গাদ্দাফির লিবিয়ায়ঃ
১। ছাত্রেরা যে বিষয়ে পড়াশোনা করতো সে বিষয়ে পড়াশোনা করে চাকুরীরতরা গড়ে যে বেতন পেত সে পরিমান টাকা তাদের দেয়া হত।
২। লিবিয়দেরকে বিনা সুদে ঋণ দেয়া হত।
৩। যে পর্যন্ত না একজন লিবিয়ান চাকরী না পেত সে পর্যন্ত রাষ্ট্র চাকুরী না পাওয়ার জন্যে তাকে ক্ষতিপূরন দিত (বেকার ভাতা বলা যায়) ।
৪। বিয়ে করলে রাষ্ট্র বিনা মূল্যে বিবাহিত দম্পতিকে এপার্টমেন্ট বা বাড়ি দিত।
৫। যে কোন লিবিয় পৃথিবীর যে কোন দেশে পড়তে যেতে পারতো, রাষ্ট্র তাকে মাসে দুই হাজার পাঁচশো ইঊরো এবং বাড়ি ভাড়া ভাতা ও গাড়ি ভাতা দিত।
৬। গাড়ি (car) উৎপাদন মূল্যে(factory cost)বিক্রি করা হত।
৭। লিবিয়ার আই এম এফ, বিশ্ব ব্যাংক বা পৃথিবীতে কারো কাছে কোন ঋণ ছিল না, এখন পর্যন্তও নেই। এক পয়সাও নয়।
৮। প্রতিটি লিবিয় বিনা মূল্যে শিক্ষা এবং সাস্থ্য সেবা পেত।
-
৯। লিবিয়ার ২৫% নাগরিকের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছিল ও আছে।
১০। উত্তর আফ্রিকায় লিবীয়রা সবচে' শিক্ষিত (৮২% লোক লিখতে ও পড়তে পারে)।
১১। লিবিয়ায় কোন ভিক্ষুক নেই এবং সাম্প্রতিক ন্যাটো বোমা বর্ষনের আগে পর্যন্ত সে দেশে কেউ গৃহহীন ছিল না।
১২। আধ কেজি পাঊরুটির দাম লিবিয়াতে পনেরো মার্কিন সেন্ট আ্মাদের হিসেবে এগারো টাকা সত্তুর পয়সা। প্রসংগতঃ বলছি আমাদের দেশে ৪৫০ গ্রাম একটি ওরিয়েন্ট পাউরুটির দাম পয়ঁত্রিশ টাকা।
গাদ্দাফি মরলো কেন? সে মরলো কারন সে পশ্চিম বিশ্বের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গাদ্দাফি স্বৈর শাসক ছিল কিন্তু সেটা পশ্চিম বিশ্বের ধর্তব্যের মধ্যে ছিল না।
মানবাধিকার , তাও তৃতীয় বিশ্বে ?
পশ্চিমাদের জন্যে কোন ব্যাপার নয়।
সে পশ্চিমের গোদের ওপর বিষ ফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল কারনঃ
[১। তেল উৎপাদনের বিশাল অংশ সে পশ্চিম বা পশ্চিমা তেল কোম্পানীগুলোকে দিত না।
২। উচ্চ সূদে আই এম এফ বা বিশ্ব ব্যাংক থেকে সে ঋণ নিত না।
৩। লিবিয়াকে সে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন করেছিল এবং পশ্চিমকে সে বুড়ো আংগুল দেখাতো।
৪। সে তেল উৎপাদক ও রপ্তানীকারক দেশ গুলোকে বলেছিল যে তেলের মূল্য হিসেবে কাগুজে মূল্যহীন ডলার বা ইঊরো না নিয়ে সোনায় নিতে। পশ্চিমা দেশগুলোর যদি সোনায় তেলের মূল্য পরিশোধ করতে হয় তাহলে প্রায় সবগুলো দেশই তেলের মুল্য পরিশোধ করতে দেউলিয়া হয়ে যাবে কারন বেশীরভাগ দেশেরই সে পরিমান সোনা মজুদ নেই যা তাদের কাগুজে মুদ্রার সমকক্ষ। (ঠিক এই আহবান জানিয়েছিল সাদ্দাম হোসেনও।)
কংগো ও নাইজেরিয়া লিবিয়ার চেয়ে সত্তর গুণে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ কিন্তু তাদের সাধারন মানুষের অবস্থা দীনহীন।
সাব সাহারার দেশগুলো পরোক্ষভাবে পশ্চিম নিয়ন্ত্রিত। নাইজেরিয়ার ৮০ শতাংশ লোক দিনে ২ ডলারে জীবন পাত করে। আর ২০ শতাংশ যারা পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে তারা থাকে সম্রাটের হালে। তার একমাত্র কারন বোধহয় সেখানে গাদ্দাফীর মত কেউ ছিল না।
এখন গাদ্দাফি আর নেই। তার মরার দৃশ্য আমরা দেখেছি ।
এবার তার চরিত্র হনন করা হবে। বানানো হবে তাকে একটি হিংস্র জল্লাদ।
...এবং পশ্চিমারা মনের সুখে লিবিয় সম্পদ হরিলুট করা শুরু করবে
... এবং করতে থাকবে।
আমার প্রায়ই মনে প্রশ্ন জাগে কে স্বৈরাচারী শাসক, যে তার শাসিতের বাক স্বাধীনতা উপেক্ষা করে মৌলিক চাহিদাগুলো পুরন করে, নাকি সেই শাসক যার শাসিতেরা ক্ষুধার জ্বালায় ২০ দিনের শিশুকে বিক্রি করে দেয়।
আমি জানিনা।
____________________________________________
যে মায়ের কাছে দারিদ্রের কষাঘাত বাৎসল্যের চেয়ে বেশী সে মা কি মানব জাতির অংশ? সে মা তো মানবেতরো। যে মানবেতরো তার আবার বাক স্বাধীনতা কি?
Sri Lanka News Updates with Discussions
___________________________________________
দৃষ্টি আকর্ষন
"গাদ্দাফি, জনকল্যান, কর্পোরেট পশ্চিম আর আই এম এফ "
ও
"বাক স্বাধীনতা, মৌলিক চাহিদা পূরণের স্বাধীনতা আর স্বৈরতন্ত্র"
এই দুটি পোষ্ট একই পোষ্ট। গতকাল সকালে আমি যখন প্রথম শিরোনামে পোষ্ট করি ঠিক তখনই সামুর সার্ভার ডাউন হয় এগারো ঘন্টার জন্যে। পরে আমি শিরোনামটা বদলিয়ে রাতে আবার পোষ্ট দেই। পরের পোষ্টে কিছু মন্তব্যের জবাবও দেই। তখন পর্যন্ত জানতাম না যে আমার আগের পোষ্টটিও প্রকাশিত হয়েছে। আজ সকালে আমার নিজের ব্লগটা খুলতেই দেখি দুটো পোষ্টই প্রকাশিত এবং দুটিতেই বেশ কিছু মন্তব্য। মন্তব্যকারীদের উত্তর দেবার জন্যে দুটি পোষ্টই রেখে দিয়েছি। কারো অসুবিধার কারন হলে আমি আন্তরিকভাবে দূঃখিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



