তিনটি পর্বে এ লেখাটি লিখেছিলাম। ভেবেছিলাম আরো লিখব। কিন্তু আর লেখা হয়ে উঠেনি।আরও লিখব কিনা বুঝতে পারছি না। ভাল লাগলে বলবেন।
———————————
এখানে আমরা একজনকে লাভগুরু(ভেবে বসবেন না যেন আমি সেই…হা হা হা) হিসেবে বিবেচনা করব।দেখা যাক তিনি কতটা পারদর্শী।দেখা যাক তিনি কিভাবে ব্যাখ্যা দেন ভালবাসার এবং ভালবাসা সম্পর্কিত সবকিছুর।
প্রথম ব্যক্তি,
লাভগুরু দয়া করে আমাকে হেল্প করুন
একটা প্রশ্ন ছিল,আমাকে একটু ধরুন।
লাভগুরু(হেসে),
শান্ত হোন, চুপ করে বসুন
দমটা নিয়ে, এবার প্রশ্ন করুন
কি সমস্যা, নিঃশঙ্কচে বলুন
আপনি তো টগবগে তরুন।
কি সে আপনার ভয়?
যা আমাকে না বললেই নয়।
প্রথম ব্যক্তি,
অ্যাফেয়ার করার আগে বিবেচনা কি কি?
সবসময় কানের মাঝে বাজতে থাকে ঝি ঝি।
কখন বুঝব যে সে আমাকে ভালবাসে?
কখনই বা প্রপোজাল দিব তাকে?
লাভগুরু,
প্রশ্ন ছিল একটা আর করলেন তিনটা
এই বলতেই লাল হয়েছে আপনার কানটা।
প্রথম ব্যক্তিটি এ কথায় লজ্জা পেল।লাভগুরু আবার বলতে শুরু করলেন।
তোমার মাঝেই দেখেছিলাম প্রথম প্রেমের গদ্য
তারপরেই লিখেছি এই ভালবাসার পদ্য।
আবারও হাসলেন লাভগুরু।ব্যক্তিটি অনেকটাই সহজ হয়ে বসল।
অ্যাভেয়ারের আগে বুঝা উচিত যে
আপনার জন্যে পারফেক্ট কিনা সে
একে অপরকে যদি দিতে পারেন সংগো
ভালবাসায় সিক্ত হবে দুজনের অংগো
প্রকাশ পাবে ভালবাসা, বুঝা যায় কর্মে
আপনি তা ভাল বুঝবেন, অনুভূতির মর্মে
ভালবাসলে হয়ত দিবে, আপনাকে কিছু সময়
নয়ত চিন্তেই পারবে না,আপনি কে অয়ময়?
যে কোন সময় পাবেন ভালবাসার উত্তর
সাবধান! যেন একশর মধ্যে পান না সত্তর।
যথাসম্ভব উনার কাছে থাকার চেষ্টা করুন
ভালবাসার বানী দিয়ে আজীবন সৎ থাকুন।
প্রপোজ করুন যখন বাজবে টাইমের ক্রিং
ভেবে দেখুন, দুদিন পরে একসাথে লিভিং
চারিদিকে বিরাজ করবে নতুন ভোর যখন
বোঝাপড়া চলতে থাকবে, ইটিস পিটিস তখন
যখন বুঝবে আপনি তাকে ভালবাসেন
দেখবেন আবার গাধার মত না ফাসেন
তাই প্রপোজ করতে বেছে নিন উপযুক্ত টাইম
প্রথমে না বললেই করে বসেন না কোন ক্রাইম
তাড়াতাড়ি প্রপোজ করবেন না যেমন
খুব বেশি দেরি না হয়ে যায় তেমন
বারবার একটা কথা বলি ভাই
সৎ না থাকলে আমি আপনার সাথে নাই।
প্রথম ব্যক্তি,
বাহ গুরু বাহ
যাহ দুঃখ যাহ
আপনিই পারবেন বাঁচাতে
ভাল লাগে না বন্দি খাঁচাতে
গুরু ইউ আর গ্রেট
ভয় করি না কোন থ্রেট
লাভগুরু মুচকি মুচকি হাসতে থাকেন।এই সময় দ্বিতীয় ব্যক্তির প্রবেশ।
দ্বিতীয় ব্যক্তি,
ভিতরে আসার অনুমতি দেন গুরু
দয়া করে প্রশ্ন করি শুরু।
লাভগুরু,
আরে আসুন আসুন
এসে লম্বা করে কাশুন।
দ্বিতীয় ব্যক্তি লাভগুরুর সামনে প্রথম ব্যক্তির পাশে রাখা চেয়ারে আসন গ্রহন করল।
দ্বিতীয় ব্যক্তি(কান্নার ভাব করে),
গুরু আমি তো শেষ
বানিয়ে দিয়েছে মেষ
লাভগুরু (হাত নাড়িয়ে),
হয়ে যান এবার শান্ত
দুঃশ্চিন্তা দিন এখনই ক্ষান্ত।
দ্বিতীয় ব্যক্তি (কান্নার ভান করে),
ভেঙ্গে দিয়েছে আমার ঘর
হয়ে গেছে আজ থেকে পর।
আজ সে অন্যের ঘরনী
ভেঙ্গে পড়ছে আমার ধরনী।
করেছে সে বিশ্বাসঘাতকতা
ধরতে পারিনি তার ভনিতা।
বানিয়েছে আমাকে রাম ছাগল
আর কদিনেই হয়ে যাব বদ্ধ পাগল।
লাভগুরু,
হুম!বুঝলাম আপনার দুঃখ
শুনুন মশাই, ভালবাসাটাই মুখ্য
আপনি ভালবাসতেন যদি
তবেই মিলত দুই নদী
দ্বিতীয় ব্যক্তি,
হ্যাঁ লাভগুরু হ্যাঁ
কাঁদছি দেখেন ভ্যাঁ ভ্যাঁ
ভালবাসতাম দিয়ে প্রাণ
বুঝিনি কখনো নাগিনের ঘ্রাণ।
লাভগুরু,
আচ্ছা! দিয়েছে আপনাকে ছলনা
দেয়নি আপনাকে চালাতে তার দোলনা
পেলাম ভাই অনেক কষ্ট
আগে না এসে করেছেন সময় নষ্ট।
দ্বিতীয় ব্যক্তি,
গুরু বলেন এবার উপায়?
পড়েছি গ্যাঁড়াকলের চিপায়।
লাভগুরু,
সবাই আসে বিপদের পরে
এজন্যেই তো সবাই মরে।
দ্বিতীয় ব্যক্তি,
গুরু এবার করে দেন ক্ষমা
আপনিই খুঁজবেন আমার নীলুপমা
হয়ে গেছে অজান্তে ভুল
পাচ্ছি না কোন কূল
উপায় বলেন, শক্ত করব মূল।
যে আপনাকে ছেড়ে গেছে
তার জন্যে দুঃখ মিছি
তাকে নিয়ে পেতেন না কোন সুখ
প্রবলেম কি? ভালইতো আপনার লুক
আপনিই খুঁজবেন আপনার নীলুপমা
আমি শুধু বলব সব কিছুর উপমা।
দ্বিতীয় ব্যক্তি একটু শান্ত হয়ে বসে।প্রথম ব্যক্তি আবার প্রশ্ন করবার জন্যে উশখুশ করতে থাকে।
প্রথম ব্যক্তি,
আবার একটা প্রশ্ন করি গুরু
বুকটা এখনো করছে দুরু দুরু।
মার্কেটে কি এখনো রিয়াল লাভ বিদ্যমান?
হবে না তো আমারও হৃদয়ে টান?
সমাজে থাকবে নাকো কোন মান।
নাম হয়ে যাবে একালের দেবদাস
গুরু বাঁচান, তখন হবে সর্বনাশ।
লাভগুরু,
ধীরে বৎস ধীরে
আমি আছি, তাকাতে হবে না ফিরে।
ভয় নেই, দেখিয়ে দিব পথ
ভুল বললে, দিব নাকে খত।
লাভগুরু একটু থামলেন।দুই ব্যক্তির দিকে তাকালেন।মনে মনে বললেন,
আরে জন্মের গাধা
তোদের মাথায় বাজাব পাধা
নিজেই মুগ্ধ হই দেখে নিজের শিল্প কায়দা
দাঁড়া তোদের দিয়েই তুলব নিজের পেটের ফায়দা।
লাভগুরু দেখেন দুইজন উদগ্রীব হয়ে আছে কথা শুনার জন্য।চোখমুখ শক্ত করে তিনি আবার বলা শুরু করলেন।
রিয়াল লাভ আছে আলবত
দিচ্ছি আপনাদের আমার মত
আছে এখনো কত লাল নীল পরী
দিব তাদের আপনার সাথে দড়ি
আপনাকেই পড়াবে মিস ওয়াল্ড আংটি
আপনাকে ঘিরেই করবে ভালবাসার সানকি
আপনাদের করব তাদের চেয়ে সেয়ানা
আসবে ছুটে নীল পরী ডায়ানা
মাঝে মাঝে দিবেন দু’একটা গয়না
শুনে রাখুন, ওরা হবে আপনার ময়না
মনের ভিতর আছে যত ভয়
করে দিন এবার সবকিছুর ক্ষয়
ঠিক করুন কবে প্রেমিক হবেন?
নাকি ভেবে চিন্তে পরে জানাবেন।
দুই ব্যক্তি একসাথে বলে উঠল,
কি বলেন গুরু ছি ছি!!
ভাবব কেন মিছি মছি।
আপনার উপর আছে মোদের ভরসা
আমরা জানি, আপনার দিলটা বড়ো খাসা।
লাভগুরু আবার মুচকি মুচকি হাসতে থাকেন।সামনে উপবিষ্ট দুই ব্যক্তির মুখেও হাসির রেখা দেখা যায়।
লাভগুরু,
তবে আজ থেকেই ভালাবাসার খোঁজে
পা দিবেন না খবরদার নাগিনের ল্যাজে।
আজকে তাহলে এখানেই করি সমাপন
উপদেশগুলো মনে রাখবেন, বন্ধুগন।
আবারো দুইজন একসাথে বলে উঠে,
আচ্ছা গুরু, আজকে তাহলে যায়
কালকে আবার উপদেশ চায়
আজকে থেকে খুঁজব পরী
হবেই হবেই আমাদের লাভার সুন্দরী।
একশ টাকার দুইটা নোট দুজনে সামনে লাভগুরুর দিকে বাড়িয়ে দেয়।
লাভগুরু(গদ্গদ ভাব),
আরে আরে এর দরকার কি ছিল?
ব্যাপারটা কি দেখায় ভাল?
আবারো দুই ব্যক্তি একসাথে,
এতো কিছুই না গুরু
এতো কেবল শুরু
দিচ্ছি হয়ে খুশি
মনে রাখবেন অমানিশি।
করবেন একটু মায়া
সবকিছুই আপনার দয়া।
দুই ব্যক্তির দ্রুত প্রস্থান।লাভগুরু মনে মনে ভাবতে থাকেন…
হেসে বাঁচিনে, হা হা
করব তোদের খাঁ খাঁ
ওরে বোকার হদ্দ
পান করেছিস মদ্দ
তোদের টাকায় করব বাড়ী
বউকে নিয়ে চড়ব গাড়ী
মাঝে মাঝে কিছু জলপরী
চালাবে আমার সোনার তরী।
ঠিক এসময়ে ঝাড়ু হাতে লাভগুরুর বউ এসে উপস্থিত।
লাভগুরুর বউ,
বাংলাদেশের বড় ঠকবাজ
নাই কি একটুও লাজ?
তোমাকে করি ঘৃণা
পালিয়ে বিয়ে করে
বাপের বাড়ী যেতে পারি না।
নাহলে চলে যেতাম কবেই
শিক্ষা হত তোমার তবেই।
দিত পারনা খেতে
আগেই বলতে
অন্য পুরুষে যেতাম মেতে।
কেন শুনিনি বাপ মার কথা
এখন পুড়ছে আমার মাথা
হায় কপাল আমার স্বামী জোচ্চর
পুলিশ তোমাকে করবে ধড়পাকড়।
লাভগুরু,
ওরে বউ এবার থাম
করতে দে আমার কাম
হব এবার লাখপতি
তোমার চোখে জ্বালবো জ্যোতি
দেখ বইস্যা পাইলাম দুইশ টাকা
আরো আসবে কত ঝাকা ঝাকা
ঘরে আনবে নতুন টেলিভিশন
তারপর কওতো কি মিশন?
সাথে আনব এবার ফ্রিজ
ঠান্ডা পানি খেয়ে লিখব লাভগুরু সিরিজ
হবে বছরের বেস্ট সেলার
মুখে মুখে একটাই বই একুশে মেলার
আরো কিনব একটা কার
এটা তোমাকে আমার অঙ্গীকার
ভেবোনা, কিনব বসুন্ধরায় প্লট
দেখবা, জীবনের চাকা কেমন চলে ঘট ঘট।
লাভগুরুর বউ
দোহায় তোমার চাইনা অত কিছু
দয়া করে ছুইটো না ঠকবাজীর পিছু
এবার খুঁজো অন্য কাজ
ছোট বড় নাহি লাজ
তাহলেই দুজনে থাকব শান্তিতে
কেউ ভাঙ্গতে পারবেনা ঘর খুনতিতে।
লাভগুরু,
আমি নই তোমার মত ভীতু
একটু হতে দাও থিতু
তারপর শার্টের কলার নাড়াতে থাকে।তারপর বলে,
আমি হব দুনিয়ার বাদশা
দেখবে তুমি কত তামশা
দরকার হলে আনব নতুন রানী
পুরনো হয়ে গেছে তোমার মুখখানি।
লাভগুরুর বউ,
তব রে…
লাভগুরুর বউ লাভগুরু দিকে ঝাটা হাতে তেড়ে আসে।আর আমাদের লাভগুরু লুঙ্গি অর্ধেক তুলে দে দৌড়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

