somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনীতির জাহাজ পাহাড় বাইয়্যা যায়...

১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিউ ইয়র্ক হতে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকার একটা খবর পড়ে লেখার লোভটা সামলাতে পারলামনা। খরবটা ছিল এ রকমঃ হাফিজুল ইসলাম তারেক আহ্বায়ক ও হাসান আল মামুন, এ.এন.এম. মাসুম, ফারম্নক হোসেন এবং আবীর পারভেজকে যুগ্ম আহবায়ক করে জাতীয়বাদী যুব দল অস্ট্রেলিয়া শাখার ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।গতকাল ৪ ই জানুয়ারী ২০১০ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বরকত উল­াহ ভুলু ও দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে (http://www.khabor.com/)।

অষ্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব তৈরী করতে দেশ দু'টোর মধ্যে দাড়িয়ে আছে বন জংগল, নদী নালা, সাগর আর মহাসাগর। অষ্ট্রেলিয়া শুধু একটা দেশই নয়, বিশাল একটা মহাদেশও। যতদূর জানি দেশটার রাজনৈতিক মাঠ লিবারেল ও লেবার নামের দু'টো রাজনৈতিক দলের দখলে। পওলিন হেনসনের ১-নেশন পার্টি বলেও একটা দলের অস্তিত্ব ছিল ৯০'এর দশকে। এ ধরনের রাজনৈতিক কাঠামোতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মত বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের অংগ সংগঠন কোন ধরনের কার্য্যক্রম নিয়ে অষ্ট্রেলীয় জনগনের মন কাড়তে সক্ষম হবে তার কোন ব্যাখ্যা অবশ্য কমিটির কার্য্যক্রমে উল্লেখ নেই। আমার মত বেয়াক্কেলদের কাছে যেকোন দেশে রাজনৈতিক দল করা মানেই সে দেশের গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করা। সে অর্থে আমরা ধরে নিতে পারি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অষ্ট্রেলিয়া শাখা অথবা যে কোন বাংলেদেশ ভিত্তিক রাজনৈতিক দল অষ্ট্রেলিয়া শাখার মূল উদ্দেশ্যও দেশটার রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল। আসলেই কি তাই? যেহেতু ছাত্রদলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, স্বভাবতই ধরে নিতে পারি অষ্ট্রেলিয়াতে ছাত্রলীগও আছে, সাথে আছে বিএনপি, আওয়ামী লীগ সহ বাংলাদেশী তাবৎ রাজনৈতিক দল, উপদল, কোন্দল, মারামারি, লাঠালাঠি, ইত্যাদী।

সিডনীর মারুবরা এলাকায় এনযাক প্যারেডের উপর একটা বারে বসে ভারত-অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট খেলা দেখছিলাম। ওখানে পরিচয় হল বাংলাদেশ হতে ট্রেনিং'এ আসা জনৈক ডাক্তারের সাথে। পরিচয় পর্ব শেষ না হতেই অদ্ভূদ এক প্রস্তাব করে বসলেন ভদ্রলোক। বাংলাদেশের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল সাহেব নাকি সিডনীতে আছেন ব্যক্তিগত কাজে। ডাক্তার ভাই টানাটানি শুরু করে দিলেন এখনই যেন মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে জর্জ ষ্ট্রীটের কোন একটা হোটেলে যাই। উদ্দেশ্য? বিশেষ কিছুনা, মন্ত্রীর সান্বিধ্য পেয়ে ধন্য হওয়া। দশটা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে উনাকে মাইনাস করেত হয়েছিল সে যাত্রায়।

শুধু সিডনী কেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও দশ ডিগ্রী উপরে। নিউ ইয়র্কের উডসাইড এলাকায় ৬১ ষ্ট্রীটের উপর বাংলাদেশী একটা রেষ্টুরেন্ট। কাজ হতে ফেরার পথে প্রায়ই দেখতাম ছোট একটা ব্যানার টানিয়ে রেষ্টূরেন্টের ভেতর কেউ একজন জ্বালাময়ী ভাষন দিচ্ছেঃ ভাইসব, হাইমচর এবতাদিয়া মাদ্রাসার উপর বাকশালীদের নগ্ন হামলা জাতি কোন ভাবেই বরদাশত্‌ করবেনা, টেকনাফ হতে তেতুলিয়া এক হয়ে র্দুবার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতি এই জালিম সরকারকে গদি ছাড়া করবে ইনশ্‌আল্লাহ! বলাই বাহুল্য, হাত তালির বন্যায় ভেসে যেত রেষ্টুরেন্ট। নেক্সট ডোর থাই রেষ্টুরেন্টের গ্রাহক ও কর্মচারীরা প্রতিদিন অবাক হয়ে শুন্‌ত তাদের জন্যে অদ্ভূত এই কিচিরমিচির। কোথা সেই হাইমচর আর কোথায় এই উডসাইড, সমস্যা সমাধানের পার্ফেক্ট জায়গা বটে!

এত বছর বিদেশে থাকার পরেও কেন জানি এই জিনিষটা ধরতে পারলামনা, বিদেশে কেন বাংলাদেশী রাজনৈতিক দল! কি তাদের উদ্দেশ্য? কাদের ভাগ্য পরিবর্তনের লড়াই করছে এরা? বাংলাদেশীদের? প্রবাসে বাংলাদেশীদের জন্যে রয়ে গেছে স্ব স্ব দেশের আর্থ-সামাজক অবকাঠামো, সে জায়গায় বাংলাদেশী রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়ন শুধু অসারই নয়, বরং অবৈধ। অষ্ট্রেলিয়া/আমেরিকায় বংগবন্ধু অথবা শহীদ জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আদৌ কি কোন প্রয়োজন আছে? থাকলে এর আইনী বৈধতা কোথায়? আর যদি বিদেশে বসে এ ধরনের কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে জন্মভূমির সেবা, বলতে বাধ্য হব, এ নিতান্তই বালখিল্যতা। দেশ সেবার উত্তম জায়গা দেশ, বিদেশ হতে পারেনা। বিদেশে দু'চার পয়সা অতিরিক্ত আয় করে দেশে পাঠানো গেলে বরং দেশ বেশী উপকৃত হতে পারে। আর এ জন্যে চাই যে দেশে আমাদের বাস সে দেশের মূলধারার রাজনীতির সাথে নিজদের সংপৃক্ত করা। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ্‌রা বিদেশে ছাত্রদলের মত সংগঠন স্বীকৃতি দিয়ে নিজদের স্বার্থ হাসিলের ফাউন্ডেশন গড়ে থাকেন, এ সহজ সত্যটা বুঝতে প্রবাসীদের আর কতদিন দেরী হবে?
http://amibangladeshi.org/
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×