্তানের আজাদী দিবস। সেদিন কেউ এ দিবস পালন না করলেও ব্যতিক্রম ছিল জামাত ও ছাত্রসংঘ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংঘ সভা করে ও পরে যে মিছিল হয় তাতে নেতৃত্ব দেয় মাওলানা নিজামী। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৬.৮.১৯৭১)
’৭১এর ২২ আগস্ট মাওলানা নিজামী অন্য এক বক্তৃতায় বলে যে, “এসব পাকিস্তানবিরোধী (মুক্তিযোদ্ধারা) ব্যক্তিরা শুধু পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন নয় এর মাধ্যমে ইসলামকে উৎখাত করতে চায় (দৈনিক সংগ্রাম ২৩-৮-১৯৭১)। সেপ্টেম্বর মাসে অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধীর মতো মাওলানা নিজামীও তৎপর হয়ে উঠে। সেপ্টেম্বরের ৪ তারিখে সে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর শিক্ষানবিস রশিদ মিনহাজের বাবার কাছে তারবার্তা পাঠায়।
মাওলানা নিজামী ছাত্রসংঘের প্রধান হিসেবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে দেয়া শোকবার্তায় মিনহাজের পিতাকে জানায়, “ভারতীয় হানাদার ও এজেন্টদের মোকাবেলা করতে গিয়ে মিনহাজ প্রাণ দিয়েছে। মিনহাজের এই আত্মত্যাগ পাকিস্তানের অখণ্ডতায় বিশ্বাসী সবাই আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে” (দৈনিক সংগ্রাম ৪-৯-১৯৭১) একই মাসের ৭ তারিখে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী দিবসে কার্জন হলে দেয়া এক বক্তৃতায় মাওলানা নিজামী বলে যে, “ছাত্রসংঘের প্রতিটি কর্মী দেশের প্রতি ইঞ্চি ভূমি রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। (দৈনিক সংগ্রাম ৮.৯.১৯৭১)।
এরপর কয়েকদিনের জন্য সাংগঠনিক সফরে নিজামী যশোরে যায়। ১০ সেপ্টেম্বর সেখানে রাজাকার সদর দফতরে সমবেত রাজাকারদের উদ্দেশে ভাষণ দেয় নিজামী। (দৈনিক সংগ্রাম, ১৫-৯-১৯৭১)।
১৬ সেপ্টেম্বর যশোরে ছাত্রসংঘের এক সভায় বক্তৃতাকালে সে বলে যে, “দেশের সঙ্কটজনক পরিসি'তিতে আমরা পাকিস্তানের সেবায় এগিয়ে এসেছি, তেমনি সরকারের উচিত হবে আমাদের খাঁটি সৈনিকরূপে গড়ে তোলা” (দৈনিক সংগ্রাম, ১৫-৯-১৯৭১)পরের দিনও নিজামী অপর এক বক্তৃতায় তথাকথিত বঙ্গদরদীদের স্বরূপ উদঘাটন করে সাহসের সাথে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে বলে যে, “দুনিয়ার কোন শক্তিই পাকিস্তান ধ্বংস করতে পারবে না” (দৈনিক সংগ্রাম, ১৬-৯-১৯৭১)
পরের মাসে নিজামীর পাশাপাশি তার সহকর্মী আলী আহসান মুজাহিদ বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক সফরে বের হয়। ২৫ অক্টোবর মুজাহিদ ইসলামী অ্যাকাডেমী হলে প্রাদেশিক সদস্যদের এক সম্মেলনের ভাষণে পাকিস্তানের ছাত্র জনতাকে দুষ্কৃতিকারী (মুক্তিযোদ্ধা) খতম করার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় (দৈনিক সংগ্রাম, ২৬-১০-১৯৭১)
একই মাসের ২৭ তারিখে রংপুর জেলা ছাত্রসংঘের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে মুজাহিদ সবাইকে পাকিস্তান বাহিনীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায় (দৈনিক সংগ্রাম, ২৮-১০-১৯৭১)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29043146 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29043146 2009-11-14 01:15:57
কা'বা শরীফ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে টাইম জোন নির্ধারণ করাই যুক্তিযুক্ত মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “প্রকৃতপক্ষে মানব জাতির জন্য প্রথম যে ঘর তৈরি করা হয়েছিল তা হচ্ছে ঐ বাক্কা বা কা’বা শরীফ। যা নিয়ামত দ্বারা পূর্ণ এবং মানবজাতির জন্য পথ প্রদর্শক।” (সূরা আল ইমরান ৯৬)
আর হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কা’বা শরীফ ছিল পানির উপর একটি ছোট পাহাড় এবং তার নিচ দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়।”
অর্থাৎ কা’বা শরীফ-এর নিচের অংশটুকু ছিল পৃথিবীর প্রথম যমীন যা বিশাল সাগরের মাঝে সৃষ্টি হয়।
সুতরাং কা’বা শরীফ পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম স্থান। প্রশ্ন হতে পারে-ইহুদী, খৃষ্টানরা কেন মুসলমানদের বিষয়টি মেনে নিবে। প্রকৃতপক্ষে ইহুদী খৃষ্টানরাও কা’বা শরীফ-এর অবস্থান, মান-মর্যাদা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম-এর মহা প্লাবনের পর হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এই পবিত্র কা’বা শরীফ-এর পুনঃনির্মাণ করেন। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম-এর দুই সন্তান হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইসহাক আলাইহিস সালামকেও আল্লাহ পাক নবী হিসেবে কবুল করেন। হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর বংশধরদের মধ্য থেকে তাশরীফ নেন নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম-এর বংশধরদের মধ্য থেকে তাশরীফ নেন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এবং পরে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম। সুতরাং ইহুদী এবং খৃষ্টানসহ সকল আহলে কিতাবের কাছেই কা’বা শরীফ-এর অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
সকল বর্ণের, সকল গোত্রের, সকল জাতির আদি পিতা হচ্ছেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম। যিনি প্রথম মানুষ এবং নবী। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন কিছুর ইতিহাসের চেয়ে পুরনো কোন ইতিহাস নেই বা থাকতে পারে না। যদি কোন কারণে কোন স্থানকে ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে নির্বাচন করা হয়, তবে প্রথম গুরুত্ব পাবে বাইতুল্লাহ শরীফ বা কা’বা শরীফ; যার চেয়ে ঐতিহাসিক কোন স্থান এই যমীনে নেই।
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ।” (সূরা আহযাব ২১)
তাহলে জীবনের সকল বিষয়েই আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই অনুসরণ করতে হবে। আর কুরআন মজীদ প্রথম নাযিল হয় মক্কা শরীফ-এ। মক্কা শরীফ-এ প্রথম ইসলামের প্রচার শুরু হয় এবং প্রথম ইসলাম কবুলকারী ছাহাবা আজমাইনগণও মক্কা শরীফ-এর অধিবাসী। পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে ইসলাম পূর্বে-পশ্চিমে উত্তর-দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং কা’বা শরীফকে কেন্দ্র ধরে, তার উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে, তার সাপেক্ষে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zone) ভাগ করলে এর মধ্যেই থাকবে রহমত, রবকত ও কল্যাণ। এছাড়াও কা’বা শরীফকে যেহেতু আসমান ও যমীনের কেন্দ্র বলা হয়েছে, সুতরাং মুসলমানদের উচিত কা’বা শরীফ-এর সময় সাপেক্ষে পৃথিবীর সকল দেশের বা সকল অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করে কা’বা শরীফ-এর প্রতি পরিপূর্ণ আদব প্রকাশ করা।
হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “কা’বা শরীফ ছিল পানির উপর একটি ছোট পাহাড় এবং তার নিচ দিয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়।” অর্থাৎ কা’বা শরীফ-এর নিচের অংশটুকু ছিল পৃথিবীর প্রথম যমীন যা বিশাল সাগরের মাঝে সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে সেই পবিত্র স্থানের চতুর্পার্শ্বে তা বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং প্রথমে একটি বিশাল মহাদেশের সৃষ্টি হয়। সে কারণে মক্কা শরীফকে বলা হয় উম্মুল কুরা। বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে বর্তমানে যে সাতটি মহাদেশ আছে সেগুলো মূলতঃ একটি মহাদেশ আকারে ছিল; যাকে বলা হয় Mother Continent বা Pangaea পরবর্তিতে এগুলো একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরতে শুরু করে এবং সরতে সরতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে।
হাদীছ শরীফ এবং বিজ্ঞানের মাধ্যমেও এটি স্পষ্ট যে, এই পৃথিবীর বিস্তৃতিও ঘটেছে কা’বা শরীফ থেকে। সুতরাং যেখানে আল্লাহ পাক এই কা’বা শরীফকে প্রথম সৃষ্টি করে মানব জাতির পথ প্রদর্শনের জন্য নির্ধারণ করলেন, যেখানে এই কা’বা শরীফকে ধারণকারী মক্কা শরীফ থেকে ইসলাম পৃথিবীব্যাপী বিস্তার লাভ করেছে, যেখানে এই কা’বা শরীফ থেকেই পৃথিবীর যমীন বিস্তার লাভ করেছে; তাহলে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zone) কেন এই কা’বা শরীফ থেকেই চতুর্পার্শ্বে নির্ধারিত হবে না? বরং এটাই সত্য যে, কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে পৃথিবীর সকল ‘সময় অঞ্চল’ (Time Zone) নির্ধারণ করলে তা কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফ-এর স্পষ্ট অনুসরণ করা হবে। তখন এর মধ্যে থাকবে রহমত, বরকত ও সাকিনা।
পবিত্র কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার অবস্থান হয় সুবিধাজনক স্থানে। গ্রীনিচের উপরে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা অযৌক্তিক এবং প্রচলিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাও আঁকাবাঁকা।
গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করায় আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নিয়েও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। প্রচলিত আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হচ্ছে ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখার সংযোগস্থলে। এই তারিখ রেখার পশ্চিমে রয়েছে উত্তর গোলার্ধে রাশিয়া এবং দক্ষিণ গোলার্ধে নিউজিল্যান্ড। এই তারিখ রেখা সরাসরি উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধে নেমে যেতে পারেনি। যখনই জনবসতিপূর্ণ এলাকার উপরে এসেছে তখনি ঠেলে দেয়া হয়েছে পানির দিকে। ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখা বিচ্যুত সময় রেখার অংশগুলো হলো বেরিং প্রণালী, এলিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিমাংশ, ফিজির পূর্বাংশ ইত্যাদি। বর্তমান অবস্থানে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা থাকায় যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে তার কিছু নমুনা দেয়া যেতে পারে।
ফিজি ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার পশ্চিমে আর টোঙ্গা, সেমওয়া ১৮০ ডিগ্রি পূর্বে। আর কিরিবাতি দ্বীপকে ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখা দ্বি-ভাগ করেছে। কিন্তু ফিজি, টোঙ্গা এবং কিরিবাতি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার পশ্চিমে অবস্থান নিয়েছে আর সেমওয়া অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার পূর্বে। টোঙ্গা এবং সেমওয়ার সময় একই থাকলেও ১ দিনের পার্থক্য রয়েছে। আবার ফিজি এবং টোঙ্গা কাছাকাছি হলেও ফিজির সময় টোঙ্গার সময়ের চেয়ে ১ ঘণ্টা পিছিয়ে। আবার সেমওয়ার চেয়ে অনেক পূর্বে হাওয়াই দ্বীপের অবস্থান হলেও সময়ের পার্থক্য মাত্র ১ ঘণ্টা। এছাড়া ১৯৯৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত কিরিবাতি দ্বীপে তারিখ নিয়ে ছিল গরমিল। একই দ্বীপে দুইটি তারিখ প্রচলিত ছিল। কিরিবাতির পশ্চিমাংশ সবসময় পূর্বাংশ থেকে এক দিন এগিয়ে থাকতো। সপ্তাহের মাত্র ৪ দিন দুই অংশের মধ্যে ব্যবসায়িক কাজ কর্ম সম্পাদন হতো। এ সকল সমস্যার সমাধানের জন্য ১৯৯৫ সালের পহেলা জানুয়ারিতে কিরিবাতির প্রেসিডেন্ট টিবুরোর টিটো আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখাকে কিরিবাতির পূর্বে সরিয়ে নেবার ঘোষণা দেন। কিন্তু কাবা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করলে ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা বা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা যাবে আলাস্কা এবং কানাডার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে (বর্তমান ১৪০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বরাবর)। আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে নিচে নেমে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে দক্ষিণ গোলার্ধে চলে যাবে। সম্পূর্ণ তারিখ রেখাটি যাবে পানির উপর দিয়ে ফলে স্থলভাগের ডানে ও বামে তারিখ রেখা সরিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন পড়বে না।
গ্রীনিচের সাথে কয়েকটি বিষয় জড়িত:
১. গ্রীনিচের সময় থেকে যোগ ও বিয়োগ করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সময় নির্ণয় করা হয়েছে। যেমন (বাংলাদেশের স্থানীয় সময়) = (গ্রীনিচ সময়) + (৬ ঘণ্টা)।
২. গ্রীনিচকে ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমায় স্থির করায় ১৮০ ডিগ্রি পূর্ব এবং ১৮০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা বর্তমানে যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International date line)
৩. গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করায় গ্রীনিচের অবস্থান ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমায়।
সূর্য যখন কোন স্থানের ঠিক মাথার উপরে আসে তখন মধ্যাহ্ন হয়, একে বলে Sun Time। পরের দিন সূর্য যখন আবার মাথার উপর আসবে তখন আবার মধ্যাহ্ন হবে। কিন্তু ঘড়ি অনুযায়ী অর্থাৎ Clook Time অনুযায়ী একই সময়ে মধ্যাহ্ন হয় না। এই সূর্য সময় এবং ঘড়ি সময়ের সর্বোচ্চ পার্থক্য হয় ফেব্রুয়ারিতে ১৪ মিনিটের মত তখন ঘড়ির সময়ের চেয়ে সূর্য সময় ১৪ মিনিট পিছিয়ে থাকে। আবার নভেম্বরে সময়ের পার্থক্য হয় সর্বোচ্চ ১৬ মিনিট; তখন সূর্য সময় ঘড়ির সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। এ সকল অসুবিধা দূর করার জন্যে এখন Atomic Clock ব্যবহার করা হয়। এই Atomic Clock এর সময় অনুযায়ী তৈরি হয়েছে UTC (Co-ordinated Universal Time)। ফলে ১৯৭২ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে GMT এর পরিবর্তে UTC ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু গ্রীনিচের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করায় তার সাপেক্ষে বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় সময় GMT এর পরিবর্তে UTC হলেও সময় অঞ্চলগুলোর বিভক্তি পূর্বের মতই রয়ে গেছে। কিন্তু গ্রীনিচের উপর প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। ফলে পবিত্র কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করে নতুন করে বিভিন্ন সময় অঞ্চল স্থির করা উচিত।
গ্রীনিচ রয়াল অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৭৫ সালে। গ্রীনিচ মেরিডিয়ানকে মূল মধ্যরেখা (প্রাইম মেরিডিয়ান) হিসেবে বিবেচনা করা হয় ১৮৮৪ সালে। কোন বিখ্যাত এবং ঐতিহাসিক স্থান বলে গ্রীনিচ থেকে প্রাইম মেরিডিয়ান কল্পনা করা হয়নি বরং এর পেছনে ছিল রাজনৈতিক কারণ। এক সময় ব্রিটিশরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছিল বলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গ্রীনিচ থেকে সময় নির্ধারণের বিষয়টি পৃথিবীর উপর চাপিয়ে দিয়েছে। অথচ গ্রীনিচের পূর্বেও ব্রাসেলস, কোপেনহেগেন, আলেকজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, মাদ্রিদ, প্যারিস এ সকল এলাকাও প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমান স্থানের পূর্বেও গ্রীনিচের আরও দু’টি স্থানের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা হয়েছিল। ফ্রান্স বহুদিন যাবৎ গ্রীনিচকে প্রাইম মেরিডিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং প্যারিসকে প্রাইম মেরিডিয়ান ধরেই গণনা করতো। পরবর্তিতে গ্রীনিচকে মেনে নিয়ে এগঞ ব্যবহার শুরু করলেও পরবর্তীতে আবার সে চলে যায় CET (Central European Time)-এ । ফ্রান্সের উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান (০ ডিগ্রি) চলে গেলেও তারা গ্রীনিচ টাইম না ধরে ১৫ ডিগ্রি পূর্বে যে সময় অর্থাৎ Central European Timeকে ধরে গণনা করছে।
পৃথিবী পৃষ্ঠের কোন স্থানে দাঁড়িয়ে কেউ যদি বলে আমি পৃথিবীর কেন্দ্রে আছি তার দাবি একদিক থেকে সত্য। কেননা, সেই স্থানের ডানদিক থেকে যে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে সে তার অবস্থানে আসতে পারবে একইভাবে বামদিক থেকে ঠিক সে কয়টি দ্রাঘিমা পেরিয়ে আবার পূর্বেও অবস্থানে ফিরে আসতে পারবে। সুতরাং পৃথিবীর যে কোন স্থানের উত্তর-দক্ষিণ মেরুর সংযোজক রেখাকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে কল্পনা করা যায়। কেউ যদি পৃথিবীর কোন একটি স্থানে মূল মধ্যরেখা কল্পনা করে নেয় এবং সেই কল্পিত রেখার দু’পাশে পা প্রশস্ত করে দিয়ে ভাবে তার একটি পা পূর্ব গোলার্ধে এবং অন্য পা পশ্চিম গোলার্ধে তবে তার এ ধারণাটিও সত্য। যদিও তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। কেননা, সে স্থানের কোন ধর্মীয়, ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। সুতরাং পৃথিবীর এমন একটি স্থানের উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা স্থির করা উচিত, যে স্থানটির ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব আছে। আর তা হচ্ছে কা’বা শরীফ। কা’বা শরীফ এমন একটি স্থান যে স্থানটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম। যে স্থানের পবিত্রতা অপরিসীম। যে স্থানটি পূর্ব-পশ্চিমে সবার কাছে পরিচিত এবং গুরুত্বসহকারে বিবেচিত। সকল আহলে কিতাবের কাছে যে স্থানের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। যে স্থানটি ছাড়া আর কোন স্থানের এতটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব নেই। কা’বা শরীফকে কেন্দ্র ধরে যখন পৃথিবীর সকল সময় অঞ্চল নির্ধারণ করা হবে তখন যে কোন স্থানের স্থানীয় সময় হবে, (UTC) + (কা’বা শরীফ কেন্দ্রিক রচিত টাইম জোন) অথবা (UTC) - (কা’বা শরীফ কেন্দ্রিক রচিত টাইম জোন)।
সুতরাং পুনরায় কা’বা শরীফ-এর উপর দিয়ে প্রাইম মেরিডিয়ান স্থির করা সহজেই সম্ভব এবং যুক্তিসঙ্গত। তখন আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাসহ সকল বিষয়ের সহজ সমাধান পাওয়া যাবে। আল্লাহ পাকতো পূর্বেই ইরশাদ করেছেন “কা’বা শরীফ মানব জাতির জন্য পথ প্রদর্শক।” সুতরাং পৃথিবীর প্রায় ২৬০ কোটি মুসলমানের এ বিষয়ে সজাগ ও সোচ্চার হওয়া উচিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29041373 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29041373 2009-11-10 23:16:13
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৭) প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকদের লিখিত কিতাবের বক্তব্য দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, “সূরা হামীম সিজ্‌দা”-এর ৩৩তম আয়াত শরীফ প্রচলিত তাবলীগের জন্য খাছ। অর্থাৎ একমাত্র প্রচলিত তাবলীগকারীরাই এ আয়াত শরীফের পূর্ণ মেছদাক্ব বা নমুনা। (ফাজায়েলে তাবলীগ, পৃষ্ঠা-৪; দাওয়াতে তাবলীগ কি ও কে?, লেখক- ওবায়দুল হক, পৃষ্ঠা-১১৮; তাবলীগে ইসলাম, লেখক-আব্দুল সাত্তার ত্রিশালী, পৃষ্ঠা-৯)
------------------------------------------------------------------------------------
মূলতঃ উল্লিখিত আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক বলেন, “সেই ব্যক্তি অপেক্ষা কার কথা অধিক উত্তম হতে পারে? যিনি আল্লাহ পাক-এর দিকে মানুষকে ডাকেন এবং নেক কাজ করেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই আমি মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত।” (সূরা হামীম সিজ্‌দাহ ৩৩)
এই আয়াত শরীফখানা সম্পর্কে হযরত আয়িশা সিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, “এটা মুযাজ্জিনদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।” (তাফসীরে মায্‌হারী)
এখানে উল্লেখ্য যে, কুরআন শরীফের সূরা বা আয়াত শরীফসমূহের নুযুল খাছ অর্থাৎ বিশেষ কারণে নাযিল হয়েছে। কিন্তু হুকুম আম অর্থাৎ ঐ আয়াত শরীফের মেছদাক্ব বা নমুনা যারাই হবে তাদেরই উপর সে হুকুম বর্তাবে।
অতএব, উপরোক্ত আয়াত শরীফ যদিও মুযাজ্জিনের জন্য খাছ করে নাযিল হয়েছে, তথাপিও যাঁরা ঈমান-আক্বীদা শুদ্ধ রেখে আল্লাহ পাক-এর দিকে মানুষকে ডাকবে, তা যেভাবেই হোক, যেমন- কিতাব লিখে, মাদ্রাসায় পড়িয়ে, ওয়াজ করে, তা’লীম দিয়ে, দাওয়াত দিয়ে, জিহাদ করে ইত্যাদি, তাদের সকলের উপরই এ আয়াত শরীফের হুকুম বর্তাবে। (তাফসীরে খাযিন, বাগবী, রুহুল মায়ানী, রুহুল বয়ান, বায়ানুল কুরআন, মায্‌হারী, ইবনে কাছীর, কবীর, কানযুল ঈমান, তাবলীগী নেছাব-মাওঃ জাকারিয়া)
কাজেই এ আয়াত শরীফকে কখনোই প্রচলিত তাবলীগের জন্য খাছ করে নেয়া শরীয়তসম্মত হবেনা। বরং “তাফসীর বিররায়” হবে, যা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের মনগড়া তাফসীর করলো, সে কুফরী করলো।”
হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের মনগড়া তাফসীর করে, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।”
অন্য রেওয়াতে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি বিনা ইল্‌মে বা না জেনে কুরআন শরীফের ব্যাখ্যা করে, সেও যেন তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” (তিরমিযী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত্‌ ত্বীবী, উরফুশ্‌শজী, তালীক)
সুতরাং এরূপ মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ হারাম। কারণ মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যার কারণে যেমন নিজে গোমরাহ্‌ হয়, তেমন অপরকেও গোমরাহ্‌ করে। যার ফলে সমাজে ফিৎনা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, আর হওয়াটাই স্বাভাবিক। অথচ ফিৎনা সৃষ্টি করা কবীরা গুণাহ্‌র অন্তর্ভূক্ত। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “তোমরা জমিনে ফিৎনা সৃষ্টি করোনা।” (সূরা বাক্বারা ১২)
অন্য আয়াত শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “ফিৎনা হত্যার চেয়ে অধিক শক্ত গুণাহ্‌।” (সূরা বাক্বারা ১৯১)
অন্য আয়াত শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “ফিৎনা হত্যার চেয়ে অধিক বড় গুণাহ্‌।” (সূরা বাক্বারা ২১৭)
কাজেই সমাজে ফিৎনা সৃষ্টি হয়, এ ধরণের শরীয়ত বিরোধী কথা বলা প্রত্যেক মুসলমানের বিরত থাকা সমীচীন।

প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৬) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29039749 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29039749 2009-11-08 11:20:49
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের দৃষ্টিতে যিকিরের গুরুত্ব ও ফযীলত আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
“তোমরা আমার যিকির কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করবো” (সূরা বাক্বারা ১৫২)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, আমি আমার বান্দার নিকটে সেরূপ যেরূপ সে আমাকে ধারণা করে। যখন সে যিকির করে তখন আমি তার সাথে থাকি। যখন সে একা একা আমার যিকির করে তখন আমিও তাকে একা একা স্মরণ করি। আর যখন সে মজলিসে আমার যিকির করে তখন আমি তাকে উত্তম মসলিসে স্মরণ করি।” (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ্‌)
প্রমাণিত হলো যে, বান্দা যত বেশী আল্লাহ পাক-এর যিকির বা স্মরণ করবে তত বেশী আল্লাহ পাক-এর নৈকট্য ও রহমত লাভ করবে। তাই যিকিরকারীদের ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত আবূ মূসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে আর যে যিকির করেনা, তাদের মেছাল বা উদাহরণ হলো, জীবিত ও মৃত ব্যক্তির ন্যায়।” ( বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ্‌)
বান্দা যত বেশী বেশী যিকির করবে কামিয়াবী হাছিল করবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
“তোমরা বেশী বেশী আল্লাহ পাক-এর যিকির করো, অবশ্যই তোমরা কামিয়াবী হাছিল করবে।” (সূরা জুমুয়া ১০)
যিকির বেশী করলে কতটুকু কামিয়াবী সে প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাস করা হলো, ক্বিয়ামতের দিন কোন বান্দা আল্লাহ পাক-এর নিকট শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার অধিকারী হবে? (জবাবে) তিনি ইরশাদ করেন, অধিক পরিমাণে আল্লাহ পাক-এর যিকিরকারী পুরুষ ও নারী। পুনরায় জিজ্ঞাস করা হলো, আল্লাহ পাক-এর রাস্তায় জিহাদকারী অপেক্ষাও কি? (জবাবে) তিনি ইরশাদ করেন, হ্যাঁ, যদি সে নিজ তরবারী দ্বারা কাফির ও মুশরিকদেরকে কাটে এমনকি তার তরবারী ভেঙ্গে যায় আর নিজে রক্তাক্ত হয় তা হতেও আল্লাহ পাক-এর নিকট যিকিরকারী শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, আহমদ শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ্‌)
হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব না যে, তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে কোনটি উত্তম, তোমাদের রবের নিকট অধিক পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর এবং সোনা-রূপা দান করা অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ, এমনকি জিহাদের ময়দানে শত্রুর গর্দান কাটা ও তোমার গর্দান কাটা থেকেও উত্তম? (জবাবে) তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, আপনি বলে দিন ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি বললেন, আল্লাহ পাক-এর যিকির।” (মুয়াত্তয়ে মালিক, আহমদ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ্‌, মাছাবীহুস সুন্নাহ্‌, মিশকাত শরীফ , মিরকাত শরীফ)
হাদীছ শরীফে যিকিরের ফযীলত সম্পর্কে আরো ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রতিটি বস্তু পরিস্কার করার একটি মাধ্যম রয়েছে। আর অন্তর পরিস্কার করার মাধ্যম হচ্ছে আল্লাহ পাক-এর যিকির। আল্লাহ পাক-এর যিকির অপেক্ষা আল্লাহ পাক-এর আযাব থেকে অধিক পরিত্রাণ দানকারী আর কিছুই নাই। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণ বললেন, আল্লাহ পাক-এর রাস্তায় জিহাদ করাও কি নয়? তিনি ইরশাদ করেন, আল্লাহ পাক-এর রাস্তায় তরবারী চালালেও নয় এমনকি যদি তা ভেঙ্গেও ফেলে। ” (মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ্‌ , দা’ওয়াতুল কবীর লিল বায়হাক্বী শরীফ)
উল্লেখিত হাদীছ শরীফসমূহ যিকিরকে আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব নুরে মুজাস্‌সাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নৈকট্য লাভের ও অন্তর পরিশুদ্ধ করার মাধ্যম বলার সাথে সাথে সমস্ত আমল এমনকি দান-ছদকা ও জিহাদের চেয়েও বেশী গুরুত্ব ও ফযীলত দেয়া হয়েছে
তাই মহান আল্লাহ পাক বান্দাকে সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ দায়িমীভাবে ও অধিক পরিমাণে যিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা বেশী বেশী আল্লাহ পাক-এর যিকির করো এবং সকাল-সন্ধ্যা তাঁর তাসবীহ্‌ পাঠ কর।” (সূরা আহ্‌যাব ৪১,৪২)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু বলেন, আমি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সর্বশেষ যে হাদীছ শরীফ শুনেছি তা হলো, কোন আমল উত্তম এবং আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নৈকট্য লাভের কারণ? (জবাবে) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমার জিহবাকে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহ পাক-এর যিকির দ্বারা সিক্ত রাখ।” (ইবনে নাজ্জার, কানযূল উম্মাল)
হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু বলেন, যখন এ আয়াত শরীফ নাযিল হলো, ‘ আর যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে ............’ তখন আমরা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে তাঁর কোন এক সফরে ছিলাম। তখন কিছু কিছু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম বললেন, ‘এ আয়াত শরীফ সোনা-রূপা সম্পর্কে নাযিল হলো আমরা যদি জানতাম, কোন সম্পদ উত্তম, তবে তা জমা করে রাখতাম’। (একথা শুনে) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে আল্লাহ পাক-এর যিকিরকারী জিহবা, কৃতজ্ঞ অন্তর ও ঈমানদার স্ত্রী যে তাকে ঈমান বা দ্বীনের ব্যাপারে সাহায্য করে।” (আহমদ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাযাহ্‌ , মাছাবীহুস সুন্নাহ্‌ , মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সকাল-সন্ধ্যা ও দায়িমীভাবে আল্লাহ পাক-এর যিকির করার তাওফীক দান করুন। কারণ জান্নাতবাসীদের কোন আফসুস থাকবেনা, শুধুমাত্র একটা আফসুস থাকবে তা হলো যে সময়টা তারা দুনিয়াতে যিকির ছাড়া কাটিয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত মুয়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাতবাসীগণ কোন কিছুর জন্য আফসুস করবেনা। তবে যে সময়টুকু আল্লাহ পাক-এর যিকির ব্যতীত গত হয়েছে তার জন্য আফসুস করবে।” (দায়লামী শরীফ, দীনূরী, ক্বাবাসুম মিন নূরী মুহম্মদ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29039620 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29039620 2009-11-08 02:02:08
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের সমস্ত আমল দেখে থাকেন “(হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি কি দেখেননি? আপনার রব আদ জাতির সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন।” (সূরা ফজর-৬)

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা শরীফ-এর এক পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের উদ্দেশ্য করে বললেন, “আমি যা কিছু দেখি তোমরাও কি তা দেখো?” হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বললেন, জ্বি না। তখন নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আমি পরবর্তীতে সংঘটিত ফিৎনাসমূহ বৃষ্টির ফোটার ন্যায় পড়তে দেখছি।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)

অর্থাৎ আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হুজরা শরীফ-এ অবস্থান করেও দূর-দূরান্তে যা কিছু ঘটতো বা ঘটবে তাও দেখতে পেতেন।
উল্লেখ্য যে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু সমস্ত সৃষ্টির মূল ও প্রথমে নবী ও রসূল হিসেবেই সৃষ্টি হয়েছেন সেহেতু তিনি সৃষ্টির শুরু থেকে দুনিয়াতে বাহ্যিকভাবে তাশরীফ আনা এবং বিছাল শরীফ পর্যন্ত সমস্ত দুনিয়ায় সংঘটিত সমস্ত কিছুই প্রত্যক্ষ করেছেন ও দেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ ফরমান, “আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার রব হস্তি বাহিনীর সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন?” (সূরা ফীল-১)
আদ জাতির ধ্বংসের কাহিনী আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সরাসরি যমীনে তাশরীফ আনার হাজার হাজার বছর আগেই সংঘটিত হয়েছে। আবার আবরাহা বাদশাহর হস্তি বাহিনীর ধ্বংসের ঘটনাও আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যমীনে তাশরীফ আনার কিছুদিন পূর্বের। অথচ উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহ পাক বললেন, “আপনি কি দেখেননি?” অর্থাৎ অবশ্যই আপনি দেখেছেন। সুতরাং এ আয়াত শরীফদ্বয় দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম বাহ্যিকভাবে যমীনে তাশরীফ আনার পূর্বে আল্লাহ পাক-এর ক্বায়িনাতে সংঘটিত সমস্ত কিছুই আল্লাহ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেছেন।
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য সুপারিশকারী ও তোমাদের আমলের সাক্ষী। অবশ্যই তোমাদের সাথে আমার পরবর্তী সাক্ষাতের স্থান হলো হাউজে কাউছার যা আমি এ স্থানে অবস্থান করেই দেখতে পাচ্ছি।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত/৫৪৭)
আর যেহেতু তিনি হায়াতুন্‌ নবী ও হাযির-নাযির। তাই তিনি বিছাল শরীফ-এর পর থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত উম্মতের সকল আমল ও সমগ্র ক্বায়িনাতে সংঘটিত সমস্ত কিছু রওযা মুবারকে অবস্থান করা সত্ত্বেও সরাসরি দেখেন। যেমন, হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত মিনহাল ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, এমন কোন দিন নেই যার প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে স্বীয় উম্মতের আমল পেশ করা হয়না (দেখানো হয়না) তখন তিনি সকলের নাম ও আমলসহ দেখে সকলকে চিনতে পারেন। আর এজন্যই তিনি সকলের সাক্ষী হবেন।” (মাফাহীম/২৫৮)
অর্থাৎ বান্দা যত আমলই করুক না কেন তা যেমন খালিক্ব-মালিক আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-এর কুদরতী সৃষ্টির অন্তরালে করা সম্ভব নয় তেমনি সমগ্র সৃষ্টির মূল, যাঁর নূর মুবারক দ্বারাই সমস্ত ক্বায়িনাত সৃষ্টি, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরও নূরানী দৃষ্টি মুবারকের অন্তরালে কোন মাখলুক নেই। সুতরাং উনার নূরানী দৃষ্টি মুবারকের অন্তরালেও কোন কিছু করা সম্ভব নয়। তাই তিনি এরশাদ করেছেন, “হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার প্রতি জুমুয়ার দিনে তোমরা বেশি বেশি দুরূদ শরীফ পাঠ কর। নিশ্চয়ই এটা সাক্ষ্য হবে এবং ফেরেশ্‌তাগণও সাক্ষী হবেন। অবশ্যই কেউ আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পড়ে সে তা থেকে বিরত হতে না হতেই তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার বিদায়ের পরেও কি? উত্তরে তিনি বলেন, আমর বিদায়ের পরেও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক যমীনের জন্য নবীদের শরীর মুবারক ভক্ষণ করাকে হারাম করেছেন। সুতরাং আল্লাহ পাক-এর নবীগণ জীবিত, তাঁরা খাদ্যও খেয়ে থাকেন।” (বুখারী, ইবনে মাজাহ, আয্‌যাও য়ায়েদ)

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করে আমি তা সরাসরি শ্রবণ করি। আর যে কোন প্রতিনিধির মাধ্যমে আমার প্রতি ছলাত-সালাম প্রেরণ করে তাও আমার কাছে প্রেরণ করা হয়।” (দারুকুতনী এটা বর্ণনা করেছেন।)
নাসাঈ শরীফ ও অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক আমার রওযা শরীফ-এর নিকটে একজন ফেরেশ্‌তা নির্ধারণ করেছেন যিনি আমার উম্মতের ছলাত ও সালাম আমার নিকটে পৌঁছে দেন।” (নাসায়ী, মাফাহীম, ইক্তেদাউ ছিরাতিল মুস্তাকিম)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আমার হায়াতে ত্বয়্যিবাহ তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তোমরা কথা বলো এবং আমার হায়াত মুবারকও তোমাদের সাথে কথা বলে। আর আমার বিছাল শরীফও তোমাদের জন্য কল্যাণের কারণ। তোমাদের আমলসমূহ আমার কাছে পেশ করা হয়। যখন আমি (তোমাদের) উত্তম আমল দেখি তখন আল্লাহ পাক-এর প্রশংসা করি। আর যখন তোমাদের নিকৃষ্ট আমলগুলো দেখি তখন আল্লাহ পাক-এর নিকট ইস্তিগফার (তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা) করি।” (আত্তাকরীব, মাজমাউয্‌ যাওয়ায়েদ, বাযযার, ফয়জুল ক্বাদির, শরহুশ শিফা)
হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক আমার রওযা মুবারকের নিকটে একজন ফেরেশ্‌তাকে মুক্বাররার করেছেন যার কাছে স্বয়ং আল্লাহ পাকই সমস্ত মাখলুকাতের নাম দিয়েছেন। ক্বিয়ামত পর্যন্ত কোন মাখলুক যখনই আমার প্রতি একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করে তখনই সেই ফেরেশ্‌তা দুরূদ শরীফ পাঠকারীর নাম ও তার পিতার নাম আমার সামনে পেশ করেন। অমুকের ছেলে অমুক আপনার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করেছেন।” (বাযযার, ইবনু হিব্বান, মাফাহীম/২৫৮)

“সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, আপনি কি তাদের দেখতে পান যারা দূর থেকে ও আপনার বিদায়ের পরে (ক্বিয়ামত পর্যন্ত) আপনার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করবে? আপনার নিকট এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য কি? উত্তরে আল্লাহ পাক-এর হাবীব, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার প্রতি যারা মুহব্বতের সাথে ছলাত ও সালাম পাঠ করে তা আমি সরাসরি শ্রবণ করি ও তাদেরকে দেখি ও চিনতে পারি। আর যারা মুহব্বত ব্যতীত পাঠ করে তাদের ছলাত ও সালামও আমার কাছে পৌঁছানো হয়।” (দালায়েলুল খইরাত)
অন্য হাদীছ শরীফ-এ আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, “কোন ব্যক্তি যে কোন স্থানে বসে আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করলে তার আওয়াজ আমার কানে পৌঁছে থাকে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার বিদায়ের পরেও কি? উত্তরে আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার বিদায়ের পরেও এ হুকুম বলবত থাকবে।” (জিলাউল ইফহাম)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হে আমার উম্মতগণ! আমার বিদায়ের পরে প্রতি সোমবার ও প্রতি শুক্রবার আমার প্রতি বেশি বেশি করে দুরূদ শরীফ পাঠ করো। কেননা, আমি তোমাদের ছলাত ও সালাম বিনা মধ্যস্থতায় শুনতে পাই।” (জিলাউল ইফহাম, আনিসুল জালীস) অর্থাৎ পৃথিবীর যে কোন স্থানে বসে যে কোন ব্যক্তি যে কোন সময় ছলাত-সালাম পাঠ করলে তা অবশ্যই আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্রবণ করেন।
উপরোক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় হযরত আল্লামা শাইখ মুজাদ্দিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘নামাযে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে। এটা যেন এ কথাই প্রকাশ পায় যে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতদের মধ্যে নামাযীদের অবস্থা উনার কাছে এমনভাবে উদ্ভাসিত করেছেন যেন তিনি তাদের মধ্যে উপসি'ত থেকেই সবকিছু দেখতে পাচ্ছেন, তাদের আমলসমূহ অনুধাবন করছেন। এ সম্বোধনের আরো একটি কারণ হচ্ছে উনার এ উপসি'তির ধারণা অন্তরে অতিমাত্রায় বিনয় ও নম্রতার ভাব সৃষ্টি করা।’
আল্লামা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “উম্মতের বিবিধ কর্মকাণ্ডের প্রতি দৃষ্টি রাখা, তাদের পাপরাশির ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাদের বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা করার জন্য দোয়া করা, পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত আনাগোনা করা ও বরকত দান করা এবং নিজ উম্মতের কোন নেক বান্দার ওফাত হলে উনার জানাযাতে অংশগ্রহণ করা- এগুলোই হচ্ছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সখের কাজ। কোন কোন হাদীছ শরীফ থেকে এসব কথার সমর্থন পাওয়া যায়।”
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা এটাই ছাবিত হলো যে, আল্লাহ পাক-এর হাবীব, আউয়ালুল খালাইক্ব, হায়াতুন্‌ নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাক-এর ক্বায়িনাতে সংগঠিত সমস্ত কিছু দেখে থাকেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29039136 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29039136 2009-11-07 10:39:56
বৃটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে বৃটিশ ভূমিকা-৮ শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খৃষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খৃষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা যার মূলে থাকে খৃষ্টীয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন বৃটিশ গুপ্তচর- হ্যাম্পার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য। বৃটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্পার তুরস্কের শায়খ ইফেন্দীর নিকট ছদ্ধবেশী মুসলমান সেজে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ চর্চা করে মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাবের একান্ত বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। দ্বীন ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিষয় নিয়ে তাদের (উভয়ের) মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা হয়, তা হ্যাম্পার তার ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করে। বৃটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্পারের উক্ত ডায়েরীটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানীর হস্তগত হয়, তখন জার্মান পত্রিকা ইসপিগল তা "Memoirs of Hempher, The British Spy to The Middle East" শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। এতে বৃটিশদেরকে বিশ্ব সমাজের কাছে অত্যন্ত লজ্জিত হতে হয়। ডায়েরীটি ফরাসী পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। জনৈক লেবাননী বুদ্ধিজীবী তা আরবীতে অনুবাদ করেন। তুরস্কের ওয়াকফ্ ইখলাছ প্রকাশনা হ্যাম্পাররের স্বীকারোক্তি মূলক উক্ত ডায়েরীটি "Confession of British Spy and British enmity against Islam" নামে গ্রন্থাকারে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে। হ্যাম্পারের স্বীকারোক্তির তুর্কী অনুবাদ এবং লেখক এম. সিদ্দিক গূমূজের ব্যাখ্যা মিলিয়ে ইংরেজীতে এটি প্রকাশিত হয়। সেই বইয়ের প্রথম অনুচ্ছেদ হতে বৃটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দীর বঙ্গাণুবাদ তুলে ধরা হলো।
▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓
(ধারাবাহিক)
ষষ্ঠ পর্ব
বাগদাদে কয়েকদিন কাটালাম। তারপর লন্ডনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পেয়ে লন্ডন চলে গেলাম। লন্ডনে গিয়ে সচিব এবং উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বললাম। আমার দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ, অভিজ্ঞতা তাদের অবহিত করলাম। ইরাক সম্মন্ধে যে তথ্য পেলাম তাতে তারা বেশ আনন্দ পেয়েছিলো। বললো, তারা বেশ খুশী। ওদিকে নজদের মুহম্মদের মেয়ে বন্ধু সুফিয়া যে প্রতিবেদর্ন পাঠিয়েছিল তাতেও আমার কথার প্রতিফলন ছিল। আমার মিশন চলাকালীন সময়ে একজন লোক সবসময় আমাকে অনুস্মরণ করে গেছে। সেছিল মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত একজন গোয়েন্দা। সেও যেসব প্রতিবেদর্ন পাঠিয়েছিল দেখলাম আমার দেয়া রিপোর্টের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। সচিব আমাকে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর সঙ্গে যখন দেখা হলো তিনি আমার প্রতি এমন ব্যবহার করলেন যে তিনি যেন আমার আসার অপেক্ষাতেই ছিলেন। বুঝলাম তার হৃদয়ের একটা স্থান করে নিয়েছিলাম।
নজদের মুহম্মদকে বশ করতে পেরেছি জেনে মন্ত্রী ভারী খুশি হলেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের জন্য সে একটি শক্তিশালী অস্ত্র এবং আমরা এমনটাই খুজছিলাম। [আমাদের মন্ত্রণালয়ের গুপ্তচরের সঙ্গে তার ইস্পাহানে দেখা হয়েছিল এবং গুপ্তচর জানিয়েছে যে সে এখনও মত পাল্টায়নি।] তাকে সব ধরনের প্রতিশ্রুতি দাও। ভালো হয় যদি তোমার পুরো সময়টা তাকে আমাদের আদর্শ্যে গড়তে ব্যয় কর।”
বললাম, আমি অবশ্য নজদের মুহম্মদকে নিয়ে চিন্তিত আছি। হয়তো সে তার মত পাল্টে ফেলতে পারে। তিনি বললেন ভয়ের কিছু নেই। তুমি চলে আসার পর থেকে তোমার দেয়া ধারণা থেকে সে এখনও সরে আসেনি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের গুপ্তচরের সঙ্গে তার ইস্পাহানে দেখা হয়েছিল এবং গুপ্তচর জানিয়েছে সে এখনও মত পাল্টায়নি। মনে মনে বললাম, অপরিচিত লোকের কাছে কি করে নজদের মুহম্মদ মনের কথা বললো? অবশ্য আমি মন্ত্রীকে এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন করিনি। যাই হোক, পরে যখন নজদের মুহম্মদের সঙ্গে দেখা হয়, তখন জানতে পারলাম, ইস্পাহানে করিম নামে একজনের দেখা হয়েছিল। সেই তার মনের কথা কৌশলে বের করে নেয়। সে বলেছিল আমি শায়খ মুহম্মদের (অর্থাৎ আমি) ভাই। সে আপনার সম্পর্কে যা জানে সব বলেছে।
নজদের মুহম্মদ বললো, সুফিয়া তার সাথে ইস্পাহানেও গিয়েছিল। সেখানে আরো দু’মাসের জন্য মুতা বিবাহ করেছিল। আব্দুল করিমও সিরাজ পর্যন্ত আমার সাথে ছিল সেখানে আমার জন্যে আয়েশা নামের এক মেয়ের সন্ধান দেয়। আয়েশা সুফিয়ার চাইতেও সুন্দরী ও আকর্ষণীয় ছিল। তাকেও আমি মুতা বিবাহের আওতায় এনেছিলাম। পরে জানতে পারি, আব্দুল করিম আসলে খৃষ্টান এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইস্পাহানে গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিল। আয়েশাও মন্ত্রণালয়ের অপর প্রতিনিধি, সে সিরাজের অধিবাসী এবং ইহুদী। আমরা চারজনে মিলে নজদের মুহম্মদকে প্রশিক্ষণ দিতে থাকি। আমাদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে আমরা যেভাবে চাবো সেভাবে কাজ করবে।
মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমি যখন সকল ঘটনা বর্ণনা করছিলাম তখন সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের আরও দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন যাদের সাথে আমার পূর্ব পরিচয় ছিল না। মন্ত্রী আমাকে বললেন “মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাবার যোগ্য তুমি।” মন্ত্রণালয়ের সকল গুরুত্ত্বপূর্ণ গুপ্তচরদের মধ্যে তুমি সবার সেরা। সচিব তোমাকে দেশের কিছু গোপন তথ্য দেবে যা তোমার মিশনে তোমাকে সাহায্য করবে।
সে সময় আমাকে ১০ দিনের ছুটি দেয়া হল যাতে আমি আমার পরিবারের সাথে দেখা করতে পারি। সুতরাং সেই সময়েই আমি বাড়ী রওয়ানা হলাম এবং আমার বেশ কিছু মধুর সময় আমার ছেলের সাথে কাটালাম। আমার ছেলে ছিল অনেকটা আমার মতই দেখতে। সে দু চারটা শব্দ বলতে শিখেছিল এবং সে বেশ স্বাচ্ছন্দে এমনভাবে হাটতো মনে হতো সে যেন আমার শরীরের একটা অংশ। এই দশটি দিন আমি খুব সুখে এবং আনন্দের সাথে কাটালাম। আমার এমন মনে হয়েছিল আমি যেন আনন্দে আকাশে উড়ছিলাম। ঘরে ফিরে আসা এবং পরিবারের কাছে আসা একটা দারুন আনন্দের বিষয়। এ দশদিনের ছুটিতে আমি আমার ফুফুর সঙ্গে দেখা করলাম যিনি আমাকে খুব ভালবাসতেন। আমার ফুফুর সঙ্গে দেখা করে ভালই করেছিলাম। কেননা আমার তৃতীয় মিশনের যাত্রার পরেই আমার ফুফু মারা গিয়েছিল। তার মৃত্যুতে আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম।
এই দশটি দিন যেন এক ঘন্টা সময়ের মত পার হয়ে গেল। এভাবেই আনন্দের দিনগুলো ঘন্টার মত খুব দ্রুত কেটে যায় আর বেদনার দিনগুলো কেটে যেতে শতাব্দী লেগে যায়। নাজাফে আমার অসুস্থতার দিনগুলো মনে হলো। সেই কয়েকটি দিন আমার কাছে মনে হয়েছিল কয়েক বছর।
যখন নতুন নির্দেশ আনতে আমি মন্ত্রণালয়ে গেলাম সচিব অত্যন্ত আনন্দ এবং মর্যাদার সাথে আমাকে গ্রহণ করলেন। তিনি আমার সঙ্গে এমনভাবে হাত মেলালেন যে তার সেই আন্তরিকতা ভোলার নয়।
বাগদাদে কয়েকদিন কাটালাম। তারপর লন্ডনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পেয়ে লন্ডন চলে গেলাম। লন্ডনে গিয়ে সচিব এবং উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বললাম। আমার দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ, অভিজ্ঞতা তাদের অবহিত করলাম। ইরাক সম্মন্ধে যে তথ্য পেলাম তাতে তারা বেশ আনন্দ পেয়েছিলো। বললো, তারা বেশ খুশী। ওদিকে নজদের মুহম্মদের মেয়ে বন্ধু সুফিয়া যে প্রতিবেদর্ন পাঠিয়েছিল তাতেও আমার কথার প্রতিফলন ছিল। আমার মিশন চলাকালীন সময়ে একজন লোক সবসময় আমাকে অনুস্মরণ করে গেছে। সেছিল মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত একজন গোয়েন্দা। সেও যেসব প্রতিবেদর্ন পাঠিয়েছিল দেখলাম আমার দেয়া রিপোর্টের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে। সচিব আমাকে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর সঙ্গে যখন দেখা হলো তিনি আমার প্রতি এমন ব্যবহার করলেন যে তিনি যেন আমার আসার অপেক্ষাতেই ছিলেন। বুঝলাম তার হৃদয়ের একটা স্থান করে নিয়েছিলাম।
নজদের মুহম্মদকে বশ করতে পেরেছি জেনে মন্ত্রী ভারী খুশি হলেন। মন্ত্রী বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের জন্য সে একটি শক্তিশালী অস্ত্র এবং আমরা এমনটাই খুজছিলাম। [আমাদের মন্ত্রণালয়ের গুপ্তচরের সঙ্গে তার ইস্পাহানে দেখা হয়েছিল এবং গুপ্তচর জানিয়েছে যে সে এখনও মত পাল্টায়নি।] তাকে সব ধরনের প্রতিশ্রুতি দাও। ভালো হয় যদি তোমার পুরো সময়টা তাকে আমাদের আদর্শ্যে গড়তে ব্যয় কর।”
বললাম, আমি অবশ্য নজদের মুহম্মদকে নিয়ে চিন্তিত আছি। হয়তো সে তার মত পাল্টে ফেলতে পারে। তিনি বললেন ভয়ের কিছু নেই। তুমি চলে আসার পর থেকে তোমার দেয়া ধারণা থেকে সে এখনও সরে আসেনি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের গুপ্তচরের সঙ্গে তার ইস্পাহানে দেখা হয়েছিল এবং গুপ্তচর জানিয়েছে সে এখনও মত পাল্টায়নি। মনে মনে বললাম, অপরিচিত লোকের কাছে কি করে নজদের মুহম্মদ মনের কথা বললো? অবশ্য আমি মন্ত্রীকে এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন করিনি। যাই হোক, পরে যখন নজদের মুহম্মদের সঙ্গে দেখা হয়, তখন জানতে পারলাম, ইস্পাহানে করিম নামে একজনের দেখা হয়েছিল। সেই তার মনের কথা কৌশলে বের করে নেয়। সে বলেছিল আমি শায়খ মুহম্মদের (অর্থাৎ আমি) ভাই। সে আপনার সম্পর্কে যা জানে সব বলেছে।
নজদের মুহম্মদ বললো, সুফিয়া তার সাথে ইস্পাহানেও গিয়েছিল। সেখানে আরো দু’মাসের জন্য মুতা বিবাহ করেছিল। আব্দুল করিমও সিরাজ পর্যন্ত আমার সাথে ছিল সেখানে আমার জন্যে আয়েশা নামের এক মেয়ের সন্ধান দেয়। আয়েশা সুফিয়ার চাইতেও সুন্দরী ও আকর্ষণীয় ছিল। তাকেও আমি মুতা বিবাহের আওতায় এনেছিলাম। পরে জানতে পারি, আব্দুল করিম আসলে খৃষ্টান এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইস্পাহানে গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিল। আয়েশাও মন্ত্রণালয়ের অপর প্রতিনিধি, সে সিরাজের অধিবাসী এবং ইহুদী। আমরা চারজনে মিলে নজদের মুহম্মদকে প্রশিক্ষণ দিতে থাকি। আমাদের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে আমরা যেভাবে চাবো সেভাবে কাজ করবে।
মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমি যখন সকল ঘটনা বর্ণনা করছিলাম তখন সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের আরও দুজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন যাদের সাথে আমার পূর্ব পরিচয় ছিল না। মন্ত্রী আমাকে বললেন “মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাবার যোগ্য তুমি।” মন্ত্রণালয়ের সকল গুরুত্ত্বপূর্ণ গুপ্তচরদের মধ্যে তুমি সবার সেরা। সচিব তোমাকে দেশের কিছু গোপন তথ্য দেবে যা তোমার মিশনে তোমাকে সাহায্য করবে।
সে সময় আমাকে ১০ দিনের ছুটি দেয়া হল যাতে আমি আমার পরিবারের সাথে দেখা করতে পারি। সুতরাং সেই সময়েই আমি বাড়ী রওয়ানা হলাম এবং আমার বেশ কিছু মধুর সময় আমার ছেলের সাথে কাটালাম। আমার ছেলে ছিল অনেকটা আমার মতই দেখতে। সে দু চারটা শব্দ বলতে শিখেছিল এবং সে বেশ স্বাচ্ছন্দে এমনভাবে হাটতো মনে হতো সে যেন আমার শরীরের একটা অংশ। এই দশটি দিন আমি খুব সুখে এবং আনন্দের সাথে কাটালাম। আমার এমন মনে হয়েছিল আমি যেন আনন্দে আকাশে উড়ছিলাম। ঘরে ফিরে আসা এবং পরিবারের কাছে আসা একটা দারুন আনন্দের বিষয়। এ দশদিনের ছুটিতে আমি আমার ফুফুর সঙ্গে দেখা করলাম যিনি আমাকে খুব ভালবাসতেন। আমার ফুফুর সঙ্গে দেখা করে ভালই করেছিলাম। কেননা আমার তৃতীয় মিশনের যাত্রার পরেই আমার ফুফু মারা গিয়েছিল। তার মৃত্যুতে আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম।
এই দশটি দিন যেন এক ঘন্টা সময়ের মত পার হয়ে গেল। এভাবেই আনন্দের দিনগুলো ঘন্টার মত খুব দ্রুত কেটে যায় আর বেদনার দিনগুলো কেটে যেতে শতাব্দী লেগে যায়। নাজাফে আমার অসুস্থতার দিনগুলো মনে হলো। সেই কয়েকটি দিন আমার কাছে মনে হয়েছিল কয়েক বছর।
যখন নতুন নির্দেশ আনতে আমি মন্ত্রণালয়ে গেলাম সচিব অত্যন্ত আনন্দ এবং মর্যাদার সাথে আমাকে গ্রহণ করলেন। তিনি আমার সঙ্গে এমনভাবে হাত মেলালেন যে তার সেই আন্তরিকতা ভোলার নয়। (ষষ্ঠ পর্ব-অসমাপ্ত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29036403 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29036403 2009-11-02 15:19:01
বৃটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে বৃটিশ ভূমিকা-৭ শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খৃষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খৃষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা যার মূলে থাকে খৃষ্টীয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন বৃটিশ গুপ্তচর- হ্যাম্পার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য। বৃটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্পার তুরস্কের শায়খ ইফেন্দীর নিকট ছদ্ধবেশী মুসলমান সেজে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ চর্চা করে মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাবের একান্ত বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। দ্বীন ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিষয় নিয়ে তাদের (উভয়ের) মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা হয়, তা হ্যাম্পার তার ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করে। বৃটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্পারের উক্ত ডায়েরীটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানীর হস্তগত হয়, তখন জার্মান পত্রিকা ইসপিগল তা "Memoirs of Hempher, The British Spy to The Middle East" শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। এতে বৃটিশদেরকে বিশ্ব সমাজের কাছে অত্যন্ত লজ্জিত হতে হয়। ডায়েরীটি ফরাসী পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। জনৈক লেবাননী বুদ্ধিজীবী তা আরবীতে অনুবাদ করেন। তুরস্কের ওয়াকফ্ ইখলাছ প্রকাশনা হ্যাম্পাররের স্বীকারোক্তি মূলক উক্ত ডায়েরীটি "Confession of British Spy and British enmity against Islam" নামে গ্রন্থাকারে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে। হ্যাম্পারের স্বীকারোক্তির তুর্কী অনুবাদ এবং লেখক এম. সিদ্দিক গূমূজের ব্যাখ্যা মিলিয়ে ইংরেজীতে এটি প্রকাশিত হয়। সেই বইয়ের প্রথম অনুচ্ছেদ হতে বৃটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দীর বঙ্গাণুবাদ তুলে ধরা হলো।
▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓
(ধারাবাহিক)
পঞ্চম পর্ব
নজদের মুহম্মদের সঙ্গে আমার (হ্যাম্পার) যখন খুব ঘনিষ্ঠতা ছিলো, সেই সময়ে একদিন লন্ডন থেকে একটি বার্তা পেলাম যে, আমাকে কারবালা এবং নাজাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হবে। কারবালা এবং নাজাফ হচ্ছে শিয়াদের ধর্মীয় জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতার জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ শহর। সুতরাং নজদের মুহম্মদের সাহচর্য ত্যাগ করে আমাকে বসরা ছাড়তে হলো। তথাপি আমি খুব খুশী এবং নিশ্চিত ছিলাম এই কারণে যে, নৈতিকভাবে অধঃপতিত এবং মূর্খ এই লোকটি (নজদের মুহম্মদ) একটা নতুন ফিরক্বাহ তৈরী করতে যাচ্ছে, যা ইসলামকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেবে এবং আমি হচ্ছি সেই নতুন ফিরক্বাহর উত্তরাধিকার সৃষ্টির রূপকার।
সুন্নীদের মতে চতুর্থ খলীফা এবং শিয়াদের মতে প্রথম খলীফা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নাজাফে শুয়ে আছেন। নাজাফ থেকে এক ঘন্টার হাঁটার পথ বা এক ফেরসা হচ্ছে কুফা। কুফা ছিলো হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর খিলাফতের সময় রাজধানী। যখন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শহীদ হন তখন তার দুই ছাহেবজাদা হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে নাজাফে সমাহিত করেন। সময়ে নাজাফে উন্নতির ছোঁয়া লেগে যায় এবং কুফা শহর ধীরে ধীরে ম্লান হতে থাকে। শিয়া ধর্মানুসারীরা নাজাফে এসে জামায়েত হয় এবং এভাবে সেখানে বসতবাড়ী, মাদ্রাসা এবং বাজার গড়ে উঠে।

নিম্নলিখিত কারণে ইস্তাম্বুলের খলীফা ছিলেন নাজাফবাসীদের উপর সহানুভূতিশীল-

১. ইরানের শিয়া প্রশাসন এখানকার শিয়াদের সমর্থক। খলীফার হস্তক্ষেপ এখানে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং এক পর্যায়ে যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণ হতে পারে।

২. নাজাফের অধিবাসীরা একদল সশস্ত্র উপজাতীকে তাদের দলে ভিড়িয়েছিল, যারা শিয়াদের সমর্থন করতো। যদিও অস্ত্র এবং দলগত দিক থেকে তাদের অবস্থান তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, সে কারণে খলীফা কোন অহেতুক ঝামেলায় জড়িয়ে যাওয়াটাকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করতেন না।

৩. সমগ্র বিশ্বের সকল শিয়ার উপর বিশেষত আফ্রিকা ও ইন্ডিয়ার শিয়াদের উপর নাজাফের শিয়াদের ছিল কর্তৃত্ব। খলীফা কর্তৃক তাদের বিরক্তির কিছু কারণ ঘটালে সমগ্র শিয়ারা খলীফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারতো।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দৌহিত্র এবং হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর পুত্র হযরত ইমাম হুসাইন বিন আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শহীদ হন কারবালাতে।
ইরাকের অধিবাসীগণ মদীনায় গিয়ে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে আমন্ত্রণ করেন যেন তিনি ইরাকে এসে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং তাঁর পরিবারবর্গ যখন কারবালায় এসে পৌছেন ইরাকবাসীরা তখন তাদের সংকল্প পরিত্যাগ করে এবং দামেস্কে বসবাসরত উমাইয়া খলীফা ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার নির্দেশে হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে গ্রেফতার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং তাঁর পরিবারবর্গ শহীদ হওয়ার আগ পর্যন্ত বীরত্বের সাথে ইরাকী বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং তাঁর পরিবারবর্গের শহীদ হওয়ার মাধ্যমে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। যদিও এতে আপাত বিজয়ী হয় ইরাকী বাহিনী। সেদিন থেকে শিয়ারা কারবালাকে তাদের ধর্মীয় আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে মেনে নিয়েছে। সারা পৃথিবী থেকে শিয়ারা এখানে এসে জামায়েত হয় এবং এত বড় সমাবেশের মত কোন সমাবেশ আমাদের খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা যায় না।
কারবালা হচ্ছে শিয়াদের শহর এবং রয়েছে অনেক শিয়া মাদ্রাসা। নাজাফ এবং কারবালা শহর একে অপরকে সহযোগিতা করে। এই দু’টো শহরে যাবার জন্যে আমি বসরা ত্যাগ করে বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। পরে সেখান থেকে চলে যাই ‘হুল্লা’ নামের একটি শহরে যা ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর অববাহিকায় অবস্থিত। টাইগ্রীস (দজলা) এবং ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদী দু’টো তুরস্ক থেকে আরম্ভ হয়ে ইরাকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পারস্য উপসাগরে গিয়ে পড়েছে। ইরাকের কৃষি এবং সাফল্যে এই দুই নদীর অবদান রয়েছে।
আমি লন্ডনে ফিরে গিয়ে উপনিবেশ মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব করলাম, এই নদী দু’টোর পানি প্রবাহের গতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে আমরা ইরাককে আমাদের প্রস্তাবে রাজী করাতে পারি এবং এ ব্যাপারে একটা প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে। যখন ইরাকের পানি বন্ধ করা হবে তখন ইরাক বাধ্য হবে আমাদের দাবী মেনে নিতে।
একজন আজারবাইজানী ব্যবসায়ী হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করে আমি হুল্লা থেকে নাজাফে ভ্রমন করি। শিয়া ধর্মের লোকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে আমি তাদের বিভ্রান্ত করতে শুরু করলাম। আমি তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিতে শুরু করলাম। একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম, সুন্নীদের মত শিয়ারা বিজ্ঞান মনস্ক নয় এবং সুন্নীদের মত সুন্দর নৈতিক গুণাবলীও তাদের নেই। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে-

১. তারা ছিলো তুর্কী শাসক শ্রেণীর ঘোর বিরোধী। কেননা, তারা ছিল শিয়া আর তুর্কীরা সুন্নী। শিয়াদের মত অনুযায়ী সুন্নীরা কাফির।

২. শিয়া পন্ডিতরা ছিল সম্পূর্ণভাবে তাদের ধর্মীয় শিক্ষাদানে মশগুল, পার্থিব বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান ছিলো না যেমনটা ছিলো আমাদের অতীতের স্থবির ইতিহাসের কারণ সেই ধর্মযাজকদের মত।

৩. ইসলামের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে শিয়াদের কোন ধারণা ছিলো না। এমনকি সমকালীন বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি উন্নতি সম্পর্কে নূন্যতম ধারণাও তাদের ছিলো না।

একদিন আমি নিজেকে বললাম, শিয়ারা কেমন বিধ্বস্ত একটি জাতি। এরা এখনও ঘুমিয়ে আছে যেখানে সমস্ত পৃথিবী জাগ্রত। একদিন বন্যা এসে সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। অনেকবার আমি তাদের বুঝিয়েছি খলীফার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য। দুর্ভাগ্যবশত কেউ আমার কথায় সাড়া দেয়নি। শিয়াদের কেউ কেউ আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো যখন আমি তাদের তুর্কী সভ্যতা ধ্বংস করে দিতে বললাম। তাদের ধারণা, খলীফা হচ্ছে দূর্গের মত যাকে কখনই ধরা যাবে না। তাদের ধারণা অনুযায়ী, যখন হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস্ সালাম আসবেন তখনই তারা খলীফার নাগপাশ থেকে মুক্তি পাবে।
তাদের মতে, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস্ সালাম হচ্ছেন দ্বাদশ ইমাম। যিনি আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উত্তরপুরুষ এবং যিনি ২২৫ হিজরীতে অদৃশ্য হয়ে যান। তাদের বিশ্বাস তিনি এখনও জীবিত এবং একদিন তাঁর পুনঃআগমন ঘটবে এবং তখন পৃথিবীর সমস্ত অন্যায় অত্যাচার দূর করে দিয়ে পৃথিবীতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত করবেন। এটা এক অবাস্তব কল্পনা। কি করে শিয়ারা এত কুসংস্কারে বিশ্বাস করে! এটা যেন খৃষ্টানদের ধারণার মত যে একদিন যীশুখৃষ্ট ফিরে আসবে এবং দুনিয়াতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবে।
একদিন আমি তাদের একজনকে বললাম, ইসলামের নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মত অন্যায় প্রতিরোধ করা তোমাদের জন্য ফরয নয় কি? উত্তরে সে বললো, তিনি অন্যায় প্রতিরোধ করেছিলে কারণ আল্লাহ পাক তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। যখন আমি বললাম, আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ পাককে সাহায্য করলে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে সাহায্য করবেন।(সূরা মুহম্মদ ১৪) তোমরা শাহের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। উত্তরে সে বললো, তুমি একজন বণিক। এগুলো বৈজ্ঞানিক বিষয়। তুমি এটা বুঝবে না।
আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মাযার শরীফ অত্যন্ত কারুকার্যময়। মাযার শরীফ সংলগ্ন রয়েছে বড় খোলা প্রাঙ্গন, স্বর্ণযুক্ত গম্বুজ এবং দুটো লম্বা মিনার। প্রতিদিন অনেক শিয়া দর্শনার্থী মাযার শরীফে আসে। তারা এখানে এসে জামা’য়াতে নামায আদায় করে। প্রত্যেক প্রবেশ পথের চৌকাঠে এসে মাথা অবনত করে সেখানে চুম্বন করে এবং পরে মাযার শরীফের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। তারা অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। মাযার শরীফ সংলগ্ন রয়েছে বিশাল প্রাঙ্গন সেখানে ধর্মানুযায়ী এবং দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে অসংখ্য কক্ষের ব্যবস্থা।
কারবালায় আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মাযার শরীফ সংলগ্ন রয়েছে আরো দুটো মাযার শরীফ। একটি ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালার আনহুর এবং অপরটি তাঁর ভাই আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর যিনি ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সঙ্গে কারবালায শহীদ হন। নাজাফের মত কারবালাও শিয়ারা একই রকম আচার অনুষ্ঠান করে থাকে। কিন্তু কারবালাতেও আবহাওয়া নাজাফের চেয়ে ভাল। কারবালার চারিধার অনেক ফলের বাগান এবং ছোট ছোট নদী দ্বারা বেষ্টিত।
ইরাকে আমার মিশন চলাকালীন সময়ে আমি একটি দৃশ্য দেখতে পেয়েছিলাম যা আমার হৃদয়ে অনেক প্রশান্তি এনে দেয়। কিছু কিছু ঘটনা তুর্কী শাসনের পতন ত্বরানিত করে। ইস্তাম্বুলের কর্তৃপক্ষ, যে গভর্ণরকে ইরাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সে ছিল অশিক্ষিত এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির। সে যা খুশী তাই করতো। জনগণ তাকে পছন্দ করতো না। সুন্নী সম্প্রদায় একটা অস্বস্তিকর অবস্থায় ছিল কেন না গভর্ণর তদের কোন মূল্যায়ন করতো না বরং তাদের স্বাধীনতা হরণ করেছিল আর শিয়া সম্প্রদায়ও তুর্কী শাসকগণ দ্বারা শাসিত হয়ে নিজেদের হেয় মনে করতো। তাদের মধ্যে ছিল অনেক সাইয়্যিদ (হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উত্তরপুরুষ) এবং শরীফ (হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর উত্তরপুরুষ) বংশীয় লোক যারা নবীর বংশধর এবং গভর্ণরের দায়িত্বপালনের জন্য আরও উপযুক্ত ছিল।
শিয়ারা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে তারা অনেক দুঃস্থ এবং জীর্ণশীর্ণ পরিবেশে বাস করতো। রাস্তায় চলাচলও নিরাপদ ছিল না। চলার পথে ডাকাতদল আক্রমণের জন্য ওৎ পেতে বসে থাকতো, যখন তারা দেখতো কোন কোন সৈন্য-সামন্ত তাদের পাহারায় নেই। সে কারণে সরকারীভাবে কোন পাহারার ব্যবস্থা না থাকলে কোন কাফেলা যাত্রা শুরু করতো না।
শিয়ারা নিজ গোত্রের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ করতো। দৈনিক একে অপরকে হত্যা ও লুণ্ঠন করতো। অজ্ঞতা আর অশিক্ষা ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছিলো। শিয়াদের এ অবস্থা দেখে ধর্মীয় যাজকের দ্বারা শাসিত ইউরোপের অবস্থা আমার মনে হতো। নাজাফে এবং কারবালায় বসবাসরত কয়েকজন ধর্মীয় নেতা এবং অল্প সংখ্যক ভোটার ছাড়া এক হাজার জনের মধ্যে একজন শিয়াও জানতো না কি করে লিখতে পড়তে হয়। অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো এবং লোকজন দারিদ্রতার মধ্যে বাস করতো। প্রশাসনিক ব্যবস্থাও ছিলো সম্পূর্ণ অচল। শিয়ারা রাস্ট্রদ্রোহীতার কাজে জড়িত থাকতো। সরকার এবং জনগণের মধ্যে ছিল অনেক দূরত্ব। ফলে তাদের মধ্যে কোন পারস্পরিক সহযোগিতা ছিলনা। শিয়া ধর্মীয় নেতারা একমাত্র সুন্নীদের গালমন্দ করা ছাড়া জ্ঞানে, ব্যবসায়, ধর্মীয় এবং পার্থিব বিষয়ে একেবারে শেষ পর্যায়ে উপনিত হয়েছিলো।
আমি কারবালায় ও নাজাফে চার মাস অবস্থান করেছিলাম এবং নাজাফে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আমার অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, সুস্থ হওয়ার আশা একেবারেই ত্যাগ করেছিলাম। আমার অসুস্থতা তিন সপ্তাহ স্থায়ী ছিলো। আমি একজন ডাক্তারের শরানাপন্ন হলে তিনি একটি প্রেসক্রিপশান দিয়েছিলেন। সেই ঔষুধ ব্যবহারে আমি আরোগ্য লাভ করেছিলাম।
আমার অসুস্থতার পুরো সময়টাই আমি মাটির নিচে একটি রুমে অবস্থান করেছিলাম। যেহেতু আমি অসুস্থ ছিলাম আমার গৃহকর্তা নিজেই ঔষুধ এবং খাবার প্রস্তুত করে দিত। বিনিময়ে সে অল্প মূল্য নিতো এবং শুধু সওয়াবের আশায় সে এই কাজগুলো করতো, কারণ আমি ছিলাম আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর জিয়ারত প্রার্থী।
ডাক্তার আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন অসুস্থতার প্রথম কয়েকদিন শুধু মুরগীর সূপ খেতে। পরবর্তীতে তিনি মুরগী খাওয়ার অনুমতি দেন। তৃতীয় সপ্তাহে আমি খেয়েছিলাম ভাতের সূপ। সুস্থ হয়ে আমি আবার বাগদাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলাম। আমার নাজাফে, হুনায়, বাগদাদে এবং পথের সব অভিজ্ঞতার ওপর একশ’ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছিলাম। উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের বাগদাদ প্রতিনিধির নিকট আমি আমার প্রতিবেদন জমা দিলাম। আমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষা করছিলাম যে ইরাকেই থাকবো না লন্ডনে ফিরে যাবো। আমি লন্ডনে ফিরে যেতে চাইলাম কারণ, অনেকদিন ধরেই দেশের বাইরে অবস্থান করছি। আমার দেশ এবং পরিবারের কথা খুব মনে হচ্ছিলো। বিশেষতঃ আমার ছেলে রামপুটিনকে দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, যে আমার দেশ ত্যাগের পর জন্ম নেয়। এ কারণে, আমার রিপোর্টের সঙ্গে একটা দরখাস্তও দিয়ে দিলাম অন্তত অল্প কিছুদিনের জন্য হলেও আমাকে যেন ছুটি দেয়া হয়। এছাড়া আমার ইরাকে তিন বছরের মিশনের ব্যাপারে একটা মৌখিক প্রতিবেদন দিতে চাইলাম এবং একই সময়ে কয়েকদিন বিশ্রাম নিতে পারবো।
উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের ইরাকী প্রতিনিধি আমাকে উপদেশ দেন, তাকে যেন প্রায়শঃই ফোন না করা হয় যাতে আমি কোন সন্দেহের সৃষ্টি না করি। তিনি আমাকে আরো পরামর্শ দেন, দজলা নদীর কাছে কোন সরাইখানায় একটি রুম ভাড়া করে সেখানে অবস্থান করবে। তিনি বললেন, “আমি তোমাকে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জানাবো যখন লন্ডন থেকে চিঠি পাবো।”
বাগদাদে আমার অবস্থানকালেই আমি বুঝতে পারি আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে খিলাফতের রাজধানী ইস্তাম্বুল এবং বাগদাদের মধ্যে একটা ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। নাজাফ এবং কারবালার উদ্দেশ্যে আমি যখন বাগদাদ ত্যাগ করি তখন আমার দুঃশ্চিন্তা হলো, নজদের মুহম্মদ হয়তো আমার দেখানো পথ ছেড়ে অন্য পথে ধাবিত হতে পারে। কেননা, সে ছিলো অতি মাত্রায় অস্থির এবং নার্ভাস প্রকৃতির লোক। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, যে উদ্দেশ্য নিয়ে তাকে তৈরী করেছিলাম তা না ভুণ্ডল হয়ে যায়।
আমার চলে আসার সময় সে (নজদের মুহম্মদ) ইস্তাম্বুলে যাওয়ার কথা ভাবছিল। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম তার এই চিন্তা থেকে তাকে সরিয়ে আনতে। আমি বললাম “আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে তুমি সেখানে গিয়ে এমন কোন উক্তি করবে যাতে প্রকাশ পাবে তুমি ভিন্নমতালম্বী এবং শেষে তোমাকে তারা হত্যা করবে।”
অবশ্য আমার মনে ধারণা ছিল ভিন্ন রকম। আমি ভীত ছিলাম এই ভেবে যে, সেখানে গেলে দেখা হবে অনেক ধর্মীয় আলিম ব্যক্তিদের সাথে যারা তার এই ভ্রান্ত মতগুলো খণ্ডিয়ে দেবেন এবং সুন্নী মত অনুযায়ী তাকে তৈরী করবেন, তাতে আমার সকল স্বপ্ন বন্ধ হয়ে যাবে। কেননা ইস্তাম্বুলে ছিল ইসলামের গভীর ইলম এবং আদর্শের উপস্থিতি।
যখন আমি দেখলাম নজদের মুহম্মদ বসরায় অবস্থান করতে চাচ্ছে না আমি তাকে সুপারিশ করলাম যাতে সে ইস্পাহান এবং সিরাজে যায়। এই দুটো শহর ছিল যথেষ্ট সুন্দর এবং শিয়া অধ্যূষিত। শিয়ারা জ্ঞানে এবং আদর্শে অপরিপূর্ণ সুতরাং তারা নজদের মুহম্মদের ওপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। এভাবে আমি নিশ্চিত হলাম যে, আমি তাকে যে পথ নির্দেশনা দিয়েছি সেখান থেকে সে সরে যাবে না। বিদায় নেবার সময় আমি তাকে বললাম “তুমি কি তাকিয়া বিশ্বাস কর”?
উত্তরে সে বললো হ্যাঁ করি। কাফেরগণ একজন ছাহাবীকে বন্দী করে এবং তার পিতামাতাকে শহীদ করে। এতে তিনি তাকিয়া অবলম্বন করেন এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে তিনি মুশরিক হয়ে গেছেন। আল্লাহ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ছাহাবীকে ভর্ৎসনা করেননি।
(উল্লেখ্য, উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে হ্যাম্পারের এ বক্তব্য মোটেই শুদ্ধ নয়। কেননা ছাহাবী হযরত আম্মার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কাফির, মুশরিক কর্তৃক পিতা-মাতার মর্মান্তিক শাহাদত বরণের দৃশ্য দেখে তাঁর যবান দিয়ে যা উচ্চারিত হয়েছিল তা ছিল সম্পূর্ণরূপে অনিচ্ছাকৃত। তা কখনই ইচ্ছাকৃত ছিলনা। কাজেই তাঁর সাথে তাকিয়ার কোন মিল বা সম্পর্ক নেই। মূলতঃ বাহ্যিক ও আন্তরিক সবদিক থেকেই উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ঈমানে অটল ছিলেন।)
আমি তাকে উপদেশ দিলাম “যখন তুমি শিয়াদের মধ্যে থাকবে, তাকিয়া করবে। কিন্তু তাদের বলবে না যে তুমি একজন সুন্নী। পাছে তারা তোমার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাড়াবে। তাদের দেশ এবং পাণ্ডিত্যকে কাজে লাগাবে। তাদের ঐতিহ্য এবং সংষ্কৃতি শিখে নেবেন। কারণ তারা হচ্ছে মুর্খ এবং একগুয়ে প্রকৃতির লোক। আমি চলে আসার সময় তাকে কিছু যাকাতের পয়সা দিলাম। যাকাত হচ্ছে ইসলামের কর যা গরীবদের দেয়া হয়। অতিরিক্ত উপহার হিসেবে তাকে কিছু ভারবাহী পশু দিলাম।
আমার চলে আসার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম। ফলে আমি অস্বস্তি অনুভব করতে থাকি। অবশ্য বিদায়কালে আমরা ঠিক করেছিলাম, আমরা উভয়েই বসরায় ফিরে আসবো। যে প্রথমে ফিরবে, ফিরে অন্যকে না দেখলে দ্বিতীয় জনকে চিঠি লিখবে এবং চিঠি আব্দুর রিদার নিকট রেখে যাবে। (পঞ্চম পর্ব-সমাপ্ত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29030653 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29030653 2009-10-23 17:45:04
বৃটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি এবং ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে বৃটিশ ভূমিকা-৬ শয়তান যে মানুষকে নেক সুরতে ধোকা দেয়, এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করেছিল শয়তানের অনুচর ইহুদী এবং খৃষ্টানরা। মুসলমানদের সোনালী যুগ এসেছিল শুধু ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের ফলে। শয়তানের চর ইহুদী খৃষ্টানরা বুঝতে পেরেছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য, সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই ইসলামের জাগরণ এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান ঠেকানো যাবে। আর তা করতে হবে ইসলামের মধ্যে ইসলামের নামে নতুন মতবাদ প্রবেশ করিয়ে। শুরু হয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা যার মূলে থাকে খৃষ্টীয় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ। জন্ম হয় ওহাবী মতবাদের। ওহাবী মতবাদ সৃষ্টির মূলে থাকে একজন বৃটিশ গুপ্তচর- হ্যাম্পার। মিশর, ইরাক, ইরান, হেজাজ ও তুরস্কে তার গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য। বৃটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্পার তুরস্কের শায়খ ইফেন্দীর নিকট ছদ্ধবেশী মুসলমান সেজে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ চর্চা করে মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাবের একান্ত বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। দ্বীন ইসলামের বিভিন্ন মৌলিক বিষয় নিয়ে তাদের (উভয়ের) মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা হয়, তা হ্যাম্পার তার ডায়েরীতে লিপিবদ্ধ করে। বৃটিশ গোয়েন্দা হ্যাম্পারের উক্ত ডায়েরীটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানীর হস্তগত হয়, তখন জার্মান পত্রিকা ইসপিগল তা "Memoirs of Hempher, The British Spy to The Middle East" শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। এতে বৃটিশদেরকে বিশ্ব সমাজের কাছে অত্যন্ত লজ্জিত হতে হয়। ডায়েরীটি ফরাসী পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। জনৈক লেবাননী বুদ্ধিজীবী তা আরবীতে অনুবাদ করেন। তুরস্কের ওয়াকফ্ ইখলাছ প্রকাশনা হ্যাম্পাররের স্বীকারোক্তি মূলক উক্ত ডায়েরীটি "Confession of British Spy and British enmity against Islam" নামে গ্রন্থাকারে ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করে। হ্যাম্পারের স্বীকারোক্তির তুর্কী অনুবাদ এবং লেখক এম. সিদ্দিক গূমূজের ব্যাখ্যা মিলিয়ে ইংরেজীতে এটি প্রকাশিত হয়। সেই বইয়ের প্রথম অনুচ্ছেদ হতে বৃটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দীর বঙ্গাণুবাদ তুলে ধরা হলো।
▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓
(ধারাবাহিক)
তার মুতা বিবাহের তৃতীয় দিনে ‘শরাব হারাম নয়’ এ বিষয়ে নজদের মুহম্মদের সাথে খুব লম্বা একটা বিতর্ক হয়ে গেলো। যদিও সে অনেক আয়াত শরীফ এবং হাদীছ শরীফের উদ্বৃতি দিলো যাতে প্রমাণ হয় শরাব পান করা হারাম কিন্তু সবগুলোই খন্ডন করলাম এবং পরিশেষে বললাম, ‘এটা সত্য যে ইয়াজিদ, উমাইয়া এবং আব্বাসীয় খলীফারা শরাব পান করেছেন। তারা সবাই ভুল করেছেন আর শুধু তুমিই সঠিক তাতো নয়? নিঃসন্দেহে তারা তোমার চাইতে বেশী কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ জানতেন। তারা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকেই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে, শরাব পান করা মাকরূহ, হারাম নয়। যদিও ইহুদী ও খৃষ্টানদের কিতাবে লেখা আছে শরাব পান করা মুবাহ্। সব ধর্মইতো আল্লাহ পাক-এর আদেশ। বস্তুত: এমন বর্ণনাও আছে যে, “তোমরা এসব থেকে বিরত থাকবে কি? অর্থাৎ বিরত থাক।” (সূরা মায়েদা-৯১) এ আয়াত শরীফ নাযিল হবার আগ পর্যন্ত হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শরাব পান করেছেন। শরাব হারাম হলে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চয়ই তাঁকে ছেড়ে দিতেন না। যেহেতু তিনি কোন শাস্তি পাননি, ধরে নেয়া যেতে পারে শরাব হারাম নয়।’
[সত্য হচ্ছে, শরাব হারাম হওয়ার আগ পর্যন্ত হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যদিও তা কিছু পান করে থাকেন না কেন কিন্তু শরাব নিষিদ্ধ হওয়ার পর আর কোনদিনই শরাব পান করেননি। পরবর্তীতে যদিও কয়েকজন উমাইয়া এবং আব্বাসীয় খলীফা শরাব পান করেও থাকেন তাতে এটা প্রমাণিত হয় না যে, এলকোহল সহযোগে পানীয় গ্রহণ করা মাকরূহ্ বরং এটাই প্রমাণ করে যে, তারা ছিলো এ ব্যাপারে গুণাহগার। কেননা তারা হারাম কাজ করেছিলো। হ্যাম্পার কর্তৃক উদ্ধৃত আয়াত শরীফ এবং অন্যান্য আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, শরাব পান করা হারাম। “রিয়াদ-উন-নাসিহীন” কিতাবে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে শরাব পান করার ব্যাপারে আদেশ বা নিষেধ কোনটাই ছিলো না। হযরত উমর, সাদ ইবনে ওয়াক্কাছ ও অন্যান্য কয়েকজন সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম শরাব পান করতেন। পরবর্তীতে সূরা বাক্বারা-এর ২১৯ নং আয়াত শরীফে ঘোষনা করা হলো এটি গুরুতর পাপ। কিছুদিন পরে সূরা নিসা-এর ৪২ নং আয়াত শরীফ নাযিল হলো এবং ঘোষনা করা হলো “মাদকাসক্ত অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়োনা।” পরিশেষে, সূরা মায়েদা-এর ৯৩ নং আয়াত শরীফের মাধ্যমে শরাবকে একেবারে হারাম করে দেয়া হয়। হাদীছ শরীফেও নিম্নরূপ বলা হয়েছে, ‘যা বেশী পরিমাণ গ্রহণ করলে নেশাগ্রস্ত করবে তা অল্প পরিমাণ গ্রহণ করাও হারাম।’ ‘শরাব পান করা নিকৃষ্ট পর্যায়ের গুনাহ্।’ আর ‘যারা শরাব পান করে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না। তাদের জানাযায় যেও না। তাদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করো না।’ ‘শরাব পান করা মূর্তিপুজার সমতুল্য।’ ‘যারা শরাব পান করে, বিক্রি করে এবং সরবরাহ করে তাদের উপর আল্লাহ পাক-এর লা’নত।’ -এম সিদ্দিক গূমুজ।]
নজদের মুহম্মদ বললো, কিছু কিছু বর্ণনাতে পাওয়া যায়, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পানি মিশিয়ে এলকোহলীয় পানীয় গ্রহণ করতেন এবং বলতেন পান করলে নেশাগ্রস্ত না হলে শরাব পান করা হারাম নয়।
বললাম, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ধারণাটা সঠিক। [তার এ বক্তব্য হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর প্রতি মিথ্যা তোহমতের শামিল। মূলত: সে নিজেই শরাব পান করতো তা প্রমাণ করার জন্যই এরূপ বক্তব্য প্রদান করেছে।]
কেননা, কুরআন শরীফে উল্লেখ রয়েছে, “শরাব পান এবং জুয়ার মাধ্যমে শয়তান তোমাদের মধ্যে শত্রুতা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, এবং আল্লাহ পাক-এর যিকির এবং নামায থেকে বিরত রাখে। তোমরা এসব থেকে বিরত থাকবে কি? অর্থাৎ বিরত থাক।” (সূরা মায়েদা-৯১) এই আয়াত শরীফে বর্ণিত গুনাহসমূহের মত এলকোহল জাতীয় পানীয় গুনাহের কারণ নয় যতক্ষণ না তাতে নেশার সৃষ্টি হয়। ফলে শরাব পানে নেশা না হলে, মদ হারাম হবে কেন?” (যা বেশী পরিমাণ গ্রহণ করলে নেশাগ্রস্ত করবে তা অল্প পরিমাণ গ্রহণ করাও হারাম।)
আমি শরাব সংক্রান্ত এ বিতর্কের কথা সাফিয়াকে জানালাম এবং নজদের মুহম্মদকে কড়া শরাব পান করানোর ব্যাপারে নির্দেশ দিলাম। পরে সাফিয়া আমাকে জানায়, ‘তোমার কথা মত আমি কাজ করেছি এবং তাকে প্রচুর শরাব পান করিয়েছি। সে বেশ নাচানাচি করেছে এবং রাতে কয়েক দফা সাক্ষাত হয়েছে।’ সেই থেকে নজদের মুহম্মদ সাফিয়া ও আমার পুরো নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে বলেছিলো, ‘আমরা অবিশ্বাসীদের (এখানে মুসলমানদের বলা হচ্ছে) নিকট থেকে স্পেনকে দখল করেছি শরাব এবং ব্যভিচারের মাধ্যমে। চলো এ দু’টো শক্তির মাধ্যমে আমরা এবার আমাদের হারানো ভূখণ্ড ফেরত আনি।’ এখন বুঝতে পারছি তার বক্তব্য কত সত্য।
একদিন আমি নজদের মুহম্মদের সাথে রোজা নিয়ে কথা শুরু করলাম। বললাম, “কুরআন শরীফে বলা আছে, ‘রোজা রাখা অনেক গৌরবের।’ (সূরা বাক্বারা-১৮৪) কিন্তু তাতে বলা হয়নি রোজা ফরজ। তার মানে ইসলাম ধর্মে রোজা সুন্নত, ফরয নয়।”
সে প্রতিবাদ করলো এবং বললো, “তুমি কি আমাকে আমার বিশ্বাস থেকে সরিয়ে নিতে চাইছো?”
উত্তরে বললাম, ‘কারো বিশ্বাস হচ্ছে তার হৃদয়ের পবিত্রতা এবং গুনাহ্ থেকে পবিত্র থাকা কিন্তু অন্যের হক নষ্ট করে গুনাহ্ করা নয়। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেননি যে, বিশ্বাস হচ্ছে ভালবাসা?’ আল্লাহ পাক কি কুরআন শরীফে বলেননি, ‘ইয়াক্বীন না আসা পর্যন্ত তোমার রবের ইবাদত করো?’ (সূরা হিজর ৯৯) [এটা মূলত: বাতিলপন্থী ফক্বিরদের আক্বীদা যা কুফরী। প্রকৃতপক্ষে এখানে ইয়াক্বীন অর্থ হচ্ছে মৃত্যু।]
কাজেই যখন কেউ আল্লাহ পাক-এর প্রতি এবং ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি ইয়াক্বীন কায়িম রাখতে সক্ষম হবে এবং সৎ কাজের মাধ্যমে নিজের হৃদয়কে সুন্দর ও পবিত্র করবে তখনই সে হবে মানবজাতির মধ্যে সবচেয়ে পূণ্যবান।’ সে আমার কথায় মাথা নেড়ে সম্মতি প্রকাশ করলো।
একবার তাকে বললাম, ‘নামায ফরয নয়।’ সে বললো কি করে নামায ফরয নয়?’ আমি বললাম, আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে বলেছেন, ‘তোমরা নামাযের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করো।’ (সূরা ত্ব-হা ১৪) সুতরাং নামাযের উদ্দেশ্য আল্লাহ পাককে স্মরণ করা। সুতরাং নামায না পড়েও আল্লাহ পাককে স্মরণ করতে পারো। [এ বক্তব্যও কুফরী। এখানে সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে যে, নামাযের মাধ্যমে আল্লাহ পাক-এর দায়িমী হুযূরী হাছিল হয়। যেমন হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “নামায হচ্ছে মু’মিনদের মি’রাজ।”]
নজদের মুহম্মদ বললো, হ্যাঁ আমি শুনেছি কিন্তু মানুষ নামাযের পরিবর্তে আল্লাহ পাক-এর যিকির করে।
তার এই বক্তব্যে আমি খুবই খুশী হয়েছি। আমি এই জাতি প্রতিষ্ঠা করতে এবং তার হৃদয় অধিগ্রহন করতে প্রাণন্তর চেষ্টা করেছি। তারপর থেকে আমি লক্ষ্য করলাম যে সে নামায আদায়ের ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেয় না এবং মাঝে মধ্যে নামায আদায় করে। সে নামায আদায়ের ব্যাপারে বিশেষত ফজরের নামায আদায়ের ব্যাপারে খুবই অমনোযোগী ছিল। আমি তার সাথে মধ্যরাত পর্যন্ত আলাপচারিতা করতাম যাতে সে ঘুমাতে না পারে। ফলে সে এত বেশী পরিশ্রান্ত থাকত যে ফজরের নামায আদায় করতে পারত না।
(হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নামায ইসলামের স্তম্ভ। যে নামায পড়লো সে ইসলামকে ক্বায়িম রাখলো। আর যে নামায পড়লোনা সে ইসলামকে ধ্বংস করলো।” অন্য হাদীছ শরীফে আছে, ‘আমি যেভাবে পড়ি সেভাবে নামায পড়ো। নামায না পড়া কবীরাহ গুনাহ। আর নামায সঠিকভাবে আদায় করলে হৃদয়ের পবিত্রতা থাকে।)
নজদের মুহম্মদের কাধ থেকে আমি ধীরে ধীরে বিশ্বাসের চাদর সরিয়ে ফেলতে থাকি এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কেও নজদের মুহম্মদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলাম। নজদের মুহম্মদ বললো, ‘এখন থেকে তুমি যদি এ বিষয়ে আমার সাথে আলাপ করো তাহলে আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে।’
এরপর থেকে ভয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে কোন আলাপ-আলোচনা করা বাদ দিলাম যাতে আমার সব চেষ্টা বিফলে না যায়। আমি নজদের মুহম্মদকে সুন্নী ও শিয়া মতের বাইরে নতুন একটি মতে চলতে উপদেশ দেই। সে আমার এই নতুন ধারণাটাকে পছন্দ করলো, বস্তুত: সে ছিল একজন অহঙ্কারী ব্যক্তি। সাফিয়াকে ধন্যবাদ, তার সাহায্যেই আমি নজদের মুহম্মদের জীবনকে থামিয়ে দিতে পেরেছি।
কোন এক উপলক্ষে আমি তাকে বললাম, ‘আমি শুনেছি যে, আমাদের নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণদের পরস্পর ভাই বলে তৈরী করেছিলেন। বিষয়টি কি সত্যি? সে সম্মতি প্রকাশ করলো। আমি জানতে চাইলাম, এই ইসলামী নীতি কি স্থায়ী ছিলো, না অস্থায়ী। সে ব্যাখ্যা করে বললো, এটা ছিল একটা স্থায়ী ব্যবস্থা। কেননা, ক্বিয়ামত দিবস পর্যন্ত আমাদের নবী হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা হালাল করেছেন তা হালাল থাকবে আর যা হারাম করেছেন তা হারাম থাকবে। তখন আমি তাকে আমার ভাই হবার আহ্বান করলাম এবং আমরা পরস্পর ভাই হয়ে রইলাম। সেদিন থেকে আমি তাকে কখনও ত্যাগ করিনি। আমরা একে অপরের সঙ্গী হয়ে রইলাম, এমনকি সফরেও। সে ছিলো আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমার জীবনের অনেক মূল্যবান দিনগুলো ব্যয় করে যে চারা বপন করেছিলাম এখন সে ফল দিতে শুরু করেছে।
আমি লন্ডনে উপনিবেশ মন্ত্রণালয়ে মাসিক প্রতিবেদন পাঠালাম। এর উত্তরটি ছিল খুবই উৎসাহব্যঞ্জক ও প্রত্যয়দৃপ্ত। নজদের মুহম্মদ আমার আঁকা রাস্তা অনুসরণ করছে। আমার কর্তব্য ছিল তাকে স্বাধীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও সন্দেহপ্রবণতার স্বাদ উপভোগ করতে অনুপ্রাণিত করা। আমি সর্বদা তার প্রশংসা করে বলতাম যে, একটি উজ্জল ভবিষ্যত তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
একদিন আমি মিথ্যা স্বপ্নের কথা বললাম, “গতরাতে আমি স্বপ্নে আমাদের নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি। আমি হিজাজে যে লক্বব মুবারক শিখেছিলাম সে লক্ববে তাঁকে সম্বোধন করলাম। তিনি একটি মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। তাঁর চারপাশে আলিমরা ছিল যাদেরকে আমি চিনিনা। তুমি প্রবেশ করলে। তোমার চেহারা ছিল নূরের মতো উজ্জল। তুমি নবীজি (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে এগিয়ে গেলে এবং তুমি যখন তাঁর খুব নিকটবর্তী হলে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন ও তোমার দু'চোখের মধ্যবর্তী স্থানে চুম্বন করলেন। তিনি বললেন, ‘তুমি আমার নামে নামধারী, আমার জানা মতে তুমি আমার পার্থিব ও ধর্মীয় বিষয়ে সহকারী।’ তুমি বললে, ‘হে আল্লাহ পাকের রসূল (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি লোকদের কাছে আমার ইলম বর্ণনা করতে ভয় পাচ্ছি।’ ‘তুমি সর্বোত্তম, ভীত হয়োনা’, নবীজি (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতত্তুর করলেন।” (নাঊজুবিল্লাহ মিন যালিক)
মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাব স্বপ্নের কথা শুনে বুনো আনন্দে মেতে উঠে। সে বার বার জিজ্ঞাসা করছিল আমি সত্য বলছি কিনা এবং প্রত্যেকবারই সে হ্যাঁ সূচক উত্তর পেয়েছে। পরিশেষে সে নিশ্চিত হলো আমি তাকে সত্য বলছি। তখন থেকে আমার ধারণা হলো আমি তাকে যে ধ্যান-ধারণায় অনুপ্রাণিত করেছি তা প্রচার করতে এবং নতুন একটি সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করতে সে দৃঢ়চিত্ত।
(তৎকালীন ইস্তাম্বুলের দারুল ফুনান বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্বিদা-ই-ইসলামিয়া-এর মুদাররিস (অধ্যক্ষ) বাগদাদের জামাল ছিদ্দিক্বী যাহাবী ইফেন্দী লিখিত আল ফজরুস সাদিক্ব কিতাবে বর্ণিত আছে, “মুহম্মদ বিন আব্দুল ওহাব কর্তৃক ১১৪৩ হিজরীতে [১৭৩০ খৃষ্টাব্দে] নজদে ইসলামী ধর্ম মতের বিপরীত ধ্যান-ধারণা সম্বলিত ওহাবী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হয়। সে ১১১১ হিজরীতে [১৬৯৯ খৃষ্টাব্দে] জন্মগ্রহন করে এবং ১২০৭ হিজরীতে [১৭৯২ খৃষ্টাব্দে] মৃত্যুবরণ করে। দারিয়ার আমির মুহম্মদ বিন সউদের দ্বারা অসংখ্য মুসলমানের রক্তের বিনিময়ে এই সম্প্রদায় বিস্তৃতি লাভ করে। ওহাবীরা, যেসব মুসলমান তাদেরকে মেনে নেয়নি তাদেরকে মুশরিক বলে। তারা (ওহাবীরা) বলে যারা ওহাবী নয় তারা যদি পূর্বে হজ্জ করেও থাকে তাদেরকে আবার অবশ্যই হজ্জ করতে হবে এবং ঘোষণা দেয় যে, ৬০০ বছর ধরে তাদের সকল পূর্বপুরুষরাও কাফির। যারা ওহাবী সম্প্রদায়কে মেনে নিতোনা তাদেরকে হত্যা করত এবং তাদের সম্পত্তি গণিমতের মাল হিসাবে লুট করত। তারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি কুৎসিত মন্তব্য আরোপ করত। তারা ফিক্বাহ, তাফসির ও হাদীসের কিতাব পুড়িয়ে ফেলে। তাদের মনগড়াভাবে কুরআনুল কারীমের ব্যাখ্যা করে। মুসলমানদেরকে ধোঁকা দেয়ার জন্য নিজেকে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী বলতো। এ কারণে অধিকাংশ হাম্বলী মাযহাবের আলিমরা তাদের যুক্তিখন্ডন করে কিতাব লিখেন এবং ব্যাখ্যা করেন যে তারা কাফির। তারা কাফির, কারণ তারা হারামকে হালাল বলে এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মর্যাদা খর্ব করে। ওহাবী ধর্মটি ১০টি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত: ১) আল্লাহ পাক একজন দৈহিক সত্ত্বা। তাঁর হাত, মুখ ও দিক আছে। [এটি খৃষ্টান ধর্মমতের সাথে সাদৃশ্যযুক্ত [পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা]; ২) তারা তাদের নিজস্ব উপলদ্ধি দ্বারা কুরআনুল কারীম-এর ব্যাখ্যা করে; ৩) তারা হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের ইজমাকে অস্বীকার করে; ৪) তারা আলিমদের ক্বিয়াসকে অস্বীকার করে; ৫) তারা বলে, যে ব্যক্তি চার মাযহাবের যে কোনটি অনুসরণ করবে সে কাফির; ৬) তারা বলে ওহাবীরা ছাড়া সবাই কাফির; ৭) তারা বলে, যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণকে ওসীলা হিসাবে গ্রহন করবে তারা প্রত্যেকে কাফির হয়ে যাবে; ৮) তারা বলে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রওজা মুবারক এবং আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মাযার শরীফ জিয়ারত করা হারাম; ৯) তারা বলে, যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করবে সে নাস্তিক হয়ে যাবে। ১০) তারা বলে, আল্লাহ পাক ছাড়া অন্য কারো জন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান করলে কিংবা আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মাযার শরীফে পশু জবাই করলে সে নাস্তিক হয়ে যাবে। এই কিতাবে দলীল দিয়ে প্রমান করা হয়েছে যে, এই ১০টি ধর্মীয় মতবাদ ভূল। ওহাবী ধর্মের এই ১০টি মূলনীতি হ্যাম্পার কতৃক নজদের মুহম্মদকে প্ররোচিত ধর্মীয় নীতির অনুরূপ।
বৃটিশরা খৃষ্টীয় ধর্মমত প্রচারের অবলম্বন হিসাবে হ্যাম্পারের স্বীকারোক্তি প্রকাশ করেছিল। মুসলমান শিশুদের ভূল পথে পরিচালিত করার জন্য ইসলামী শিক্ষার নামে ভূল এবং মিথ্যার জাল বুনে। বৃটিশ ফাঁদ থেকে আমাদের যুবসমাজকে বাঁচানোর জন্য এই কিতাব লিখা হয়েছে যা তাদের মিথ্যা ও অপবাদ থেকে সঠিক পথ দেখাবে।) (চতুর্থ পর্ব-সমাপ্ত)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29030295 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29030295 2009-10-22 23:25:40
ছবিভিত্তিক নয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক আইডি কার্ডই শরীয়তসম্মত “আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে ফিৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না। তখন তারা বলে, আমরা তো শান্তির পথ অবলম্বন করেছি। মনে রেখো, তারাই ফিৎনা সৃষ্টিকারী; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না।” (সূরা বাক্বরা ১১-১২)
উপরোক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কাফির-মুশরিকরা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাছিলের লক্ষ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের সমস্যা সৃষ্টি করে রেখেছে। ইরাক ও আফগানিস্তানে তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা এবং সম্পদ লুট করে যাচ্ছে। অথচ তারা বলে, সে দেশগুলোতে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে শান্তি আনতে চায়। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে যেখানে তাদের অনুসারী শাসক রয়েছে সেখানে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শব্দও উচ্চারণ করে না। এছাড়াও যে সকল দেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে তাদের প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের সৈন্য মোতায়েন করে রাখে। এই সৈন্য স্থাপনের পিছনে থাকে তাদের সম্পদ লুন্ঠন, মানুষ হত্যা আর দেশ দখলের স্বপ্ন। অথচ এরা পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের নামে ফিৎনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। কাফির-মুশরিকদের এ সকল হীন প্রচেষ্টার একটি হচ্ছে এদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের নামে তাদের মন মত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। তাদের এই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী তৈরী হচ্ছে ছবিযুক্ত ভোটার কার্ড ও আইডি কার্ড। অথচ ছবি আকাঁ বা তোলা হারাম, অন্য দিকে ছবির পরিবর্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী শরীয়তসম্মত ও সবচেয়ে আধুনিক।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার সাথে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, এ বিষয়টি এখন আর কারো অজানা নয়। আফগানিস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর হামলার পিছনে ‘আল কায়দা’ ছিল একটি উপলক্ষ মাত্র। ‘আল কায়দা’ যুক্তরাষ্ট্রেরই সৃষ্ট একটি দল। অথচ এ যাবৎ পাকিস্তানের, ইয়েমেনের এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মুসলমান নাগরিক ‘আল কায়দা’র সদস্য এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারের পর মিডিয়াতে তাদের ছবি এসেছে, নাম এসেছে কিন্তু তারপরের ইতিহাস মানুষের জানা নেই। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ঘটনার সাথে জড়িত এক ব্যক্তির ছবি ছাপা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় দৈনিকে। পরে জানা গেল, সে ব্যক্তি পাকিস্তানের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। যে কখনই বিদেশ ভ্রমণ করেনি এবং পাসপোর্ট তৈরীর জন্য সে ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র জমা দিয়েছিল মাত্র।
স্রেফ রাজনৈতিক কারণে ছবি ব্যবহারে কিছু ফায়দা আছে কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টের কারণের সে সুবিধাটুকু সব সময় ব্যবহার করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে ব্রেন্ডন মেফিল্ড-এর ঘটনা বর্ণনা করা যায়। ব্রেন্ডন মেফিল্ড একজন আইনজীবী যাকে স্পেনের মাদ্রিদে বোমা বিস্ফোরণের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের FBI (Federal Bureau of Investigation) মেফিল্ড-এর ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে আসামীর ফিঙ্গারপ্রিন্টের মিল খুঁজে পায় এবং এ ব্যাপারে তারা ১০০ ভাগ নিশ্চিত বলে দাবী করে। কিন্তু স্প্যানিশ জাতীয় পুলিশ আলাদাভাবে পরীক্ষা করে ব্রেন্ডন মেফিল্ড-এর ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে আসামীর ফিঙ্গারপ্রিন্টের মিল খুঁজে পায়নি। এ ব্যাপারে FBI তাদের ভুল স্বীকার করে এবং ২ সপ্তাহ পর ২০০৪ সালের মে মাসে ব্রেন্ডন মেফিল্ডকে মুক্তি দেয়। ব্রেন্ডন মেফিল্ডকে FBI ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণও দেয়। পদ্ধতির কোন ত্রুটির কারণে মেফিল্ডকে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল তা নয়। বিষয়টি ঘটেছিল FBI–এর তদন্তকারী অফিসারের মানসিকতার কারণে। আমেরিকাতে জন্মগ্রহণকারী মেফিল্ড ইসলাম কবুল করেছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী ছিল মিশরীয়। একটা রাজনৈতিক ফায়দা হাছিলের উদ্দেশ্যে অন্ধ, বদ্ধমূল ধারণা FBIকে একটি ত্রুটিপূর্ণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিপোর্ট প্রকাশে প্রভাবিত করেছিল। যেহেতু ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিপোর্টে জালিয়াতি করা কঠিন তাই মেফিল্ড মুক্তি পেয়েছিলেন। ফিঙ্গারপ্রিন্টের কারণে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার বিষয়টি বাধাগ্রস্থ হয়। দাড়ি, টুপি বিশিষ্ট একজন ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী বানিয়ে তার ছবি প্রকাশ করে ‘আল কায়েদা’র সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সহজ; কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টে বিষয়টি তেমন সহজ নয়। রাজনৈতিক ফায়দা হাছিলের জন্য কখনো কোন কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ক্ষমতাসীন দলকে অন্যায় সহযোগীতা দিয়ে থাকে। যেমনটা করেছিল CIA ইরাক আক্রমণের ক্ষেত্রে। জানা গেছে কোন দেশের বিশেষ শ্রেণী গোষ্ঠীর উত্থান, আন্দোলন বা বিপ্লব ঠেকাবার লক্ষ্যেও সেই বিশেষ কমিউনিটিতে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা ড্রাগ চোরাচালান করে। উদ্দেশ্য, যুবক শ্রেণীকে ড্রাগে আসক্ত করে রাখা। এসব ক্ষেত্রে মূল অপরাধীরা কখনই ধরা পড়ে না। বরং মূল অপরাধীর পরিবর্তে ভিন্নজনের ছবি ছাপিয়ে, অপরাধী বানিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিকে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। বিশেষ গোষ্ঠী বা বিরোধী দলকে ঘায়েল করতে কখনও কোন কোন দেশের সরকারী দল নিজেই অস্ত্র চোরাচালান, বোমাবাজী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে থাকে। সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি দেশে চালু থাকলে এ ধরনের রাজনৈতিক ফায়দা লাভে সমস্যা হয়। অথচ ছবির ব্যবহার থাকলে ইচ্ছামাফিক যে কাউকে অপরাধী বানিয়ে মিডিয়াতে প্রচার করা সহজ।
বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসীদের প্রবেশাধিকার ঠেকাবার জন্য বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় স্থানে স্ক্যানিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। পূর্বে এ সকল স্ক্যানিং মেশিনগুলোতে ছবির ব্যবহার হতো। রাজনৈতিক ফায়দা হাছিল ছাড়া মেশিনে ছবি দিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে দু’ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
১) যারা সন্ত্রাসী বা অপরাধী নয় তারাও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এ রিপোর্টকে বলা হয় False Positive। অর্থাৎ সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করতে পেরেছে বলে মেশিনে একটি রিপোর্ট দেয় অর্থাৎ Positive Report কিন্তু ভুল তথ্য দেয়ায় একে বলা False Positive। ২) ছবি দিয়ে মূল সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করতে সিস্টেম ব্যর্থ হয়। একে বলা False Negative। অর্থাৎ সিস্টেম সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে তথ্য দিতে না পারায় রিপোর্ট হয়েছে Negative কিন্তু বাস্তবে সন্ত্রাসী বা অপরাধী হওয়ায় রিপোর্টি False হয়েছে।
ছবি দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতির একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কোন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের শনাক্তকরণ করতে সিস্টেম ৫৩ ভাগ সময় ব্যর্থ এবং False Negative রিপোর্ট আসে। অর্থাৎ আসল ব্যক্তিকে সিস্টেম চিহ্নিত করতে পারে না। আর ৪ ভাগ সময় দেখা যায় ভুল মানুষকে (অপরাধী বা সন্ত্রাসীকে) সঠিক হিসেবে রিপোর্ট দেয়। অর্থাৎ False Positive রিপোর্ট আসে। উদাহরণ হিসেবে একটি ব্যস্ত বিমানবন্দরের কথা বলা যেতে পারে। যদি একটি বিমানবন্দরে মোট যাত্রীর ৪ ভাগ ভিন্ন মানুষকে সঠিক বলে চিহ্নিত করা হয় তবে বিষয়টি ভাবনার। যেমন ফ্লোরিডার টেম্পা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ মাসে প্রায় ১০ লক্ষ যাত্রী আসা-যাওয়া হয়। তাহলে ৪ ভাগ বলতে প্রায় ৪০,০০০ যাত্রীকে যদি চিহ্নিত করতে সিস্টেম ব্যর্থ হয় অর্থাৎ ভিন্ন মানুষকে সঠিক বলে চিহ্নিত করে প্রবেশাধিকার দেয়া হয় তবে বিষয়টি চিন্তিত হবার মত। ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিতে এ অসুবিধা থাকে না। ছবি দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে ভুলের মাত্রা থাকে অনেক বেশী।
বর্তমানে উন্নত বিশ্বে যেসব স্থানে ব্যক্তিগত আইডি কার্ড ব্যবহার করা হয় সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহারের উপর কাজ হচ্ছে। কেননা কেউ ভুলে আইডি কার্ড সাথে না নিয়ে এলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সেখানে প্রবেশাধিকার সম্ভব। ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেউ ভুলে ফেলে আসে না। এছাড়াও ছবি পরিচয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকাই রাখতে পারে না। কারণ গলা কেটে ছবি পরিবর্তনের নজীর এদেশে বহু রয়েছে। আরো উল্লেখ্য যে, ছবিভিত্তিক আইডি কার্ডের ক্ষেত্রে কিছু কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক আইডি কার্ডে এদিক দিয়ে সম্পূর্ণরূপে উপযুক্ত। যেমনঃ যমজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে চেহারার মিল, বয়সের পরিবর্তনের সাথে চেহারা পরিবর্তন, দাড়ি-মোচ এবং চুলের কাটিং-এর সাথে সাথে চেহারার পরিবর্তন ইত্যাদি হলো ছবিভিত্তিক আইডি কার্ডের সীমাবদ্ধতা বা জটিলতা। কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক আইডি কার্ড এসব সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা থেকে মুক্ত। একজন ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট অন্য ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে কখনও মিলবে না বা ক্বিয়ামত পর্যন্ত চেষ্টা করেও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোন মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্টে কোন পরিবর্তন আসে না। তাই এক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতিই হচ্ছে ইসলামসম্মত ও সবচেয়ে আধুনিক। তাই আমরা দেখতে পাই যে, ইহুদী-নাছারারা মুসলমানদেরকে ছবিযুক্ত আইডি কার্ডের জন্য উৎসাহিত করলেও নিজেরা কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্টযুক্ত বা ছবিবিহীন আইডি কার্ড ব্যবহার করে। এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
সুইডেনের ‘স্টকহোম রয়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজী’তে বাংলাদেশের একজন ছাত্র ‘ওয়াটার সিস্টেম টেকনোলজী’তে মাস্টার্স প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত। এই ইনস্টিটিউটে ছাত্র ছাত্রীদের জন্য যে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ব্যবহৃত হয় তাতে কোন ছবি নেই বা ছাত্র-ছাত্রীদের কোন ছবি ব্যবহৃত হয় না। কার্ডে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের নাম, জম্মতারিখ, কার্ড নম্বর, স্টুডেন্ট আইডি নম্বর, কার্ডের মেয়াদকাল উল্লেখ থাকে। কার্ডে একটি কোড নম্বর ব্যবহৃত হয়, যেটা কম্পিউটারভিত্তিক মেশিনে পাঞ্চ করলে ছাত্র-ছাত্রীদের বিস্তারিত তথ্যাবলী কম্পিউটারে এসে পড়ে। শুধু তাই নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং রিডিং রুম ২৪ ঘন্টা ব্যবহার করতে পারে সেজন্য সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কম্পিউটার রুম ও ডিপার্টমেন্টে ঢুকার জন্য একটি সিকিউরিটি কার্ড ব্যবহার করতে হয়। তাতে কোন ছবি নেই, এমন কি কোন নাম কিংবা কোন লিখাই নেই। শুধুমাত্র প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি করে কোড নম্বর বরাদ্দ থাকে।যারা সন্ধ্যা ৬টার পর ডিপার্টমেন্টে ঢুকতে চায় তারা এ সিকিউরিটি কার্ডটি দরজায় রক্ষিত মেশিনে পাঞ্চ করে নিদির্ষ্ট কোড নম্বরটি টিপে দরজা খুলে ডিপার্টমেন্টে ও কম্পিউটার রুমে ঢুকতে পারবে। ডিপার্টমেন্টগুলোতে এদেশের মত কোন পাহারাদার কিংবা কেয়ারটেকার বা সিকিউরিটি গার্ড থাকে না। দরজা খুলার জন্য যখন সিকিউরিটি কার্ডটি পাঞ্চ করে কোড নম্বরটি টেপা হয়, তখন অটোমেটিক সেই ছাত্র-ছাত্রীর বিস্তারিত তথ্য নিদির্ষ্ট কন্ট্রোল রুমে চলে যায় এবং কম্পিউটারে রেকর্ড হয়ে যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ জানতে পারে কোন ছাত্র বা ছাত্রী কখন কোন ভবনে ঢুকেছিল।
ছবি ছাড়াও যে আইডি কার্ড করা সম্ভব এবং এর দ্বারা যে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানই নয় বরং একটি দেশও চালানো সম্ভব, এক্ষেত্রে সুডেনের ‘স্টকহোম রয়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজী’ এর ‘স্টুডেন্ট আইডি কার্ড’ পদ্ধতি একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এছাড়াও উদাহরণ হিসেবে জার্মান ও যুক্তরাষ্ট্রে কথা বলা যেতে পারে। ২০০৭ সালের নভেম্বর থেকে জার্মানে e-Passport চালু হয়েছে। যেখানে থাকছে দুটো ফিঙ্গারপ্রিন্ট। প্রতিটি নাগরিকেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ১০আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ার পদ্ধতি চালু করেছে। অথচ দুঃখজনক যে, উন্নত বিশ্বে যেখানে অতি আধুনিক বিষয়টি গ্রহণ করছে সেখানে আমাদের দেশে, শরীয়তের জায়িয নেই এবং যে সিস্টেমটি ত্রুটির কারণে উন্নত বিশ্বে সমালোচনা হচ্ছে সেই ছবি দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতিটি মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। অবশ্যই যারা শরীয়তের বহির্ভূত কোন বিষয় মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে তারা ইসলামের চিহ্নিত শত্রু। একজন মুসলমান হিসেবে আমি আশা করি করব হারাম ছবিভিত্তিক আইডি কার্ডের পরিবর্তে ন্যাশনাল আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভিত্তিক আইডি কার্ডের প্রচলন করার ব্যপারে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশের সরকার প্রধান শুভবুদ্ধির পরিচয় দিবেন।
(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক আল ইহসান ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ ঈসায়ী এবং দৈনিক আল ইহসান ১৬ জুলাই ২০০৮ ঈসায়ী)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029841 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029841 2009-10-22 00:58:29
হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (১)
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (২)
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (৩)
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (৪)
চাঁদের তারিখ হের-ফের এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029604 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029604 2009-10-21 16:18:43
চাঁদের তারিখ হের-ফের এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামতসমূহ পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা মায়িদা ৩)
উল্লেখ্য, এ আয়াত শরীফ ১০ম হিজরীতে বিদায় হজ্জে আরাফার দিনে নাযিল হয়। সেদিন ছিল আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবদ্দশায় সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ ঐতিহাসিক সমাবেশ। প্রায় সোয়া লক্ষ সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুম উপস্থিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণের সাথে জাবালে রহমতের নীচে স্বীয় উটনী আযবার পিঠে সাওয়ার হয়ে হজ্জের প্রধান রুকন অর্থাৎ আরাফার ময়দানে অবস্থানরত।
সে কি মোহনীয় দৃশ্য! অভাবনীয় চিত্র! যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না । একসময় অপূর্ব এক সমাবেশে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজিরান মজলিশকে জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কোন মাস?” হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণ বললেন, “আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ভাল জানেন।” আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা কি যিলহজ্জ মাস নয়?” হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণ বললেন, “জ্বী, এটা যিলহজ্জ মাস।” এরপর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা কোন শহর?” হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণ আবারো বললেন, “আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ভাল জানেন।” আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “এটা কি মক্কা শহর নয়?” হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণ বললেন, “জ্বী, এটা মক্কা শহর।”
এরপর আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার বললেন, “এটা কোন দিন?” আগের মতই হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণ বললেন, “আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই ভাল জানেন।” আখিরী রসূল হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐহীক কন্ঠে ইরশাদ করলেন, “আজ কি আরাফার দিন নয়?” হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণ বললেন, “জ্বী,আজ আরাফার দিন, আজ ৯ই যিলহজ্জ।”
মুহাদ্দিস, মুফাস্‌সিরগণ এ ঘটনার পিছনে অনেক কারণ ব্যক্ত করেছেন। তবে মূল যা তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন তা হলো যে, মহান আল্লাহ পাক যেদিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিনই মাসের তরতীব, নাম ও বিশেষ মাসের সাথে সংশ্লিষ্ট হুকুম-আহকাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কিন্তু জাহিলী যুগে কাফিররা তাদের ইচ্ছামত মাস পরিবর্তন করত, নিজেদের সুবিধার জন্য যখন যুদ্ধ জায়িয নেই তখনও যুদ্ধ করার জন্য তারা মাসের হেরফের করত।
আল্লাহ পাক ইরশাদ ফরমান, “এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরী মাত্রা বৃদ্ধি করে। যার ফলে কাফিররা গুমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় এক এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর। যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহ পাক-এর নিষিদ্ধ মাসগুলোর। অতঃপর হালাল করে নেয় আল্লাহ পাক-এর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দ কাজগুলো তাদের জন্য শোভনীয় করে দেয়া হলো। আর আল্লাহ পাক কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করেন না।” (সূরা আত্‌ তওবা ৩৭)
আয়াত শরীফে উল্লিখিত জাহিলী যুগের সে বদ প্রথাকে রহিত করেই বিদায় হজ্জের খুৎবায় আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নতুন করে অনাগতকালের মানবজাতির জন্য মাস, দিন, তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। কারণ হজ্জ একটি ফরয হলেও অনুষঙ্গ হিসেবে তাতে (১) ইহরাম বাঁধা, (২) আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, (৩) তাওয়াফে যিয়ারত করা ফরয। এছাড়া (১) মুযদালিফায় অবস্থান করা, (২) সাফা-মারওয়ায় সায়ী করা, (৩) কঙ্কর নিক্ষেপ করা, (৪) মাথা মুন্ডন করা ও কুরবানী করা। এসবই নির্দিষ্ট তারিখের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাহলে নির্দিষ্ট তারিখই যদি ভূল হয় তবে এসব কাজও ভূল হয়। এমনকি ইহরাম খোলাও শুদ্ধ হবে না। এজন্য হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা শুরু কর এবং চাঁদ দেখে ঈদ কর। আর যদি ২৯শে শা’বান চাঁদ দেখা না যায় তবে শা’বান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ কর।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
অথচ সৌদী ওহাবী সরকার দীর্ঘদিন যাবত হাদীস শরীফ-এর উপরোক্ত নির্দেশের কোন তোয়াক্কা না করে ইহুদী এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ইসলামের একটি অন্যতম বুনিয়াদ, হজ্জসহ অন্যান্য আমলগুলো নষ্ট করে চলেছে চাঁদ না দেখে তারিখ ঘোষণার মাধ্যমে। তাদের এই অপকর্মের যৎসামান্য নমুনা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
১৯৯৬ সালে হজ্জে গিয়েছিলেন ঢাকার গুলশান নিবাসী ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ হাবিবুল হক্ব ছাহেব। সুবিধা পেয়ে একটু আগেই তিনি হজ্জে গিয়েছিলেন। যিলহজ্জের চাঁদ দেখার সুযোগও তাঁর হয়েছিল। চাঁদ দেখার প্রেক্ষিতে সে বছর শুক্রবার হজ্জ হবে এটা তার সাথে গোটা সৌদী আরবেরও সবাই বুঝেছিল। কিন্তু ২দিন পরেই সরকারী ঘোষণা যে, ‘হজ্জ হবে তার পরের দিন অর্থাৎ শনিবার।’ হাবিবুল হক্ব ছাহেব বিস্ময়ে বিপর্যস্ত হলেন। তাহলে কি তিনিসহ সারাদেশবাসীর প্রকাশ্যে চাঁদ দেখাকে ভূলে যেতে হবে? অস্বীকার করতে হবে? যেদিন হজ্জ নয় বা হজ্জের দিন পার হবার পর লোক দেখানো হজ্জ করতে হবে? মূলতঃ এ প্রশ্ন সেদিন সবার অন্তরেই জমাট বাঁধা বরফে পরিণত হয়েছিল।
এরপর দৃষ্টান্তটি দিয়েছেন কলামিষ্ট মহিউদ্দিন আহমদ। ২২শে নভেম্বর ঈদ উদযাপন নিয়ে বিভ্রান্তি শীর্ষক লেখায় দৈনিক সংবাদে তিনি স্মৃতিচারণ করেন যে, ১৯৮২ সালে হজ্জের তারিখ ১দিন এগিয়ে আনা হয়। এবং সেবার বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্টরও হজ্জের প্রোগ্রাম ছিল। কিন্তু হজ্জের ৭দিন আগে এই তারিখ এগিয়ে আনার ফলে তখন প্রেসিডেন্টর প্রটোকল, এম্বেসীর অনেক কর্মকর্তাদের ঝামেলা পোহাতে হয়, গোলমাল বেঁধে যায়।
মহিউদ্দিন ছাহেব লিখেছেন, “মাত্র সাত/আট দিন পরে হজ্জ। আর তখনই তারিখ বদলানো হলো। ব্যর্থতাটা যে আমাদের নয়, গোলমাল ঘটিয়েছে সৌদিরাই। এ বিষয়টি এরশাদের মার্শাল সরকারের অনেকেই তখন বুঝতে চায়নি। এছাড়া পূর্বঘোষিত (পূর্ব নির্ধারিত?) হজ্জের তারিখটা সৌদিরা আনেইবা কি করে? তার এমনসব যর্থাথ প্রশ্নের জবাব দিতে সৌদিরা কোন কালেই বাধ্য ছিল না, এখনও বাধ্য নয়।” (দৈনিক সংবাদ ২২ নভেম্বর ২০০৪)
মূলতঃ এসব প্রশ্ন সচেতন মহলে অনেকদিন যাবতই ঘুরপাক খাচ্ছে। তা সত্ত্বেও কোন কোন তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ উদয় হয়েছে, তারা প্রচার করছে যে, বর্তমানে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি বের হয়েছে যার দ্বারা নির্ভূলভাবে বের করা যাবে যে, চাঁদ কোথায়, কখন উঠবে। বলাবাহুল্য, সৌদীয়ানরাও এ হিসেবেই চাঁদের হিসাব-নিকাশ করে হজ্জের তারিখ ঘোষণা করে। কিন্তু সব মুহাক্কিক-মুদাক্কিক ইমাম ও ফুক্বাহায়ে কিরাম এই মর্মে একমত যে, চাঁদ উঠার সাথে শুধু নয়, শরীয়তের উছূল হলো চাঁদ দেখা। যেমন অঙ্কের হিসাবে ২৯ তারিখে চাঁদ উঠলেও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে যদি চাঁদ দেখা না যায় তাহলে ৩০ তারিখেই চাঁদ উঠবে বলে ধরতে হবে। এজন্য হাদীস শরীফে আরো সাবধান বাণী করা হয়েছে যে, “২৯ তারিখ চাঁদ না দেখলে ৩০ তারিখে চাঁদ দেখলে সেটা একটু মোটা মনে হলেও তাকে যেন কেউ দ্বিতীয়ার চাঁদ না বলে।”
ইসলামে গরু, ছাগল হালাল প্রাণী, কিন্তু যেটা মরে যায় বা যাকে গুলি করে মারা হয় অথবা যবেহ না করা হয় তাহলে তা যেমন খাওয়া জায়িয নয় তেমনি চাঁদ আকাশে উঠলেও যদি তা না দেখা যায় তাহলেও তা গ্রহণ করা যাবে না।
চাঁদের তারিখ নিয়ে খেল-তামাসার এই ধারাবাহিকতায় তারা ২০০৬ সালে (১৪২৭ হিজরী) হঠাৎ করেই ঘোষণা দিল তারা ২০শে ডিসেম্বর চাঁদ দেখতে পেয়েছে, অর্থাৎ ২১শে ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার থেকে ১ম যিলহজ্জ শুরু করে ৩০শে ডিসেম্বর ২০০৬ সাল, শনিবার ঈদুল আদ্বহা পালন করবে। অথচ অবাক ব্যাপার হচ্ছে- ১) সৌদী আরবের উম্মুল কুরার ক্যালেন্ডারে পূর্ব থেকেই ঘোষণা ছিল ১ম যিলহজ্জ শুরু হতে পারে শুক্রবার, ডিসেম্বরের ২২ তারিখ থেকে এবং ঈদুল আদ্বহা হবে ৩১ ডিসেম্বর, রবিবার ২০০৬ সাল। ২) অমাবস্যা সংঘটিত হয়েছে ২০শে ডিসেম্বর, দুপুর ২টায় (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)। সেদিন পলিনেশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। সৌদী আরব কি করে ২০শে ডিসেম্বর চাঁদ দেখতে পেল?
অনেকেরই ধারণা সৌদী আরব হয়তো চন্দ্রমাসের তারিখ গণনার ক্ষেত্রে কোন ভূল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। যদি তাদের পদ্ধতিগুলোর ভূলগুলো ধরিয়ে দেয়া যায় তবে হয়তো সৌদী আরবের মুসলমানদের এবং সৌদী আরবকে যারা অন্ধের মত অনুসরণ করে তাদের আমলগুলো নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। যে জেগে থেকে ঘুমের ভান করে থাকে তাকে যেমন জাগানো যায়না তেমনি সৌদী আরবের শাসক ও উলামায়ে ‘ছূ’দেরও সংশোধন সম্ভব নয়। এই শ্রেণীদ্বয় সজ্ঞানেই সব করছে যার প্রমাণ হলো উম্মুল কুরার ক্যালেন্ডারে ১ম যিলহজ্জ ডিসেম্বরের ২২ তারিখ শুক্রবার, দেখানো হয়েছিল, তাহলে হঠাৎ করেই সৌদী জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বৃহস্পতিবার কেন তারিখ গণনা শুরু করলো?
সৌদী আরবের King Abdul Aziz City for science and technology-এ Astronomy department–এর প্রধান জাকিউল মুস্তফা জানান ২০শে ডিসেম্বর বুধবার সূর্য অস্ত যাবার পূর্বেই চাঁদ অস্ত গেছে। সুতরাং সৌদী আরবের পক্ষে চাঁদ দেখা সম্ভব হয়নি এবং বৃহস্পতিবার ২১শে ডিসেম্বর থেকে যিলহজ্জের তারিখ ঘোষণা সঠিক নয়।
এছাড়াও ডঃ সালমান জাফর শাইখ একজন এস্ট্রোনমার ১৪২৭ হিজরী (২০০৬ সাল) যিলহজ্জের তারিখ ঘোষণার দিন সৌদী আরবের রিয়াদে উপস্থিত ছিলেন। তিনি রিয়াদের চাঁদ দেখা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সৌদী আরবের মক্কা, রিয়াদ, কাসিম, হাইল, তাবুক এবং আসির এই ৬টি চাঁদ দেখা কমিটির রিপোর্টেই জানানো হয় ২০শে ডিসেম্বর চাঁদ দেখা যায়নি। অথচ কোন অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে দুঃখজনকভাবে সৌদী জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট মনগড়াভাবে বৃহস্পতিবার থেকেই যিলহজ্জ মাসের ১ম তারিখ গণনার ঘোষণা দেয়?
এছাড়াও আরেকটি প্রমাণ উপস্থাপন করলে সহজেই বোঝা যাবে সৌদী ওহাবী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই এ যাবৎকাল ধরে চন্দ্রমাসের ভূল তারিখ ঘোষণা করছে। সৌদী আরবের উম্মুল কুরার ক্যালেন্ডারে ১৪২৫ হিজরী (২০০৫ সাল) পহেলা যিলহজ্জের তারিখ ছিল বুধবার ১২ই জানুয়ারী ২০০৫ এবং ঈদুল আদ্বহার তারিখ ছিল শুক্রবার ২১শে জানুয়ারী ২০০৫। কিন্তু হঠাৎ করেই সৌদী জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার ১১ই জানুয়ারী ২০০৫ সালে ১ম যিলহজ্জের তারিখ ঘোষণা করে এবং ঈদুল আদ্বহার তারিখ হয় বৃহস্পতিবার ২০শে জানুয়ারী ২০০৫।
সে বছর সোমবার ১০ই জানুয়ারী সন্ধ্যায় আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, চাঁদ দেখা যায়নি। কিন্তু হঠাৎ করেই রাতে দু’জন সাক্ষী এসে উপস্থিত হয় এবং তারা দাবী করে যে, রাতে তারা চাঁদ দেখেছে। তাদের স্বাক্ষ্য অনুযায়ী জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার ১১ই জানুয়ারী ২০০৫ থেকে পহেলা যিলহজ্জ ঘোষণা করে। সৌদী আরবের একজন লেখক হামজা আল মুজানী সৌদী আরবের “আল ওয়াতান” পত্রিকায় “Testimonies of the Impossible” শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশ করে। এই লেখা প্রকাশের পর লেখক হামজা আল মুজানীকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে ৪মাসের কারাদন্ড এবং ২০০ বেত্রাঘাত শাস্তি প্রদান করা হয়। যদিও পরবর্তীতে সৌদী বাদশা আব্দুল্লাহ তাকে আর জেলে প্রেরণ করেনি। সৌদী আরবের “আল হায়াত” পত্রিকা থেকে সেই দু’জন সাক্ষীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালায় কিন্তু কোনভাবেই সাক্ষীদ্বয়কে দেখা করতে রাজী করানো যায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে King Abdul Aziz City for science and technology-এর কয়েকজন এস্ট্রোনমার সাক্ষীদ্বয়ের এলাকা আল রেয়ান গিয়ে তাদের সাথে দেখা করেন। তারা দেখতে পান একজন তথাকথিত সাক্ষীর বয়স ৮০ বছর। আসলেই কি তিনি সেদিন চাঁদ দেখেছিলেন নাকি অন্য কিছু?
যদি ধরেও নেয়া হয় সৌদী আরব অমাবস্যার দিন থেকে নতুন তারিখ ঘোষণা করে তাহলে প্রশ্ন আসে-
(১) উম্মুল কুরা কি করে পূর্ব থেকেই সঠিক তারিখ ঘোষণা করেছিল পরবর্তীতে যা পরিবর্তন হয়ে যায়? (২) যদি অমাবস্যা দেখেই তারিখ শুরু করবে তবে রাতের বেলা চাঁদ দেখতে পাবার মিথ্যা সাক্ষী জোগাড় করার কি প্রয়োজন? (৩) অমাবস্যা দেখে তারিখ ঘোষণা করা সহজ। তাহলে তাদের ৬টি চাঁদ দেখা কমিটি গঠন করার কি প্রয়োজন এবং সেখানে কর্মরত চাঁদ দেখা বিষয়ে অভিজ্ঞ লোকজনের মতামত উপেক্ষা করারই কি দরকার? (৪) King Abdul Aziz City for science and technology-তে Astronomy department আছে। তাদের সাথে আলোচনা না করে, চরম সত্য বিষয়গুলো পাশ কাটিয়ে, মিথ্যা সাক্ষীর স্বাক্ষ্যের কি প্রয়োজন? (৫) বিশ্বের সকল দেশ থেকে অনেক অর্থ ব্যয় করে অনেক পরিশ্রম করে আসা মুসলমানদের হজ্জ অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়ার পিছনে তাদের কি সার্থকতা? (৬) ৯ই যিলহজ্জ আরাফার ময়দানে যথাসময়ে উপস্থিত হতে না পারলে যার ফরয হজ্জ বাতিল হয়ে যায়, তাকে পরবর্তীতে তা পুনরায় আদায় করতে হয়। তাহলে হজ্জ করতে আসা সকল বিশ্বের মুসলমানদের আরাফার ময়দানে সঠিক সময়ে যেতে না দেয়ার পিছনে তাদের কি এমন উল্লাস? (৭) সৌদী আরবের অন্ধ অনুসরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশে কিছু ধর্মীয় জনগোষ্ঠী ভিন্ন দিনে ঈদ পালন করছে, রোযা শুরু করছে, নিজেদের দেশে ভেদাভেদ সৃষ্টি করছে। এতে সৌদী আরবের কি আনন্দ রয়েছে? (৮) সৌদী আরবের এহেন মিথ্যা কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে সত্যবাদী লেখকের বেত্রাঘাত করা হচ্ছে। এরা আসলে ইসলামের কোন অনুশাসনের পায়রবী করছে?
এ রকম হাজারো প্রশ্ন বিশ্বের বিবেকবান সকল মুসলমানদের মনে প্রতি মুহুর্তে জেগে উঠছে। প্রতিটির আলাদা উত্তর না দিলেও একটি উত্তর দেয়া যেতে পারে তাহলো এই শাসকগোষ্ঠী হচ্ছে ইসলামের মুখোশধারী শয়তান তথা বেদ্বীন গোমরাহ এবং ওহাবী সম্প্রদায়। এরা ইসলামকে যমীন থেকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। যদিও তা তারা পারবে না। বরং এরা ইহুদীদের চর এবং খৃষ্টানদের দালাল। অচিরেই এই ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর ধ্বংস অনিবার্য। আমরা জানি হারাম থেকে হারামই সৃষ্টি হয়। সুতরাং এই সৌদী ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় যে সকল ব্যক্তি বা দল বিভিন্ন দেশে ইসলাম কায়েমের নামে অপচেষ্টা চালাচ্ছে তারা মূলত কোন দিন ইসলাম কায়েম করতে পারবেনা। এসকল উলামায়ে ‘ছূ’দেরও ধ্বংস অনিবার্য। আমরা তাদের হিদায়েত চাই আর হিদায়েত না থাকলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া দেখার প্রতিক্ষায় রইলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029461 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029461 2009-10-21 11:31:18
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (৪) সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (৩)

সি. সি. টিভি স্থাপন ইহুদী-নাছারা ও তাদের গোলাম সৌদী ওহাবী সরকারের গভীর এক ষড়যন্ত্রঃ মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা মায়িদা-এর ৮২তম আয়াত শরীফে ইরশাদ করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদীদেরকে। অতঃপর যারা মুশরিক তাদেরকে।”
অর্থাৎ ইসলাম ও মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্রথমতঃ ইহুদীরা, দ্বিতীয়তঃ মুশরিকরা, আর তৃতীয়তঃ হচ্ছে নাছারারা। এক কথায় সকল বিধর্মীরাই ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু। তাই বলা হয়- “সমস্ত কাফিরেরা মিলে এক ধর্ম।” অর্থাৎ কোন কোন বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনে তারা সবাই একজোট। ইহুদী-নাছারা, হিন্দু-বৌদ্ধ, মজুসী-মুশরিক তারা সবাই মিলে সর্বদাই চেষ্টা করে থাকে কি করে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যায় এবং তাদের ঈমান-আমল নষ্ট করে কাফিরে পরিণত করা যায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক সূরা বাক্বারা-এর ১০৯তম আয়াত শরীফে ইরশাদ করেন, “ইহুদী-নাছারা তথা আহলে কিতাবদের মধ্যে অনেকেই প্রতিহিংসাবশত চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফির বানিয়ে দিতে।”
কাজেই বিধর্মীরা যেহেতু ইসলাম ও মুসলমানদের চরম ও পরম শত্রু তাই তারা হিংসার বশবর্তী হয়েই মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করে কাফির বানানোর লক্ষ্যেই ইসলাম ও মুসলমানের নামে বা ছূরতে প্রথমতঃ বাতিল ফিরক্বাগুলো আবিষ্কার করে। যে বাতিল ফিরক্বা সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “অতি শীঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, ১টি দল ব্যতীত ৭২টি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাতপ্রাপ্রাপ্ত, সে দলটি কোন দল? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি ও আমার ছাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনাহুমগণের মত ও পথের উপর যারা কায়িম থাকবে, (তারাই নাযাতপ্রাপ্ত দল)।” ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহা বর্ণনা করেন। আর মুসনাদে আহমদ ও আবূ দাউদের বর্ণনায় “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে, আর ১টি জান্নাতে যাবে। মূলতঃ সে দলটি হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।”
উল্লিখিত হাদীস শরীফ দ্বারা মূলতঃ এটাই বুঝানো হয়েছে যে, “কলেমা গো মুসলমানই” ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। তন্মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামী, গোমরাহ ও বাতিল। আর ১টি মাত্র দল জান্নাতী। সেটা হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। যেহেতু ৭২টি জাহান্নামী, গোমরাহ ও বাতিল দলই ইহুদী-নাছারাদের দ্বারা সৃষ্ট ও অসংখ্য কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আক্বীদায় বিশ্বাসী। অর্থাৎ ৭২টি বাতিল ফিরক্বা সৃষ্টি করে তারা অসংখ্য মুসলমানকে ছহীহ আক্বীদা ও আমল থেকে ফিরায়ে কুফরী আক্বীদা ও শরীয়ত বিরোধী আমলে মশগুল করে জাহান্নামী করে দেয়। (নাঊযুবিল্লাহ)
স্মর্তব্য, ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীদের ষড়যন্ত্র এখানেই থেমে যায়নি। এরপর তারা সৃষ্টি করলো বাহাই ও কাদিয়ানী ফিরক্বা যার মাধ্যম দিয়ে অসংখ্য মুসলমানকে “খতমে নুবুওওয়াত”-এর মত একটি গুরুত্বপূর্ণ আক্বীদা থেকে সরিয়ে কাফির ও চির জাহান্নামী বানিয়ে দিয়েছে। কারণ ইসলামী শরীয়তের ফায়ছালা মুতাবিক যারাই খতমে নুবুওওয়াতকে অস্বীকার করবে তারাই কাফির ও চির জাহান্নামী হবে।
উল্লেখ্য, মুসলমানদের ঈমান-আমল বিনষ্ট করে চির জাহান্নামী করার বিধর্মীয় ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীরা এখন কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ নিয়ে পড়াশুনা করে, ইউরোপ-আমেরিকায় অনেক ইহুদী-নাছারা রয়েছে যারা কুরআনে হাফিয ও হাফিযে হাদীস। প্রশ্ন হচ্ছে তারা ইহুদী-নাছারা হয়ে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ পড়ছে কেন? আর তার উপর গবেষণাই বা করছে কেন? কি তাদের উদ্দেশ্য?
মূলতঃ এর মধ্যেও রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র! তারা কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ গবেষণা করে এমন বিষয়গুলো বের করে যে বিষয়গুলো দিয়ে মুসলমানদের ঈমান-আমল নষ্ট করে কাফির ও জাহান্নামী করা যায়। একটি উহাদরণ দিলেই বিষয়টি সকলের নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠবে। যেমন হাদীস শরীফে রয়েছে, “দাইয়ূছ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (নাসায়ী, মুসনাদে আহমদ)
ইহুদী-নাছারারা উক্ত হাদীস শরীফ গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিল যে, যেকোন মূল্যে মুসলমানদেরকে দাইয়ূছ বানিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ বেপর্দা করে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে তারা কাজ শুরু করেছে এবং অনেকটা সফলও হয়েছে। আজ সারাবিশ্বের অধিকাংশ মহিলারাই চরম বেপর্দা। তারা আজ পুরুষের সাথে একই অফিসে চাকুরী করছে, লেখা-পড়া করছে, সিনেমা করছে, গান গাইছে, রাজনীতি করছে, খেলাধূলা করছে। অর্থাৎ নানানভাবে আজকে মহিলাদেরকে বেপর্দা করা হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে ইহুদী-নাছারারা রয়েছে পরোক্ষভাবে, আর প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইহুদীদের আরেক এজেন্ট ওহাবী সম্প্রদায়। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা ইহুদীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলমানদের ঈমান-আমল ধ্বংস করার লক্ষ্যে হারাম টিভি চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদী ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। যেমন- তারা প্রচার করছে ফরয নামাজের পর মুনাজাত করা বিদ্‌য়াত ও হারাম। নিয়ত করে রওজা শরীফ ও মাযার শরীফ যিয়ারত করা বিদ্‌য়াত, শবে বরাত পালন করা বিদ্‌য়াত, তারাবীহ নামাজ জরুরী কোন নামাজ নয়, ৮রাকায়াত তারাবীহ পড়লেই চলে ইত্যাদি ইত্যাদি। (নাঊযুবিল্লাহ)
অথচ উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ই শরীয়তসম্মত এবং তন্মধ্যে কোনটা সুন্নত আবার কোনটা মুস্তাহাব। পক্ষান্তরে উলামায়ে ‘ছূ’ তথা দুনিয়াদার মাওলানারা টেলিভিশন, সিনেমা, নাটক, নোবেল, বেপর্দা হওয়া, নারী নেতৃত্ব মানা, ভোট দেয়া, রোযা অবস্থায় ইঞ্জেকশন নেয়া, মহিলাদের জামায়াতের জন্যে মসজিদে যাওয়া, মহিলাদের বাইরে যাওয়ার সময় হাত ও মুখ খোলা রাখা, হরতাল করা, লংমার্চ করা, গণতন্ত্র করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, মৌলবাদী দাবী করা, কুশপুত্তলিকা দাহ করা, টিভি চ্যানেলে প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান করা ইত্যাদি নাজায়িয কাজগুলোকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)
অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে সরিয়ে, ইবাদত থেকে সরিয়ে অনৈসলামিক ও হারাম কাজে মশগুল করে দিয়ে বেঈমান করে দেয়া। ঠিক এরূপ আরেকটি সূক্ষ ষড়যন্ত্র হচ্ছে ছবির বিষয়টি। কারণ তারা (বিধর্মীরা) হাদীস শরীফে পেয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি আল্লাহ পাক-এর হাবীব পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ)
“হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ঐ ঘরে রহমতের ফিরিস্তা প্রবেশ করে না, যে ঘরে প্রাণীর ছবি বা কুকুর থাকে।” (বুখারী শরীফ, কিতাবুল লিবাছ, বাবুত তাছবীর, ২য় জিলদ্‌ ৮৮০ পৃষ্ঠা)
অর্থাৎ ছবির আমলটা যদি মুসলমানদের মধ্যে জারী করে দেয়া যায় তবে সহজেই তাদেরকে আল্লাহ পাক-এর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে লা’নতগ্রস্থ করে জাহান্নামী করে দেয়া সম্ভব। তাই তারা আজ মুসলমানদের মাঝে ছবির ব্যাপক প্রচলন করার ও প্রতি ক্ষেত্রে ছবিকে বাধ্যতামূলক করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তাদের দালাল ও গোলাম রাজা-বাদশাহ ও ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘ছূ’দের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে ও ফতওয়া দেয়াচ্ছে যে, “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই এবং পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ)
এই ইহুদী-নাছারাদের নির্দেশেই তাদের গোলাম সৌদী ওহাবী সরকার মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফে হাজার হাজার সি. সি. টিভি স্থাপন করেছে। উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের সম্পদ নষ্ট করা, মুসলমানদেরকে ২৪ঘন্টা হারাম কাজে মশগুল রাখা এবং হজ্জসহ মুসলমানদের যাবতীয় ইবাদতসমূহ নষ্ট করে দেয়া। যেমন-
(১) ইসলামে প্রাণীর ছবি হারাম, কিন্তু তারা এ সি. সি. টিভির মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় হারাম করিয়ে দিচ্ছে। (২) যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে সেখানে রহমতের ফিরিস্তা আসে না, এতে করে মুসলমানরা রহমতী স্থানে অবস্থান করে রহমত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। (৩) নামাযীর আশে-পাশে ছবি থাকলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হয়ে যায়। যা দোহরায়ে পড়া ওয়াজিব হয়। সি. সি. টিভির মাধ্যমে মুসলমানদের পবিত্রস্থানে থাকার পরও নামাযগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। (৪) মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফকে মুসলমানরা আর্দশ্য হিসেবে মনে করে থাকে। এমন স্থানে হারাম কাজ করতে দেখলে সর্বসাধারণ মুসলমান মনে করে পবিত্রস্থানে যখন তা সংঘটিত হচ্ছে, হয়তোবা তা জায়িয আছে। (নাঊযুবিল্লাহ) (৫) হারামের মাধ্যমে পবিত্রস্থানকে অপবিত্র করা হচ্ছে।
অতএব বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এ শক্তিশালী সি. সি. টিভি স্থাপনের পিছনে মূলতঃ মুসলমানদের চির শত্রু ইহুদী-নাছারাদের সূক্ষ ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাই পৃথিবীর ২৬০কোটি মুসলমান নর-নারীর উচিৎ ইহুদী-নাছারাদের উল্লিখিত ষড়যন্ত্রসহ প্রতিটি ষড়যন্ত্র থেকে সাবধান বা সতর্ক থাকা এবং এগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করা। (শেষ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029054 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29029054 2009-10-20 16:15:31
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (৩) সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (২)

কা’বা শরীফ, মক্কা শরীফ-এর হিফাযতকারী আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেইঃ নিরাপত্তা বা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পবিত্র স্থানসমূহে ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি শুধু শরীয়তেই হারাম নয়, মুসলমানদের কাছে তা একটি অবান্তর এবং বিবেক বর্জিত বিষয়। সাধারণভাবে যা ধারণা করা হয় তার চেয়েও অনেক বেশী ক্যামেরার সাহায্যে হাজ়ীদের পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং তাদের ছবি রেকর্ড করা হয়। ২০০৫ সালে মক্কার পবিত্র স্থানসমূহে স্থাপিত ৯০০০ এরও বেশী সি. সি. টিভির মাধ্যমে হজ্জের মৌসুমে হাজীদের নিরাপত্তার নামে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। মসজিদুল হারাম, মিনা, আরাফা এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানগুলোকে সৌদী আরবের সিভিল ডিফেন্স পরিদপ্তর নিরীক্ষণের জন্য সি. সি. টিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। জামারাত ব্রীজের চারদিকে (যে জায়গায় অতীতে অনেকগুলো দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল) প্রায় ১০০০টি সি. সি. টিভি স্থাপিত রয়েছে। জামারাত এবং অন্যান্য জায়গায় গৃহীত সকল ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হল শুধু ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যেন এই সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অপ্রীতিকর ঘটনাকে প্রতিরোধ করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অপরাধ এবং অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সি. সি. টিভি দ্বারা নিরীক্ষণের কার্যকারীতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ এবং বিতর্ক রয়েছে। যা আপনারা ইতিপূর্বের বর্ণনা দ্বারা অবগত হয়েছেন। নিরীক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সি. সি. টিভি ক্যামেরাগুলো যখন চালু থাকে তখন এগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৪০০টি ছবি তুলতে সক্ষম। প্রশ্ন হলো কেন মুসলমানরা নিরাপত্তা বা পর্যবেক্ষণের নামে তাদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় বিষয়ে অন্য কারো অবৈধ হস্তক্ষেপ মেনে নিবে? তাছাড়া পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এর হিফাযতের দায়িত্ব কি কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সি. সি. টিভির উপর ন্যস্ত করা হয়েছে? হয় নাই। বরং পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এর নিরাপত্তা ও হিফাযতের জিম্মাদারী হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক।
যেমন যমীনের বুকে বাইতুল্লাহ বা কা’বা শরীফই হচ্ছে প্রথম ঘর। যা মানবজাতীর ইবাদতের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম ফিরিস্তাদের মাধ্যমে এই সম্মানিত ঘর তৈরী করেন। আর এ ঘরের হিফাযতকারী তিনি নিজেই। হযরত নূহ আলাইহিস্‌ সালাম-এর যামানায় সারা বিশ্বব্যাপী যখন প্লাবন হয়েছিল তখন আল্লাহ পাক এ পবিত্র ঘরকে আসমানে তুলে নিয়ে হিফাযত করেন।
কালামুল্লাহ শরীফ-এর সূরা ফীল-এ আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি কি দেখেননি অর্থাৎ আপনি তো দেখেছেন যে, আপনার রব হস্তিওয়ালাদের সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন এবং তাদের কূটকৌশল কিভাবে ধূলিস্যাত করেছেন, এবং প্রেরণ করেছেন তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, উহারা তাদের উপর কঙ্করময় পাথর নিক্ষেপ করেছে, অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণের ন্যায় করেছেন।”
সূরা ফীল-এর মধ্যে বাইতুল্লাহ বা কা’বা শরীফের হিফাযতকারী যে স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই সে বিষয়টা স্পষ্ট করে দুনিয়াবাসীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সূরা ফীল-এর শানে নূযূল সম্পর্কে তাফসীরে ইবনে জারীর ত্ববারী, কবীর, কুরতুবী, মাদারিক, খাযিন, বাগবী, ইবনে কাছীর, দুররে মানছূর, জালালাইন, মাযহারী, আমীনিয়া, কাশ্‌শাফ ইত্যাদি তাফসীরগ্রন্থে লিখিত আছে, আবিসিনিয়ার রাজার অনুমতিক্রমে তার প্রতিনিধি হিসেবে আব্রাহা নামে এক ব্যক্তি ইয়েমেনের শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়। আব্রাহা লক্ষ্য করলো, হজ্জের সময় লক্ষ লক্ষ লোক প্রচুর মাল-সম্পদ নিয়ে মক্কা শরীফে হজ্জ করতে যায়, তা দেখে সে ঈর্ষান্বিত হয় এবং চিন্তা করে, ইয়েমেনে সানআ’ শহরে একটা সুন্দর গির্জা তৈরী করে মানুষদেরকে হজ্জ করার জন্য আহবান করবে। তার ডাকে লোকজন যদি সাড়া দিয়ে হজ্জ করতে আসে তাহলে সমস্ত পশুপাল ও মাল-সম্পদ দ্বারা সে ফায়দা লাভ করবে। এ খেয়ালে সে ইয়েমেনের সানআ’ শহরে মূল্যবান পাথর দিয়ে একটা গির্জা তৈরী করে। সে গির্জাকে ‘খলীছ’ নামে নামকরণ করে। গির্জার দেয়ালগুলো স্বর্ণ, মণি-মুক্তা, হীরা-জহরত দিয়ে প্রলেপ দেয় এবং নানা রকম মূর্তি,প্রতিমা স্থাপন করে। অতঃপর সে তার দেশ ও আশেপাশের এলাকায় ঘোষণা করে দেয়, যাতে সকলে মক্কা শরীফ না গিয়ে তার এ ‘খলীছ’ গির্জায় হজ্জ করতে আসে। এতে আরববাসী বিশেষ করে মক্কাবাসী ও তার অধিবাসী কুরাইশগণ অসন্তুষ্ট হন।
ঘটনা প্রবাহে কেনানা গোত্রের এক ব্যক্তি পূর্বোক্ত গির্জায় চাকুরী নেয়। অতঃপর সে সুযোগ বুঝে এক রাত্রিতে সে গির্জায় প্রবেশ করে সেখানে ইস্তিঞ্জা করে অপবিত্র করে সেখান থেকে চলে যায়।
অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, এক ব্যবসায়ী কাফেলা সেখানে রাত্রি যাপন করে। তারা আলো এবং খাবার পাক করার জন্য আগুন জ্বালায় সে আগুন হঠাৎ গির্জার একটা অংশ পুড়ে যায়। আব্রাহার কিছু লোক যারা সেখানে পূজা করতো তারা সে স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। এটা শুনে আব্রাহা অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয় এবং শপথ করে, কা’বা শরীফ সে ধ্বংস করে দিবে। (নাঊযুবিল্লাহ) কারণস্বরূপ সে বলে, মক্কা শরীফের অধিবাসীরাই তার গির্জা অপবিত্র করেছে এবং পুড়িয়ে দিয়েছে। তখন সে আবিসিনিয়ার রাজাকে ব্যাপারটা জানিয়ে মক্কা শরীফের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অনেক সৈন্য-সামন্ত ও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হস্তি মাহমুদসহ ১৩টি হস্তি নিয়ে মক্কা শরীফের দিকে রওয়ানা হয়। আব্রাহা চেয়েছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ৮টা হস্তি দিয়ে কা’বা শরীফের ৪টা ভিতের সাথে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে সজোরে টান দিয়ে কা’বা শরীফকে সহজেই ভূপাতিত করবে। রাস্তায় অনেক বাধা দেয়া সত্ত্বেও সে বাধা উপেক্ষা করে মক্কা শরীফে পৌঁছে। সেখানে মক্কাবাসীদের উটসহ অনেক চতুষ্পদ জন্তু লুটপাট করে নেয়। তারমধ্যে হযরত আব্দুল মুতালিব আলাইহিস্‌ সালাম-এর ২০০ উটও ছিল। এ সংবাদ শুনে হযরত আব্দুল মুতালিব আলাইহিস্‌ সালাম আব্রাহার সাথে দেখা করেন এবং উনার ২০০ উট ফেরত চান। আব্রাহা উনাকে দেখে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম করে এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, আপনি কা’বা শরীফ হিফাযতের কথা না বলে শুধু আপনার উট চাইলেন, এর কি কারণ?
জবাবে হযরত আব্দুল মুতালিব আলাইহিস্‌ সালাম বলেন, উটের মালিক আমি সেজন্য উটগুলি হিফাযত করা আমার দায়িত্ব। আর কা’বা শরীফের মালিক আমি নত। কা’বা শরীফের মালিক হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক। আর আমি হচ্ছি কা’বা শরীফের খাদিম। কাজেই আল্লাহ পাক-এর ঘর কা’বা শরীফ আল্লাহ পাক নিজেই হিফাযত করবেন; তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। আর তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার আদৌ কোন ইচ্ছা আমাদের নেই। এখন তোমার যা ইচ্ছা তুমি তা-ই করতে পার। আমরা অতিসত্ত্বর স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ দূরত্বে আশ্রয় নিব।
অতঃপর আব্রাহা হযরত আব্দুল মুতালিব আলাইহিস্‌ সালাম-এর উট ফিরত দিল। হযরত আব্দুল মুতালিব আলাইহিস্‌ সালাম কিছু লোকজনসহ কা’বা শরীফে গিয়ে গিলাফ ধরে আল্লাহ পাক-এর নিকট রোনাজারি করে দু’য়া করলেন এবং বললেন, আয় আল্লাহ পাক! আপনি ঘরের মালিক ও হিফাযতকারী। আমি এ ঘরের দেখাশুনার দায়িত্বে ছিলাম তা যথাযথ পালন করার চেষ্টা করেছি। এখন আব্রাহা এসেছে কা’বা শরীফের ক্ষতি করার জন্য। সে যে পরিমাণ সৈন্য-সামন্ত ও অস্ত্রপাতি নিয়ে এসেছে তাকে বাধা দেয়ার মত আমাদের ক্ষমতা নেই। কাজেই আপনার ঘর আপনার হিফাযতে দিয়ে আমরা নিরাপদ দূরত্বে আশ্রয়ে চলে যাচ্ছি।
পরের দিন আব্রাহা তার সমস্ত বাহিনী নিয়ে কা’বা শরীফের ক্ষতি করার জন্য অগ্রসর হল। কিন্তু হস্তিগুলো একটাও সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা গেল, কিছু ক্ষুদ্র আকৃতির পাখি যা আকারে কবুতরের চেয়ে ছোট, কতগুলি সাদা বর্ণের, কতগুলি কালো বর্ণের, কতগুলি নীল বর্ণের। সমুদ্রের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আস্তে লাগল। উহাদের মাথা ছিল হিংস্র জন্তুর মত, ঠোট ছিল হস্তির শুঁড়ের মত আর নখগুলি ছিল কুকুরের মত। প্রত্যেকটি পাখি ৩টি কঙ্করময় প্রস্তুর বহন করে এনেছিল। ১টি ঠোটে, ২টি পায়ে। আব্রাহা ও তার বাহিনীর উপরে এসে সে কঙ্করগুলি নিক্ষেপ করতে লাগল। এর ফলে তৎক্ষনাৎ কিছু ধ্বংস হয়ে গেল। কিছু আহত অবস্থায় পালায়ন করার পথে ধ্বংস হল। কঙ্করগুলি উপর দিক থেকে পড়ে নিচ দিয়ে বের হয়ে মাটিতে অদৃশ্য হয়ে যেত। আর কারণে আব্রাহার সৈন্য বাহিনী, হস্তিবাহিনী ভক্ষিত তৃণের ন্যায় দলিত-মথিত হয়ে গেল। কুরাইশগণ দূর থেকে এ ঘটনা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করলেন। আর কঙ্করগুলি ছিল ডাল অপেক্ষা বড় ও ছোলা বুট থেকে ছোট। আব্রাহা ইয়েমেন পর্যন্ত পৌঁছলো। এবং তার উপর দিয়ে পাখিগুলি উড়তে থাকল। সেখানে পৌঁছার পরে পাখির কঙ্কর নিক্ষেপের কারণে সেও ভক্ষিত তৃণের ন্যায় দলিত-মথিত হয়ে গেল। আর তার মন্ত্রী ইয়াকছুম পালিয়ে আবিসিনিয়ায় রাজার কাছে এ সংবাদ পৌঁছায়। তার উপর দিয়েও একটি পাখি উড়ছিল। সে সংবাদ পৌঁছানোর পর পাখিটি কঙ্কর নিক্ষেপ করায় সেও ভক্ষিত তৃণের ন্যায় দলিত-মথিত হয়ে যায়।
এ সূরায় বর্ণিত ঘটনা থেকে বান্দা ও ঊম্মতকে এ নছীহত গ্রহণ করতে হবে যে, আল্লাহ পাক তাঁর ঘর কা’বা শরীফকে সবসময়ই কুদরতীভাবে হিফাযত করেছেন, করেন এবং করবেন। কাজেই এই ঘর হিফাযত করার জন্য বান্দাদের কখনও চিন্তিত ও পেরেশান হওয়ার প্রয়োজন নেই। কা’বা শরীফ, মক্কা শরীফ-এর হিফাযতকারী আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই। সি. সি. টিভি বা কোন ব্যক্তি বা কোন গোষ্ঠী এর হিফাযতকারী নয়।
অথচ দেখা যাচ্ছে, সৌদী ওহাবী সরকার ও উলামায়ে ‘ছূ’, যারা ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিক এক কথায় বেদ্বীনের গোলাম তারা একত্রিত হয়ে কা’বা শরীফ হিফাযতের নাম দিয়ে মক্কা শরীফ-এর হেরেম শরীফ-এর ভিতরে অর্থাৎ কা’বা শরীফ, ছাফা-মারওয়া, মিনা, মুজদালিফা, আরাফা ইত্যাদি স্থানে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশী সি. সি. টিভি স্থাপন করেছে। অনুরূপ মদীনা শরীফেও করেছে। অথচ অসংখ্য হাদীস শরীফে রয়েছে, “ছবি তোলা, আঁকা হারাম।” অর্থাৎ সৌদী ওহাবী সরকার ইহুদী-নাছারাদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে হজ্জের সময় মুসলমানদের দ্বারা হারাম কাজ করিয়ে মুসলমানদের পবিত্র হজ্জ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাই সৌদী ওহাবী সরকারের জন্য ফরয হলো, এই সমস্ত সি. সি. টিভিগুলো খুলে ফেলা। আর যদি না খুলে তাহলে দুনিয়ার সমস্ত মুসলমানদের জন্য ফরয হলো এর শক্ত প্রতিবাদ করা। (চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29028770 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29028770 2009-10-20 00:26:45
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (২) সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (১)

নিরাপত্তার অজুহাতে সি.সি.টিভি লাগানো শরীয়তে নাজায়িযঃ কেউ কেউ সি. সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভিকে জায়িয করতে গিয়ে বলে থাকে যে সি. সি. টিভিতে ফায়দা রয়েছে। কারণ সি. সি. টিভি মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে। (নাঊযুবিল্লাহ)
তাদের উক্ত বক্তব্যের জবাবে প্রথমত বলতে হয় যে, কোন কিছুর মধ্যে ফায়দা থাকলেই যে তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য ও বৈধ হবে তা নয়। বরং শরীয়তের ফায়ছালা হলো যা হারাম তার মধ্যে বাহ্যিক দৃষ্টিতে যতই ফায়দা থাকুক না কেন তা সুস্পষ্ট হারাম। মহান আল্লাহ পাক নিজেই কালামুল্লাহ শরীফ-এ এর ফায়ছালা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “(হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, মদ ও জুয়া সম্পর্কে। আপনি বলে দিন, এ দু’টির মধ্যে রয়েছে কবীরা গুনাহ। এবং মানুষের জন্য ফায়দাও রয়েছে। তবে ফায়দার চেয়ে গুনাহই বড়।” (সূরা বাক্বারা ২১৯)
এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আল্লাহ পাক নিজেই স্বীকার করেছেন যে, মদ ও জুয়ার মধ্যে দুনিয়াবী ফায়দা রয়েছে। মদ পান করলে স্বাস্থ্য ভাল হয়, জুয়া খেললে রাতারাতি অনেক টাকা পাওয়া যায়। তথাপি এগুলোর মধ্যে ফায়দার চেয়ে গুনাহ বেশী বলে এগুলোকে হারাম করা হয়েছে। সুতরাং মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারীতা থাকা সত্ত্বেও এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়, এগুলো হারাম। মদ ও জুয়ার মধ্যে উপকারীতার জন্য কেউ যদি এটাকে জায়িয মনে করে, তবে সে কুফরী করলো। তদ্রুপ ছবির মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয়কে কেউ যদি জায়িয মনে করে তবে সেও কুফরী করলো।
সুতরাং ক্লোজ সার্কিট টিভির মধ্যে যতই ফায়দা থাকুক না কেন, যেহেতু তার মূলই হলো ছবি যা স্পষ্টতই হারাম ও নাজায়িয। তাই সমস্ত মুসলমানদের জন্য ক্লোজ সার্কিট টিভিও সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়িয।
দ্বিতীয়ত বলতে হয় যে, সি. সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভি নিরাপত্তা দান করে একথা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। কারণ কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠি বা বস্তু কাউকে নিরাপত্তা দিতে পারে না বা হিফাযতও করতে পারে না। বরং নিরাপত্তা দেয়ার ও হিফাযত করার মালিক হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “মহান আল্লাহ পাক হচ্ছেন উত্তম হিফাযতকারী। নিরাপত্তাদানকারী এবং দয়ালু ও করুণাময়।”
যেমন মহান আল্লাহ পাক মক্কা শরীফকে ধ্বংস করতে আসা হস্তিবাহিনীকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়ে নিজেই নিজের কা’বা শরীফকে হিফাযত করেছেন। অনুরূপভাবে বাদশা নূরুদ্দীনের সময় শিয়ারা যখন নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জিস্‌ম মুবারক চুরি করতে আসে, তখন আল্লাহ পাকই তাদেরকে কুদরতীভাবে ধরিয়ে জিস্‌ম মুবারক হিফাযত করেন।
পক্ষান্তরে সি. সি. টিভির নিরাপত্তা দান করার বা হিফাযত করার কোন ক্ষমতাই নেই। কারণ একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরিত হলে এরূপ হাজার হাজার সি. সি. টিভি নিমিষেই উড়ে যাবে। এমনটি নয় যে, সি. সি. টিভি বোমা বিস্ফোরণ ঠেকাতে পারবে। তাহলে সি. সি. টিভি যে নিজেই নিজের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে অন্যের নিরাপত্তা দিবে কিভাবে?
কাজেই সি. সি. টিভি হিফাযত করে বা নিরাপত্তা প্রদান করে একথা বলে তারা সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদাকে বিনষ্ট করছে। অর্থাৎ আল্লাহ পাকই যে প্রকৃত হিফাযতকারী বা নিরাপত্তা প্রদানকারী এ আক্বীদা-বিশ্বাস থেকে মানুষকে সুকৌশলে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
তৃতীয়ত বলতে হয় যে, হাক্বীক্বতেও সি. সি. টিভি কোন প্রকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং কোন প্রকার নিরাপত্তা দিতে পারে না। নিম্নোক্ত তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা থেকে তা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়।
বর্তমানে অনেক মানুষ মনে করে সি. সি. টিভি একটি শক্তিশালী অপরাধ নিয়ন্ত্রক। কিন্তু সি. সি. টিভির উপর অনেক গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে, অপরাধের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রে এর কোন প্রভাব নেই। উদাহরণতঃ ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার অপরাধ দমন বিভাগের এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, অপরাধ দমনের অস্ত্র হিসেবে সি. সি. টিভি কোন গুরুত্ব বহন করে না। আরো দেখা গেছে যে, যেখানে সি. সি. টিভি রয়েছে সে জায়গা থেকে যেখানে সি. সি. টিভি নেই সেখানে অপরাধের মাত্রা কম। আবার যেখানে সি. সি. টিভি নেই সেখানে সি. সি. টিভি স্থাপন করার পর অপরাধের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এটা সুস্পষ্ট যে, সি. সি. টিভি ক্যামেরা কখনই অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারে না। শুধু তাই নয়, সি. সি. টিভি ক্যামেরা বোমার বিস্ফোরণ প্রতিরোধেও সক্ষম নয়। বরং সমস্ত ক্যামেরাগুলোই বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়। সি. সি. টিভিগুলোর নিজের যেখানে কোন নিরাপত্তা নেই সেখানে কি করে মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে?
পৃথিবীর মোট সি.সি.টিভির ২০% ব্যবহৃত হয় বৃটেনে। এর পিছনে বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হচ্ছে বলে সেদেশে এ নিয়ে আলোচনা ও গবেষণাও হয়েছে অনেক। কিন্তু কোন গবেষণাতেই এর ব্যবহারে কোন উপকারীতা দেখা যায়নি। এ গবেষণা হয়েছে সরকারী এবং বেসরকারী উভয় পর্যায়ে। বৃটেনের পুলিশ বিভাগের গবেষণাতেও ধরা পড়েছে সি.সি.টিভি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোন উপকার নেই।
বিভিন্ন পত্রিকা বা সংস্থাতেও বিভিন্ন শিরোনামে সি.সি.টিভি’র উপর গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। যেমন-

উপরে উল্লেখিত প্রতিটি শিরোনাম থেকেই বোঝা যায় সি.সি.টিভি ব্যবহারে আদৌ কোন উপকার নেই। প্রাইভেসী ইন্টারন্যাশনাল ওয়েব সাইট (http://www.privacyinternational.org) এর মাধ্যমে পাওয়া ৩টি সন্ত্রাস সম্পর্কিত প্রতিবেদনে সি. সি. টিভির কার্যকারীতা নিয়ে প্রচলিত চিন্তাধারার সমালোচনা করা হয়েছে। ‘দ্য স্কটিশ সেন্টার ফর ক্রিমিনোলজী’-র পরিচালক যুক্তি দিয়ে বলে যে, সি. সি. টিভির মাধ্যমে অপরাধ দমনের দাবী ফ্যান্টাসী ছাড়া আর কিছুই নয়। অদক্ষ এবং স্বপ্রণোদিত আইনজীবী দ্বারা স্ট্রেথক্লাইড ইউনিভার্সিটি ‘দ্য ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্রিমিনোলজী’ শিরোনামে এক পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে। যাতে বলা হয়েছে, সি. সি. টিভি খুব সামান্যই অপরাধকে দমন করতে পারে। এখানে প্রমাণ করা হয়েছে যে, রাস্তার বাতির আলো সি. সি. টিভি থেকেও অনেক বেশী অপরাধের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
২০০৫ সালের জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জন স্টেনহোপ বলেছিলেন, “শহরে আরো সি. সি. টিভি ক্যামেরা স্থাপনের চেয়ে আরো পুলিশ নিয়োগ দেয়া আমি বেশী পছন্দ করি।”
২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব ক্রিমিনোলজীর প্রতিবেদনে বলা হয়, সি. সি. টিভি পদ্ধতি স্থাপন করা, নিয়ন্ত্রণ করা ও তা পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
সি. সি. টিভি স্থাপনের খরচ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে কিন্তু পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা আরো বেশী ব্যয়বহুল। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ক্যামেরা স্থাপনের সার্বিক খরচের শতকরা ৭০ ভাগ খরচ হয় পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তিদের জন্য। ২০০৪ সালে হজ্জের সময় হজ্জের প্রশাসনিক সুবিধাদি বৃদ্ধি করতে গিয়ে মোট খরচ হয়েছিলো ১৪০কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অনেক অর্থই খরচ হয়েছে হজ্জের সময় সি. সি. টিভি স্থাপন এবং তা পরিচালনা করতে। এছাড়া সি. সি. টিভির ফুটেজে অনুমতিহীনভাবে যা সংরক্ষণ করা হয় তার জন্য খুব কমই আইন রয়েছে। একটি জরীপে দেখা গেছে, শতকরা ৯০ভাগ সি. সি. টিভি তথ্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবহৃত হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি স্থাপনের ফলে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা কমে যাচ্ছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডের হিথ্রু বিমানবন্দরের ৪র্থ টার্মিনালে এমন একটি স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে বিমান যাত্রীদের পরীক্ষা করা হয় যা দ্বারা একজন মানুষের পরিহিত কাপড়ের ভিতরের শরীরকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। (নাঊযুবিল্লাহ) এই ধরণের পরীক্ষা কি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে তাদের অবাঞ্চিত প্রবেশ নয়? বর্তমানে সৌদী ওহাবী সরকারও সীমালংঘন করে মুসলমানদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছে। এটা সুস্পষ্টভাবে অন্যায় চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে, প্রকৃত উদ্দেশ্যকে গোপন করে ছবি তোলার বিষয়টি এমনই হয়ে গেছে যে সৌদী ওহাবী সরকার যখন যা চায় তাই করে যাচ্ছে। আজকে অনেক মুসলমান তাদের সাজানো এই প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে তাদের কার্যক্রমকে মেনে নিচ্ছে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, যারা দাবী করে থাকে যে, সি. সি. টিভি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে বা নিরাপত্তা প্রদান করে তাদের এ দাবী সম্পূর্ণই মিথ্যা ও অবান্তর। কাজেই, নিরাপত্তার ফায়দার অজুহাতে সি. সি. টিভি ব্যবহার অর্থের অপচয়, অপরের ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর অবৈধ হস্তক্ষেপ ও পাপ বা হারাম কাজের বিস্তার বৈ কিছুই নয়। তাছাড়া যেখানে নিরাপত্তার বৈধ ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে হারাম পদ্ধতিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা কি করে শরীয়তসম্মত হতে পারে? মূলকথা হলো নিরাপত্তার অজুহাতে হোক আর সাধারণভাবেই হোক সর্বাবস্থায় মুসলমানদের জন্য সি. সি. টিভি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয। (চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29028491 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29028491 2009-10-19 15:51:53
সি. সি. টিভি স্হাপন এবং হজ্জ নষ্টের সূক্ষ ষড়যন্ত্র (১) সি. সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভির শরয়ী ফায়ছালাঃ শরীয়তের দৃষ্টিতে সি. সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভিতে প্রদর্শিত দৃশ্যাবলী যেহেতু ছবি তাই এর ব্যবহার সুস্পষ্টভাবে হারাম। সি. সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভির মাধ্যমে ধারণকৃত বা প্রদর্শিত দৃশ্যাবলী যে ছবি তা নিম্নোক্ত বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
T.V/Closed Circuit T.V/Video Cassette Recorder/Video Cassette Player ইত্যদির কার্যাবলী ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ (১) Transmission বা প্রেরণ, (২) Medium বা মাধ্যম এবং (৩) Reception বা গ্রহণ। T.V এবং V.C.R বা V.C.P-এর ক্ষেত্রে প্রথমে কোন বস্তুর ছবি তুলে সেই ছবির বিভিন্ন অংশের, আর Closed Circuit T.V-র ক্ষেত্রে কোন বস্তুর সরাসরি বিভিন্ন অংশের প্রতিফলিত ফোটনের Frequency অনুযায়ী এক ধরনের Electrical Signal তৈরী করা হয়। সেই Signalকে আরো Processing-এরপর Transmit করা হয়। T.V-র ক্ষেত্রে Transmit করা হয় বাতাসে। আর V.C.R এবং Closed Circuit T.V-র ক্ষেত্রে তারের মাধ্যমে। মাধ্যম বাতাসই হোক আর তারই হোক সেটা Receiver (অর্থাৎ T.V) এ যখন আসে তখন সেটা Receive করার পর কিছু Processing করা হয়, এই Signalগুলো T.Vতে অবস্থিত একটি Electronic Gunকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই Gunটি T.V-র পর্দায় যে অংশে যতটুকু Electron ছাড়লে হুবহু Transmit করা ছবির মত হবে সে অংশে ততটুকু Electron ছাড়ে। এই Electronগুলো রাসায়নিক প্রলেপ পতিত হয়ে উজ্জ্বল ও অনুজ্জ্বল বিন্দুর সমন্বয়ে ছবি তৈরী করে। এই ছবি T.V-র পর্দায় দেখা যায়। অর্থাৎ T.V/V.C.R/V.C.P/Closed Circuit T.V সবক্ষেত্রেই পর্দায় যা আসছে সেটা সুস্পষ্ট এবং বিশেষভাবে অঙ্কিত ছবি।
উপরোক্ত বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো যে, সি. সি. টিভি বা ক্লোজ সার্কিট টিভির মাধ্যমে ধারণকৃত বা প্রদর্শিত দৃশ্যাবলী অবশ্যই ছবির অন্তর্ভূক্ত। আর শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা, রাখা ইত্যাদি সবই হারাম ও নাজায়িয। এ সম্পর্কে মুসলিম শরীফ-এর ২য় জিলদ্‌ ২০১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে।”
মিশকাত শরীফ-এর ৩৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি আল্লাহ পাক-এর হাবীব পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।”
উমাদুল ক্বারী, ফওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়া ৩৭৮ পৃষ্ঠা ও আয্‌ জাওয়াযির ২য় জিলদ্‌ ৩৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, তাওদ্বীহ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, জীব-জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম, বরং শক্ত হারাম। এটা কবীরা গুনাহ। চাই ওটাকে যত্ন বা সম্মান প্রদর্শন করুক বা না করুক কিংবা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যেই বানিয়ে থাকুক। কেননা এরূপ কাজে আল্লাহ পাক-এর সৃষ্টির অনুকরণ করা হয়। ওটা বস্ত্রে, বিছানায়, মোহরে, মুদ্রায়, পয়সায়, পাত্রে কিংবা প্রাচীর গাত্রে যে কোন স্থানে আঁকা বা নির্মাণ করা হারাম।
শরহে মুসলিম ও ফওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়া কিতাবের ৩৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, উক্ত হাদীস শরীফসমূহে প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা মূর্তি নির্মাণ করা হারাম হওয়া সম্মন্ধে প্রকাশ্যেই বলা হয়েছে। এটা তৈরী বা নির্মাণ করা জঘন্যতম পাপের কাজ ও হারামও বটে। উক্ত কিতাবে আরো আছে, যদি কেউ মূর্তি বা প্রাণীর ছবি পূজা বা সৃষ্টির অনুকরণের জন্য নাও বানিয়ে থাকে তবুও সে ফাসিক হবে এবং কবীরা গুনাহে গুনাগার হবে
ফখরুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ বুখারী শরীফের শরাহ উমাদুল ক্বারী-এর ২২ খন্ড ৭০ পৃষ্ঠায় লিখেন, “প্রাণীর ছবি তৈরী শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ। সম্মানের জন্য তৈরী করুক অথবা অন্য কারণে, সবটার একই হুকুম। অর্থাৎ প্রত্যেক অবস্থাতেই তা হারাম। কেননা ছবি ও মূর্তি তৈরীর মধ্যে স্রষ্টার সাদৃশ্যতা রয়েছে।”
রঈছুল মুহাদ্দিছীন, আল্লামা ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ শরহে নববী ৭ম জিলদ্‌ ৮১ পৃষ্ঠায় লিখেন, “প্রাণীর ছবি তৈরী শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত। কেননা হাদীস শরীফসমূহে এ ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাণীর ছবি সম্মানের জন্য তৈরী করুক অথবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে তার একই হুকুম। অর্থাৎ সর্বাবস্থায় প্রাণীর ছবি উঠানো হারাম। কেননা এতে স্রষ্টার সাদৃশ্যতা প্রকাশ পায়।”

১৯৭১ সালের ২৯শে আগস্ট (১৩৯১ হিজরী) সৌদী ওহাবী সরকারের ১৩৭/১ নম্বর রয়াল ডিক্রি অনুযায়ী সৌদী আরবে একটি কাউন্সিল গঠিত হয় তাদের উচ্চ পর্যায়ের মাওলানাদের নিয়ে। ডিক্রির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, ‘একটি চিরস্থায়ী কমিটি রাখা হলো, যে কমিটি মাওলানাদের এই কাউন্সিল থেকে সদস্য নির্বাচন করবে রয়াল ডিক্রির সাথে সামঞ্জস্য রেখে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, কাউন্সিলে আলোচনা করার জন্য গবেষণাপত্র তৈরী করা এবং প্রতিটি আলাদা আলাদা বিষয়ে ফতওয়া প্রদান করা।’ এই কমিটির নামকরণ করা হয় ‘আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ লিল-বুহুছ আল ইলমিয়া ওয়াল ইফতা’ ইংরেজীতে ‘The Permanent Commette for Islamic Research and Fataawaa’ এবং বাংলায় ‘ইসলামী গবেষণা এবং ফতওয়ার চিরস্থায়ী কমিটি’।
এই রয়াল ডিক্রির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে পুনরায় বলা হয়, চিরস্থায়ী কমিটির বেশীরভাগ সদস্য কোন বিষয়ে চূড়ান্ত ঐক্যমত্যে না পৌঁছা পর্যন্ত কোন ফতওয়া প্রদান করা হবে না। এরূপভাবে ৩জন সদস্যের কমে কোন ফতওয়ায় সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না। আর কোন মতের পক্ষে এবং বিপক্ষে সমান সংখ্যক রায় পাওয়া গেলে কমিটির প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
সৌদী আরবের এই ফতওয়া কমিটিকে “ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা কি হারাম অথবা না?” সে প্রশ্ন করলে তারা উত্তর দেয়, “সকল মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী যাদের জীবন আছে তাদের ক্যামেরা বা অন্য কিছু দিয়ে ছবি তোলা হারাম। এবং যারা এরকম ছবি তুলে তাদের অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ আপাক-এর কাছে তওবা করা উচিৎ। তার দ্বারা যা হয়ে গেছে তাতে যেন সে আর ফিরে না যায়।”
ডিক্রির ধারা অনুযায়ী এই ফতওয়ায় স্বাক্ষর করে কমিটির প্রধান- শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ বিন বা’য। উপপ্রধান- শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফিফি। সদস্য- শায়খ আব্দুল্লাহ বিন জুদাইয়ান। সদস্য- শায়খ আব্দুল্লাহ বিন কুউদ।
এই ফতওয়ার নম্বর হচ্ছে ৩৫৯২ যা ফতওয়া কমিটির ভলিউম-১ এর ৬৭০পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। এই ফতওয়া থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হলো তা হচ্ছে, সৌদী ওহাবী সরকার কর্তৃক ওহাবী মাওলানাদের নিয়ে গঠিত সর্বোচ্চ ফতওয়া কমিটির ফতওয়া অনুযায়ী ক্যামেরার সাহায্যে যে কোন প্রাণীর ছবি তোলা হারাম। কিন্তু বাস্তবে আমরা তার বিপরীত অবস্থা দেখতে পাচ্ছি। ফলশ্রুতিতে প্রতি বছর মুসলমানদের হজ্জ নষ্ট হচ্ছে। কেননা আল্লাহ পাক আরো বলেন, “যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরজ সে যেন হজ্জ পালন করতে গিয়ে নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ না করা এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে।” (সূরা বাক্বারা ১৯৭)
আয়াত শরীফে স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে যে, হজ্জ করতে গিয়ে কেউ যেন ফাসিকী ও নাফরমানীমূলক কাজ়ে জড়িত না হয়, কিন্তু সৌদী ওহাবী সরকারের কারণে হাজীরা ছবি তোলে, পর্দা লঙ্ঘন করে শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ এবং চরম ফাসিকী ও নাফরমানীমূলক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। সুতরাং হজ্জের অজুহাতের এই হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ করা কখনই শরীয়ত সিদ্ধ নয়। (চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29028179 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29028179 2009-10-19 00:50:51
প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৬) প্রচলিত ৬ উছূলভিত্তিক তাবলীগ জামায়াতের লোকদের লিখিত কিতাবে এ কথা উল্লেখ আছে যে, “তাবলীগ তথা দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার কারণেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, অন্য কোন কারণে নয়।” দলীল স্বরূও তারা সূরা আল ইমরান-এর ১১০তম আয়াত শরীফ পেশ করে থাকে। (দাওয়াতে তাবলীগ কি ও কেন?, লেখক- মুহম্মদ ওবায়দুল হক, পৃষ্ঠা-১১৬; পস্তী কা ওয়াহেদ এলাজ, পৃষ্ঠা-৯, লেখক- মাওঃ এহ্‌তেশামুল হাসান কান্দলভী, অনুবাদক- ছাখাওয়াত উল্লাহ, পৃষ্ঠা-৯; তাবলীগী নেছাব, পৃষ্ঠা-১১; ফাজায়েলে তাবলীগ, লেখক- হযরত মাওলানা জাকারিয়া, অনুবাদক- আম্বর আলী, পৃষ্ঠা-৯; তাবলীগে ইসলাম, পৃষ্ঠা-৯, আব্দুস সাত্তার ত্রিশালী; আমি কেন তাবলীগ করি, পৃষ্ঠা-১৫, লেখক- মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান)
------------------------------------------------------------------------------------
সূরা আল ইমরান-এর ১১০তম আয়াত শরীফ প্রসঙ্গে প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকদের এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মনগড়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর এবং কুরআন শরীফের আয়াত শরীফের ভূল ও মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যার শমিল, যাকে “তাফসীর বিররায়” বলে। শরীয়তের দৃষ্টিতে “তাফসীর বিররায়” বা মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যা করা স্পষ্ট কুফরী। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের মনগড়া তাফসীর করলো, সে কুফরী করলো।”
হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের মনগড়া তাফসীর করে, সে যেন তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।”
অন্য রেওয়াতে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি বিনা ইল্‌মে বা না জেনে কুরআন শরীফের ব্যাখ্যা করে, সেও যেন তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” (তিরমিযী, মিশকাত, মিরকাত, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, শরহুত্‌ ত্বীবী, উরফুশ্‌শজী, তালীক)
মূলতঃ সূরা আল ইমরান-এর ১১০তম আয়াত শরীফ- “তোমরা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে এবং আল্লাহ পাকের প্রতি ঈমান আনবে।” দ্বারা কখনোই প্রমাণিত হয়না যে, তাবলীগ তথা দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার কারণে উম্মতে মুহম্মদী শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। বস্তুত উক্ত আয়াত শরীফের সঠিক তাফসীর বা ব্যাখ্যা না জানার কারণেই এরূপ বিভ্রান্তিমূলক কথা বলা হয়েছে।
উপরোক্ত আয়াত শরীফের সঠিক তাফসীর নিম্নে বর্ণিত হলো-
এ আয়াত শরীফের সঠিক তাফসীরে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, “আল্লাহ তায়ালা যদি انتم (জমির বা সর্বনাম) বলতেন, তাহলে সমস্ত উম্মতকে বুঝানো হতো। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা كنتم (ফে’ল) ব্যবহার করেছেন, সেহেতু খাছ করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে বুঝানো হয়েছে।” (হায়াতুস সাহাবা)
অর্থাৎ যদিও এ আয়াত শরীফখানা হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের শানে নাযিল হয়েছে, তথাপিও যাঁরা তাঁদের ওয়ারিছ বা নায়েব হবেন, তাঁদের উপরও এ আয়াত শরীফের হুকুম বর্তাবে। যেমন আল্লাহ পাক বলেন, “(ঈমান ও আমলে) সর্বপ্রথম প্রথম স্থান অধিকারী আনছার ও মুহাজির অর্থাৎ হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ এবং ইখলাছের সাথে উক্ত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণকারী সকলের প্রতিই আল্লাহ পাক সন্তুষ্ট, তাঁরাও আল্লাহ পাকের প্রতি সন্তুষ্ট। হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ও তাঁদের অনুসারীদের জন্য এরূপ বেহেশত নির্ধারিত করে রেখেছেন, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণা প্রবাহিত হতে থাকবে, তাঁরা চিরদিন সে বেহেশতে অবস্থান করবেন, যা তাঁদের বিরাট সফলতা।” (সূরা তওবা ১০০)
এ আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, যাঁরা হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের অনুসরণ করবে, তাঁরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে পরিগণিত হবে এবং আল্লাহ পাক-এর সন্তুষ্টি হাছিল করবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের লোকদের ন্যায় আরো অনেকেই সূরা আল ইমরান-এর এই আয়াত শরীফ উল্লেখ করে বলে থাকে যে, আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে, কারণ সৎ কাজের আদেশ করি ও অসৎ কাজের নিষেধ করি। মূলতঃ তাদের কৃত এ অর্থ ও ব্যাখ্যা কোনটাই সঠিক নয়। কেননা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়াটাই হলো আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠত্ব। আর এছাড়া আমাদের যতগুলো গুণ দেয়া হয়েছে, তাও একমাত্র হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কারণেই। তাবলীগ তথা দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার কারণেই শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়নি। শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, একমাত্র সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার কারণেই।
হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে যে, “সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার জন্য আল্লাহ পাক-এর নিকট আরজু করেছেন।” (তাফসীর সমূহ)
সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের দু’য়াই আল্লাহ পাক কবুল করেছেন, তবে সরাসরি কবুল করেছেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-এর দু’য়া। অনেকে মনে করে থাকে, একমাত্র ঈসা আলাইহিস সালাম ব্যতীত আর কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের দু’য়াই আল্লাহ পাক কবুল করেননি, এই কথা সঠিক নয়। কেননা হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে, দু’য়া কবুল হয় ৩ প্রকারে- (১) বান্দা যা চায়, আল্লাহ পাক তা সরাসরি দিয়ে দেন। (২) বান্দা যা চায়, তার চেয়ে যা বেশী জরুরী, তাই আল্লাহ পাক দিয়ে থাকেন, যে জরুরত সম্বন্ধে বান্দা নিজেই জানে না। (৩) বান্দা যা চায়, আল্লাহ পাক তাকে তা দিয়ে তার দু’য়া কবুল করে তার সাওয়াবটুকু পরকালের জন্য জমা করে রাখেন। কিছু বান্দারা যখন হাশরের ময়দানে উপস্থিত হয়ে তাদের নেকী কম দেখবে, তখন তারা অস্থির হয়ে যাবে এই জন্য যে, তাদের জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে যায় কিনা। তখন আল্লাহ পাক বান্দাদেরকে ডেকে বলবেন, “হে বান্দারা! তোমরা অস্থির হয়োনা, তোমাদের জন্য অমুক স্থানে নেকী রাখা হয়েছে।” তখন সেই বান্দারা গিয়ে দেখবে যে, তাদের জন্য পাহাড় পাহাড় নেকী রাখা হয়েছে। তারা বলবে, আল্লাহ পাক! আমরা তো এত নেক আজ করিনি, আমাদের এত পরিমাণ নেকী আসলো কোথা থেকে? তখন আল্লাহ পাক বলবেন, “তোমরা দুনিয়াতে যে সকল দু’য়া করেছিলে, যার বদলা দুনিয়াতে দেয়া হয়নি। তোমরা বুঝতে পারনি, দু’য়া কবুল হলো কি হলোনা, অথচ আমি তা কবুল করেছিলাম এবং সেগুলিই পাহাড় পাহাড় পরিমাণ নেকী আকারে জমা হয়েছে।” তখন বান্দারা বলবে, আল্লাহ পাক! দুনিয়াতে আমাদের সমস্ত দু’য়াগুলিরই বদলা না দিয়ে যদি পরকালের জন্য জমা রাখা হতো, তাহলে তা আমাদের জন্য আরো ফায়দার কারণ হতো। (বুখারী শরীফ, ফত্‌হুল বারী, ওমাদাতুল বারী, এরশাদুস্‌ সারী)
উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র দাওয়াতের কারণেই যদি উম্মতে মুহম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব হতো, তাহলে অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ দাওয়াতের দায়িত্ব পাওয়া সত্ত্বেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার জন্য আল্লাহ পাক-এর নিকট দু’য়া করতেন না। বরং উম্মতে মুহম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব, দাওয়াতের কারণে নয় বরং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার কারণেই।
কুরআন শরীফে আল্লাহ পাক আরো উল্লেখ করেন, “এরূপেই আমি তোমাদেরকে উম্মতে ওয়াসাত (শ্রেষ্ঠ উম্মত) করেছি। যেন তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও সমস্ত মানুষের জন্য এবং যাতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য।” (সূরা বাক্বারা ১৪৩)
এ আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, হাশরের ময়দানে যখন সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের গুণাহ্‌গার উম্মতদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, “তোমরা কেন নেক কাজ করোনি।” তখন তারা বলবে, দুনিয়াতে আমাদের কাছে কোন আসমানী কিতাবও আসেনি এবং কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামও আগমন করেননি। তখন আল্লাহ পাক নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণকে জিজ্ঞেস করবেন, “আপনারা কি তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছাননি?” তাঁরা বলবেন, “হ্যাঁ, পৌঁছিয়েছি।” তখন অন্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের উম্মতগণ তা অস্বীকার করবে। তখন আল্লাহ পাক বলবেন, “হে নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ! আপনাদের সাক্ষী কোথায়?” তখন তাঁরা বলবেন, “উম্মতে মুহম্মদীগণই আমাদের সাক্ষী।” তখন উম্মতে মুহম্মদীগণকে ডেকে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা বলবেন, “হ্যাঁ, সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণই তাঁদের দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন।” একথা শুনে অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের উম্মতগণ বলবে, উম্মতে মুহম্মদী তো আমাদের থেকে অনেক পরে এসেছেন, তাঁরা কিভাবে আমাদে সাক্ষী হয়? তখন আল্লাহ পাক উম্মতে মুহম্মদীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলবেন, “হ্যাঁ, আমরা তাদের থেকে অনেক পরে এসেছি, তবে আমাদের নিকট এসেছিলেন- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তিনি আমাদেরকে এ বিষয়ে জানিয়াছেন। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁকে সত্য বলে জেনেছি, তাই আমাদের সাক্ষ্য সত্য।” অতঃপর আল্লাহ পাক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন এবং তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মতে মুহম্মদীকে সমর্থন করে সাক্ষী দিবেন, “হ্যাঁ, তারা যা বলেছে, সবই সত্য এবং আমিই তাদেরকে এ তথ্য জানিয়েছি, যা আমি আল্লাহ পাক-এর তরফ থেকে জেনেছি।” (সিহাহ সিত্তাহ ও সমূহ তাফসীর)
সুতরাং সূরা আল ইমরান-এর উক্ত আয়াত শরীফে আমাদেরকে যে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে, তা দাওয়াতী কাজ করার জন্য নয় বরং তা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃত উম্মত হওয়ার কারণে। (তাফসীরে রুহুল মায়ানী, রুহুল বয়ান, মায্‌হারী, কুরতুবী, খাযিন, বাগবী, কবীর, ইবনে আব্বাস, আবী সউদ, দুররে মনসুর ইত্যাদি)
এখানে স্মরণীয় যে, কুরআন শরীফের আয়াত শরীফ এবং সহীহ্‌ হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত আছে যে, পূর্বেকার উম্মতগণের উপরও দাওয়াতের দায়িত্ব ছিল। যেমন আল্লাহ পাক কুরআন শরীফের সূরা ইয়াসীন-এ উল্লেখ করেন, “কোন একজন জনপদে রসূল আলাইহিমুস সালামগণ আগমন করলে সেখানকার অধিবাসীরা তাঁদের (নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের) রিসালাতকে অস্বীকার করে, হত্যা করার জন্য উদ্যত হলো। তখন শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি, যিনি ঈমান গ্রহণ করেছিলেন, তিনি দৌড়ে এলেন এবং তার সম্প্রদায়কে রসূল আলাইহিমুস সালামগণকে হত্যা করতে নিষেধ করলেন এবং তাঁদের অনুসরণ করার উপদেশ দিলেন।”
এছাড়া হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক হযরত জীব্রাঈল আলাইহিস সালাম-এর নিকট ওহী পাঠালেন, অমুক শহরের সমগ্র বাসিন্দাসহ উল্টিয়ে দাও।” তখন হযরত জীব্রাঈল আলাইহিস সালাম আরজ করলেন, “হে পরওয়ারদিগার! এ শহরে আপনার অমুক বান্দা রয়েছে, যে মুহূর্তকালও আপনার নাফরমানীতে লিপ্ত হয়নি।” তখন আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন, “শহরটিকে ঐ ব্যক্তি এবং সমগ্র বাসিন্দাসহ উল্টিয়ে দাও। কারণ আমার জন্য ঐ ব্যক্তির চেহারায় এক মুহূর্তের জন্য পরিবর্তন আসেনি, অর্থাৎ সে লোকদের নাফরমানী থেকে নিষেধ করা তো দূরের কথা, আফসোসও করেনি।” (বায়হাক্বী শরীফ)
বণী ইসরাঈল আমলের অনূরূপ আরো একটি ওয়াক্বিয়া (ঘটনা) তাফসীরে উল্লেখ করা হয়- আল্লাহ পাক হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম-এর উপর ওহী নাযিল করলেন, “হে আমার নবী আলাইহিস সালাম! আপনার উম্মতের মধ্যে ১ লক্ষ লোককে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যার মধ্যে ৬০ হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত।” তখন হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম বললেন, “হে আল্লাহ পাক! ৬০ হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত, তাই তাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে। কিন্তু বাকী ৪০ হাজার লোককে ধ্বংস করা হবে কেন?” তখন আল্লাহ পাক বললেন, “যেহেতু তারা তাদের সাথে মিলা-মিশা, ওঠা-বসা করে এবং সম্পর্ক রাখে। আর গুনাহের কাজে বাধা প্রদান করে না, তাই তাদেরকেসহ ধ্বংস করে দেয়া হবে।”
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও দাওয়াতের দায়িত্ব ছিল, কেননা দায়িত্ব থাকার কারণেই তা পালন না করায় ‘বণী ইসরাঈল’-এর উল্লিখিত ব্যক্তি ও সম্প্রদায়কে শাস্তি পেতে হয়েছে।
অতএব উপরোক্ত আয়াত শরীফ, হাদীস শরীফ এবং তার আনুষাঙ্গিক ঘটনার মাধ্যমে জানা যায় যে, পূর্ববর্তী উম্মতগণও দাওয়াতের কাজ করেছেন, যা তাফসীরে রুহুল মায়ানী, তাফসীরে মায্‌হারী, তাফসীরে আমিনিয়া, তাফসীরে খাযিন, তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআন ইত্যাদি তাফসীরের কিতাবসমূহ এবং বিশুদ্ধ হাদীস শরীফের কিতাব দ্বারাও প্রমাণিত।
এখানে উল্লেখ্য যে, অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার জন্য আরজু করেছেন, তাই বলে কেউ যেন একথা মনে না করে যে, উম্মতে মুহম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ হতে বেশী। বরং শুধুমাত্র হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কারণে যে উম্মতে মুহম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব, তা বুঝানোর জন্যই সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার জন্য আরজু করেছেন।
অতএব, প্রমাণিত হলো যে, উম্মতে মুহম্মদী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়ার কারণেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে, তাবলীগ তথা দাওয়াতের কারণে নয়। কাজেই যারা বলে তাবলীগ তথা দাওয়াতের কারণে উম্মতে মুহম্মদী শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে, তাদের কথা সম্পূর্ণই মনগড়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর এবং তাফসীর বিররায় হওয়ার কারণে স্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এ ধরণের অবান্তর ও কুফরীমূলক কথাবার্তা বলা ও লিখা থেকে হিফাযত করুন। (আমিন!)

প্রচলিত তাবলীগ জামায়াতের ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার খন্ডন (৫)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29027260 http://www.somewhereinblog.net/blog/TUSHARZIA/29027260 2009-10-17 13:27:03