বুর্জোয়া সমাজ ব্যবস্থায় লুটেরা গোষ্ঠীর জন্য মিডিয়া এক বড় হাতিয়ার। একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায় ক্ষুদে লুটেরা শ্রেণী যখন ক্ষমতাবান লুটেরা শ্রেণীতে উত্তরণ ঘটে তখন তারা একটি মিডিয়ার মালিক হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। এর মূল কারণ একটি শক্তিশালী মিডিয়া রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি (তথা জনগণের সম্পত্তি) লুন্ঠন প্রক্রিয়ায় ব্যপক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তাই পত্র-পত্রিকার মান-গুণ ইত্যাদি বিশ্লেষণে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে পত্রিকাটির মালিকানা কাদের এবং এ পত্রিকা প্রকাশের গোপণ উদ্দেশ্য কি এ সম্পর্কে।
বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত ১/১১-র সরকারকে আমরা অসাংবিধানিক এবং আরো বহুবিদ নেতিবাচক বিশেষনে আখ্যায়িত করতে পারি র্নিদ্বিধায়। তবুও বলতে হয় ঐ সরকারই দূর্নীতিবাজ লুটেরা গোষ্ঠীদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের মুখোমুখী করতে সক্ষম হয়েছিল। ঐ আমলেই আমরা দেখেছিলাম জল-খেকো, ভূমি-খেকো, বন-খেকো, ঘুষ-খেকোরা রাষ্ট্রীয় এবং সাধারণ জনগণের সম্পত্তি কিভাবে লুন্ঠন করে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছিল। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক সোবহান সাহেবের মুখোশও উন্মোচিত হয়েছিল সে সময়ে।
বসুন্ধরা গ্রুপ তার রিয়েল এষ্টেট প্রজেক্টের জন্য রাষ্ট্রীয় খাস জমি দখল করেছে নিদ্বিধায়। বসুন্ধরার আবাসিক প্রজেক্ট বিস্তৃর্ণ জলাভূমি দখল করে আবাসিক এলাকা স্থাপণ করায় আজ ঢাকার পরিবেশ ধ্বংশের মুখোমুখী। এ ছাড়া, ঢাকার কেরাণীগনঞ্জ এলাকার অসহায় গরীব মানুষদের জমা-জমি দখল করে বসুন্ধরা শুরু করেছে নতুন আবাসিক প্রজেক্ট (ইতোমধ্যেই সেখানে বসুন্ধরা প্রজেক্ট বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে)।
বিগত চারদলীয় জোটসরকারের ঘনিষ্ট সহযোগী বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক সোবহান সাহেব ছিলেন তথাকথিত হাওয়া ভবনের যুবরাজের নানা ষঢ়যন্ত্রের মদদদাতা। তত্ত্বাবধায়ক আমলে তার ছেলের বিরুদ্ধে খুনের মামলায় ফেঁসে যাওয়ায় সপরিবারে তিনি লন্ডন পালান। শোনা যায় বর্তমান সরকারের সাথে মামলাগুলো বিষয়ে ইতোমধ্যেই সমঝোতা হওয়ায় সপরিবারে আবার দেশে ফিরে আসেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের স্বার্থ রক্ষার কারণেই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল একটি দৈনিক পত্রিকার। আর সে কারণে কালের কন্ঠের আত্মপ্রকাশ। পরিতাপের বিষয় আমাদের বুদ্ধিজীবিরা খুব সহজেই বিক্রিত হয়ে যায়। আবেদ খানের মতোন শক্তিশালী সাংবাদিক এ পত্রিকার সম্পাদক হওয়ায় সচেতন জনগোষ্ঠীকে নিশ্চয়ই ব্যথিত করছে। যা-হোক, তবুও আমরা যারা সমাজ সচেতন এবং সমাজের অগ্রগতি প্রত্যাশী তারা নিশ্চয়ই একটি চিহ্নিত লুটেরা গোষ্ঠীর পত্রিকাটিকে জনপ্রিয় হতে দেব না। আসুন এ ব্যাপারে আমরা একটু চিন্তা ভাবনা করি এবং কালের কন্ঠকে না করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



