somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওয়াচডগের রাজনৈতিক গল্প, আন্দাজের গোলা গোলান্দাজ!

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে ঘুম ভাংগল গোলান্দাজ বেপারীর। লম্বা একটা হাই তুলে এদিক ওদিক তাকাতেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। এ কোথায় এল সে! যতদূর চোখ যায় কেবল মানুষ আর মানুষ। গাড়ি-ঘোড়া বলতে কিছু নেই। মাঝে মধ্যে দু’একটা ইঞ্জিনের ভটভটি বাদ দিলে কেবলই রিক্সা আর সাইকেলের সমুদ্র। কঞ্চি বাঁশের মত লম্বা লম্বা দালান, সাথে কবুতরের খুপটির মত লাখ লাখ বস্তি, পরিচিত ঢাকা শহরের সাথে কিছুতেই মেলাতে পারলনা এ দৃশ্য। এটা কি শান্তিনগড় এলাকা, নিজকে খুব অসহায় ভাবে জিজ্ঞেষ করল সে। খিদায় পেট চো চো করছে। যে করেই হোক বাসায় পৌঁছতে হবে তাকে। স্ত্রী জেরিন দুপুরের খাবার নিয়ে নিশ্চয় অপেক্ষা করছে তার জন্য। স্ত্রীকে ফোন করে গাড়ি পাঠানোর কথা ভাবল সে। কিন্তূ পকেটে হাত দিতেই হীম হয়ে গেল সমস্ত শরীর। মুঠো ফোন দূরে থাক শরীরে কাপড় বলতে যা আছে তাতে পকেটের কোন অস্থিত্ব নেই। সে একেবারেই উলংগ। শরীরে চিমটি কেটে পরখ করল; না, স্বপ্ন দেখছেনা, দিব্যি জেগে আছে সে। প্রচন্ড ক্ষমতাধর গোলান্দাজ বয়াতী শুধু লীগ রাজনীতির আর্কিটেক্টই নন, দেশী বিদেশী ব্যাংকে ৬২০ কোটি টাকা ফিক্সড্‌ ডিপোজিট করা আছে তার নামে। মনে মনে হুংকার ছাড়ল গোলান্দাজ, ’বাসায় যাই আগে, সব কটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করব আজ’। কিন্তু কিভাবে বাসায় যাবে ভেবে পেলনা সে। এক রিক্সা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছেনা এ মুহুর্তে।

হাটতে শুরু করল গোলান্দাজ। একটা জিনিষ ভেবে খটকা লাগল তার, প্রায় উলংগ হয়ে হাটছে কিন্তূ একজনও ফিরে তাকাচ্ছেনা তার দিকে। ’হল কি দেশটার, ভোজবাজীর মত এক রাতেই বদলে গেল সব?, পুরানো ব্লাড প্রেসারটার আগমনী বার্তা অনুভব করল রক্তে। একটা বাইসাইকেল এগিয়ে এল তার দিকে, ’কই যাইবেন নেংটা হুজুর? প্রশ্নটা শুনে মগজে লক্ষ কোটি দৈত্য দানবের দাপাদাপি শুনতে পেল সে, ’চড় মেরে বত্রিশ দাঁত ফেলে দেব শুয়রের বাচ্চা’ গর্জে উঠল গোলান্দাজ। সাইকেলটা একপাশে ফেলে ফিরে এল চালক। তলপেট বরাবর কষে একটা লাথি মারল। সাইকেলটা উঠিয়ে নিমিষেই মিশে গেল জনসমুদ্রে। হাটু গেড়ে মাটিতে বসে পরল গোলান্দাজ, মুখ হতে গলগল করে রক্ত বেরিয়ে এল। কোন কিছুই মাথায় ঢুকছেনা তার, ঢাকা শহর অথচ কোন গাড়ি নেই, চলাচলের নেই কোন ট্রানসপোর্ট, ব্যঙের ছাতার মত যত্র তত্র গজিয়ে উঠেছে হাজার হাজার দালান-কোঠা, তার দেখা মানুষের চাইতে রাস্তায় দশ গুন মানুস! হঠাৎ করে ভয়টা চেপে ধরল তাকে, নিশ্চয় মস্তিস্কে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে তার। ডাক্তার শমসের এমন একটা আশংকার কথাই বলেছিলেন শেষ সাক্ষাতে। দৃশ্যটা চোখে পড়তে পাগল হওয়ার ব্যাপারটায় নিশ্চিত হয়ে গেল গোলান্দাজ। ফুটপাথে কেউ একজন সোলার প্যানেল সহ ল্যাপটপ ফেরী করছে! ’বাংলাদেশে এ অসম্ভব’, এমনটা ভেবে নিজের চুল নিজেই টানতে শুরু করল গোলান্দাজ বেপারী।

নিজেই থামাল রিক্সাটা, ’এই ব্যাটা, গুলসান যাবি?’। ‘ইডা আবার কোন জায়গা?’ - ঠাট্টার সূরে জিজ্ঞেষ করল রিক্সা চালক। 'মৌচাক মোড় হয়ে সোজা রামপুরার দিকে যাবি’, তার নিজেরও ভাল করে জানা নেই পথের বর্ণনা। তবু যতটা পারল বুঝানোর চেষ্টা করল রিক্সা চালককে। ’আরে নেংটা বাবা, ওদিকি ত ককোসান, গুলসান হতি যাবি কোন দুইখ্যে! বলেই রিক্সাওয়ালা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল গোলান্দাজের দিকে। গুলসানের নাম এখন ককোসান! গোলক ধাঁধাঁয় পরে গেল গোলান্দাজ। সম্ভাবনার কথাটা মনে হতে বিদ্যুৎ খেলে গেল শরীর জুড়ে। নিশ্চয় সামরিক অভ্যুত্থান! ’লীগ’কে সড়িয়ে ’দল’ ক্ষমতা নিয়েছে নিশ্চয়, আর তাতেই রাতারাতি বদলে দিয়েছে গুলসানের নাম। আরাফাত রহমান ককো, নামটা মনে হতেই নেতিয়ে এল গোলান্দাজের শরীর। ৪২০ কোটি বিদেশে, দেশে আরও ২০০ কোটি, এতগুলো টাকার ভবিষত নিয়ে চিন্তায় পরে গেল শহর লীগের অন্যতম কর্নধার গোলান্দাজ বেপারী। ঘামতে শুরু করল সে। উড়ন্ত পত্রিকাটা ছোবল মেরে ধরে ফেলল গোলান্দাজ। তাতে মুখ ঢেকে মৃতের মত পরে রইল কিছুক্ষন। ২/৩ মিনিট স্থায়ী ঝড়টা বিদায় নিতে পত্রিকার উপর হুমড়ি খেয়ে পরল ক্যুর খবরের আশায়। কোটারা হতে চোখ বেরিয়ে আসতে চাইল গোলান্দাজের। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল সে! পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রধানমন্ত্রী জামাইমা জিয়ার ছবি। অথচ গতকালই হাসিনা মন্ত্রীসভার জনৈক উপদেষ্টা দপ্তরে ভাগ বটোয়ারা করেছে গুলিস্থান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার প্রকল্পের কমিশন প্রাপ্ত ৩ কোটি টাকা। ২০৫৯ সাল! সাল এবং তারিখটা চোখে পরতে মুহুর্তেই মুর্ছা সে।

-চলবে
visit: http://www.amibangladeshi.org
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×