somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসেন ইলেকট্রনিক যন্ত্র দিয়ে মশার সাথে মারামারি করে মশা তাড়াই। ;););)B-)B-)

২৯ শে জুন, ২০১১ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভাল। :)এখন তো বর্ষাকাল। আবহাওয়া ঠাণ্ডা। ভালই লাগছে। শুধু রাত্রিবেলা মশার দল প্রচন্ড জ্বালাচ্ছে। এদের জ্বালায় কোথাও সুস্থির হয়ে বসার জো নেই।/:)

ইদানিংকার মশা গুলা আবার একেকটা এমন শক্তিশালী যে কয়েলের ধোঁয়ার উপর নাচতে নাচতে উড়ে বেড়ায়। :Pপুরাই ড্যাম কেয়ার ভাব। আসলে এদের মনে হয় বিবর্তন ঘটে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে থেকে থেকে কয়েলের বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রুফ হয়ে গেছে মশারা। কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে তো ভীষণ বিপদ। :-/
তবে, এই মশাকে কিন্তু কয়েল ছাড়াও কাবু করার আরেকটা উপায় আছে। সেটা হল এদের সাথে ডাইরেক্ট মারামারি করা। B-)B-)কি ভাবছেন আমি পাগল? মশার সাথে মারামারি করব? হি হি হি। না না। আমি করবনা। আমার হয়ে ১টা ছোট্ট সার্কিট আর একটা স্পিকার এই কাজটা করে দেবে।;) কিভাবে? অনেকটা এভাবে__
পদার্থবিজ্ঞান বলে যে, আকার , আকৃতি, উপাদান সাপেক্ষে প্রত্যেকটা কম্পনক্ষম বস্তুর সাথেই বৈশিষ্ট্যগত একটা নির্দিস্ট কম্পাঙ্কের তরঙ্গ থাকে। এবং যদি কোনভাবে বাহিরে থেকে ওই কম্পাঙ্কের তরঙ্গ সৃষ্টি করে একটা বস্তুর উপরে ফেলা যায় তাহলে ওই বস্তুটাও সেই নির্দিস্ট কম্পাঙ্কে তুমুলভাবে কাঁপতে থাকবে। এই ঘটনাকে বলা হয় অনুনাদ। অনুনাদের সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরন হল ১৯৪০ সালে ওয়াশিংটন এর ট্যাকোমা ন্যারো নামক ১ টি ঝুলন্ত ব্রিজের ভেঙ্গে যাওয়া। :-*সেদিন শুধুমাত্র বায়ুপ্রবাহের দ্বারা সৃষ্টি হওয়া তরঙ্গের ফলে অনুনাদ সৃষ্টি হয়েছিল এবং ব্রিজটি অতিরিক্ত কম্পনের কারনে ভেঙ্গে যায়।

যাই হোক, যেহেতু প্রাণীরাও বস্তু, সুতরাং প্রত্যেকটা প্রাণীর ক্ষেত্রেই উপরের ব্যাপারটা সত্য। মশারও এরকম একটা কম্পাংক আছে। তাই আমরা যদি কোন যন্ত্রের সাহায্যে ঠিক সেই কম্পাংকের তরঙ্গ বানাতে পারি তাহলে তা স্পিকার এ বাজালে বাতাসেও একই রকম কম্পন তৈরি হবে। ফলে মশা ওখানে আসলেই ও ব্যাটার সাথে কি ঘটবে আশা করি বুঝতেই পারছেন।B-)B-) হি হি হি। সুতরাং মশা আর ধারেকাছে আসবেনা।

আজকে আমরা এমন একটা সার্কিট বানাব যা এই কাজটা করে দেবে। সমস্যা হল একেক জাতের মশা একের কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতি সংবেদনশীল। তাই আমাদেরকে বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দ ব্যাবহার করে দেখতে হবে কোনটা কাজ করে। তবে সুখের কথা এই যে এই শব্দের রেঞ্জ আমাদের শ্রবণ ক্ষমতার বাইরে। :)সবই আল্ট্রাসনিক সাউন্ড। নাহলে মশা তাড়াতে যেয়ে নিজেদেরকেই শব্দের জ্বালায় অস্থির হয়ে যেতে হত। উল্লেখ্য, আমাদের শ্রবণ ক্ষমতার সীমা হল ২০ থেকে ২০০০০ হার্জ। হার্জ হল কম্পাঙ্কের একক যা দ্বারা প্রতি সেকেন্ডে কম্পনের সংখ্যা বুঝায়।

তাহলে চলুন সার্কিট বানানো শুরু করিঃ
প্রথমেই আপনার যা যা লাগবে
১. ১টি 555 IC.
২. ২টা ১ কিলো ওহমের স্থির রোধক
৩. ১টা ১০ কিলো ওহমের পরিবর্তনশীল রোধক
৪. ১টা ৪.৭ ন্যানো ফ্যারাডের ক্যাপাসিটার
৫. শব্দ তৈরির জন্য পিয়েযো বাযার অথবা টুইটার।

আমি নরমাল স্পিকার ব্যবহার করতে বলবনা :|কারন উচ্চ কম্পনাকে এদের অউটপুট ভাল আসেনা কিন্তু পিয়েযো বাযার অথবা টুইটার অনেক ভাল কাজ দেবে।
সার্কিট টিকে আপনি ৫ থেকে ১৫ ভোল্ট পর্যন্ত যেকোনো ডিসি সোর্স দিয়ে চালাতে পারবেন। তবে ইনপুট যত বেশি দিবেন অউটপুট সাউন্ড ও তত জোরাল হবে।:)

সার্কিটের প্রধান জিনিসটি হল ১টা 555 IC আর এটা হল ৮ পিনের টাইমার আইসি। এটা দিয়েই আমরা শব্দ তৈরি করব।
কিভাবে একটা আইসি এর পিন সনাক্ত করতে হয় তা জানতে আমার এই পোস্ট টি দেখুনঃ
Click This Link

________________________________
এই সার্কিটে দেখবেন যে ১০ কিলো ওহমের পরিবর্তনশীল রোধক আছে সেটা দিয়ে আপনি শব্দের কম্পাংক পরিবর্তন করতে পারবেন। পরিবর্তনশীল রোধক এর পুরো রেঞ্জ এর জন্য এই যন্ত্রের আউটপুট শব্দের কম্পাংক হল ১৩ থেকে ৯০ কিলো হার্জ। এখন আপনি নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন কোথায় সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে অর্থাৎ ।
তবে এখানে একটা সতর্কবার্তা রয়েছে। তা হল, কিছু কিছু কম্পাংক কিন্তু আবার মশাকে আকৃষ্ট ও করে। ওখানে আবার যন্ত্র সেট করেননা। তাহলে কিন্তু আশপাশের বাসা থেকে সব মশা আপনার বাসায় ছুটে আসবে।:P:P:P
আর আর দেরি কেন? ঝটপট বানিয়ে ফেলুন যন্ত্রটা আর মশা তাড়ান ইচ্ছামত।
সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
__________________________________________________

দাঁড়ান ! দাঁড়ান !! দাঁড়ান !!! একটা কথা। আচ্ছা এরকম ১টা যন্ত্র যদি মানুষের বেলায়ও বানানো যায়, তাহলে কেমন হয় ? B-)B-)তাহলে খারাপ মানুষগুলাকে এই যন্ত্র দিয়ে তাড়িয়ে দেয় যেত কি বলেন? হি হি হি। ;););):P:P
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×