আমি পাঠ করছি-
হাতুড়ির আঘাতে চ্যাপ্টা হতে থাকা কয়লার আগুনে
পোড়ানো লৌহের আর্তনাদের সাথে পরিবর্তিত রুপ
বগলে ফাঙ্গাস ছড়ানো কুমারের হাতে ঘুর্ণায়মান
মৃতশিল্পের ভাঁজেভাঁজে বেড়ে ওঠা আগুনস্পর্শ পূর্ণতা
প্রতিটি বুননে নিমগ্ন তাঁতীর অতৃপ্তি ও তার
পূর্ব পুরুষের ভুলে যাওয়া মসলিন শিল্প,
জল অভাবে ফেটে যাওয়া ফসলি জমিনের অভ্যন্তরে
উই ও ইদুরের অস্থায়ী রাজত্বের কার্যকলাপে উদাসদৃষ্টি
জলশূন্য কৃষকের ফাটা ফাটা চোখ অথবা অতিবৃষ্টির
তাণ্ডবে ডুবে যাওয়া জমিনজলার নৌকায় কাস্তের বদলে
জাল ধরা হাতের দুর্বলতা ও তার চোখে ভাসমান শোকজলছায়া,
বৃক্ষছায়া বৃক্ষবায়ু বৃক্ষহত্যাকারীর কুঠার ও করাতের
হাতলে লেগে থাকা কালো নকশার দাগ,
সেইসব
ফালিফালি কাঠের গায়ে ছুতোর মিস্ত্রির
পেরেক ঠোকার শব্দ ও কফিনের মাপ।
পাঠ করছি-
আমার কুটির সংলগ্ন জলার ব্যঙাচি হতে
মহাসমুদ্রের বৃহদাকার তিমির হাড়ের ভেতরের রহস্য
জলতল রহস্য অথবা ঢেউয়ের উৎপত্তি রহস্য এবং
তার ভেতরে যত উত্থান ও পতনের সময়কালে
কিনারে পা ডুবিয়ে বসে থাকা উভচরের জীবাস্ম
জলাকাশে বিরাজমান একপাল শীতপাখির
ডানা ঝাপটানি ও কিচিরমিচিরের মাহাত্ব,
পর্বতের উচ্চতা গভীরতার মাঝে স্তরে স্তরে সাজানো
কঠিননরম শীলাসমূহের বয়সকালের পার্থক্য এবং
চূড়াস্পর্শকারি আরোহীর অমলিন হাসিতে ঝরানো
তুষার ও বরফের জমায়েত মেঘ হতে ফোটাফোটা
বৃষ্টির ঘ্রাণ,
এর অনেক গভীরের আগ্নেয় বলয়ের তাপে
চিঁড়ে পুড়ে গলে রুপান্তরিত অমূল্য পাথরের
লাভাসমেত উঠে আসা কোন জ্বালামুখছবি,
জমানো শীতলতায় লুকানো
কোন নাজানা জীবন ও সম্পদের গলতে গলতে দৃশ্যমান
হবার ভাবনায় বরফপর্বতসমূদ্র ও বরফপ্রজাতির কথা।
পাঠ করছি-
জনারণ্য কোলাহলে বিভৎস অশ্লিলতা ও বিকৃত শব্দ
দূর্বোধ্য ভাষা সমুহের বিলুপ্ত বোধ, ভাবনার অস্থিরতায়
স্বপ্ন হতে স্বপ্নে বিচরণ কালে প্রতিনিয়ত দৃশ্য পতনের বিরক্তি,
স্বপ্নমায়াজাল বুনানোর কৌশল আবিষ্কারের ভাবনায়
ডুবে থাকা কোন নির্বোধের পোর্ট্রেট-
নারী দেহের গন্ধ, জননী হতে প্রেয়সী পর্যন্ত
ভালোবাসার কৃত্তিম অথবা অকৃত্তিম আবেগের
বিস্তার হতে হতে নিঃশেষ অবধি,
তোমার দেহ সৌন্দর্যের খাঁজে খাঁজে হারানো বিভ্রম
দু'নয়নের কালো গহ্বরে বহু যাত্রার পথ ও
তোমার ত্বকস্পর্শসুখ উন্মাদনা,
তোমার নিতম্বের মাপযোগে অনাগত সন্তানের
ওজন-সুসাস্থ-ভবিষ্যৎ-
জনে জনে ধর্ষিত তোমার দেহে উত্প্ত বিদ্যুৎ জলের
অতি-বিভৎস চুম্বনের দাগে চিত্রায়িত অমানুষের মুখছবি
তোমার পুত্র অথবা কন্যার করুন কান্নায় বিকলাঙ্গ
ভারসাম্যহীনতায় ভালোবাসাহীন ভালোবাসার এক কল্পিতরুপ।
পাঠ করছি-
আমার কাঁচামাটি উঠান হতে কংক্রিট দালান মেঝের বহুমূল্য
পাথরের ফারাক, পদভারে ক্ষয়ে যাওয়া সিঁড়ির ধাপেধাপে
উত্তপ্ত ছাদের উড়ন্ত আকাশ-
কীটশব্দহীন নির্ঘুম জোছনাময় রজনির চিত্রনাট্য,
আমার নিত্য ব্যবহার্য
পুরনো জুতার সংরক্ষিত স্মৃতিসব সাক্ষ্য
ও আমার দিনহীন ভুখা দিনরজনি শ্রম।
আমার অক্ষমতা অশিক্ষা কুশিক্ষা অজ্ঞানতার খুপরিতে
দুর্ভাবনাময় ভবিষ্যতের কন্টকভুমিতে দাড়িয়ে থাকা আয়নায়
পরাজয়ের গ্লানিতে ধ্বসে যাওয়া অস্তিত্ব,
তন্দ্রাচ্ছন্ন ভোরে ক্ষুধা নিবারনের অঙ্গিকারে নত মাথায়
দাসত্ব গ্রহনের কৌশল সমুহ ও বিবেকহীন জীবন প্রনালী-
আমার বন্দীত্বের একাকিত্ব ও আমিত্বের ভেতরের শূন্যতায়
অদৃশ্য কোন এক অনন্ত যাত্রার মানচিত্র
সত্যসময় ও সত্যচিন্তার পথের ভ্রান্তি সমুহ,
প্রকাশিত অপ্রকাশিত চিহ্নসমুহের অনুবাদ
অলিক কল্পগল্প সমগ্র
ভাব ও ভাবনার সংমিশ্রনে বেড়ে ওঠা অকল্পনিয় কিছু ছায়াকায়া
আমার শূন্যতার শূন্যতা-
শিড়দাড়া বেয়ে উঠতে থাকা বৃষ্চিকের
নীল বিষে জর্জরিত মানবতা ও তার বিষাক্ত পতন।
পাঠ করছি-
শৈশবের কেটে যাওয়া স্মৃতিঘুড়ির পরতে পরতে চিত্রায়িত
কষ্ট সুখের পরশ, বহু পুরনো মাটিবাড়িদেয়ালের ফোকরের
অন্ধকারের দীর্ঘতায় হারানো বয়সের ছাপ।
আগাছায় চাপা পড়া গোরের দীর্ঘঃশ্বাসে ডেকে যাওয়া
ঝিঝির দূর্বোধ্য প্রলাপ, বৃদ্ধপাকুড় ও শ্নশানের পোড়া কাঠ
অভিমানে জলজ স্থলজ ও পিচ্ছিল শ্যাওলা, কাঁধের
ভার ও দাগ,
বৃক্ষ ও পরগাছার আত্মিক অনুভবে আমার অস্তিত্বের বিনির্মান-
আমার শূন্যতার শূন্যতার শূন্যতা।
পাঠ করছি-
তোমাদের ভাবনা কুপের অলিক ব্যঙের সাগর দর্শনের
নেপথ্য কাহিনী ও ঘৃনা সর্বস্বে ফুঁসে ওঠা জলঢেউ এ
ডুবে যাওয়া প্রকৃতি ও প্রেম,
তোমাদের নির্লজ্ব চাহনির উত্থিত শিশ্ন হতে ঝরে পরা
বীর্যে মৃতপ্রায় জীবন ও জেগে ওঠা অগ্নিপুত্রের ক্রোধঅনলে
পুড়ে যাওয়া একক দশক শতকের বিভাজ্য সময়-
পাথর ঘর্ষন থেকে বরফবিদ্যুৎ-এ আলোকিত অরণ্যে
তেলাপোকা ও বিছার জলহীন কান্না,
তোমাদের বিলুপ্ত ইতিহাসের প্রাচিন পল্লিতে নিদ্রাভঙ্গ কিশোরের
হাতে ধরা চামড়া চাবুক, পাশে পরে থাকা মৃতপিতার বল্লমে
শত্রুর কলিজার দাগ।
তোমাদের আবির্ভাব ও অন্তের মধ্যবর্তী নির্মান-ধ্বংস-নির্মান-বিনির্মান
ও পাথর জীবনের শূন্য ব্যস্ততায় সময়ের প্রপাত
তোমাদের ক্রমবৃদ্ধিপ্রাপ্ত নখর ও দন্তের সুচালো ধারালো
কোনার আঁচড়ে কামড়ে বিদগ্ধ হৃদয়ত্বকের মসৃনতা,
বৃক্ষ হতে তৃনসমুদ্রজল ঢেউ-এ উড়ে চলা প্রাচিন পাখির
ছড়ানো পালকে ও পাঞ্জায় আটকানো আমার অশুদ্ধ আত্মা।
_____________________________________
( অসমাপ্ত এবং ভুল বানান পরে ঠিক করা হবে )
___________বাকী অরিন্দম
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০০৯ সকাল ১০:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



