আজ পরীক্ষা শেষ হল । ভাল লাগছেনা । ভাবলাম ,কিছু লিখি । বহুদিন লেখা হয় না । লেখা লেখি বলতে গেলে একধরণের ভুলতে যাওয়ার পথেই ।আগে লিখতাম , নিয়মিত লিখতাম কিছু শিশু-কিশোর পত্রিকাতে । ছবি আঁকতাম । আমার মনের খোরাক ছিল ওগুলো । ভার্সিটিতে আসার পর থেকে কেমন যেন হয়ে গেছি । আগের মত আর লিখা হয়ে উঠে না । লিখতে মন চাইলেই হাতের কাছে পাই একখান ডায়েরী আর এই সামু...
সেই আগের লেখালেখি ছেড়ে অন্য এক জগতের হাওয়ায় ভাসছি এখন। হল লাইফ ! এসেই বড়দের মুখে যে জিনিসটি শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি সেটা হল ...যেদিন হল ছেড়ে চলে যাবা সেদিন আসল কষ্ট বুঝবা । এখন বাক্যটা আমিও মাঝে মাঝে আওড়াই । কারণ, ইতিমধ্যে আমার আড়াই বছর পার হয়ে গেছে । আড়াই বছরে সঞ্চয় করেছি অনেক কিছু । আরো অনেক কিছু হয়ত সঞ্চয় করব ।
হলের সবচেয়ে বড় একটা জিনিস রুমমেট । রুমের মজার চাইতে বড় মজা বুঝি হলের আর কিছুতেই নেই । এই চরম জিনিসটাও আমি অনেক ভাল ভাবে পেয়েছি ।
আমরা তিনজন । আমি, নিপা আর জাফরিন আপু( ব্লগার জাফরিন ) ।অনেক মজা করেছি । অনেক উপভোগ করেছি হল লাইফটাকে । এরা না থাকলে বুঝি আমার হল লাইফটা পূর্ণ হত না ।
তো এবার আমাদের তিনজনের কথা বলি । আমরা সবসময় একসাথে থাকি । খেতে গেলে একসাথে, বিকেলে একসাথে....বলতে গেলে আমার ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টাই কাটে এদের সাথে । সামান্য কিছু ঘটলেই অনেক মজা হয় ।
শুরুটা করি একটা মজার ঘটনা দিয়ে । তিনজন একসাথে খেতে বসেছি । আইটেম সরষে ইলিশ । জাফরিন আপুর ঝোল শেষ । ডাকছে...এই হাসান, একটু সরিষা মাছের ইলিশ ঝোল দিয়ে যাও তো !
(ঘটনাটা আজকের তো ....তাই মনে আছে । দেখি তো আরো কিছু মনে করতে চেষ্টা করি )
মাঝে মাঝে আমিও এমন কিছু বলে ফেলি যে নিজেও ভেবে পাইনা এটা কিভাবে বললাম । ওরা তো তখন পোয়াবারো !
একদিন নদী নিয়ে গল্প হচ্ছিল । আমি বললাম, সবাইকে নৌকায় করে ঘুরাব । তখন আমাদের এক স্টার
এরকম আরো অনেক অনেক মজার ঘটনা ঘটে আমাদের মধ্যে ।আরো কত কি! চাঁদনি রাতে তিনজনে হলের বিশাল মাঠে শুয়ে শুয়ে জোসনা উপভোগ করেছি ...দাদুদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফুল তুলেছি ....কাটার আঘাত সয়ে টসটসে চেরী ফল খেয়েছি....এখনো এসব করেই যাচ্ছি । আর কয়েক বছর পর যখন হল ছেড়ে চলে যাব তখন দারুণ ভাবে মিস করব তাকে ।এখন আর সেই ভবিষ্যৎ কল্পনা করতেও ভাল লাগে না । যদি এভাবেই চলতে পারতাম অনন্তকাল.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


