somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিন লাদেনের শেষ কয়েক ঘন্টা...(মার্কিন ভার্সন)

০৩ রা মে, ২০১১ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনার শুরু ৪৮ মাস আগে। স্থান কিউবার মাটিতে লিজ নেয়া মার্কিন ঘাঁটি গুয়ানতানামোয় কোন এক টর্চার সেল। পাকিস্তান হতে ধরে আনা ৯/১১ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহম্মদের উপর নিয়মিত টর্চারের আরও একটা দিন। টর্চারের পদ্ধতি ওয়াটারবোর্ডিং । কুয়েতি এই শেখের কাছে মার্কিনীদের একটাই চাওয়া, সৌদি শেখ ওসামা বিন লাদেনের সর্বশেষ অবস্থান। দিনের পর দিন নির্মম অত্যাচারের ধারাবাহিকতা শেখ মোহম্মদকে বাধ্য করে ওসামার অবস্থান সম্পর্কে কিছু একটা তথ্য প্রকাশ করতে। এ ব্যাপারে নিজের অজ্ঞতার কথা বার বার প্রকাশ করলেও এ যাত্রায় নতুন একটা তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। বাইরের পৃথিবীর সাথে ওসামা বিন লাদেনের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নাকি কয়েকজন বার্তাবাহক, যাদের অবস্থান পাকিস্তানে। এভাবেই শুরু হয় বিন লাদেন হান্টের নতুন অধ্যায়, এবং শেষ অধ্যায়। তথ্য প্রকাশের ২ বছরের মাথায় এমন এক বাহকের সন্ধান পায় মার্কিন গোয়েন্দারা।

কেবল পাহাড় পর্বত নয়, বছরের পর পর বছর ধরে পাকিস্তানের প্রতিটা সন্দেহজনক স্থাপনার উপর নজর রাখছিল মার্কিন ইন্টিলিজেন্ট। ওবামা প্রশাসনের অনেকেই বিশ্বাস করত আফগানিস্তানের অনাবাসযোগ্য পাহাড় পর্বতে নয়, বরং পাকিস্তানের জনবহুল কোন শহরে লুকিয়ে আছে বিন লাদেন। বিবেচনায় আনা হয় তার কিডনি রোগ ও এর ডায়ালাইসিস ট্রিটমেন্ট। আফগানিস্তান অথবা পাকিস্তানের জনমানবহীন গুহায় এ চিকিৎসা ছিল অসম্ভব। আকাশে গোয়েন্দা বিমান আর মাটিতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত গোয়েন্দাদের চোখ এড়িয়ে ওসামা বিন লাদেন আজীবন পালিয়ে থাকতে পারবে মার্কিনিরা কখনোই তা বিশ্বাস করেনি। তাই সামান্যতম লীড পেলে হাউন্ড ডগের মত তার পিছু নিতে কার্পণ্য করেনি। খালিদ শেখ মোহম্মদের লীডকেও তারা তথ্য বিভ্রান্তি হিসাবে উড়িয়ে দেয়নি। মাসের পর মাস আঠার মত লেগে থেকে শেষ পর্য্যন্ত গত আগষ্ট মাসে হদিস পায় তথ্য সূত্রের। সন্দেহের তালিকায় যোগ হয় পাকিস্তানী বাসিন্দা দুই ভাই। বিরামহীন অনুসরণের মাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দাদের নজরে আসে রাজধানী ইসলামাবাদ হতে ৭৫ মাইল দুরের শহর এবোটাবাদের অদ্ভুত একটা বাড়ি। নির্জন এবং ভৌতিক, এভাবেই বর্ণনা করা হয় ইন্টিলিজেন্ট রিপোর্টে। সাধারণের চাইতে অনেক উঁচু দেয়াল (১৮ ফুট), দুই ধাপের প্রতিরক্ষা দেয়াল, ফোন, ইন্টারনেট বিহীন মিলিয়ন ডলারের বাড়িটাকে আখ্যায়িত করা হয় হাই প্রোফাইল ক্রিমিনাল লুকিয়ে রাখার পারফেক্ট স্থাপনা হিসাবে। গোয়েন্দা এনালিস্টের সভায় উপসংহারে আসা হয় কেবল ওসামা বিন লাদেনের পক্ষেই সম্ভব এমন একটা বাড়ি মেইনটেইন করা। ব্যাপারটা প্রেসিডেন্ট ওবামার দৃষ্টিতে আনা হয় গত ফেব্রুয়ারীতে। মার্চের ১৪ তারিখ মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় হতে গ্রীন সিগন্যাল পেয়ে শুরু করা হয় কোর্স অব একশ্যান।

স্যাটেলাইট সার্ভেলেন্স হতে নেয়া বাড়ির ষ্ট্রাকচারকে কপি করে তৈরী করা হয় একই ধাচের একটা বাড়ি এবং এখানেই ট্রেনিং নিতে শুরু করে সেনাবাহিনীর সবচাইতে দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য গ্রুপ নেভী সীল। নেভী সীলের অতীত অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিলনা তাই প্রেসিডেন্ট ওবামা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন ওসামার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার জন্যে। ১৯৮০ সালের ইরান হতে জিম্মি উদ্ধার মিশন ব্যর্থ হওয়ার খেসারত দিতে হয় প্রেসিডেন্ট কার্টারকে। পরবর্তীতে এই ব্যর্থতা প্রকট হয় আমেরিকার সোমালিয়া মিশনে। ওয়ার লর্ড ফারাহ আইদিদকে ধরতে গিয়ে নিজেরাই ফেসে যায় মোগাদিসুর অলিগলিতে। এক কথায় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় শক্তিধর মার্কিন সেনাবাহিনী। এ যাত্রায় ব্যর্থ হওয়ার ফল কি হতে পারে প্রেসিডেন্ট ওবামার ভাল করেই জানা ছিল। জন্মস্থান ও জাতীয়তা প্রশ্নে সন্দেহের পাশাপাশি যোগ্যতা নিয়ে প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানদের বহুমুখী আক্রমণের ফলে এমনিতেই তিনি ছিলেন কোণঠাসা। এ সময় ওসামা নিধনে ব্যর্থ অভিযান তার পুনঃ নির্বাচনের সম্ভাবনায় শেষ পেরেক এটে দিত। প্রেসিডেন্ট পিছিয়ে যাননি। নিশ্চিত হওয়ার পর গত শুক্রবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে অনুমতি দেন পাকিস্তান অভিযানের।

রোববার দুপুর ২টায় ফাইনাল রিভিউর পর অভিযান শুরু হয় বিকেল ৩টায়। ২টা হেলিকপ্টার সহ দুই ডজন কমান্ডো অংশ নেয় এ অভিযানে। ৪০ মিনিট স্থায়ী অপারেশনে মার্কিন নেভী সীলদের মুখোমুখী হতে হয় দুই স্তরের বাধা। প্রথম বাধা আসে নীচ তলার রক্ষীদের কাছ থেকে। স্ত্রী নিয়ে বিন লাদেন বাস করতেন দুই তলায়। নীচতলার বাধা প্রতিহত হওয়ার পর উপর হতে শুরু হয় দ্বিতীয় দফা আক্রমন এবং এ আক্রমনে অংশ নেন খোদ বিন লাদেন ও তার ছেলে। নেভী সীলদের টিম লিডার ওসামাকে সারেন্ডারের আহ্বান জানালে পালটা আক্রমন আরও জোরদার হয়। বাধা দূর হওয়ার পর সাঁড়াশি আক্রমনে কমান্ডোরা উঠে যায় উপর তলায়। ওসামাকে পাওযা যায় দোতালায়। স্ত্রীকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে নিজকে আড়াল করার চেষ্টা করলে কমান্ডোরা উভয়ের উপর গুলি চালায়। প্রথমে গুলি করা হয় বিন লাদেনের বক্ষে, দ্বিতীয়টা কপালে যা মস্তক সহ বেরিয়ে আসে পিছন হতে। তাৎক্ষনিক মৃত্যু হয় ওসামা বিন লাদেনের। একই সাথে নিহত হয় তার ৩য় স্ত্রী ও এক সন্তান। কমান্ডোরা থাবা মেরে খুলে নেয় কম্পিউটারের অংশ যেখানে রক্ষিত ছিল আল-কায়েদা নেটওয়ার্কের গুরত্বপূর্ণ তথ্যাবলী। নিহত ওসমার লাশ ঝড়ো গতিতে উঠানো হয়ে অপেক্ষমান হেলিকপ্টারে এবং কমান্ডো গ্রুপ ভোজবাজির মত মিলিয়ে যায় দিগন্তরেখায়। ল্যান্ড করার সময় উড্ডয়ন ক্ষমতায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কমান্ডোরা উড়িয়ে দেয় একটা চপার।


প্রযুক্তির সহায়তায় ৪০ মিনিটের এ অভিযান সরাসরি প্রচার করা হয় হোয়াইট হাউজে জমায়েত ওবামা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্যে (উপরের ছবি)। ‘জোরানামো‘ ’জোরানামো‘...‘ই কে আই এ'..., চীৎকার করে উঠে কমান্ডো নেতা। এটাই ছিল তাদের সংকেত যার অর্থ ’এনিমি কিলড ইন একশ্যান‘। তাৎক্ষনিক ডিএনএর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় ওবামা বিন লাদেনের মৃত্যু। কেবল তারপর প্রেসিডেন্ট ওবামা মুখোমুখি হন আমেরিকান জনগণের এবং ঘোষনা দেন বহুপ্রতীক্ষিত মৃত্যুর।

ইসলামী বিধান মতে বিন লাদেনকে গোসল করান আমেরিকান যুদ্ধ জাহাজ ’কার্ল ভিনসেন্টে’ কর্মরত জনৈক মুসলমান নৌ সেনা। তার জানাজা হয়ছিল কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি। সবশেষে সাদা কাপড়ের কফিন পরিয়ে এ্যারাবিয়ান সাগরের উত্তাল ঢেউ রাশিতে ভাসিয়ে দেয়া হয় এক কালের শক্তিমান পুরুষ ওসামা বিন লাদেনকে।

তথ্যসূত্রঃ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম হতে সংকলিত
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১১ দুপুর ১২:২০
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×