সবাইকে শুভেচ্ছা...

স্মৃতির মনিকোঠায় ১৯৭৫...

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:২৪

শেয়ারঃ
0 1 0


১৯৭৫ সালের আগষ্ট মাস। ভাষা কোর্স সমাপ্ত করে ইউক্রেনের আজব সাগরের তীরে ছোট্ট একটা রিসোর্টে ছুটি কাটাচ্ছি আমরা। তিনদিকে গহীন জংগল, সামনে আজব সাগরের নীলাভ ঢেউ, আর চারদিকে স্বল্প বসনা তরুনীদের উদ্দাম চলাফেরা। সব মিলে স্বপ্ন রাজ্যের নৈসর্গিক পরিবেশ। সদ্য মায়ের কোল খালি করে আসা ক’জন বাংলাদেশী আমরা, চেহারায় কৈশোর আর তারুন্যের সন্ধিক্ষনের ছোয়া। দিনের প্রায় সবটাই কাটিয়ে দেই সাগরের নোনা জলে, বিকেল হলেই হাতছানি দেয় নৈশ জীবনের রংগীন উদ্দামতা। দারুচিনি দ্বীপের মত এমন একটা বিচ্ছিন্ন লোকালয় হতে জননী জন্মভূমি কত হাজার মাইল দূরে ছিল তা হিসাব করার মত সময় আর ধৈর্য্য কোনটাই ছিলনা আমাদের। আমরা এসেছি গেল বছরের ক্লান্তি ধূয়ে আরও একটা বছরের জন্যে তৈরী হতে।

দেশী বিদেশী মিলিয়ে আরও বেশ কিছু ছাত্র আমাদের মতই ছুটি কাটাচ্ছিলো রিসোর্ট এলাকায়। বিভিন্ন ইভেন্টে আর্ন্তদেশীয় প্রতিযোগীতাও ছিল আমাদের ছুটির রুটিনে। এমনই এক ইভেন্টে দৌঁড়াতে গিয়ে পায়ের গোড়ালি মচকে ফেলে আমাদের এক বন্ধু। এম্বুলেন্স এসে তাঁকে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় দূরের কোন এক হাসপাতালে। কে যেন আসার সময় একটা রেডিও সাথে এনেছিল, ওটাই আহত বন্ধুকে দিয়ে দেয়া হল হাসপাতালের একাকিত্ব কাটানোর জন্যে। সবার মন খারাপ করে দিয়ে চলে গেল হাসপাতালে। মুঠো ফোন দূরে থাক সাধারণ ফোনেরও ব্যবস্থা ছিলনা ত্রিসীমানায়, তাই যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা রইলনা বাইরের দুনিয়ার সাথে। অদ্ভূদ একটা স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেল মধ্যরাতে। আমাদের বাড়িটা দেবে গেছে মাটির সাথে, মা-বাবা, ভাই-বোন সহ কেউ বেঁচে নেই, চারদিকে রক্ত আর রক্ত। ভয়ে আতংকে রুমের বাকি ৩ জনকে ঘুম হতে জাগাতে বাধ্য হই। রাতের বাকি সময়টা না ঘুমিয়ে সবাই মিলে সমুদ্র পারে চলে যাই সূর্য্যোদয় দেখব বলে।

সকাল হতেই আগের দিনের এম্বুলেন্সটাকে দেখা গেল আশপাশে। খবর নিয়ে জানা গেল পাশের ক্যাম্পে কেউ একজন অতিরিক্ত মদ্যপানে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। একই হাসপাতালে যাচ্ছে এম্বুলেন্সটা, এবং প্রায় খালি। অনুরোধ করতেই আমাদের ক’জনকে নিয়ে যেতে রাজী হল। বন-জঙ্গল আর আঁকা বাঁকা পথ পেরিয়ে হাসপাতালে পৌঁছতে প্রায় ঘন্টা খানেক লেগে গেল। গোড়ালিতে ব্যন্ডেজ সহ বন্ধুকে আবিস্কার করলাম হাসপাতাল বেডে, চোখে মুখে ভয়াবহ আতংক। কোন কিছু জিজ্ঞাস করার আগে চীৎকার করে উঠল, ‘মারাত্মক কিছু ঘটে গেছে আমাদের দেশে!‘। ধীরে ধীরে বলে গেল রাতে শোনা বিবিসির খবর। শেখ মুজিবকে মেরে ফেলা হয়েছে, তার পরিবারেরও কাউকে রেহাই দেয়া হয়নি। দেশে সামরিক শাষন জারী হয়েছে এবং দফায় দফায় চলছে ক্ষমতার পালা বদল। নিথর নিস্তব্দ হয়ে গেলাম আমরা।

১৭-১৮ বছরের তরুন আমরা, বিদেশে এসেছি সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশের প্রতিনিধি হয়ে। গত একটা বছর স্বপ্নের সময় কাটিয়ে দেশকে তুলে ধরেছি বিভিন্ন স্কুলে, কলেজে, হাসপাতালে। যেখানেই গেছি হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে মুক্তিকামী মানুষের বিজয়কে। হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটের উপর, যুদ্বের উপর (আমাদের একজন ছিল যুদ্ব ফেরত), বাংলাদেশ শব্দটা সহ আজম খানের ‘রেল লাইনের ঐ বস্তিতে‘ গানটা গেয়েছি দিনের পর দিন। কিন্তূ সব চাইতে যে প্রশ্নের উপর আমরা বেশী সময় ব্যায় করেছি তা ছিল শেখ মুজিব ও তার জীবনের উপর। স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চারা আমাদের সাথে ছবি তুলে নিজদের ধন্য করেছে যুদ্বজয়ী একটা জাতিকে সন্মান জানাতে পেরেছে বলে। আমরাও বুকের পাটা ১০ ইঞ্চি সামনে নিয়ে উঁচু মাথায় জয় করেছি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্বের অন্যতম সহযোগী সোভিয়েত দেশের মানুষদের হূদয়। হঠাৎ করেই মনে হল আমাদের পৃথিবীটা মাটিতে নেমে গেছে, মনে হল আজব সাগরের ভয়াবহ জলোচ্ছাস আমাদের ঠেলে দিয়েছে নিঝুম কোন দ্বীপে। কি করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলামনা। একজন প্রস্তাব করল মস্কো হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে। ঘন্টার পর ঘন্টা চেষ্টার পর পাওয়া গেল হাইকমিশনকে। তারাও কোন ধারণা দিতে পারলনা কি হচ্ছে দেশে।

ছুটি শেষ না করেই ফিরে গেলাম শহরে। সরকারী স্কলারশীপের কি হবে এ নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পরলাম আমরা। সাড়াটা দিন কাটিয়ে দেই রেডিওর চার পাশে, কিন্তূ সব খবরেই কেমন অনিশ্চয়তা আর জটিল সমীকরন মেলানোর প্রয়াস। বেশ কিছুদিন লেগে গেল আসল অবস্থা নিশ্চিত করতে। ক্ষমতার জন্যে রক্ত মাংসের মানুষ এতটা পশু হতে পারে আমাদের তরুন মন এর কোন উত্তর খুঁজে পেলনা। শেখ মুজিবকে মেরে ফেলা হয়েছে, আমরা প্রতিদিন খবরের অপেক্ষায় থাকতাম প্রতিবাদের, প্রচন্ড আন্দোলনের, এমনকি সসস্ত্র প্রতিরোধের। কিন্তূ কোথাও কিছু হলনা। আন্ধা আর বোবার মত শুধু শুনে গেলাম একদল খুন করছে, আরেক দল তৈরী হচ্ছে খুনের জন্যে। শিক্ষামন্ত্রী মনসুর আলী আমাদের বিদায় জানিয়েছিলেন এয়ারপোর্টে, উপদেশ দিয়েছিলেন বিদেশে জন্মভূমির সন্মান সমুন্নত রাখতে, শুনিয়েছিলেন ভবিষৎ নিয়ে অনেক আশার কথা। সেই লোকটাকেও মেরে ফেলা হল জেলখানার অন্ধ প্রকোষ্ঠে।

বাংলাদেশ নিয়ে হঠাৎ করেই বদলে গেল সোভিয়েতদের আগ্রহ। রাস্তায় কারও সাথে পরিচয় হলে দুয়ো দিতে শুরু করল শেখ মুজিব হত্যার জন্যে। আমাদের বঞ্চিত করা হলনা স্কলারশীপ হতে, কিন্তূ ঠাঁই দেয়া হল বিশ্বাষঘাতকদের তালিকায়। সেই ’৭৫ হতে অপেক্ষায় ছিলাম প্রতিরোধের, প্রতিবাদের ও বিচারের। শেষ পর্য্যন্ত এল সে দিন, কিন্তূ ততদিনে কৈশোর পেরিয়ে, যৌবন হাতড়িয়ে জীবনের হিসাব নিকাষ চূড়ান্ত করার দাড়প্রান্তে দাড়িয়ে আমরা। আজব সাগরের সেই সমুদ্র রিসোর্ট আজও নিশ্চয় উচ্ছল হয়ে উঠে তারুন্যের পদভারে, সমুদ্রের নীলাভ ঢেউ ’৭৫এর মতই হয়ত আছরে পরে বিস্তৃত কুল জুড়ে। কোথাকার কোন বাংলাদেশের ক’জন কিশোরের সেদিনের চাওয়া, পাওয়া আর কষ্টগুলো কি খুঁজে পাওয়া যাবে সাগরের নোনা জলে? হয়ত না।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:২৭
ওয়াচডগ৫৭ বলেছেন: ১৫ই আগষ্ট রাতে যা ঘটে ছিল
মিলটন আনোয়ার:

পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট। ভোররাত। ধানমণ্ডির বাড়িটি আক্রান্ত হওয়ার আগেই রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আত্মীয় ও মন্ত্রিসভার সদস্য আবদুর রব সেরনিয়াবাতের হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে যান।

যে ঘরে বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার বাইরের বারান্দায় ঘুমিয়েছিল মো. সেলিম (আব্দুল) ও আব্দুর রহমান শেখ (রমা)।

উপর থেকেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় ব্যক্তিগত সহকারি এ এফ এম মহিতুল ইসলামকে টেলিফোনে বলেন, ‘সেরনিয়াবাতের বাসায় দুষ্কৃতকারীরা আক্রমণ করেছে। জলদি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন লাগা।’ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে সাড়া না পেয়ে মহিতুল গণভবন (তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়) এক্সচেঞ্জে যোগাযোগের চেষ্টা করতে থাকেন।

ভোর সাড়ে ৫টায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির রক্ষীরা বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করা মাত্রই বাড়িটি লক্ষ্য করে দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়।

একটু পরেই বঙ্গবন্ধু তার ঘরের দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসেন। ঘুম থেকে ওঠে গৃহকর্মী আব্দুল আর রমা। বেগম মুজিবের কথায় রমা নিচে নেমে মেইন গেটের বাইরে এসে দেখেন সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গুলি করতে করতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে এগুচ্ছে।

রমা বাড়ির ভেতরে ফিরে দেখেন, লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় নামছেন। দোতলায় গিয়ে দেখেন বেগম মুজিব আতঙ্কিত অবস্থায় ছোটাছুটি করছেন। রমা আর দোতলায় দাঁড়িয়ে না থেকে তিনতলায় চলে যান এবং বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ও তার স্ত্রী সুলতানা কামালকে ঘুম থেকে তুলেন।

ঘটনা শুনে শার্ট-প্যান্ট পরে নিচতলায় নামেন শেখ কামাল। সুলতানা কামাল আসেন দোতলা পর্যন্ত।

রমা দোতালায় শেখ জামাল ও তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে তুলেন। জামা-কাপড় পরে শেখ জামাল তার স্ত্রীকে নিয়ে দোতলায় বেগম মুজিবের কক্ষে যান।

ওদিকে গোলাগুলির মধ্যে অভ্যর্থনা কক্ষে বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন মহিতুল।

পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও গণভবন এক্সচেঞ্জে চেষ্টার একপর্যায়ে রিসিভার নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি ঃ’। বঙ্গবন্ধু তার কথা শেষ করতে পারেননি। একঝাঁক গুলি জানালার কাচ ভেঙে অফিসের দেয়ালে লাগে। কাচের এক টুকরায় মহিতুলের ডান হাতের কনুই জখম হয়। ওই জানালা দিয়ে গুলি আসতেই থাকে। বঙ্গবন্ধু টেবিলের পাশে শুয়ে পড়েন এবং মহিতুলের হাত ধরে কাছে টেনে শুইয়ে দেন।

এর মধ্যেই গৃহকর্মী আব্দুলকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে তার পাঞ্জাবি ও চশমা পাঠিয়ে দেন বেগম মুজিব। কিছুক্ষণ পর গুলিবর্ষণ থেমে গেলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে আব্দুলের হাত থেকে পাঞ্জাবি আর চশমা নিয়ে পরেন। নিচতলার এই ঘর থেকে বারান্দায় বের হয়ে বঙ্গবন্ধু পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, ‘এতো গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছো?’ এ কথা বলেই বঙ্গবন্ধু উপরে চলে যান।

বঙ্গবন্ধু উপরে উঠতে না উঠতেই শেখ কামাল নিচে নেমে বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আর্মি আর পুলিশ ভাইরা, আপনারা আমার সঙ্গে আসেন।’ এ সময় শেখ কামালের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান মহিতুল ইসলাম ও পুলিশের ডিভিশনাল সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি) নুরুল ইসলাম খান।

ঠিক তখনই মেজর নূর, মেজর মহিউদ্দিন (ল্যান্সার) এবং ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা সৈন্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢোকে। গেটের ভেতর ঢুকেই তারা ‘হ্যান্ডস্ আপ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। মহিতুল ইসলামকে টেনে ঘরের মধ্যে নিয়ে যান নুরুল ইসলাম খান।

কোনো কথা না বলেই শেখ কামালের পায়ে গুলি করে বজলুল হুদা। নিজেকে বাঁচাতে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে গিয়ে পড়েন শেখ কামাল। মহিতুলকে বলতে থাকেন, ‘আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। আপনি ওদেরকে বলেন।’ মহিতুল ঘাতকদের বলেন, ‘উনি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল।’

এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে শেখ কামালকে লক্ষ করে বজলুল হুদা তার হাতের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে ব্রাশফায়ার করে। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান শেখ কামাল। এর মধ্যে একটা গুলি মহিতুলের হাটুতে, আরেকটা নুরুল ইসলামের পায়ে লাগে।

এ অবস্থাতেই মহিতুলকে টেনে নুরুল ইসলাম তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তারা দেখেন, পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্য দাঁড়িয়ে ভয়ে কাঁপছে। অস্ত্রটা তার পায়ের কাছে পড়ে আছে। মুহূর্তের মধ্যে ওই ঘরে ঢুকে বজলুল হুদা সবাইকে বাইরে গিয়ে দাঁড়ানোর আদেশ দেন।

নিচে কী হচ্ছে তার কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দোতলায় তার ঘরের দরজা বন্ধ করে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। একপর্যায়ে ফোনে তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিলউদ্দিনকে পান। তিনি তাকে বলেন, ‘জামিল, তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আর্মির লোকরা আমার বাসা অ্যাটাক করেছে। শফিউল্লাহকে ফোর্স পাঠাতে বলো।’

তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহকেও ফোন করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি তাকে বলেন, ‘শফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে, কামালকে (শেখ কামাল) বোধ হয় মেরে ফেলেছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও।’

জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, ‘আই অ্যাম ডুয়িং সামথিং। ক্যান ইউ গেট আউট অফ দ্যা হাউজ?’

বঙ্গবন্ধুর কথা শোনার পরই কর্নেল জামিল তার ব্যক্তিগত লাল রঙের গাড়িটি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সঙ্গে ছিলেন নিজের গাড়িচালক আয়েনউদ্দিন মোল্লা। কিন্তু পথেই সোবাহানবাগ মসজিদের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। পালিয়ে বেঁচে যান আয়েনউদ্দিন।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির গেটের সামনে মহিতুল, নুরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যসহ অন্য সদস্যদের সারি করে দাঁড় করানো হয়। এর মধ্যে ঘাতকদের একজন পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যকে গুলি করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি পড়ে যান।

এরপর ঘাতকরা গুলি করতে করতে ওপরে চলে যায়। তারা শেখ জামালের ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেওয়া গৃহকর্মী আব্দুলকে গুলি করে। হাতে ও পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থাতে তিনি সিঁড়ির পাশে গিয়ে হেলান দিয়ে বসে থাকেন।

‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

বঙ্গবন্ধুর ঘরে তিনি ছাড়াও ছিলেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ঘরের বাইরে অবস্থান নেয়। গোলাগুলি থামলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসলেই ঘাতকরা তাকে ঘিরে ধরে। মেজর মহিউদ্দিন ও তার সঙ্গের সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। ঘাতকদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?’

#

রক্তে ভেসে যায় সারা সিঁড়ি

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিত্বের কাছে মহিউদ্দিন ঘাবড়ে যায়। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি, বেয়াদবি করছিস কেন?’ এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝি অবস্থান নেয় বজলুল হুদা ও নূর। বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে আসার সময় নূর কিছু একটা বললে মহিউদ্দিন সরে দাঁড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা ও নূর তাদের স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে।

বঙ্গবন্ধুর বুকে ও পেটে ১৮টি গুলি লাগে। নিথর দেহটা সিঁড়ির মধ্যে পড়ে থাকে। সারা সিঁড়ি ভেসে যায় রক্তে।

#

রমাই প্রথম বেগম মুজিবকে জানায়, বঙ্গবন্ধুকে গুলি করা হয়েছে

বঙ্গবন্ধুর পেছন পেছন রমাও যাচ্ছিল। কিন্তু, ঘাতকরা তাকে ঘরের মধ্যে চলে যেতে বলে। এর মধ্যে দোতলায় শেখ রেহানার ঘরে থাকা তার চাচা শেখ নাসের ওই কক্ষে যান। তার হাতে গুলি লাগার ক্ষত ছিল। রমাই প্রথম বেগম মুজিবকে জানায়, বঙ্গবন্ধুকে গুলি করা হয়েছে।

এ সময় ওই ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ নাসের ও রমা। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নিচে নেমে এসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

এরপর পরই মেজর আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন তাদের সৈন্যসহ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে আসে। আজিজ পাশা তার সৈন্যদের নিয়ে দোতলায় চলে যায়। তারা বঙ্গবন্ধুর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দরজায় গুলি করে। তখন বেগম মুজিব দরজা খুলে দেন এবং ঘরের মধ্যে যারা আছে তাদের না মারার জন্য অনুরোধ করেন। ঘাতকরা বেগম মুজিব, শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও রমাকে নিচে নিয়ে আসতে থাকে।

সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখেই বেগম মুজিব কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘আমি যাব না, আমাকে এখানেই মেরে ফেল।’

#

রক্তক্ষরণে বিবর্ণ হয়ে যায় সুলতানা কামালের মুখ

বেগম মুজিব নিচে নামতে অস্বীকৃতি জানান। ঘাতকরা শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও রমাকে নিচে নিয়ে যায়। আর, বেগম মুজিবকে তার ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। বেগম মুজিবসহ বঙ্গবন্ধুর ঘরে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া শেখ জামাল, সুলতানা কামাল ও রোজী জামালকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন।

বেগম মুজিবের নিথর দেহটি ঘরের দরজায় পড়ে থাকে। বাঁ দিকে পড়ে থাকে শেখ জামালের মৃতদেহ। রোজী জামালের মুখে গুলি লাগে। আর রক্তক্ষরণে বিবর্ণ হয়ে যায় সুলতানা কামালের মুখ।

#

শেখ মুজিব বেটার দ্যান শেখ নাসের

শেখ নাসের, শেখ রাসেল আর রমাকে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সবাইকে লাইনে দাঁড় করানো হয়। এ সময় শেখ নাসের ঘাতকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি তো রাজনীতি করি না। কোনো রকম ব্যবসা-বাণিজ্য করে খাই।’ ঘাতকরা একে অপরকে বলে, ‘শেখ মুজিব বেটার দ্যান শেখ নাসের।’

এরপর তারা শেখ নাসেরকে বলে, ‘ঠিক আছে। আপনাকে কিছু বলব না। আপনি ওই ঘরে গিয়ে বসেন।’ এই বলে তাকে অফিসের সঙ্গে লাগোয়া বাথরুমে নিয়ে গুলি করে। এরপর শেখ নাসের ‘পানি পানি’ বলে গোঙাতে থাকেন। তখন শেখ নাসেরের ওপর আরেকবার গুলিবর্ষণ করা হয়।

#

‘ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো?’

লাইনে দাঁড়িয়ে শেখ রাসেল প্রথমে রমাকে ও পরে মহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো?’

মহিতুল জবাব দেয়, ‘না ভাইয়া, তোমাকে মারবে না।’ এ সময় শেখ রাসেল তার মায়ের কাছে যেতে চাইলে আজিজ পাশা মহিতুলের কাছ থেকে জোর করে তাকে দোতলায় নিয়ে যেতে বলে।

আজিজ পাশার কথামতো এক হাবিলদার শেখ রাসেলকে দোতলায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। রাসেলের চোখ বের হয়ে যায়। আর মাথার পেছনের অংশ থেতলে যায়। রাসেলের দেহটি পড়ে থাকে সুলতানা কামালের পাশে।

পুরো ঘরের মেঝেতে মোটা রক্তের আস্তর পড়ে গিয়েছিল। এর মাঝেই ঘাতকের দল লুটপাট চালায়।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সেদিন তার দু’ মেয়ে ছিলেন না। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা স্বামীর সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন। ছোট বোন শেখ রেহানাকেও নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।

#

ঘাতকদের প্রস্তুতি

১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর টু-ফিল্ড রেজিমেন্টের যানবাহনগুলো সচল হয়ে ওঠে। ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণে অবস্থিত ইউনিট থেকে ১০৫ এমএম কামানগুলোকে ভারি ট্রাক দিয়ে টেনে নির্মাণাধীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় নিয়মিত নৈশ প্রশিক্ষণের জন্য। রাত ১০টায় সেনানিবাসের উত্তর প্রান্ত থেকে বেঙ্গল ল্যান্সারের টি-৫৪ ট্যাংকগুলো ইউনিট থেকে বেরিয়ে পড়ে। এয়ারপোর্টে ১৮টি কামান ও ২৮টি ট্যাংক একত্রিত হয়।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেজর ডালিম, মেজর নূর, মেজর হুদা, মেজর শাহরিয়ার, মেজর পাশা, মেজর রাশেদ প্রমুখ সেখানে জড়ো হয়।

১৫ আগস্ট রাতের প্রথম প্রহরে মেজর ফারুক অফিসারদের নির্দেশ দেয়Ñ বিমান বন্দরের কাছে হেড কোয়ার্টারে স্কোয়াড্রন অফিসে মিলিত হতে। অফিসারদের আপারেশনের পরিকল্পনা জানায় মেজর ফারুক।

সে-ই ছিলো এই অপারেশনের দায়িত্বে। প্রধান টার্গেট বঙ্গবন্ধুর বাড়ি সরাসরি আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। ওই বাড়িকে ঘিরে দু’টো বৃত্ত তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। আরো সিদ্ধান্ত হয়, ভেতরের বৃত্তের সদস্যরা সরাসরি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করবে। বাইরে থেকে রক্ষীবাহিনী বা ভেতর থেকে সেনাবাহিনীর কোনো আক্রমণ এলে তা ঠেকানোর দায়িত্বে দেওয়া হয় বাইরের বৃত্তের সদস্যদের।

এর দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর নূর ও মেজর হুদাকে। সিদ্ধান্ত হয়- তারা ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোড, সোবাহানবাগ মসজিদ এবং ৩২ নম্বর ব্রিজে রোড ব্ল¬ক করবে। প্রধান টার্গেট বঙ্গবন্ধুর বাসা আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ধানমণ্ডিতেই শেখ ফজলুল হক মণি এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণেরও সিদ্ধান্ত হয়।

ডালিমকে বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণের সময় উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেন মেজর ফারুক। কিন্তু পূর্ব সম্পর্কের অজুহাতে বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণে উপস্থিত না থেকে স্বেচ্ছায় সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব নেয় ডালিম।

ভারি মেশিনগান সংযোজিত দ্রুতগতির একটি জিপে রওনা দেয় ডালিম। সঙ্গে এক প্লাটুন ল্যান্সারসহ একটি বড় ট্রাক।

শেখ মণির বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব দেয়া হয় রিসালদার মোসলেমউদ্দিনকে। তার সঙ্গে দেওয়া হয় দু’প্লাটুন সৈন্য।

এক কোম্পানি সেনাসহ রেডিও স্টেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউমার্কেট এলাকার দায়িত্বে থাকেন মেজর শাহরিয়ার। একই সঙ্গে ওই গ্র“পকে বিডিআর থেকে কোনো ধরনের আক্রমণ হলে প্রতিহত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়।

২৮টি গোলাবিহীন ট্যাংক নিয়ে শের-ই বাংলা নগরে রক্ষীবাহিনীকে প্রতিহত করার দায়িত্ব নেন মেজর ফারুক নিজে। তবে ট্যাংকের মেশিনগানগুলোয় প্রচুর গুলি ছিল। মেজর মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণের জন্য ১২টি ট্রাকে সাড়ে তিনশ সাধারণ সৈনিককে তৈরি করা হয়।

মেজর রশিদের সরাসরি কোনো আক্রমণের দায়িত্ব ছিল না। তার দায়িত্ব ছিল হত্যাকাণ্ড পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমন্বয় করা।

তার নেতৃত্বে থাকা ১৮টি কামান গোলাভর্তি করে যুদ্ধাবস্থায় তৈরি রাখা হয়। কামানগুলো রক্ষীবাহিনীর হেড কোয়ার্টার এবং বঙ্গবন্ধুর বাসা লক্ষ্য করে তাক করা হয়। একটি মাত্র ১০৫ এমএম হাউইটজার কামান রাখা হয় আর্টিলারির মেজর মহিউদ্দিনের অধীনে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির উল্টো দিকে লেকের পাড়ে।

দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর সবাইকে তাজা বুলেট ইসু করা হয়। ঘাতকের দল বিমানবন্দর এলাকা থেকে ভোররাত ৪টার দিকে ধানমণ্ডির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ফারুকের নেতৃত্বে ২৮টি ট্যাংক বিমানবন্দর সড়কে বনানীর এমপি. চেকপোস্ট দিয়ে সেনানিবাসের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এর মধ্যে ফজরের আজান পড়ে যায়।

ফারুক তার ট্যাংক নিয়ে ৪৬ ব্রিগেড ইউনিটের লাইনের একেবারে ভেতর দিয়ে বাইপাস সড়ক ধরে সেনাসিবাসের প্রধান সড়কে চলে আসে। ঢাকা সেনানিবাসে সে সময়ে বিমানবাহিনীর যে হেলিপ্যাড ছিল, তার ঠিক উল্টো দিকের একটি গেট দিয়ে ফারুক তার ট্যাংক নিয়ে বিমানবন্দরের (পুরনো বিমানবন্দর) ভেতর ঢুকে পড়ে। এ সময় ফারুককে অনুসরণ করছিল মাত্র দুটি ট্যাংক। বাকি ট্যাংকগুলো পথ হারিয়ে জাহাঙ্গীর গেট দিয়ে ফার্মগেটের দিকে এগুতে থাকে।

ফারুক এয়ারপোর্টের পশ্চিম দিকের দেয়াল ভেঙে রক্ষীবাহিনীর হেডকোয়ার্টারের সামনে উপস্থিত হয়।

ভোর সোয়া ৫টার দিকে মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও শেখ মণির বাসা আক্রান্ত হয়।

শেখ মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ঘাতকরা। বেঁচে যান শেখ মণির ছেলেম শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস।

ডালিমের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বেবী, ১২ বছরের ছেলে আরিফ, চার বছরের নাতি বাবু (আবুল হাসনাত আবদুল্লার ছেলে), ভাতিজা শহীদ সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আবদুল নইম খান রিন্টু (আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর খালাতো ভাই), তিন অতিথি এবং চারজন কাজের লোককে।

#

দাফন

পরের দিন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার আব্দুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর লাশ ছাড়া ১৫ আগস্টে নিহতদের লাশ দাফন করেন। আব্দুল হামিদ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে কফিনে নিহতদের লাশ এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শেখ মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদের লাশ সংগ্রহ করে বনানী গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

বনানী কবরস্থানে সারিবদ্ধ কবরের মধ্যে প্রথমটি বেগম মুজিবের, দ্বিতীয়টি শেখ নাসেরের, এরপর শেখ কামাল, সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, শেখ রাসেল, ১৩ নম্বরটি শেখ মণির, ১৪ নম্বরটি আরজু মণির, ১৭ নম্বরটি সেরনিয়াবাতের আর বাকি কবরগুলো সেদিন এই তিন বাড়িতে যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের। ১৬ আগস্ট সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় টুঙ্গীপাড়ায়। সেখানে তাকে দাফন করা হয় তার বাবার কবরের পাশে। সেনাবাহিনীর ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন ফ্লাইট লে. শমশের আলী।

সূত্র: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দেওয়া এ এফ এম মহিতুল ইসলাম, আব্দুর রহমান শেখ (রমা), মো. সেলিম (আব্দুল), অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার মো. কুদ্দুস শিকদার, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল হামিদ, সাবেক সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ, আয়েনউদ্দিন মোল্লা ( সোবহানবাগে নিহত বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলউদ্দিনের গাড়িচালক) এর সাক্ষ্য এবং অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল হামিদের বই ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’।
Click This Link
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৭

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্যে আপনাকেও ধন্যবাদ।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মেহেদী ভাই। ভাল থাকুন।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও সালাম।

৫. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৫
করবি বলেছেন:
আজকের দিনে এই লিখাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ লেখক ও মিলটন আনোয়ারকে।
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৮

লেখক বলেছেন: সময় করে পড়ার জন্যে আপনাকেও ধন্যবাদ।

৬. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৮
আশমএরশাদ বলেছেন: খুব ভাল লাগা একটি পোষ্ট--
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আরশাদ ভাই। আমার জন্যে অনেক স্মৃতি বিজড়িত একটা দিন।

৭. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৩৯
স্বপ্নকথক বলেছেন: আপনার লেখাটি পড়ে লগইন করলাম।
পড়তে পড়তে চোখে পানি চলে আসলো, মানুষ এত নিষ্ঠুর হয় কিভাবে?


একটি প্রশ্ন জাগলো মনে, সেনাবাহীনির অন্যান্যরা, যারা মুজিবপন্থী ছিলেন, তারা ঐসময় কি করছিলেন? একটি ঘৃণ্য গনহত্যার কোন Impact কি তাদের মধ্য পড়েনি?
২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: এ এক চিরন্তন প্রশ্ন, সেনাবাহিনীর অন্যান্যরা কি করছিল? আমার কেন জানি মন হয় পূরো সেনাবাহিনীই জড়িত ছিল ঘটনাটার সাথে, এমনকি আজকের আওয়ামী নেতা শফিউল্লাহ।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৮. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৩
রাগ ইমন বলেছেন: মাথা ঝিম ঝিম করে । এই বর্ননা পড়ার পরেও কেউ কেউ মৃত্যুদন্ডকে অমানবিক বলে কি করে?

ওরা তো সারাজীবন আরাম আয়েশেই কাটিয়ে দিলো। শেষ বয়সে এসে মরলো ।
৯. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৭
মাহামুদ রাহি বলেছেন: নিখুত বর্ননা। মনের ভিতর একটি চাপা ক্ষোভ ছিল। আজ ভারহীন মনে হচ্ছে। ভয়ে ছিলাম মার্সি পিটিশন কার্যকর হয় কি না এই ভেবে। আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।
১০. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২১
মাহামুদ রাহি বলেছেন: দাদা আপনার অনুমোন ব্যতিরেকেই ফেসবুকে পোস্ট করলাম, বোধহয় আনন্দে।
১১. ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৫৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: পুরো ঘটনাটি আপনাকে জানিয়ে দিয়েছিল আপনার স্বপ্নের মাধ্যমে আপনার সাব কন্সাস মাইন্ড।

আমার ব্যাপারাটাও অদ্ভুত। সেই চার বছর বয়েসের কোন স্মৃতিই আমার মনে নেই। কিন্তু ১৫ আগস্টের সেই সকালের কথা আমার কাছে ভীষণ স্পষ্ট।
১২. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৮
সুবিদ্ বলেছেন: মনটা ছুঁয়ে গেল
১৩. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৫
এনটনি বলেছেন: কিন্তু সবাই মিলে মারলো, কারন টা কি?
আমি একেক জায়গা থেকে একেক কথা শুনি, কিন্তু কারন বলার চেয়ে লোকজন উচিত অনুচিত বুঝাতে ব্যস্ত থাকে........

কারন টা বলবেন????

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৩০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
প্রতি,
রাজনীতিবিদ
আমলা
থানা-পুলিশ
হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট

...এক্কেরে হান্দাইয়া দিমু
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই