আমার প্রিয় পোস্ট

বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ কি ইসলাম বিরোধী চেতনা?

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৫০

শেয়ারঃ
0 0 0



বিশ শতকের শেষভাগে সোভিয়েট ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। সমাজতান্ত্রীক আদর্শে উজ্জীবিত সোভিয়েট ইউনিয়ন রাতারাতি পূজিবাদী আদর্শ গ্রহণ করার ফলশ্রুতিতে বিশ্বরাজনীতি পূঁজিবাদী বিশ্বের কেবালা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে শুরু করে। সমাজতান্ত্রীক বিশ্বের এই হঠাৎ বিপর্যয়ে, বিশ্ব রাজনীতির নয়া মেরুকরণের অনিবার্য উপাদান হিসেবে পূজিবাদী আদর্শের বিপরীতে ইসলামী জঙ্গীবাদ দর্শন ক্রমশঃ শক্তি সঞ্চয় করে এই শতকের শুরুতেই এই ভ্রান্ত ইসলামী মতবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

বাংলাদেশে পচাঁত্তর পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মভিত্তিক সামপ্রদায়িক রাজনীতির সাংবিধানিক স্বীকৃতিতেই পুনরুত্থান ঘটে। পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতির নতুন মেরুকরণ এবং বিশ্বায়নের সুযোগে বাংলাদেশেও সংগঠিত হতে থাকে হরকাতুল জেহাদ, জে.এম.বি সহ বেশ কিছু সামপ্রদায়িক রাজনৈতিক দল, যেগুলোর মূল দর্শন হচ্ছে ইসলামী জঙ্গীবাদ। বর্তমানে সরকারী কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যে এই সব জঙ্গীবাদী দল গোপনে এখনো তৎপড় এর প্রমান মেলে দেশের তিনটি বড় রেল ষ্টেশনে এই সেদিনের একযোগে বোমাবাজী ঘটনায়।

বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদের বড় শক্র হচ্ছে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। এই প্রস্তাবনার সপক্ষে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে, উদীচির অনুষ্ঠানে বোমা হামলা সহ প্রয়াত কবি শামসুর রহমান, শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টা ঘটনা সমূহ উল্লেখ করা যেতে পারে। উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিবর্গ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদেরই ধারক ও বাহক। তাই এদের উপর আক্রমন বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকেই আক্রমনের নামান্তর।

অনেকদিন ধরে, বিশেষতঃ স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ধারা শুরু হওয়ার পর থেকে ধর্মোন্মাদ চিন্তা চেতনায় আচ্ছন্ন কিছু ব্যক্তিবর্গ জাতীয়তাবাদ তথা বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পাচ্ছে। সেই পুরানো পাকিস্তানী কূটতর্কজাল -- বাংলা এবং বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে বড়বেশী হিন্দুয়ানী গন্ধ, তাই এর খতনা করে মুসলমানী লেবাস পরানো অতি জরুরী নতুবা খোদ ইসলামই যে হয়ে পড়বে বিপন্ন। ইসলাম কি এতোই ঠুনকো যে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ধাক্কায় তার ইজ্জত খোয়াবে? এ ছাড়া ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদের মাঝে কি কোন দ্বন্দ্বের অবকাশ কিংবা বৈরিতা রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে ধর্ম এবং জাতীয়তাবাদ এই দুটি পদবাচ্য সম্পর্কে আমাদের স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।

ধর্ম কি? সাধারণভাবে ধর্মকে সংজ্ঞায়িত করা যায় এভাবে -- ধর্ম হচ্ছে ভাববাদীদের ইশ্বর চেতনায় প্রাপ্ত ঐশীবানী যাতে বিধৃত আছে ইহজগতে জীবন যাপনের নির্দেশাবলী, যা একজন ধার্মিকের জন্য অবশ্যই পালনীয়। প্রায় প্রতিটি ধর্মেই রয়েছে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস। ধর্মীয় ঐশীবানীতে রযেছে ধার্মিকের জন্য পরলোকে লোভনীয় পুরস্কার এবং অবিশ্বাসীর জন্য ভয়াবহ শাস্তির অঙ্গিকার। এই শাস্তি বা পুরস্কার নির্ধারিত হবে ইহলোকের কর্মফলের ভিত্তিতেই।

ধর্ম হিসেবে ইসলাম নবীন এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে আধুনিক একথা নিঃসন্দেহে বলা চলে। পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে ইসলামকে সর্বকালের এবং সর্ব জাতির বলে ঘোষিত হয়েছে। এই ঘোষনার মাঝেই জাতিসত্তা বা জাতীয়তাবাদের প্রতি ইসলামের স্বীকৃতির মেলে। কোরআনে বিভিন্ন প্রসঙ্গে বিভিন্ন জাতির কথা এসেছে এবং স্পষ্টতঃই বিভিন্ন জাতির কাছে দূত প্রেরনের কথা বলা হয়েছে। মোট কথা জাতি বা জাতীয়তাবাদের অসিত্বকে ইসলাম অস্বীকৃতি কিংবা এর প্রতি কোন বিরূপ মনোভাব পোষন করে না।

জাতি, জাতিসত্তা বা জাতীয়তাবাদ মূলতঃ নৃ- বিজ্ঞানের অংশ। সৃষ্টির আদি পর্যায় থেকে বিভিন্ন মানব গোষ্ঠী নানা কারণে ভৌগলিক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় যূথবদ্ধভাবে বসবাস করার ফলে একেক গোষ্ঠীর দৈহিক গঠন, বর্ণ, আকৃতি, ভাষা-সংস্কৃতির মিথস্ক্রীয়ায় প্রকাশিত হয়েছে একেক রূপে। এভাবেই আর্য, দ্রাবিড়, মোঙ্গলীয় ইত্যাদি বিভিন্ন জাতির উদ্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে এই সব মৌলিক জাতির পারস্পরিক মিথস্ক্রীয়ায় সৃষ্ট হয়েছে সমকালীন জাতি সমূহ, যেমন জার্মানী, জাপানী, ফরাসী, বাঙ্গালী ইত্যাদি। এই সব জাতির দৈহিক গঠন, বর্ণ ভাষা-সংস্কৃতি, চারিত্রিক গঠনে পার্থক্য লক্ষ্যনীয়। উল্লেখ্য, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, বর্ণ দৈহিক গঠন ইত্যাদি জীববিজ্ঞানে স্বীকৃত জিন দ্বারা নির্ধারিত, যা বংশ পরস্পরায় বিভিন্ন মানব গোষ্ঠী বা জাতির মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। আর ভাষা সংস্কৃতিতে বিচিত্রতা আসে মানবগোষ্ঠীর বিভিন্ন ভৌগলিক সীমানায় বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসের অনিবার্য ফলশ্রুতিতে। তাই একজন আরবীয় মুসলমান ও একজন আফ্রিকার মুসলমানের ধর্মীয় চিন্তা- চেতনা এক হলেও দৈহিক গঠন, বর্ণ, চারিত্রিক গঠন এবং সর্বোপরি ভাষা- সংস্কৃতি বিচারে তাদের মাঝে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান।

পৃথিবীর অপরাপর জাতির মতোন বাঙ্গালীরও গর্ব করার মত রয়েছে নিজস্ব মূল্যবোধ, ভাষা-সংস্কৃতি এবং একটি ভূখন্ড। আবহমান কাল থেকে বাংলার এই নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি চর্চিত হয়ে আসছে যা নিয়ে বাঙ্গালী হিসেবে আমরা গর্বিত হতে পারি। আমাদের এই গর্ব,বাংলার নিজস্ব এ সংস্কৃতি কি ইসলাম বিরোধী চেতনা? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় কোন জাতির সংস্কৃতি যদি ইসলামের মৌলিক আর্দশ বিরোধী না হয়ে থাকে তবে তা ইসলাম বিরোধী হতে পারে না। ইসলামের মূল আদর্শ হচ্ছে একেশ্বরবাদে বিশ্বাস, মোহাম্মদ (সঃ)- কে প্রেরিত পুরুষ হিসেবে প্রেরিত পুরুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেই সাথে কোরআন ও হাদিসের অনুবর্তী হওয়া । বাঙ্গালী মুসলমান যদি তার বাঙ্গালিত্ব বজায় রেখে ইসলামের এই মূল আদর্শের অনুবর্তী হতে পারে তাহলে ইসলামের সাথে বিরোধের অবকাশ কোথায়?

মৌলবাদীরা বাংলা সংস্কৃতি ও ভাষার মাঝে হিন্দুয়ানী গন্ধ পেয়ে থাকে। ব্যতিক্রমকে নিয়মের ব্যত্যয় হিসেবে মেনে নিয়ে একথা অবশ্যই স্বীকার্য যে, বাঙ্গালী মুসলমানদের পূর্ব পুরুষ এক সময় সনাতন হিন্দুধর্মের অনুসারী ছিল এবং সে কারণে আমাদের ভাষা-সংস্কৃতিতে হিন্দুধর্মের অনিবার্য প্রভাব রয়েছে। এ ছাড়া বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে বৌদ্ধ ধর্ম এবং দেশজ লোকাচারের প্রভাবকেও অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এ সত্ত্বেও যদি আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি ইসলামের মূল আদর্শকে বিপন্ন না করে তাহলে তা বর্জন করার যৌক্তিকতা কোথায়? বাংলা-বাঙ্গালী সংস্কৃতির বর্তমান ধারা আমাদের নিজস্ব অহংকার,একে যারা অস্বীকার করতে চায় বা জোরপূর্বক ‘ইসলামী করণ’ করার প্রচেষ্টা চালায় তারা হয় হীনমন্যতাগ্রস্ত কিংবা তাদের রয়েছে কোন এক দূরভীসন্ধী। উল্লেখ্য, খোদ আরবে বর্তমানে যে ভাষা-সংস্কৃতি অব্যাহত আছে বিশ্লেষনে দেখা যায় তা ইসলাম ধর্মের আর্বিভাবের বহুপূর্ব থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে। আরবের মুসলমানেরা তাদের পূর্বপুরুষদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে জাহেলী যুগের বলে অস্বীকার করেনি বরং প্রাচীন সেই বেদুইন সংস্কৃতির ভিত্তিতেই তাদের সংস্কৃতি, ভাষা-সাহিত্য বিবর্তিত হয়ে চলছে।

উপমহাদেশে ধূর্ত রাজনীতিক মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌ শুধু মাত্র তার রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের লক্ষ্যে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করেন। অবশ্য এর পেছনে ইংরেজ শাসকদের ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ - এর প্রভাবও রয়েছে যথেষ্ঠ । জিন্নাহ্ত এই ধর্ম ভিত্তিক জাতীয়তাবাদে গভীর কোন দর্শন ছিল না এবং তার উদ্ভাবিত দ্বিজাতিতত্ত্ব যে একটি ভুল প্রস্তাবনা তা প্রমানিত হয়েছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাধ্যমে। উল্লেখ্য, জিন্নাহর এই জাতীয়তাবোধ ধর্মীয় কোন প্রেরণা থেকে উৎসারিত ছিল না। বরং পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত জিন্নাহ্‌ যে ইসলাম ধর্মের প্রতি খুব বেশী শ্রদ্ধাশীল বা দরদী ছিলেন না তা ঐতিহাসিকদের বিশ্লেষনে ধরা পড়ে। বর্তমানে দেশে বিদেশে জামাত সহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী রাজনৈতিক দল আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত সেই দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে তাদের রাজনৈতিক অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এই সব দলগুলো পাকিস্তানী কায়দায় বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি ভাষার বিরুদ্ধে তৎপড়তা চালাচ্ছে। এদের উদ্দেশ্য রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তালেবানী স্টাইলে তাদের ভ্রান্ত ইসলামী মতবাদকে জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া। আর এজন্য ইসলামী মুখোশে খোদ বাংঙ্গালী সংস্কৃতির উপর এদের এই আগ্রাসনের অপতৎপড়তা।

পাক-ভারত বিভক্তির অব্যহতি পরই বাংলা, বাঙ্গালী সংস্কৃতি এবং ভাষাকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হয় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক অপকৌশল বাস্তবায়নের হীন অভিসন্ধিতে । এই বিশেষ গোষ্ঠী প্রথমেই আঘাত হানে আমাদের ভাষার উপর। বাংলাভাষার সাথে হিন্দুধর্মীয় গ্রন্থাবলীর ভাষা সংস্কৃতের যোগাযোগ সুস্পষ্ট এবং এই অজুহাতে সেই সময়কার ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন গোষ্ঠী বাংলাভাষার বিপক্ষে বেশ জোরেসোরেই প্রচারাভিযান শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটেই মিঃ জিন্নাহ্‌ কুট রাজনৈতিক চাল চালেন উর্দু ভাষার সপক্ষে এবং সদর্পে ঘোষনা দেন, ‘ উর্দু, এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। শুধু তাই নয়, সে সময়কার কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে থাকে বিভিন্নভাবে। বাঙ্গালীর মানস চরিত্র গঠনে রবীন্দ্রনাথের অবদানকে সর্ম্পূণ অবজ্ঞা করে রবীন্দ্র সঙ্গীত পর্য্যন্ত সরকারীভাবে নিষিদ্ধ ছিল বেশ কিছু বছর। পাকিস্তানের সেই অন্ধকারময় যুগে বাংলাসাহিত্যের বেশ ক’জন মাইল ফলক যেমন, ইশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম চন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ প্রমূখকে অস্বীকার করার পায়তারা চলছিলো শুধুমাত্র তাদের ধর্মীয় অবস্থানের কারণে।

উল্লেখ্য, একালের মতোন সেকালেও ঘরের শক্র বিভীষণ তথা বাঙ্গালী হয়ে বাংলা ভাষা- সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করার মতোন জ্ঞানপাপী কুলাঙ্গারের অভাব ছিল না। তৎকালীন মুসলিমলীগ সমর্থিত কিছু পত্র-পত্রিকা (বাঙ্গালী সম্পাদিত ) বাংলাভাষার বিরুদ্ধে যে তৎপড়তা চালিয়েছিল তা সে সময়কার পত্র-পত্রিকা পরখ করলেই সুষ্পষ্ট সাক্ষ্য মেলে। এদের কেউ কেউ বাংলা ভাষাকে ‘মুসলামানী’ করার প্রয়াসে উর্দু হরফে বাংলা লেখার উদ্ভট যুক্তি প্রদর্শন করেছিলো। কেউ বা ছিল বাংলাভাষার তাবদ তৎসম, তদ্ভব (সংস্কৃত বা সংস্কৃত মূল) শব্দাবলী বর্জন করে আরো বেশী উর্দু, ফার্সী শব্দের জোর অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বাংলাভাষাকে ইসলামীকরণ করার স্বপক্ষে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন জাতিই তার মুখের ভাষার উপর এহেন আগ্রাসনকে র্নিদ্বিধায় মেনে নেয়নি বাঙ্গালীরাও তাই গর্জে ওঠেছিলো প্রচন্ড রোষে -- সৃষ্টি করেছিলো বাহান্নোর গৌরবউজ্জল ইতিহাস, যা ছিল আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ।

স্বাধীনতার প্রায় ছত্রিশ বৎসর পর আজো কোন কোন গোষ্ঠী ইসলামের মুখোশে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্রে লিপ্ত। এদের দাপটে আমাদের গৌরবগাথা, স্বাধীনতার ইতিহাস পর্য্যন্ত বিকৃত । এমনকি কেউ কেউ আমাদের জাতীয় সঙ্গীত পর্য্যন্ত বদলানোর ইচ্ছা প্রকাশের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে এর রচয়িতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ধর্মবলম্বী বলে। সেই পুরানো পাকিস্তানী কায়দায় এদের দাবী ডিমকে আন্ডা বলতে হবে কিংবা মাংশকে গোশত এবং ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়াকে বি. বাড়িয়া । তা না হলে যেন ইসলামই বিপন্ন হয়ে পড়বে। স্বভাবত:ই প্রশ্ন জাগে, পবিত্র কোরআনে কি কোন ভাষাকে অশুচি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে? কোরআনের ভাষা আরবী ও প্রাচীন হিব্রুভাষার মূল এক। আর হিব্রু তো মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিপক্ষ ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতের ভাষা। এছাড়া পবিত্র কোরআনের ভাষা হওয়ার কারণে আরবী ভাষাকে পৃথিবীর অপরাপর ভাষা হতে অধিকতর মর্য্যাদা দেওয়া হয়েছে একথা পবিত্র কোরআনে কিংবা হাদিসে কোথাও বলা হয়নি। বাস্তবতা এই যে, আরবীকে কোরআনের ভাষা নির্বাচিত করা হয়েছে ঘটনাচক্রে-- হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর জন্ম যদি আরব ভুমিতে না হয়ে বাংলায় হতো তাহলে কোরআনের ভাষা নিঃসন্দেহে বাংলা হতো কিংবা অন্য কোন ভূখন্ডে হলে সে ভূখন্ডের ভাষাই কোরআনের ভাষা হিসেবে পরিচিতি পেত।

বাঙ্গালী মুসলমানদের কেউ কেউ বড়বেশী বিভ্রান্ত। এদের কেউ কেউ ইসলাম ও আরবকে সমার্থক করে ফেলেন। যা কিছু আরবীয় তাকেই ইসলামী মনে করা যে এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণা যুক্তির আলোকে তা বুঝার চেষ্টা অনেকেই করেন না। এমন একটি ভ্রান্ত এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন দৃষ্টিভঙ্গীর পরিচয় মেলে নবজাতকের নাম করণ করার প্রসঙ্গে। মুসলমান হলেই আরবীতে নাম রাখতে হবে এমন কোন নির্দেশনা পবিত্র কোরআনে কিংবা কোন নির্ভরযোগ্য হাদীছে নেই। নবজাতকের নাম রাখা প্রসঙ্গে ধর্মোম্মাদ ব্যক্তিবর্গ প্রায়ই বলে থাকেন ব্যক্তির উপর নামের তাছির (প্রভাব) আছে। এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভাবনারই বা ভিত কোথায়? মোহাম্মদ নামে বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ রয়েছে। এদের কজনের উপরই বা হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর চরিত্রের প্রভাব লক্ষনীয়? মোহাম্মদ নামের অনেককেই তো দেখা যায় চোর, ডাকাত, ভন্ড প্রতারক হতে। বিজাতীয় ভাষা আরবীতে সন্তানের নাম রাখলেই যে সন্তান মোমিন মুসলমান হয়ে যাবে কিংবা বাংলায় নাম রাখলে মুসলমানত্ব নষ্ট হয়ে যাবে এমন ভাবনা আমাদের চিন্তা -চেতনার অগভীরতারই প্রকাশ। তথাকথিত মুসলমান নাম যথা আব্দুল, আবুল, খালেক, মালেক, সালেহা, রহিমা, ইত্যাদি আরব ভূখন্ডে ইসলাম আর্বিভাবের পূর্বে কি প্রচলিত ছিল না? আরবীতে নাম রাখা শুধুমাত্র মুসলমানদেরই আধিপত্য নয় বরং আরবী ভাষা-ভাষী খ্রীষ্ট্রান বা ইহুদীরাও আরবীতে নাম রাখে তাদের ভাষার প্রতি সম্মান দেখিয়েই। ধর্মমত নির্বিশেষে বাঙ্গালী সন্তানের নাম যদি অর্থবহ ও শ্রুতিমধুর বাংলা শব্দে রাখা হয় তবে বাংলাভাষাকেই যথাযথ সম্মান দেখানো হবে এবং এতে করে ইসলামের ভাবমূর্তির কোনরূপ ক্ষুন্ন হবে না এ সত্য আমাদেরকে উপলদ্ধি করতে হবে।

মুসলিম বিশ্বের অপরাপর দেশে নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া এক সময় হিন্দু সভ্যতায় প্রভাবিত ছিল। এই সত্যকে সেখানকার মুসলমানরা অস্বীকার করেনি। তাই আজো জাতীয় গ্রন্থ হিসাবে রামায়নকে সেখানকার অধিবাসীরা মেনে নিয়েছে। মিশরীয় মুসলমানেরা ফেরাউনদের সভ্যতা, ঐতিহ্য নিয়ে আজো গর্ব করে। সেখানকার মুসলমানরা হযরত মুসার সাথে যে ফেরাউনরা চরম বিরোধে লিপ্ত ছিল সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলে না।

বাংলাদেশে যারা ইসলামকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে তারা মূলতঃ ইসলামের শক্র জঙ্গীবাদকেই মদদ যোগায়। শান্তির ধর্ম ইসলামে স্পষ্টতঃই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা নিষিদ্ধ রয়েছে। ইসলাম মানবতাকেই সবচেয়ে বেশী মূল্য দেয়। আর বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের মূল সুর - সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই। তাহলে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ কেন ইসলামের প্রতিপক্ষ হবে?













 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ধর্মজাতীয়য়তা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: প্রবন্ধ  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০০
নিরব হাসি বলেছেন: আমার যেটা মনে হয়, আমাদের দেশের মানুষগুলো ধর্ম ও চলমান সব আচরন কে আলাদা করে দেখে। তারা ধর্ম আর জীবন কে এক সুত্রে গাঁথতে ব্যর্থ।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৫

লেখক বলেছেন: আমার যেটা মনে হয়, আমাদের দেশের মানুষগুলো ধর্ম ও চলমান সব আচরন কে আলাদা করে দেখে।

সুন্দর পর্যবেক্ষণ। আসলে ধর্ম তো জীবনেরই অংশ।

২. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০২
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: ভাললাগলো...
ধন্যবাদ আপনাকে
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২১

লেখক বলেছেন: আপনার ভাল লাগায় প্রীত।

৩. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০২
নিরব হাসি বলেছেন: ধর্ম কিন্তু জীবন এর ই অংশ
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২১

লেখক বলেছেন: সহমত।

৪. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
জনৈক আরাফাত বলেছেন: অনেক বড়। নিয়ে গেলাম পরে পড়বো!
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ জনৈক আরাফাত ।

৫. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
জুল ভার্ন বলেছেন: আমার মনে হয়না-বাংগালী জাতীয়তাবাদ কিম্বা ইসলাম পারস্পরিক বিরোধী কিছু। তাহলে যেখানে বাংগালী জাতীয়তাবাদ নেই সেখানেও কেনো জংগীবাদ? আমার মনে হয়-কোন ইজমই জংগীবাদীদের টার্গেট নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জংগীবাদের মুল কারন নানান রকম বঞ্চনা আর বৈষম্য। বঞ্চনা-বৈষম্য তথা স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ ভিন্ন যে জংগীবাদ সেটা-মানবতা বিরোধী। পেশাধারী জংগীবাদীদের কোন দল-মত নেই। ওরা মানবতার শত্রু।

লেখাটা খুব সুন্দর হয়েছে। অনেক পরিশ্রমী এবং বিশ্লেষনী লেখার জন্য ধন্যবাদ।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:১৪

লেখক বলেছেন: আমার মনে হয়না-বাংগালী জাতীয়তাবাদ কিম্বা ইসলাম পারস্পরিক বিরোধী কিছু। সহমত।

আসলে জঙ্গীবাদরা ধর্মকে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করায় এত বিপত্তি। মুসলিম প্রধান দেশে জঙ্গীবাদরা দারিদ্রে নিমজ্জিত জনগোষ্ঠীকে ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ব্যবহার করছে। ধন্যবাদ জুল ভার্ণ সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য।

৬. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:১৫
অন্তীম বলেছেন: '' জুল ভার্ন বলেছেন: আমার মনে হয়না-বাংগালী জাতীয়তাবাদ কিম্বা ইসলাম পারস্পরিক বিরোধী কিছু। তাহলে যেখানে বাংগালী জাতীয়তাবাদ নেই সেখানেও কেনো জংগীবাদ? আমার মনে হয়-কোন ইজমই জংগীবাদীদের টার্গেট নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জংগীবাদের মুল কারন নানান রকম বঞ্চনা আর বৈষম্য। বঞ্চনা-বৈষম্য তথা স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ ভিন্ন যে জংগীবাদ সেটা-মানবতা বিরোধী। পেশাধারী জংগীবাদীদের কোন দল-মত নেই। ওরা মানবতার শত্রু।''

সম্পুর্ন একমত।
বাংলাদেশের অধিবাসীদের জাতীয়তা বাংলাদেশী হওয়াই ভাল। ঢালাওভাবে বাঙালী জাতীয়তাবাদ প্রচার করতে গেলে আমাদের দেশের যেসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্টী আছে তাদেরকেও বাঙালী বলতে হবে।

ধন্যবাদ।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

ঢালাওভাবে বাঙালী জাতীয়তাবাদ প্রচার করতে গেলে আমাদের দেশের যেসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্টী আছে

এক্ষেত্রে জাতীয়তা নয় বরং এ অঞ্চলের সবার নাগরিগত্ব হতে পারে বাংলাদেশী।


প্রবন্ধটির কোথাও জাতীয়তাবাদকে উপজাতিদের উপর চালানোর প্রয়াস চালায়নি।

৭. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:২০
সনাতন বলেছেন: সুন্দর লেখা... ধর্মের সাথে জাতীয়তার কোনো বিরোধ নেই... বিরোধ তো থাকবে সমকক্ষ দুটি জিনিসের মধ্যে... কিন্তু ধর্মতো বিশাল ব্যাপৃত একটি বিষয়

তবে বিশ্বাসের পরিপন্থি কিছু তা আরোবের ই হোক আর বাঙ্গালীদেরই হোক সেটা বর্জনীয় বলে মনে করি...
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪

লেখক বলেছেন:
যে কোন ব্যক্তিরই তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের পরিপন্থী কোন কিছু বর্জনের অধিকার থাকতে হবে। তবে রাষ্ট্র এ ব্যাপারে নাক গলাবে না সেটাই কাম্য। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৮. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৭
সীমানা ছাড়িয়ে বলেছেন: ইসলামের সাথে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের কোন বিরোধ থাকতে পারে না। তবে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে কিন্তু অবাঙ্গালী উপজাতীয়দের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:১০

লেখক বলেছেন:
ইসলামের সাথে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের কোন বিরোধ থাকতে পারে না।

হক কথা।

তবে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে কিন্তু অবাঙ্গালী উপজাতীয়দের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে

প্রবন্ধটির কোথাও জাতীয়তাবাদকে উপজাতিদের উপর চালানোর প্রয়াস চালায়নি।

সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৯. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৪১
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: আমার মতে ইসলামী জঙ্গীবাদ আসলে একধরণের পরগাছা হিসেবে থাকে শুরুতে। কিন্তু একসময় তারা মূলকেই ধ্বংস করতে উদ্যত হয়। এক্ষেত্রে আফগানিস্থান আর পাকিস্তানের কথা উল্লেখ্যযোগ্য।

আফগানিস্থানের তালেবানরা কিন্তু অন্যান্য জঙ্গীদের থেকে কিছুটা আলাদা আমার মতে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে এরা এখন অনেকটা নিয়মিত সৈন্যবাহিনীর রুপ লাভ করেছে। আর তাই কোয়ালিশন বাহিনী এখনও এদের নিয়ে চিন্তিত। আল কায়েদা কে যত সহজে ধ্বংস করা সম্ভব, তালেবানকে না।

আর পাকিস্তান তো জন্মলগ্ন থেকেই ইসলাম ইসলাম করে মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম আর প্রাপ্তি বোধ হয় এর একটা বড় উদাহরণ। এখনও তাদের এই প্র্যাকটিসটা অব্যাহত আছে। পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী তথা আইএসআই নিজের দেশে এবং অন্যান্য দেশের ইসলামী জঙ্গীবাদের পৃষ্ঠপোষক ছিল এবং এখনও আছে। অথচ ট্রাজেডী হলো এখন নিজের দেশের ভিতরেই তারা তাদের তৈরী ফ্র্যাংকেষ্ঠাইনের জ্বালায় অস্তির।

আমাদের দেশের সরকার আর সামরিক বাহিনী মনে হয় পাকিস্থানের মডেলটা গ্রহণ করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। জঙ্গীবাদের মূলটা এদেশের মাটিতে ঠিক কতোটা গ্রথিত হয়েছে সেটা অবশ্যই সময় বলে দেবে। এদেশে বাঙ্গালী কুষ্টি-সংস্কৃতি আর ইসলাম হাত ধরাধরি করে চলছে এই এলাকায় ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে। তবে বাঙ্গালী হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খুষ্ঠান নির্বিশেষে সবাই ধর্মভীরু তবে এক্সট্রিমিষ্ট না।

আর তাই বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ ইসলাম বিরোধী না কখনই, তবে ইসলামী জঙ্গীবাদ নামের মানবতাবিরোধী শক্তির বিরোধী।

ধন্যবাদ আপনার লেখাটার জন্য।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮

লেখক বলেছেন:

আমাদের দেশের সরকার আর সামরিক বাহিনী মনে হয় পাকিস্থানের মডেলটা গ্রহণ করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। জঙ্গীবাদের মূলটা এদেশের মাটিতে ঠিক কতোটা গ্রথিত হয়েছে সেটা অবশ্যই সময় বলে দেবে। এদেশে বাঙ্গালী কুষ্টি-সংস্কৃতি আর ইসলাম হাত ধরাধরি করে চলছে এই এলাকায় ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকে। তবে বাঙ্গালী হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খুষ্ঠান নির্বিশেষে সবাই ধর্মভীরু তবে এক্সট্রিমিষ্ট না।

আর তাই বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ ইসলাম বিরোধী না কখনই, তবে ইসলামী জঙ্গীবাদ নামের মানবতাবিরোধী শক্তির বিরোধী।

সুন্দর পর্যবেক্ষণ আর মন্তব্য। ধন্যবাদ ক্যামেরাম্যান।

১০. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৬
সিংহ বলেছেন: somewhere e valo lekha ajkal kome jacche. Dhonnobad ei lekahtir jonno.
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ সিংহ।

১১. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:১১
ভাবের অভাব বলেছেন: পড়লাম। সবার কথা বলবো না তবে আমাদের মধ্যে ধর্মের গোঁড়ামিটা অনেক বেশি। +++++
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩১

লেখক বলেছেন:
ঠিক কথা বলেছেন। আমরা এখনো মুক্তমনা হতে পারিনি।

১২. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১
কাজল রশীদ বলেছেন:
@ভাবের অভাব। সবার কথা বলবো না তবে আমাদের মধ্যে ধর্মের গোঁড়ামিটা অনেক বেশি। সহমত আসল কথা এখানে।

খুব ভালো লাগলো।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কাজল রশীদ।

১৩. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৮
পাপতাড়ুয়া বলেছেন: সময় নিয়ে পড়তে হবে।কাল ক্লাস টেস্ট আছে।বগলদাবা করলাম।
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৭

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে।

১৪. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৬
অলস ছেলে বলেছেন: চিন্তার বিষয়
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৩০

লেখক বলেছেন:
আমাদের সবাইকেই চিন্তা করতে হবে।

১৫. ২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:২৭
সজল শর্মা বলেছেন: বাঁশ থেকে কঞ্চি বড়- এই কথাটি আমাদের দেশ তথা উপমহাদেশে প্রচলিত। আমি আরবের মানুষের সাথে চলেছি; অন্য ধর্ম নিয়ে বিশেষ করে হিন্দু ধর্ম নিয়ে আমাদের দেশের অনেক মুসলমান যে বৈরী মনোভাব পোষণ করে বা এধরণের সাম্প্রদায়িক মনোভাব আমি ওদের মাঝে দেখিনি।

এক গবেষক বলেছিলেন- (উনার নাম মনে আসছে না), যে যে ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয় সে ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে সেই ধর্মের প্রতি বেশি বিদ্বেষ পোষণ করবে কারণ সে নতুন ধর্মে নিজেকে খাঁটি প্রমান করতে চায়। সে তার আগের ধর্মকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে বর্তমান অবস্থানকে উপরে তুলতে। আর এটাই দেখা যায়- ব্লগের একটি পোস্টে ইয়েমেনের এক ছেলের "হারাম" শব্দের প্রয়োগ নিয়ে এক ব্লগার ধর্মের আলোকে প্রশ্ন তুললেন। আমার তখন খুব হাসি পেয়েছিল যে- মায়ের পেট থেকে বের হয়ে ওরা আরবী শিখতে পারেনি, বাঙ্গালী মুসলমানের কাছে তা শিখতে হবে। একেই বলে আসলে- বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় বা আগা মোটা গুড়ি চিকণ অবস্থা। গবেষকের মতামতের আরও একটি প্রমান পেয়েছিলাম- ইসকনের অনুসারীদের মাঝে। ইউরোপিয়ান যারা ইসকনের অনুসারী হয়েছে তারা এত গভীরভাবে বৈদিক বা উপমহাদেরশের সংস্কৃতিকে অনুসরণ করছে যে- তা আমরা এখানকার হয়েও করি না। তবে পার্থক্য একটাই ইসকনের শিক্ষার কারণে ওরা ওদের আগের ধর্মের কুতসা রটনা করে না বা বৈরীতা দেখায় না।

ধন্যবাদ আপনাকে বিস্তারিত লেখার জন্য। জিন্নাহকে নিয়ে ঠিকই বলেছেন। জিন্না উর্দুতে কথা বলতেন না- ইংরেজীতেই বলতেন। আর পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রভাবিত ছিলেন- শরাব পানও করতেন। সেই জিন্নাহর নামের শেষে এখন মনে হয় পাকিস্তানে (রঃ) লাগানো হয় (এরকম কি একটা শব্দ নামের শেষে শুনেছিলাম মনে হয় "খোদা কে লিয়ে" ছবিতে; ঠিক খেয়াল আসছে না)। আসলেই সবকিছু বিনোদন! :) :) :) :) :)
২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:২৯

লেখক বলেছেন: সুন্দর মন্তব্য করেছেন। ভাল লাগল।

১৬. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২০
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: জাতীয়তার প্রসঙ্গটি নৃতত্ত্বের বিষয়। আবার রাজনীতি বিজ্ঞানেরও বিষয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে রাজনীতিরও বিষয়। কারণ বাংলাদেশের উত্থান ও ক্রমবিকাশে জাতীয়তাবাদ একটি প্রধান উপাদান। বাঙ্গালী ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এই রূপে একটি অতিরাজনৈতিক বিতর্কও জারী আছে। আবার কিছু দলের রাজনীতিতে ধর্ম একটি প্রধান/সহযোগী উপাদান। এই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক রাজনীতির বিতর্কের উপজাত হিসাবে ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের ( আপনি একে আরো সুনির্দিষ্ট করে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ বলেছেন) মধ্যে একটা বিতর্কের অবতারণা হয়েছে এবং বেশ ভালোভাবে তা চালুও আছে। তাই জাতীয়তাবাদ ও ইসলামের মধ্যে বিরোধটায় রাজনীতির অবদান অস্বীকার করা যায় না। আরেকটি বিষয় আছে সাংস্কৃতিক। কারণ ভাষা ও সংস্কৃতি বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আবহমান বাঙ্গালী জীবনে সনাতন ধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম বহুশতাব্দীধরে জড়িয়ে আছে। ফলে অনেক ধর্মীয় আচার সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে গেছে। এটা পৃথিবীর সকল ধর্মের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। এ অঞ্চলে সুফিসাধকদের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ঘটেছে। ফলে ইসলাম গ্রহণের সাথে আগের আচারাদিও তার সঙ্গী হয়েছে। ফলে তারমধ্যে একটা দ্বিধাও তৈরি হয়েছে। বৃটিশদের ডিভাইড এন্ড রুল মুসলিম ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভেতর যে বিষ ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে তার কুপ্রভাব কুরাজনীতির কারণে আজো সক্রিয় আছে। এমনকি শরৎচন্দ্রের মতো লেখকও যখন দেখি শ্রীকান্ত উপন্যাসে লিখেছেন, ''বাঙালী ও মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ'' ।
তখন একটা বার্তা আমরা পাই মুসলিমরা যেমন নিজেকে বাঙালী ভাবতে দ্বিধাময় হয় তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও মুসলিমদের বাঙালী ভাবতে দ্বিধাময় হয়। গোলমালের পেছনে এসবেরও কিছু অবদান আছে বলে আমি মনে করি।
তবে আপনার সূক্ষ্ম ভাবনা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৫

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল আপনার সুচিন্তিত মতামতরে জন্য। "এ অঞ্চলে সুফিসাধকদের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার ঘটেছে। ফলে ইসলাম গ্রহণের সাথে আগের আচারাদিও তার সঙ্গী হয়েছে। ফলে তারমধ্যে একটা দ্বিধাও তৈরি হয়েছে।" -- এই দ্বিধাটুকু আমাদের কাটাতে হবে।

মূলত: ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় এতো বিপত্তি।

১৭. ২২ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬
ফকির ইলিয়াস বলেছেন: বাঙালী জাতীয়তাবাদ বাংলার মাটি , কৃষ্টি , সভ্যতায় লালিত।
তা কখনোই কোনো ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়।
যারা তা নিয়ে বুলি আওড়ায় , ওরা হীন স্বার্থবাদী ।
ধর্মীয় চেতনা নিয়েই এ দেশে বিস্তৃত হয়েছে সুফিবাদ। আধ্যাত্মিকতাবাদ।
ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি, বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অতীতেও ছিল , এখনও আছে ।

লেখাটি খুবই ভালো লাগলো।
অনেক তথ্যপূর্ন। যুক্তিপূর্ণ ।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কবি, আপনার সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করার জন্য।

১৮. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ৭:২০
লালসালু বলেছেন: আমি গরিব মানুষ এত কিছু বুঝি না ভাই। তবে প্লাস নেন।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ লালসালু।

১৯. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:২৮
আইরিন সুলতানা বলেছেন: নামের উপর বালামুসিবত কেটে যায়, এই ধারণাটা এখনো আমাদের দেশের এমনকি শিক্ষিত সমাজ মেনে চলে শিশুসন্তানের নামকরণের ক্ষেত্রে। নামের বই নিয়ে আরবী নামকরণের দিকেই ঝোঁক থাকে বেশী।

কোরআনের ভাষা আবরী বলেই অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে কোন কাগজেও যদি আরবী লেখা থাকে তো আমরা সামান্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠি যদি কোন বেয়াদবি হয়ে যায় তো কাগজ ধরে সালাম করে নেই। অথচ বাংলা যেমন একটি ভাষা, আরবীও একটি ভাষা। কোরআন শরীফকে আলাদা মর্যাদা দেয়া অন্য বিষয় কিন্তু তাই বলে আরবী লেখা দেখলেই আলাদা করে সন্মান দেয়ার প্রবণতাটা অনেকের মধ্যেও দেখেছি একসময়।

পুরো লেখাটা হয়থ পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে পড়িনি। তবে আপনার লেখা অবশ্যই তথ্যপূর্ণ, বিশ্লেষণধর্মী হয়। সেই ধারা এখানেও অব্যাহত আছে।
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৭

লেখক বলেছেন:
তোমার পর্যবেক্ষণটাই সমাজ বাস্তবতা। ধন্যবাদ আইরিন মন্তব্যের জন্য।

২০. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:৩৪
পল্লী বাউল বলেছেন: বাঙালী জাতীয়তাবাদ কখনোই ধর্মীয় চেতনার বিরোধী নয়।
এ ধারনা কেবল অতিরিক্ত ধর্মীয় সুড়সুড়ির অনুভুতি প্রবন কিছু লোকের।
পোস্টে ++
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৮

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ পল্লী বাউল, আপনি ঠিক কথাই বলেছেন।

২১. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:২১
১৯৭১স্বাধীনতা বলেছেন: ভাবনা জাগায় এ ধরনের লেখা

শো-কেসে নিলাম,পরে সময় নিয়ে পড়ব
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯

লেখক বলেছেন:
ধন্যবাদ ১৯৭১স্বাধীনতা।

২২. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২৩
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:

+
++
+++
++++
+++++
ভালো লিখা। ভাললাগলো।
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্য আমার অনুপ্রেরণা।

২৩. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৭
নীল ভোমরা বলেছেন: যা একখান পোস্ট লিখেছেন ভাই! পেলাচ!
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩০

লেখক বলেছেন:
আপনার ভাল লেগেছে জেনে প্রীত।

২৪. ২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:২০
আবু সালেহ বলেছেন: পুরা পড়বার পারি নাই এখনো....সময় করে বাকি অংশ পড়ে নিবো....
২৫ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩২

লেখক বলেছেন: পড়ে নেবেন সময় করে।

২৫. ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৮
জলপাই দেশি বলেছেন: ফকির ইলিয়াস বলেছেন: বাঙালী জাতীয়তাবাদ বাংলার মাটি , কৃষ্টি , সভ্যতায় লালিত।
তা কখনোই কোনো ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়।
যারা তা নিয়ে বুলি আওড়ায় , ওরা হীন স্বার্থবাদী ।
ধর্মীয় চেতনা নিয়েই এ দেশে বিস্তৃত হয়েছে সুফিবাদ। আধ্যাত্মিকতাবাদ।
ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি, বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অতীতেও ছিল , এখনও আছে ।

লেখাটি খুবই ভালো লাগলো।
অনেক তথ্যপূর্ন। যুক্তিপূর্ণ ।

সহমত।
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ জলপাই দেশী।

২৬. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৪
জনৈক আরাফাত বলেছেন: লেখাটা পরে পড়বো বলে প্রিয়তে নিয়েছিলাম। আজ সময় হলো। প্লাস।
-------------------------------------------------------------------------
ব্যক্তিগত ভাবে নিজেকে একজন বাঙ্গালী মুসলিম হিসাবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু, সর্বাপরি একজন বাংলাদেশী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্মীয় জাতীয়তা আর বাঙ্গালী জাতীয়তার মধ্যে তেমন কোন বিদ্বেষ নেই। কিছু বিষয় নিয়ে কিন্তু আছে, যেটি রাজনীতিবিদ জনপ্রিয়তা ধরে রাখার খোরাক। আমাদের মত সাধারণ মানুষদের নয়। তবে, ধর্মীয় জাতীয়তা অন্তত মুসলিম জাতীয়তা লিখিত ভাবে ওয়েল ডিফাইন্ড।

কিন্তু, নৃ-তাত্ত্বিক জাতীয়তা কিন্তু সর্বোত পরিবর্তনশীল। ফ্লেক্সিবিলিটি কিন্তু সবসময় ভালো জিনিষ নয়। শুনতে যতই ভালো হোক। আর, মুসলিম জাতীয়তা কিন্তু উগ্রতা সাপোর্ট করেনা!
------------------------------------------------------------------
লেখার জন্য আরেকবার প্লাস! :)

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১২৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
সেই কবে ... সভ্যতার আদিলগ্নে সূচিত হয়েছিল নিজেকে জানার অদম্য বাসনা। গ্রিক দর্শনের ‘know thyself’ কিংবা ভারতবর্ষের প্রাচীন দার্শনিকদের, “আত্মনাং...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ