অভিনব কায়দায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদক বিক্রি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট, মেডিকেল কলেজকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির বিশাল নেটওয়ার্ক। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন, প্যাথেডিন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। সহজে পাওয়া যায় বলে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি নতুন নতুন কৌশল নিয়ে মাদক বিক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চানখারপুল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, গাউসুল আজম মার্কেট, বকশীবাজার মোড়, মুহসীন হল মাঠে, পলাশী, আজিমপুর মেটার্নী হাসপাতাল, কলোনী এলাকা, মল চত্বর, ঢাকা মেডিকেল গেট, শহীদ মিনারের এবং টিএসসি সংযোগ সড়কসহ আশে-পাশের বেশ কয়েকটি স্থানে সন্ধ্যার পর থেকে বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে মাদক। রিকশা চালক, চা বিক্রেতা এবং বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে বিক্রি করছে মাদকদ্রব্য। রিকশার সিটের ভেতরে রেখে বিক্রি করছে গাঁজা। সিগারেটের ভেতরে গাঁজা ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাওয়া যায় হেরোইনের পুরিয়া আর ইয়াবা ট্যাবলেট। এসব রিকশা চালক খালি রিকশা নিয়ে এসব এলাকায় ঘুরে ফিরে থাকে। এছাড়া চা বিক্রেতা, বাদাম বিক্রেতারা আড়ালে গাঁজা হিরোইন বিক্রি করে থাকে।
সূত্র জানায়, এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর মহিলা মাদক বিক্রেতারা অবাধে বিক্রি করে মাদকদ্রব্য। ঢাবি ক্যাম্পাসের আশপাশে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী প্রায় ২শ' ছিন্নমূল পরিবারের মহিলা সদস্যরা এসব মাদক বিক্রির সাথে জড়িত।
মাদক বিক্রেতাদের অভিনব কৌশলে সাধারণ মানুষ ঘুর্ণাক্ষরেও অাঁচ করতে পারে না। আইন-শৃক্মখলা বাহিনীকেও ফাঁকি দেয়। দূর থেকে দেখলে বুঝা যাবে ফ্লাক্সে করে চা আর সাথে সিগারেট বিক্রি করছে। কিন্তু এসবের আড়ালে চলে মাদক বিক্রি। মাদক বিক্রেতাদের থাকে বেশ কয়েকজন সহযোগী। পুলিশের ঝামেলা মনে হলে ক্রেতা শুধু টাকা দিয়ে হাঁটা ধরে। আর সহযোগীরা একটু দূরে গিয়ে মাদক পৌঁছে দেয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেলে করে এখানে এসে মাদক কিনে নিয়ে যায়। এছাড়া মাদক কেনার তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও রয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো সহজলভ্য হওয়ায় ঢাবির অনেক মেধাবী ছাত্র পা বাড়িয়েছে নেশার জগতে। সন্ধ্যার পর এরা মাদক সেবন করে বুঁদ হয়ে আড্ডা জমায়।
সম্প্রতি মাদক বিরোধী একটি সংগঠন ঢাবির প্রায় ৫০০ জন শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে জানতে পারে এদের শতকরা ৪০ শতাংশ মাদকাসক্ত। তারা কোন না কোনভাবে মাদক গ্রহণ করছে। শুধু ছাত্র নয়, সহপাঠির পাল্লায় পড়ে মাদক নিচ্ছে অনেক ছাত্রী। এরা গাঁজা, ঘুমের ট্যাবলেট বেশি সেবন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পুলিশ এদের গ্রেফতার করতে সাহস পায় না। সহজলভ্য আর ব্যবহারের নিরাপদ স্থান হওয়ায় জড়িয়ে পড়ছে মাদকের জগতে। এদিকে মাদকের ক্রেতা বেশি। তাই বিক্রেতারাও নিজেদের ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করীম দৈনিক সংগ্রামকে জানান, অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রি হয় এটা সত্য। তবে আমরাও অভিনব কায়দায় গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করি। তিনি আরো স্বীকার করেন, এখানে চা বিক্রেতার এক কাপে চা এবং একই সময় অন্য কাপে লিকুইড ফেনসিডিল বিক্রি করার প্রমাণও পেয়েছি। সুত্র দৈনিক সংগ্রাম ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


