জন্মদিন-বাণিজ্যে আমার ঐতিহাসিক অবিশ্বাস
২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৩৬
আবদুল মোনেম লিমিটেড হঠাৎ করেই একবার উৎসাহী হয়ে উঠল, ইয়ো ইয়ো নামের একটি খেলা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে। ওদের কারো কারো মুখে এও শোনা গেল যে, এর মাধ্যমে তারা কিশোর-তরুণদের মাঝে ক্রীড়ানুরাগ ছড়িয়ে দিতে চায়। পরে দেখা গেল, কিসের কী! চায়না কি কোরিয়া থেকে চালানের পর চালান এল ইয়ো ইয়ো নামের অদ্ভূত এক লাঠিমভর্তি। প্রচারের তোড়ে কিশোর-তরুণরা হুমড়ি খেয়ে পড়ল ইয়ো ইয়োতে। রাস্তায় পর্যন্ত হাঁটা যাচ্ছিল না। আড়ালে তখন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে গেছে ইয়ো ইয়ো বণিকদের।
জন্মদিন পালনের রেওয়াজটাও অনেকটা সেরকমই মনে হয়। এখনকার কিশোর-তরুণরা যেন বেড়ে উঠছে শুভেচ্ছা-বণিক আর্চিস গ্যালারির ধরনেই। মননে তাদের হলমার্ক, সৃজনশীলতার ছিঁটেফোটা নেই। বুঝে কিংবা না বুঝে, জন্মদিনে-ভালোবাসা দিনে-পরিবেশ দিবসে তাদেরকে ইংরেজি পদ্যের রঙচঙা কার্ড কিনতেই হবে! কোন্ গর্দভের কবে জন্মদিন, ১০ এপ্রিল নাকি ২৩ ফেব্রুয়ারি, স্কুলবালকের ডায়রি ভরে ওঠে তার বৃত্তান্তে। উঠুক!
জন্মদিন-বাণিজ্যে আমার যে ঐতিহাসিক অবিশ্বাস, তাতে এতোটুকু চিঁড় ধরে না।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
"ডিজিটাল বয়াতী" উলঙ্গ বাবা পিণিক চাঁন ব্যাভিচারী বলেছেন:
ভালো বলসেন...৮০% সহমত...ভ্যালেনটাইনস ডে এর খেতরে পুড়া ১০০% সহমত...
নমরুদ বলেছেন:
প্লাস। আমার শিক্ষক পিতামাতা আমার জীবনে একবারও জন্মদিন পালন করে নাই......ভাবতে ভালো লাগে।
নেমেসিস বলেছেন:
হায়রে !!!! আর্চিস আর হলমার্ক কত টেকা যে খাইছে একসময় ঐডি দিয়া একটা দুই চাক্কার গাড়ি কিনতার্তাম ।
ওমেগা থ্রি বলেছেন:
আমি অবশ্য তথাকথিত সৃজনশীলতা দেখানোর চেষ্টা করতাম এইসব জন্মদিনে। একটা নমুনা পরে দিমুনে।ডিজিটাল বয়াতী @ ছেলে হোক মেয়ে হোক, ৮০%ই যথেষ্ট।
নেমেসিস@ আর্চিস আর হলমার্কে আমি বারকয়েক গেছিলাম মনে হয়।
নমরুদ @ নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মধ্যে গোঁড়ামি আর ফালতু আনুষ্ঠানিকতার জায়গা নেই- এইটা আমারও অভিজ্ঞতা।
নেমেসিস বলেছেন:
আমার বাসায় জন্মদিনের তিন চার দিন পরে মনে পরতো সবার ( + আমারও ) যে ঐ দিন আমার জন্মদিন ছিলো । পরবর্তিতে এটাই ট্রাডিশান হয়ে গেল । আর আমি একটাব্যাপারে অবাক হইসব সময় পরিবারের বাইরের লোকজন আমার জন্মদিনে কেন ইন্টারেস্ট ফীল করবে ? আমার জন্মতে তাদের কি ভুমিকা ???
ওমেগা থ্রি বলেছেন:
স্বার্থ এখানে এক্টা বড় ব্যাপার। স্বার্থসংশ্লিষ্ট হলে বাইরের লোকজনও ইন্টারেস্ট ফিল করতে পারে। যেমন ক্ষমতায় থাকলে জনাব কামরুজ্জামান রতন বা আমানউল্লাহ আমানের জন্মদিন একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
জন্মদিন পালন করা হচ্ছে ফালতু একটা ছাগলামি। পৃথিবীতে শত শত কোটি কোটি মানুষ জন্ম নিয়েছে। জন্মানোতে গৌরবের বা মনে রাখার মত কিছু নেই। রাম-শাম-যদু-মধু সবাই জন্ম নেই।
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
লোকালটক কইয়া দিছে আসল কথা!
ওমেগা থ্রি বলেছেন:
হ্যারি সেলডন @ কথা সেইটাই। রাম-শাম-যদু-মধু সবাই জন্ম নেয়। বিশেষত্ব তো কিছু নেই।নেমেসিস @ আমি তো প্যাঁচ কষি নাই। উদাহরণ দিছি মাত্র। নিজেই মনে হয় ধরা দিলেন!
নেমেসিস বলেছেন:
নারে ভাই লাইফে তেলানোর অভ্যাসটা আইজতক রপ্ত করতে পারি নাই । বিশেষ একটা নাম দেইখা কৈলাম আর কি
ওমেগা থ্রি বলেছেন:
বিশেষ এক্টা নাম- আবার জিগায়!
একজন ব্লগার বলেছেন:
সহমত+++তবে আমার কোন জন্মদিনে কারো কাছ থেকে কোনদিন কোন হলমার্ক বা আর্চিসের কার্ড পাইনি। আপসুস।
অবশ্য আমিও কাউকে দেই নাই!
.....এখন পর্যন্ত!
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন:
আপনাদের সবার সাথে দ্বিমত...আমার জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেতে বা দিতে দুটোই ভালো লাগে...
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














