গতকাল হয়ে গেল বিএনপি-র কাউন্সিল। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কাউন্সিলের পদাংক অনুসরণ করে বিএনপিও ব্যর্থ হল দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা করতে। মূলত: সত্যিকার গণতান্ত্রিক কাঠামোতে একটি দলের কাউন্সিলই প্রমান করে দলটি কতটা গণতান্ত্রিক । আওয়ামী লীগ কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত করেছিল সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে। বিএনপি কাউন্সিলও দলের চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত করল খালেদা জিয়াকে এবং বিএনপির সংবিধান সংশোধনী এনে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করে নির্বাচিত করল খালেদা পুত্র তারেক জিয়াকে। আওয়ামী লীগ কাউন্সিল যেমনটি দলটির বাকি গুরুত্বপূর্ণ পদসমুহ (যেমন কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ) নিয়োগ দায়িত্ব প্রদান করেছিল সভানেত্রী শেখ হসিনাকে, বিএনপিএ এর ব্যত্যয় ঘটালো না। মহাসচিব সহ, দলের ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নিয়োগদানে এককভাবে ক্ষমতা দিয়েছে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। বস্তুত: আমরা যারা রাজনীতি সচেতন, তাদের আওয়ামী লীগের কাছে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও বিএপি-র কাছে এর চেয়ে ভাল কোনকিছু প্রত্যাশা ছিল না সে কথা না বললেই চলে।
দূর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তারেক জিয়া
তবে এ কাউন্সিলে তারেক জিয়াকে বিএনপির সিনিয়র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন দলটির জন্য কতটা শুভ বয়ে নিয়ে আসবে সে বিষয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। বলাই বাহুল্য, পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিএনপি নেতৃত্ব তারেক জিয়াকেই আগামীতে বিএনপির কান্ডারী হিসেবে দেখতে চাচ্ছে। তবে সাধারণ জনগণের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা আদৌ হবে কি না তা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব ভাবলে ভাল হত।
গত জোট সরকারের আমলে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে হাওয়া ভবন কেন্দ্রিক প্যারালাল সরকার গঠন এবং কনিষ্ঠ ভ্রাতা কোকো সহ সাংগপাংগদের নিয়ে যে লুঠেরা গোষ্ঠী তারেক গড়ে তুলেছিল তার স্মৃতি তো গণমানুষের স্মৃতি থেকে আজো মুছে যায়নি। যতোটুকু জানা যায়, তারেকের ছাত্রজীবনও কলুষমুক্ত নয়। উচ্ছৃংখলার কারণে তাকে যে রেসিডেন্সিয়াল মডেল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল তা তো প্রামাণিক সত্য। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, বিএনপিতে কিংবা বিএনপির প্রতি সহনাভূতিশীল যে সব দেশপ্রেমিক সৎ লোকেরা আছেন তারা তারেক জিয়ার এ উথ্থানকে ভাল চোখে দেখছেন না।
এরপরেও কথা থেকে যায়। জাতি হিসেবে আমরা এক খচ্চর প্রজাতি। আমার এক বন্ধুপ্রতীম বড় ভাই, বাংলাদেশ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র আন্দোলনের পুরোধা পুরুষ, মুহ্ম্মদ খসরু কোন এক প্রসংগে বলেছিলেন, 'বাংগালী যে বর্তনে হাগে, সেই বর্তনেই খায়'। সত্যিই হয় তো তাই। তা না হলে এই স্বাধীন বাংলায় একাত্তরের দানব, পরাজিত চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী নিজামী, মুজাহিদকে আমরা মন্ত্রী বানাই! কিংবা স্বৈরাচার পতিত রাষ্ট্রপতি এরশাদকে করি ক্ষমতার ভাগিদার!! তাই চিহ্নিত দূনীতিবাজ খালেদা পুত্র তারেক জিয়াও কোন একদিন নির্বাচিত হয় দেশের সরকার প্রধান হিসেবে তাতে কি খুব বেশী অবাক হওয়ার আছে?
শেষ কথা: নতুন প্রজন্ম জাগছে এবার। এরাই রক্ষা করবে দেশটাকে। বাংলাদেশকে এই নতুন প্রজন্মই করবে দূর্নীতিবাজ ও রাজাকার মুক্ত। মাভৈ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


