লাশ শাহ্রিয়ারকে নিয়ে এ লেখা...
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৫৪
![]()
এ ধরনের একটা লেখা এ মুহুর্তে এপ্রোপ্রিয়েট হবে কিনা ভেবে পাচ্ছিনা। কিন্তূ ওয়াচ্ডগী করতে গিয়ে সময় ও বাস্তবতার সাথে সমঝোতা করতেও কোথায় যেন বাধে। যাদের জন্যে লেখাটা বদহজমের কারণ হবে অনুরোধ করব একটু ধৈর্য্য ধরতে। ব্লগ মানেই মনের মত লেখার আসর, এমনটা হলে এ মাধ্যমের মূল আকর্ষনটাই হয়ত কমে যাবে। পড়তে চাইলে মনট শক্ত করুন এবং পড়ুন। না চাইলে ধন্যবাদ।
পাঁচ খুনীর ফাঁসি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় অব্যাহত রয়েছে, এবং তা বেশকিছু দিন চলবে তাতে সন্দেহ নেই। ফাঁসির আবেগ অংশটুকু তিথিয়ে আসলে আসবে এর বিচারিক প্রসংগ এবং এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বহুমূখী পান্ডিত্য চলতে থাকবে বহুদিন ধরে। তবে আওয়ামী সরকার ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় এ নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী কোন হৈ চৈ হবে এমনটা মনে করার কোন কারণ দেখছিনা। আমাদের দেশটাই এরকম, ক্ষমতা কথা বলে! ’ক্রাইম & পানিশমেন্ট’ উপন্যাসে লেখক ফেওদর দস্তায়ভ্সস্কি বলেছেন, একজন খুনীর মূল শাস্তিটা আসে জেল-হাজত, ফাঁসি হতে নয়, বরং তার ভেতরের অর্ন্তজ্বালা হতে। সদ্য ঝুলা পাঁচ আসামী ফাঁসিমঞ্চে যাওয়ার আগ পর্য্যন্ত ১৩ বছর হতে ২ বছর পর্য্যন্ত জেলের ঘানি টেনে গেছেন। নিজেরা না বল্লেও সন্দেহ নেই প্রতিদিন জ্বলেছেন মৃত্যু যন্ত্রণায়। ফাঁসি এক অর্থে তাদের জন্যে ছিল মুক্তি, যা বরন করা কষ্টের হলেও মুক্তি দিয়েছে প্রতিদিনের মৃত্যু-আতংক হতে।
প্রতিটা মানুষের জীবনই একটা পাঠশালার মত। এখানে কেউ ভাল পড়াশুনা করে, কেউবা মন্দের পূঁজারী হয়ে পা বাড়ায় পাপের পথে। সাড়া জীবন জেনে এসেছি মৃত্যু মানুষকে সবকিছুর উর্ধ্বে নিয়ে যায় এবং তার ইহ জনমের কৃতকর্মের মালিকানা চলে যায় সৃষ্টিকর্তার দরবারে। শেখ মুজিব হত্যা মামলার পাঁচ আসামীও এর ব্যতিক্রম ছিল বলে মনে করিনা। এরা পাঁপ করেছিল এবং ইহজগতে যতটা শাস্তি পাওয়ার তার সবটুকুই পেয়ে গেছে। প্রসংগটা টানছি একটা বিশেষ কারণে। ফাঁসিপর্ব সমাধা পূর্বক পাঁচ আসামীর লাশ জেলখানা হতে স্ব স্ব ঠিকানায় পাঠানোর পথে অনুষ্ঠিত হতে দেখলাম অদ্ভূত এক দৃশ্য। জুঁতা ছুড়ে মারা হচ্ছে লাশ বহনকারী গাড়ির দিকে, বৃষ্টির মত ছুটছে থু থু! শুনেছিলাম সেন্ট্রাল আফ্রিকার বাদশাহ Jean-Bédel Bokassa নিজ ভৃত্যদের জবাই করে তাদের মাংস দিয়ে তরকারী খেতে খুব পছন্দ করতেন। সে সময় আমরা পার হয়ে এসেছি। আজকের দুনিয়ায় এ ধরনের কাজ অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হবে এবং এর জন্যে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিত করেছে প্রয়োজনীয় শাস্তি। মৃত লাশের দিকে জুতা ছুঁড়ে মারার ভেতর বোকাসার পৈচাশিকতারই যেন ছায়া যেন দেখতে পেলাম। মানুষ হিসাবে আমরা কি এতটাই নির্মম হয়ে গেছি যে একটা লাশকেও শাস্তি দিতে হবে? হয়ত অনেকে বলবেন এই এরাই তো শেখ মুজিব এবং উনার পরিবারের লাশের প্রতি সামন্যতম অনুকম্পা দেখায়নি। মিথ্যা নয়, কিন্তূ ওরা এমনটা করেছিল বলেই তো ফাঁসিতে ঝুলেছে। তা হলে ওদের আর আমাদের মধ্যে পার্থক্যটাই বা রইল কোথায়? কর্নেল শাহরিয়ার রশিদের জানাযায় হাজির ছিলেন এমন একজনের সূত্র হতে জানতে পারলাম মৃত্যুর পর বেচারার চোখ, হূৎপিন্ড, কিডনী সহ পূনঃব্যবহারযোগ্য সব অংগপ্রত্যংগ খুলে রাখা হয়েছিল ঢাকাতেই। যে গাড়িতে লাশ পরিবহন করে হয়েছে তাতে বইছিল রক্তের নদী, সদ্য জবাই করা মাছের মত লাশ এপাশ ওপাশ করছিল গাড়িতে। জানাজা সহ লাশের স্বাভাবিক গোসলেও নাকি বাধা দেয়া হয়েছিল। সবই শোনা কথা, হতে পারে অনেকটা অতিরঞ্জিত। কিন্তূ একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মত সূত্র ছিলনা, তাই রটানো কথা সবাটাই অসত্য ছিল মেনে নিতে পারছিনা। আমার এ মমতা জীবিত শাহরিয়ারের জন্যে নয়, বরং লাশ শাহরিয়ারের জন্যে।
খুঁন ও খুঁনী, এগুলো কোন সভ্য সমাজের এলিমেন্ট হতে পারেনা। তবু এগুলোর সাথে আমাদের মোকাবেলা হয়, এবং সমাজকে এসব হতে মুক্ত রাখতে ফাঁসির মত চরম শাস্তিকেও আমাদের স্বাগত জানাতে হয়। ১৯৭৫’এ ঘটিত পাপের শাস্তি ২০১০ সালও যে লম্বা সময় নয়, তার প্রমান হয়ে গেল সাম্প্রতিক ফাঁসি। এ ফাঁসি ভবিষৎ পাপের জন্যে শিক্ষা হয়ে থাকবে, এ জন্যেই দেশে দেশে কাজ করে আইন ও বিচার ব্যবস্থা। ১৯৭৫’এর শেখ মুজিব হত্যা রাজনৈতিক হত্যা হলেও এর বিচার পর্ব রাজনৈতিক হওয়ার কথা নয়। কিন্তূ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এটাকে রাজনৈতিক পর্ব বানিয়ে এ হতে ফায়দালুটার চিরন্তন ধারাতেই ফিরে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ফারুখ রশীদেদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়েছে বলেই আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন-সার্বভৌম বলে যারা লাইসেন্স দিচ্ছেন তাদেরকে আগামী নির্বাচন পর্য্যন্ত ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ করব । ক্ষমতার পালাবদলই অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে। আসুন অপেক্ষা করি সে দিনটা পর্য্যন্ত।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: পাপীরা পাপের শাস্তি পেয়েছে এ নিয়ে কোন কথা নেই। কথা হচ্ছে লাশের দিকে জুতা ছুড়ে মারা। অপেক্ষাই অনেক প্রশ্নের জবাব দেবে আশাকরি। চলে যাচ্ছে দিনকাল। আপনাদের দোয়া।
লেখক বলেছেন: আপনার স্বাধীন চিন্তাকে সাধুবাদ জানাই।
লেখক বলেছেন: যার দরকার হবে তার কাছে মালিকানা ততটা জরুরী বলে মনে হয়না। চাচা আপনা প্রান বাচা!!!
লাল দরজা বলেছেন:
'জানাযায় হাজির ছিলেন এমন একজনের সূত্র হতে জানতে পারলাম মৃত্যুর পর বেচারার চোখ, হূৎপিন্ড, কিডনী সহ পূনঃব্যবহারযোগ্য সব অংগপ্রত্যংগ খুলে রাখা হয়েছিল ঢাকাতেই।'জানাযায় হাজির মানুষের কাছ থেকে এমন আরো যে কত কিচ্ছা কাহিনী শোনার বাকী আছে আল্লাহ্ পাক জানেন!
লেখক বলেছেন: কেউ যদি কিছু বলতে চায় তা শোনাও কি রাজনৈতিক অপরাধ!
িসপাহী বলেছেন:
২৮শে অক্টোবর যেখানে তারা লাশের উপর নেচেছে সেকানে জুতা ছুড়ে মারা এটা আর তেমন কি?
লেখক বলেছেন: আসলেই বোধহয়!
িসপাহী বলেছেন:
আমি কার লাশের দাফনের সময় টিভিতে দেখলাম পুরো সাদা কাফনের কাপড় রক্তে লাল হয়ে আছে।
লেখক বলেছেন: আরও অনেক উড়ো তথ্য পেয়েছি যা প্রকাশ করলে আবহাওয়া তপ্ত হয়ে উঠবে। সময় আসুক!
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন:
যে গাড়িতে লাশ পরিবহন করে হয়েছে তাতে বইছিল রক্তের নদী, সদ্য জবাই করা মাছের মত লাশ এপাশ ওপাশ করছিল গাড়িতে---
এগুলো কি সত্যি!!!!
লেখক বলেছেন: ভাই, এগুলো ভাল একটা সূত্র হতে শোনা কথা। এর বাইরে বেশী কিছু বলতে চাইনা।
আকাশ আমার সীমানা বলেছেন:
কিছু একটা লিখব বলে ভাবছিলাম এটা নিয়ে। সত্যি আমাদের মানবিক গুনগুলো দিনে দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। জাতি হিসেবে জাতির জনকও হয়তো এমন নিস্ঠুর প্রতিবাদকে ঘৃণা করতেন। শুধু ঘৃণ্য নয় কাজটি বরং অন্যায়যোগ্য।
লেখক বলেছেন: চমৎকার একটা মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ।
বাস্তবতা বলেছেন:
আরো অনুসন্ধান করে এ নিয়ে লিখুন প্লিজ। তবে বিষয়টা বিশ্বাস হচ্ছে না। তাদের লাশ মোটেও গোপনে দাফন করা হয় নি, সত্যি হলে এ নিয়ে আরো হইচই হত।
আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি এ নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য
লেখক বলেছেন: সূত্র হতে শোনা কথা বিশ্বাষ করতে আপনাকে অনুরোধ করছিনা।
ও.জামান বলেছেন:
নৃসংস!!!
লেখক বলেছেন: পশুত্ব!
সাজিদ বলেছেন:
একসময় সব আত্নীয় স্বজনকে জোর গলায় বলতাম দেশে ব্যাক করব। বিদেশ বিদেশই। আমাদের মত যাদের শৈশব বাংলাদেশে কেটেছে তাদের সব সময়ই একটা গোপন কষ্ট থাকবে নিজের জীবনের শিকড় থেকে দূরে থাকার।কিন্তু দেশের যেই অবস্হা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে ভালো থাকুক সবাই দেশে এসব করে। আপনার পোস্টে যেসব লিখেছেন এসব যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বলতে হবে বাংলাদেশ একটা বর্বর দেশ হয়ে গেছে। I think its better not to come to this blog reading this kind of barbaric act performed by the state.
লেখক বলেছেন: কষ্ট হয় দেশটার জন্যে। হাজার হলেও মাতৃভূমি।
ফারযানা বলেছেন:
ক্ষমতার পালাবদলই অনেক প্রশ্নের উত্তর দেবে। আসুন অপেক্ষা করি সে দিনটা পর্য্যন্ত।
লেখক বলেছেন: সত্য কি মিথ্যা বলবে জানিনা, তবে ঘটনার উলটো পিঠটার সাথে পরিচিত হওয়া যাবে।
মন মণষা বলেছেন:
সেদিন রাতে ফাসি হয়েছে জানতাম না। পরদিন অফিসে গিয়ে জানতে পারলাম। কিন্তু বাসায় ফিরে লাস পরিবহনের ফুটেজ যখন টিভি তে দেখছিলাম তখন বিসাদে মন ছেয়ে গেছে...না...ফাসি কার্যকর হওয়ার জন্য নয়...মানুষ গুলোর তো সর্বোচ্চ শাস্তি হয়ে গেছে কিন্তু আমরা সাধারন মানুষের বিবেক বোধ কি এতোটাই কমে গেল যে লাসের দিকে থুতু-জুতা ছুড়ে মারবো? জানাজা পড়তে দিব না? কবর দিতে দিব না? ...তারা লাশের উপর নেচেছেন বলে কি আমরাও নাচবো? এই নাচ কি চলতেই থাকবে পর্যায়ক্রমে?...সাধারনের সুস্থ বিবেক জাগ্রত হোক এই কামনাই করি...
লেখক বলেছেন: আপনিই বোধহয় একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা আমার লেখার উদ্দেশ্যটা ধরতে পারলেন। ধন্যবাদ।
দখিনা বাতাস বলেছেন:
ফাসির লাশের সব সময় হাত ও পায়ের রগ কাটা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য। ১৯৭৯-৮৩ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে থাকার সময় থেকেই জিনিসটা প্রথম জানতে পারি। সবাই হয়তো জানেন, ঐ সময় আর্মিতে ক্যু আর ফাসি /ফায়ারিং স্কোয়াড খুব কমন ঘটনা ছিল। ছোটবেলায় মনে আছে, এক মেজর ( নাম টা উল্লেখ করলাম না)খুব মজা করতো আমাদের ছোটদের সাথে, হঠাৎ নাই হয়ে গেল। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে তার লাশ পাঠানো হলো, সাথে ছোট বাক্সে তার গেন্জি, সান গ্লাস, ঘড়ি আর লাশের হাত পা রগ কাটা। কাফনের কাপড়ে বেশির ভাবই কালচে লাল রক্তের দাগ।
তারপর জিয়া হত্যার পর দেখলাম, ( জিয়া হত্যার পরে পরেই বেশ কিছু আর্মি অফিসার মারা হয়, তার মাঝে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে বেশ কয়েকজন ছিল) এক সকালে আরেক পরিচিত লে: কর্নেল লাশ ফাসি দিয়ে নিয়ে গেছে, রাস্তায় ফোটা ফোটা রক্তের দাগ সবাই গোল হয়ে দাড়িয়ে দেখতেছিল আর নানান আজগুবি গাল গপ্প।
এইসব ফাসির লাশের ক্ষেত্রেও ঐরকমই হয়েছে বলে মনে হয়।
লেখক বলেছেন: এ সব নিয়ে গসিপ আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। কিন্তূ লাশ বহনকারী গাড়ির দিকে জুতা আর থু থু ছুড়ে মারা গসিপ ছিলনা। দ্বিমত করার স্বাধীনতাকে সন্মান জানিয়ে বলছি, লাশের প্রতি জুতা ছূড়ে মারা আমার কাছে বর্বর পশুত্ব বৈ অন্য কিছু নয়।
বাস্তবতা বলেছেন:
@দখিনা বাতাসঃ এবার মনে পড়লো, পত্রিকার বিবরনেও তাই এসেছে। কিন্তু পোস্টে যে চোখ, কিডনি, হৃৎপিন্ড আলাদা করে রাখার কথা বলা হয়েছে তা পুরাই ভিত্তিহীন।লেখককে অনুরোধ করছি কারেকশন করার জন্য, নয়ত সুস্পষ্ট রেফারেন্স উল্লেখ করার জন্য। নয়ত ভবিষ্যতে হয়ত এই ব্লগের রেফারেন্স দিয়ে আরো কুৎসা রটানো হবে।
লেখক বলেছেন: আমার রেফারেন্স লেখাতেই আছে। এর বাইরে বেশী কিছু বলার নেই।
দখিনা বাতাস বলেছেন:
@ বাস্তবতা, হয়তো তাই। সবই গুজব। এই কর্নেল রশিদ (যার ডাক নাম ছিল রেন্টু) কি কুমিল্লা, চান্দিনা থানা, ছয়ঘরিয়া গ্রামের করিম খোন্দকারের ছেলে? যতদুর জানি, পোস্টমাস্টার করিম খোন্দকার ১৯৯৪ এ মারা যাওয়ার আগে অছিয়ত নামায় তার ছেলে যেন জানাযায় না থাকে, লাশ যেন না স্পর্শ করে-- লিখে গিয়েছিলেন। বাবা মৃত্যর আগ পর্যন্ত ছেলেকে ক্ষমা করে যাননি বন্গবন্দুকে হত্যার জন্য।
এমনও হতে পারে, মৃত্যুর আগে চোখ, কিডনি দান করে গেছে। তাই খুলে রাখা হয়ছে।
অনেক কিছুই হয়,যেমন, সৈয়দ ফারুকের বউ, ২ ছেলে, ২ মেয়ে-- সবাই বিদেশে। কেই আসেনি দেখা করতে। লাশও গ্রহন করেছে আত্নীয়রা। বউ ছেলে মেয়ে কেউ ছিলনা।
লেখক বলেছেন: সবই সম্ভব। কিন্তূ যেটা কেউ করতে বলে যায়নি তা হল লাশের দিকে জুতা ছুড়ে মারা।
বাস্তবতা বলেছেন:
@দখিনা বাতাসঃ ঠিকই ধরেছেন, এই সেই কর্নেল রশিদ, তার বাবা তাকে আমৃত্যু ক্ষমা করেনি, কিন্তু এই ব্লগের কতিপয় মানুষ তাদের জাতীয় হিরো বানানোর জন্য লেখা/মন্তব্যের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছেন। গোয়েবলসের বিবেদিত অনুসারী এরা।চিন্তা করে দেখেন, আগে তো এত মিডিয়া, ব্লগ ছিল না। এরকম গল্প কাহিনী তখন রূপকথার মতই মুখে মুখে ছড়াত। আর মানুষের অভ্যাস এমন যে সে কুৎসাটা বিশ্বাস করে বেশ সহজেই।
লেখক বলেছেন: পাপীদের হিরো বানানো আমার লেখার উদ্দেশ্য ছিলনা। মুজিব হত্যার ক্রিমিনালদের উপর আমার আরও লেখা আছে, ওগুলো পড়লে হয়ত কিছুটা ধারনা পেতে পারেন। ধন্যবাদ।
দখিনা বাতাস বলেছেন:
মানুষের মানসিকতা অনেক অদ্ভুদ। এখন কিছু মানুষ লাশের উপরে থুথু দেয়, ৭৫ নাকি কিছু মানুষ মিস্টি বিতরন করেছিল। ৭১এ বিহারিরা বাংগালীদের মারার পরে টুকরা টুকরা করতো। আবার ১৬ই ডিসেম্বরের পরে বন্দি পাক বাহিনীর সদস্যদের গ্রামের লোকজন পিটিয়ে মারার পরে লাথি থুথু আগুন লাগানোর ঘটনাও আছে। আসলে লাশ নিয়ে কে কি করলো ঐসব নিয়ে কিছু বলাটা আমার কাছে তেমন গুরুত্বপুর্ন কিছু মনে হয়না। যাদের সাহস কম, কিছু করার ক্ষমতা কম, তারাই সুযোগ পেলে রাগ টা উগরে দেয় এইভাবে।
যেমন, চট্টগ্রামে জিয়াকে গুলি করে মারারও পরে, লাশের ঘাড়ে এসএমজি ঠেকিয়ে পুরা ম্যাগজিন খালি করেছিল একজন মেজর। মাথা শুধু একটু চামড়া দিয়ে ধড়ের সাথে যুক্ত ছিল। ঐ লাশ বেশকিছু দিন চট্টগ্রাম বিআইটির পাশে মাটিচাপা ছিল। পরে ঐ গলিত লাশ এনে ঢাকায় জানাজা হয়। সংগত কারেনই লাশ কাউকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এই তথ্যটাকে বিকৃত করে শেখ হাসিনা যা বলেছে তা নিন্দা অবশ্য করার মত।
লেখক বলেছেন: গতকালের একটা দৈনিকে পড়লাম ফাঁসি পর্বের সাথে জনগনের সম্পৃক্ততা ও ব্যপক জনসমর্থন প্রমানের জন্যেই নাকি জুতা এবং থু থু ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। অর্থাৎ এখানেও রাজনীতি! সংগত কারনেই এগুলোর সত্যতা যাচাই করার কোন সূযোগ নেই।
সে যাই হোক, খুনীদের ফাঁসি হয়ে গেছে এবং শেখ মুজিব হত্যা চাপ্টার কবর দেয়ারও সময় ঘনিয়ে আসছে। এ নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করার আওয়ামী কৌঁশল পুনঃবিবেচনা না করলে বুঝতে হবে শাস্তির চাইতে রাজনীতিটাই ছিল দলটার মূল উদ্দেশ্য।
যারা লাশের গাড়িতে জুতা মেরে নিজদের বীরত্ব(!) প্রকাশ করেছে আশাকরি জীবন তাদের সূপথে চালিত করবে, চুরি চামারী, খুন-রাহাজানী হতে বিরত রাখবে। কে জানে খুনে জড়িয়ে ফাসি হলে শুধু গাড়িতে কেন কবরেও হয়ত জুতা মারা হতে পারে। সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ।
দখিনা বাতাস বলেছেন:
মানুষের মানসিকতা অনেক অদ্ভুদ। এখন কিছু মানুষ লাশের উপরে থুথু দেয়, ৭৫ নাকি কিছু মানুষ মিস্টি বিতরন করেছিল। ৭১এ বিহারিরা বাংগালীদের মারার পরে টুকরা টুকরা করতো। আবার ১৬ই ডিসেম্বরের পরে বন্দি পাক বাহিনীর সদস্যদের গ্রামের লোকজন পিটিয়ে মারার পরে লাথি থুথু আগুন লাগানোর ঘটনাও আছে। আসলে লাশ নিয়ে কে কি করলো ঐসব নিয়ে কিছু বলাটা আমার কাছে তেমন গুরুত্বপুর্ন কিছু মনে হয়না। যাদের সাহস কম, কিছু করার ক্ষমতা কম, তারাই সুযোগ পেলে রাগ টা উগরে দেয় এইভাবে।
যেমন, চট্টগ্রামে জিয়াকে গুলি করে মারারও পরে, লাশের ঘাড়ে এসএমজি ঠেকিয়ে পুরা ম্যাগজিন খালি করেছিল একজন মেজর। মাথা শুধু একটু চামড়া দিয়ে ধড়ের সাথে যুক্ত ছিল। ঐ লাশ বেশকিছু দিন চট্টগ্রাম বিআইটির পাশে মাটিচাপা ছিল। পরে ঐ গলিত লাশ এনে ঢাকায় জানাজা হয়। সংগত কারেনই লাশ কাউকে দেখানো হয়নি। কিন্তু এই তথ্যটাকে বিকৃত করে শেখ হাসিনা যা বলেছে তা অবশ্যই নিন্দা করার মত।
বাস্তবতা বলেছেন:
লেখকের মূল বক্তব্যের সাথে আমি একমত। মৃতদেহের অসম্মান আমিও কামনা করি না।আমার আপত্তিটা ভিন্ন জায়গায়। আপনার বক্তব্যের একটা অংশ মারাত্নক রকমের অপপ্রচার বলে মনে হয়েছে, নিজের কথাকে আরো জোরালো ভাবে তুলে ধরার জন্য বিনা রেফারেন্সে (আপনার ভাষায় ভাল একটা সূত্র) যা লিখেছেন তা কিন্তু গুরুতর অভিযোগ।
আপনার লেখার সাথে আমি পরিচিত, ব্লগের স্বল্পকালীন অবস্থানেও বেশ ভাল কিছু লেখা পরেছি আপনার। এ জন্যই সময় নিয়ে লিখে নিজের মতামত দিয়েছি। আপনাকে যদি অন্যদৃষ্টিতে না দেখতাম তবে মাইনাশ দিয়েই সরে যেতাম।
এমনিতেই এইদেশে এত মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয় ব্যাক্তিবিশেষকে বিতর্কিত করতে, সেখানে আপনার মত ব্লগারদের কাছ থেকে আমি অন্তত আশা করি যে ভালমত খোজখবর নিয়ে লিখবেন, যাতে তা কোন অস্থিরতা তৈরি না করে। যদি আপনার দেয়া তথ্য ভুল হয় তবে অদূর ভবিষ্যতে তা হয়ত আরো বিকৃত হয়ে বহুল প্রচারিত হবে।
আশা করি আমাকে ভুল বুঝবেন না। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আমার সূত্র জানাজায় অংশ নেয়া স্থানীয় একজন। এর বেশী কিছু জানা নেই। হতে পারে মিথ্যা, কিন্তূ কথা উঠেছে এবং যাচাই করে প্রমান করতে হবে অভিযোগগুলো মিথ্যা। এমনটা প্রমান পাওয়া গেলে আমি আগ বাড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে। না ভাই, ভুল না বুঝে বরং ভাল লাগল আপনার মন্তব্যের উত্তর দিতে।
বাস্তবতা বলেছেন:
১৭ নং মন্তব্যে আমি আপনাকে বুঝাইনি। গত কয়েকদিন ব্লগে এরকম অনেক পোস্ট এসেছে। আপনার সম্পর্কে এরকম কোন ধারনা আমার নেই, বরং আমার ধারনা সম্পূর্ন উল্টো।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যটা পড়ে হাল্কা বোধ করছি। ধন্যবাদ।
রবিনহুড বলেছেন:
একজন মৃত ব্যক্তি সকল চাওয়া পাওয়ার উর্ধ্বে চলে যান। তিনি সকল অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। সেই কারনে মৃত ব্যক্তির নামে কোনো বিচার কার্য হয় না। মৃত ব্যক্তির কোনো শাস্তি হতে পারে না।আর যিনি শান্তি পেয়েছেন, সে তো শাস্তি পেলো। শাস্তি পেলে তার অপরাধ সমাপ্ত হলো বলেই ধরা হয় এবং তিনি অপরাধ থেকে মুক্তি পায়েছেন বলে ধরা হয়। অপরাধ সমাপ্ত হলে তার প্রতি আক্রোশ ক্যান? এটা অপরাধীর প্রতি অন্যায় আচরন।
যারাই এগুলা করেছেন, তারা না বুঝে করেছেন বা আক্রাশ থেকে করেছেন। তবে এগুলা করে তারা কখনই সঠিক কাজ করেন নাই। যারা এগুলা করেছেন তাদের মৃত্যুর পরে তাদের লাশের প্রতি এরকম করা হলে উনারা এটা ভালো লাগবে?
লেখক বলেছেন: আপনার সাথে ১০০% সহমত। আশাকরি এ ধরনের অপকর্ম আমাদের রাজনৈতিক সাংস্কৃতি হয়ে দাঁড়াবেনা। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে।
ওয়াচডগ৫৭ বলেছেন:
মৃত্যু নিয়ে উল্লাসের একাল ও সেকাল
হুইপ ফিরোজকে নিয়ে বরিশালে তোলপাড়
আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো
বরিশাল-পটুয়াখালী এবং রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিলি হওয়া একটি ভিডিও সিডি নিয়ে তোলপাড় চলছে। সিডিতে দেয়া তথ্যচিত্র অনুযায়ী, ’৭৫-র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বরিশাল শহরে বের হওয়া প্রথম আনন্দ মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ বাউফলের এমপি আসম ফিরোজ। এই মিছিল থেকেই হামলা হয় বরিশালের আওয়ামী লীগ অফিসে। বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঢুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ভাংচুর করে মিছিলকারীরা। হত্যার প্রতিবাদে বের হওয়া মিছিলেও হামলা চালায় তারা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে আলোচ্য ভিডিওচিত্রে ফিরোজসহ সেসময়কার অন্য বেঈমানদের বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এদিকে পুরো ঘটনাটিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন হুইপ আসম ফিরোজ। ছাত্রজীবনের রাজনীতিতে সৃষ্ট বিরোধের জের এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার জন্য এরকম অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভিডিওচিত্রটি কে বা কারা প্রকাশ করেছে তা জানা যায়নি। ভিডিও তথ্যের সত্যতা নিয়ে কোনরকম সংশয় প্রকাশ করেননি স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তথ্যচিত্রটিতে রয়েছে দু’জন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতার সরাসরি সাক্ষাৎকার। তারা হলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বরিশালে প্রতিবাদ মিছিল করার অপরাধে প্রথম কারাবরণকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা বর্তমানে কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সাবেক বাকসু ভিপি খান আলতাফ হোসেন ভুলু এবং সেই সময়কার আরেক ছাত্রনেতা বর্তমানে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি ডা. পীযূষকান্তি দাস। তারা দু’জনই ক্যামেরার সামনে অকপটে বলেছেন সবকিছু। খান আলতাফ হোসেন ভুলু বলেন, ‘১৫ আগস্ট সকালে হত্যাকাণ্ডের খবর জানার পর একে একে সদর রোডের আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকি আমরা। এ সময় সেখানে আসেন বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ কুমার দেব, আওয়ামী লীগ নেতা মুনছুরুল আলম মন্টু, তৎকালীন ছাত্রনেতা ডা. পীযূষ কান্তি দাস এবং শহিদ খান। অফিসে এসে পাই আরেক আওয়ামী লীগ নেতা কেশবদা’কে। আমরা কয়েকজন মিলে হত্যার প্রতিবাদে মিছিল বের করি। মিছিলটি বিবিরপুকুর এলাকা অতিক্রমকালে বিপরীত দিক থেকে একটি মিছিল নিয়ে আসেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে জাতীয় সংসদের হুইপ আসম ফিরোজ। মিছিলে তিনি ছাড়াও নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মোশতাক সরকারের পক্ষে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ছোট ভাই। মূলত মঞ্জুর বগুড়া রোডস্থ বাসা থেকেই বের হয় ওই মিছিল। এর আগে সেখানে আনন্দ উল্লাস আর মিষ্টি বিতরণ করেন ফিরোজসহ অন্যরা।’ ডা. পীযূষ কান্তি দাস তার সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আসম ফিরোজের নেতৃত্বাধীন মিছিল থেকে ধাওয়া করা হলে আমরা দ্রুত সদর রোড সংলগ্ন একটি গলির ভেতরে ঢুকে পড়ি। এরপর আনন্দ মিছিলকারীরা অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে থাকা আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়। সেখানে মিছিলকারীরা বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর ও পদদলিত করে। এরপর একে একে নগরীর বিভিন্ন সরকারি দফতরে ঢুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলা এবং ভাংচুর করা হয়। বিএম কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ এমদাদুল হক মজুমদারকেও লাঞ্ছিত করে তারা। বঙ্গবন্ধুর প্রিয়ভাজন হওয়াই ছিল তার একমাত্র অপরাধ।’ ভিডিওচিত্রে দু’জনের দেয়া এ সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে আলাপকালে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘সেদিনের সেই দৃশ্য বহু মানুষ স্বচক্ষে দেখেছে। কেবল ভাংচুরই নয়, পা দিয়ে মাড়িয়ে ভাংচুর করা হয় জাতির জনকের ছবি। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৯ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। বিষয়টি টের পেয়ে শুরু হয় দমন অভিযান। ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয় বরিশালের তৎকালীন এসপিকে। ১৭ আগস্ট সদর রোড থেকে গ্রেফতার হন আলতাফ হোসেন ভুলু। এরপর একে একে গ্রেফতার করা হয় বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিপ্লবী দেবেন্দ নাথ ঘোষ, অ্যাডভোকেট মানবেন্দ বটব্যাল, হরনাথ বাইন, কাজী মোখলেছুর রহমান, হোসেন চৌধুরী, আকতার উদ্দিন দারোগা, আলেকান্দার নুরু, শ্রমিক নেতা রুস্তম সরদার এবং ছাত্রনেতা সাজুসহ আরও অনেককে। দমন পীড়নের মুখে থমকে যায় প্রতিবাদ।’ ভিডিওচিত্রে সাক্ষাৎকার দেয়া স্বাচিপ নেতা ডা. পীযূষ কান্তি দাস বলেন, সে সময় এদের গ্রেফতার এবং নির্যাতনে সহায়তা করেন তৎকালীন বিএম কলেজের এমএ শেষ বর্ষের ছাত্র বর্তমান হুইপ আসম ফিরোজ। আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম মঞ্জু গ্র“পের নেতা হিসেবে এসব কাজ করেন তিনি। পরে মোশতাক সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয় মঞ্জুর।’ ক্ষোভের সুরে আলতাফ হোসেন ভুলু যুগান্তরকে বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা ফিরোজ এখন জাতীয় সংসদের হুইপ। এর আগে পরপর ৪ বার তাকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই লজ্জা আমরা রাখব কোথায়? আজ বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দাবি উঠেছে, এসব বেঈমানেরও বিচার হোক।’
হুইপ ফিরোজের বক্তব্য
পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আলাপকালে হুইপ আসম ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, ‘বিএম কলেজে আমার অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আলতাফ হোসেন ভুলু। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমার কাছে পরাজিত হন তিনি। সে সময় বরিশালের সবকটি কলেজের ছাত্র সংসদে জয়ী হয় আমার সমর্থকরা। এ নিয়ে তখন থেকেই আমার সঙ্গে ভুলু সাহেবের বিরোধ চলছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রশ্নে আমি নুরুল ইসলাম মঞ্জু গ্র“পের সমর্থক ছিলাম। অন্যদিকে আমাদের বিপক্ষে ছিলেন হাসানাত আবদুল্লাহসহ অন্যরা। মঞ্জু গ্র“পের সমর্থক হলেও ১৫ আগস্ট সকালের ওই আনন্দ মিছিলে আমি অংশ নেইনি। কোনরকম আনন্দ উল্লাসও করিনি। দল যখন বিরোধী দলে থাকে তখন আমার বিরুদ্ধে কোন কথা ওঠে না। কিন্তু দল ক্ষমতায় এলেই একটি মাফিয়া চক্রের মদদে ভুলু সাহেবরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে মেতে ওঠেন। কেননা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আমার কিছু পাওয়ার সুযোগ হয়। তাদের মদদ দেয়া মাফিয়া চক্রটি আমাকে সরিয়ে বাউফলের নির্বাচনী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আশাতেই এসব করছে। অথচ যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে তোলা হচ্ছে তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। ১৯৭৮ সালে ঢাকায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আমি বরিশালের প্রতিনিধিত্ব করেছি। বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুল দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তদন্ত পর্যন্ত হয়েছে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন সেই তদন্ত কমিটির প্রধান। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে একমাত্র আমিই ৫ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। ’৮৬-তে স্বতন্ত্র হিসেবেও আমাকে নির্বাচিত করে বাউফলের জনগণ। বহুবার লোভ দেখানো এবং মন্ত্রিত্বের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও কখনও আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাইনি। দলের প্রতি বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসা না থাকলে অনেক আগেই পতাকা ওড়ানো গাড়িতে উঠতে পারতাম।’
Click This Link
দুরন্ত ইসলাম বলেছেন:
মানুষের আবেগ তো আর উকিলের যুক্তি মেনে চলে না। লাশ তো লাশ। খুনীদেরকে রাজপতে ছেড়ে দিলে মানুষ পায়ের তলায় পিষে মেরে ফেলত। কাদের জন্য মায়া দেখাচ্ছেন? এদেরকে ফাসিতে ঝুলাতে কত রক্ত ঝরেছে এই দেশে। শুয়োরগুলো প্রায় ৩৬ বছর বোনাস বেঁচে গেল! আমার কষ্টটা এখানেই। ফাসি হওয়াতে আমি অনেক খুশী! ভী-ষ-ণ খুশী!!!
দুরন্ত ইসলাম বলেছেন:
যারা খুনীদের সাপোর্ট করে ফিচার লিখছেন তারা কেমন মানুষ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















আর কেমন আছেন কেমন যাচ্ছে ?