ধর্মীয় অনুশীলনই ইভটিজিং বন্ধের একমাত্র পথ ।(কপি পেষ্ট )
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ইভটিজিং সময়ের অতিমাত্রায় আলোচিত বিষয়। ইভটিজিং মানে হচ্ছে বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন হয়রানি। যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন, চিঠি, ই- মেইল, টেলিফোন, এসএমএস, পোস্টার, নোটিশ, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, নোটিশ বোর্ড এবং দেয়াল লিখনসহ অন্য যে কোন উপায়ে বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে উত্ত্যক্ত করাই হচ্ছে ইভটিজিং। একটি মেয়ে যেমন একটি ছেলে কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার হতে পারে, ঠিক তেমনি একটি ছেলেও একটি মেয়ে কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার হতে পারে। তবে মেয়েরাই সাধারণত ছেলে কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার হয় এবং এ ক্ষেত্রে মেয়েরাই এই যৌন হয়রানির প্রধান শিকার। আর এই ইভটিজিংয়ের মাত্রা বর্তমানে সীমা অতিক্রম করেছে। প্রতিদিনই কোন না কোন মেয়ে বখাটে ছেলে কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। আর এর প্রতিবাদ করলে নেমে আসছে নির্যাতন। এই ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে অনেক মেয়ের জীবনে ভয়াবহ দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ইভটিজিংয়ের অপমান এবং যন্ত্রণা সইতে না পেরে অনেক মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আবার ইভটিজিং থেকে বাঁচার জন্য অনেক মেয়ে লেখাপড়া পরিত্যাগ করেছে। এই ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক লোক নির্যাতিত এমনকি জীবনও হারিয়েছে। সাম্প্রতিককালে চট্টগ্রামে বখাটে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মিদাত সামিরা রহমানের মৃত্যু, ইভটিজিংকারীদের হাতে নাটোরে কলেজশিক মিজানুর রহমান এবং ফরিদপুরে চাঁপা রানীর মৃত্যু এসবের জ্বলন্ত উদাহরণ। এদিকে এই ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত কথা বললেও ইভটিজিং কিন্তু কমছে না বরং সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এর প্রকৃত কারণ হচ্ছে আমরা ধর্মকে পরিত্যাগ করছি। আর ধর্ম ছাড়া মানুষ কখনো নৈতিক চরিত্রে সমৃদ্ধ হতে পারে না। আর নৈতিকতা ছাড়া কখনো ইভটিজিংসহ কোন ধরনের অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা সম্ভব নয়। মানুষের নৈতিক অধঃপতনের প্রধান কারণ হচ্ছে ধর্মহীনতা। ধর্মকে পরিত্যাগ করে কেউ ভালো হতে পারেনি। আধুনিকতার নামে ধর্মকে পরিত্যাগ করার ফলে মানুষ হারিয়ে ফেলেছে চারিত্রিক মাধুর্য, নৈতিক মূল্যবোধ এবং মানবিকতা। ফলে অপরাধ বাড়ছে, নারী নির্যাতন বাড়ছে এবং ইভটিজিং বাড়ছে। আর ইভটিজিং চরিত্রহীন লোকদের অপকর্মের একটি দিক মাত্র। যে ইভটিজিংয়ে জড়িত সে কিন্তু সকল ধরনের অপকর্মেই জড়িত এবং এটাই প্রমাণিত সত্য। সুতরাং সত্যিকারার্থেই যদি আমরা ইভটিজিংমুক্ত সমাজ চাই তাহলে ধর্মকেই অনুশীলন করতে হবে এবং ধর্মীয় অনুশীলনই কেবলমাত্র ইভটিজিং বন্ধ করতে পারে এবং এটাই একমাত্র পথ।
আল্লাহই এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। তিনি আমাদের সবার সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা এবং পালনকর্তা। তিনি মানুষকে নারী এবং পুরুষ এই দুরূপেই সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন প্রেম, প্রীতি এবং ভালোবাসা। নারী-পুরুষের শারীরিক মিলনের মধ্যেই সৃষ্টি হয় নতুন একজন মানুষ। এভাবে চলে আসছে বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়া। সুতরাং নারী-পুরুষের এই ভালোবাসা এবং আকর্ষণ চিরন্তন, শাশ্বত এবং সৃষ্টিগত। কিন্তু নারী-পুরুষের এই ভালোবাসাকে উপভোগ করার জন্য আল্লাহ একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা দিয়েছেন। স্রষ্টা কেবল বিয়ের মাধ্যমেই নারী- পুরুষের যৌন সম্পর্ককে বৈধ করেছেন। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবকল্যাণ এবং শান্তি। কারণ কোনো কিছুর সঠিক ব্যবহারের ওপরই কিন্তু এর ফলাফল নির্ভর করে। নিয়মমতো ব্যবহারের কারণে যেই জিনিস ভালো ফলাফল দেয়, নিয়মবহির্ভূত ব্যবহারের কারণে সেই একই জিনিস কিন্তু খারাপ ফলাফল বয়ে আনে। যেমন সঠিক ব্যবহারে বিদ্যুৎ মানুষের অনেক উপকার করে। আবার নিয়ম না মানার কারণে এই বিদ্যুৎই মানুষের জন্য মরণ নিয়ে আসে। একইভাবে নিয়ম মানলে নারী-পুরুষের সম্পর্ক শান্তি আনে আবার এই নিয়ম না মানলে নারী-পুরুষের সম্পর্ক কেবল অশান্তি সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে শান্তির স্বার্থেই স্রষ্টা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে হারাম করেছেন এবং নারীদের জন্য হিজাবের প্রবর্তন করেছেন। পাশাপাশি পুরুষকেও তাদের দৃষ্টিকে সংযত করা এবং শালীন পোশাক পরার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহতায়লা পবিত্র কুরআনে বলেন, “হে আদম সন্তান, আমরা তোমাদের জন্য পোশাক নাজিল করেছি যেন তোমাদের দেহের লজ্জাস্থান সমূহ ঢাকতে পারো। এটা তোমাদের জন্য দেহের আচ্ছাদন ও শোভা বর্ধনের উপায় আর সর্বোত্তম পোশাক হলো তাকওয়ার পোশাক।” (সূরা আরাফ : ২৬) তিনি আরো বলেন, “তোমরা জাহেলি যুগের মতো রূপ যৌবনের প্রদশর্নী করে বের হয়োও না।” (সূরা আল আহজাব : ৩৩) তিনি আরো বলেন, “হে নবী, তোমার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন মহিলাদেরকে বলে দাও, তারা যেন নিজেদের ওপর নিজেদের চাদরের আঁচল ঝুলিয়ে দেয়। এটা বেশি ভালো নিয়ম ও রীতি। যেন তাদেরকে চিনতে পারা যায় ও তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা না হয়। আল্লাহ মাশীল ও দয়ালু।” (আল আহজাব : ৫৯) এদিকে নারীদের প্রতি পুরুষের যৌন হয়রানির শাস্তির বর্ণনা করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা) বলেন : যে ব্যক্তি কোন অপরিচিত নারীর প্রতি যৌন লোলুপ দৃষ্টি নিপে করে, কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত লোহা ঢেলে দেয়া হবে। (ফাতহুল কাদির) নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামের এই বিধানসমূহ বিজ্ঞানসম্মত এবং কল্যাণকর। যার কারণে ইসলামের অনুসারী কোন নারী আজ পর্যন্ত ইভটিজিংয়ের শিকার হয়নি, একইভাবে ইসলামের অনুসারী কোন পুরুষ ইভটিজিংয়ে লিপ্ত হয়নি। এই কারণে নারী নির্যাতনের হার মুসলিম সমাজেই সবচেয়ে কম। পশ্চিমা সমাজ ধর্মকে পরিত্যাগ করে কিন্তু সুখী হতে পারেনি। অন্যায় আর অনৈতিক কাজে শীর্ষস্থান দখল করেছে। যৌনতাকে ফ্রি করা সত্ত্বেও পশ্চিমা সমাজেই নারীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার। পারিবারিক অবকাঠামো সেখানে পুরোপুরিই ধসে পড়েছে। বিয়ে না করে সেখানে নারী-পুরুষ লিভ টুগেদার করছে। সমকামিতাকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। কুমারী মাতা এবং অবৈধ সন্তানের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশ্চিমা সমাজের মানুষই সবচেয়ে বেশি মাদকসেবী এবং অপরাধকারী। পশ্চিমা সমাজেই মরণব্যাধি এইডসের প্রকোপ বেশি। আর এসবই ধর্মহীনতার পরিণাম। অপর দিকে মুসলিম সমাজসহ যে সমস্ত সমাজে এখনো ধর্মের প্রভাব রয়েছে, সেখানে অপরাধ এবং অনৈতিক কাজের পরিমাণ পশ্চিমাদের তুলনায় এখনো অনেক কম। এসব সমাজে এখনো পারিবারিক কাঠামো বিদ্যমান, এখনো মাদক গ্রহণের হার কম, এখনো নারী নির্যাতনের হার কম এবং এখনো এইডসের উপস্থিতি কম। মুসলিম দেশগুলোতে সংঘটিত অপরাধের পরিমাণ এখনো পশ্চিমা দেশগুলোতে সংঘটিত অপরাধের পরিমাণের চেয়ে অনেক কম। আর এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সুতরাং এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে লাভ নেই। মানবতার কল্যাণের স্বার্থেই আজ আমাদের সবাইকে ধর্মের কাছে ফিরে যেতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। ধর্মকে বাদ দিয়ে নৈতিকতা অর্জন করা এবং ইভটিজিং প্রতিরোধ করা কিছুতেই সম্ভব নয়। ধর্মবিরোধীরা এটাকে স্বীকার করুক আর নাই করুক এটাই ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য এবং বাস্তবতা।
ধর্মকে বাদ দিয়ে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা কী পরিণতি নিয়ে এসেছে কয়েকটি উদাহরণ দিলে তা পরিষ্কার হবে। পশ্চিমা সমাজে নারীরা আজ সবচেয়ে বেশি স্বাধীন। অথচ সেখানেই নারীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, সবচেয়ে বেশি ধর্ষিত। সেখানেই দাম্পত্য জীবন সবচেয়ে ণস্থায়ী এবং ডিভোর্সের হার সবচেয়ে বেশি। সিএনএন পরিবেশিত এক খবরে বলা হয়েছে ২৯ শতাংশ আমেরিকান পুরুষ জীবনে ১৫ জন বা ততোধিক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন। অপর দিকে ৯ শতাংশ নারী তাদের জীবনে ১৫ বা ততোধিক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন। ১৫ বছর বয়সের আগে যৌনতার স্বাদ পেয়েছে এমন বয়স্কের সংখ্যা ১৬ শতাংশ। মাত্র ২৫ শতাংশ নারী এবং ১৭ শতাংশ পুরুষ বলেছে, তাদের ১ জনের বেশি জীবন সঙ্গী নেই। মাদক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২৬ শতাংশ পুরুষ এবং ১৭ শতাংশ নারী কোকেন ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য গ্রহণ করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিজ কন্ট্রোল সেন্টারের শাখা ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকস ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ২০ থেকে ৫৯ বছর বয়স্ক ৬২৩৭ জন নর-নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে এই ফলাফল পায় (২৫/০৬/২০০৭, দৈনিক আমার দেশ)। অপর দিকে ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস চালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৩১ সাল নাগাদ ব্রিটেনে বৈধ মা-বাবার সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিগত এক দশকে অবৈধ জুটির সংখ্যা ৬৫ ভাগ বেড়ে ২.৩ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। শুধু লন্ডনের পরিবারগুলোর মধ্যে সিঙ্গেল মাদার বা স্বামীহীন মায়ের পরিবার রয়েছে ২২ ভাগ, যা ব্রিটেনের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। লন্ডনের মধ্যে ল্যামবেথের পরিমাণ ৪৮ ভাগ। তাছাড়া ইসলিংটনেও টিনএজ প্রেগন্যান্সির হার সর্বোচ্চ। অন্যান্য স্থানগুলোর মধ্যে ম্যানচেস্টারে ৪৬.৮ ভাগ, গ্লাসগোতে ৪৬.৪ ভাগ, লিভারপুলে ৪৪.৮ ভাগ এবং সাউথ ওয়ার্কে ৪৫.৭ ভাগ এবং বেলফোস্টে ৪২.৪ ভাগ বলে উল্লেখ করা হয়েছে (০৬/০১/০৮, দৈনিক যায়যায়দিন)। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের ‘পল রবিসন হাইস্কুলের’ মোট ৮০০ ছাত্রীর ১১৫ জনই ‘কিশোরী মা’ হয়েছে বলে মার্কিন সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। স্কুলটির প্রতি সাতজন ছাত্রীর একজন কিশোরী মা। স্কুল কর্তৃপ জানিয়েছে, হয়তো আরো অনেক ছাত্রী নিজেদের ভেতর সন্তান বয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সেগুলো সনাক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা সঠিক সংখ্যা বলতে পারছি না (২৩.১০.০৯ ইত্তেফাক)। অপর দিকে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে অবিবাহিত মায়ের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ২০০৭ সাল থেকে জন্ম নেয়া ১০টি শিশুর মধ্যে ৪টিরই জন্ম দিয়েছে অবিবাহিত মায়েরা (১০.০৫.০৯ ইত্তেফাক)। ধর্মহীন পশ্চিমা সমাজের চিত্র কিন্তু এটাই। একইভাবে পশ্চিমা দেশসমূহ তথাকথিত নারী স্বাধীনতা এবং নারী অধিকারের তীর্থস্থান হলেও সেখানেই নারীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত। যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৪ বছরের ইতিহাসে ৪৪ জন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের সবাই পুরুষ। আজ পর্যন্ত কোন নারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। সুতরাং আধুনিকতা আর স্বাধীনতার নামে ধর্মকে পরিত্যাগ করা যাবে না এবং শান্তির জন্য ধর্মের কাছেই ফিরে যেতে হবে।
এ অবস্থায় ইভটিজিংমুক্ত একটি সুন্দর সমাজের জন্য প্রত্যেকের উচিত তার নিজ নিজ ধর্মকে অনুসরণ করা এবং এর আলোকে মানুষকে চরিত্রবান করে গড়ে তোলা। কারণ চরিত্র হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। চারিত্রিক গুণাবলি ধ্বংস হলে মানুষ নীতি-নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে আর পশুত্ববোধ এবং বিবেকহীনতা তার মধ্যে স্থান লাভ করে। তখন অপকর্মই হয়ে ওঠে চরিত্রহীন মানুষের প্রধান কাজ। ইংরেজিতে প্রবাদ আছে সত্যি সত্যি চারিত্রিক অধঃপতনের কারণে আজ আমরা হারিয়ে ফেলেছি নৈতিকতা, বিবেকবোধ, চারিত্রিক দৃঢ়তা, সততা, মানবিকতা, ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ। তাই আমাদের নতুন প্রজন্ম আজ ইভটিজিংসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে তরুণ প্রজন্মকে চরিত্রবান করে গড়ে তুলতে হবে। আর এর জন্য ধর্মকে অনুশীলন এবং পালন করতে হবে। এর কোনই বিকল্প নেই। সুতরাং পিতা-মাতার দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানকে ছোট বয়স থেকেই ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা এবং ন্যায়পরায়ণতা শিা দেয়া। তবে পিতা যেহেতু বেশির ভাগ সময় বাসার বাইরে থাকেন, সেহেতু এ ক্ষেত্রে মাতার দায়িত্ব বেশি। এ জন্য বিখ্যাত ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্ট বলেছিলেন, ‘এরাব সব ধ মড়ড়ফ সড়ঃযবৎ, ও রিষষ মরাব ধ মড়ড়ফ হধঃরড়হ.’ অর্থাৎ আমাকে একটি ভালো মা দাও, আমি তোমাদেরকে একটি ভালো জাতি দেবো। পিতা-মাতারা কিন্তু তাদের সন্তানকে ঠিকই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষত করার যাবতীয় চেষ্টা করছেন, চাকরি অথবা ব্যবসার মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন কিন্তু এর পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা এবং উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি শিক্ষা দিচ্ছেন না। ফলে যে সন্তানের সৎ জীবন যাপন ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার কথা ছিল, সেই সন্তানই হয়ে যাচ্ছে চরিত্রহীন এবং অপরাধ বিস্তারের সৈনিক। সেই ইভটিজিংয়ে জড়িত হচ্ছে। সুতরাং সন্তানদের ধর্মীয় শিা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত ছাত্ররা যাতে নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠে, সে জন্য বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনতে হবে এবং চারিত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক নিয়োগ দিতে হবে। শিককে বলা হয় দ্বিতীয় জন্মদাতা। চরিত্রবান মানুষ সৃষ্টির ক্ষেত্রে শিকের ভূমিকা অপরিসীম। যদি পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং শিকরা যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন তাহলে অতি সহজেই একদল সুযোগ্য এবং চরিত্রবান মানুষ গড়ে উঠবে, যারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে নৈতিকতায় জীবনকে পরিচালিত করবে এবং অন্যায় ও অনৈতিক কার্যকলাপকে প্রতিরোধ করবে। তৃতীয়ত রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রশিণের ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে করে দলের কর্মীরা সততা এবং নৈতিকতার ওপর শিা লাভ করে। দেশের ব্যাপক সংখ্যক মানুষের ওপর রাজনৈতিক দলের সরাসরি প্রভাব থাকায় রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র দ্বারা নেতাকর্মীরা প্রভাবিত হয়। সুতরাং যেই দলের নেতারা সৎ ও চরিত্রবান নয়, যেই দলে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা নেই, যেই দলে কর্মীদের ধর্মীয় মূল্যবোধ শিার কোন ব্যবস্থা নেই, সেই দল ও দলের নেতাকর্মীদেরকে দিয়ে নৈতিকতাসমৃদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব তো নয়ই বরং তাদের দ্বারা সমাজে অনৈতিক কার্যই সংঘটিত হবে। চতুর্থত দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নৈতিকতার আলোকে সমৃদ্ধ করতে হবে। এমন নাটক এবং সিনেমা তৈরি করতে হবে যাতে করে এসব নাটক এবং সিনেমা দেখে মানুষের মধ্যে সততা এবং নৈতিকতা জেগে ওঠে। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে যে চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে তার প্রধান বিষয় হচ্ছে ভায়োলেন্স, অশ্লীল নৃত্য ও কুরুচিপূর্ণ গল্পকাহিনী, যা কোমলমতি ছেলেমেয়েদের মধ্যে কামভাব এবং যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। ফলে তারা ইভটিজিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় যদি আমরা সত্যিকারার্থে ইভটিজিংমুক্ত একটি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণ করতে চাই তাহলে নাটক-সিনেমায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। তার জন্য নাটক ও চলচ্চিত্র থেকে ভায়োলেন্স ও অশ্লীলতা দূর করতে হবে এবং তৈরি করতে হবে মূল্যবোধসম্পন্ন সুস্থ ধারার নাটক ও চলচ্চিত্র। এ জন্য ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অবশ্যই প্রয়োজন। সর্বোপরি অসততা, অন্যায় এবং অনৈতিকতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজের যে ব্যক্তিই অন্যায় এবং অনৈতিক কাজ করুক না কেন, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় আইন করতে হবে এবং এসব আইন বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
সুতরাং ইভটিজিংসহ সকল ধরনের অপরাধমুক্ত শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আসুন আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধ শিা দিই এবং এর মাধ্যমে তাদের চরিত্রবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলি। আমরা যদি মানুষকে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে না তুলি, তাহলে শুধুমাত্র আইন করে এবং শাস্তি দিয়ে মানুষকে অন্যায় ও অনৈতিক কাজ থেকে মুক্ত করা যাবে না। ফলে ইভটিজিংও কিছুতেই বন্ধ হবে না। ইংরেজিতে প্রবাদ আছে, নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। শরীরে অসুখ হওয়ার পর চিকিৎসা করে সুস্থ হওয়ার চেয়ে অসুখকে প্রতিরোধ করাই উত্তম এবং এটাই সঠিক পথ। সুতরাং আমাদেরকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চলতে হবে এবং এরপরও যদি শরীরে অসুখ হয়ে যায় তাহলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে অসুখকে দূর করতে হবে। শরীরকে সুস্থ রাখার এই পদ্ধতি কিন্তু আমরা কম বেশি সবাই জানি এবং মেনে চলতে চেষ্টাও করি। ঠিক একইভাবে সমাজটাকে যদি ইভটিজিংসহ অপরাধমুক্ত করতে চাই তাহলে সমাজ থেকে অন্যায়কে প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করতে হবে। আর এ জন্য চরিত্রবান মানুষ তৈরি করতে হবে। তারপরও যদি কোন মানুষ অন্যায় ও অনৈতিক কাজ করে এবং ইভটিজিংয়ে লিপ্ত হয় তাহলে তাকে আইনের মাধ্যমে শাস্তি দিতে হবে। আর এটাই হচ্ছে অপরাধমুক্ত এবং নৈতিকতাসম্পন্ন সমাজ গঠনের একমাত্র পথ। রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করে শুধুমাত্র চিকিৎসার মাধ্যমে যেমন রোগকে কখনই নির্মূল করা যায় না, ঠিক তেমনিভাবে চরিত্রবান মানুষ তৈরি না করে শুধুমাত্র অন্যায়কারীকে শাস্তি দিয়ে কিছুতেই অন্যায় ও অনৈতিক কর্ম নির্মূল করা যাবে না। একইভাবে ইভটিজিংও বন্ধ হবে না। সুতরাং অন্যায় ও অনৈতিক কাজ দমনের জন্য চরিত্রবান মানুষ তৈরির কোনই বিকল্প নেই। মহানবী (সা) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে চারিত্রিক গুণাবলির দিক দিয়ে উত্তম। অতএব আসুন আমরা সবাই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে উত্তম চরিত্রের মানুষ তৈরির জন্য কাজ শুরু করি। সততা ও নৈতিকতানির্ভর একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণের জন্য আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সৎ এবং চরিত্রবান প্রজন্ম গড়ে তুলি। ইংরেজিতে প্রবাদ আছে, ঝধাব ধ মবহবৎধঃরড়হ ঃড় ংধাব ধ হধঃরড়হ। অর্থাৎ একটি জাতিকে রার জন্য একটি প্রজন্মকে রা কর। সুতরাং একটি জাতিকে রার জন্য একটি প্রজন্মকে রা করতে হবে। একটি জাতিকে গঠনের জন্য একটি প্রজন্মকে গঠন করতে হবে। আমরা যদি একটি প্রজন্মকে চরিত্রবান করে গড়ে তুলি, তাহলে সেই প্রজন্ম তার পরবর্তী প্রজন্মকে চরিত্রবান করে গড়ে তুলবে। আর এভাবে ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে একদিন পুরো জাতিটাই চরিত্রবান হিসেবে গড়ে উঠবে। যদি নতুন প্রজন্মকে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে না তুলি, তাহলে তারা ইভটিজিংয়ের মতো অপকর্মেই জড়িত হবে এবং অপরাধ জগতে প্রবেশ করবে। আর হচ্ছেও তাই। সুতরাং আমাদের ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার জন্য আমাদেরকেই কাজ করতে হবে। মহানবী (সা) বলেছেন, যার আজকের দিনটা গতকালের চেয়ে উন্নত হলো না, তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। তাঁর এই কথাটি সমাজের সকল সেক্টরে সমভাবে প্রযোজ্য। কারণ প্রত্যেকের অবস্থান সময়ের সাথে সাথে ঊর্ধ্বমুখী অর্থাৎ উন্নত হতে হবে, তা না হলে নিম্নগামিতা বা অধঃপতনে যে কোন কিছুর অবস্থান একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে। সুতরাং জাতি হিসেবে যদি আমরা উন্নত হতে চাই, অনৈতিক কাজকে নির্মূল করতে চাই, ইভটিজিংকে বন্ধ করতে চাই এবং গড়তে চাই একটি সততা ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ, তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই চরিত্রবান মানুষ তৈরি করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেককে ধর্মীয় বিধিবিধান পালন করতে হবে। আর এর মাত্রা হতে হবে সময়ের সাথে সাথে ঊর্ধ্বমুখী এবং ক্রমোন্নত। তা না হলে সময়ের পরিক্রমায় আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। একইভাবে যদি আমরা নিজেরা চরিত্রবান হই এবং অন্যদেরকে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলি তাহলে সময়ের পরিক্রমায় আমাদের উন্নতিও অনিবার্য। অতএব আসুন আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্মকে চর্চা করি, চরিত্রবান হই এবং আমাদের প্রজন্মকে চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলি। দেশ ও জাতিকে ইভটিজিংসহ সকল ধরনের অপকর্ম এবং অশান্তি থেকে রা করার এটাই কিন্তু একমাত্র পথ। মানুষ স্বীকার করুক আর নাই করুক, ইভটিজিং বন্ধে ধর্মকে অনুসরণই একমাত্র পথ এবং এর কোনই বিকল্প নেই। কারণ ধর্ম কেবল পরকালীন মুক্তির পথ নয় বরং ইহকালীন শান্তিরও একমাত্র উপায়।---জালাল উদ্দিন ওমর
ছাত্রসংবাদ
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।