somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জুম্মার নামাজের সময় মজার অভিজ্ঞতা !!! :) :)

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঘটনা গত শুক্রবারের নয়। তাহারও কিছুদিন আগের। লিখিয়াছি নামাজ পড়িয়া আসার সাথে সাথেই। কিন্তু কি এক অজ্ঞাত কারনে পোস্ট করিব করিব করিয়া করাই হইতেছিলনা। যাক শেষ পর্যন্ত পোস্ট করিয়াই দিলাম।

--------*----------*---------*----------*----------*----------*--------

খানিক্ষন আগেই আজিকের জুম্মার নামাজ আদায় করিলাম। নামাজে যাইয়া অনেক দিন পর একখানা মজার অভিজ্ঞতা অর্জন করিয়া আসিলাম। ব্যাপার হইল যে, স্থানীয় এক ভদ্রলোক তাহার ছোট্ট (বয়স ৩ কি ৪ হইবে) ছেলেকে সাথে আনিয়াছেন। উদ্দেশ্য তাহাকে ধর্ম কর্মের সহিত কিঞ্চিত পরিচয় ঘটানো। কিন্তু তাহার শিশুপুত্র মসজিদে আসিয়া ধর্ম কর্ম বাদ দিয়া স্বভাববশতঃ চঞ্চলতা প্রকাশ করিতে লাগিল, যেমনটি সচরাচর হইয়া থাকে।

যাহাই হউক, নামাজের সময় যখন মুসুল্লিগণের কাতার বিন্যাস করা হইতেছিল তখন আমি এই অধম ভদ্রলোকের ডানপাশে স্থান পাইলাম। তাহার চঞ্চলতা প্রকাশকারী পুত্রকে তিনি বামে রাখিলেন। কিন্তু পুত্রের এইরূপ সুশৃঙ্খল মনুষ্য বিন্যাস পছন্দ হইলনা। সে স্বীয় স্থান ত্যাগ করিয়া কাতারের সম্মুখে ছুটিয়া বেড়াইতে উদ্যত হইল। আমি মাত্র আমার অন্ধের যষ্ঠী চশমাখানা সম্মুখে রাখিয়াছি, চঞ্চল পুত্র আসিয়া একদম ঠিক উহারই উপরে তাহার একখানি পদ রখিল। আমি ত্রস্ত ব্যাস্ত হইয়া “এই এই ” বলিয়া তাহাকে সরাইয়া দিয়া দেখিতে লাগিলাম অন্ধের যষ্ঠী আস্ত রহিয়াছে কিনা! দুর্ভাগ্যবশতঃ উহার একখানা ডান্টি সামান্য বাঁকিয়া গিয়াছিল, উহা সোজা করিয়া এইবার নিজের কাছে পাঞ্জাবির পকেটে রাখিলাম।

যথারীতি নামাজ আরম্ভ হইল। প্রথম রাকাত নির্ঝঞ্ঝাটে কাটিয়া গেল। কিন্তু দ্বিতীয় রাকাতে আসিয়া ভদ্রলোকের চঞ্চল পুত্রটি আর চুপ থাকিতে পারিলনা। আমরা দাড়াইয়াছিলাম কাতারের মাঝামাঝি। হঠাৎ কি মনে হইল, চঞ্চল শিশু সুন্দর করিয়া কচি পায়ে কাতারের সম্মুখ দিয়া বামে দৌড় দিল। পুরা কাতার ভ্রমন করিয়া ফিরিয়া আসিয়া ফের ডানে দৌড়ের উদ্যোগ গ্রহণ করিতেই তাহার পিতা তাহাকে খপ ধরিয়া যায়গামত বসাইল। কিন্তু পুত্র নাছোড়বান্দা। সে পিতার এহেন বৈপিত্রেয় আচরনে বিরক্ত হইয়া তাহার টুপিখানা আমার সম্মুখে ছুঁড়িয়া মারিল এবং তাহা লইবার উদ্দেশ্যে আমার সম্মুখ হইতেও ভ্রমন করিয়া গেল।

এইবার অসহায় পিতা নিতান্তই নিরুপায় হইয়া তাহাকে নিজের সামনে ধরিয়া বসাইল। তো খানিক বাদে নামাজের পরিসমাপ্তি ঘটিল। যদিও অবুঝ শিশুর এই কর্মকান্ডে বুঝ-বিদ্বান অনেকেই বিরক্ত হইতেছিলেন কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে কেহই কিছু কহিলেননা। কেবল শিশুর বামপাশের ভদ্রলোক কহিলেন, ”বাচ্চা লইয়া আসেন কেন? কাহারও কি নামাজ হইবে?” উত্তরে অসহায় পিতা কাষ্ঠ হাসিলেন।
এই হইল মজার অভিজ্ঞতা। তবে আমার সৌভাগ্য যে আমার অন্ধের যষ্ঠী খানা বহাল তবিয়তে রহিয়াছে।

আজিকের ঘটনা দর্শন করিয়া আবার সেই সুদূর অতীতের নিজের পুটুকালের/ গ্যাদাকালের কথা মনে পরিয়া গেল। তখন প্রতি শুক্রবারে শ্রদ্ধেয় মাতা গোছল করাইয়া নিজের হাতে জামা কাপড় টুপি পরাইয়া, খুশবু লাগাইয়া নামাজের নিমিত্ত সাজাইয়া দিতেন। পিতার হাত ধরিয়া মসজিদে গমন করিতাম।
ধর্ম কর্ম কি তাহা তখনও মাথায় আসে নাই। তাই মসজিদে গমনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল নামাজের আগে ও পরে অন্য পিচ্চিদের সহিত মসজিদময় খানিক দৌড়াদৌড়ি করা। ইহার ভেতরেই অপার আনন্দ নিহিত রহিয়াছিল।

তবে পিতার অত্যধিক সতর্কতার ফল স্বরুপ এই অধম কোনদিন নামাজের আভ্যন্তরে দৌড় দিয়াছে এমনটা শুনিনি।
-----------------------------------------------
উক্ত গল্প হইতে কি শিখিলেন? পিচ্চি পুলাপানদের বেশি করিয়া জুম্মার নামাজে সাথে লইয়া আসুন। উহারাও ধর্ম কর্ম শিখুক। দৌড়াদৌড়ি তো খানিক হইবেই। তাহা নিঃসন্দেহে ক্ষমার যোগ্য।
//////////////////////////////////////////
আপনাদের নিজেদের কোন মজার অভিজ্ঞতা থাকিলে তাহাও বলুন। শ্রবণে মোরা কিঞ্চিত পুলকিত হই।
২৯টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফটো, ছবি ব্লগ । - ১

লিখেছেন ইহা রাজু হয়, ০৩ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:৩৭


ছবিগুলো হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বিথলং গ্রামে যাওয়ার পথের হাওর এলাকার।

-বৃক্ষ তোমার নাম কি
-ফলে পরিচয় ।
-ঠিক আছে, ফল আসুক চিনে নিব (ফল আছে তো?) ।



একাকী জীবন ।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

না করি ভোরের প্রত্যাশা!

লিখেছেন রমিত, ০৩ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:৪৩



না করি ভোরের প্রত্যাশা!
--------- ড. রমিত আজাদ

এখনো গভীর রাতের আঁধারে
সীমাহীন নক্ষত্ররাজীর অন্তহীন প্রত্যাশা নিয়ে আমি অপেক্ষা করি,
ঘোর বরষার অবিরাম বৃষ্টির দুর্দান্ত কলরব ছাঁপিয়ে
শোনা যাবে তোমার কন্ঠস্বর, মধুর মায়াবী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফটো, ছবি ব্লগ । - ২

লিখেছেন ইহা রাজু হয়, ০৩ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ১:৪৫

অধিকাংশ ছবিই হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বিথলং গ্রামে যাওয়ার পথের হাওর এলাকার।

উপাসনালয় ।



বৃক্ষ ফসল গেল তল । এই অধম জিগায় কত জল ?



হিজল গাছ ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিস্টোরি ইন পিকচার্স (বাংলাদেশ)

লিখেছেন দূরের পথযাত্রী, ০৩ রা আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:০০

ফেসবুকে লগ ইন করি শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটা পেইজ আর গ্রুপের জন্য।তাঁর মধ্যে প্রিয় একটা পেইজ 'Bangladesh Old Photo Archive"।সেখান থেকে পাওয়া ছবিগুলো বাছাই করে কিছু ঐতিহাসিক ছবি দিলাম এখানে।


... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই ২০১৫ পরিসংখ্যানঃ সামু হিট সমাচার

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৩ রা আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১:০৯



সবাই যেমন করে ঈদের পরপরই কাজে আসতে একটু দেরী করে কিংবা ঈদের পর কাজে কর্মে ঠিক মন বসে না, এবারের পরিসংখ্যান করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম আমাদের ব্লগারদের ভেতরেও ঠিক তেমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেয়েদের ব্রেক-আপ ন্যাকামি।

লিখেছেন হেল কিচেন, ০৩ রা আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১:৫১

গত শনিবার উত্তরা থেকে আসার সময় বাসের(এসি বাস) পিছনের দিকে একটা সিট নিয়ে জানালার সাইডে বসে বসে বৃষ্টি দেখছিলাম। পুরা বাসটাই বলতে গেলে খালি ছিলো। আমি ৩টা সিটের জানালার সাইডে... ...বাকিটুকু পড়ুন