somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... রাবিদ তোমাকে নতুন ভোর দেখাবো বলে স্বপ্ন দেখি। ঢাকার এআই ইউবি'র শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আসিবুর রহমান রাবিদ মোহাম্মদপুর বাসিলা বেরী বাঁধের পাশ দিয়ে বাসায় ফেরার পথে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তায় মোটর বাইক উল্টে মারাত্নক দূর্ঘটনার শিকার হন।

ড্রেসিং পাইপ সরিয়ে নেয়া রাস্তার খাদে ধাক্কা খেয়ে মোটর বাইক নিয়ে রাবিদ ও তার বন্ধু দু'জনই ছিটকে পড়েন রাস্তার অপর পাশে। মস্তিস্কের অস্বাভাবিক রক্ত ক্ষরনের কারনে রাবিদ ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। মারাত্নক আহত অবস্থায় ১১ আগষ্ট থেকে ১৭ আগষ্ট পর্যন্ত 'গ্রীণ লাইফ' হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর জ্ঞান ফিরে রাবিদের, কিন্তু মৃত্যুর শংক কাটেনি তার।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ আবুল খায়ের রাবিদকে বাঁচাতে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসা দিয়ে রাবিদ কে সুস্থ্য করে তুলতে প্রয়োজন প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা।

পেশাগত জীবনে একজন সিস্টেম কো-অর্ডিনেটর রাবিদ । এসএসসিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাবাকে হারায় রাবিদ। পিতৃহীন অসহায় রাবিদের পরিবারের পক্ষে এতো অর্থ যোগার করা প্রায় অসম্ভব। চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। রাবিদের সহপাঠীরা রাস্তায় রাস্তায় বাকেট দিয়ে রাবিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে বাঁচিয়ে রেখেছেন বন্ধুর জীবন।

চ্যানেল আই ইউরোপ চ্যরিটি সংগঠন 'নাসার' (চ্যারিটি রেজিষ্ট্রশন নং : ১১৩৮৪২২) সহযোগিতায় রাবিদকে বাঁচাতে ২৯ আগষ্ট বিকাল ৩ টা থেকে সেহরি পর্যন্ত লাইভ ফান্ড রেইজিংএর আয়োজন করেছে। ইংল্যান্ড ও ইউরোপ প্রবাসীরা চ্যানেল আই'তে (BSKYB : 844) লাইভ ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানে ফোন করে রাবিদের জন্য ডোনেট করতে পারেন অথবা সরাসরি বাংলাদেশে রাবিদের মায়ের একাউন্টে আপনাদের ডোনেশন জমা দিতে পারেন

আমাদের সকলের সহায়তা পেলে আবারও চোখ মেলে আপন ভূবণ দেখার স্বপ্ন দেখতে পারবে রাবিদ। রাবিদ, তোমাকে নতুন ভোর দেখাবো বলে আমরা স্বপ্ন দেখি, আমরা কি রাবিদকে নতুন ভোর দেখাতে পারি না ?


Donations from UK and Europe

AC Name : Non alliance social aid foundation (NASA)

HSBC Bank AC NO : 81807803
Sort Code : 400233
Phone : +447411162976
Donation Hot Line : 02034684119

Donations from Bangladesh

Zanatun Afsari (mother)
AC NO: 1543202178840001
Swift Code: BRAKBDDH
BRAC Bank Ltd
Contact Person in BD: Mr Masud (uncle ) : 01715236521 ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29439803 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29439803 2011-08-28 07:17:57
লাদেন হত্যা রহস্য উদঘাটনে শেষ ভরসা কি তবে উইকিলিস ?
মার্কিন সেনারা ওসামাকে হত্যা করেছে, কিন্তু সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া যে প্রশ্নগুলো এড়িয় যাচ্ছে তার উত্তর কি মার্কিন প্রশাসনের কাছে রয়েছে ?

১. যে সময় অভিযান চালানো হয়েছিলো সেই সময় আ্যবোটাবাদ এলাকায় কেউ হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে নাই ? শুনে থাকলে স্থানীয় এলাকা বাসীর কোন প্রতিক্রিয়া সংবাদ মাধ্যমে আসে নাই কেন ? আর কেউ যদি শব্দ না শুনে তাহলে আদৌকি সেখানে হেলিকপ্টার অভিযান হয়েছিলো ? গতকাল স্কাই নিউজ দেখলাম একবার শুধু দেখিয়েছে স্থানীয়রা কেউ হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে নাই ! তার পরে এই নিউজ নিয়ে আর কোন আলোচনা নাই !

২. সিআইএর ব্ক্তব্য হলো, তারা অভিযানের ব্যপারে পাকিস্তান সরকারকে কোন কিছু জানায় নি। মানলাম পাকিস্তান সরকার অভিযানের ব্যপারে কিছুই জানে না, আহমেদাবাদ থেকে ৫৫ মাইল দূরত্বের মধ্যে ওসামার বাড়ীতে হেলিকপ্টার ৪০ মিনিট অভিযান চালালো, কিন্তু পাক বাহিনী কোন সাড়া শব্দ পেলো না ? ইউএসএ পাকিস্তানের রাডার বন্ধ করে দিয়েছিলো বলে যুক্তি দেখাচ্ছে তার উত্তরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কেন কোন ক্লু পেলো না তাদের রাডার ৪০ মিনিট ধরে কেন বন্ধ ! তার মানে কি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বুঝতে পারেনি যে তাদের আকাশ সীমায় মার্কিন কপ্টার প্রবেশ করেছে ?

৩ .মার্কিনীরা বলছে একটা হেলিকপ্টার ইঞ্জিনে আগুন ধরে গেছে, কোথাও কোথাও লেখা হয়েছে সেই কপ্টার ওসামার বাড়ী থেকে গুলি ছোড়ার কারনে ভুপাতিত হয়েছে। কিন্তু কথা হলো ঘটনাস্থলে কি সেই হেলিকপ্টারের কোন ভগ্নাবশেষ কোন সাংবাদিকের চোখে পড়ে নাই ? পেন্টাগন আবার বলছে ওসামা নিরস্ত্র ছিলো তাহলে মেরিন হেলিকপ্টার এমনিতেই বিকল হয়ে গেলো ? সেই বিকল হেলিকপ্টার কিভাবে সেখান থেকে নেয়া হলো তার কোন তথ্য বা ছবি প্রকাশ করা হয়নি !

৪. বুঝলাম ওসামার লাশের ছবি দেখানো যাবে না , কিন্তু ঐ অভিযানে নিহত অপর চার জন সদস্যদের ছবি দেখাতে বাঁধা কোথায় ? পুরো বাড়ীতে বাকী যারা ছিলো তারা কোথায় ? বন্দীদের কোন ছবি কি নাই ?

৫. যে মেরিন কমান্ডো অপারেশন চালিয়েছে তাদের কারো বক্তব্য নাই ? খালি ওবামার কথা শুনলেই বিশ্ববাসীর বিশ্বাস হবে কেন ?

৬. পশ্চিমা মিডিয়া নিজেদের মিডিয়া মাতব্বর বলে দাবী করে , কিন্তু লাশের ছবি না হোক হেলিকপ্টারের অপারেশনের ছবি কই ? ওসামার বাড়ীর ভেতরের অপারেশনের ছবি কই ? প্রত্যেক সেনা সদস্যদের হ্যলমেটে ক্যামেরা লাগানো ছিলো। হত্যার দৃশ্য না হোক অপারেশনের ছবিও দেখাতে সমস্যা কোথায় ?

৭. ঘটনার পর পরই মার্কিন বাহিনী ওসামার বাড়ীটি সিল গালা করে দেয়! কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া সেই সিলগালা করে দেয়া বাড়ীর ভেতরের নকসা বানালো, তিনতলা বাড়ীর গ্রাফিক্স করে নিউজ বানায় , বাড়ীর উপরে ভিডিও গেমসের হেলিকপ্টার উড়ে ...এই সব নিউজ বিশ্ববাসীরে তিন দিন ধরে খাওয়াচ্ছে ! কি হাস্যকর সেই সব স্টোরি !

তাহলে আমেরিকা কি লাদেনকে মারে নাই ? আমেরিকা ওসামাকে অনেক আগেই মেরেছে কিন্তু সেটি ওবামা কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলো না , ওসামার ছেলেকে মারার পর তার ডিএনএ টেষ্ট করার পর পূর্বের ডিএনএ'র সাথে ওসামার ছেলের ডিএনএর মিল পাওয় গেলে অপারেশনে ওসামা মারা গেছে নাটক সাজানো হয়েছে। এমন সন্দেহ তো একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না।

এই সন্দেহ মিথ্যে হবে, যদি আমেরিকা ছবি দেখায় অথবা অপারেশনের ভিডিও চিত্র প্রকাশ করে, অপারেশনে নিহত অপর সদস্যদের ছবি একসাথে দেখানো জরুরী, ভিডিও তে ওসামার যে বিছানাটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে দেখানো হচ্ছে সেই ঘরের মেঝেতে যেখানে রক্ত দেখানে হয়েছে সেখানে ওসামার লাশ দেখানো অধীক যুক্তি সঙ্গত।

সর্বশেষ খবরে হোয়াইট হাউজ বলেছে অপারেশনের সময় ওসামার কাছে কোন অস্ত্র ছিলো না , কিন্তু প্রশ্ন হলো যে যুক্তরাষ্ট মানবাধিকারের কথা বলে, সেই যুক্তরাষ্ট্র নিরস্ত্র লাদেনকে মেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারটা তখন কোথায় ছিলো ?

মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীর হত্যার খবরে মোস্ট এক্সূসিভ ছবিটাও প্রদর্শন করা চাই।

লাদেন হত্যা রহস্য উদঘাটনে শেষ ভরসা কি তবে উইকিলিস ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29375492 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29375492 2011-05-05 09:07:14
ব্রিটেনে উচ্চ শিক্ষা বলির পাঠা শিক্ষার্থী !
হঠাৎ করেই ইউকে বর্ডার এজেন্সি জানিয়ে দিলো বাংলাদেশ থেকে আপাতত আর কোন শিক্ষার্থীর আবেদন তারা গ্রহন করছে না। ইউকে বিএর যুক্তি হলো এক সাথে অধীক আবেদনকারী সামলাতে তারা হিমশীম খাচ্ছে। তাই আপাতত কিছুটা বিশ্রাম। ফেব্রুয়ারী মাসের শেষের দিকে টায়ার ৪ নিয়ে নতুন নীতি মালা নিয়ে আসছে হোম অফিস। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন টায়ার ৪ এর পয়েন্ট বেজড পদ্ধতিটি পুরোপুরো ব্যর্থ। এই পদ্ধতির ফাঁক গলিয়ে ব্রিটেনে ঢুকে পড়েছে অনেক অছাত্র। এতে করে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের ব্রিটেনে শিক্ষা লাভের সুযোগ ব্যহত হচ্ছে। ইউকের বিএর এই সুযোটিকে অপব্যবহার করেছ কিছু ভুয়া কলেজ ব্যবসায়ী। ইউটিউবে সেই প্রতিবেদনটি দেখে নিতে পারেন নবাগতরা

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য যে কোন অযুহাতে নিজের দেশটা ছাড়তে পাড়লেই যেন আমরা বাঁচি। তাই এত ঝুঁকি নিয়ে নিয়ম ভেঙ্গে আমরা দেশ ছাড়ি , আসলেই কি আমরা ভালো আছি ?

মধ্যস্বত্তভোগী যে সকল এজেন্ট রয়েছে তারা অনেক শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা । অনেক এজেন্ট শিক্ষার্থীদের বলছেন লন্ডনে আগে ঢুকেন তারপর আপনার সকল দড়জা খুলে যাবে। কাড়ি কাড়ি পাউন্ড কামাতে পারবেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জায়গা জমি বিক্রী করে , বাবার পেনশনের টাকা তুলে দিচ্ছে এজেন্টদের কাছে। এজেন্ট আর ভূয়া কলেজের জনৈক অনভিজ্ঞ প্রিন্সিপাল মিলে সেই টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে খাচ্ছেন ! বিলেতে এসে সেই শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে পরেছেন।

এসকল মধ্যস্বত্তভোগীদের একটা নিয়ম নীতির মধ্যে আনতে হবে। ব্রিটিশ কাউন্সিলের শাখা বৃদ্ধির ব্যপারে আমরা প্রতিনিয়ত ব্রিটিশ হাই কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছি। ডিএফআইডির কর্তা ব্যাক্তি ও ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রধাণের সাথে লন্ডনে সর্বশেষ বৈঠকেও এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের শাখা বৃদ্ধি করলেও শিক্ষার্থীরা অন্তত সঠিক তথ্য পেতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা না বললে অনেক সত্য ঘটনা অজানা থেকে যাবে। প্রতিদিনই দুই একজনের চাকরির জন্য অনুরোধ আছসে। গত ছয় মাসে এত নতুন মুখের আহাজারী দেখিনি আমার ছয় বছরেরর প্রবাস জীবনে। অনুরোধ আসছে...আমি নিরুপায়...পারছিনা...চেষ্টা করছি সবাইকে হেল্প করতে কিন্ত সামর্থেরও সীমারেখা রয়েছে। তাই বলি, আপাতত অর্থনৈতিক সঙ্গতি না থাকলে ব্রিটেনে না আসাই হবে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ পরামর্শ । ইতিপূর্বে আমার লেখায় আমি বলেছিলাম কাজের সুযোগ ব্রিটেনে একেবারেই সীমীত । নবাগতরা সেই কথা শুনেছে বলে মনে হয়না


তবে প্রকৃত অর্থেই যারা অনেক স্মার্ট ইংরেজীতে ভালো দখল রয়েছে তাদের হয়তো পড়াশুনার পাশাপাশি একটা পার্ট টাইম কাজ জুটে যাবে । সেই খরচ দিয়ে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা হলেও দেশে টাকা পাঠিয়ে সংসার চালানো অসাধ্য। এই প্রাপ্তি কতটুকু স্বচ্ছলতা এনে দেবে এই সকল ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবকদের জীবনে সেটি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

এই অবস্থায় যারা ব্রিটেনে চলে এসেছেন তারা এখন যদি
দেশে ফিরে যান তাহলে তাকে লুজার হিসাবে সবাই তাচ্ছিল্য করবে , অন্যদিকে বিনিয়োগ করা ৪/৫ লাখ টাকা জলে যাবে । লাভের মধ্যে লাভ হবে - পাসপোর্টে একটা বিলেতি স্ট্যম্প ,বিমান চড়ার অভিজ্ঞতা আর বিদেশ ভ্রমনের স্মৃতি। দেশে ফিরলে আত্নীয় পরিজন আর বন্ধুদের কাছে মুখ দেখাতে পারবেনা এই রকম একটা পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজের জীবনের চূড়ান্ত পরিনতি মেনে নিয়ে ব্রিটেনে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিজের সূর্বণ যৌবনের সময় উৎসর্গ করে দিচ্ছে পরিবারকে একটু ভালো রাখবার জন্য , কিন্তু এই সকল যুবকদের নিজ দেশে থেকে ৫/৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ছোট্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে মাসে ১০-১৫ হাজার টাকার রোজগারের পথ বাতলে দেবার কি কেউ নেই ?
কৃষি নির্ভর আমাদের এই দেশে সবাই পড়তে চায় এমবিএ আর বিবিএ। অথছ তারা খুঁজে দেখেনা ইতিপূর্বে যারা গনহারে এমবিএ আর বিবিএ পড়তে এসেছে তারা কতটুটু সেই পথে হাঁটছে!

কর্মমূখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার প্রতি জোর দিচ্ছে দাতা সংস্থাগুলো। এই খাতে প্রশিক্ষীত লোকের যেমন অভাব তেমনি সুযোগ ও বেশী । কিন্তু আমাদের সেই দিকে নজর কম।

মূল কথা হচ্ছে আপনি ব্রিটেনে আসবেন ভালো কথা , আপনার উদ্দেশ্যটা কি ? সেটা সম্বর্কে আপনি কি নিশ্চিত ? আর আপনি যা ভাবছেন সেই সম্পের্ক আপনি কতটুকু তথ্য প্রমান নিয়ে একটা নতুন দেশে প্রবেশ করার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন সেই বিষয়গুলো ভাবতে হবে। ঠান্ডার দেশে আসলে যেমন গরম জামা কাপড় চাই, তেমনি প্রতিকূল পরিবেশে নিজের অবস্থান তৈরী করার জন্য নিজেকে সেই পরিবেশের উপযোগী করে প্রস্তুত করাটাও ততটা জরুরী।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29091941 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29091941 2010-02-05 22:10:27
বিলেতে উচ্চ শিক্ষা : স্বপ্ন আর বাস্তবতা !
যেসকল স্টুডেন্টরা প্রকৃত অর্থে বৃটেনে পড়তে আসেন না তাদের কেউ কেউ এমন ধারণা পোষন করেন ব্রিটেনে আসতে পারলে বস্তাভরে পাউন্ড কামানো যাবে। ঢাকা শহরে যেমন শপিং সেন্টারের মাঝে এক দুই কক্ষ বিশিষ্ট কিছু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বিলেতে বাঙালি মালিকানাধীন এধরনের অসংখ্য কলেজ আছে, কলেজগুলোকে বলা হয় ভিসা কলেজ । এসব কলেজে থেকে নেয়া সনদ বস্তুুত কোন কাজেই আসেনা। দেশজুড়ে কিছু এজেন্ট রয়েছেন যারা শিক্ষাথীদের ব্রিটেন সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন বলে উল্লেখ করেছেন সা¤প্রতিক সময়ে আসা শিক্ষাথীরা। ব্রিটেনে এসে শিক্ষাথীরা পড়াশুনার পাশাপাশি প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবেন বলে ধারণা পেয়েছেন তারা।

একজন শিক্ষার্থীর ব্রিটেনে প্রতিমাসে থাকা খাওয়া বাবদ নূন্যতম ৪/৫ শত পাউন্ড খরচ হবে। কমমূল্যের কলেজের টিউশন ফি বাবদ বছরে কমকরে হলেও গুনতে হবে ৩ হাজার পাউন্ড। তাহলে প্রতি মাসে একজন স্টুডেন্টের প্রয়োজন ৭ -৮ শত পাউন্ড। যদি ভাগ্যবান স্টুডেন্ট ২০ ঘণ্টার কাজ পেয়েই যায় তবে তার মাসিক ইনকাম ৫০০ পাউন্ড। এখন কথা হলো থাকা খাওয়ার খরচ না হয় জুটে গেলো। বাকি খরচ আসবে কোথা থেকে ? মন্দা অর্থনীতির কারনে শিক্ষাথীরা এখন ২০ ঘন্টার কাজও পাচ্ছেনা। আসদা, টেসকো সেইন্সবারীর মতো রিটেল শপগুলো সেলফ চেক আউট পদ্ধতি চালু করে কর্মী সংথ্যা ৫০ ভাগ কমিয়ে ফেলেছে। আর কর্মী ছাটায়ের সর্বশেষ দৃষ্টান্ত ব্রিটিশ এয়ার ওয়েজ, ৭ অক্টোবর ১৭০০ কর্মী ছাটাই করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


যে সকল শিক্ষার্থী গাঁটের পয়সা খরচ করে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসছেন তাদের জন্য কোনো পরামর্শ নেই, তারা জেনে বুঝে পড়তেই আসছেন। কারন তাদের আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে। আর সঠিক পরামর্শের জন্য ইউকে বর্ডার এজেন্সির ওয়েব সাইট দেখা উচিত।

আর যে সকল শিক্ষার্থী পড়াশুনার পাশাপাশি অর্থ উপাজন করবেন, কিংবা অর্থ উপার্জন করে টিউশন ফি যোগাড় করবেন বলে ভাবছেন অথবা টিউশন ফি যোগাড় করে পড়াশুনার খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা দেশে পাঠাবেন কিংবা সঞ্চয় করবেন, তাদের জন্য পরামর্শ - আপাতত স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন। কারণ ভাবনার জগত আর বাস্তবতার জগতের পার্থক্য অনেক। ভাবনার জগতের ধারণা নিয়ে ব্রিটেনে এসে তিন থেকে ছয় মাস কর্মহীন রয়েছেন অনেকেই। অর্থ কষ্টে কেউ কেউ মসজিদে রাত যাপন করছেন। এদের মধ্যে অনেকেই আবার ফিরে গেছেন বাংলাদেশে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ব্রিটেন অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তাছাড়া ২০১০ সালে নির্বাচনের আগে হয়তো লেবার সরকার ভোটের হিসাব নিকাশের জন্য ইমিগ্রেশন পলিসিতে পরিবর্তন করতে পারে। সেই সাথে ২০১২ অলিম্পিক কে কেন্দ্র করে ২০১০ এর শেষের দিকে কিছু নতুন কাজের সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। তাই ২০১০ এর শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্রিটেনে আসা হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।

এই পরিস্থিতিতে সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যারা ব্রিটেনে আসতে চায় তাদেরকে কোন তৃতীয় পক্ষ মিথ্যা পরামর্শ দিচ্ছে কিনা অথবা শিক্ষার্থীরা কোন ভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে কিনা। কোন অনিয়ম হলে এজেন্সিগুলোকেও একটা নিয়ম নীতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। অধীকাংশ ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থীরা বলছে তারা এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে ব্রিটেন সম্পর্কে উ”ূ ধারণা পেয়েছে। ব্রিটেনে যেসকল শিক্ষার্থীরা বর্তমানে কাজ না পেয়ে নিদারুন কষ্টে দিন যাপন করছেন, না খেয়ে পার্কে যত্র তত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ হাই কমিশণ লন্ডন ,বাংলাদেশ সেন্টার ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় এদের সাময়িক ভাবে সহায়তা দেবার একটি পথ খুঁজতে পারে সরকার ।

পুনশ্চ : লেখাটি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29023306 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/29023306 2009-10-10 07:21:51
টেলি রিপোটিং
একটি ভালো টিভি রিপোর্ট তৈরীতে শুধু মাত্র টিভি রিপোর্টারই নয় , ক্যামেরাম্যান ও ভিডিও এডিটরের যেমন সমন্বয় থাকা প্রয়োজন তেমনি সমন্বয় থাকা দরকার রিপোর্টারের সাথে সাক্ষাতকার প্রদানকারীরও। সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে একজন টিভি সাংবাদিকের যেমন শব্দের সাথে ছবি কিংবা দৃশ্য সংযোজনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, তেমনি যারা মিডিয়াতে কথা বলবেন তাদেরকেও যথেষ্ট সর্তক থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের টিভি রিপোর্ট তৈরীতে সাক্ষাতকার প্রদানকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অধীকাংশ সময় বক্তব্য প্রদানের সময় সতর্ক ভাবে সাক্ষাতকার প্রদান করেন না। সংবাদপ্রত্রে যেমন ছাপা অক্ষরে অনেক কিছু উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে টিভি সাংবাদিকের কিন্তু সেই সুযোগ নেই। একজন টিভি রিপোর্টারের সময় খুব সীমিত। অধীকাংশ সময় ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে যাবতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করতে হয়। তাই যে সকল জনপ্রতিনিধি কিংবা সামজপতিরা প্রতিনিয়ত মিডিয়ার মুখেমুখি হচ্ছেন তাদের যদি এই বিষয়গুলো সর্ম্পকে পরিস্কার ধারণা থাকে তাহলে তখন রিপোর্টারের যেমন বক্তব্য ধারনে সুবিধা হয়, তেমনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করতে চাইছেন সেটি সঠিক ভাবে প্রতিফলিত হয়।

একটি প্যাকেজ রিপোটে দুই থেকে তিনটি বক্তব্য প্রচার হতে পারে যাকে আমরা মিডিয়ার ভাষায় সাউন্ড বাইট বা সিংঙ্ক বলে থাকি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি অধীকাংশ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ’টু দ্যা পয়েন্টে’ কথা না বলে অনেকটা দায় সারা গোছের উত্তর দিয়ে ফেলেন অথবা দলীয় প্রধানকে খুশি করতে তোষামোদ শুরু করেন কিংবা অপর রাজনৈতিক দলের শাসনামলে কি কি হয়েছে বা হয়নি সেগুলো বলতে থাকেন,অনেকক্ষণ বলার পর তিনি মূল প্রশ্নের উত্তরে আসেন, অথচ ঐ কথাগুলো না বলেও তিনি সরাসরি প্রশ্নকর্তার উত্তর দিতে পারতেন। সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি নষ্ট না হলে সাংবাদিক হয়তো আরো কয়েকটি প্রশ্ন করার সুযোগ পেতেন। এখন রিপোর্টারকে তার সেই দীর্ঘ বক্তব্য থেকে ২০ সেকেন্ডের একটা সাউন্ড বাইট নির্বাচন করতে হয় সংবাদ তৈরীর জন্য। সংবাদ প্রচারের পর সংশিষ্ট ব্যক্তি বুঝতে পারেন তিনি আসলে ঐ বক্তব্যটি ঐভাবে বলতে চাননি। দু’একটা উদাহরণ দেই. বিগত জোট সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছিলেন , আল্লাহ’র মাল আল্লায় নিয়ে গেছে, আর বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন নির্বাচন পরবর্তী সহিংশতা বিএনপির আভ্যন্তরীন কোন্দল! উভয় মন্ত্রী এই কথাগুলো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই বলেছেন । কোন কিছু না ভেবে মুখ ফসকে এমন উক্তি করার কারণে সাধারণ মানুষ এই ধরনের বক্তব্য ভালো ভাবে নেয়নি। এধরণের মন্তব্যের কারণে তাদের রাজনৈতিক দল যেমন ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছে , তেমনি নিজেদের অবস্থানও স্থূলো হয়েছে। বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই বলে জামায়েত ইসলমীর সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের একটি মন্তব্যই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের রাজনীতির হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। তাই একজন মন্ত্রী কিংবা জনপ্রতিনিধি দিনের কার্যসূচীতে অবশ্যই তাঁর কাজের তালিকা লিপিবদ্ধ করবেন এবং সেই কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে সংশিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে যদি মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তিনি মিডিয়াতে কি বলবেন সেই প্রস্তুতিটিও তাঁর থাকা প্রয়োজন।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এত সময় তিনি কোথায় পাবেন ? এক্ষেত্রে মন্ত্রী বা এমপিদের হয়ে এই কাজ গুলো করে দেবেন তার প্রেস অফিসার। প্রেস অফিসার কিংবা মিডিয়া উপদেষ্টারা ঠিক করে দেবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা জনপ্রতিনিধি মিডিয়াতে কি বলবেন, সাংবাদিকদের তরফ থেকে কি ধরণের সম্ভাব্য প্রশ্নের মুখোমুখি তিনি হতে পারেন এ সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য প্রশ্ন তালিকাও সংশিষ্ট প্রেস অফিসার তৈরী করে দেবেন। সাক্ষাতকার প্রদানকারী যদি প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর না জানেন এক্ষেত্রে তিনি সরাসরি বলতে পারেন বিষয়টির তথ্য এই মূহুর্তে তার জানা নেই অথবা এই বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে না চাইলে বলতে পারেন - এ বিষয়ে তিনি এই মূহুর্তে কোন মন্তব্য করতে পারছেন না। পরবর্তীতে তিনি অফিসে ফিরে গিয়ে প্রশ্নকর্তার বিষয় সম্পর্কে তথ্য জেনে সংশিষ্ট গনমাধ্যমে সেই তথ্য প্রেরণ করতে পারেন। তবে কোন ভাবেই অনুমান নির্ভর কিংবা অবিবেচনা প্রসূত মন্তব্য মিডিয়াতে না করাই সমিচীণ।

টিভি রিপোটিংএ একজন বক্তার জন্য বরাদ্ধ থাকে ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড, ক্ষেত্র বিশেষে ৩০ সেকেন্ড। একজন রিপোটার এই রকম তিনজনের বক্তব্য দিতে হলে সময় চলে যায় ৬০ সেকেন্ড, বাকী ৩০ সেকেন্ডে রিপোর্টার তার রিপোর্টের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করবেন। যদিও বিশেষ রিপোর্ট কিংবা অনুসন্ধানী রিপোর্টের ক্ষেত্রে রিপোর্টের বি¯ৃ—তি ৩ মিনিট অথবা তার বেশীও হতে পারে। তবে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভাষায় দেড় মিনিটের সংবাদকেই স্ট্যান্ডার্ড রিপোটিং বলা হয়ে থাকে। তাই একজন বক্তা কি বলবেন, তাঁর ঐ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মিডিয়াতে কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে চান সেটি সর্ম্পকে যদি বক্তা পরিস্কার থাকেন, তাহলে একটি ভালো রিপোট তেরী করা সম্ভব। অধীকাংশ বক্তাই এই বিষয়গুলো বিবেচনা না করেই মিডিয়াতে কথা বলেন এবং নিঃশ্বাস না ফেলেই অনবরত বলতে থাকেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আমার টিভি সাংবাদিকতার চার বছর সময়কালের মধ্যে মাত্র একজন ব্যক্তিকে পেয়েছিলাম যিনি বক্তব্য দেয়ার আগে বলেছেন আমি কত সেকেন্ডের বক্তব্য চাই! পরে তার পরিচয় জানতে চাইলে ক্যারোলিন হাওই বলেন, তিনি বিবিসি’র হেড অব নিউজের দায়িত্ব পালন করেছেন ৫ বছর। ক্যারোলিন পরে আমাকে হেসে বললেন, ”তুমি তো ২০ সেকেন্ডের বেশী বক্তব্য ব্যবহার করতে পারবেনা তাই বেশী বলে কি লাভ বরং প্রয়োজনীয় কথাটাই তোমাকে বলি”। তার অর্থ এই নয় সকল উত্তরদাতাকে ২০ সেকেন্ডের উত্তর দেয়ার জন্য অনুশীলন করতে হবে। বিষয়টি উল্লেখ করার কারন হলো উত্তরগুলো যতটা সম্ভব ছোট, গঠনমূলক ও টু দ্যা পয়েন্টে হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে এই মুহুর্তে ১৩ টি টেলিভিশন চ্যানেল কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকটি বাংলাদেশী টেলিভিশন চ্যানেল আলাদা অফিস নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেই অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিস্তৃতি একেবারে কম নয় বরং বলাযায় বিস্তৃতি বিশ্বময়। প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে তেমনি দর্শকের প্রত্যাশাও কিন্ত বাড়ছে। ইউকে কিংবা আমেরিকায় একজন দর্শক যখন প্রতিনিয়ত বিবিসি, স্কাই , আইটিভি, সিএনএন কিংবা আল জাজিরার সংবাদ দেখে অভ্যস্ত হয়ে উঠে তখন সেই দর্শক বাংলাদেশের গনমাধ্যমের সংবাদ দেখে আঁড় চোখে তাকাতেই পারে ! আর একটি দেশের জন প্রতিনিধিদের বক্তব্য পুরো দেশের সামগ্রিক চিত্রকেই প্রতিনিধিত্ব করে।


বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর রিপোর্ট বিশ্লেষন করলে দেখা যাবে অধীকাংশ বক্তব্য প্রদানকারী জনপ্রতিনিধিরা মিডিয়াতে কি বলবেন এই বিষয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি থাকেন না । কিন্তু পাশ্চ্যাতে আমরা দেখি ভিন্ন দৃশ্যপট, প্রধাণমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড মিডিয়াতে কি বলবেন, সেটি তিনি আগেই প্রেসের কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই বক্তব্য আবার বলেন( যদিও নিদের্শ থাকে বক্তব্য দেয়ার আগে প্রেরিত বক্তব্য প্রচার করা যাবেনা), আর সম্পূরক প্রশ্নের ক্ষেত্রে অনেক সময় তাদের প্রেস অফিসারকে আগে বলতে হয় ঐ সাংবাদিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা এমপিকে কিধরনের প্রশ্ন করবেন। তখন সেই প্রেস অফিসার মন্ত্রী বা এমপিকে খানিকটা ধারণা দিতে পারেন তাঁর বস কি ধরণের প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন । আর তাৎক্ষনিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উত্তরদাতার প্রতুৎপন্নমতিতাই ভরসা।

দীর্ঘ দিন একই বিটে কাজ করতে গিয়ে রিপোর্টার অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমূখি হন। দেখা গেলো অনুষ্ঠানে অনেক মুখ চেনা রথি মহারথীরা হাজির, কার বক্তব্য ফেলে কার বক্তব্য দেবে রিপোটার ! এই নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় হামেশাই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সাংবাদিকদের যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি আয়োজকদেরও ভাবতে হবে তাদের মিডিয়া মুখপাত্র কারা হবেন এবং বক্তব্য প্রদানের প্রয়োজন পড়লে তিনি কি বলবেন এবং কতটুকু বলবেন। এই সমন্বয় টুকু ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য খুবই জরুরী। তাছাড়াও সংবাদ তৈরীর সুবিধার্থে, রিপোর্টের সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে রিপোর্টার স্বাক্ষাতকার গ্রহনের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব বিবেচনাকেই প্রাধ্যান্য দিয়ে থাকেন অধীকাংশ সময়। এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি কিংবা মুখ চেনা লোকের স্বাক্ষাতকার গ্রহন কিংবা একই ব্যক্তিকে বার বার স্বাক্ষাতকারের জন্য বিবেচনায় আনলে রিপোর্ট বিতর্কীত হতে পারে।

মাত্র ৯০ সেকেন্ডের হিসাব নিকাশে অধীকাংশ সময়ই অনেক কিছু করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। অন্যদিকে ঐ ৯০ সেকেন্ড সময়ের বিষয়টি মাথায় রেখে একজন রিপোর্টার যদি সব কিছুর উর্দ্ধে থেকে সাক্ষাতকার গ্রহনের সময় রিপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে নিয়ে আসতে পারেন , তবেই সেই রিপোর্টার ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন তারকা সাংবাদিক।


তানভীর আহমেদ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28942481 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28942481 2009-04-25 19:10:07
টেলিভিশন সাংবাদিকতা ও ব্রডকাস্ট ল’।
প্রথমত : অভিযুক্ত বা অপরাধের শিকার শিশুর বয়স যদি ১৩ বছরের নীচে হয় তাহলে সেই শিশু অপরাধী হলেও তার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবেনা ।

দ্বিতীয়ত : অপরাধী কিংবা নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম ও তার পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা যাবেনা।

তৃতীয়ত : ধর্ষণ কিংবা পাশবিক নির্যাতনের রিপোর্টের ক্ষেত্রে ; নির্যাতনের স্বীকার মেয়েটির ছবি কিংবা তার ঠিকানা কোন ভাবেই গনমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবেনা। যদি মেয়েটির বয়স ১৬ বছরের বেশী হয় তাহলে তার লিখিত অনুমতি নিয়ে তার ছবি বা ভিডিও প্রচার করা যাবে। তবে, যদি মেয়েটি তার ছবি প্রকাশ করতে অনুমতি না দেয় তাহলে আদালত ও ছবি কিংবা ঠিকানা প্রকাশের জন্য নির্দেশ দিতে পারবেনা।

এই বিষয়গুলো যথেষ্ট স্পর্শকাতর, তাই গণমাধ্যম কর্মীকে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে অবশ্যই এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। কিন্তু ঐ রিপোর্টে পাশবিক নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকে দেখানো হয়েছে, প্রচার হয়েছে তার মায়ের সাক্ষাতকার , প্রকাশ করা হয়েছে মেয়েটির বাড়ীর ঠিকানা। সংশিষ্ট চ্যানেলের বার্তা বিভাগ এত স্পর্শকাতর একটি বিষয় বিবেচনা না করে কিকরে প্রচারের অনুমতি দিয়ে দিলেন সেটি বোধগম্য নয় ! এই রিপোর্টের কারনে মেয়েটি সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, ভবিষ্যতে মেয়েিিটর পরিবারের সদস্যরাও সামাজিকভাবে নানা প্রশ্নের মূখোমুখি হবার সম্ভবনা রয়েছে যা কোনভাবেই কাম্য ছিলোনা।

বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া এখন একটা স্বর্নযুগ এসেছে। ১৩ টেলিভিশন চ্যানেল কাজ করছে বাংলাদেশে । কিন্তু এই নীতিমালাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধশীল না হলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ রুপ নেবে আমাদের টেলিভিশন সাংবাদিকতা।

শুধু চ্যানেল আইয়ের ঐ সংবাদটি নয়, সাম্প্রপ্রতিক সময়ে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা কিংবা সাইক্লোন সিডর ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া বেশ কয়েকটি জায়গায় সংযত আচরণ প্রদর্শণ করতে ব্যর্থ হয়েছে । বিকৃত ও গলিত লাশের ছবি প্রতিনিয়তই প্রদর্শিত হচ্ছে যা ব্রডকাষ্ট ল’ এর সম্পূর্ণ বিরোধী। বিদ্রোহের শিকার নিহত সেণা কর্মকতার বিকৃত লাশ তো দেখানো হয়েছেই সেই সাথে বিডিআর বিদ্রোহের নিহতের পরিবার যখন প্রাণ ভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল টিভি সাংবাদিকরা সেই সময় তাদের পথ রুদ্ধ করে সাক্ষাতকার গ্রহনের চেষ্টা করেছেন, ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাদেরকে কথা বলতে বাধ্য করেছেন।

বাংলাদেশের ব্রডকাস্ট ল’ কিংবা গণমাধ্যম কর্মীদের এই নিয়ম ভঙ্গ নিয়ে আমার আলোচনার কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রায় সবকয়টি শীর্ষ স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ইংল্যান্ড ও আমেরিকা সহ বিশ্বব্যপী প্রদর্শিত হচ্ছে । বাংলাদেশে নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানা গুনতে হয়না অথবা নিয়ম ভাঙ্গা হলো কি হলো না এই বিষয়গুলো তদারকি করবার কেউ নেই । কিন্তু ইংল্যান্ডে গণমাধ্যমগুলোকে অফিস অব কমিউনিকেশ বা সংক্ষেপে অফ কমের নিয়ম গুলো গণমাধ্যম কর্মীদের অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হয়।

১০ ডিসেম্বর ২০০৮ এ ’অফ কম’ চ্যানেল এস , এটিএন বাংলা এবং চ্যানেল এস এনটিভিকে ( যে ইপিজিতে এখন চ্যানেল আই চলছে ) ৪০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। চ্যানেল গুলোর অপরাধ তাদের চ্যানেলে ১ মে’০৮ তারিখে লন্ডন মেয়র ও এসেম্বলী নির্বাচনের সময় একজন প্রার্থীর পক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিলো যা অফ কমের নিয়মের সুস্পষ্ট লংঘন।

আরেকটি উদাহরণ দেই: ২০০৮ সনে ২২ সেপ্টেম্বর নেপালী টিভিকে ( যে ইপিজিতে ইউকেতে বাংলাদেশের এনটিভি পরিচালিত হচ্ছে) অফিস অব কমিউনিকেশন নোটিশ দিয়েছে, তারা যেন তাদের হরলিক্স এর টিভি বিজ্ঞাপনটি ইউকে তে প্রদর্শণ বন্ধ করে দেয়, কারণ ঐ টিভি বিজ্ঞাপন ইউকের নিয়মকে লঙ্ঘন করেছে। হরলিক্সএর বিজ্ঞাপনটির ভাষা এমন ছিলো যে,হরলিক্স খেলে শিশু কিশোর দের শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পাবে, হাড় শক্ত হবে..মেধা বাড়বে ইত্যাদি.... এনটিভি ঐ বিজ্ঞাপন বন্ধ করেছে । শুথু হরলিক্স নয় দেশে এমন রং ফর্সা করার বিজ্ঞাপন প্রচার হয় যে ক্রিম ব্যবহার করলে রমণীরা ছ’ থেকে আট সপ্তাহে হয়ে উঠবেন নজর কারা সুন্দরী ! ইউকের অফিস অব কমিউনিকেশনের নিয়ম অনুযায়ী কোন পণ্যের বিজ্ঞাপনে এধরণের ভাষা ব্যবহার করা যাবেনা ।

আরো কিছু ভুল আমাদের গণমাধ্যম গুলো প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে যা ব্রডকাষ্ট ল’কে লঙ্ঘন করে। ব্রডকাষ্ট ল’ অনুযায়ী সংবাদ কখনও স্পন্সর করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল গুলো প্রতিনিয়তই সংবাদ স্পন্সর করে যাচ্ছে, ওমুক ব্যাংক সংবাদ শিরোনাম , তমুক ব্যাংক বানিজ্য সংবাদ নাম দিয়ে টিভি চ্যানেল গুলো সংবাদ প্রচার করছে। এখানেই শেষ নয় , দর্শক খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, টিভি স্ক্রিনের নীচে বাম দিকে সংবাদ চলাকালীন সময়ে কখনও গোলাকার, কখনও ডিম্বাকার আকৃতির কিছু বিজ্ঞাপন টিভি পর্দায় মাঝে মাঝে আসা যাওয়া করে ভিডিও এডিটিংএর ভাষায় যাকে টিকার (ঞওঈকঊজ) বলা হয়, সংবাদ চলাকালে টিকার ব্যবহার করা অফিস অব কমিউনিকেশনের নিয়ম বর্হিভূত। এই সমস্ত টিকার বিজ্ঞাপন ঢাকতে ইংল্যান্ডের সম্প্রচার কতৃপক্ষকে টিভি পর্দায় পট্টি ব্যবহার করতে হয়, যেন ঐ বিজ্ঞাপন দেখা না যায়। ঐ পট্রি দিয়ে যখন বিজ্ঞাপন ঢাকা হয় ,তখন সংবাদ প্রচারের সময় রিপোর্টে যদি আস্টন সহ কারো সাক্ষাতকার প্রচার হয় তখন ঐ পট্টির কারণে দর্শক সংশিষ্ট ব্যক্তির নাম (অঝঞঙঘ) পড়তে পারেন না। প্রতিদিন ইউকের চ্যানেল আইয়ের অফিসে দর্শকরা ফোন করে অভিযোগ করেন ভাই আপনারা পট্টি সরান, আমরা সংবাদে প্রচারিরত সাক্ষাতকার প্রদানকারীর নাম দেখতে পাইনা। এই কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে টেলিফোনে অফকমের নিয়মের কারণে পট্টি সরানো যাচ্ছেনা বলে বুঝাতে হয়। কিন্ত ঢাকার টিভির কর্তাব্যক্তিরা যদি অফকমের এই নিয়ম মেনে টিভি না চালান তবে অদুর ভবিষ্যতে ছোট্ট ভুলের জন্য অনেক বড় অংকের জরিমানা গুনতে হবে।

ইউকের ব্রজকাস্ট ল’ ভঙ্গকারীর জরিমানার অংকটা যে কত বড় সেগুলোর কয়েকটা নমুনা দিলে অফকম নামের আতংকের প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে মিডিয়া কর্মীদের কিছুটা ধারণা হবে।

প্রিমিয়াম রেটের ফোন লাইন অপব্যবহারের জন্য ৮ মে, ২০০৮ এ ইংল্যান্ডের স্যাটেলাইট চ্যানেল আইটিভিকে ৫.৬৮ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিলো। ভুয়া ড্রাগ ডকুমেন্টারী প্রচারের অভিযোগে কার্লটন টেলিভিশনকে ২ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমান দিতে হয়েছে ২০০৭ সনে। এছাড়া ভুয়া বিজয়ী দেখিয়ে দর্শকদের বিভ্রান্ত করার দায়ে বিবিসিকে ৪০০ হাজার পাউন্ড জারিমানা গুনতে হয়েছে। এরকম বহু উদাহরণ আছে, আগ্রহী পাঠকরা জানতে চাইলে ৩ এপ্রিল ২০০৯ এ প্রকাশিত ব্রিটেনের শীর্ষ দৈনিক গার্ডিয়ান’র অনলাইন আর্কাইভ এ বিস্তারিত পড়ে নিতে পারবেন।

ব্রিটেনের ক্ষমতাধর গণমাধ্যম গুলোও এসব নিয়ম নীতির বাইরে নয়। আর এই নীতিমালা কার্যকরের অন্যতম কারণ হচ্ছে অফিস অব কমিউনিকেশনের শক্ত অবস্থান। বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রনালয়ের ইউকে ভার্সনটাই হলো অফিস অব কমিউনিকেশন। আর সাধারণ মানুষ যেখানে তাদের প্রতিবাদ জানাবে সেটি হলো প্রেস কাউন্সিল । আমাদের দেশে তথ্য মন্ত্রনালয় ও প্রেস কাউন্সিল নামে যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তার কার্যকারিতা কতটুকু গতিশীল সেই প্রশ্নটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে প্রেস কাউন্সিল ইলেকট্রনিক মিডিয়ার এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো সম্পর্কে কতটুকু সচেতন ও কার্যকরী ভুমিকা পালন করছে সে বিষয়গুলো তথ্য মন্ত্রনালয়কে বিবেচনায় আনতে হবে। আর ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমগুলো মনিটরিং করার জন্য মন্ত্রনালয়ের উপযুক্ত লোকবল ও যন্তপাতি রয়েছে কিনা সেগুলোও বিবেচনা করতে হবে। সেই সাথে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমগুলোকেও বিশ্বব্যপি সংবাদ ও অনুষ্ঠানমালা স¤প্র্রচার করতে হলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নীতিমালার পাশাপাশি আন্তজাতিক নীতিমালা গুলোর প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

লেখক :
তানভীর আহমেদ।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28940176 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28940176 2009-04-19 20:13:30
আসুন এই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুকে অসম্ভব করে দেই ।
নিতান্ত কোন দূঘটনা কিংবা আকস্মিক দূর্বিপাকের কথা বলছিনা, তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাবার স্মৃতিচারণ করিছ, আমি আমার প্রিয়তম বাবার কথা বলছি, সেই রাতের কথা বলছি, তারও আগে অসংখ্য রাত মাস আর বছর পেরিয়েছি আমরা, কিন্তু সেই রাতে আমি দেখেছি আমার কোলেই একটি নিশ্চিত মৃত্যু আমার জন্য অপেপক্ষা করছে। কি নির্মম, কি নিষ্ঠুর ! কিছুক্ষণ পর আমার বাবার মৃত্যু হবে, আর একজন সন্তান হয়ে আমাকে নিরুপায় হয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে ! কিভাবে একজন জীবন্ত মানুষ তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্তান হয়ে আমি অর্থবের মতো শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছি সেই মৃত্যু! প্রায় এক যুগ আগের কথা বলছি আমি। সেই সময়ে বাবাকে তিনটা কেমোথেরাপি পর্যন্ত সহ্য করেছে এই প্রকৃতি, তারপর চোখ বুজলেন বাবা। তখন সবে মাত্র আমি স্কুলের গন্ডি পার হয়েছি, আমার কলম তখন জেগে উঠবার পৌরুষ অর্জন করেনি, সব কিছু বুঝে উঠার আগে তাই আমাকে মৃত্যুকেই স্বাগত জানাতে হয়েছিলো।

প্রিয় কলম সৈনিক, ব্লগার, কবি জিফরান খালেদের বাবাকে আমি আমার বাবার চেয়ে ভিন্ন ভাবে দেখিনা। এক যুগ আগে হয়তো নিজের বাবার মৃত্যুকে অসম্ভব করার দাবী নিয়ে আপনাদের কাছে আসবার সামর্থ্য আমার ছিলোনা, তাই জীফরানের বাবার জন্য আপনাদের কাছে এসেছি। শুধু সহযোদ্ধা হিসাবে নয়, একজন বাবা হিসাবেও নয়. কিংবা শুধু মানবিক কারনেও নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এ.জে.এস.এম খালেদের বেঁচে থাকার এই আকুতি সচেতন মানুষ হিসাবে আমাদের কতটা আলোড়িত করে সেই মাপকাঠি আমার কাছে নেই, তবে আমরা যে চাইলেই অসম্ভব করে দিতে পারি এই মৃত্যুটিকে। আসুন এই মৃত্যুকে না বলি।

স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এই রোগটিকে ডাক্তারী ভাষায় 'কিউটেনাস টি সেল লাইফোমিয়া'বলা হয়ে থাকে । রক্তের শ্বেত কনিকায় এই ক্যান্সার আক্রমন করে রক্তের গতিকে শ্লথ করে দেয়। এই ধরণের রোগের চিকিৎসা যেমন দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ, তেমনি ব্যয় বহুল। ১৯৯০ সনে জিফরানের বাবার এই রোগ ধরা পড়ে। দীর্ঘ ১৭ বছরের যুদ্ধের পর নিজের কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছিলেন অনেকটা নিরবেই। দূরারোগ্য এই ব্যাধিটির চিকিৎসা জন্য ডাক্তাররা মেডিকেশনের কথা বলছেন। সেই সাথে ডাক্তাররা ৯০ হাজার ইউ এস ডলারের একটি আনুমানিক চিকিৎসা ব্যায়ের কথাও স্বরণ করিয়ে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যার্নফোর্ড মেডিক্যাল ও পেনিসেলভিনিয়া মেডিকেশন সেন্টার এই চিকিৎসার জন্য উৎকৃষ্ট স্থান। চিকিৎসা ব্যায়ের এক বিশাল পাহাড় আর ভিসা জটিলতার দুষ্ট চক্রে পড়ে , বেঁচে থাকার যুদ্ধটা থেমে আছে ভারতের চেন্নাই আর ভেলোরে চিকিৎসা নেওয়ার মধ্য দিয়ে। তবুও খরচ হয়ে গেছে প্রায় ১২ লাখ টাকা !

এই লেখা যখন আমি লিখছি তখন জিফরান আমাকে টেলিফোনে জানালো তারা বাবা এই বিষয়টি অপছন্দ করছেন, আমি এই বিষয়টি নিয়ে লিখে যেন সময় নষ্ট না করি, তার সময় শেষ হয়ে আসছে, যা হবার হবে.....আমি এক অবাধ্য সন্তানের মতো লিখে চলেছি, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা গুনী শিক্ষকের কথা। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই যিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় অসাধারণ মেধার অধিকারী হবার কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের ফুলব্রাইট বৃত্তিও পেয়ে যান, ফিরে এসে দেশের হন। শিক্ষকতা শুরু করেন চট্র্রগ্রাম বিআইটিতে, বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনেও কিছুদিন কাজ করেন। কাজ করেন বিসিক, ইয়াঙ্গুনের মতো গুও“ত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে শান্তা-মরিয়াম ইউনিভার্সিটিতে টেকনিক্যাল এ্যডভাইজার ও ফ্যাকাল্টি হিসাবে কর্মরত। তাঁর লেখা দুটি গ্রন্থ 'পোশাক শিল্পে ওয়ার্ক স্টাডিজ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কৌশল' এবং 'পোষাক শিল্পে মান ব্যবস্থাপনা' আমাদের গার্মেন্টর্স শিল্পের অন্যতম দলিল। কিন্তু জীবন মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষনে আজ বড় বেশী অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা। বিপন্ন হতে চলেছে তার জীবন নিছক অর্থের অভাবে !!


অসম্ভব গুনী, অভিমানী আর সৎ এই মুক্তিযোদ্ধার সহযোগিতায় হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই। সু-শান্ত, সুবিনয় মুস্তফি , জিফরান, ধ্র“ব, নিঝুম আর আমি বসেছিলাম ব্রিকলেনে, সিদ্ধান্ত হলো ব্লগে ব্লগে আমরা এই আবেদন ছড়িয়ে দেবো। নিঝুম লিখবে সচলনায়তনে , আমি সামহোয়্যার ইনএ আর সু-শান্ত আমার ব্লগে । সুবিনয় খুলেছেন ফেসবুক গ্র“প(Click This Link), খোলা হয়েছে একাউন্ট, লিংক আছে পে পলের( ), তৈরী হয়েছে ওয়েব সাইট (http://www.saveafreedomfighter.org) সহায়তার দ্বার খুলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্লগার রেনেটের ভাই সঞ্জয় পেরেরা, ক্রেডিট কার্ডে কিনে দিয়েছেন ৩ হাজার দুশ ডলারের ঔষধ। ব্লগার সিগ্ধা ঔষধ ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে দিয়েছেন, প্রতি মাসে এই ঋণের এই বোঝা বাড়ছে....

আমার কাছে এমন কোন যাদুর চেরাগ নেই যে, আমি একজন বাবা কিংবা একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য এক ঘসাতেই ৯০ হাজার ডলারের মতো বিশাল অংকের অর্থ যোগার করে ফেলবো। তবে আমি স্বপ্ন দেখি হাজার মানুষের মানবিক চেতনায় একটি অসম্ভব কে সম্ভব করার। এমন দৃষ্টান্ত ব্লগাররা দেখিয়েছেন বহুবার। আজ আবার এ জে এস এম খালেদের জন্য আমাদের মানবিক অনুভূতিগুলো জেগে উঠুক থেমে যাক এই মৃত্যুর ডাক।


একাউন্ট ডিটেইলস :

A. J. S. M. Khaled
Account no. 1510200470775001,
Swift Code: BRAKBDDH, BRAC BANK,
Uttara Branch, Dhaka
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28893478 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28893478 2009-01-06 00:16:40
ভোটের গাড়ী
সেই প্রচারাভিযানকে অনুস্মরণ করে ছুটে চলেছে গনমাধ্যম কর্মীরাও। ভোটকে ঘিরে নেয়া হয়েছে নানা ধরণের অনুষ্ঠান মালার। চলছে রাত ভর টক শো । জোড়ালো হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের 'না' বলার দাবী।,ভোটের সংবাদের জন্য এনটিভির শাহেদ আলম ছুটেছেন নির্বাচনের পথে পথে আর এটিএন বাংলার জ. ই . মামুন চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের গাড়ী নিয়ে। ক্যামেরার কল্যাণে আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় মুহূর্তের মধ্যে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত অলিগলির মিছিল মিটিংয়ের সংবাদ উঠে আসছে গনমাধ্যমে।

এই যে এতো এতো মানুষ , আমি অবাক হয়ে দেখি, নির্বাচন নিয়ে মানুষের এতো উৎসাহ !! এই মানুষগুলোকি তাদের নেতা নেত্রী নির্বাচন করে প্রতারিত হবে, নাকি ভোট দিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে ? প্রায় সব কটি গনমাধ্যমকে দেখা যাচ্ছে নেতা নেত্রীদের অনুস্বরণ করে সংবাদ সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি এমন যে খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা কিংবা এরশাদের গাড়ী বহর যে দিকে যাচ্ছে গনমাধ্যম কর্মীরাও আরেকটি গাড়ী বহর নিয়ে তাদের অনুস্বরণ করছেন , যেখানেই গাড়ী থামছে পথ সভা হচ্ছে সেখানেই গনমাধ্যম কর্মীর্রাও সেখানে থেমে ক্যামেরায় ভিডিও দৃশ্য ধারণ করছে। কিন্তু এমনকি হয় না, যেখানে গনমাধ্যম কর্মীরা আগে পৌঁছে যাবেন , যেখানে পথ সভা হবে বা জনসভা হবে সেই মানুষ গুলোর সাথে কথা বলেছেন, কিংব নির্বাচনকে ঘিরে সেই এলাকার জনগন কি ভাবছেন যিনি নেত্রী কিংবা জন প্রতিনিধিকে দেখতে মিছিলে কিংবা খোলা ময়দানে গিয়ে বসে থাকছেন না তার অভিমত কি ? অথবা যিনি মিছিলে যাচ্ছেন তার সাথে বিনিময়টা কি হচ্ছে, অভিযোগ রয়েছে মিছিলে যাবার জন্য প্রতি সমর্থক দিন হিসাব করে টাকা পান প্রার্থীর কাছ থেকে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সিন্ডিকেট থাকে মানুষ জোগার করার জন্য। জনসভায় বাস দিয়ে মানুষ জড়ো করাই সেই সিন্ডিকেটের কাজ । মোটার সাইকেল কিংবা বাস ভর্তি করে প্রতি গ্রাম মহল্লা ও থানা থেকে লোক জড়ো করে নিয়ে আসা হয় জনসভার জন্য। নির্মম হলেও সত্য এই একই মানুষ শেখ হাসিনার মিছিলেও আসেন আবার খালেদা জিয়ার মিছিলেও যান, দুই বার গেলে দুইবার পয়সা পাওয়া যায়। এই বিষয়গুলো কোন গনমাধ্যম কর্মীকি খুঁজে দেখেছেন ??

প্রত্যেক থানা ও জেলা শহর গুলোতে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন । সাথে থাকবেন দলীয় এজেন্টরাও । ভোটের আগে এই সকল কর্মকতারা কোন চাপের মধ্যে রয়েছেন কিনা, কেউ তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে কিনা,তাদের সাথে কোন সমঝোতা হচ্ছে কিনা এবিষয়গুলোর প্রতি সর্তক দৃষ্টি রাখাও গনমাধ্যমের কর্মীদের দায়িত্বের বাইরে নয়।

একই সাথে নির্বচনের দিন ভোটার নিয়ে টানা হ্যঁচড়া নতুন ঘটনা নয়।প্রত্যেক প্রার্থীদেন এলাকা ভিত্তিক এজেন্টরা সব ভোটারদেও বাড়ী বাড়ী রিক্সা পাঠিয়ে দেয় , কোথাও গাড়ী যেন ভোটাররা নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারে। যদিও অনেক ভোট কেন্দ্র পায়ে হাঁটা পথ , তবুও প্রত্যেক এলাকায় প্রার্থীদের কর্মী বাহিনী নিযুক্ত থাকে যেন ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে, আর ঠিক এই সুযোগে ভোটরদেও প্ররোচিত করে। কিংবা ভয় ভীতি দেখিয়ে তাদেও নিদিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে বলা হয়। এই বিষয়গুলো অভিযোগ আকারে আসছে । তাই হাজার জনতার ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে রিপোর্টের পাশা পাশি গনমাধ্যম কর্মীদেও এই বিষয়গুলোর সত্যতা অনুসন্ধান করা উচিত।

নির্বাচন কে কেন্দ্র করে কি পরিমান মোটর সাইকেল বিক্রি হয়েছে , কিংবা হঠাৎ করে কমদামী শাড়ী , লুঙ্গি বিক্রী বেড়ে গেলো কিনা এই তথ্য গুলোও খুজে বেড় করা যেতে পারে। চায়ের স্টলগুলোতে রাত ভর আড্ডা আর চা কাপে ধোয়া উড়ে , এই টাকা কি প্রার্থীরা দিচ্ছেন কিনা সেই প্রশ্ন করা যেতে পারে চা বিক্রেতাকে। নির্বাচনী আচরণ বিধীমালায় প্রার্থীদের চা- খাওয়ানো যদিও তুচ্ছ একটি বিষয় কিন্তু সাধারণ মানুষযেন প্ররোচিত হয়ে ভোট না দেয়ার বিষয়গুলোর প্রতি সর্তক দৃষ্টি দেওয়াই মিডিয়ার অন্যতম ভূমিকা। সেই স্টোরিগুলোতো আসছে না বিদ্রোহী প্রার্থীদেও দমনে কতটাকা ব্যয় হলো ? কত টাকার বিনিময়ে বিদ্রোহী প্রাথীরা আসন ছেড়ে দিলেন সতীর্থদের জন্য !


জ.ই মামুন তাঁর ভোটের গাড়ী নিয়ে যখন চট্রগামের পথে তখন গাড়ীর চাকার পাংচার হয়ে গেলো ! ভাবনা কি, স্পেয়ার চাকা ছিলো উনার কাছে। চাকা বদলে আবার নতুন করে তিনি ছুটে চলেছেন গন্তব্যে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বচনে দিন বদলের পথে ভোটারদের কাছে সেই বাড়তি চাকাটা কি তবে 'না' ভোট ?


ছবি কৃতজ্ঞতা : জ.ই মামুন ও শাহেদ আলম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28888100 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28888100 2008-12-26 01:53:39
তারুণ্যের বিজয় ভাবনা : প্রেক্ষাপট ব্রিটিশ বাংলাদেশী
এবার বিজয়ের চেতনার সন্ধানে বের হয়েছিলাম নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, প্রায় গোট পঞ্চাশ জন বিভিন্ন বয়সের তরুন ব্রিটিশ বাঙালীর সাথে কথা বলেছি, জানতে চেয়েছিলাম আসলে বিজয় দিবসের চেতনাটি তাদের কাছে কেমন ভাবে নাড়া দেয় সেটি জানবার জন্য। হতাশ হয়েছি দারুণ ভাবে, আবার স্বপ্ন দেখে পুলকিত হয়েছি বার বার। '৭১ নিয়ে তরুন প্রজন্মের ভাবনাগুলো অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। তাঁরা শুধূ এতটুকুই জানে '৭১ সনে বাংলাদেশে শুধু একটা যুদ্ধ হয়েছিলে তাতে পাকিস্তানীরা পরাজিত হয়েছিলো মাত্র !

কেউ বা ১৬ ডিসেম্বর আসলে কি সেই দিবসটিই জানেনা, ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাস সম্পের্কেই তাদের উৎসাহ বেশী। বিলেতে জন্মনেয়া তরুনটির কাছে লাল সবুজের পতাকার চেয়ে সাদা ক্যানভাসে নীল ও লাল
রঙের পতাকা বেশী আকর্ষণীয়। তবে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী প্রজন্ম যারা যুদ্ধের পর কিংবা যুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসে এসেছেন, অথবা যুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসে থেকে মুক্তিযু্দ্ধের সময়ে সমস্ত অর্থ আর সহায় সম্বল দিয়ে সহায়তা করেছেন তাদের সন্তানরাই এই নতুন প্রজন্ম; যাদের কাছে ধীরে ধীরে বিজয় দিবসের চেয়ে ক্রিসমাস কিংবা বক্সিং ডে অধীকতর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, হতাশার কথা এখানেই।

আশার কথা হলো এঁরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধদের বিরত্বের কথা , গনহত্যার কথা , রাজাকারদের কূ-র্কতীর কথা , লাখো নারীর সম্ভ্রম হানীর কথা শোনার পর মুল বিষয়গুলো সম্পর্কে উৎসাহ দেখিয়েছে, জানিয়েছে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা , উচ্চারণ করেছে যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির কথা। কেউ কেউ পরিবার থেকে কিছু শিক্ষা পেলেও মুক্তিযুদ্ধের উপর পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত, ইংরেজী বই , প্রামান্য চিত্রের অভাবের কথা বলেছেন। পাশ্চত্যের সিলেবাসে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীরা নিজের দেশের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস আর শ্রেষ্ঠ বীরদের বিরত্বগাঁথা গল্পের সহজলভ্যতার সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন, তাদের কেউ এনে বসিয়ে কোনদিন মুক্তির গল্প শোনায়না, হাতে তুলেদেয়না একখানা বই কিংবা প্রামান্য চিত্র ! ঠিক এমনি ভাবে বেড়ে উঠা এই প্রজন্ম যদি ১৬ ডিসেম্বর ভুলে বসে, বা দিবসটি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যায় এই দায় ভার কে নেবে ?

নতুন প্রজন্মকে তাদের শেকড়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটা চেষ্টা করেছি একটি প্রামান্য চিত্রের মাধ্যমে। বিলতে বড় হওয়া তরুনরা ১৯৭১ নিয়ে বলেছেন তাদের চেতনার কথা , হতাশা আর স্বপ্নের কথা।


প্রামান্য চিত্রটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
British Bangladeshi's Thoughts on 16 Dec
প্রামন্য চিত্রটি তৈরীতে কারিগরী সহায়তা দিয়েছে চ্যানেল আই ইউকে।
আর সার্বিক তত্বাবধানে ছিলো 'নেটওয়ার্ক বাংলা '
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28883591 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28883591 2008-12-17 05:20:25
লন্ডনে আড়াই মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশ হেরিটেজ সেন্টার।
বাংলাদেশের ঐহিত্যকে ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশ সম্পর্কে জানাতে ও দেশের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে বাংলাদেশ সেন্টারের জীর্ণ এই আদল, বাংলাদেশ সেন্টার হবে বাংলাদেশ হেরিটেজ সেন্টার। ’হেরিটেজ লটারী’, ’লন্ডন ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি,ও লটোর মতো জায়েন্ট দাতা সংস্থাগুলো এগিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। নতুন এই প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রস্তাবটি তৈরী শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে। ইতিমধ্যে সম্পৃক্ত করা হয়েছে আড়াইশত কর্মী বাহিনী। প্রকল্পের প্রধান পরামর্শক শেখ আলিউর রহমান সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গনমাধ্যমের প্রতিনিধির কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, অর্থ কোন সংকট নয়, তবে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে আমরা কি করতে যাচ্ছি, তবে এর জন্য সর্বস্তরের বাংলাদেশী কমিউনিটিকে প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি। আলোচনা কালে বক্তারা চারতলা বিশিষ্ট নির্মিত কমপে¬ক্সটিতে ৭১ এর স্মৃতি বিজরিত একটি যাদুঘর, বাংলাদেশের পর্যটন সম্পর্কে পর্যপ্ত তথ্য সম্বলিত ’তথ্য ডেস্ক’ ও কমপক্ষে পাঁচশত আসন বিশিষ্ট মিলনায়তন নির্মানের দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেন্টারের সহ সভাপতি হাফিজ মজির উদ্দীন, ট্রেজারার খন্দোকার ফরিদ উদ্দীণ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28833843 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28833843 2008-08-23 06:35:39
না হইলাম দেশী না বিদেশী লোকে বলে প্রবাসী।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর বাংলাদেশের চেয়ারপার্সন মোজাফ্ফর আহমেদ খানিকটা রুঢ় ভাবেই বলেছেন, ’যারা আমার দেশের পার্সপোট ত্যাগ করে বিদেশী পার্সপোর্ট নিয়েছেন তাদের কেন আমার দেশের ভোট দিতে হবে?’ কথাটা এতটা রুঢ় ভাবে না বলে হয়তো প্রবাসীদের অবদানের কথাগুলো স্বীকার করে , যৌক্তিক প্রশ্ন উত্থাপন করা যেত। লন্ডনে এসে জেনেছি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বিলেত প্রবাসী বাঙালিরা মাস শেষে যে বেতন পেতেন কোন রকমে চলার অর্থটা রেখে বাকী টাকা বাংলাদেশে পাঠিয়েছে সহায়তা হিসাবে। ট্রাফলগার স্কয়ারে, হাইড পার্কে গনআন্দোলনের মাধ্যমে আন্তজার্তিক সমর্থন আদায়ে সহায়তা করেছিলো এই প্রবাসীরাই। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের যেকোন দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রবাসীরা যেভাবে পাগলের মতো ফান্ড রেইজ করে দেশে পাঠান সেগুলো বাংলাদেশে বসে জানবার কথা নয়। সম্প্রতি সাইক্লোন সিডরের সময়ে ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের টাকার অংকটা বিদেশী দাতাদের চেয়ে কোন অংশে কমনয়। এই বিষয়গুলোকে সম্মানের সাথে বিবেচনা করতে হবে। তাছাড়া সদ্য পাশ করা বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীরা চাকুরির জন্য হাপিত্বেষ না করে প্রবাসে এসে অন্তত তার বেকারত্বটা ঘুচাতে পারছে সেই সাথে একটা পরিবারের অবলম্বন হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে এটাওবা কমকি ? এতে দেশ প্রেম কমে যাবার প্রশ্ন আসেনা। বরং বিভিন্ন পরিস্থিতি আর প্রতিকুল অবস্থার কারনেই মানুষ কেবল প্রবাস যাপন করে। দেশের প্রতি পিছুটানটা আসলে থেকেই যায়।
শেখ রেহানা দীর্ঘ দিন ব্রিটেনে বসবাস করছেন, এমন যদি হয় তাহলেতো তাঁর কোন দিন বাংলাদেশে গিয়ে রাজণীতি করা বা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকেনা। সেই সাথে শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় আমেরিকান নাগরিক ও রেহানা পুত্র রেজোয়ান সিদ্দীকী ও কন্যা টিউলিপ সিদ্দীকীও ব্রিটিশ নাগরিক তাদের ক্ষেত্রে কি নিয়ম প্রযোজ্য হবে ? এই সুত্র ধরে তাদেরকি বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে উৎসাহ দেখানো উচিত ?

এবার কিছু যুক্তির কথা বলি, জনপ্রতিনিধী নির্বাচন করবে কারা ? ধরা যাক আমি কুমিল্লা ৮ নির্বাচনী এলাকার ভোটার। নির্বাচনে আমি যদি আমার এলাকার জনপ্রতিনিধিকে ভোট দিতে যাই তাহলে আমাকে অবশ্যই সেই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে, কথা হলো আমি গত ৪ বছর ধরে প্রবাসে অবস্থান করছি, প্রবাসে এত ব্যস্ততার মঝে প্রার্থীদের সাথে পরিচিত মাধ্যম হলো সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেল। তাও ৩০০ আসনের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের খবর গনমাধ্যমে ঘুরে ফিরে আসতে আসতে অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যপার। বাকী থাকে টেলিফোনে বা ইন্টারনেট। মাঝে মাঝে বন্ধু বান্ধব আতœীয় পরিজনের সাথে যোগাযোগের সময় নিজের এলাকার খবর নেয়া কিংবা বছরে দু’একবার হলিডেতে দেশে বেড়াতে গেলে এক পলক দেখা। এখন কথা হলো এইটুকুই কি একজন প্রার্থী নির্বাচনের জন্য যথেষ্ঠ ? ধরে নিলাম কোন না কোনভাবে যোগ্য প্রার্থীকে প্রবাসীরা সনাক্ত করতে পারলো। তাছাড়া নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিরা যেহেতু একটি নিদিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচিত হবেন সেক্ষেত্রে তার পুরো প্রবাসীদের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ কম থাকবে। তারপরও প্রবাসীদের ভোট নির্বাচনের জন্য যতটানা জরুরী তারচেয়ে মনেহয় জরুরী প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নিরসনে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়কে কার্যকর করা। প্রয়োজনে প্রাবসীদের সমস্যাগুলো দেখার জন্য প্রবাসীদের মধ্য থেকে টেকনোক্রেট পার্লামেন্টারিয়ান নির্বাচিত করা যেতে পারে। অথবা প্রত্যেক দেশ থেকে প্রবাসী উপদেষ্টা নির্বাচন করা যেতে পারে। প্রবাসে বসেই তারা প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে মতামত দেবেন। তিনি তার কাজের জন্য প্রবাসীদের কাছেই দায়বদ্ধ থাকবেন। প্রতিবছর প্রবাসীরা ভোট দিয়ে প্রয়োজনে তাকে সেই দেশের উপদেষ্টা বানাবেন। তাহলে সবার মধ্যে গ্রহনযোগ্যতা থাকবে।


কিন্তু প্রাবাসীরা দাবী তুলতে পারেন,আমরা প্রতি বছর ৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠাই যা বিদেশী সাহায্যের চেয়ে বেশী, আমি ভোট দেবোনা তো কে দেবে ? দেশ পরিচালনায় আমাদের অংশ গ্রহনও থাকতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তর হলো, প্রবাসীদের কল্যানের জন্য যে বিষয়গুলো উত্থাপন করা যায় সেই বিষয়গুলোতে সরকারের নজর বাড়ানোর জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেয়া যেতে পারে। প্রবাসীদের মনোনিত উপদেষ্টা যিনি প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের অধীনে সরকারের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন তার মাধ্যমেই সকল দাবী দাওয়া পৌঁছে যাবে।

বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সাংবাদিকতার সুবাদে যে সমস্যাগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের নজরে আসে তার মধ্যে অন্যতম , প্রবাসীদের জায়গা জমি জোর করে দখল, আত্নীয় স্বজনদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সমস্যা , ভূয়া জমি বা ভূয়া ফ্লাট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের খপ্পরে পরে টাকা গচ্চা যাওয়া ,বাড়ী কিংবা ব্যবাসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির স্বীকার হওয়া, বিমান বন্দরে হয়রানী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের আরোহন ও অবতরণ কার্ড পূরণে জটিলতা, রেমিটেন্স প্রেরণে ব্যংক গুলোর দীর্ঘ সূত্রিতা এই সব। আর কিছু লোক আছেন বিদেশে আসবার আগেই দালালের খপ্পরে পড়ে অর্থ খুইয়ে সর্বশান্ত হওয়া। মোট কথা ঘুরে ফিরে এই সমস্যাগুলোর মধ্যেই প্রবাসীরা ঘুরপাক খায়। এই সমস্যাগুলোকে নিরসনের উদ্যোগ নিতে হলে প্রবাসীদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা নিয়োগ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়কে শক্তিশালী করতে হবে।

আরো একটি বিষয় আলোচনা হয়েছে সম্প্রতি, ’বেসরকারী ব্যংকগুলো বিদেশে একচেঞ্জ খুলতে চায়’ (১০ জুলাই , প্রথম আলো) এটি সম্ভব হলে হুন্ডি ব্যবসা অনেক কমে যাবে। সেই সাথে প্রবাসীরাও নিশ্চয়তা পাবে। তবে প্রবাসে একচেঞ্জগুলোকে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যংকের ছায়া তলে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। তাহলে প্রবাসীদের একটা শেষ আশ্রয়স্থল থাকবে। অতীতে ব্যক্তিগত মালিকাধীন বেশ কিছু রেমিটেন্স কোম্পানী মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ নিয়ে উধাও হয়েছে। তাই এখনও প্রবাসে সোনালী ব্যংক ই ভরসা। তবে স্বল্প সংখ্যক শাখা আর দূর্বল ব্যবস্থাপনা দিয়ে সোনালী ব্যংক্ও সঠিক সেবা দিতে পারছেনা।

কয়েকদিন আগে সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধূরী লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে দারুন একটা কথা বলেছেন,”আপনারা নিজেদেরকে ব্রিটিশ বাংলাদেশী বলেন কেন ? আপনারাতো বৃটিশ , তবে আপনাদের সুন্দর একটা বাংলাদেশী হেরিটেজ আছে যা গর্ব করার মতো, নিজেদেরকে কেন আপনারা এথনিক মাইনরিটি বলে দাবী করে সুবিধা চাইতে যাবেন, আপনি বৃটিশ , বৃটিশ নাগরিক হিসাবেই আপনার দাবী উত্থাপন করবেন।” আসলে আমরা প্রবাসে থেকেও না হতে পারলাম ব্রিটিশ না বাংলাদেশী , হয়ে রইলাম প্রবাসী !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28823814 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28823814 2008-07-24 19:42:31
হাসিনা - এরশাদ বৈঠক লন্ডনে গুঞ্জন ! অণ্যদিকে যুক্তরাজ্য জাতীয় পার্টি সূত্র জানিয়েছে, একই দিনে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জাতীয় পাটির উদ্যোগে এক কর্মী সভায় যোগ দেবেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। ওই দিন যুক্তরাজ্য জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান হাজি মুজির উদ্দীনের নাম ঘোষনা করা হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28822700 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28822700 2008-07-21 19:39:35
মুজিব পরিবারে নতুন অতিথি রেজোয়ান বধূ পাপ্পিয়া।
সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে । শেখ রেহানার পুত্র রেদোয়ান সিদ্দীকী অবশেষে তার প্রেমিকা ফিনল্যান্ডের নাগরিক পাপ্পিয়াকেই বিয়ে করতে যাচ্ছেন। শনিবার ফিনল্যান্ডে একান্ত ঘরোয়া পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে উভয়ের আকদ অনুষ্ঠান। ১২ জুলাই আনুষ্ঠানিক রেজিষ্ট্রেশন হবে বলে জানিয়েছেন ফিনল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, রেজোয়ানের মা শেখ রেহানা, বোন টিউলিপ সিদ্দীকী ও রুপন্তী ও ফিনল্যান্ড গেছেন। একান্ত ঘরোয়াভাবেই রেজোয়ান পাপ্পিয়ার আকদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে । পাপ্পিয়া বেলজিয়ামের ব্রাসেলস বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। চার বছর সময়কাল উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো বলে জানা গেছে। তবে রেজোয়ানের সাথে বিবাহের কথা ঠিক হওয়াতে পাপ্পিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন খাদিজা সিদ্দীকী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28819100 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28819100 2008-07-11 09:05:35
জলকেলী
আসাদ গেট আড়ং-এর সামনে আজকে গাজরা পাওয়া গেল না, নওরিতার মেজাজ খুবই খারাপ। এখন আবার সেই কাঁটাবন যেতে হবে। ভ্রু কুঁচকে অলকের দিকে তাকায় নওরিতা। যেন আসাদগেটে গাজরা না পাওয়ার পেছনে অলকের হাত ছিলো! অকলের দেরি করে আসা একটা কারণ বটে, তবে অলক নওরিতাকে আশ্বস্ত করে বলে,' চলো শাহবাগ যাই, কাঁটাবন কিংবা শাহবাগ মোড়ে নিশ্চই গাজরা পাবো, মন খারাপ করার কি আছে ?'
- ক'টা বাজে ঘড়ি দেখেছো? এখন শাহবাগ গেলে আমি শাড়ি কিনবো কোন সময়? ভাবলাম আসাদ গেট থেকে গাজরা কিনে কাছাকাছি বুটিক হাউজগুলো থেকে একটা লাল পাড়ের শাড়ি কিনবো। নাহ্ আজকেও তোমার দেরি করে আসতে হলো!

ঝাড়ি খেয়ে অলক ট্যাক্সি ডাকতে গেলে নওরিতা থামায়।

- ট্যাক্সি লাগবে না, রিক্সা করে যাবো।
- এই না বললে দেরি হয়েছে, এখন আবার ট্যাক্সিতে যেতে চাইছ না যে?
- তোমার কি ধারণা তোমার সঙ্গে শপিং করতেই আমি বের হয়েছি? রিক্সা করে গেলে যদি দেরিও হয় আমি রিক্সাতেই যাবো। তোমার আপত্তি থাকলে তুমি ট্যাক্সিতে যাও।

কাঁটাবনের যে ক'টা ফুলের দোকান আছে সবগুলোতেই গাজরা শেষ। পহেলা বৈশাখের আগের দিন এমন আকাল হবে জানলে তো আগেই কিনে রাখা যেত। অলক এবার খানিকটা ভয়ে ভয়ে বলে, চলো শাহবাগ গিয়ে দেখি ...

নওরিতার অগ্নিমূর্তি ধীরে ধীরে আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, আর সেই উত্তাপে অলকের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে যায়।

শাহবাগে গাজরা পাওয়া না গেলেও রজনীগন্ধার গাজরা পাওয়া গেল, কিন্তু নওরিতা খুঁজছিলো কাঠবেলীতে তৈরি গাজরা। কাঠবেলী গাজরাগুলো খোপায় খুব ভালো মানায়, একদম মিশে থাকে।


- স্যার গাজরা শেষ. দুইটা রজনী গাজরা আছে, লইয়্যা লন, পরে এইডিও পাইবেননা।

বিক্রেতার কথা শুনে অলক নওরিতা একে অপরের মুখ দেখাদেখি করে। রজনী গাজরা নিয়েই নওরিতাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

গাজরা কিনে ধানমন্ডির একটা বুটিক হাউজে ঢুকে অলকের বেশ ভালো লাগলো, এই হাউজের সব কিছু জোড়ায় জোড়ায় বিক্রি হয়, 'কাপল হাউজ' শাড়ী কিনলে সেটার সাথে ম্যাচিং করে পাঞ্জাবিও কিনতে হয়। নওরিতা একটা শাড়ি পছন্দ করে। সাদা জমিনে লাল আর সবুজ রঙের কম্বিনেশনে ব্রাশ করে একটা প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করা হয়েছে। বেশ পছন্দ হলো নওরিতার। যদিও দাম বেশ খানিকটা বেশি, মনে হচ্ছে আগুন দাম!


সকাল বেলা অলকের মেসেজে ঘুম ভাঙলো নওরিতার।
'এসো নীপো বনে... ছায়াবিথী তলে এসে ...করো স্নান , নবধারা জলে, এসো নীপ বনে' ... শুভ নববর্ষ। বাংলায় লেখা অলকের প্রথম এসএমএস পেয়ে নওরিতা ঠিক যতোটা চঞ্চল হয়েছিলো অলকের দ্বিতীয় মেসেজটা পেয়ে ততোটাই চুপসে গেলো সে।

নওরিতার লালচে মুখটা ক্রমেই রক্তিম হয়ে উঠে, ফ্রিজ থেকে বের করা গাজরা গুলো টেনে টেনে ছিড়ে ফেলে নওরিতা।

বৈসাবি উৎসব সম্পর্কে অলকের ধারণা শুধু খবরের কাগজ পড়েই, কখনও নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি, গত রাতে শাহনুর ভাইয়ের এমন লোভনীয় প্রস্তাব ফেলতে পারেনি অলক। তপন ভাই আর শাহনুর ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই হলের ছাত্র, তপন ভাইয়ের পোস্টিং কাপ্তাই ফরেস্টে। এই মাসেই ওনার ট্রেনিং শেষ, তাই ফিরে আসার আগে বৈসাবি উৎসব দেখার লোভনীয় প্রস্তাব এলে অলক সেটা অগ্রাহ্য করতে পারে না। শাহনূর ভাই অবশ্য নওরিতাকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় অলকের সাথে বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারে নওরিতার বাবার অনুমতির ব্যপারটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলেই অলকের হঠাৎ করেই স্বার্থপর হতে হলো।

পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা আদীবাসীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈ-সা-বি। ত্রিপুরা শব্দ 'বৈষৃ' থেকে 'বৈ', মারমা শব্দ 'সাংগ্রাই' থেকে 'সা',চাকমা ও তঞ্চঙ্গা শব্দ 'বিজু' থেকে 'বি', তিন জাতির ভাষার সংমিশ্রনণ হয়েছে 'বৈসাবি'। সাংগ্রাই উৎসবের প্রধাণ আকর্ষণই হলো জলকেলী খেলা, মারমাদের লোককাহিনী অনুসারে, অনেকের ধারণা ব্রহ্মরাজা সাগ্রা মাং প্রতি বছর একবার তার স্বর্গীয় রাজ্য হতে পৃথিবীর মানুষের আচরণ পরিদর্শনে নামেন। রাজার সম্মানে বছরের এই দিনটিতে তাই সবাই নিজেকে পবিত্র করে সাজায়। তরুণ তরুণীরা একে অপরকে জল ছিটিয়ে দিয়ে পরিশুদ্ধ হয়, তাদের ধারণা এই জল তাদের পবিত্র করে তুলবে। মুছে যাবে অতীতের সব কালিমা, আর ব্রহ্মরাজা ভক্তদের এই আচরণের হিসাব পরলৌকিক বিচারের সময়, ভাগ্য লিপিতে উপস্থাপন করবেন।

কাপ্তাইয়ের গভীর অরণ্য যেখানে অলকরা বৈসাবি উৎসব দেখতে গিয়েছিলো সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিলোনা। তাই নওরিতার সঙ্গে কথা বলতে হলো ফিরে আসার দিন। দুই দিন নওরিতার ফোন যথারীতি বন্ধ। নিরুপায় হয়ে অলক ল্যান্ড লাইনে ফোন ঘুরায়। চারবার নিশ্চুপ থেকে অলক নওরিতার কণ্ঠ শুনতে পায়নি। পঞ্চমবারের চেষ্টায় নওরিতার কণ্ঠ শোনা গেলো।

- ফোন ধরছো না কেন?
- তুমি ফোন করছ বুঝতে পেরেছি বলেই ধরছিনা।
- এখন ধরলে যে?
- তুমি বেহায়া ফোন ধরছিনা জেনেও যে বার বার ফোন করছ সেই জন্য ধরেছি,

আবেগী স্বরে কথাগুলো বলতে নওরিতার কণ্ঠ কেঁপে যায়।

- আহা, শুনোই না আগে ...
- কি শুনবো? পাহাড়ী মেয়েদের নাচের গল্প, না গোসলের গল্প? পাহাড়ি ফর্সা মেয়েদের গায়ে ছেলেরা পানি ছিটিয়ে দিচ্ছিল, আর তুমি তোমার বন্ধুদের নিয়ে সেই দৃশ্য গিলছিলে, সেই গল্প করবে তো? আমি মোটেও এই গল্প শূনতে আগ্রহী না।
-
নওরিতা ফোন রেখে দেয়। অলক আবারও ফোন করে

- নওরিতা, প্লিজ। তুমি যখন ছবিগুলো দেখবে, তোমারও ভালো লাগবে।

নওরিতা আবারও ফোন রেখে দেয়। অলক অনেক চেষ্টা করে গেল। কিন্তু নওরিতা একদমই ফোন তুলছে না।

হঠাৎ অলকের মোবাইলে নওরিতার জমে থাকা এসএমএস গুলো একে একে আসতে থাকে। এরমধ্যে একটি এসএমএস ছিল এইরকম ...

"তুমি অনেক স্বার্থপর অলক, অনেক স্বার্থপর"



ছবি কৃতজ্ঞতা : বিপ্লব রহমান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28788511 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28788511 2008-04-16 23:18:28
আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইউনেস্কোর তথ্য শূন্যতা !! এই ই হলো তথ্য!

ঠিক কি কারনে আন্তজর্তিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ২১ ফেব্রুয়রী দিনটিকে নির্বাচন করা হলো সেই তথ্যও আর পাওয়া গেলোনা , নেই বলেই হয়তো পাইনি !! কিন্তু আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা বানীতে কোথাও ১৯৫২ সনের বাঙালির ভাষার সংগ্রামের কথা লিখা নাই। এই দিনটি যে বাঙালির ভাষার আত্ন ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নির্ধারন করা হয়েছে এটি আমারা বাঙালিরা যতটা বিশ্বাস করি পৃথীবীর তাবৎ লোক কি তাই জানে, তাদের জন্য আসলে কি তথ্য দেয়া আছে ইন্টারনেটে ??


১৯৯৯ সন হতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিগত বছরগুলোতে পালন হওয়া ইউনেস্কোর জাতীয় অনুষ্ঠানমালার সংবাদগুলোতেও কোথাও ভাষা শহীদের এই আত্নত্যাগের কথা লিখা নাই। আরো হতাশার কথা হলো ২০০৮ সনেও একই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এই প্রতিবেদন যখন লিখছিলাম তখনও পর্যন্ত ২০০৮ সনের সংবাদটি ইউনেস্কোর অন্তজালে ছিলো, ছিলো পোষ্টারটিও। কিন্তু লেখা শেষ করে দেখি সেই সংবাদটিও আর পাওয়া যাচ্ছেনা। ভাগ্যিস ছবিটা সেভ করে রেখেছিলাম!!

শুধু তাই নয় ইউনেস্কোর ডাইরেক্টর জেনারেলের শুভেচ্ছা বানীতেও ভাষা শহীদের প্রতি কোন কৃতজ্ঞতা কিংবা ভাষা সংগ্রামের নাম নাম গন্ধও পাওয়া যায়নি।
ধরে নিলাম দিবসটি ৮ বছর পুরোনো হয়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষটি হয়তো অনিচ্ছাকৃত ভাবে বাদ পড়েছে, না পাঠক ইউনেস্কো মহাসাচিবের বানীতেও প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সনে উদযাপিত আন্তজাতিক মার্তভাষা দিবসের বাংলাদেশের ভাষা শহীদদের আত্ন ত্যাগের কথা উল্লেখ নাই !!

বিষয়টি কি এমন যে,একটি দিনকে মাতৃভাষা দিবস হিসাবে বানাতে হবে তাই বানিয়ে দেয়া, নাকি অন্যকিছু?? শুধু মাত্র ভাষার জন্য একটি দেশের মানুষ এভাবে আত্নাহুতি দিয়েছে সেই দৃষ্টি ভঙ্গির প্রতি সম্মান রেখে,৫২ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যদি এই দিবসের স্বীকৃতি আসে তবে তাদের সেই সম্মান দিতে বাঁধা কোথায় ?? এটি কি ইউনেস্কোর অজ্ঞতা নাকি তথ্য গোপনের চেষ্টা ?? বিচক্ষণ কারো মনে কি এই প্রশ্ন জেগেছে? বাংলাদেশের বাইরে আর্ন্তজতিক ভাবে আয়োজিত সেমিনার ও অনুষ্ঠানমালায় কি বাংলাদেশের নামটি কিংবা ইতিহাস সঠিকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে?? নতুন প্রজন্ম ও অবাঙালিরা কি জানতে পারছে কেন ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তজর্তিক মাতৃভাষা দিবস করা হলো ? আমরা বাংলাদেশের পত্র পত্রিকায় যেভাবে আন্তজার্তিক মাতৃভাষা হিসাবে দিবসটিকে তুলে ধরছি আন্তজার্তিক গনমাধ্যম গুলোতে কি ঠিক সেইভাবে সংবাদগুলো প্রতিফলিত হচ্ছে ??

বিগত বছর গুলোতে আন্তজার্তিক ভাবে পালিত ইউনেস্কোর পোষ্টার লিফলেট কিংবা নিউজ লেটারে কোথাও বাংলাদেশের ১৯৫২ সনের এই আত্মত্যাগের সংবাদটি আমার চোখে পড়েনি।

শুধুমাত্র উইকিপিডিয়াতে এর খানিকটা ব্যতিক্রম। এখানে ভাষা শহীদের প্রতি কিছুটা হলেও সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। কারন উইকির সংকলনটাতে রাগিব ভাইয়ের সহযোগিতা রয়েছে।

ইউনেস্কোর ২০০৪ সনের পোষ্টার


২০০০ সন থেকে আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে উপলক্ষে কয়েকটি পোষ্টার আমার নজরে এসেছে এর কোন একটাতেও ১৯৫২ সনের একুশে ফেব্র“য়ারী কিংবা ভাষার জন্য লড়াইয়ের কোন নাম গন্ধ পেলামনা। আমি না হয় শিল্পী নই, শিল্পের মুল্য বুঝিনা ইতিপূর্বে ছাপা হওয়া পোষ্টারগুলো পর্যবেক্ষণ করে পাঠক আপনারাই বলুন এই পোষ্টারগুলোর শিল্পমান উপলব্দি করতে পারছেন ?? এই পোষ্টারগুলোর সাথে ’৫২ ভাষা সংগ্রামের কোন গন্ধকি খুঁজে পেয়েছেন কেউ ?? পোষ্টারের কোন একটাতেও কি বাংলাদেশের শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি আঁকা যেতোনা ??


২০০৬ সনের পোষ্টার


এই বিষয়গুলো নিয়ে আসলে প্রতিবাদের চেয়ে বেশী প্রয়োজন আলোচনা । যুক্তি তর্কের চেয়ে বড় বেশী জরুরী সমাধানের পথ খোঁজা। ইউনেস্কোর যদি অজ্ঞতা থেকে থাকে তবে তাদেও অজ্ঞতা দূর করতে সহায়তা করা।

২০০৭ সনের পোষ্টার


আসলে আমাদের চাওয়া পাওয়া খুব সীমিত, এত সহনশীল জাতি পৃথীবীতে দ্বীতিয়টি আছে বলে আমার জানা নেই....অল্পতেই আমরা তুষ্ট থাকি। তাই আন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসটি ফেব্রুয়ারীর ২১ তারিখে পালিত হচ্ছে দেখেই আমরা অবিভূত !!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28769511 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28769511 2008-02-12 08:23:57
সেরা সাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বাংলাদেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা
ফেসবুক, সচলায়তন ,সামহোয়্যারইন কিংবা ইউটিউবের মতো ইন্টানেট ভিত্তিক সোশাল নেটওয়ার্কগুলোতে এই প্রতিযোগিতার প্রচার চলছে পুরো দমে। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলোও এ সম্পর্কে নিয়মিতভাবে সংবাদ ও ফিচার প্রকাশ করে যাচ্ছে। খুবই আশার কথা। চলছে নামে বে-নামে ইমেইল আইডি খুলে ভোটাভুটিও! সুস্থ্য হোক আর অসুস্থ্যই হোক যে কোন মূল্যে আমরা কক্সবাজার কিংবা সুন্দরবনকে সেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের তালিকার শীর্ষে দেখতে চাই। শ্রদ্ধা জানাতেই হয় এমন দেশপ্রেমকে।

আমাদের স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে কতটুকু ফারাক সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার করবো। গ্রীক মিথলজির কৃষক প্যারিসের কথা আমরা নিশ্চই সবাই জানি। সৌন্দর্য্যরে দেবী আফ্রোদিতিকে পাবার জন্য প্যারিসের যুদ্ধটাই ছিলো একটা ইতিহাস। পৃথিবীর সেরা সুন্দরীকে পাবার জন্য ধ্বংস হয়েছিলো ট্রয় নগরী!! ইতিহাসে প্যারিসের সংখ্যা কম বলেই সেটি দৃষ্টান্ত। খুব কম লোকই এভাবে যুদ্ধ করে সেরা সুন্দরকে উপভোগ করতে চায়।

ধরে নিলাম কক্সবাজার বিশ্বের সেরা সাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তালিকার চূড়ান্ত পর্যায়ে মনোনয়োন পেয়ে গেলো! এখন এ সেরা সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যদি প্যারিসের মতো পর্যটকদের এতো কাঠ খড় পোড়াতে হয়, আর বিড়ম্বনা পোহাতে হয় তাহলে সে স্বপ্ন আমাদের আর বাস্তবায়ন হবেনা। আধুনিক বিশ্বে একজন ট্রাভেলার তার ভ্রমণের শুরুতেই ইন্টারনেটে সার্চ ইঞ্জিনের সাহয্যে খুঁজে দেখে সেই স্থানটি কেমন, আর কি কি সুযোগ সুবিধা সেখানে বিদ্যমান। পর্যটকরা যখন দেখবে প্রাথমিক ভাবে সেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তালিকায় কক্সবাজার তখন তারা নেট সার্চ দিয়ে যারপরনাই হতাশ হবে। যেমনটা হয়েছি আমি। গুগুল সার্চে কক্সবাজার কিংবা সুন্দরন সার্চ দিলে যে সকল ওয়েভ লিংক পাওয়া যায় তা নিতান্তই দূর্বল। নেই পর্যাপ্ত তথ্য, চমক লাগানো ছবি কিংবা ভিডিও চিত্র !! বিদেশী পর্যটক আকৃষ্ট করতে শুধু মাত্র তথ্য, আকর্ষণীয় ছবি কিংবা ভিডিও চিত্রই পর্যাপ্ত নয়, প্রয়োজন যথাযথ প্রচারও। একজন পর্যটক সার্চ ইঞ্জিন ঘেটে যখন দেখবে কক্সবাজার ভ্রমণের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই তখন সে তার মুল্যবান হলিডে নষ্ট করে বাংলাদেশকে তার ভ্রমণের স্থান হিসাবে নির্বাচন করবে না। তাহলে একজন পর্যটক সার্চ ইঞ্জিনে কি কি দেখতে পারেন? তিনি দেখবেন আসলে কি কি আকর্ষণীয় জিনিস সেখানে আছে? শুধু বিশাল জলরাশিতে সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় দেখা, প্রেমিকার মুখে জল ছিটিয়ে দিয়ে সাগরের জলে কিছুণ লম্ফঝম্প করার জন্যই সুদুর ইউরোপ-আমেরিকা থেকে লোক জন দল বেঁধে আমাদের দেশে আসবে, এ আবেগকে আমাদের সংযত রাখতে হবে।

ইন্টারনেটে কক্সবাজার ও সুন্দরবনসহ অপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং স্থাপত্য নির্দশনগুলোর পর্যাপ্ত তথ্য, রাজধানী ঢাকা থেকে এসব স্থানের দূরত্ব এবং যাতায়াত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, হোটেল-মোটেল গুলোতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অগ্রীম বুকিং দেয়ার সুবিধা, হোটেলের আভ্যন্তরীণ সুবিধার বিস্তারিত বর্ণনা, আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণের গ্যরান্টি, নিরাপত্তা ও আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য এবং বিনোদনের সুব্যবস্থা, সেই সাথে প্রবাসী পর্যটক ও বিদেশী পর্যটকদের আলাদা স্থান করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সেই নির্দিষ্ট জোনে যেন আগে থেকেই টিকিট বুকিং দিয়ে কিংবা পাসপোর্ট দেখিয়ে ঢোকার ব্যবস্থা থাকে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। আলাদা করে কেন প্রবাসী ও বিদেশীদের জন্য ব্যবস্থা রাখতে হবে এমন প্রশ্ন যদি কারো মনে আসে তার উত্তরে বলবো, আমি নিশ্চিত যদি কক্সবাজারে কোন বিদেশীনী বিকিনি পড়ে গোসল করতে যায় তাহলে সেই দৃশ্য দেখার জন্য অসংখ্য দর্শক লাইন ধরবে। সৌখিন ফটোগ্রাফার কিংবা ভিডিওগ্রাফার পড়বেন ছিনতাইকারীর কবলে। সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা দশ টাকার ডাবের দাম হাঁকবে একশত টাকা। চকলেট কিংবা চুইংগাম বিক্রেতা পিছু নেবে যতক্ষণ না পর্যন্ত পর্যটক তাকে মারতে উদ্ব্যত হবে। আপন মনে কেউ কোন রোমান্টিক মুহূর্তে একটু কাছাকাছি হতে গিয়ে দেখবে মাথার কাছে একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে একজন হাজির,” ভাইয়্যা আপারে একটা ফুল কিন্না দেন না”। ভাবখানা এমন বেড়াতে এসে এই ফেরীওয়ালার কাছথেকে ফুল না কিনলে ভালোবাসা মিথ্যে হয়ে যাবে। পাইছি বিলাতি মুরগি বলে ঝাঁপিয়ে পড়বে স্থানীয় ঠকবাজ !! এই হচ্ছে প্রাকৃতিক সোন্দর্যের সেরা অবস্থানের শীর্ষে থাকা কক্সবাজারের বর্তমান অবস্থা!!

হলিডে কিংবা হানিমুন মানেই নিরবে নিভৃতে আপনজন কিংবা প্রিয় জনের সাথে সময় কাটানো। প্রকৃতি আর ভিন্ন আবহাওয়ায় জীবনে খানিকা বৈচিত্র আনতে গিয়ে যদি এতো কিছু মাথায় নিয়ে কক্সবাজার কিংবা সুন্দরবন যেতে হয় তাহলে পর্যটক বাঙালি হলেও তিনি ব্যংকক সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া,কিংবা সুইজারল্যান্ডের দিকে ছুটবেন। দেশ প্রেমের কারনে হয়তো তিনি প্রথমবার আসবেন কিন্তু সেই ভ্রমনটা হয়ে যাবে ন্যাড়ার বেলতলায় যাবার মতো দশা। প্রতিবছর লক্ষাধীক প্রবাসী বাঙালি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হলিডে করতে যায়। প্রবাসে বড় হওয়া ছেলে মেয়েদের অনেককেই দেখেছি তারা দেশে আসে নিজের আত্নীয় স্বজন দেখতে, আর হলিডে কাটাতে যায় অন্য দেশে। নিজের দেশের অসাধারন প্রাকৃতিক সোন্দর্য আর স্থাপত্য নির্দশন দেখতে তার এতটা উৎসাহী হয়না যতটা আনন্দ পায় অন্যকোন দেশে গিয়ে পয়সা খরচ করতে। শুধু মাত্র প্রবাসী বাংলাদেশীরা যদি প্রতিবছর তাদের নিজ দেশে হলিডে পালন করতে আসে চোখ বন্ধ করে আমি বলতে পারি তাহলেও কক্সবাজার সুন্দরবনে পা ফেলার জায়গা থাকবেনা! কিন্তু নিজের দেশের মানুষকেইবা আমরা কতটুকু আকৃষ্ট করতে পেরেছি সেই প্রশ্নের ও উত্তর খুঁজতে হবে আমাদের।

আর একটি কথা প্রায়শই কানা ঘুষা চলে.. টুরিষ্ট সেন্টারগুলোতে প্রকাশ্যে এ্যালকোহল বিক্রি হবে কি হবেনা ? আমার মনে হয় বাংলাদেশের এমন কোন পর্যটন কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যাবেনা যেখানে দালালরা মদ বিক্রি করেনা !! এমনকি কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন কিংবা ফয়েস লেকের মতো জায়গায় দালালরা লুঙ্গির নিচে মদের বোতল নিয়ে ঘুরে,”স্যার লাগবো নাকি ? একেবারে অরিজিনাল বাইরের টা আছে।” লাগলে কইয়েন হোটেলে গিয়া দিয়া আমু,” হালে শুনেছি টেলিফোনে অর্ডার দিলে হার্ড ড্রিংকস বাসায় চলে আসে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে , যদি আমাদের টার্গেটই হয় পর্যটনকে আমরা ব্যবসা হিসাবে নেবো, তবে বিদেশীদের জন্য এ্যালকোহল এবং ডিসকোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে। খোলা বাজারের অস্বাস্থ্যকর মদ বিক্রির সুযোগ দেয়ার চেয়ে চেয়ে লাইসেন্সধারী ব্যবাসায়ীদের দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রন করাই অধিক যোক্তিক। পর্যটন সেন্টারগুলোতে গোপনে দেহ ব্যবসার প্রথাটিকে বিলুপ্ত করতে দেশীয় সংস্কৃতির নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে, যেন রাতের বেলায় পর্যটকরা এসে বিনোদনের অভাব বোধ না করেন। তবে সবকিছূই একটা কঠোর নীয়ম নীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রনও করতে হবে।

ইংল্যান্ড বা ইউরোপের যে কয়টি লাইব্রেরি কিংবা বুক শপে আমি গিয়েছি সেখানে অভ্যস বসত ভ্রমন বিষয়ক বই গুলো নেড়ে চেড়ে দেথার চেষ্টা করে ইন্ডিয়ান ট্রাভেল গাইডের সন্ধান মিললেও বাংলাদেশী কোন ট্রাভেল গাইডতো দূরের কথা কোন পোষ্টার লিফলেটও চোখে পড়েনা। ১৯৯৬ সনে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত পর্যটন সপ্তাহের কথা মনে পড়ে আমার , সে বার খুব জাক জমকপূর্ণ উৎসবের মাধ্যমে আবাহনী মাঠে আয়োজিত হয়েছিলো অনুষ্ঠান মালা। তখন কিছু লিফলেট ও ট্রাভেল গাইড আমার চোখে পড়েছিলো। তার পর ভালো কোন উদ্যোগ মনে করতে পারছিনা। প্রাথমিক ভাবে বাংলাদেশের বিমান টিকেট গুলোর পিছনে যদি বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর ছবি সংযুক্ত করা যায় এবং সেই সাথে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশী মিশনগুলোতে পর্যাপ্ত লিফলেট ও ইংরেজী বই বিতরণ করা যায়, বিবিসি, সিএনএন, ডিসকোভারীর মতো টিভি চ্যানেলগুলোতে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন ,সুন্দরবান নিয়ে প্রামন্য চিত্র নির্মানের উদ্যোগ নেয়া যায়, কিংবা স্পন্সর ভিত্তিক বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা যায়। আন্তজার্তিক পত্র পত্রিকায় বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে ট্রাভেল স্টোরি লিখা যায়, তাহলেও এই অভিযানের একটা ভালো ভবিষ্যত আমরা তৈরী করে দিয়ে যেতে পারবো। বাংলাদেশের গন মাধ্যম এখন অনেক শক্তিশালি হয়েছে, মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন দেশ নিয়ে অনেক ভাবছেন, দেশপ্রেমিক বাঙালির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, কম বেশী অনেকের সাথে বিদেশী গনমাধ্যমের লেখক ও প্রকাশকের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে । বিদেশী পর্যটক লেখক বন্ধুদের বাংলাদেশে আমন্ত্রন জানাতে হবে। অথবা কষ্ট করে নিজেরা ভালো ছবি সহ ট্রাভেল স্টোরি লিখে দিতে হবে যেন তারা এই সব ফিচারগুলো আন্তজার্তিক গনমাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেয়। উইকিপিডিয়া কিংবা ইন্টারনেটের ভিভিন্ন সাইটগুলোকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে।

এখন সবকিছুর দায় দায়িত্ব আসলে কার উপর বর্তাবে? পর্যটন শিল্পকে বেগবান করতে গিয়ে সরকারের বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় রয়েছে, রয়েছে পর্যটন কর্পোরেশনও। বেসরকারী উদ্যোগে এখন বেশ কয়েকটি ট্রাভল ট্যুর কোম্পানীও প্যাকেজ ভিত্তিক ভ্রমনের ব্যবস্থা করছে। দায়িত্বটি আসলে কে নেবে ? আমার মনে হয় দায়িত্বটি নিতে কারো আপত্তি নেই সংকট শুধুই অর্থের আর প্রয়োজনীয় উদ্যোগের। অনেকেই পর্যটন শিল্পে বিদেশী বিনিয়োগের কথা বলেন, আমি বলি স্বদেশী বিনিয়োগের কথা। তবে বিদেশীদের কাছে কারিগরী ও নির্মান সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। স্বদেশী বিনিয়োগ বলতে আমি প্রবাসী বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদের কথা বলছি। প্রতি বছর বৃটিশ বাংলাদেশীদের অর্থায়নে সিলেটে যে সকল বিল্ডিং ও ইমারত নির্মান হচ্ছে তার পুরো বিনিয়োগগুলোই যাচ্ছে রসাতলে ! সে দিন এক প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাসায় গেলাম নিমন্ত্রন খেতে। তিনি তার ড্রয়িং রুমে বসিয়ে আমাকে তার সিলেটে সাড়ে এগারো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ীর ভিডিও দেখাচ্ছিলেন। আমি কিছুক্ষন দেখে বললাম," ভাই বন্ধ করেন, আর ভালো লাগছেনা"। তিনি বললেন, কেন? বললাম, আমার কষ্ট হচ্ছে। কেন, কেন তোমার কষ্ট হচ্ছে?” এতো টাকা দিয়ে বাড়ী বানালাম বিটিভি আমার এই বাড়ী নিয়ে আধঘন্টার ডকুমেন্টারী বানালো, আর তুমি বলছো বন্ধ করতে”। আমি জানতে চাইলাম, আপনি এই বাড়ীতে বছরে কয়বার যান? কারা থাকে এই বাড়ীতে? উনি হেসে জবাব দিলেন, আমি বছরে দুই একবার যাই , আর বন্ধু বান্ধব কেউ গেলে মাঝে মাঝে থাকে, আর বাকী সময়টা আমার কেয়ারটেকার দেখে রাখে।” আমি বললাম আপনার আতœীয় স্বজনদেও মধ্যে কেউ নেই যারা চাকরির জন্য প্রতিনিয়ত আপনার কাছে ধর্ণা দেয় ?? ওনি বললেন ভাই আর বলোনা, দেশে গেলে লাইন ধরে, টাকার বস্তা নিয়ে বসতে হয়, তবুও কুলায়না , খালি দাও আর দাও..
ভদ্রলোককে বললাম, এই সাড়ে এগারকোটি টাকা দিয়ে যদি আপনি একটা লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতেন তাহলে টাকার বস্তানিয়েও আপনাকে বসতে হতোনা, দেশে গিয়ে টেলিফোনে সুপারিশও শূনতে হতোনা, আর বেকারদেরও একটা স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো। ভদ্রোলোক হেসে বল্লেন,”হু আমি প্রজেক্ট বানাই আর সবাই লুইটা পুইটা আমাকে খেয়ে ফেলুক! আমার আলিশান বাড়ীই ভালো”। এখানে শংকা টি নিরাপত্তার আর অভাবটি পরিকল্পনার। এমন অগনিত অংসখ্য উদাহরণ আমার কাছে আছে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশীরা টাকা খরচ করার জায়গা পায়না, বিনিয়োগের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে বেড়ায় দিন রাত, দেশের জন্য অনেক কিছু করতে চান তারা কিন্তু কর্তা ব্যক্তিদের অনেকের ধারণা ইংল্যান্ডের সকল ব্যবসায়ীরা শুধু ভাত গোস্তের ব্যবসা করে, তাদের দিয়ে কিস্যু হবেনা। এসব প্রবাসী ব্যবাসীরা দেশে আসলে তাদের নিয়ে তাচ্ছিল্য করেন অনেকেই ,” আরে মিয়া আপনেতো রেষ্টুরেন্টের ভাত বেইচ্যা পয়সা বানাইছেন, আপনে বিনিয়োগের কি বুৎঝবেন? এভাবেই আমারা আমাদের স্বদেশী বিনিয়োগকারী হারাচ্ছি। ধরে নিলাম রেষ্টুরেন্টের যে লোকটি কারী বিক্রি কররে মিলিয়নিয়ার হয়েছে, সে হয়তো বিনিয়োগের বিষয়টি সম্পর্কে তাত্তিক জ্ঞান রাখেনা, তবে সে কোন না কোন ভাবে তো ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করেছে, এই বিষটিতো মেনে নিতেই হবে। বিলেতে বসে যিনি বৃটিশদের কাছ থেকে পয়সা এনে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছে নিশ্চই তিনি মেধাবী ! তাই নীতি নির্ধারকদের পর্যটন শিল্পের বিনিয়োগের খাত গুলো চিহ্নিত করতে হবে, সরকারী ভাবে উদ্যোগ নিয়ে অথবা সরকারী নিয়ন্ত্রনে বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রবাসীদেও কাছে আবেদন জানাতে হবে বিনিয়োগের জন্য। সরকার যদি প্রবাসীদেও বিনিয়োগে অর্থেও যথাযথ নিরাপত্তা দিতে পারে তাহলে কক্সবাজর সেন্ট মার্টিন কিংবা সুন্দরবনের অবয়ব বদলে যাবে চোখের পলকে। আমি ব্রিটেনের দুই একটি পুরোনো সংগঠনের নাম বলবো, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশ, বাংলাদেশ বৃটিশ চেম্বার অব কর্মাস, গ্রেটার সিলেট ওয়েলফেয়ার এসোয়েশনও গিল্ড অব বাংলাদেশ রেষ্টুরেন্টার্সের মতো প্রবাসীদের ছাতা সংগঠনগুলোর সহায়তার বৃটিশ বাংলাদেশীরা এগিয়ে আসলে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন পড়বেনা। এখানে সরকারী উদ্যোগের কথা এজন্যই বলছি, ইতিপূর্বে প্রবাসীরা ব্যক্তিগত উদ্যেগে অর্থ লগ্নি করে বিড়ম্বনার স্বীকার হয়েছেন, এয়ার লাইন্স কোম্পানী ও পাঁচতারা হোটেলের নামে প্রবাসীরা বিনিয়োগ করে কোন সুফল পাননি, তাই এই বিয়টিকে সফল করতে হলে সরকারী মহল হতে উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু ইংল্যান্ডেই নয়, এমন বিনিয়গকারী আমেরিকা কানাডা ও ইউরোপেও কম নয়।

আমার আবোল তাবোল প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের পথ খুঁজলে, কক্সবাজার কিংবা সুন্দরবন সেরা সাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তালিকায় না আসলেও আমাদের দেশে পর্যটকের অভাব হবেনা। প্রতিযোগিতায় প্রথম হবার চেয়ে আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নটাই সবচে বেশী জরুরী।

লেখাটি সচলায়তন ও দৈনিক প্রথম আলোতে অংশ বিশেষ প্রকাশিত হয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28768733 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28768733 2008-02-10 03:50:46
আইজুদ্দীন মোড়লের গল্প
পিতা পুত্রের এমনই আলাপচারিতায় আমার আগমন। চরিত্রটি আমাকে কৌতুহলী করে তুললো। তাই আইজুদ্দীন মোড়ল সম্পর্কে জানার জন্য আক্কাসের সাথে কথা হলো দীর্ঘ সময়। একে একে সে তার বাবার কাহিনী বলতে শুরু করলো। আমার কখনও হাসি পায়, কখন্ও গায়ে কাঁটা দেয়, কখন্ও আবার পিঠ চাপড়ে বলতে হয় শাব্বাস আইজুদ্দীন!!

সত্য ঘটনা অবলম্বনে আজকে থাকছে আইজুদ্দিনের গল্প, তবে চরিত্রগুলো ঠিক রেখে নামগুলো বদলাতে হয়েছে।

মোড়লপ্রথা বাংলাদেশে এখন্ আর নাই বললেই চলে, তব্ও আইজুদ্দীন মোড়লের ভয়ে সবাই থর থর করে কাঁপে। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় আইজুদ্দীনের রাজত্ব। ১৪ টি গ্রাম নিয়ে হয় এক চাকলা, তাই আইজুদ্দীনকে স্থানীয় লোকজন চাকলা মোড়ল বলেই চেনে। আক্কাস জানালো, ১৪ পুরুষ ধরে তাদের পরিবার মোড়ল গিরি করে আসছে। তার দাদা মারা যাবার পর ১৯৭৫ সনে সেই দায়িত্ব আসে বড় ছেলে আইজুর ঘাড়ে।

বাবা দুই বিয়ে করেছেন। আমার মা থাকতেন এক বাড়ীতে তার ঠিক আধ মাইল দূরে ছিলো বড় মায়ের ঘর। এর মাঝে ছিলো রঙ্গ শালা। সেখানে বাবা মেয়ে নিয়ে ফূর্তি করতেন। প্রতিদিন চার পাঁচটা নতুন মেয়ে আসতো ঐ রঙ্গশালায়। মা দুঃখ করে এসব বলতেন.. প্রতিবাদ করলে ঘোড়ার চাবুক দিয়ে মাকে পেটাতো বাবা। পরে আমরা যখন বড় হয়েছি তখন লোক মুখেও এই সত্যতা খুঁজে পেয়েছি। তবে বাবার অনেক দুঃখ ছিলো তার পাঁচ পাচটি মেয়ে , কোন ছেলে সন্তান ছিলোনা। যেদিন আমার বড়ভাই জন্মা নেন সেদিন পুরো গ্রামের মানুষ দ্ওায়াত করে ধান ক্ষেতে মাঝখানে সিমেন্টের ব্যাগ বিছিয়ে সেখানে ড্রামে ড্রামে মিষ্টি জড়ো করেছিলেন বাবা। সবাইকে বল্লেন,” গ্রামবাসী আপনারা আজ রঙ খেলবেন মিষ্টির সুরা দিয়ে .. আজ শূধু আনন্দ হবে... ”
আর সেই খুশিতে ছেলের নাম রাখলেন,’ আনন্দ’

বাবার আকেটা শখ ছিলো শিকার করা। খুব জেদি স্বভাবের লোক ছিলেন তিনি, সাথে সব সময় বন্দুক রাখতেন। একদিন হরিণ শিকারে গেলে গরু তাকে শিং দিয়ে তাড়া করলে বাবা গুলিকরে সেই গরু মেরে ফেলেন। বদ মেজাজী হল্ওে তিনি উল্লাস প্রকাশ করতেন ভিন্ন কায়দায়। মা বলেছেন আমার যেদিন জন্ম হয়েছিলো বাবা সেই রাতে খুশিতে ৪০ টি বালি হাস মেরে মায়ের সামনে হাজির করেছিলেন।

১৯৭১ সলে মোড়ল আইজুদ্দীন একবার মেঘালয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানকার পাহাড়ীরা আইজুদ্দীনের বিরত্বের কথা জেনেছে। তাই তারা আবদার করলো পাহাড়ের একটা বুনো শুকর আছে , বিশাল সে শুকর তাদের খুব বেশী জালাতন করে। ভয়ে কেউ সেটা মারার সাহস পায়না। আইজু একাই সেই পাহাড়ী শূকর মেরে এক বস্তা গুলি উপহার পেয়েছিলেন গাড়োদের কাছ থেকে ।

আইজুদ্দীন যে সৌখিন ছিলেন তার আরেকটা উদাহরণ দিলো আক্কাস, ১৯৬৫ সনের কথা বাংলাদেশে তখন মাত্র টেলিভিশন এসেছে। তখন একখানা টিভি কিনে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন তিনি। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভীর করতো সেই টিভি দেখতে।

অফিসার্স চয়েস ছিলো আইজুদ্দীনের প্রিয় পানীয়, রঙ্গশালার সোফায় বসলে আইজ উদ্দীনের পাটিপে দিতো সামাদ মুন্সি। আর মধু মালি ছিলো আইজুর ডান হাত। একদিন আইজুদ্দীনের এই অপকর্ম সর্ম্পকে তার মা তাকে ডেকে নিলো,” বাবা আইজু, গ্রামের মোড়ল তুমি, এই সব করো কেন? আর এভাবে চললেতো সব টাকা একদিন ফুরিয়ে যাবে!!”
-আইজুর সরল উক্তি, "মা- আমি আইজু একাই তিন কামলার সমান কাজ করি, সেই তিন কামলাদের ক্ষেতে কাজ করালে যেই টাকা দিতে হতো সেই টাকা দিয়ে ফূর্তি করি , তাই আমার টাকা ফুরাবেনা।”

দুপুর ১ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত বাবার ঘুমানোর সময়। যত বড় কাজ হোক কেউ ডাকতে পারবেনা, এমনকি মানুষ মরলেও তাকে ডাকা যাবেনা। প্রচুর অর্থ সম্পদ থাকার র্পও তার প্রিয়ছিলো বিনোদ বিড়ি সম্প্রতি ডাক্তারের পরামর্শে ,মৃত্যু ভয়ে বিড়ি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

এমনই একটা শাসন আর ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে বড় হয়ে আমি বাধালাম আরেক ক্যাঁচাল, ক্লাস নাইনে পড়া এক মেয়ের প্রেমে পড়ে গেলাম, জানালো আক্কাস। বাবার অজান্তেই.. আমি সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে করে লন্ডন নিয়ে চলে আসবো। কিন্তু মন মানছিলোনা। তাই লন্ডনে আসার দুই দিন আগে বাবাকে জানালাম ঘটনা। বাবা বললেন মেয়ের কয়শ বিঘা জমি আছে?? তোর বাপের তো ১৫০ বিঘা জমি আর ১৪ পুরুষের মোড়লগিরি!! গুষ্টির মধ্যে কেউ মাতুব্বর মোড়ল আছে ??

-আমি বল্লাম ওরা এখানে ভাড়া থাকে...
কি!!! বাবার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা !!

বাবার এমন অগ্নী মূর্তি !! আমার জান যায় অবস্থা । পরে বললেন, এই কে আছিস মেয়ে তুলে নিয়ে আয়। এক্ষুনি বিয়ে হবে।

মেয়েকে তুলে নিয়ে আসা হলো আমাদের বাসায় । কিন্তু মেয়েতো আন্ডার এজ !! পড়ে মাত্র ক্লাস নাইনে!! এখন বাবা বললেন , আমার তো ইজ্জত আছে মেয়ে তুলে আনছি , বিয়ে না করলে লোকে গাল মন্দ করবে। এখন কাবিন করে রাখো পরে লন্ডন থেকে ফিরে সংসার করবা। বাবার সামনে সেই দিনই তিনবার কবুল বলে আগুন ঠান্ডা করলাম। তার পরদিনই লন্ডন চলে আসি। দুঃখের কথা কারে কই ভাইজান, কবুল কইলাম, ম্যাগার এখন তরি বাসর রাইতের দেখা পাইলামনা।

আইজুদ্দীনের হাতে পড়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত থেমে গেছে রাহেলার শিক্ষা জীবন। বাড়ীর বাইরে যাবে মোড়ল বাড়ির বউ, অসম্ভব!! স্কুলে গেলেতো পরপূরুষ দেখে ফেলবে !!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28753949 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28753949 2007-12-26 06:03:54
ঈদের দিনে লণ্ডনে পাকিস্তানির হাতে বাঙালি খুন !!
প্রাথমিক তদন্তে রনির দেহের ক্ষত চিহ্ন দেখে অনুমান করা হচ্ছে রনিকে ধারলো ছুড়ি দিয়ে খূন করা হয়েছে। তবে ঠিক কি কারনে ঈদের দিনে এই হত্যাকান্ড পুলিশ সেবিষয়ে নিশ্চত করে কিছু বলতে পারছে না। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।প্রতিবেশীরা বলছেন ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়ে থাকতে পারে। ইতিপূর্বে বাড়ির মালিকের সাথে বাড়ী ভাড়া নিয়ে বাক তর্কের ঘটনার কথা শূনেছেন তারা। বাড়ীয়ালার দূব্যবহারে প্রায়ই এই বাড়িতে ভাড়টিয়া বদল হয় বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

নিহত মাহবুবুল ইসলামের গ্রামের বাড়ী কুমিল্লাতে , তবে তারা ঢাকার আগারগাও এলাকায় বসবাস করতেন।লন্ডনে রনির একটি শিশুপুত্র ও স্ত্রী রয়েছে। স্বামীর এই হতাকান্ডকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেননা তিনি । ঈদের দিনে বিকেলে রনির তার স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে বিকেলে বেড়াতে যাবার কথা ছিলো। আর সে বেড়ানো হলোনা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28752809 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28752809 2007-12-20 07:45:40
মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলাটি যে কারনে তুলে নিতে হবে। রাজাকার- আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর নির্দেশেই ঐমুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এটি কোন যুদ্ধাপরাধী মামলা নয় !! খেয়াল করতে হবে এটি মুক্তিযুদ্ধা হত্যা মামলা মাত্র !
এটিই প্রথম মামলা নয় , ইতিপূর্বে মুজাহিদ- কাদের ও হান্নানের বিরুদ্ধেও তাঁতী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহ্নগর আওয়ামীলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক ফজলুর রহমান আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন, ঐমামলার অভিযুক্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বির্তকিত বক্তব্য রাখায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হয়েছে।

এতটুকু পর্যন্ত খবর। এখন আসেন বাবার দরবারে। একটু গনকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হই। জোর্তিবিদ্যায় আমার কোন পারদর্শিতা নেই,কিংবা হস্তরেখা বিদ্যায় ও আমার অতীত রেকর্ড নেই। তবুও আমার মনে হচ্ছে, এই মামলা দুইটা হয় স্থবির হয়ে যাবে ,অন্যথায় মামলায় যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ প্রমানকরা যাবেনা!! হত্যা মামলা আর যুদ্ধ অপরাধ এক কথা নয় ।

যদি এই দুটি সম্ভাবনার প্রথমটি সত্য হয় তাহলে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীরা আবার তর্জণ গর্জন শুরু করবে। মামলাটি যেহেতু বিচারাধীন তাই তাদেরকে অপরাধী বলা যাবেনা। যেহেতু অপরাধীদের দৃষ্টিতে যুদ্ধ অপরাধ বিষয়টি এখন্ও প্রমানিত নয় তার মানে তারা ধোঁয়া তুলসি পাতা !!

অন্যদিকে যদি মামলাগুলোতে যদি নিজামী-মুজাহিদ গংরা জিতে যায় তবে আর কোন দিন্ও আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই দেশে করতে পারবো না। বদর বদর বলে তারা তাকবির দিয়ে যুদ্ধাপরাধকে যায়েজ করে ফেলবে। বলবে, আমরা আদালত থেকে নির্দোষ প্রমানিত হয়েছি !!

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে কেন আমার মনে হচ্ছে মামলা বিলম্বিত হবে?? ইতিপুর্বে আইন উপদেষ্টা মইনুল হোসেন, পূর্ববর্তী সরকার গুলোর যারা এর বিচার করে নাই তাদের বিচারের প্রশ্ন তুলেছেন এবং বর্তমান সরকারের কোন সদিচ্ছা আছে বলে তার প্রমান এখনও পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না তাই সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে!!

সবচে’ বড় কিন্তু টা হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের সব কটি রাজণৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধ, সুশিল সমাজ, বুদ্ধিজীবী সব শ্রেনী পেশার মানুষ বলছে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার বিশেষ ট্রাইবুনালে করতে হবে এবং সরকারকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে। তখন একটি মাত্র রাজনৈতিক দল -জামায়েত ইসলামীকে রক্ষা করতে গিয়ে মইন উ আহমেদের সরকার কোন টু শব্দ করছেনা !!!

মতলবটা আসলে কি ??

তার অর্থ হলো বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও সরকার এই মামলাকে প্ররোচিত করবে।

আমর ভয় হয় ... শংকা হয় ...এ মামলার রায় নিশ্চিতভাবে রাজাকারদের পক্ষে যাবে। এই মামলা ফলপ্রসূ করতে হলে রাষ্ট্রকেই করতে হবে। তুলে নিতে হবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে করা মামলাগুলো অথবা ব্যক্তিগত মামলার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে মামলা করতে বাধ্যকরাটাই হবে এখনকার সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।
তাই দেশ জুড়ে মামলা হবে একটি এবং অবশ্যই সেটি হতে হবে রাষ্ট্রীয় উদ্যেগে। সকল রাজাকাররা একই অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের সাথে বেশ কয়েকটি আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন আলোচনার মাধ্যমে ফলাফল এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মুক্তির বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা হয়েছে। সবক’টি রাজনৈতিক দল একজোট হয়ে, মুক্তি যোদ্ধারা সমন্বিত ভাবে সোচ্চার হয়ে , লেখক, বুদ্ধিজীবী সংস্কৃতিকর্মীদের একটা বলিষ্ট ভুমিকা নিয়ে সরকারকে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলাটির দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রয়োজনে আলোচনা হতেই পাবে । যথা শ্রীঘ্র এই উদ্যোগ নিয়ে সরকারকে বাধ্য করতেই হবে।

তবেই ’৭১ এর যুদ্ধঅপরাধীদের বিচার করা সম্ভব। অন্যথায়
গভীর রাতে কোন একদিন এসে হয়তো ঘাতকেরা মোজাফ্ফর আহমেদের রগকেটে ফেলে রেখে যাবে...

তখন হয়তো মোজাফ্ফর আহমেদের উত্তরসূরীদের তার পিতা হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আরো ৩৬ বছর কেটে যাবে...




বিদ্রঃ

লেখাটি একই সাথে সচলায়তনেও প্রকাশিত হয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28752289 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28752289 2007-12-18 16:00:43
চিকেন টিক্কা মাসালার ব্রিটেন জয়।
ছবি দেখা হয়নি তাই বুশরাকে আমার চেনার কথা না। টেলিফোনে আমাদের অনেক কথা হলেও সরাসরি সেই প্রথম দেখা। তবুও সে বলেছিলো, হলুদ ওড়না আর জিন্স পড়া থাকবে। এতোটুকু ইনফরমেশন নিয়ে স্টার্টফোর্ড স্টেশনে আসতে আসতে আমার ২৬ মিনিট দেরি হয়ে গেলো। বুশরার বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল, তার উপর মামাকে সঙ্গে নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল, আর এতেই বুশরা চরম ক্ষেপে ছিল আমার উপর। রাত তখন ১১।



কাজের ব্যস্ততায়, সময়ের অভাবে শপিংএ যেতে পারছিলাম না। এদিকে কারি এ্যাওয়ার্ড ও চলে এসেছে। ওইদিন বুশরা শপিংয়ে গিয়েছিলো। কথায় কথায় বলেছিলাম, আমাকে প্লিজ একটা ডিনার সার্ট কিনে দাও, আমি অফিসের চাপে শপিংয়ে যেতে পারছিনা। ড্রেস কোড মেনটেইন না করলে আমাকে কারি এ্যাওয়ার্ডে ঢুকতে দেবে না।

আমি হন্তদন্ত হয়ে বুশরার সামনে পৌঁছতেই, আমাকে কথা বলার কোন সুযোগ না দিয়ে আমার হাতে একটা শপিং ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে বুশরা বলল, ১৪ সাইজের সার্ট জন লুইসে নেই, তাই ১৫ কিনতে হলো,আশাকরি তোমার হয়ে যাবে। এই বলে এক দৌড়; সেই যে গেলো, আজ পর্যন্ত দেখা করার কোন সুযোগ হয়নি।

বুশরা আমার কাছে এখনও সার্ট কেনার ৪০ পাউন্ড নেয়নি।

যাই হোক, গল্পের শুরুতে বুশরার আগমনের কারণ হলো আমার কারি এ্যাওয়ার্ডেসের প্রস্তুতিটা যে অনেক আগে থেকে সেটা বুঝাবার জন্যে।

কারি এ্যাওয়ার্ডয়ে যেতে হলে অবশ্যই ডিনার ড্রেস পড়তে হবে। সেই জন্য চাই কালো কোট আর বো টাই। কালো কোট আর বো টাই থাকলেও ডিনার সার্ট ছিলোন। বো টাই পড়ার জন্য এক ধরনের বিশেষ ডিনার সার্ট পাওয়া যায়। সার্টের কলারটা বিশেষ কায়দা করে বানানো হয় যেন টাইটা লাগানোর পর গলার সাথে আটকে থাকে। বাংলাদেশে এই টাই পড়া কাউকে দেখলেই আগে ভাবতাম চায়নিজ রেষ্টুরেন্টে কাজ করে বুঝি ? আর বিলেতে এসে দেখি পশ লোকজন ডিনারে বো টাই পড়ে।
নিজে কাক হয়ে একটু ময়ুরের পুচ্ছ ধারণের ব্যর্থ চেষ্টা করছি। যদিও ছবি তোলার পর দেখি আমাকে সেই চায়নিজ রেস্টুরেন্টের ওয়েটারের মতই লাগছে !


১৯৩৬ সনে প্রথম বাঙালি রেস্টুরেন্ট হয় সেন্ট্রাল লণ্ডনের মার্লিবোন এলাকায়। তারপর পা পা করে বাঙালিদের আধিপত্য বাড়তে থাকে, কারি ইন্ডাস্ট্রির সফলতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ব্রিটেনে। ব্রিটেনে বর্তমানে বাঙালি মালিকনাধীন রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ১২ হাজার। এসব রেস্টুরেন্টে কাজ করছে প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশী। চোঁখ ধাধানো একটা আয়োজন হলো এই ব্রিটিশ কারিএ্যাওয়াডর্স। সারা বছর ধরে যারা এই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ব্রিটেনের খাদ্যাভাসে এনেছেন নতুন মাত্রা, যাদের জন্য আজ ব্রিটেনে চিকেন টিক্কা মাসালা হয়েছে ন্যশনাল ডিশ, সেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে সেরাদের হাতে উঠেছে সম্মাননা। তাদের কাছে এই এ্যাওয়ার্ড অস্কার সমতুল্য।

এ বারো হাজার রেস্টুরেন্টের মধ্য থেকে সেরা দশ রেস্টুরেন্টের মালিকদের হাতে পদক তুলে দেয়ার স্বপ্ন দেখেন এনাম আলী ২০০৫ সনে। লণ্ডনের সারে এলাকায় তার রেস্টুরেন্টের খাবার এতটাই সুস্বাদু যে ব্রিটিশরা সেই খাবার খায় প্লেনে চড়ে। এমন সুব্যবস্থাও আছে। চাইলেই যে কেউ ছোট একটা প্লেনে চড়ে দুপুরে লাঞ্চ সেরে আসতে পারবেন এনাম আলীর রেস্টুরেন্টে।

তিন বছর ধরে এনাম আলী ব্রিটেনে এই কারি এ্যাওয়ার্ড প্রচলন করেন। ৩০ হাজার নমিনেশনের মধ্য থেকে জুরিবোর্ড সেরা দশ রেস্টুরেন্টকে মনোনীত করেন। লণ্ডন ও সেন্ট্রাল লণ্ডন এলাকা থেকে লা পোর্টে ডি ইন্ডিজ, লণ্ডন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ব্রিলিয়ান্ট রেস্টুরেন্ট, সাউথ ইস্ট লণ্ডনের সেরা রেস্টুরেন্ট হিসাবে আজিজ রেস্টুরেন্ট, সাউথওয়েস্ট থেকে রাজপূত, ইস্ট মিডল্যাণ্ডস হতে মেমসাব, ওয়েস্ট মিডল্যাণ্ডস হতে লাসান, নর্থ ওয়েস্ট হতে দ্যা ভ্যালি, নর্থ ওয়েস্ট হতে ইন্ডিয়ান ওশান, স্কটল্যাণ্ড ও নর্দান আয়ারল্যাণ্ড হতে ব্রিটানিয়া স্পাইস ওয়েলস হতে বেঙ্গল ডায়নেষ্টি সেরা দশের পদক জিতে নিয়েছে।
সবচে' আনন্দের কথা হলো সেরা দশের সাতটাই বাঙালি মালিকানাধীন রেষ্টুরেন্ট।


ব্রিটেনে বাঙালিদের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হয়ে থাকে বর্ষসেরা আয়োজন। ব্রিটেনের বাঙালিরা বিচ্ছিন্ন, মেইনস্ট্রিমে অংশগ্রহণ নেই, এমন অনেক কথা প্রায়শ শুনতে হয়,কিন্তু কারি এ্যাওয়ার্ডের মতো আয়োজন দেখলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় ! বাঙালিরাও চাইলে অনেক ভালো অনুষ্ঠান করে দেখাতে পারে।

হু ওয়ান্টস টু বি মিলিনিয়ার খ্যাত ক্রিস টরেন্ট যে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক থাকেন সেই অনুষ্ঠানে তার কথা শুনতে আর রসিকতা বুঝতে হলে সব সময় কান খাড়া করে রাখা চাই। বলিউড এ অনুষ্ঠানেও তার ব্যতয় ঘটেনি। বলিউড ফিল্মের একদল ডানা কাটা পরী কিছুক্ষণ পর পর নৃত্যের মুর্চ্ছণায় যখন দর্শকদের ভাসিয়ে দেয়, তারই ফাকে ফাকে ক্রিস তার চমৎকার কৌতুকপূর্ণ কথা দিয়ে দর্শকদের হল রুমে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

যাদু শিল্পী শহীদ মালিক যখন তার সহ শিল্পী এরিনাকে নিয়ে মঞ্চে আসেন তখন দর্শকদের উৎসাহ আর থামে না। আমি মনে মনে ভাবি ... আহা জুয়েল আইচ এর চেয়ে কত ভালো যাদু জানে। জুয়েলকে ব্রিটেনের লোকেরা কতটুকু চেনে? এনাম আলী তো পারতেন জুয়েলকে তার অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতে?

আগুন দিয়ে কাপড় পুড়িয়ে টুকরো কাপড় পুনরায় জোড়া দেয়া, আর বাক্স বন্দী এরিনাকে দুই ভাগ করে ফেলা আমাদের জুয়েল আইচের কাছে ছেলেখেলা। তাছাড়া আইচ এর হাসিতেই যেমন একটা যাদুর পরশ আছে তা শহীদ মালিকের মুখে নেই। তবুও শহিদ মালিকের যাদুর পরশে হল ভর্তি মানুষেল চক্ষু স্থির !!!

শেষ দৃশ্যে দিব্যা ডান্সারদের নৃত্য আর গ্র্যান্ড ফিনালে ছিলো সত্যিই তাক লাগানো। অনেকগুলো পতাকার মধ্যে বাংলাদেশের পতাকা দেখে আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে গেলাম, খুব কাছে থেকে যে মেয়েটা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে নাচছিলো তার ছবি ক্যামেরা বন্দী করলাম।
একটু আক্ষেপ থেকে গেলো, একটাও বাংলা গান কিংবা নাচের সেগমেন্ট রাখেননি কোরিওগ্রাফার, পুরো অনুষ্ঠানের থিম মিউজিকই ছিলো হিন্দী ! আমাদের কি একটাও ভালো বাংলা গান নেই যার উপর টাইটেল মিউজিক করা যায় ?

খুঁতখুঁতে স্বভাবের আমি আবারও অনুষ্ঠানের খুঁত খুঁজতে বসেছি। খুব বেশি চাওয়া পাওয়া থাকে আমাদের। এতো সুন্দর একটা আয়োজনের দুই একটা ভুল বাদ দিলে পুরো অনুষ্ঠানের স্বার্থকতা এনাম আলীকে দিতেই হবে। তবে উনিকিন্তু বাংলাদেশের বন্যার্তদের জন্য একটা বড় অংকের সাহায্য যোগাড় করেছেন । প্রবাসে থেকে নিজের দেশের জন্য এতটুইবা কম কিসের ?




পুনশ্চঃ লেখাটি একই সাথে সচলায়তনে প্রকাশিত হয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28740843 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28740843 2007-10-29 05:21:00
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সম্পদ ক্রোকের নির্দেশঃ শেখ রেহানার টেলি সংলাপ আজম জে চৌধুরীর চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতরি পরোয়ানা জারি ও সম্পত্তি ক্রোক করার ঘটনাকে ষড়যন্ত্র ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত বলে মন্তব্য করেছেন শেখ রেহানা।





লন্ডন ভিত্তিক বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল এসের সাথে স্বাক্ষাত কালে শেখ রেহানা আরো বলেন মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে তার নাম ছিলোনা হঠাৎ করে এমন মামলা রাজনৈতিক ভাবে মুজিব পরিবারকে হেও প্রতিপন্ন করারই চক্রান্ত। তবে তিনি আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুুত বলেও উল্লেখ করেন।


পুনশ্চঃ লেখাটি একই সাথে সচলায়তনেও প্রকাশিত হয়েছে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28739605 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28739605 2007-10-25 01:04:13
ওয়েট এন্ড সি : সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদ এবং সাংবাদিক দের সাথে বেশ খোলামেলা আলাপও করেন তিনি।
এই সুযোগে বিবিসি র সাবির ভাই প্রশ্নটা করেই ফেলেছিলেন দূর্বল সরকার গঠন করে আপনি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন !

হে সে উড়িয়ে দিলেন সেনা প্রধান, এটি আমার জন্য সংবাদ বটে !
জানতে চাইলাম , দুই নেত্রীকে জেলে রেখে দলগুলো যদি নির্বাচনে না যায় সেক্ষেত্রে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে ?

ওয়েট এন্ড সি



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28738049 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28738049 2007-10-17 20:20:31
ডানপিটে কৈশরঃ ছেলে ধরা। -কেন বলোতো ? তোমাকে খেতে দিতোনা বুঝি? নাকি বাদরামো করতে পারতেনা, কোনটা?

এসব কিছুই না। অলক এখনও জানেনা ঠিক ১১ বছর বয়সে অলক কেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলো।

ড্রইং রুমের চারপাশে সবাই গোল হয়ে বসে আছে। মাঝখানে মাথা নিচু করে আমি দ্বাড়ানো, আমার বাবা ওয়ালী আহমেদ ড্রইং রুমের এক পাশে আমার পড়ার টেবিলের তালা দেয়া ড্রয়ারটা ভাঙ্গার চেষ্টা করছেন, ছোট ভাই রনি খুব কৌতুহলী হয়ে দেখার চেষ্টা করছে ড্রয়ার থেকে কি বের করছে তার বাবা। ওয়ালী আহমেদ বিকট শব্দে ড্রয়ারের তালা ভাঙ্গতে সমর্থ হলেন এবং সেখান থেকে বের হলো স্টিকার এ্যালবাম,স্ট্যম্প বুক ও বিদেশী কয়েন। এর মধ্যে আমির খান ও অমিতাব বচ্চনের বেশ কয়েটি ভিউ কার্ড ও ছিলো। আমার দীর্ঘ দিনের সঞ্চয় করা সমস্ত সম্বলের এমন দূর্দশা দেখে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমার কিছুই করার ছিলোনা। এবার ওয়ালী আহমেদ সাহেব ম্যাচের কাঠি জালালেন, ড্রয়ার থেকে উদ্ধার করা পুরোনো ষ্টাম্প, ভিউকার্ড আর স্টিকার একে একে ফেলতে লাগলেন আগুনের উপর।

রনি এতক্ষন দড়জার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলো। পুড়ে যাওয়া স্টিকারগুলো তার খুব পছন্দ হয়েছে। সে জলন্ত আগুনে পুড়তে থাকা কিছু ষ্টিকার তুলে নেয়ার চেষ্টা করলে মা রেগে যান, ” খবরদার একদম ধরবিনা এগুলো, সব পুড়ে ফেলো, এসব ষ্টিকার, ভিউকার্ড, ষ্ট্যম্প পোদ্দারী করেই তো নষ্ট হয়েছে তোমার ছেলে, আবার নতুন করে আরেক যন্ত্রনা তৈরীর কোন দরকার নেই” মায়ের এক ঝাড়িতে রনি হাতে নেয়া ষ্টিকারগুলো আবার আগুনে ছুড়ে ফেলেছে।

কমিশনার আবদুল বারি এতক্ষন চেয়ারে বসে ছিলেন , সম্পর্কে আমার মামা হন তিনি। খুবই বদরাগী স্বভাবের এই লোকটাকে পরিবারের সবাই ভয় পায়। তাই যে কোন দেন দরবারের সময় তিনি আসেন বিবাদ মিটাতে, তিনি এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। বিনা বাক্য ব্যয়ে তিনি তার পা থেকে জুতা খুলে আমার চুল ধরে একাধারে পেটাতে থাকলেন। আমি আমার ক্ষুদ্র পুচ্ছ দেশে অসংখ্য জুতার বাড়ি হজম করতে থাকলাম। এক পর্যায়ে আমি হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললাম। ”আমি তো পালাইনি, আমাদের কে ছেলে ধরা নিয়ে গিয়েছিলো, আমি আর ফরিদ প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফিরছিলাম হঠাৎ একটা ট্রাক এসে আমাদের সামনে থামলো, আমাদের মুখে কাপড় চেপে বললো ট্রাকে উঠতে,আমাদেরকে ট্রাকে তুলে নিয়ে গেলো...... আমার আর কিছুই মনে নেই”।
হু হু হু.....

এবার বাবা এগিয়ে এসে আমার কাট টেনে ধরলেন। ”ছেলে ধরা ট্রাকে তুলে তোদেরকে নিয়ে গিয়েছিলো”? মিথ্যা কথার আর জায়গা পাসনা? তাহলে ঘরের আলনা থেকে তোর সব জামা কাপড় গুলো কে সড়ালো? ট্রাক ওয়ালা এসে বাসা থেকে কাপড় চোপড় নিয়ে গেছে?

এই কথা বলার পর আমার আর কিছুই বলার নেই , সব কিছুই পরিস্কার হয়ে গেছে । সবাই বুঝে গেছে যে আমি বাসা থেকে পালিয়েছিলাম। এবার আর কোন মিথ্যা গল্পই সাজানো যাচ্ছেনা।

ঘটনার দিন সকাল বেলা স্বাভাবিক নিয়মে আমি রশিদ স্যারের বাসায় অংক পড়তে গিয়েছিলাম। যথারীতি ফরিদও একই চিটারের বাসায় পড়তে আসে। ফরিদের আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিলো, ব্যগ ভর্তি ভিডিও ক্যাসেট আর একটা কাটিং গ্রেপস নিয়েই তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলো ফরিদ। আমি বাড়ী ফিরে এসে আলনা থেকে দুটো ট্রাউজার আর সার্ট নিলাম, হাতে টাকা ছিলোনা, কিন্তু আলমারিতে রাখা পুরস্কারের কিছু প্রাইজবন্ড ছিলো, সব মিলে চারশত টাকা । বেলা নয়টা নাগাদ ঢাকার বাস ধরলাম আমি আর ফরিদ।

কুমিল্লা হতে ঢাকা যেতে তখন দুই দুইটা ফেরি পার হতে হতো। আমার সেকি উত্তেজনা, ফেরিতে চড়বো, ঝাল মুড়ি ,শশা , সিদ্ধ ডিম.... কতো কিছু খাবার আছে। ফেরিতে উঠে আমি ফরিদ কোনটাই বাদ রাখিনি।

ঢাকার সায়েদাবাদ নেমে আমার খুব ভয় হচ্ছিল, সেই প্রথম আমার ঢাকা দেখা। ফরিদ অনেকবার এসেছে। তাই ফরিদ আগে হাটছে আমি পিছন পিছন, সায়েদাবাদের পাশে রেল ক্রসিং এ এসে আমরা স্কুটার নিলাম, রাজধানী ঢাকা দেখে আমার চোখ ছানা বড়া। এতো দিন যা কিছু দেখতাম টেলিভিশনের পর্দায় এখন সব কিছু আমার চোখের সামনে, ফরিদ আমাকে একে একে সব চিনাতে লাগলো, চব্বিশ তলা বিল্ডিং , শিশু পার্ক, যাদুঘর,সোহরাওয়ার্দি উদ্যান.....। শিশু পার্কের সামনে এসে মিশুকের মাস্কট দেখে আমি প্রায় মাথা বের করে চিৎকার করে উঠলাম এইতো মিশুক এইতো মিশুক, তখন সাফ গেমসের মাস্কট হিসাবে মিশুক চরিত্র দারুন তুঙ্গে। যাদুঘরের সামনে এসে আমরা নামলাম। সিদ্ধান্ত হলো পুরো যাদুঘর প্রথমে দেখবো, একে একে শিশু পাকর্, চিড়িয়াখানা তার পর অন্য কিছু। কাউন্টারে ব্যাগ রেখে যাদুঘরের কিছু অংশ ঘুরে বাংলাদেশের মানচিত্রের কাছে গিয়ে কুমিল্লা শহরের জায়গায় বাতি টা জালিয়ে দেখলাম ঢাকা কতটা দূরে। যাদুঘর দেখে , চিড়িয়াখানা দেখা শেষ করে শেষ চক্কর শিশু পার্কে। তখন ঢাকা শিশুপার্ক নতুন হয়েছে মাত্র। নতুন নতুন রাইডে উড়াল পাখির মতো চড়ে বেড়াচ্ছি আমি আর ফরিদ।

দিন ভর ঘুরে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লাম দুজনেই। পকেটের টাকা ও প্রায় শেষ হবার পথে। ফরিদ বললো বাসার সবার জন্য মন খারাপ লাগছে। আমি বললাম আমারও খারাপ লাগছে। চল ফরিদ ফিরে যাই....। ফরিদ বললো, ফিরে গেলে কপালে মাইর একটাও মাটিতে পড়বেনা এইটা বুঝছ ! কিন্তু দোস্ত থাকবি কোথায় ? খাবি কি ? আর স্কুলে যাবোনা ? নানান প্রশ্ন মাথায় খেলতে লাগলো।
সব কিছু ভেবে দুইজন কমলাপুর ষ্টেশনে এসে হাজির, তখন রাত ৯ টা, রাত ১১ টায় তুর্ণা নিশিথা ট্রেনে কুমিল্লা ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।

কিন্তু আমরা এতক্ষন কোথায় ছিলাম এই উত্তর কি দেবো? এক মত হলাম দুজনেই, আমরা প্রাইভেট পড়ে বাড়ী ফিরছিলাম তখন ছেলেধরা আমাদের মুখ বন্ধ করে ট্রাকে তুলে ঢাকা নিয়ে গিয়েছিলো। আমরা পালিয়ে বাসায় চলে এসেছি।

টেলিফোনের অপর প্রান্তে অলক নওরিতার হাসির শব্দ শুনতে পেলো। নওরিতা হাসি থামাতে পারছেনা।
-এই নওরিতা হাসছো কেন?

এবার অলকও নওরিতাকে অনুসরন করছে, টেলিফোনের দুই প্রান্তে অলক আর নওরিতা দুজনই হেসে চলেছে অনবরত। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28734974 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28734974 2007-10-02 08:09:24
হলিডে মেকার্স স্কিম.....বিলেতের লাড্ডু !! দোস্ত লাইফ নিয়ে কে কি ভাবছিস?

সোহরাব বললো, 'দোস্ত আমেরিকা, আমি প্লেনের চাক্কার সাথে বাইন্ধা হইলেও আমেরিকা যামু।'

আমি বলেছিলাম তুই পারবি।তোর অনেক সাহস। রাজুর টার্গেট আই বিএরএমবিএ। চান্স না পেলে সরাসরি নর্থসাউথে।
আমি বললাম আমেরিকার ভিসা দোস্ত আমারে দিবনা। লাল সিল খাওয়ার চেয়ে ইউরোপে ট্রাই করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন গুলোতে হাসতে হাসেত যে গল্প হয়েছিল আজ তা বাস্তব।

এখন ছেলে মেয়েরা কি ভাবে জানিনা। হয়তো ইউরোপের লাড্ডু খাবার প্রহর গুনছে কেউ কেউ?
তবে অনেকেই যে বিলেতে আসতে চায় তা বুঝি বন্ধুদের মেইল পেয়ে। আমার এক ব্যংকার ভাই বেতন পায় ৫০ হাজার। বলি তোমার বিলেতে আসার দরকার নাই, তবুও তার মাথায় পোকা.....
সে আসবেই । আমি বলি, আমি তোআমার কাজ শেষ হলেই ফিরবো, তবুও মানতে না রাজ...

চলতি মাসের প্রথম দিকে হলিডে মেকার্স ভিসা নিয়ে প্রথম আলোতে একটা রিপোর্ট লিখেছিলাম। বৃটিশ সরকার পুনরায় হলিডে মেকার্স স্কিম চালু করেছে। ভালো কথা , তবে সবাই এই ভিসার জন্য হামলে পড়া মনে হয় ঠিক হবে না।

এই ভিসা দুই বছরের জন্য দেয়া হলেও এই ভিসার আওতায় ভিসা নবায়ন সম্ভব নয়। পুনরায় দেশে ফেরত যেতে হবে। তাই স্টুডেন্টদের জন্য এই স্কিম ভালো হবেনা।

স্টুডেন্ট ভিসা রিনিউ করা গেলেও হলিডে মেকার্স স্কিমে এই সুযোগ নেই।
তাই স্টুডেন্টরা সাবধান !!!
খুব জলদি এই বিষয়ে আমি লিখবো। চলতি সপ্তাহে একটু বিজি তাই লিখার সুযোগ হচ্ছেনা।
তবে স্টুডেন্টরা সিদ্ধান্ত নেবার আগে বুঝে শুনে নিয়ম কানুন ভালো মতো জেনে সিদ্ধান্ত নেবেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28728172 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28728172 2007-08-28 08:41:30
নিষ্ঠুর হলজীবন।
আমার গলা নিচু হয়ে আসে, কাছে গিয়ে বসি তার বিছানার পাশে। রফিক তখনো বলছে, ‘১০০০ টাকায় মাস চালাই। এর মধ্যেই খাওয়া খরচ ও পড়ার খরচ মেটাতে হয়। আগে একটা টিউশনী করতাম এখন সেটাও নাই। বরিশালে যাওয়া আসার খরচ, আর মায়ের জন্য তো একটা কিছু নিতেই হয়। কই পাই এতো খরচ!’

আমি রফিকের চোখে জল দেখি। একটু থেমে রফিক আবার বলতে শুরু করে, ‘আমার খুব মন চায় মা-বাবাকে দেখতে যেতে। পারিনা বন্ধু ...’

রফিকের মতো এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যারা সীমিত অর্থে, কঠোর হিসাব করে, কষ্ট করে পড়াশুনাটা চালিয়ে নেয়। তাই বছরে একবারই তারা দেশের বাড়ি বেড়াতে যেতে পারে।

তিন ঘন্টায় হল খালি করতে হবে, এমন নির্দেশে অনেক শিক্ষার্থীই পকেটে বাসের ভাড়া আছে কিনা তা ভাবছে। কেউবা ভাবছে এতো রাতে যাবো কিভাবে? গাড়ী পাবো তো? মাসের চলছে ২৩ তারিখ। এসময় সবারই একটু টাকাপয়সার টানাটানি থাকে, কার কাছে হাত পাতবে? কে সাহায্য করবে? এ ভাবনাগুলো যখন শিক্ষার্থীর মনে উঁকি দেয় তখন তার কানে হয়তো জলপাই রঙের ট্যাংকের গর্জন বাজতে থাকে।

মেয়েদের অবস্থা তো আরো করুণ। এখনও মেয়েদের একা একা বাড়ি ফেরার পরিবেশ নেই অনেক ক্ষেত্রে, কিভাবে একা একা বাড়ি ফিরবে মেয়েগুলো? হাউজ টিউটররা কি হলের মেয়েদের গিয়ে একবারও জিজ্ঞেস করেছেন, কিভাবে তোমরা যাচ্ছো? হাউস টিউটররা কি তাদের নিজস্ব গাড়ি দিয়ে তাদের বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দিতে পারবেন? একটি হলেও কি এরকম কোনো উদাহরণ দেখা যাবে?

কোনোপ্রকার সংবাদসূত্র ছাড়াই আমি হলপ করে বলে দিতে পারি তিন ঘন্টার মধ্যে হল ছাড়ার নিদের্শ দিয়েই কর্তৃপক্ষ খালাস। তার পরের হিসাব নিকাশ আর দুর্ভোগের বৃত্তান্ত পুরোটাই হজম করতে হবে অসহায় শিক্ষার্থীদের

লেখাটি একই সাথে সচলায়তনেও প্রকাশিত হয়েছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28727304 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28727304 2007-08-23 05:50:08
বিপ্লব রহমান সহ সাংবাদিকদের আটক কি তবে ব্যরিস্টার মইনূলের ক্ষমতা প্রয়োগের দৃষ্টান্ত???
"সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় , টক শো, আর্টিক্যাল, ফিচার, ব্যাঙ্গচিত্র ইত্যাদি আলোচনা অনুষ্ঠান প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট সহ যেকোন প্রকার গনমাধ্যমে প্রদর্শন করা নিষিদ্ধ বা শর্ত আরোপ করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রন করতে পারবে সরকার।"

এক দিকে ভাষণ দিয়ে ক্ষমতার মাত্রা সম্পর্কে জানান দেয়া ও সংবাদ প্রচারের স্বাধীনতার কথা বলা, অন্যদিকে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা ডাবল স্ট্যন্ডার্ড নীতি আমাদের কাছে পরিস্কার নয়।

সাংবাদিক বিপ্লব রহমান ,সাংবাদিক লিটন হায়দার,ও আসিফ আহমেদ রম্যকে আটক ও গ্রেফতারের কারন জানতে চাই আমরা।

ব্লগার বিপ্লব রহমান বিডি নিউজ হতে শেষ মন্তব্যটি করেছিলেন , বিডি নিউজ নিয়ে সকাল হতে গুজব শুনতে পেলাম সাইটটি বন্ধ ! ব্লগার বিপ্লব জানিয়েছিলেন বিডি নিউজ বন্ধ হয়নি। ভেবেছিলাম সন্ধ্যা নাগাদ ব্লগে আরো নতুন তাজা সংবাদ নিয়ে ফিরে আসবেন তিনি। সেটি হতে দেয়নি জলপাইরা।

ইতিপূর্বেও ব্লগার তাসনিম খলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো, কেন কি কারনে গ্রেফতার করা হয়েছিলো তার ব্যখ্যা পাওয়া যায়নি, সংবাদ এসেছে বিপ্লব রহমান সহ সাংবাদিকরা ছাড়া পেয়েছেন, প্রশ্ন হলো সাংবাদিকদের আইডি কার্ড দেখানোর পরও গ্রেফতার করা হলো কেন ?

কার নিদের্শে সাংবাদিকদের উপর আক্রমন, এ কিসের অশনি সংকেত ???
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28727281 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28727281 2007-08-23 00:28:11
বিডি নিউজ বন্ধের গুজব কতটুকু সত্য?
অন্য কেউ আর কিছু কি জানেন? প্লিজ আওয়াজ দিয়েন।
আমরা প্রবাসে থেকে আপডেট চাই।
বাংলাদেশের ব্লগাররা প্লিজ আপডেট জানিয়েন।
ধন্যবাদ সবাইকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28727234 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28727234 2007-08-22 19:16:07
স্যালুট টু অল ডিইউ স্টুডেন্টস। স্যালুট টু অল ডিইউ স্টুডেন্টস।

এই ভাবেই সেদিন অপারাজেয় বাংলার ভাস্কর্যের চোখে কালো কাপড়ে বাঁধা হয়েছিলো। শামসুন্নাহার হলের মেয়েদের উপর হামলার দৃশ্য যেন নিস্প্রান মূর্তিও না দেখে সে জন্য লজ্ঝ্বা ঢাকতে কালো কাপড়।
আজও রাজু ভাস্কর্যে সেই একই দৃশ্য। একই তেজদীপ্ত প্রতিবাদী কন্ঠস্বর, " জলপাই ব্যারাকে ফিরে যাও, এই ক্যাম্পাস আমাদের "
আজও শিক্ষার্থীরা প্রমান করেছে, ক্যম্পাস জলপাইদের নয় শিক্ষার্থীদের।
সত্যি তোমরা পার।
ইতিহাস মিথ্যে বলেনা। কোন অপশক্তিই ঢাবি'র শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। আমাদের সমর্থন থাকবে চিরকাল।

ছবিটি বিডি নিউজ থেকে নেয়া।
ধন্যবাদ জিয়া ইসলামকেও অসাধারন ছবিটি তুলবার জন্য]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28726991 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28726991 2007-08-21 22:23:36
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। শামসুন্নাহার হলের হামলার প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের মুখে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করেছিলো। তখন আমি ডাইনিং হলে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম,বিবিসি বাংলার সংবাদ শুনে যখন জানলাম ২৪ ঘন্টার মধ্যে হল ত্যগ করতে হবে। তখন সলিমুল্লাহ হল থেকে প্রথম মিছিল বের করেছিলাম।

এক চিৎকারে সেই রাতে ৫ শত ছাত্রের মিছিল নিয়ে গিয়েছিলাম টিএসসিতে।

হলের রাজনীতি বিদেরা বলেছিলো, তানভীর ভাই গান্ধি সাইজেন না , রুমে গিয়া বইয়্যা থাকেন।

আমরা বসে থাকিনি। মিছিল ভিসির বাসা ঘেরাও করেছিলো।
টিয়ার সেলের ধোয়ায় মিছিল ছত্র ভঙ্গ হয়েছিলো বটে, সেই স্রোত জগন্নাথ হলের গেটের তালা ভেঙ্গে ছাত্রদের বের করে নিয়ে এসেছিলো।
মোবাইলে সংবাদ পৌছে গেল হলে হলে। সব হল থেকে মিছিল এসে জড়ো হয়েছিলো।
ছেলেরা হল ছাড়লেও রোকেয়া হলের মেয়েরা সেদিন হল ত্যাগ করেনি।
রোকেয়া হলের সামনে তৈরী হলো মুক্ত মঞ্চ।
তার পর তিন দিন না ঘুম, না খাওয়া দাওয়া শহীদ মিনারে আমরন অনশন।
ভিসি আনোয়ারুল্লাহকে বিশ্ব বিদ্যালয় ছাড়তে হয়েছিলো।

কয়েকটি শ্লোগান আমার এখনও মনে আছে..

"ছি ছি ছি আনোয়ার .
তুই একটা জানোয়ার"

তখনও এতো রক্ত দেয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। একজন সাবেক শিক্ষার্থী হিসাবে আমি এই রক্ত সহ্য করতে পারছিনা।
রক্ত ঝরতে হলে জলপাই রং রঞ্জিত হোক।
আমাদের যোগ্য উত্তর সূরীরা আজ কোথায় ?

"এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়

বিঃদ্রঃ ছবি টি প্রথম আলো থেকে নেয়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28726842 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28726842 2007-08-21 05:52:39
ডানপিটে কৈশরঃ পর্ব এক - আজ তোমার ছেলেবেলার গল্প শোনানোর কথা । মনে আছে অলক, গত সপ্তাহে তুমি প্রমিজ করেছিলে।

- আচ্ছা অলক ছেলেবেলায় তোমাকে নাকি তোমার বন্ধুরা ল্যাবরেটরি চোর বলে ডাকতো!
- কে বললো তোমাকে এসব কথা ?
- তোমার ডায়েরিতে লেখা ছিলো. একবার চুরি করে তোমার টেবিলে রাখা ডায়েরির কয়েকটা পাতা আমি পড়ে ফেলেছিলাম। পুরো কাহিনীটা পড়ার সুযোগ হয়নি।

অলক খানিক টা হেসে বললো, পুরোটা শুনবে?

- ষষ্ঠ শ্রেনীর কথা। আমি তখন কুমিল্লা জিলা স্কুলের ছাত্র। ছাত্র যেমনই হই, ফার্স্টবেঞ্চে আমার বসা চাই। এই নিয়ে রীতিমত মারামারি বেঁধে যেত। আমি ফরিদ দুইজনই ক্লাশে ফার্স্টবেঞ্চে বসার জন্য একটু বাড়তি কায়দা করতাম। সকালবেলা অংকের টিচার রশিদ স্যারের বাসায় পড়া শেষে স্কুলে গিয়ে ফার্স্টবেঞ্চে জায়গা রেখে তার পর বাসায় ফিরতাম। এবার ১২ টায় ক্লাস শুরুর ৫ মিনিট আগে আসলেও সিট নিয়ে কোন ঝামেলা নেই। মাঝে মধ্যে ঝগড়া বেঁধে যেত। কিছু ত্যাঁদর পোলাপান একটা খাতা দিয়ে জায়গা রাখলে বুঝে ফেলতো, আমরা আগে জায়গা রেখে গিয়েছিলাম। ছুড়ে ফেলতো পিছনের সিটে। মাঝে মধ্যে মন খারাপ করে পিছনেও বসতে হয়েছে।

একদিন প্রাইভেট টিউটরের পড়া শেষে সকাল ৯ টায় ফার্স্টবেঞ্চে জায়গা রাখতে স্কুলে গিয়েছি, যথারীতি ফরিদ আমি দুজনেই বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে ফরিদের ডাক শুনেতে পেয়ে তাকিয়ে দেখি ফরিদ আমাদের বিজ্ঞানাগারের জানালা বেয়ে উঠার চেষ্টা করছে। কিছুদূর গিয়েই চিৎকার করে - দোস্ত, পাইছি। অনেক দিন খুঁজে এই ফাঁক পাইলাম, আজকে ল্যবরেটরির ভিতরে কি আছে সেটা দেখবো।

মাথা গলিয়ে ফরিদ ইতিমধ্যে ল্যবরেটরিতে ঢুকে পড়েছে। আমি লাফ দিয়ে জানালার কার্নিশ ধরার চেষ্টা করছি, অতপর সফল হলাম। নিচ থেকে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি ফরিদ তার গবেষণা শুরু করে দিয়েছে। কি শুনছো তো তুমি?

টেলিফোনের অপর প্রান্তে নওরিতা বললো, একটু থামো। আমি এককাপ চা নিয়ে আসি, মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম। ঘোর কাটেনি, তবে তোমার গল্পটা খুব থ্রিলিং মনে হচ্ছে।

নওরিতার ফিরে আসার ফাঁকে অলক প্রয়োজনীয় ইমেইল চেক করে নিলো। সামহোয়ারের পেজটা খুলে পোস্টগুলো স্ক্রল করতে করতে টেলিফোনের অপর প্রান্তে নওরিতার ফিরে আসার কণ্ঠ শুনতে পেলো।

সালফিউরিক এ্যাসিড ,নাইট্রিক এ্যাসিডের মিশ্রণ বেসিনে ঢালছে ফরিদ, বেসিনের মুখটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কেমিকেল পাউডার দিয়ে। এর মধ্যে কিছু দ্রবণ নিয়ে চীনা মাটির বেসিনে রাখা হয়েছে। সম্ভবত বিজ্ঞানী ফরিদ ঐদ্রবন দিয়ে কোন পরীক্ষা চালাবেন। এমন সময় জানালা দিয়ে আমি লাফ দিয়ে নামলাম, আমি কোনটা সালফিউরিক এ্যাসিড কোনটা নাইট্রিক এ্যাডিট সেগুলো না খুঁজে লিটমাস পেপার খুঁজছিলাম। ক্লাসের টিচার বলেছে সালফিউরিক এ্যাসিডের দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল ও নীল লিটমাসকে লাল করে। আজ সেই পরীক্ষা হবে।

ফরিদ এ্যাসিড ঢালছে আর আমি দেখতে থাকলাম এ্যাসিডের দ্রবণে লিটমাস পেপার কিভাবে চোখের পলকে নিজের রঙ বদলায়..

নওরিতা তোমার কি কখনোও মনে হয়েছে সাত বছর আগে যে নওরিতাকে আমি জানতাম বিলেতে আসবার পর সেই নওরিতা লিটমাস পেপারের মত রঙ বদলেছে?

নওরিতা আলতো কণ্ঠের জবাব, কেন ওভাবে বলছো অলক! আমি কি সবসময় তোমার পাশে থাকিনি ?
হঠাৎ তোমার এমন মনে হবার কারণ কি?

অলক খানিকক্ষণ থেমে আবার শুরু করে, ফরিদ বেশ কিছু টেস্টটিউব জড়ো করেছে, আমারও লোভ হলো বাসায় টেস্টটিউব নেবো। খানিকটা পানি দিয়ে ওটাতে মানিপ্ল্যান্ট গাছ লাগিয়ে বারান্দাতে সাজিয়ে রাখা যাবে। সাথে কয়েকটা চিনামাটির বেসিন।

হঠাৎ বাইরে থেকে চোর চোর বলে চিৎকার করছে দারোয়ান। ফরিদ একলাফে জানালা দিয়ে বের হয়ে দৌড়। আমি ঘটনা কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা। যখন সিদ্ধান্ত নিলাম লাফিয়ে পড়বো তখন দেখি জানালার নিচে দারোয়ান বাবা হাজির।

ফরিদও পালাতে পারেনি। দারোয়ান দুজনকে ধরে হেড টিচারের বাসায় নিয়ে গেলো। বাইরে থেকে গেট বন্ধ। এখন অপেক্ষা কখন হেড টিচার আসেন। এই সময়ে ফরিদ বুদ্ধি বাতলে দিলো নাম ঠিকানা মিথ্যা বলতে হবে। যথারীতি প্ল্যান অনুযায়ী আমরা আগালাম।
হেড টিচার সালাম স্যার ফরিদ কে জিজ্ঞেস করলেন, কিরে ল্যাবরেটরীতে কি করতে ঢুকেছিলি?

- স্যার একটু দেখতে, ওখানে ভিতরে কি আছে দেখার খুব শখ।
- ভেতরে কি আছে সেটা দেখতে কি জানালা ভেঙ্গে পেছন দিয়ে ঢুকতে হয়?

ফরিদ তার বাবার নাম বললো কামাল উদ্দীন। তার পর বাসা বললো উল্টা পাল্টা করে। আমি সাহস করে নাম ধাম ভুল বললেও বাসার এড্রেস দিতে গিয়ে বলে ফেলেছি , সায়েন্স টিচার কাশেম স্যারের বাসার পাশেই আমার বাসা।

যথারীতি আমরা ক্লাসে আসি। হেড টিচার আবদুস সালাম স্যার আর আমাদের খুঁজে পাচ্ছেনা। আমাদের দেয়া নাম, ক্লাস ও রোল নং অনুযায়ী আমাকে আর ফরিদ কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

কাশেম স্যারকে ডাকা হলো, আপনার বাসার কাছে ষষ্ঠ শ্রেনীতে কে পড়ে? স্যারকে নিয়ে হেড টিচার প্রতিক্লাসে টহলে বের হলেন।

যথারীতি আমি ধরা খেলাম। তার পরদিন ফরিদও।
আমাদের দুজনকেই কেন টিসি দিয়ে বের করে দেয়া হবে না এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হলো। জানানো হলো, ৭ দিনে মধ্যে অভিভাবক এসে এর ব্যাখ্যা দিয়ে টিসি নিয়ে যাবেন।

ইতিমধ্যে স্কুলে রটে গেছে ল্যাবরেটরিতে আমরা চুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়েছি। আমাদের টিসি দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ফরিদদের ছিলো আইসক্রিম ফ্যাক্টরী। ফরিদ ফেক্টরী ম্যনেজার কে বাবা সাজিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। আমি বললাম আমার বাবা সিলেটে পোস্টিং, উনি আগামী এক মাস আসবেন না। মামাকে বললাম হেডটিচারের সাথে দেখা করতে। বাসায় বললাম আমরা ল্যবরেটরিতে ঢুকেছিলাম একটু দেখতে ...

জানো নওরিতা মুচলেকায় কোন কাজ হয়নি, আরো অনেক ঘটনা ঘটিয়েছিলাম স্কুলে। আচ্ছা সেই গল্প আরেক দিন করবো। সবচেয়ে মজার ঘটনা কি জানো নওরিতা সেই ফরিদ আর আমি এখন দুজনেই লন্ডনে । ফরিদের একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে গেল সপ্তাহে আমি ওকে দেখতে গিয়েছিলাম।

সত্যিই পৃথিবী গোল।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28726693 http://www.somewhereinblog.net/blog/ThirdEyeblog/28726693 2007-08-20 09:05:04