somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... লুটের টাকায় বেশ্যা নাচে...
আইপিএল কায়দায় বিপিএল নামক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পেছনে কারা জড়িত তাদের আসল চেহারা প্রকাশ না পেলেও অনেকের মতে ওরাই তারা যাদের কারণে এক সপ্তাহে দুজন বাংলাদেশি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল। শেয়ারবাজার লুটের সব টাকাই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে এমনটা ভাবার যথেষ্ট প্রমাণ নেই আমাদের হাতে। দেশিয় টাকার মহাসমুদ্রের উপর সাতার কাটছেন অনেকে। দরবেশ বাবাদের মুখের দাড়ি শুভ্র হলেও তাদের পকেটের টাকা কিন্তু শুভ্র হয়নি এখনো। বিপিএল নাকি কাঙ্খিত শুভ্রতার পথে প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যায় আর অবৈধ অর্থের সাথে সুরা ও আধা-উলঙ্গ নর্তকীদের একটা অদৃশ্য সম্পর্ক থাকে। এ শুধু কবি সাহিত্যিকদের কলম বাস্তবতা নয়, এ রাজনৈতিক লুটেরাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ওরা টাকা দিয়ে নর্তকী নাচায় আর পান করে ৪০ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর রক্ত। সুরা আর সাকীর এ অধ্যায়কে চার দেয়ালে বন্দী না রেখে জনসম্মুখে নিয়ে আসার অপর নামই বোধহয় বিপিএল। দেশীয় ক্রিকেট যেখানে আফগানিস্তানের মত দলকে হারানোর নিশ্চয়তা দিতে অক্ষম, সেখানে লাখ লাখ ডলার ব্যায়ে ক্রিকেট নামক ময়ুর নাচের আয়োজন কোন বিবেচনায়ই সাফাই গাওয়া যাবেনা। কাগজে কলমে আমরা এমন কোন অর্থনৈতিক শক্তি নই যা নিয়ে ওদের সাথে পাল্লা দেওয়া যাবে।

এটা ফেব্রুয়ারী মাস। মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতি প্রেমের মাস। এমন একটা মাসে লুটের টাকায় যারা বেশ্যা নাচাচ্ছে তাদের জন্যে ধিক্কার রইল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29538845 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29538845 2012-02-11 08:45:38
চাঁদা, বাংলাদেশে জন্ম নেয়ার চাঁদা।
ফেব্রুয়ারী মাসকে বলা হয় শোকের মাস। এ নিয়ে উত্তর এবং দক্ষিন মেরুতে কোন দ্বন্ধ নেই। আগস্ট মাসকে যদিও শোকের মাস বলা হয় তবে তা এক মেরুর শোক। মে মাসকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শোকের ট্যাগ না দিলেও এ মাসে দুই মেরুর এক মেরুতে বইতে থাকে শোকের আবহ। একটা জাতি সবকিছুতে শোক খুঁজলে তা নিশ্চয় সুস্থ জাতির লক্ষণ হতে পারে না। শোকের অন্য পিঠেই সুখপায়রাদের বাস, আমাদের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদেরও ঈদ আছে, আছে বিজয় দিবসের আনন্দ, আছে ১লা বৈশাখের উচ্ছাস। দুই মেরুর শোক আর সুখের মাঝে কোটি কোটি মানুষকে বাস করতে হয় নীরবে নিভৃতে, অনেকটা ম্যাগনেটিক ফিল্ড হয়ে। এবং এখানেই লুকিয়ে থাকে দেশের তৃতীয় মেরু। থ্রি ডাইমেনশনাল দেশের এই তৃতীয় মেরু নিয়ে আমার এ লেখা। আসুন কিছুক্ষণের জন্যে হলেও উপেক্ষিত সে মেরু হতে ঘুরে আসি।

বাংলায় একটা কথা আছে এক মাঘে শীত যায় না। কথাটা বোধহয় সবটা সত্য নয়। মেরুতে ঋতুর পরিবর্তন বাধ্যতামূলক হলেও বিষুব রেখায় তা বোধহয় প্রযোজ্য নয়। একই কথা বাংলাদেশের তৃতীয় মেরুর বেলায়ও প্রযোজ্য। মেরুর আনন্দ বেদনায় খুব একটা প্রভাবিত হয়না সে জীবন। সেখানে বছর জুড়ে রাজত্ব করে কিছু বিষধর সাপের অবাধ চলাফেরা। ১৫ই আগস্টের শোক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জনৈক ব্লগারের লেখা খোলা চিঠিটা পড়ে দেশে ফোন করতে বাধ্য হলাম। মাসের ১ তারিখ হতে ১৪ তারিখ পর্যন্ত আমাদের শতাব্দি পুরানো শিল্পকারখানায় কোন ধরনের শোক বিরাজ করে তার সাথে সম্যক পরিচয় আছে, তাই শোকের অংশিদার না হয়ে উপায় ছিলনা। শত হলেও আপন ভাই বোন। ৯ বারের মাথায় অফিসের দারোয়ান ফোন ধরল। জানাল কারখানা বাইরে হতে বন্ধ করে মালিক পক্ষের সবাই অর্থাৎ আমার বাকি ভাইরা পালাতে বাধ্য হয়েছে। চাঁদার হুমকি নাকি সয্য করা যাচ্ছে না। ওরা স্রোতের মত আসছে; আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তাতী লীগ, শ্রমিক লীগ। সবাই পিতা হারানোর শোক মুহ্যমান, অবমুক্তি জন্যে অর্থের প্রয়োজন। তৃতীয় মেরুতেও আগস্ট মাস শোকের মাস। তবে তা পিতা হারানোর শোক নয়, হুমকির মুখে চাঁদা দেয়ার শোক। টাকা দিয়ে যদি মানুষের জীবন কেনা যেত এক শেখ মুজিবকে কেনার জন্যে সৃষ্টিকর্তাকে কাড়ি কাড়ি টাকা দিতে প্রস্তুত আছে ৩-ডি মেরুর অনেক বাসিন্দা। শোকার্ত বুকে কতদিন বেচে থাকা যায়!

শুরুটা মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। সামনে ঈদ। দুই মেরুর বাসিন্দাদের ঈদ করানোর পবিত্র দায়িত্ব নিতে হয় তৃতীয় মেরুর বাসিন্দাদের। ঘটনাটা ফোন করে নয়, নিজের অভিজ্ঞতা হতে নেয়া। গ্যাস ওয়ালা, বিদ্যুৎ ওয়ালা, পানি ওয়ালা, ডিসি অফিস, এসপি অফিস, ভূমি অফিস, লীগ, দল, পার্টি, মসজিদ, মাদ্রাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন, ইয়াতিমখানা, শ্রমিক, কর্মচারী, গরীব আত্মীয়স্বজন সবার ঈদ পালন নিশ্চিত করার পরের ঘটনা। ঈদের দিন সকাল বেলা। নামাজ মুখী হই না অনেক বছর। অফিসে বসে শীতের সুন্দর সকালটা উপভোগ করছিলাম মনের আনন্দে। শরীর ও মনের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে রোজার মাসটায়। কড়া ব্রেক কষে থামল জীপটা। পুলিশের জীপ। ডানহাতের কর্মটা সপ্তাহখানেক আগেই সম্পন্ন হয়ে গেছে তাদের সাথে। ঈদের সকালে পুলিশ! দমে গেলাম ভেতরে ভেতরে। লম্বা একটা সালাম দিয়ে ওসির সহকারী আমলনামাটা পৌছে দিল। ওসি সাহেব জাকাত দেবেন, ৫০০ পিস শাড়ি দিতে হবে। হিসাব মেলাতে পারলাম না। ওসি জাকাত দেবে তার জন্যে শাড়ি দিতে হবে আমাদের! খুব ঠান্ডা মাথায় জবাবটা দিলাম, ’ঈদের সকালে আমরা জাকাত দেই না, দেই ফেতরা।’ অপমানটা বোধহয় বুঝতে পারেনি মোটা মাথার সেকেন্ড অফিসার। ধর্ম-কর্ম না করলেও ঈদের সকালে এত বড় একটা পাপ করার জন্যে তৈরী ছিলাম না। মুখের উপর না করে দিলাম। অনন্যোপায় হয়ে হাতে পায়ে ধরা শুরু করল। ঘটনার ভেতরও যে অন্য ঘটনা আছে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ রইলো না। চমকপ্রদ ঘটনা। সপ্তাহখানেক আগে ৫০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল নদী পথ আটকে। থানার এসপি, ওসি, সিপাই, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান আর বিএনপির সাংসদ মিলে ভাগ করে নেয় আটক মালামাল। ভেবেছিল ব্যাপারটা বেশিদূর গড়াবে না। কিন্তু বাধ সাথে স্থানীয় প্রেস ক্লাব। সাংবাদিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে এ চালান হতে। খবর পুলিশের আইজি পর্যন্ত চলে গেছে। সবাই বখরা চাইছে এবং বখরা আজকের মধ্যে পৌছানো না গেলে অনেকের চাকরী নিয়ে টান দেবে। দুই মেরুর জন্যে ঈদ আনন্দের দিন হলেও ৩-ডি মেরুতে এটা শোকের দিন।

একই পথে আসে শহীদ দিবস, আসে বিজয় দিবস, আসে নেতা নেত্রীর জন্ম দিন। মেরুতে মেরুতে আনন্দ হয়, ফুর্তি হয়, দুঃখ হয়। সময়ের প্রবাহে আবার তা ভেসে যায়। কিন্তু তৃতীয় মেরুতে সবকিছু কেমন স্টেশনারি। এখানে ১৫ই আগস্টের মত এক মাসের শোক হয়না, শোক হয় ১২ মাসের, ৩৬৫ দিনের, ২৪ ঘন্টার। পত্রিকায় দেখলাম ৯ই আগস্টকে জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা দিবস হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। উপলক্ষ এ খাতে মরহুম শেখ মুজিবের অবদান। ক্ষমতার মেরুতে এ নিয়ে হয়ত আনন্দ হবে, বিপরীত মেরুতে বইবে প্রতিবাদের ধূলিঝড়। সে আনন্দ আর ঝড়ের জোয়াল টানতে হবে সেই তৃতীয় মেরুর ‘গরু ছাগলদেরই’। নতুন দিবস মানে নতুন চাঁদা, শোকের চাঁদা, আনন্দের চাঁদা, বাংলাদেশে জন্ম নেয়ার চাঁদা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29535658 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29535658 2012-02-05 22:32:13
হাতে রক্ত, আঙ্গিনায় লাশ আর মুখে গণতন্ত্র...পাকিস্তানি ভণ্ডামির আওয়ামী সংস্করণ... ক্ষমতার রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধীদলের ভূমিকা এবং এদের পারস্পরিক সম্পর্ক যে কোন দেশেই এখন প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত তিক্ত। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও গড় বিবেচনায় এর অন্যতম কারণ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। এ ধরণের মন্দা কেবল বাজারকেই প্রভাবিত করছে না, বরং প্রভাবিত করছে রাজনীতি সহ সামাজিক জীবন। অনিশ্চিত বাজার কাঠামো পৃথিবীর দেশে দেশে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা। নভেম্বরের প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা ঘটছে তা এক কথায় অভাবনীয় ও নজিরবিহীন। পুঁজির অবাধ বিকাশ তত্ত্বের উপর দাঁড়ানো মুক্ত বাজার অর্থনীতিতেও কথা উঠছে সম্পদের অসম বন্টন ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে। কেবল মুখ আর কলমে থেমে না থেকে এসব কথা এখন বেরিয়ে পরছে দেশটার মাঠে ময়দানে। মানুষ অনন্যোপায় হয়ে রাস্তায় নামছে, প্রতিবাদের পাশাপাশি ঘেরাও অবরোধের মত চরম পথে হাঁটতেও বাধ্য হচ্ছে। পুঁজি বিকাশের সনাতনী ধারায় যারা পিছিয়ে পরছে তারা দায়ি করছে উঁচুতলার ভাগ্যবানদের, আর ভাগ্যবানরা আঙ্গুল দেখাচ্ছে নিজেদের যোগ্যতার দিকে। দরকষাকষির প্রেক্ষাপটে গোটা দেশ ৯৯% ও ১%’এর প্লাটফর্মে বিভক্ত হয়ে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার অবস্থানে চলে গেছে। স্বভাবতই এর প্রভাব পরছে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। ডেমোক্রেটরা বলছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পূর্বসূরি জর্জ ওয়াকার বুশের ব্যায়বহুল দুটো অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ও ধনীদের জন্যে ব্যাপক ট্যাক্স কমানোর ফসল হচ্ছে আজকের পতনোন্মুখ অর্থনীতি। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা বলছে প্রেসিডেন্ট ওবামার কথিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিই মার্কিনিদের নিয়ে গেছে প্রায় ৯% বেকারত্বে। দেশটার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পণ্ডিতদের অনেকেই স্বীকার করেন মন্দা হতে বেরিয়ে আসতে পারলে রাজনৈতিক ঝড় অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসবে এবং হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠা রাজনৈতিক মঞ্চও জনশূন্য হয়ে পারবে। এ ধরণের অভিজ্ঞতা দেশটার জন্যে প্রথম নয়, তাই গড় মার্কিনিরা বিশেষ ততটা চিন্তিত নয় যতটা চিন্তিত দেশটার রাজনীতিবিদগণ।

বিশ্বমন্দার বলয় হতে বাংলাদেশের মত কাঠামো বিহীন রাজনীতি তথা এর আর্থ-সামাজিক জীবন নিরাপদ থাকবে এমনটা আশা করা হবে বোকামি। স্বভাবতই এর প্রতিফলন ঘটছে সমাজের সর্বস্তরে। রাজনীতিতে অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার যে ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছে তার জন্যে বিবাদমান রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ি করা গেলেও এর কিছুটা হলেও দায় বর্তাবে বিশ্ব অর্থনৈতিক বাস্তবতার উপর। আমরা যারা অর্থনীতির মারপ্যাঁচ বুঝিনা তাদের হয়ত বুঝতে কষ্ট হবে দুরের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বস বাংলাদেশের মত রুচিহীন রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিশ্ব রাজনীতির ব্যারোমিটার যতই উত্তপ্ত হোক না কেন স্থানীয় রাজনীতির এমন কিছু উপাদান আছে যা এর তাপমাত্রাকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। এ বিবেচনায় পাল্লা দিয়ে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে চলছে বর্তমান সরকার। রাজনীতি থাকলে রাজনৈতিক বিতর্কও থাকবে, থাকবে আলোচনা, সমালোচনা আর চরিত্র হননের হরেক রকম কৌশল। এ কেবল বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর সব দেশের সব কালের রাজনৈতিক সাংস্কৃতি। কিন্তু গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় গিয়ে খোদ গণতন্ত্রকে কবর দেয়ার মনমানসিকতা বাংলাদেশের জন্যে ইউনিক। ৭০ দশকে আইন করে এ চর্চাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল। এর খেসারত শুধু বিশেষ একটা দলকে দিতে হয়নি, বরং গোটা জাতিকে দিতে হয়েছে তার হাজার বছরের আর্থ-সামাজিক মূল্যবোধ বলি দিয়ে। বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পাকিস্তানী সাংস্কৃতি পুনঃ জন্মের ব্রিডিং গ্রাউন্ড হিসাবে কাজ করেছিল আওয়ামী লীগের সে চেষ্টা। ৪০ বছর পর আজকের আওয়ামী লীগ কি সে চেষ্টাই করছে না? চারিত্রিক বিচারের কোন মানদণ্ডেই আওয়ামী লীগকে সক্রিয় অন্য দলগুলো হতে আলাদা করার উপায় নেই। সন্ত্রাস, লুটপাট আর ক্ষমতার অপব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার দৌড়ে আওয়ামী লীগ কোন বিবেচনায়ই প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে নেই, অনেকাংশে বরং দশ ক্রোশ এগিয়ে। এমনটাই যদি হয় বাস্তবতা তাহলে কোন বিবেচনায় অথবা অধিকারে আওয়ামী লীগকে এককভাবে দেশ শাসনের লাইসেন্স দিতে হবে? যুদ্ধাপরাধের বিচার দেশ শাসনের ক্রাইটেরিয়া হতে পারেনা, এটা কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা নয় যার বিনিময়ে দেশের মালিকানা দাবি করা যাবে। অপরাধ করলে অপরাধীকে শাস্তি পেতে হয়, এটা নতুন কোন আবিস্কার নয়, বরং মানব সভ্যতার হাজার বছরের সাংস্কৃতি। ৪০ বছরেও কেন ’৭১এর খুনিদের বিচার করা যায়নি সে ব্যর্থতার দায়ভার রাজনীতির নয়, বরং বিচারব্যবস্থার। আমাদের বিচার ব্যবস্থা যেহেতু রাজনীতির ক্রীড়নক ও নিবেদিত সেবাদাস তাই এ ব্যর্থতার সবটুকু দায়িত্ব নিতে সেই রাজনীতিবিদ্‌দেরই।

বাস্তবতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালে একটা সত্য মানতে হবে বর্তমান সরকার এমন একটা সত্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে দেশে এক আওয়ামী লীগ ছাড়া দ্বিতীয় কোন দলের ক্ষমতার রাজনীতি করার বৈধতা নেই। সেনা ছাউনিতে জন্ম নেয়ার দোহাই দিয়ে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার অন্ধ আক্রোশকে আর যাই হোক গণতান্ত্রিক রীতিনীতির আওতায় আনা যাবেনা। উর্দির জরায়ুতে বিএনপি নামক দানবের জন্ম দিয়ে জিয়াউর রহমান তার মূল্য শোধ করেছেন নিজের জীবন দিয়ে। সে দিনের দানব আর আজকের বিএনপি এক নয়, আজকের বিএনপি আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার (হোক তা রুগ্ন) অবিচ্ছেদ্য অংশ। আওয়ামী লীগের মত তাদেরও আছে কোটি কোটি সমর্থক (হোক তা জংলী)। বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার অধিকার কাদের জন্যে সংরক্ষিত থাকবে তা নির্ধারণ করার মালিক একক আওয়ামী লীগ নয়, বরং দেশের পনের কোটি জনগণ। গায়ের জোর আর আইনের জোরে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার ফলাফল কি হতে পারে অন্য কারও চাইতে আওয়ামী লীগের ভাল জানা থাকার কথা।

আক্রোশের রাজনীতি নতুন আক্রোশের জন্ম দেয়, অসুস্থ রাজনীতির এ এক নির্মম বাস্তবতা। ভবিষ্যৎ নির্মমতা হতে রেহাই পাওয়া নিশ্চিত না করে শেখ হাসিনা যদি আক্রোশ মেটানোর রাজনীতি অব্যাহত রাখেন এর ফলাফল বাঁকা দিকে মোড় নিতে বাধ্য। একই পথ মাড়িয়ে বর্তমানের বিএনপি যথাযত মূল্য দিয়েছিল ক্ষমতা হতে সড়ে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগ পবিত্রতার সরোবর হতে উঠে আসা কোন পদ্মফুল নয় যা পত পত করে আজীবন ভাসতে থাকবে। সময়ের দাবি মেটাতে এ দেশের মানুষ অতীতে যেমন রাস্তায় নেমেছে সামনেও নামবে। হাতে রক্ত আর আঙিনায় লাশ রেখে ক্ষমতা পোক্ত করার অভ্যাস সেই পাকিস্তান আমল হতেই চলে আসছে। দলীয় চামচা দিয়ে প্রতিপক্ষের সভাস্থলে পালটা সভা ডাকা, শান্তি শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে ১৪৪ ধারা জারী, এসব বেদের মেয়ে জোৎস্না জাতীয় রাষ্ট্রীয় ভণ্ডামী দেখতে দেখতে জাতির পিউবিক হেয়ার পর্যন্ত পেকে গেছে। পাকা সে চুলে রং লাগাতে চাইলে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে নতুন কোন ব্রান্ড খুঁজতে হবে। গোদ্‌রেজের মত অতীতের তাবৎ ব্রান্ড এখন ব্যর্থ। ব্যর্থতার চুনকালি মুখে নিয়ে কেউ পরজগতে চলে গেছেন, কেউবা এরশাদের মত বেশ্যাবৃত্তিতে নেমেছেন। রাজনীতিতে টিকে থাকতে চাইলে সহাবস্থানের বাস্তবতা মানতে হবে, মানতে হবে গণতান্ত্রিক আচার আচারণ। বাবার নাম আর স্বামীর নাম ভাঙ্গিয়ে ১৭ কোটি মানুষের জীবনকে জিম্মি করার রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষ সচেতন হচ্ছে। হয়ত সময় নেবে, কিন্তু একদিন না একদিন তা ঘটবে, এ দেশের মানুষ ময়লা আবর্জনার মত উপড়ে ফেলবে রাজনীতি নামের এসব অরাজকতা, লুটপাট আর রাষ্ট্রীয় ভণ্ডামী। এক হানিফ আর সুরঞ্জিত বাবুর মত মেঠো কামলা দিয়ে সে জোয়ার ঠেকানো সম্ভব হবেনা। আমরা মুখ খুলে উচ্চকণ্ঠে বলতে পারছিনা ঠিকই, কিন্তু অন্তরে লালন করছি, অনেকদিন ধরে লালন করছি সে স্বপ্ন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29532427 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29532427 2012-01-31 09:22:24
দ্যা ডে আফটার... বাংলায় একটা কথা আছে, ’অভাবে স্বভাব নষ্ট’। ৫৪ হাজার বর্গমাইল এলাকার ১৫ কোটি (নাকি ১৭?) মানুষ আমরা। অভাবটা এখানে ন্যাচারাল। স্বভাবের নিয়ামক শক্তি যদি অভাব হয় তাহলে আমাদের স্বভাব বৈধ ভাবেই নষ্ট। নষ্টের মুখায়ব দেখতে আজকাল আমাদের আর বাইরে যেতে হয়না, নষ্টই কড়া নাড়ে আমাদের দরজায়। ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক নষ্টকে আমরা বরণ করি এবং মেনে নেই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে। নষ্টের বলি হয়ে আমরা প্রাণ হারাচ্ছি। প্রাণ হারাচ্ছি মাঠে, ঘাটে, হাটে, রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে, সংসদ ভবনে, সীমান্তে। এক কথায় মৃত্যু আমাদের ডাল ভাত। আসল ডাল ভাতের নিশ্চয়তা জটিল হয়ে আসলেও মৃত্যু নামক ডাল ভাত আসল অর্থেই এখানে ডাল ভাত। এর পেছনে হয়ত লুকিয়ে আছে আজরাইল ও জল্লাদের অস্বাস্থ্যকর প্রণয়। প্রশ্ন উঠবে, আমরা যারা যদু, মধু, রাম, শ্যাম তাদের মত সবাই কি জল্লাদ আর আজরায়েলি প্রণয়ের শিকার? অনেকে দ্বিমত করবেন, কিন্তু আমি বলব, না মুক্ত নয়। নিরাপত্তার নিশ্চিদ্র দ্বীপ বানিয়ে যারা রাজার মত রাজত্ব করছেন এমনকি তারাও না। এই যেমন কদিন আগের কথিত সেনা অভ্যুত্থান। সেনাবাহিনী নামক বাংলাদেশি জল্লাদদের নির্মমতা কতটা ভয়াবহ তার প্রমাণ আমরা যদু মধুরা না বুঝলেও নিশ্চিদ্র দ্বীপের বাসিন্দা আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভাল বুঝেন। ছাউনির এসব জল্লাদের দল স্বার্থের দৌড়ে নিজেরাই আজরাইল বনে যায় এবং নির্বিচারে কেড়ে নেয় নারী, পুরুষ সহ নিরপরাধ শিশুদের জীবন। ইতিহাসের বিশাল একটা অধ্যায় লেখা আছে সেনা ছাউনির রক্তাক্ত কলমে। এবারের চেষ্টার উৎস, কারণ ও এর সম্ভাব্য সাফল্য/ব্যর্থতার পেছনে কারা জড়িত ছিল, কিংবা আদৌ ছিল কিনা তার বাস্তব চিত্র পেতে আমাদের হয়ত কটা বছর অপেক্ষা করতে হবে। জজ মিয়াদের জন্ম দিতে আমরা এন এক্সপার্ট হেডমাস্টার, অতীতে জন্ম দিয়েছি, এখন যে অক্ষম তেমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। কি হলে কি হতে পারত এ গবেষণায় না গিয়ে আসুন বাস্তবতাকে স্বাগত জানাই। বাস্তবতা হল, কথিত অভ্যুত্থান সন্তোষজনক মিলনের আগেই অপাত্রে ঝরে গেছে। কিন্তু উল্টোটাও হতে পারত। উর্দি ওয়ালা আজরাইলদের ১৯ গুষ্টি উদ্ধার করার পরই কেবল এমন একটা চিত্র পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি, মনে করুন আজরাইল আর জল্লাদের অবৈধ মিলন কেড়ে নিল আমদের প্রধানমন্ত্রীর জীবন। আসুন এমন একটা দিনের পরের দিনের কথা চিন্তা করি যেদিন আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঠাই নেবেন ইতিহাসে। কি হবে আমাদের রাজনীতির? কে বসবে ক্ষমতার আসনে?

আমার মত অনেকের অপছন্দ হলেও আওয়ামী তথা ক্ষমতার রাজনীতিতে কি ঘটবে তা প্রেডিক্ট করতে ম্যাজিশিয়ান হওয়ার দরকার হবেনা। আশাকরি পাঠক নিজেও বুঝে গেছেন আমি কি এবং কার কথা বলতে চাচ্ছি। হ্যাঁ ক্ষমতার রাজনীতিতে উদয় হবে নতুন মুখের। ট্র্যাডিশনাল রাজনীতি করতে গিয়ে বছরের পর যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন, রাজপথে মার খেয়েছেন, জেল হাজত খেটেছেন তাদের কেউ যে সরকার প্রধান বা দলীয় প্রধান হবেন না তা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি। দুটি পদের জন্যে দাবিদার অভাবে স্বভাব নষ্ট ১৫ কোটি স্বদেশি নয়, বরং দুধে ভাতের ৩ জন ভিনদেশি প্রবাসী। সমস্যাটা বোধহয় এখানেই। লেখাটা যখন লিখছি মার্কিন দেশে প্রেসিডেনশিয়াল পদে নমিনেশনের জন্যে রিপাবলিকান দলীয় প্রাইমারী চলছে। যাদের ধারণা নেই তাদের জন্যে খোলাসা করছি ব্যাপারটা। চার বছর পর পর মার্কিনিরা নির্বাচিত করে তাদের প্রেসিডেন্টকে। দুই দলীয় গণতন্ত্রের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্টকে নির্বাচনী মোকাবেলার জন্যে প্রতিপক্ষ দল তাদের প্রার্থী নির্বাচিত করে অভ্যন্তরীন নির্বাচনের মাধ্যমে। এ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীই হবেন বিরোধী দলীয় প্রার্থী। যেহেতু হাসিনার অনুপস্থিতে ক্ষমতার আকাশে উদিত হবে তিন তারকা, তাই প্রশ্ন উঠবে কিভাবে সমাধান হবে এ সমীকরণের। এ যেন মিউজিক্যাল চেয়ারের মত, পদ একটি (দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান হবেন একই ব্যক্তি) অথচ খেলোয়াড় ৩ জন। সমস্যার সমাধান নিয়ে নেপথ্যে নাটকের হয়ত অভাব হবেনা। দিন শেষে হয়ত তিন জনের কাছে গ্রহনযোগ্য কোন সমাধান বেরিয়ে আসবে যা আমরা যদু মধুরা জানতে পারব না। নেপথ্য নির্বাচনের স্বাদ হতে বঞ্চিত হওয়ার আগেই আসুন আমরা নিজেরা প্রাইমারী করে জেনে নেই কে হবেন আমাদের পরিবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ভোট দিন আপনার পছন্দের প্রার্থীকে। প্রার্থীরা হলেনঃ

ব্যালট নং ১ - প্রার্থী জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়। স্থায়ী ঠিকানাঃ ভার্জিনিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি, বিবাহ সূত্রে মার্কিনি
ব্যালট নং ২ - প্রার্থী জনাবা শেখ রেহানা। স্থায়ী ঠিকানাঃ লন্ডন, যুক্তরাজ্য। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি, অভিবাসন সূত্রে বৃটিশ।
ব্যালট নং ৩ - প্রার্থী জনাবা সায়মা হোসেন পুতুল। স্থায়ী ঠিকানাঃ টরেন্টো, কানাডা। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি, অভিবাসন সূত্রে কানাডিয়ান।
ব্যালট নং ৪ - প্রার্থী জনাব ছ্যারছ্যার আলী। স্থায়ী ঠিকানাঃ ছাগলনাইয়্যা, নোয়াখালী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি, অভাবে স্বভাব নষ্ট।

ভার্চুয়াল ব্যালট পেপারে ’ব্যালট নং ......’ লিখলেই আপনার ভোট বৈধ হবে।
শুভ কামনায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29530166 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29530166 2012-01-27 10:47:46
ক্যু আর্কিটেক্টদের মোবারকবাদ... http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29526652 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29526652 2012-01-21 22:31:38 আমারা গোঁ খোর আর ওরা গোঁ পুজারি...
ওরা গোঁ পুজারি আর আমরা গোঁ খোর। ওদের কাছে যা মা আমাদের কাছে তা উপাদেয় খাবার। আমরা গোঁ খোররা যদি ওদের উদ্বৃত্ত মা'দের নিয়মিত ভক্ষণ না করতাম তাহলে হয়ত দেশটার ১২০ কোটি পূজারিকে মাথাপিছু ১০টা করে চার পা ওয়ালা দেবির পুজা দিতে হত। পাশপাশি গোটা দেশই হয়ত ভেসে যেত গোঁ চেনার বাহারী গন্ধে। গরু চোরাচালানি কেবল দেবি চোরাচালানি নয়, মেথরেরও কাজ। ওদের মার জন্যে আমাদের দেশ লেদার অভ্যায়ারণ্য। ওরা লেদায় আর আমরা পরিস্কার করি। আমরা ওদের মেথর। এমনি একজন 'মেথর'কে ওরা আদর করছে, জামাই আদর। দেখুন এবং 'উপভোগ' করুন। ওরা আর কেউ নয়, আমাদের প্রতিবেশি, বন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সাহায্যকারী দেশ ভারত। এই সেই ভারত যাদের আতিথেয়তায় আমরা নদী পর্যন্ত বলি দেই।
http://youtu.be/5XkfrrqLm6o


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29524953 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29524953 2012-01-19 10:35:46
ছ্যারছ্যার আলীর দিনরাত্রি ও একটি খুনের গল্প... সকালটা কেমন যেন অন্যরকম মনে হল ছ্যারছ্যারের কাছে। রাতে ভাল ঘুম হয়নি তার। প্রতিরাতের মত দুঃস্বপ্ন আজও পিছু ছাড়েনি। মধ্যরাত হতে বিছানায় এপাশ ওপাশ করেছে কেবল। ফজরের নামাজেও যাওয়া হয়নি আজ। অন্ধকারকে এমনিতেই ভয় পায় ছ্যারছ্যার, তার উপর যোগ হয়েছে অবিশ্বাস্য রকম কুয়াশা। শীতকালটা বলতে গেলে ঘরে বসে কাটাতে হচ্ছে তাকে। কোথায় যেন থমকে গেছে তার জীবন। গেল একটা বছর এক রাতের জন্যেও ভাল করে ঘুমাতে পারেনি। চোখ বন্ধ করলে সামনে এসে দাড়ায় চেনা একটা মুখ। রক্তমাংস হীন কঙ্কালের মত অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকে তার দিকে, কি যেন জিজ্ঞেস করতে চায়। প্রশ্নটা শোনার আগেই ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। দরদর করে ঘামতে থাকে। ধর ফর করে উঠে বসে বিছানার উপর। রাতের পর রাত ঘটে যাওয়া ঘটনার আজও ব্যতিক্রম হলনা। কিন্তু তারপরও সকালটা কেমন যেন অন্যরকম মনে হল তার কাছে। প্রতিদিনের মত কুয়াশার হিস হিস শব্দটাও আজ তীব্র অনুভূত হলনা। সূর্যটাও মনে হল সকাল সকাল বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। দরজা খুলে শীতের সকালটা দেখার ইচ্ছা আজ আর চেপে রাখতে পারল না। বেরিয়ে এলো নিঃশব্দে।

সাপের মত হেলে দুলে এদিক ওদিক করছে সকালের কুয়াশা। দশ হাত দুরের জুমাঘরটাও দেখতে অসুবিধা হল ছ্যারছ্যারের। উচু মিনারটাকে দেখাচ্ছে অনেকটা দৈত্যের মত। প্রতিদিনের মত আজ আর ভয় পেলো না সে। ভাল কিছু ঘটতে যাচ্ছে আজ, বাতাসে তার গন্ধ পেল। কুয়াশা ভেদ করে কারও হাঁটাচলার আওয়াজ পেয়ে সজাগ হয়ে উঠল সে। সক্রিয় হয়ে গেল তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। পকেটে হাত দিয়ে পিস্তলের উপস্থিতিটা নতুন করে পরখ করে নিল। বিদ্যুৎ গতিতে পিছু ফিরল এবং পিস্তল উচিয়ে খোঁজ করল অদেখা শত্রুর।

’ভয় পাইয়েন না মামা, আমি চেঙ্গিস দফাদার, আফনের ড্রাইভার কাম বডিগাট’।

চেঙ্গিসকে দেখে অবাক হলনা ছ্যারছ্যার। গেল একটা বছর ছায়ার মত লেগে আছে তার পেছনে। যেখানেই যায় তার যাওয়াও বাধ্যতামূলক। এমনটাই নাকি ওপরমহলের নির্দেশ। বাংলাদেশি আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টি ছেড়ে আমজনতা লীগে যোগ দেয়ার পর হতেই এসবের শুরু। গুড়া কৃমির মত বংশবিস্তার করেছে তার শত্রু। এমনকি তালাক দেয়া স্ত্রীদের কেউ কেউ নাম লেখাচ্ছে শত্রু শিবিরে। এসব বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ছ্যারছ্যারের। তালাক দিলেও মাসোহারা দিচ্ছে চার স্ত্রীর সবাইকে। অনিয়মিত শারীরিক মিলনও বাদ যাচ্ছে না মেনু হতে। ঘরের তিন বিবির এ নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই। তবু কেন শত্রু ক্যাম্পে নাম লেখাতে হবে এর কোন কুল কিনারা করতে ব্যর্থ হল ছ্যারছ্যারের মগজ।

’চ্যাঙ্গিস, তুই ঘরে যা। আইজ একলা ঘুরতে মুন চাইতাছে। আমার কিছু হইব না। যা ঘরে গিয়া নাস্তা খা’। চেঙ্গিসেরও অন্য চাহিদা মেটানোর সময় ছিল এটা। তাই সানন্দে, অনেকটা ভুতুরে কায়দায় মিলিয়ে গেল কুয়াশার ঘন চাদরে। চেঙ্গিসের বিদায়ের সাথে সাথে চারদিকটা নতুন করে দেখে নিল ছ্যারছ্যার। আকাশের দিকে তাকাল এবং বুক ভরে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নিল। ছাগলনাইয়া তার পাচ আঙ্গুলের মত, অথচ একটা বছর অনেকটা গর্তের ভেতর কাটাতে হয়েছে তাকে। রাজনীতির পাশাপাশি পাবলিক ফাংশনও বন্ধ। সাত পাচ মিলিয়ে এমনটা হওয়ার কোন কারণ ছিলনা। অনেক আশা নিয়ে যোগ দিয়েছিল আমজনতা লীগে।

তত্ত্ববধায়ক আমলের শুরুতে ছ্যারছ্যার বুঝে গিয়েছিল আসল ন্যাশনালিষ্ট পার্টির দিন শেষ। মাল কামানোর দৌড়ে টিকে থাকতে হলে তাকে দল বদলাতে হবে, এবং তা যথা সম্ভব দ্রুত। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত নিতে আগে অনেকবার দেরি করেছে। তার ফলও পেয়েছে হাতেনাতে। তাই এ যাত্রায় সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মনস্থির করল। বন্ধু ইলশা হাজি তাকে রাস্তা দেখাল। ফেঁপে উঠা ব্যাংক ব্যালেন্সের মাপকাঠিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদটা খুব ছোট মনে হয়েছিল তার কাছে। তাই চোখ উপরের দিকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল। হাজির ভাষায় পুরানো এমপি তত্ত্বাবধায়কের দালালি করেছে বিধায় নমিনেশনের বাজার এবার খোলা। চাইলে যে কেউ সওদা করতে পারবে। পৌষ মাসের কোন এক সোনাঝরা সকালে গায়ে আতর, মুখে তিব্বত স্নো আর সাথে সাত নম্বর বিবি নিয়ে রওয়ানা দিল ঢাকার দিকে।

নমিনেশন বোর্ডের মুখোমুখি হতে পাক্কা একমাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল ছ্যারছ্যারকে। দিনটা ছিল শুক্রবার। রোজা রাখতে বাধ্য করেছিল বিবি খামুসি বেগম। মিরপুর মাজারেও মানত করেছিল। গুলশানের গেস্ট হাউজ হতে ধানমন্ডি নমিনেশন বোর্ডে পৌঁছতে পাক্কা দুই ঘন্টা লেগে গেল তাদের। নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা দেরি হওয়ায় তেলে বেগুনে ভাজি হয়ে অপেক্ষায় ছিলেন নেত্রী। হাজির হতেই তাৎক্ষণিক ভাবে ফুটন্ত কড়াইয়ে নামিয়ে দিল ছ্যারছ্যারকে। মৌখিক সালামের পাশাপাশি পা ছুয়ে সালাম দেয়ার চেষ্টা করতে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিল তাকে।

’অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ মিয়া। আপনে তামাম দুনিয়ারে বোকা বানাইবার পারেন, মাগর আমারে পারবেন না। আমি এ লাইনের ডক্টর’। নেত্রীর কঠিন ভাষায় সজাগ হয়ে গেল ছ্যারছ্যার। নমিনেশন বোর্ডে যাদের আশা করছিল তাদের কাউকে না দেখে একটু হতাশ হল। কথা ছিল ফেনীর আয়নাল হাজারীও থাকবে এবং সমর্থন জানাবে তার প্রার্থিতার। নেত্রী আর তার একমাত্র বোনকে দেখে প্রথম ধাক্কায় বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল সে। ভাবলেশ হীন দুই বোনের চেহারার সবটা জুড়ে ছিল খাই খাই ভাব। এর প্রমান পেতেও ছ্যারছ্যারকে বেশিক্ষণ আপেক্ষা করতে হয়নি।

’মুখের কথায় চিড়া ভিজে না মিয়া, পানি লাগে, তরল পানি। তা কত দিতে পারবা খোলাসা কর। ইলশা হাজী ৫৫ লাখের অফার দিছে। এক পয়সা কম হলে দোকান বন্ধ।’ ৮৫ লাখে দফারফা হল শেষপর্যন্ত। সিদ্ধান্ত হল ৮০ লাখ যাবে বাবার নামে তৈরী মাজারে, আর বাকি ৫ লাখ দলীয় ফান্ডে। প্রথম অংকটা পরিশোধ যোগ্য কেবল নগদে, দ্বিতীয়টা চেক হলেও নাকি ক্ষতি নেই। সবকিছু ভালয় ভালয় শেষ হওয়ায় ফুরফুর মেজাজেই বের হল ইন্টারভিউ বোর্ড হতে। রাজ্যের উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষমান খামুসি বেগম খবরটা পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরল। অবশ্য কান্নাকাটি ও রোজা আনন্দে আর পানাহারে রূপ নিতে বেশিক্ষণ লাগল না। ছ্যারছ্যার আনন্দেও কমতি ছিলনা, কিন্তু একটা বাস্তবতা তার মনে খচখচ করতে থাকল, ইলিশা হাজী! হাজীর সমর্থন নিয়েই সে ঢাকায় এসেছিল, অথচ নেত্রী জানাল সওদার বাজারে সেও নাকি একজন সওদাগর। ব্যাপারটা তার কাছে ঘোলাটে মনে হল। খোলাসা করার তাৎক্ষণিক তাগাদা হতে ফোন করল ইলশাকে। কিন্তু ও প্রান্ত হতে কেউ উত্তর দিল না। ছ্যারছ্যারের মনে হল হাজির ব্যাটা ইচ্ছা করেই তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। অশ্লীল একটা গালি দিয়ে ছুড়ে ফেলল ফোনটা।

পরের ছয়টা মাস বহমান নদীর মত বয়ে গেল ছ্যারছ্যারের জীবন। ইলেকশন বাতাসে লন্ডভন্ড হয়ে গেল তামাম দুনিয়া। তিন বিবি আর ইলশাকে নিয়ে ছাগলনাইয়্যার আকাশ আর মাটি এক করে ফেলল সে। আমজনতা লীগের অনেকেই সমর্থন নিয়ে এগিয়ে গেল, অনেকে আবার গোপনে আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টির দালালি করল। এ নিয়ে খুব একটা চিন্তা করল না ছ্যারছ্যার। রাজনীতির সমীকরণ তার ভাল করেই জানা ছিল। এ-ও জানা ছিল এখানে স্থায়ী শত্রু-মিত্রের পাশাপাশি দিনরাত বলেও কিছু নেই। সবকিছু ছিল টাকার খেলা। তার চোখে টাকায় যেমন নমিনেশন কেনা যায় তেমনি দিনকে ও রাত বানানো যায় রাজনীতির সুক্ষ্ম চালে । ছ্যারছ্যার নিজকে সওদাগর ভাবতে ভালবাসে। তার চোখে সওদার ময়দানে অসম্ভব বলে কিছু নেই, মুল কথা দিন শেষে আসল পণ্যের মালিকানা। নির্বাচনে জিতে তেমনি এক পণ্যের মালিক বনে গেল রাতারাতি। ইলশার সাথে ভুল বুঝাবুঝিটা ইলেকশনের শুরুতে মিটিয়ে নিয়েছিল অনেকটা বাধ্য হয়ে। হাজীর সমর্থনটা তার জন্যে জরুরি ছিল বিভিন্ন কারণে। কোটি টাকা খরচের জন্যে বিশ্বস্ত দুটো হাতের প্রয়োজন ছিল, পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল তিন বিবি ম্যানেজ করার কৌশলী একজন খেলোয়ড়। ইলশাকে চিনতে ভুল হয়নি তার। কারণ সে ছিল তেমনি একজন পাকা খেলোয়াড়। এবং ভুলটা করেছিল এখানেই।

ইলশা হাজী আর খামুসি বেগমের গোপন সম্পর্কটা তরতর করে বেড়ে উঠে অনেকটা ছ্যারছ্যারের নাকের ডগায়। নির্বাচন উপলক্ষে ছাগলনাইয়ার গ্রামে গঞ্জে ওরা একসাথে ঘুরে বেরিয়েছে বিনা বাধায়। গঞ্জের বাজারে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মিলিত হতেও কোন অসুবিধা হয়নি। ছ্যারছ্যারের লোকেরাও তাদের চিনতে পারেনি খামুসী বেগমের চোখ মুখ বন্ধ করা বোরকার কারণে। ইঙ্গিতটা প্রথম পায় ড্রাইভার চেঙ্গিসের কাছ হতে। কিন্তু ইলেকশনের কারণে আমলে নেয়ার সময় পায়নি। তাছাড়া চেঙ্গিসকে সময় অসময়ে আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টির দালাল বলে সন্দেহ হয়েছে তার। তাই বিশ্বাস অবিশ্বাসেরও একটা প্রশ্ন ছিল। এমপি হওয়ার কারণে ছাগালনাইয়্যা ছেড়ে ঢাকা আসাটা ছিল বাধ্যতামূলক। ৩ কোটি টাকার নির্বাচনী বিনিয়োগ লাভজনক করায় প্রয়োজন ছিল বিরামহীন পরিশ্রমের। কম বয়সী খামুসিকে ঢাকায় আনতে তাই মন সায় দেয়নি। কারণ সে জানত ঢাকায় তাকে সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ত থাকতে হবে। তাছাড়া চেঙ্গিসের ইঙ্গিতটাও সে ভুলেনি। কিন্তু এ ব্যাপারে ইলশার যুক্তির কাছে হার মেনেছিল অন্য কারণে। মন্ত্রিত্ব চাইলে স্ত্রী-সংসার থাকা নাকি বাধ্যতামূলক।

দুপুরটা চাইলেও ভুলতে পারবেনা ছ্যারছ্যার। আসল ন্যাশনালিস্ট পার্টির ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছিল সেদিন। সৌদি সাহায্য ফান্ডের জনৈক সৌদিকে ৫০ লাখ টাকা কমিট করেও দিতে পারছিল না ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে। বাসায় রাখা নগদের কথা মনে হতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সেদিকেই রওয়ানা দিল। ঝামেলায় এতটাই মগ্ন ছিল খামুসিকে ফোন করতে ভুলে গেল। রাস্তার হরেক ঝামেলা চুকিয়ে গুলশানের বাসায় যখন হাজির হল ততক্ষণে বেলা বেশ পরে গেছে। এমন অসময়ে শেষ কবে বাসায় এসেছিল মনে করতে পারল না। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পরল দৃশ্যটা। খামুসি আর ইলশা এক অন্যকে জড়িয়ে গড়াগড়ি গাচ্ছে বৈঠকখানার মেঝেতে। দুজনেই উলঙ্গ। ভূমিকম্পটা কোথা হতে শুরু করবে কিছু বুঝে উঠতে পারল না সে। নামে হাজী হলেও বয়সে তরুণ ইলশা আসলে হাজী নয়। হাজী নিয়ে হজ্ব ব্যবসা তার আদিম ব্যবসা। ব্যবসার খাতিরেই হাজী টাইটেল ব্যবহার করতে হয়েছে তাকে। কুচকুচে কালো চেহারা, পেটা শরীর আর মুখে ঘন কালো চাপ দাড়ির কারণে দেখতেও অনেকটা আজরাইলের মত দেখায়। বয়সের পার্থক্য থাকলেও তাকে বন্ধু হিসাবেই নিয়েছিল ছ্যারছ্যার। উপহার হিসাবে সামনের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদটাও বরাদ্দ রেখেছিল তার জন্যে। ইলশাও জানত ব্যাপারটা।

পয়েন্ট ফাইভ ক্যালিবারের পিস্তলটা পকেটে না থাকায় সে যাত্রায় বেচে গিয়েছিল ইলশা। তবে তা বেশিদিনের জন্যে নয়।

আইডিয়াটা মাথায় ঢুকে চেঙ্গিসের একটা মন্তব্যে। পরিকল্পনার বাকিটা ছিল তার নিজের। সমঝোতার কথা বলে সংসদ ভবনে নিয়ে আসার দায়িত্ব দিল চেঙ্গিসকে। সবকিছু জানার পর বিপদের খুটিনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল চেঙ্গিস। কিন্তু এ নিয়ে তর্কে গেলনা সে। তার দায়িত্ব ছিল মোহম্মদপুর বাসা হতে ভুলিয়ে ভালিয়ে ইলশাকে গাড়িতে উঠানো। এ কাজে তার কামিয়াভির আসল কাহিনী ছ্যারছ্যারের বোধহয় কোনদিনই জানা হবেনা। কথা মত দশটার আগেই ইলিশাকে হাজির করা হল সংসদ ভবনের আঙ্গিনায়। চেঙ্গিসের ফোন পেয়ে উপর হতে নেমে এলো ছ্যারছ্যার। পকেটে পয়েন্ট ফাইভ ক্যালিবারের লোডেড পিস্তল। নাটকের নাটবল্টু আগেই টাইট দেয়া ছিল, অপেক্ষা ছিল কেবল শেষ পর্বের। দরজা খুলে ইলশাকে দেখে বাঁকা একটা হাসি দিল ছ্যারছ্যার। চোখ মুখ ঠান্ডা হয়ে গেল ইলশার। ছ্যারছ্যারের এহেন চাউনির সাথে তার পরিচয় অনেকদিনের। কি ঘটতে যাচ্ছে তা অনুমান করতে সামান্যতম অসুবিধা হলনা। ভয়ে বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে গেল তার চোখ মুখ। মুখ হতে মৃত্যুর কলেমাটা বেরিয়ে এল অনেকটা যন্ত্রের মত। শেষ করতে পারল না কলেমা তার আগেই গর্জে উঠল ছ্যারছ্যারের পিস্তল। ছাতি বরাবর ছোড়া গুলিটা এপাশ ভেদ করে ওপাশে চলে গেল। রক্তের প্লাবন এসে ধাক্কা দিল ছ্যারছ্যারের চোখে মুখে। পকেট হতে রুমাল বের করে মুছার চেষ্টা করল। কাজ হলনা তাতে। ব্যকসীটে লুকানো গামছার বস্তাটা বের করে দিল চেঙ্গিস। প্রয়োজনীয় পানিও তৈরী ছিল পরিকল্পনা মাফিক।

’মামা, হেয় দেহি মরে নাই। কৈ মাছের মতন খালি চিৎপটাং দিতাছে। কি করুম জলদি কন’।
চেঙ্গিসের কথায় খুব একটা অবাক হলনা ছ্যারছ্যার। শক্ত লোহা পেটানো শরীরে বুলেট ঠিকমত ঢুকবে কিনা এ নিয়ে তার আগেই সন্দেহ ছিল।
’যা, এইবার প্লান বি মত কাজ কর। খানকির পুতেরে পুরানো ঢাকার আলেয়া ক্লিনিকে নিয়া যা। কথা বলা আছে হেগো লগে, শেষ কামটা হেরাই কইরা দিব।’
কথাটা বলে শেষবারের মত ফিরে তাকাল ইলশার দিকে। রক্তের সমুদ্রে ডুবন্ত একটা লাশ দেখে ভয় পেয়ে গেল সে। মনে হল চোখ দুটো এখনো নড়ছে ইলশার, ঠোট দুটোও কাঁপছে। কি যেন একটা বলতে চাইছে সে। ’বান্দীর বাচ্চা, ৩ কুটি খরচা কইরা এম্পি হইছি। তুর মত দশটা ইলশা এক লগে ভাজি খাওনের খেমতা রাখি আমি। সইত্যডা সময় মত বুঝলে ইলশা হইয়া তুই আজ কৈ মাছের মত দাপাদাপি করতিনা।’ চোয়াল শক্ত করে লৌহ কঠিন ভাষায় উচ্চারণ করল শেষ কথা গুলো। ইলশার লাল রক্তাক্ত মুখের উপর নোংরা একদলা থু থু মেরে ঝড়ো বেগে বেরিয়ে গেল গাড়ি হতে।

ঘটনার দিন হতে বাকি বছরটা ছ্যারছ্যারকে কাটাতে হয়েছে অজানা আশংকায়। একদিকে জেলের ভয়, অন্যদিকে ক্ষমতা হারানোর শংকা। সবচেয়ে বেশি জ্বালাতন করেছে পেপারওয়ালারা। খামুসি বেগমকে ছাগলনাইয়া পাঠাতেও কষ্ট হয়েছে তার। স্ত্রীর মুখ বন্ধ রাখাটা ছিল খুবই জরুরি। এ কাজে সাহায্য করার মত কাউকে খুজে পায়নি এ যাত্রায়। অবশ্য সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এমনটা বললে মিথ্যা বলা হবে। দুর্দিনে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল প্রশাসন। একে একে পাশে দাঁড়িয়েছিল থানা-পুলিশ, কোট-কাচারি, ব্যাবসায়ী-রাজনীতিবিদ। ফাগুন মাসের শেষ দিন দেশের প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত ফোন করে নিশ্চয়তা দিয়েছিল। তাতেও নিশ্চিত হতে পারেনি ছ্যারছ্যার। হাতে কাগজ অথবা নেত্রীর ফোন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়ার উপায় ছিলনা তার। দিনগুলো একে একে মাসে রূপান্তরিত হচ্ছিল, মাস গুলো বনে যাচ্ছিল বছর। অন্তহীন অপেক্ষার শেষ কোন বন্দরে তা খুঁজতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিল ছ্যারছ্যার।

হাওয়া বদলের পালাটা শুরু হয় তিন মাস আগে। ইলশা হত্যার তদন্তের ভার তারই আপন ভায়রা ভাইয়ের হাতে ন্যস্ত হওয়ার পর বুঝে গিয়েছিল কি ঘটতে যাচ্ছে। এ ফাঁকে কথা বলে চেঙ্গিসকে রাজী করানো গেছে। নগদ হিসাবে তাকে দেয়া হবে এক কোটি, ঢাকায় একটা ফ্লাট, সাথে পরিবারের দায় দায়িত্ব। পিস্তল নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গেছে ইলশা। আর এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার দায় দায়িত্বের সবটাই বর্তাবে চেঙ্গিসের ঘাড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে নাম আসবে ছ্যারছ্যারের। চেঙ্গিস জেলে যাবে এবং খবর ওয়ালাদের মাথা ঠান্ডা হওয়ার সাথে সাথে রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে অপরাধ মাপ করে দেবেন খোদ প্রেসিডেন্ট। অপরাধ ও শাস্তি পর্বের এমন ঝাঁঝালো কাহিনী অতি উঁচুমহলেও সত্যায়িত হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু কিছু কাগজপত্রের।

একা একা ঘুরতে আজ আর ভাল লাগল না ছ্যারছ্যারের। মনটা কেমন আনচান করে উঠল। মেয়ে মানুষের অভাবটা হঠাৎ করেই মাথায় চাপল। ঝামেলার কারণে এ দিকটায় চোখ ফেরানো হয়নি অনেকদিন। ইলশার নিকেতনের ঢেরাটা আপনা হতেই তার কাছে চলে আসবে, মনে হতেই নেচে উঠল তার চোখ মুখ। ভীষন হালকা মনে হল নিজেকে। দুরে কোথাও পাখীর ডাক শুনতে পেল। কুয়াশার ফাক গলে সূর্যটাও বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। সংসদে যাওয়া হয়নি অনেকদিন। নাওয়া খাওয়া সেরে ওদিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল মনে মনে।

দরজায় পা রাখার আগেই বেজে উঠল ফোনটা। ভায়রা ভাইয়ের নাম্বারটা দেখে উড়ন্ত ঈগলের মত ঝাপিয়ে পরল তার উপর। এদিক ওদিক তাকিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিল।

’দুলাভাই আছেন কিমুন? শৈলডা বালা নি? মনডা বালা নি? - কথার খৈ ফুটল ছ্যারছ্যারের মুখে।
’হ ছোট মিয়া বালা, তয় খবর তো আমার না, খবর আফনের’।
’কি কৈতে চান জলদি জলদি কন, মশকারা বালা লাগে না’
’আরে ছোট মিয়া রিপোর্ট যে দিয়া দিলাম হেই খবর কি আছে আফনের?’
’রিপোর্ট? কন কি? কবে? কার কাছে?
’ধীরে মিয়া, ধীরে। তিনডা মাস কষ্ট করলাম আমি, আর আফনে তা তিন মিনিটে গিলতে চান।’
’দুলাভাই, যা কওনের চালাইয়্যা কন, তর সইতাছে না আর’।
’বুঝি মিয়া বুঝি, আরে আমরাও এই পথা মাড়াইছি। খুন খারাবি আমরাও করছি। তাই খবরের মর্ম বুঝতে কষ্ট হয়না’
’তা কি আছে রিপোর্টে?’
’বিস্তারিত অহন কওন যাইব না, তয় জানাইয়া রাখি শুক্কুর বার বাদ জুমা আফনের ড্রাইভাররে নিতে আইব। ইলশা খুনের অপরাধে তার সামান্য কিছু বিচার হইব। আফনে হইলেন তার স্বাক্ষী।’

আকাশের দিকে তাকালো ছ্যারছ্যার। কুয়াশা ভেদ করে লুটিয়ে পরা সূর্যের রশ্মি গুলো লক্ষ কোটি মাইল বেগে ধেয়ে আসা উল্কা তরঙ্গের মত মনে হল তার কাছে। অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল ঐ দিকটায়। ঈশান কোনে ঝুলে থাকা কুয়াশার শেষ খন্ডটা দেখতে কেমন যেন ইলশার মুখটার মত দেখাল। দাঁত বের করে হো হো করে হেসে উঠল সে। ’আমি রাজনীতিবিদ, ৮৫ লাখ খরচ্চা কইরা নমিনেশন কিনছি, এ খালি এমপি হওয়ার নমিনেশন না, তোর মত বান্দীর পোলা গো খুন করারও নমিনেশন। আবার জন্ম নিলে ৫৫ লাখ না, দুই কুটি লইয়া ঢাকা আহিস’। ছ্যারছ্যারের অট্টহাসিতে ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেল সকালের নীরবতা।

গোলাম আযমের গ্রেফতার উপলক্ষে ঢাকাস্থ ছাগলনাইয়্যা সমিতির র‍্যালিতে যোগ দিতে হবে ছ্যারছ্যারকে। র‍্যালির প্রধান অতিথি সে। ইলশা পর্ব এখানেই সমাহিত করে পা বাড়াল বাইরের দুনিয়ায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29522619 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29522619 2012-01-15 08:21:39
রাজনীতির ১/১১ বনাম ১/১১'র রাজনীতি... রাজনীতির দিগন্ত রেখায় ১/১১’র রেশ চিরদিনের মত মিলিয়ে গেছে এ জাতীয় উপসংহারে আসার সময় এখনো হয়ত আসেনি। মিশন ১/১১ বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু যাদেরকে ঘিরে এই আয়োজন তাঁরা জীবনের শেষ দিন পর্য্যন্ত এ অধ্যায়কে মনে রাখবেন তাতে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১/১১’র উত্থান ছিল হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখীর মত, এমনটা মনে করা হবে দেশটার রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। অনিশ্চয়তার ঘোলা পানিতে মৎস শিকার দেশীয় রাজনীতির পুরানো সাংস্কৃতি, অতীতে অনেকেই অংশ নিয়েছেন এ ধরনের শিকারে এবং তুলে নিয়েছেন বিএনপি, জাতীয় পার্টির মত লাভজনক পণ্য। কোন প্রেক্ষাপটে ১/১১ অধ্যায়ের অভ্যুদয় ঘটেছিল এ নিয়ে আন্তদলীয় বিতর্ক চলতে পারে অনন্তকাল ধরে, কিন্তু সাধারণের মানুষের কাছে এর কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। ঘটনা ১৯৭১ সালে ঘটেনি যা নিয়ে জাতির স্মৃতিতে তেনা পেঁচানো যাবে। ক্ষমতার পালা বদলে কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হয় এ প্রশ্নের উত্তরেই লুকানো আছে ১/১১’র ভ্রূণ। রাজনীতিবিদ্গণ যত তাড়াতাড়ি এ সহজ সত্যটা উপলদ্ধি করতে পারবেন ততই উনাদের জন্যে মঙ্গল, এবং মঙ্গল ১৫ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশেরও।

দলীয় লাভ ক্ষতির মাপকাঠিতে রাজনীতিবিদ্‌রা মূল্যায়ন করছেন ১/১১, স্বভাবতই ক্ষতিগ্রস্ত দল বিএনপির কাছে এ শুধু একটা তারিখ নয় বরং তাদের জন্যে সাম্রাজ্য পতনের শুরু। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আওয়ামী লীগ হয়ত ভুলে যাওয়ার ভান করছে ১/১১’র তিক্ত স্বাদ, যা সময় এলে বানের গতিতে বেরিয়ে আসতে বাধ্য। ভোটের দৌড়ে ফলাফলের ঘোড়া যদি অন্য আস্তাবলে ঠাই পেত নিশ্চয় বদলে যেত ১/১১ মূল্যায়নের মেরু। এমনটাই আমাদের রাজনীতি, ব্যক্তি ও দলীয় লাভ লোকসানের নির্লজ্জ প্রদর্শনী। কথা, কাজ ও লেখায় রাজনীতিবিদ এবং তাদের সেবাদাসের দল আমাদের এটাই বুঝাতে চাইছে ১/১১’র ফলে সবচাইতে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের অর্থ যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অবাধ লাইসেন্স হয়ে থাকে, নিশ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে গণতন্ত্র। মামুন, ফালু, খোকা, আমান, তারেক, মহিউদ্দিন আলমগীর আর হাজী সেলিম গংদের জন্যে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কি তা আমাদের জানা হয়ে গেছে। একজন বাবর আলী ও একজন মোর্শেদ খানের গুপ্তধন রক্ষার্থে যদি মন্ত্রের প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের গণতন্ত্র হচ্ছে সে মন্ত্র, এবং এ গণতন্ত্রের প্রাইস ট্যাগ এক কাপ চা ও একটা আকিজ বিড়ি। আঠারোটা মাস বাংলাদেশের মানুষ চা আর বিড়ি হতে বঞ্চিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছে বনখেকো ওসমান গনি, ব্যাংক খেকো বাকির ভাই, অফিস পিওন ফালু, লাগেজ ব্যবসায়ী বাবর, রাজনীতিবিদ তারেক জিয়া, রাস্তার ফকির মামুন, সাংবাদিক আতিকুল্লাহ আর আমলা আলমগীরদের নগ্ন তৈলাক্ত নিতম্ব। কয়েক বছরের ব্যবধান খুব একটা বড় ব্যবধান নয়, এত তাড়াতাড়ি শাক দিয়ে সমুদ্র ঢাকতে রাজনীতিবিদগণ সমর্থ হবেন এমনটা আশা করার কোন কারণ নেই।

১/১১ কি আদৌ কিছু দিয়েছে আমাদের? এমন একটা প্রশ্নের আগে আমাদের জানতে হবে ঐ সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশাই বা ছিল কি। শর্ট টার্মে এ ছিল দেশের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন। লগি বৈঠার দামামায় দেশের কেন্দ্রবিন্দুতে পানি পথের যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দেশের রাজনীতিবিদ্‌দের নয়, এ কৃতিত্ব ১/১১’র কথিত ষড়যন্ত্রকারীদের। আমাদের নিজদেরই উত্তর দিতে হবে, ঐ মুহুর্তে কোনটা ছিল বেশী জরুরী, পাথর যুগের বর্বর গণতন্ত্র, না একবিংশ শতাব্দীর মনুষ্য জীবন? শর্ট টার্ম সরকারের কাছে লং টার্ম প্রত্যাশা এক অর্থে বিদঘুটে সরকারকে আইনী বৈধতা দেয়া। আমরা কি তৈরী ছিলাম ঐ সরকারকে বৈধতা দিতে? এ প্রশ্নের উত্তর আমাদেরই দিতে হবে। লং টার্ম সফলতার খাতায় কিছুই জমা করতে পারেনি ১/১১’র সরকার, এ জন্যে কি তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তা হলে রাজনৈতিক সরকারগুলোকে কেন আসামী করতে পারছিনা আমরা? জনগণের রায়ে তারা তো ৫ বছরের জন্যে ক্ষমতাসীন হন, কি এমন সাফল্য এই সরকারগুলোর? আর যদি ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টানা হয় এর ফিরিস্তি দিতে আরব্য উপন্যাসের সহস্র রজনীও যথেষ্ট হবেনা। ১/১১ আর যাই হোক আমাদের উপহার দেয়নি হ্যাঁ/না ভোটের ভণ্ডামী, জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়নি চীফ মার্শাল ল এডমিনস্‌ট্রেটর নামের পোয়াতী জেনারেল যাদের পশ্চাৎদেশ হতে জন্ম নেয়নি রাজনীতির নতুন জারজ সন্তান।

রাজনীতিবিদ এবং তাদের সহযোগী লুটেরা দল বিদেশী চক্রান্তের দোহাই দিয়ে ধামাচাপা দিতে ভালবাসেন ১/১১’র উত্থানকে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দিয়ে দেশ বিক্রির নীলনক্সাই নাকি ছিল ১/১১’র মুল উদ্দেশ্য। শুনতে খুব ভাল শোনায় যা দেশপ্রেমের অংগ প্রত্যঙ্গ গুলোতে সুড়সুড়ি দেয়। জানিনা দেশের কোন সম্পদকে কুক্ষিগত করার জন্যে বিদেশিরা এমন ষড়যন্ত্রে জড়াচ্ছে। যতদূর জানি ঢাকা সহ দেশের সব জায়গায় গ্যাসের অভাবে শুধু শিল্প কারখানাই বন্ধ থাকছে না, সাথে বন্ধ থাকছে বাসা বাড়ির রান্নাবান্না। এই গ্যাসের জন্যেই কি এত তেনা পেঁচানো? কোথায় সে গ্যাস? গ্যাস যদি না হয় তা হলে কি তেল? মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হতে এখনো হাতে পায়ে ধরে বাকিতে কমমূল্যে তেল আমদানী চলছে বহু বছর ধরে। তা হলে মাটির তলায় কি এমন গুপ্তধন লুকানো আছে যার জন্যে ১/১১’র মত মহা আয়োজন দরকার ছিল? এর উত্তর রাজনীতিবিদদের জানা থাকলে এখনই তা প্রকাশ করা উচিৎ। এমন একটা তত্ত্ব আমাদের রাজনীতির মাঠে পেনালটি গোলের মত কাজ করে, দেশ বিক্রি! আমার জানা নেই ১৫ কোটি বহুমুখী মানুষ আর হাহাকার করা মাটির তলা নিয়ে বিশ্বের কোন দেশ দখল নিতে আসবে বাংলাদেশকে। আমরা নেংটা হয়েও যদি কাউকে আমাদের শরীর নিবেদন করি এ নষ্ট শরীর ছোঁয়ার মত খদ্দের পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। দেশ বিক্রির মায়াকান্না কেবলই রাজনৈতিক ভাওতাবাজি, লুটেরা দলের কদর্য চেহারা লুকানোর বহুবিধ কলাকৌশলের অংশ মাত্র।

১/১১’র মত বেআইনী সরকারের জন্মদাতা রাজনীতিবিদ নিজেরা, এর ভালোমন্দের দায় দায়িত্ব নিতে হবে তাঁদেরকেই, এতে সাধারণ জনগণকে জড়ানোর কোন সূযোগ নেই। রাজনীতিবিদদের জন্যে এর প্রয়োজন ছিল, আর আমাদের জন্যে প্রয়োজন ছিল ভাল মন্দ চেনার একটা সূযোগ। আমরা নিশ্চয় চিনেছি, রাজনীতিবিদরা চিনেন্‌নি এটাও বোধহয় সত্য নয়। সচিবালয়ের অলিগলিতে এখনো যখন কমিশন হাত বদল হয় নিশ্চয় ১/১১’র প্রেতাত্মা দাঁত বের করে ভয় দেখায়, না চাইলেও সামনে এসে দাঁড়ায় নাজিমুদ্দিন রোডের দিনগুলি। মইন উদ্দিন ফকরুদ্দিনের গুষ্টি উদ্বার করে ক্ষমতা হারানোর ব্যথা হয়ত সাময়িক উপশম সম্ভব হচ্ছে, কিন্তু তাতে ক্ষমতার রঙ্গমঞ্চে নতুন মুয়া-ফুয়াদের আগমনের সম্ভাবনা দূর হচ্ছে এমনটা ভেবে শান্তি পেলে রাজনীতিবিদ্‌রা ভুল করবেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29520285 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29520285 2012-01-11 08:27:50
ডিজিটাল কফিনে দিন বদলের দাফন। তথ্যই কথা বলে... লেখাটা যখন লিখছি গাড়ি বহর নিয়ে চট্টগ্রামে শোডাউন করছেন বিরোধী দলের নেত্রী। রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে গোটা বাংলাদেশকে এধরণের শোডাউনের আওতায় আনা হয়েছে ইতিমধ্যে। বলা হচ্ছে এটা হবে রাজনৈতিক সাংস্কৃতির নতুন সংযোজন রোডমার্চের শেষ পর্ব এবং এরপর আসবে সরকার পতনের ডাক ও এতদসংক্রান্ত নতুন কর্মসূচী (ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে)। যারা বিরোধী রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত তাদের জন্যে নিশ্চয় এটা একটা খবর এবং চাইলে এ নিয়ে ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ রাজনীতির নতুন অধ্যায় লিখতে পারবেন। কিন্তু আমার মত দেশীয় রাজনীতিকে যারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আন্তপারিবারিক লড়াই হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত তাদের জন্যে এসব কোন খবর নয়, বরং ক্ষমতার সিঁড়ি ডিঙ্গবার নয়া কৌশল মাত্র। খালেদা জিয়ার রোডমার্চ ক্ষমতার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা জানতে আমাদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে গাড়ি বহরের মত রাজকীয় রোডমার্চ একটা দরিদ্র দেশে কতটা নৈতিক এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে খুব একটা অন্যায় হবে বলে মনে হয়না। শিল্পোন্নোত যে কোন দেশে এ ধরণের প্রদশর্নী আভ্যন্তরীণ রেভিনিউ সার্ভিসের ঘুম হারাম করার কথা। বৈধ আয়-ব্যয়ের কোন সমীকরণই বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের গ্যারাজে গাড়ি জমা করার কথা নয়। বাস্তবতা হল, আমাদের ডিকশনারিতে বৈধ আয় বলতে কিছু নেই। এখানে সব আয়ই আয় এবং সব আয়ই বৈধ। প্রধান বিচারপতি যেমন অবৈধ রায় দিয়ে ’বৈধ’ অর্থ আয় করেন তেমনি প্রধানমন্ত্রী পিতার নামে মাজার বানিয়ে ’বৈধ’ চাঁদা উঠাতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। ক্ষমতার ভরা যৌবনে বিএনপি ও তার সহযোগীরাও একই পথেই হেঁটেছিল এবং প্রস্তুতি নিয়েছিল দুঃসময় মোকাবেলার। বিএনপির এখন দুঃসময়, এবং এমন একটা সময় মোকাবেলার জন্যে ঝোলা হতে বের করেছে নিজেদের ধন সম্পদ।

শেখ হাসিনা নামের যে অযোগ্য ও ভয়ংকর শাসক বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসেছে তার অবসান এখন জরুরি। কিন্তু এ অবসান যদি আগের বারের মত লগি-বৈঠা, লাশ আর জেল-হাজতের মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা হয় বিএনপি নামক পুরানো লুটেরাদের পায়ের নীচের মাটি চোরাবালির মত সড়ে যেতে বাধ্য। জনগণ এখন অনেকটাই সজাগ, যার প্রমাণ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ আর কুমিল্লার নির্বাচনী রায়। তবে আশার কথা বিরোধী দলীয় নেত্রী দেশবাসীকে বার বার আশ্বস্ত করছেন নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই তারা সরকার বিরোধী আন্দোলন করে যাবে। ২/৩ টা হরতাল ও বিচ্ছিন্ন কিছু সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছাড়া বিএনপি তার কথা রাখছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। সামান্য হলেও এটাকে রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন হিসাবে ধরে নিয়ে আমরা এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা হলেও আশান্বিত হতে পারি। সময়ই প্রমাণ করবে আমার আশা কতটা প্রিম্যাচ্যুরড ছিল।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কৌশলগত কারণে প্রতিপক্ষ দলের রাজনৈতিক কর্মসূচীর বিরোধীতা করবে তা সহজেই অনুমেয়। তবে বিরোধীদলের রোডমার্চ নামক ঝমকানো কর্মসূচীর সমালোচনার জবাব দিতে একই কাজে বর্তমান ক্ষমতাসীন আর অতীতের বিরোধী দলটির নিজস্ব রেকর্ড জনগণের সামনে আনতে হবে। রেকর্ড লুকানোর মত যথেষ্ট মলমূত্র এখন পর্যন্ত ত্যাগ করতে সক্ষম হয়নি তারা। আগামী দুই বছরে এমন একটা সম্ভবনা সৃষ্টি হবে তার কোন আশা দিগন্ত রেখায় দেখা যাচ্ছে না। প্রাসঙ্গিক ভাবেই এসে যাবে ১৯৯৩ সাল হতে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দলটির কর্মকান্ড। আসুন এক নজরে দেখা যাক এর একটা গড় চিত্রঃ

১৯৯৪ সালঃ
২৬ শে এপ্রিল - হরতাল
১০ই সেপ্টেম্বর - অবরোধ
১১, ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর - হরতাল
২৭শে সেপ্টম্বর - অবরোধ
৩০শে নভেম্বর - অবরোধ
৭ ও ৮ই ডিসেম্বর - হরতাল
২৪, ২৯শে ডিসেম্বর - অবরোধ
১৯৯৫ সালঃ
২, ৩ ও ৪ জানুয়ারী - হরতাল
১৯শে জানুয়ারী - অবরোধ
২৪ ও ২৫শে জানুয়ারী - হরতাল
১২, ১৩ই মার্চ - লাগাতার ৪৮ ঘন্টা হরতাল
২৮শে মার্চ ঢাকা অবরোধ
৯ই এপ্রিল - ৫ বিভাগে হরতাল
২ ও ৩রা সেপ্টেম্বর - লাগাতার ৩২ ঘন্টা হরতাল
৬ সেপ্টম্বর - সকাল সন্ধ্যা হরতাল
১৬, ১৭ ও ১৮ই সেপ্টেম্বর - লাগাতার ৭২ ঘন্টা হরতাল
৭ ও ৮ই অক্টোবর - ৫ বিভাগে লাগাতার ৩২ ঘন্টা হরতাল
১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯শে অক্টোবর - লাগাতার ৯৬ ঘন্টা হরতাল
৬ নভেম্বর - ঢাকা অবরোধ
১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ই নভেম্বর - প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
৯, ১০ ও ১১ই ডিসেম্বর - লাগাতার ৭২ ঘন্টা হরতাল
১৭ই ডিসেম্বর - সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
৩০শে ডিসেম্বর - দেশব্যাপী অবরোধ
১৯৯৬ সালঃ
৩ ও ৪ঠা জানুয়ারী - লাগাতার ৪৮ ঘন্টা হরতাল
৮ ও ৯ই জানুয়ারী - লাগাতার ৪৮ ঘন্টা হরতাল
১৭ই জানুয়ারী - সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
২৪শে জানুয়ারী - সিলেটে ১১ ঘন্টা হরতাল
২৭শে জানুয়ারী - খুলনায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
২৮শে জানুয়ারী - খুলনায় অর্ধ দিবস হরতাল
২৯শে জানুয়ারী - ঢাকায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল
৩০শে জানুয়ারী - চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
১লা ফেব্রুয়ারী - বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হরতাল
৩রা ফেব্রুয়ারী - অর্ধদিবস হরতাল
৭ ও ৮ই ফেব্রুয়ারী - ফেনীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল
১০ই ফেব্রুয়ারী - রাজশাহীতে হরতাল
১১ই ফেব্রুয়ারী - সিরাজগঞ্জে হরতাল
১৩ই ফেব্রুয়ারী - দেশব্যাপী অবরোধ
১৪ ও ১৫ই ফেব্রুয়ারী - ৪৮ ঘন্টা লাগাতার হরতাল
২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭শে ফেব্রুয়ারী - লাগাতার অসহযোগ
৯ হতে ৩০শে মার্চ - লাগাতার ২২দিন অসহযোগ
সূত্রঃ মোহম্মদ সোহেল, একজন ছাত্র

একই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাফন করতে বর্তমান সরকার সময় নিয়েছে মাত্র কয়েক মিনিট। কারণ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে নেত্রীর সম্ভাব্য জেল হাজত। বাংলায় একটা কথা আছে, মলমূত্র ত্যাগ করার সময় বেড়াল নাকি মাথা নীচু রাখে যাতে কেউ দেখতে না পায়। এমন একটা কাজ বেড়াল আদৌ করে কিনা জানা নেই, তবে শৌচ কর্মের পর তা ঝটপট লুকানোর চেস্টার সাথে আমরা সবাই পরিচিত। নিজেদের বেড়ালের কাতারে নামিয়ে সমস্যাকে দেখতে চাইলে আওয়ামী লীগ তা করতে পারে, কিন্তু দেশের বাকি জনগণকে বেড়াল ভেবে থাকলে তারা ভুল করবে। ক্ষমতা ফিরে পেতে দলটি কতটা হিংস্র ও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল তা বেড়ালের মত ঝটপট লুকানোর রাস্তা খোলা নেই। বিরোধী দলের সমসাময়িক কর্মসূচীর সমালোচনা করতে চাইলে আওয়ামী লীগকে নতুন কিছু নিয়ে জাতির সামনে হাজির হতে হবে। এক ছাত্রলীগের ডিজিটাল পাপই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার কফিনে দাফন করার জন্যে যথেষ্ট। সরকার পতনের জন্যে এ মুহূর্তে রোডমার্চের মত বিলাসবহুল ও ভোগান্তির কর্মসূচী প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। এ ধরণের কর্মসূচী কেবল সরকারের পক্ষেই কাজ করবে।

মূল লেখাঃ http://www.amibangladeshi.org/ami_bd/blog/01-10-2012/1276.html



























]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29519741 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29519741 2012-01-10 10:33:51
Theory of সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং... ’সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং’, উইকএন্ড সকালটা এমন একটা চমৎকার বানী দিয়ে শুরু হবে ভাবতে পারিনি। নব বর্ষের শুরু হতে একটার পর একটা ভাল খবর পাচ্ছি। মন মেজাজ এমনিতেই ছিল ফুরফুরে। তার উপর এমন একটা চমৎকার বানী, এ যেন অঝোর বর্ষন শেসে সূর্যের উঁকিঝুঁকি। হতে পারে অনেকের জন্যে বানী, কিন্তু আমার বেলায় তা গোটা জীবনের প্রতিচ্ছবি, আয়নায় দেখা নিজের জীবন। যাপিত জীবনের সবটাই বোধহয় কাটিয়ে দিয়েছি এমন একটা স্বপ্নকে সেন্টার অব গ্রাভিটি বানিয়ে, ’ছেড়া কাঁথায় বাস কর এবং স্বপ্ন দেখ লাখ টাকার’। সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি শেষে দিনান্তে ঘরে ফিরে জীর্ণ আর মলিন বিছানাটায় শুয়ে কতই না অসম্ভব স্বপ্ন দেখেছি। অথচ বিছানার কয়েক ক্রোশ দূরেই ইটের উপর ইট গেথে দৈত্যের মত দাড়িয়ে থাকে বিশাল সব অট্টালিকা। সন্ধ্যা নামতে ওখানটায় জমে উঠে আলোর মেলা, মুখরিত হয় স্বল্পবসনা রমণী আর রঙ্গিন পানির ঝলকানিতে। রাতের পর রাত কল্পনা করেছি বিত্ত বৈভবের ঝলকানিতে আমিও আলোকিত করছি এসব এলাকা। কিন্তু সিম্পল লিভিংয়ের সংজ্ঞায় বাস করতে গিয়ে হাই থিংকিং হিসাবেই থেকে গেছে এসব চাওয়া পাওয়া।

গেলবার দেশে গিয়ে পুরানো এক বন্ধুর সাথে দেখা। পল্টন লাইনের আজাদ প্রডাক্টের সামনে বন্ধুকে দেখে চিনতে পারিনি প্রথমে। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, চোখ ঢুকে গেছে কোটরে। ইদানিং কি করা হয় জিজ্ঞেস করতে উত্তর দিল নতুন একটা এয়ারলাইনস খোলার ধান্ধায় আছে। বিস্তারিত জানাতে গিয়ে যা বলল তাতে ইমপ্রেসড না হয়ে পারিনি। তার সহজ কথা, ছেড়া কাঁথায় শুয়ে যদি স্বপ্নই দেখতে হয় তাহলে লাখ টাকা কেন, কোটি টাকার স্বপ্ন দেখতে ক্ষতি কি! ইদানিং বন্ধুর ভুতই হয়ত আমার উপর ভর করেছে। কাছাকাছি একটা শহরে বৃটিশ বিলিয়নার স্যার রিচার্ড ব্রানসন মহাশূন্য যাত্রার কমার্শিয়াল ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছেন। স্বপ্নই যদি সিম্পল লিভিংয়ের একমাত্র উপাদান হয়ে তাহলে টাকা দিয়ে মহাশূন্যে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে অসুবিধা কোথায়? সে জন্যেই বোধহয় স্বপ্ন দেখি মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি এবং শত শত মাইল উপর হতে অবজ্ঞা ভরে দেখছি নিজের বিবর্ণ জীবন। এক কথায় সিম্পল লিভিং বাট হাই থিংকিং।

শনিবার সকালটা আমার সাথে শেয়ার করার জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। ছেড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা এতদিন ছিল একান্তই নিজস্ব কিছু, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেটা প্রকাশ্যে এনে বৈধতা দিলেন । ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা সভায় আমার গোপন কথাটাই যেন প্রধানমন্ত্রী ফাঁস করে দিলেন। তিনি বললেন, ‘ধন-সম্পদ-টাকা-পয়সা-জৌলুস কিছু দিতে পারেনা, আর ওদিকে নজর দিলে জাতিকেও কিছু দেয়া যায়না। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিং মাথায় রেখে চলতে হবে।’ উনি বলছিলেন খাল কেটে কুমির আনার প্রসঙ্গ নিয়ে। রাজনীতির জটিল ভাষার সহজ বাংলা করলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সারমর্ম দাড়াবে, তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা খাল, আর এ সরকারের সাথে জড়িতরা কুমির। তিনি প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদদের সে প্রশ্নই করছিলেন, খাল কেটে কেন কুমির আনা? তত্ববাধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন নয়, প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদদের এমন ’গোয়ার্তুমি’ দাবির জবাব দিতে গিয়ে তিনি বললেন, ’তত্ত্ববধায়ক সরকারের প্রয়োজন কি? খালা কেটে কুমির আনার দরকারটা কি? তত্ত্ববধায়ক এলেই যে তাদের চ্যাংদোলা করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে তা নয়, বরং আবারো জেলের ভাত খেতে হতে পারে’। তত্ত্ববধায়ক আমলের এই জেল জেল খেলাটা যে তিনি ভুলতে পারেননি সহজেই বোঝা যায়। ভোলার কথাও নয়। ক্ষমতার বিপদজনক কাছ হতে সোজা জেলখানা, এমন বাস্তবতা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির রাঘব বোয়ালদের কারও পক্ষেই মেনে নেয়ার কথা নয়। রাজনীতির এসব জটিল সমীকরণ নিয়ে মাথা ঘামানোর মত উন্নত মস্তিষ্ক আমার নেই, তাই এ নিয়ে গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না। সময় হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাই এর উপর এফিটাফ লিখবেন। তবে আমার মত আমজনতার সহজ সরল হিসাব নিকাস হতে যা বেরিয়ে আসে তা হল, সম্ভাব্য জেলের ভাত হতে দুরে থাকার ভয়ই তত্ত্বাবধায়ক নামক উদ্ভট সরকারকে নির্বাসনে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে বর্তমান সরকার। যদি তাই হয় তাহলে সামনের সাধারণ নির্বাচন যারা চিন্তিত তারা চাইলে হাফ ছাড়তে পারেন। কারণ জেল হাজতের ভয় কেবল এক পক্ষের নয়, এ ভয় হতে দেশের কোন পক্ষই মুক্ত নয়। দেশ নিয়ে আমরা যারা চিন্তিত তারা আশা করব এমন একটা সময় আসবে যখন জেলের ভয় বিবাদমান পক্ষ গুলোকে এক হতে বাধ্য করবে। কোন এক সুন্দর সকালে আমরা যদি জানতে পারি আলোচনার টেবিলে হাসিনা খালেদা দেশ নামক পারিবারিক সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন এবং রাজী হয়েছেন পাঁচ বছর পর পর ক্ষমতার পালাবদলে তাহলে নিশ্চিন্ত হতে পারব দেশের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে। হতে পারে এমন ভাবনা সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিংয়ের ফসল।

ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর সিম্পল লিভিং এন্ড হাই থিংকিংয়ের আহ্বান শুনে আমার কেন জানি মৌলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর কথা মনে পরে গেল। সুযোগের ভরা যৌবনে ৭১’এর খুনি এই ধর্ম ব্যবসায়ী দেশের পথে প্রান্তে তফসির করে বেড়াতেন, বলতেন ধর্মের কথা, শোনাতেন ন্যায় অন্যায়ের কথা। ছাত্রলীগের আসরে শেখ হাসিনার সিম্পল লিভিংয়ের কথা কেন জানি সাইদীর তফসীরের কথাই মনে করিয়ে দিল। ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী দলের প্রতি সদস্যের হাতে রক্ত, তাদের হাতে জিম্মি দেশের অর্থনীতি, বিপর্যস্ত দেশের সমাজ ব্যবস্থা। এমন একদল ভয়ংকর সন্ত্রাসীর সামনে দাড়িয়ে সিম্পল লিভিংয়ের কথা বলা আর ৭১’এর খুনিদের নিয়ে ধর্মের কথা বলা একই রকম শোনায়, অন্তত আমার কানে। এ কথা চিরন্তন সত্য সাধু হোক আর সন্ত্রাসী হোক ছাত্রলীগে জড়িত তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া বাংলাদেশে নির্বাচন জেতা খুব একটা সহজ নয়। শেখ হাসিনার নির্বাচনও এর বাইরে নয়। তাই না চাইলেও ছাত্রলীগের তাবৎ কর্মকান্ডের দায়িত্ব নিতে হবে খোদ শেখ হাসিনাকেই। রাজনীতির মাঠে সন্ত্রাসী লেলিয়ে প্রতিপক্ষ ঘায়েল করার কৌশল বাংলাদেশে অত্যন্ত পুরানো ও পরীক্ষিত কৌশল। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল আর ছাত্রশিবির এ কৌশলের ট্রেনিংপ্রাপ্ত ভেটারান। এই এরাই শেখ হাসিনার মত নেত্রীদের ক্ষমতায়নের মসলা যোগায়, চুন সুরকিতে পাঁকা করে হাই লিভিং এন্ড সিম্পল থিংকিংয়ের সিঁড়ি। জাতিকে সিম্পল লিভিংয়ের মাসি পিসির গান শুনিয়ে নিজেরা হাই লিভিংয়ের আরব্য উপন্যাস রচনা করবেন এমনটাই বোধহয় আমাদের রাজনীতি। সে রাজনীতির বাস্তবতাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রীর চমকপ্রদ তত্ত্ব।






]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29518460 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29518460 2012-01-08 10:51:59
১০ টাকা কেজি চাল চাইনা, আপনি 'কুত্তা' সামলান... চালের দর ১০ টাকা। কেজি অথবা সের যে কোন হিসাবেই হোক না কেন, স্তিমিত হয়ে গেছে এ নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা। প্রথমত, বাংলাদেশের কথা বাদ দিলেও এমন একটা দামে চাল বিক্রির অবস্থায় নেই সমসাময়িক বিশ্ব। তেল, গ্যাস, পানি আর গতর খাটুনি এক পাল্লায় দাঁড় করিয়ে কোন ভাবেই ১০ টাকার বাটখারা দিয়ে সমান করা যাবে না হিসাবের দাঁড়িপাল্লা। এমন একটা সমীকরণ শুধু অসম্ভবই নয়, এ অলিক ও অবাস্তব। দ্বিতীয়ত, ১০ টাকায় এক কেজি চাল না হলেও না খেয়ে মরবে না এ দেশের মানুষ। মানুষ এখনো টোটাল হার মানেনি অসত্যের কাছে। মিথ্যা, ধাপ্পাবাজি আর ছলচাতুরীর ফাঁদে বার বার ধরা খেয়ে কিছুটা হলেও তারা বুঝতে শিখেছে সত্য মিথ্যার পার্থক্য। ২৫০ (?) টাকা গো মাংসের বাজারে ১০ টাকা সের চাল, এ শুধু চাল নিয়ে চালবাজি নয়, বরং চাল উৎপাদনে জড়িত খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে মৃত্যু ঘোষনার শামিল। শেখ হাসিনা এমন একটা ঘোষনা দিয়েই ভোট বাণিজ্যে লাভবান হয়েছিলেন। নেত্রীর আগাম ঘোষণায় যারা বিশ্বাস করেছিলেন হয় তারা উনার গৃহপালিত ভৃত্য, নয়তো ভিন গ্রহে হতে উড়ে আসা এলিয়ান। হাজারা চেষ্টা করেও নেত্রী চালের দর ওয়াদাবদ্ধ দরের কাছাকাছি আনতে পারবেন এমনটা মনে করার বিশেষ কোন কারণ নেই। অর্থনীতি চলে তার নিজস্ব নিয়মে। তার সাথে যদি যোগ হয় পলিটিক্যাল ক্রাইম এর নিয়ন্ত্রণ শেখ হাসিনা অথবা খালেদা জিয়ার মত অল্প ও স্বশিক্ষিত গৃহবধূদের পক্ষে সম্ভব হওয়ার কথা নয়। তাই চালের বর্তমান দর ১০ টাকা নেই বলে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে আদালতে দাঁড় করায়নি, অথবা মিথ্যা বলার অভিযোগে আন্দোলনে নামেনি। রাজনীতিতে মিথ্যাচারিতা সর্বস্বীকৃত অপরাধ, এ হতে কেউ মুক্ত নয়। তবে চালের দর নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব না হলেও শেখ হাসিনার পক্ষে যে জিনিসটা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব ছিল তা হল, উনার ’কুত্তা’দের উন্মাদনা।

মালিকানা প্রকারভেদে বাংলাদেশে দুই প্রকার কুত্তার দেখা পাওয়া যায়। এক, রাস্তাঘাটের বেওয়ারিশ, দুই, গৃহপালিত। ছাত্রলীগ নামের লীগকে উইকিপিডিয়ার কোন সংজ্ঞাতেও বেওয়ারিশ বলা যাবে না, কারণ এর মালিক জীবিত আছেন এবং তিনি আছেন বেশ বহাল তবিয়তে। কুত্তাদের নির্দিষ্ট একটা মাস থাকে যে সময়টায় তারা উন্মাদ হয়ে যায় পাশবিক ইচ্ছা চরিতার্থের লালসায়। প্রধানমন্ত্রীর কুত্তার কাফেলাও তেমনি একটা সময় পার করছে এ মুহুর্তে। তাদের লালসা ভাদ্র মাসের লালসাকেও হার মানিয়ে এমন একটা উচ্চতায় ঠাঁই নিয়েছে যেখান হতে চাইলেই তারা ৫টনের সমগ্র বাংলাদেশকে যখন খুশি ধর্ষণ করতে পারে, দলিত মথিত করতে পারে, ফুটবল খেলতে পারে। এবং তারা তা করছে অতীতের সব রেকর্ড ভংগ করে। লীগের মালকান যদিও বলছেন এ দল বেওয়ারিশ দল, কিন্তু ভুক্তভোগি মাত্রই জানে গৃহপালিত এসব কুত্তাদের উন্মাদনার শক্তি কোথায়।

তারেক আর খাম্বা মামুনদের কারণে না হয় বিদ্যুৎ খাতে ওলাউঠা বিবির রাজত্ব চলছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজ দলের ’কুত্তা’দের বৈশাখ মাসে ভাদ্র মাসের রাজত্বের জন্যে দায়ি করবেন কাকে, ককো, ফালু, বাবর অথবা হারিছ চৌধুরীদের? বিদ্যুতের অভাবে ধান উৎপাদন ব্যহত হয়, যার প্রভাবে প্রতিশ্রুত ১০ টাকা কেজি চাল সরবারহেও আসে বাধা। এ মুহূর্তে জাতি ১০ টাকা কেজি চাল না পেয়ে যতটা না কষ্টে আছে তার চেয়ে ঢেড় কষ্টে আছে প্রধানমন্ত্রীর ’কুত্তা’দের যন্ত্রণায়। জনাবা প্রধানমন্ত্রী, আমরা ১০ টাকা কেজির চাল চাইনা, আপনি ’কুত্তা’ সামলান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29517821 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29517821 2012-01-07 09:39:32
ছ্যারছ্যার আলীর নিউ ইয়র্ক যাত্রা...
ভিসা নিয়ে আমেরিকান দূতাবাস হতে বেরুতে বেরুতে বেশ বেলা হয়ে গেল ছ্যারছ্যার আলীর। ভিসা তদ্‌বীরে ঢাকা ফেনী দৌড়াদৌড়ি আর নেতা-নেত্রীর পা ধরাধরি করতে গিয়ে জীবনটাই ওষ্ঠাগত হওয়ার মত অবস্থা। ভিসাটা হাতে আসতেই নিজকে বেশ হাল্কা মনে হল। কয়েকটা ফোন করা দরকার। কিন্তু এ মুহুর্তে ভিসা ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে ভাবতে ইচ্ছে করছিল না তার। বাদ দিল ফোন করার তাগাদা। আইনুন নাহারের কাছে যাওয়ার ইচ্ছাটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল সকাল হতে। কিন্তু ওখানে আজ ওসি সাহেব আসবেন, তাই ইচ্ছাটা ত্যাগ করতে হল আনেকটা বাধ্য হয়েই। গুলশানের নিকুঞ্জে ছাগলনাইয়্যার সাংসদ ইলশা হাজী বেনামে একটা ফ্ল্যাট কিনেছেন, ওখানটায় রাখা হয়েছে আইনুন নাহারকে। শহরের ডিসি, এসপি, ওসি সহ গন্যমান্য যারাই ঢাকায় আসেন ইলশা হাজীর নিকুঞ্জ ফ্লাটে মেহমান হন। আইনুন নাহারের অতিথি হতে কে কোনদিন ঢাকা আসবে এ নিয়ে অলিখিত একটা রুটিন আছে ছাগলনাইয়ার উচু মহলে। ছ্যারছ্যার আলী গেল সপ্তাহে দু’টা দিন কাটিয়ে গেছে আইনুন নাহারের কাছে, এ সপ্তাহটা ওসি সাহেবের জন্য বরাদ্দ। আজ ওখানটায় যাওয়ার কোন সূযোগ নেই, ভাবতেই মনটা তিরিক্ষি হয়ে গেল তার। পাসপোর্টটা খুলে ভিসাটা আরও একবার পরখ করল, এবং গাড়ির ড্রাইভারকে কষে একটা চড় মেরে ফেনী রওয়ানা হওয়ার হুকুম দিল ছ্যারছ্যার। ড্রাইভারও জানে কেন তাকে চড় মারা হয়েছে, তাই এ নিয়ে সে উচ্চবাচ্য করল না।

ছাগলনাইয়ার একেক্‌ জনের কাছে একেক্‌ পরিচিতি ছ্যারছ্যার আলীর। এ নিয়ে শহরে চালু আছে হাজার রকম গল্প। কারও কাছে তিনি নেতা, কারও কাছে দেবতা, কারও ফেন্সিডিল ব্যবসার বস, আবার কারও কাছে মদ, মেয়েমানুষ ভোগ করার বিশ্বস্ত পার্টনার। যদিও সব ছাপিয়ে ছ্যারছ্যার আলীর বড় পরিচয় তিনি ছাগলনাইয়্যা এএনপির (আসল ন্যাশনালিষ্ট পার্টি) সাধারণ সম্পাদক, নিজকে গরীবের বন্ধু আর অনাচারীদের জন্যে দস্যু বনহুর হিসাবে পরিচয় দিতে ভালবাসেন তিনি। গেল ৮টা বছর পার্টির জন্যে দিনরাত পরিশ্রম করে গেছেন বড় কোন পদ ছাড়াই। যদিও র্দুমূখদের কাছে শুনতে গেলে শোনা যাবে ভিন্ন কাহিনী। দল ক্ষমতা হারানোর পর হতেই ৭নং বিবি ঘ্যানর ঘ্যানর শুরু করে দিয়েছে, ’অনেক হয়েছে জনসেবা, এবার আমাদের বিশ্রাম দরকার’। আমেরিকা যাওয়ার ধারণাটা আসলে ওখান হতেই জন্ম। বিবির মুখটা মনে হতে মুচকি হাসল ছ্যারছ্যার, অশ্রাব্য কিছু খিস্তি বেরিয়ে এল মুখ হতে, ’শালী! আমেরিকা মারাও! কংকাল লইয়া আমেরিকা গিয়া আমি কি রোজা থাকুম না-কি !’ সাদা মেয়ে মানুষের কথা মনে হতে জিহ্বায় পানি এসে গেল তার। ছাগলনাইয়া গিয়ে প্রথম কাজ হবে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী প্রাক্তন সাগরেদদের ফোন করে খবরটা পৌছানো, ভাবল ছ্যারছ্যার।

আগষ্টের ২১ তারিখ। গ্রীষ্মের সোনাঝরা সকালে গলফ এয়ারের ফ্লাইট হতে বেরিয়ে এল ছাগলনাইয়্যা এএনপির সাধারণ সম্পাদক ছ্যারছ্যার আলী। নিউ ইয়র্ক! চারদিকে ছিমছাম ভাব আর বহুত কিসিমের মেয়ে মানুষ দেখে মনটা উৎফুল্ল হয়ে গেল তার। ’ইয়েস স্যার’ ’নো স্যার‘ ‘মাই লীডার স্যার‘ ‘নো কম্পোপ্রাইজ উইথ এরশাদ স্যার‘- ইমিগ্রেশনে এ জাতীয় ক’টা ইংরেজী বাক্য ব্যায় করে গর্বিত পায়ে বেড়িয়ে এল জেএফকে’র ৪নং টার্মিনাল হতে।

’কিরে বান্দির পুত জইল্যা, খবর কি? শরীরটা ত বেশ বালা বানাইছস‘, টার্মিনালে প্রাক্তন সাগরেদ জলিলকে দেখে চীৎকার করে উঠল ছ্যারছ্যার। ‘আপনি ইডা কি কইত্যাছেন ছ্যারছ্যার ভাই, আমার নাম জইল্যা না, জেলি রোমেন, আর যা কওনের আস্তে কন, ইমিগ্রেশন শুইন্যা ফেলাইলে বিপদ অইব‘, হায় হায় করে উঠল ছাগলনাইয়ার জলিলুর রহমান, ওরোফে নেংরা জইল্যা। এক সময় ফেনীর নামকরা পকেটমার ছিল জলিল। ৬ বার গণধোলাই আর ১৩ বার পুলিশের ধোলাই খেয়ে জানটা যখন কবুতরের মত আসে যায় তখনই ছ্যারছ্যার আলীর সাথে দেখা, তাও আবার থানায়। জহুরীর জহর চিনতে ভূল হয়না, ছ্যারছ্যারেরও ভূল হয়নি জলিলকে চিনতে। মেয়ে সাপ্লাই বিভাগের প্রধান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে। ছ্যারছ্যারের ঠিকাদারী কোম্পানী ’এয়ার & এয়ার লিমিটেড’এ কাজ পেয়ে জলিলও যোগ্য প্রতিদান দেয় মনিবকে। সমস্যা দেখা দেয় ২টা বছর পর। আমজনতা লীগের কমিশনার ইজ্জত আলীর মেয়েটাকে হাত করতে গিয়ে ফ্যাসাদে জড়িয়ে পরে জলিল। মেয়েটার চরিত্র এমনিতেই ভাল ছিলনা। কিন্তূ ছ্যারছ্যার আলীর নাম শুনতে কেন জানি ঢোল বাজিয়ে চারিদিক রটিয়ে দেয় কুমতলবের কথা। ছ্যারছ্যারের সাজানো বাগানে হঠাৎ করেই দেখা দেয় অমানিশার অন্ধকার। কমিশনারের গুন্ডা বাহিনী তক্তা মাইর মেরে ডান পা’টা অচল করে দেয় জলিলের। মান-ইজ্জত বাচাতে নিজ পকেটের ১৯ লাখ টাকা খরচ করে জলিলকে নিউ ইয়র্কগামী এক যাত্রা দলের সাথে ভিড়িয়ে দেয় ছ্যারছ্যার। ‘ছ্যারছ্যার ভাই, কথাটা আফনেরে জানাইয়্যা রাখা ভাল, হুটহাট কইর‌্যা আমারে জইল্যা নামে ডাইকেন্‌না, আফটার অল আমি এএনপি নিউ ইয়র্ক শাখার লিয়াজো অফিসার’ গম্ভীর গলায় জানিয়ে দিল এক কালের নেংরা জইল্যা। ‘কি কইলি, লেজুড় অফিসার? ইডার লাইগ্যা কি তুরে আমি আমরিকা পাঠাইছিলাম শালা বাইন চুত?‘ ফেটে পরল ছ্যারছ্যার।

‘গাই মইত্তা কই?' আবদুল মতিন ওরফে গাই মইত্তা। তার চাক্‌রী ছিল পরশুরাম গরুর হাটে ছ্যারছ্যারের জন্যে চাঁদা উঠানো। চাঁদা না পেয়ে গাই গরুর ওড় হতে সারাসরি দুধ খেয়ে ’গাই মতিন’ উপাধি পায় নিউ ইয়র্ক এএনপির বর্তমান সাংস্কৃতি সম্পাদক এম এ মে-টিন। চীনা এক পতিতাকে বিয়ে করে এ দেশে বৈধ হয়েছে, তাই নামটাতেও যোগ করতে হয়েছে কিছু চাইনিজ মশলা। ‘ও এখন জাতিসংঘে এশিয়া বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির সাথে সাপ্তাহিক মিটিং করছে, শেষ করেই আপনার কাছে চলে আসবে‘, জবাব দিল জেলি রোমেন। ছ্যারছ্যার আলী আকাশের দিকে তাকায়। চারদিকের বাতাস কেমন ভারী ঠেকল তার কাছে। ’এরা কারা! যাদের দিয়ে দুনিয়ার আকাম কুকাম করিয়েছে আজ তাদের জাতিসংঘে ঘুরাফেরা, চাইনীজ মাল ভক্ষণ‘, হিসাব মেলাত পারলনা ছ্যারছ্যার। ‘খানকির পুলারা, এএনপির মিটিং ডাক, আমি ভাষন দিমু, দরকার লাগলে নিউ ইয়র্ক ছ্যড়াবেড়া কইরা ফেলামু, পয়সা দিয়া একস্ট্রা কিছু মানুষ যোগাড় কর,’ এক দমে কথাগুলো বলে ফেল্‌ল ছ্যারছ্যার। ’লেংগুর বহুত লম্বা হইছে বান্ধীর বাচ্চাগো, এইবার কাটন লাগব। আমি ছ্যারছ্যার ৭ বিবি ফালাইয়্যা এতদূর আইলাম, আর তুরা খবর পাইয়্যাও জাতিসংঘ মারান শুরু কইর‌্যা দিলি?‘ রাগে ক্ষোভে ফেটে পরল ছ্যারছ্যার। ছাগলনাইয়ার অতি পরাক্রমশালী নেতা ছ্যারছ্যার আলীকে জেএফকে’র বাইরে এনে এক বাংগালী ক্যাব ড্রাইভারের হাতে গছিয়ে দিয়ে জনারণ্যে মিশে গেল নিউ ইয়র্ক এএনপির অন্যতম কর্ণধার জেলি রোমেন। সেন্ট্রাল কমিটির এক জাঁদরেল নেতা এসেছেন ঢাকা হতে। নেতার জন্যে চীনা পল্লীতে পতিতা খোজার দায়িত্ব পরেছে তার উপর। আগামী কাল উডসাইডের ’ঢাকা ক্লাব’এ আয়োজন করা রয়েছে নেতার জন্যে বিশাল এক সম্বর্ধনা। দু’দিন পর ব্রুকলেন ডিসষ্ট্রিক্ট কোর্টে হাজিরা দিতে হবে চেস ব্যাংকের দায়ের করা ক্রেডিট কার্ড ফ্রড মামলার শুনানিতে। মনটা এমনিতেই ভাল নেই জেলির। তাই ছ্যারছ্যার আলীর মত পাতি নেতা নিয়ে মাথা ঘামানোর তাগাদা অনুভব করল না ।

'ছ্যারছ্যার ভাই, কিমুন আছেন?’, ক্যাব ড্রাইভারের প্রশ্নে সম্বতি ফিরে পেল ছ্যারছ্যার। ’আমি মলম শেখ, আপনার ডিপটিউবওয়েল প্রজেক্টের উপ-সহকারী হিসাব রক্ষক’। ছ্যারছ্যার আলীর মাথায় বিদ্যুৎ খেলে গেল যেন, মলম শেখ! তার ৭টা ডিপটিউবওয়েল একসাথে বিক্রী করে প্রধান হিসাব রক্ষক্‌কে খুন করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় মলম শেখ, মনে করার চেষ্টা করল ছ্যারছ্যার। ‘হ , আপনি ঠিকই ধরছেন ভাই, আমিই সেই মলম শেখ’, মিনমিন গলায় বলে গেল মলম। ‘গাড়িটা থামলেই আপনার পা ধরে মাফ চেয়ে নেব বড় ভাই, অনেক গুনাহ করছি, মাফ কইর‌্যা দিয়েন’, প্রায় কেঁদে ফেল্‌ল মলম। ‘জেলি ভাই আপনাকে আমার হাতে গছিয়ে দিয়ে পালিয়েছে, আমি জানতাম আপনি আসছেন তাই গাড়ি নিয়ে টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষায় ছিলাম’, কথাগুলো বলে রেয়ার ভিউ মীররে ছ্যারছ্যার আলীর চেহারাটা দেখার চেষ্টা করল মলম। ’যতদিন আছেন আমার কাছেই থাকবেন, পান-চিনির কোন অসুবিধা অইবনা’, অপরাধীর মত শোনালো মলমের গলা। ‘তুর মার খবর কি?’ জানতে চাইল ছ্যারছ্যার। ‘মা বাইচ্যা নাই’। মলমের মার দিকে হাত বাড়িয়েছিল ছ্যারছ্যার, প্রতিশোধ নিতেই ডিপটিউবওয়েল প্রজেক্টের বারোটা বাজিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় মলম। অনেক খোঁজাখুজি আর প্রচুর টাকা পয়সা উড়ানো হয়েছে মলমের সন্ধানে। কিন্তু কোথাও কোন হদিস মেলেনি। ‘শুইন্যা খুশী হইবেন, প্রবাসী ডিপটিউবওয়েল ব্যবাসায়ী-কর্মচারীদের বড় একটা সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে এই নিউ ইয়র্কে। আপনাগো দোয়ায় আমি এই সংগঠনের প্রধান হিসাব রক্ষক’, অনেকটা গর্বের সাথে বলে গেল মলম শেখ।

গাড়ি গ্রান্ড সেন্ট্রালে উঠতেই প্রচন্ড বজ্রপাতে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল, সাথে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কথা না বলে জানালার কাচটা একটুখানি নামিয়ে দিল ছ্যারছ্যার। বৃষ্টির ভারি ফোটায় ভিজে গেল তার চোখ মুখ। প্রচন্ড গতির বাতাস আর কড়কড় শব্দের বিদ্যুৎ চমকানীতে সামান্যতম বিচলিত হলনা সে। ছাগলনাইয়ার কথা মনে করার চেষ্টা করল সে। ’আমি রাজনীতিবিদ, আমাকে এত সহজে কাবু করতে পারবেনা জইল্যা চোরার দল, আমি তাগো বাবা, আমার উপর বাটপারি, আমিও দেখে নেব কত ধানে কত চাইল!‘, মনে মনে ভাবল ছ্যারছ্যার।

‘আসলে আমি না, ইলশা হাজী হাত বাড়িয়েছিল তুর মার দিকে‘, এত সহজে মিথ্যা কথাটা বলতে পারবে ভাবতে পারেনি সে। প্রচন্ড বজ্রপাতে কেঁপে উঠল গাড়িটা। চারদিক আলোকিত হয়ে উঠল বিদ্যুৎ চমকে। শেষ কথাগুলো মলম শেখের কানে পৌঁছালো কিনা ঠিক বুঝতে পারল না সে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29515205 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29515205 2012-01-03 07:05:37
একজন বিচারক ও এক রাতে ১ কোটি আয়ের কেচ্ছা!
এক রাতে কোটিপতি বনতে চাইলে আপনাকে হয় জুয়া খেলতে হবে অথবা বড় ধরণের কোন অপকর্মের সাথে নিজকে জড়াতে হবে। স্টকমার্কেট অথবা ব্যবসায়িক লেনদেন হতেও কোটি টাকা আয় সম্ভব যদি তা হয় দিনের বেলা। কিন্তু প্রসঙ্গ যেহেতু এক রাতের, সংগত কারণে মাধ্যম দুটোকে বাদ দিতে হচ্ছে। কিন্তু এসবের বাইরে গিয়ে সামান্য বেতনের চাকরী করেও যে এক রাতে কোটিপতি বনা যায় তার বিশ্ব রেকর্ড করলেন বাংলাদেশের জনৈক বিচারক। আসুন পরিচিত হই এই ভাগ্যবান বিচারকের সাথে এবং অভিনন্দন জানাই দেশের বিচার ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে।

কদিন আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল নামের এক আর্ন্তজাতিক সংস্থা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে দেশটার দুর্নীতি প্রতিযোগীতায় রানার আপ ঘোষনা করেছিল। যাদের জানা নেই তারা জেনে হয়ত খুশি হবেন চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা গেছে পুলিশের বাহিনীর ঘরে। বিজয়ের রেকর্ড ধরে রাখায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সমকক্ষ প্রতিযোগীর সন্ধান পেতে আমাদের বোধহয় হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে, হোক তা বিশ্ব মাঠে। তাই ২০১১ সালের বিজয় কাউকে অবাক করেনি। যা অবাক করছে তা হল বিচার বিভাগের কঠিন প্রতিদ্বন্ধিতা। পুলিশ মানেই চোর, এ সত্যটা বাংলাদেশের বেলায় পূব দিকে সূর্য্য উঠার মতই সার্বজনীন সত্য। রাস্তার ভাসমান পতিতাদের রোজগারেও ওরা অবৈধ ভাগ বসায়। কারও চরিত্র উদঘাটনে দ্বিতীয় কোন উদাহরণের প্রয়োজন হবে বলে মনে হয়না। এই চরিত্রের সাথে দেশের রাজনীতিবিদদের বিপদজনক মিল আছে বলেই এতদিন আমরা জেনে এসেছি। কিন্তু রাজনীতিবিদদের পিছনে ফেলে দেশের বিচারকরা যে এগিয়ে যাবেন তা ছিল অপ্রত্যাশিত ও অনেকটা নীরব বিপ্লবের মত। বিচারপতি আমিনুল ইসলাম সে সত্যটাই নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করলেন।

কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ জনাব আমিনুল ইসলামকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় আনা হয়েছিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে অবকাশকালীন বিচারকের দায়িত্ব পালনের জন্যে। উনি আসলেন, দেখলেন এবং জয় করে নিলেন। খণ্ডকালীন এ সুযোগ বিচারপতি আমিনুলের জন্যে খুলে দেয় ভাগ্য পরিবর্তনের নয়া দিগন্ত। বিচারকের চেয়ারে বসে বিচারক আমিনুল ৮, ১৯ ও ২৭ শে ডিসেম্বর ফৌজদারী বিবিধ মোকাদ্দমায় (জামিনের আবেদন) শুনানি পরিচালনা করেন। এই তিন দিনের শুনানিতে বিচারক ৮টি ভিন্ন হত্যা মামলার ৮ আসামীকে জামিন দেন। কেবল ২৭ শে ডিসেম্বর ধার্য করা ২২১ টি ফৌজদারী বিবিধ মোকাদ্দমায় ৭১ টি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন তিনি। এ নিয়ে পত্রিকায় কথা উঠে। সূত্র মতে খুনের মামলায় জামিনের পাশাপাশি ২০০ পিস ইয়াবা মামলায় জামিন দেয়া হলেও আটকে দেয়া হয় ৪০ পিস ইয়াবা ও ৪০ বোতল ফেন্সিডিল মামলার জামিন। ঐদিন রাত ২টা পর্যন্ত চেম্বারে ছিলেন বিচারক আমিনুল এবং জামিন অনিয়মের মাধ্যমে আয় করে নেন ১ কোটি টাকা। যারা প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে পারেনি কেবল তাদের জামিনের বেলায় গিলোটিন প্রয়োগ করেন ’মহামান্য’ এই বিচারক।

একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের ষোলকলা পূর্ণ হয় যখন এর বিচার ব্যবস্থা নাম লেখায় অসৎ রাজনীতির কাতারে। আমাদের অসৎ রাজনীতির বর্তমান কর্ণধার গন অনেকটা হাভাতের কায়দায় বিচারক নিয়োগ দিচ্ছেন বিভিন্ন আদালতে। এর আসল উদ্দেশ্য যে ক্ষমতাহীন বাস্তবতায় জেল হাজত হতে নিজদের রক্ষা করা তা বুঝতে এখন আর পন্ডিত হওয়ার প্রয়োজন হয়না। এসব এখন নেংটা সত্য, এবং এ সত্যের সাথে কম্প্রোমাইজ করেই আমরা নাগরিকত্বের বোঝা বহন করে চলছি।

মোবারকবাদ জানাচ্ছি বিচারক আমিনুল ইসলামের এই অবিস্মরনীয় সাফল্যে। নামের শেষে ইসলাম এবং এক রাতে এক কোটি! পারফেক্ট মেইড ইন বাংলাদেশি ক্রাইম।
http://www.amadershomoy.net/content/2012/01/02/news0661.php ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29514631 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29514631 2012-01-02 11:27:39
যেই কারণে গুপ্ত হত্যা বন্ধ হইল..., একটি রম্য রচনা
ক্রিং ক্রিং ক্রিং। বাজতেই লাগল ফোনডা। কি একটা আওয়াজ শুইন্যা ধর ফর কইরা বিছানার উপর উইঠ্যা বসলেন মন্ত্রীজী। মনডা তিতা হইয়া যায় এত সকালে ফোন পাইলে। বিশেষ কইরা চীফমন্ত্রীর কড়া কড়া কথার ফোন। আইজকাও ব্যতিক্রম হইল না। গচর গচর করতে করতে কম্পমান ফোনডার দিকে আগাইয়া গেলেন।

তিনি আর কেহ নহেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বজানাবা তাহেরা খানম। চোখে কম দেহেন তাই কথাও কম বলার চেষ্টা করেন। নদীর পানি মনে কইরা টয়লেটের কমোটে পাও ঢুকাইয়্যা সিঙ্গাপুর পর্যন্ত যাইতে বাধ্য হইছেন। কষ্টডা এত সহজে ভুলেন নাই। তাই খুব সাবধানে পা চালাইলেন।

খালা, রেব-৩’এর রিজিওনাল ম্যানেজার প্রিন্স খালেদ বিন ওয়ালেদ কইতাসি’।
’খালা? আমি তোমার কোন জনমের খালারে শুয়রের ছাওয়াল? মাননীয়া মন্ত্রীমহোদয়া কইবার পারনা? নাকি লাত্থি-উষ্টার ব্যবস্থা করা লাগব প্রিন্সের বাচ্চা প্রিন্স?’
’জ্বে আম্মাজান, ভুল হইয়া গেসে’
’কি হইসে, এত সকালে কারে থুইয়া কারে ধরলা?
’আর কইয়েন না মাননীয়া মন্ত্রীজী, এক হমুন্দির পুত নিজেরে কেউকেটা বইল্যা দাবি করতাসে। হেয় নাকি এই দেশের আসল মালিক। তাফালিং করতাসে এয়ারপোর্টে। গালে কইষ্যা একটা চড় দেওনের পর মুখের দাড়ি খইস্যা পরল। ফেইক দাড়ি। মনে হইতাসে তালিবান অথবা আসামের উলফা। হেরে লইয়্যা কি করমু সিদ্ধান্ত দেন’।
’উলফা হইলে বস খুশি হইব। তা উলফা পরিচয়ে পাঠাইয়্যা দেও যেন পাঠানের। তয় অফিসিয়ালি না, আন-অফিসিয়ালি। গুম আর নিখোঁজ সাহিত্য বেভহার কর।
’যো হুকুম খালা’।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং। ফজর পইড়া এই সময়ডায় তিনি মোরাকবায় বসেন। আল্লা-বিল্লা করেন আর চোখের পানি নাকের পানি এক কইর‌্যা কান্দা কাটি করেন। এই সময় ফোন ধরার উপাই নাই, তাই কম্পমান ফোনডা ইগনোর করার চেষ্টা করলেন। পরমুহূর্তে লাল ফোনডা বাইজ্যা উঠল। এইবার ভয় পাইলেন এবং মোরাকাবায় সমাপ্তি টানিয়া ঐ দিকে আগাইয়া গেলেন।

তিনি আর কেহ নহেন, সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি, দেশটার চীফমন্ত্রী, সর্বজনাবা খাইসিনা বিগম। চোখ কানের পাওয়ার কিছুডা কমলেও মগজের পাওয়ার উনার খুবৌ শার্প। কারে থুইয়া কারে ধরতে হইব এই সাহিত্যে উনি এখন নোবেলের দাবিদার। মোরাকাবার কান্নাকাটিডা আজকে এ লাইনেই নিবেদন করতেছিলেন। ভয় আর বিরক্তিতে লাল ফোনডার দিকে আগাইয়া গেলেন।

’গুড ইভিনিং ম্যাডাম ইন-ল’
এমন একটা সম্বোধন শুইন্যা শীরদাড়া শক্ত হইয়া গেল।
’ইহুদির বাচ্চা ইহুদী কোনদিনও আর জাতে আইবনা। সুযোগ পাইলে লেদার মত তোমারেও খাইমু আমি, কতা দিলাম’ রাগে দুঃখে বিড়বিড় করতে লাগলেন।
’ইয়েস ইয়েস কিরিসটিনা, হোয়াট কেন আই ডু ফর ইউ? এনি ফাইট? ইজ ইট ডিরিনকিং প্রোবলেম এগেইন?’
’নো নো ম্যাডাম ইন-ল, নো প্রোব্লেম, জাষ্ট ওয়ান্ট টু টক টু মাই হাজব্যান্ড। প্লীজ পুট হিম থ্রু’
’আবোল তাবোল কও কি? থুক্কু, আই মিন ওয়াট আর ইউ টকিং এবাউট? হেয় তো আম্রিকায়, নো ওয়ে হি কেন টক ফঅরম বাংলাদেশ’
’নো নো, হি ইজ ইন বাংলাদেশ। ফিউ আওয়ারস এগো কলড মি ফ্রম এয়ারপোর্ট। হি ইজ ইন এ সারপ্রাইজ মিশন। ইন ডিসগাইস, উইথ ফেইক বিয়ার্ড’।
’আর ইউ শিউর? মে-বি ইউ আর জোকিং?’
’নো আই এম নট জোকিং এট অল। নাউ, এনাফ অব কিডিং, পুট হিম থ্রু প্লীজ’।
চীফমন্ত্রি অবাক হইল পুত্রবধূর গলার আওয়াজে। কোথায় কি যেন একটা গোলমাল হইসে মনে কইরা বিনা নোটিশে ফোনডা রাইখ্যা দিল।
’দিনে দশবার একৌ পেচাল আর বাল্লাগেনা’

লালা ফোনডা আবারও কড় কড় শব্দে বাইজ্যা উঠল। এইবার গালাগালি করার মনস্থির কইরা ছো মাইরা ফোনডা হাতে নিল।
’ষ্টপ ভং ছং, টেল মি হাছা কতা। হোয়ার ইজ মাই সান?
’ম্যাডাম, আমি ঘরমন্ত্রী সাহেরা খানম। গুড নিউজ আছে, তাই বিয়ান বেলা ফোন করতাসি’।
’যা কওনের চালাইয়া কও, মনডা বালা নাই’
’আরে যেই খবরডা দিমু তাতে মন বালা না হইয়া উপায় নাই’
’ভং চং বাদ দিয়া আসল খবর কও’
’উলফার এক নেতা ধরা পরসে এয়ারপোর্টে। মুখে ফেইক, মানে নকল দাড়ি। তাফালিং দিতাসিল।’
চোয়াল ষাইট গম্বুজ মসজিদের মত শক্ত হইয়া গেল চীফমন্ত্রীর। লগি-বৈঠার বায়তুল মোকারম যুদ্ধজয়ী নেত্রীর গলার আওয়াজ নেকড়ে বাঘের মত গর্জাইয়া উঠল।
’হেয় কই অহন? জলদি আমার কাছে পাঠাইয়া দেও’
’আরে কন কি? ঝামেলা আপনার দরবারে পাডানোর মতন নাদান আমরা নাকি! হেরে পাডাইয়া দিসি আসল জায়গায়। কালিগঙ্গার টেলকা পানিতে হেয় অহন রেষ্ট করতাসে।’ - খিক খিক কইরা হাইস্যা উঠল ঘরমন্ত্রী।
ভূমিকম্প শুরু হইল দেশে। সাথে সুনামি।

এক হপ্তা পরের কথা;

চীফমন্ত্রীর প্রবাসি পুত্র ’হত্যার’ দায়ে দেশের দেড় কুটি মানুষের নামে মামলা হইসে। পুলিশের ডরে লাখ লাখ মানুষ বার্মা পালানোর রাস্তা ধরসে। অনেকে আবার বঙ্গোপসাগরের দিকে রওয়ানা দিসে। এরা সবাই বিম্পি-জামাই গ্রুপের সমর্থক। পুলিশরে অর্ডার করা হইসে ’দাড়িওয়ালা দেখা মাত্র গেরেফতার কর’। জেলে আটক মুফতি মান্নানকে পুলিশি হাওলায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিজ্ঞ গোয়েন্দারা হত্যাকান্ডে জনাব টেরর জিয়ার সম্পৃক্ততা খুইজা পাইছে।

নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, টোকিও, রিয়াদ, আম্মান, জোহানসবার্গ, মনটেভিডিও, উওরমেরু, দক্ষিনমেরু সহ পৃথিবীর সর্বত্র চীফমন্ত্রীর সমর্থকরা ব্যাপক ভাংচুর শুরু করসে। ঐসব দেশের মানুষ প্রথমে বিস্ময়ে টাসকি খাইসে। ভাবসে নতুন কোন ’মিশন ইমপসিবল’ ছবির সুটিং শুরু হইসে। পরে টম ক্রসকে খুজতে গিয়া তারা দেখল একদল রোগা ও গিরগিরা মানুষ একজন আরেক জনরে ধাওয়া করতাসে, সামনে যা পাইতাসে তাতে আগুন ধরাইতাসে।

পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা ও সাধারণ পরিষদ বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিসে এবং এই লেখাডা যখন পড়তাসেন বিশ্ব নেতারা নিউ ইয়র্কে আসা শুরু করসে হবাই। চোখ কান খোলা রাইখেন সিদ্ধান্তের জন্যে।

গুরু জনের কথাঃ

'যতদিন ভবে
না হবে না হবে
তোমার অবস্থা আমার সম
ঈষৎ হাসিবে
বুঝে না বুঝিবে
যাতনা মম'




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29508923 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29508923 2011-12-24 01:39:58
আপনি কি চাকরি খুঁজছেন (within USA )?
WEIR SPM Employment Office
428 S Cherry Lane
White settlement, TX 76108

http://www.weiroilandgas.com
https://jobs-weiroilandgas.icims.com]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29507681 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29507681 2011-12-22 09:28:18
৭৫'এর হত্যা অবৈধ হলে এ হত্যাও অবৈধ... নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে মানুষ। ভুতুরে কায়দায় হাওয়া হয়ে যাচ্ছে ওরা। নগর, বন্দর, হাট-মাঠ-ঘাট হতে কোন এক অলৌকিক শক্তিবলে উধাও হচ্ছে দু’হাত দু’পা ওয়ালা আদম। ১৯৩৯ হতে ৪৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপে অহরহই ঘটতো এ ঘটনা। ১৯৭৩-৭৫ সালে সদ্য জন্ম নেয়া বাংলাদেশও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল নিখোঁজ হওয়ার ভৌতিক অধ্যায়। হিটলারের গেস্টাপো আর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর রক্ষীবাহিনী নীরবে, নিঃশব্দে, অনেকটা ’ইনভিজিবল ম্যান’ কায়দায় হানা দিত দুয়ারে। এ যেন মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে খোদ আজরাইলের আগমন। এ ধরণের শাহী আগমনের শেষ গন্তব্য কোন বন্দর তা জানতে আমাদের হয়ত কবর হতে উঠিয়ে আনতে হবে ৫০ হতে ৭০ মিলিয়ন ইউরোপীয়, এশিয় আর আফ্রিকান জীবন। বাংলাদেশের বেলায় এর সঠিক পরিসংখ্যান আমরা কোনোদিনই জানতে পারবো না মেরুকরণ নামক রাষ্ট্রীয় কলেরার কারণে। পরিসংখ্যান ব্যুরো কেন, কবরেও আমাদের মেরুকরণের ভুত। এ ভুত যেনতেন ভুত নয়, খোদ আজরাইল নিযুক্ত যান্ত্রিক ভুত, যা দম দেয়া পুতুলের মত খোঁড়াক যোগায় রাষ্ট্রীয় ’তামাশার’। হিটলার ও তার গেস্টাপো বাহিনী এখন ইতিহাস। মানব সভ্যতার এ কলংকিত অধ্যায় সভ্যতা মূল্যায়নের উপকরণ হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সামনেও করে যাবে আরও হাজার বছর। কিন্তু হায়! বিনা বিচারে নাগরিক হত্যা ঠাই নিতে পারেনি আমাদের ইতিহাসে। বরং এ অবৈধ সাংস্কৃতি স্থায়ী আসন করে নিয়েছে শাসন ব্যবস্থার কাঠামোতে। শেখ মুজিব হতে শুরু করে জিয়া, এরশাদ, খালেদা এবং হাসিনা চক্রের কোন চক্রই বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশ শাসনের এই আজরায়েলি ভুত হতে। খালেদা জিয়া সরকার RAB নামের যে গেস্টাপো বাহিনীর জন্ম দিয়েছিল হাসিনা সরকারের ছায়াতলে পল্লবিত হয়ে তা পরিণত হয়েছে বিশাল মহীরুহে। ম্যান্ডেট নিয়ে দেশ শাসনের গণতান্ত্রিক রেওয়াজে অলিখিত আইন হয়ে গেছে বিনা বিচারে হত্যা নামের পশুত্ব। এবং তা বৈধতা পাচ্ছে সরকার ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় হতে। ক্রসফায়ার নামক হুমায়ুন আহম্মদিয় নাটক শুরুতে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল শাসন ব্যবস্থার অক্ষমতা ও নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আকুতি হতে। শত শত হত্যাকান্ডের পর কতটা সফল হয়েছে এ আয়োজন? স্বাভাবিক জন্মমৃত্যু সহ একটা সহজ সরল জীবনের কতটা কাছে যেতে পেরেছি আমরা? দুর্নীতি, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ সহ সমাজের অবক্ষয় গুলো কতটা কমানো গেছে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের এখন ঘরের বাইরে যেতে হয়না, বরং দুয়ারে এসে জানিয়ে দেয় দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নামক রাষ্ট্রীয় অলংকারের শক্তিমত্তা। দুর্নীতিতে উপর্যুপরি চ্যাম্পিয়নশীপ জাতি হিসাবে আমাদের এনে দিয়েছিল বিশ্বখ্যাতি। এ অধ্যায়ের সফলতম সংযোজন হিসাবে কাজ করছে আজকের বিনাবিচারে হত্যাকান্ড। বিশ্ব মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে মানবতাবিবর্জিত বাংলাদেশি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। স্বভাবতই সরকারকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে আর্ন্তজাতিক চাপ। এবং এখানেই হয়ত অন্যের সাথে নিজের পার্থক্য ও বুদ্ধিমত্তা তুলে ধরতে পেরেছেন দেশপ্রেমের ১নং দাবিদার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। হয়ত প্রতিপক্ষের সৃষ্টি হত্যাযন্ত্র ভোতা হয়ে আসছিল ডিজিটাল যুগে। তাই আবিস্কার করতে বাধ্য হন এর ডিজিটাল সংস্করণ। রাতের আধারে ক্রসফায়ার নাটক সাজানোর বাংলাদেশি মিথ্যাচার সহজে গেলানো যাচ্ছিল না আর্ন্তজাতিক মহলে। স্বভাবতই হুমকির মুখে পরছিল দেশটার বৈদশিক সম্পর্ক। সমস্যার এমন সহজ ও কার্যকর সমাধানের জন্যে চাইলে হাসিনা সরকারকে নোবেল দেয়া যেতে পারে। আসলেই তো, প্রয়োজন কি রাতের আধারে ক্রসফায়ার নামক মঞ্চনাটকের! বরং ’শক্তিধর’ শত্রুকে ভুত বানিয়ে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অথবা দেশটার হাওর-বাওর, বিলে ফেলে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! কেউ জানবে না কে হত্যা করেছে, কেন করেছে, এবং এ নিয়ে জবাবদিহিতারও প্রয়োজন হবেনা আর্ন্তজাতিক মহলে। আইন-আদালত সহ দেশিয় বিচার ব্যবস্থার প্রায় সবটাই তুলে দেয়া হয়েছে দলীয় কর্মীদের হাতে। দলীয় ক্যাডার হতে সদ্য প্রমোশন পাওয়া আদালতের বিচারকগণও টগবগ করছেন সরকার প্রধানের প্রতিদান ফিরিয়ে দিতে। আইনী ঝামেলার দেশীয় ফ্রন্ট সরকারের জন্য ঝামেলামুক্ত।

রাষ্ট্র ও সমাজের শক্র হিসাবে জুয়েল, মিজান, রাজিব ও ইসমাইলদের কতটা কুপ্রভাব ছিল যা দুর করতে তাদের লাশ ডোবা নালায় পুত্‌তে হল? স্থানীয় এসব পেটি-দুষ্কৃতিকারীদের জন্ম ও উত্থানের পেছনে কাদের হাত থাকে নাগরিক হিসাবে আমাদের সবার জানা। বিচার দুরে থাক এ নিয়ে কথা বলাও রাষ্ট্রীয় অপরাধ। এবং এ অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে এক পায়ে দাড়িয়ে থাকে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা। একজন আবুল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয় নয়, বরং সমসাময়িক বিশ্বের অর্থনৈতিক মোড়ল খোদ বিশ্বব্যাংকের। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রীর ক্ষমতাবলে এই বাংলাদেশি বিশ্বব্যাংকের মত আর্ন্তজাতিক সংস্থায় ক্যাডার পাঠিয়েছিল অবৈধ লেনাদেনার তাগাদা দিতে। ক্ষমতা না থাকায় চাইলেও তারা পারেনি আবুল হোসেনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে। কিন্তু তারা যা করেছে তা ১৫ কোটি মানুষের পেটে লাথি মারার শামিল। অথচ বিচারের দায়িত্বটা ছিল সরকারের। একই সরকার যারা শাস্তির নামে জুয়েল, ইসমাইলদের বিনাবিচারে জীবন্ত কবর দেয়, পাশাপাশি পুরস্কৃত করে আবুল মন্ত্রীর মত মেগা লুটেরাদের। রাজনীতির অন্দরমহলে কথাটা নিয়ে ফিসফাস চলে, অনেক সময় হাসি-ঠাট্টা পর্যন্ত গড়ায়। বলা হয়, আবুল মন্ত্রী নগদ ৬০ কোটি টাকায় মন্ত্রিত্ব ক্রয় করে নিয়েছেন । তাই বিচার দুরে থাক, মন্ত্রীসভা হতে বিদায়ের রাস্তাও নাকি তার জন্যে বন্ধ। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের বিশাল এক প্রকল্প এই আবুল হোসেনের জন্যে থমকে গেছে। অথচ সরকার প্রধান আসামীর কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের মত আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানকে। সংসদ ভবনের রাজকীয় আসনে বসে দেশের আইন-আদালত আর ন্যায় অন্যায় নিয়ে যারা কথা বলেন তাদের শতকরা ৯৯ জনের ব্যাকগ্রাউন্ড ঘাঁটলে কি বেরিয়ে আসবে তা অনুমান করার জন্যে মনোবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব আউলিয়াদের কাহিনী কি একজন জুয়েল অথবা ইসমাইলের চাইতেও ভয়াবহ নয়?

প্রধানমন্ত্রী হয়ত ভুলে গেছেন অথবা জেনেও না জানার ভান করেন, ১৯৭৫ সালে উনার পিতাকে হত্যা করার প্রেক্ষাপটও কিন্তু তৈরী করা হয়েছিল অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে। এসব অভিযোগ আদালতে উঠানোর সুযোগ না দিয়ে রাতের আধারে তাকে হত্যা করা হয়েছিল কাপুরুষের মত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও কি একই কাজ করছেন না? RAB দিয়ে গুম করিয়ে গোপনে যাদের হত্যা করছেন তারাও কি কারো পিতা, সন্তান অথবা ভাই নন? পার্থক্যটা কোথায়? জাতির পিতার সন্তানদের শোক কি তাহলে বাকি শোকের চাইতে ভিন্ন? জানতে চাইলে জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে মিজান অথবা রাজীব পরিবারের কাউকে। ৭১’এর আত্মস্বীকৃত খুনি আর ধর্ষকদের বিচারের জন্যে আয়োজন করা হয়েছে কোটি টাকার আদালত। অথচ ক্রসফায়ার নাটকে কাউকে বলি করতে চাইলে তা হওয়া উচিৎ ছিল গোলাম আযম, নিজামী, আমিনী আর সাকা চৌধুরীর দল। একজন ইসমাইলের অপরাধ কি তাহলে নিজামীর অপরাধের চাইতে বেশি?

মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম অধিকার তার স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তা। ব্যর্থ রাজনীতি আর অপশাসন-কুশাসনের কুটজালে আটকে মানুষ আজ নাম লেখাতে বাধ্য হচ্ছে অন্যায় আর অবৈধ পথে বেচে থাকার মিছিলে। এ মিছিলের হোতা আর নেত্রীত্বে যারা আছে তাদের গায়ে হাত না দিয়ে যদু, মধু, রাম, শ্যামদের মতো বাই-স্ট্যান্ডার্ডদের গায়ে হাত দিয়ে আর যাই হোক সুশাসন কায়েম যে সম্ভব নয় তা অনুধাবন করার সময় এসেছে। ১৯৭৫ সালে যেমন সম্ভব হয়নি ২০১১ সালেও তা সম্ভব হবেনা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29501198 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29501198 2011-12-12 10:47:49
রাজনীতিবিদদের মানষিক চিকিৎসা বাধ্যতামূলক। আসুন জোর দাবি জানাই... বিদ্যুৎ ভর্তুকির সমালোচকদের দুই দিন করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দি সিনেমার ভিলেন কায়দায় দেয়া এ বক্তব্যের তৃতীয় কোন অর্থ আছে কিনা তা প্রধানমন্ত্রীই বলতে পারবেন, তবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ম্যাঙ্গো পিপলদের ঘোষনা দিয়ে বিদ্যুৎ বঞ্চিত করার কোন কারণ আছে বলে মনে হয়না। তারা এমনিতেই বঞ্চিত। কেবল বিদ্যুৎ নয়, গ্যাস, পানি, আইনের শাসন, স্বাভাবিক জন্ম-মৃত্যুর নিশ্চয়তা সহ সমাজ ও রাষ্ট্রের দেয় সব ধরনের মৌলিক অধিকার হতে তারা বঞ্চিত। আইন করে বঞ্চিতদের মুখ বন্ধ করা যায়না, সভ্যতা বিবর্তনের গোটা ইতিহাসটাই হেটে গেছে এ পথে। ১৯৭৪ সালেও এ চেষ্টা হয়েছিল। কথা বলার জন্মগত অধিকার কেড়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পিতাও চেষ্টা করেছিলেন প্রতিবাদীদের শায়েস্তা করতে। কাজ হয়নি। হুমকি, ধামকি, পেশি শক্তি আর পা চাটা আইন আদালত দিয়ে হীরক রাজত্ব কায়েম করা যায়, উজির নাজির কোতোয়ালদের চাটুকারীতায় সাতার কাটা যায়, কিন্তু দিন শেষে এই রাজত্ব তাসের ঘরের মত ধ্বসে পরে, আর রাজার গলায় দড়ি ঝুলিয়ে প্রজারাই খানখান করে দেয় তার তখততাউস।

রাজনীতি নামের বাংলাদেশীয় অনাচার, পাপাচার আর অপশাসনের বয়স দেখতে দেখতে ৪০ বছর হয়ে গেল। বিভক্তির বিষাক্ত বীজ এ ফাঁকে জাতিকে ঠেলে দিয়েছে গৃহযুদ্ধের দোরগোড়ায়। রাজনীতি রূপ নিয়েছে ঘোলা পানিতে রুই-কাতল শিকারের উর্বর জলাশয়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পাইক পেয়াদা পরিবেষ্টিত হয়ে সে জলাশয়েই কেলি করছেন আর বিদ্যুৎ বন্ধের মত রাজকীয় অধ্যাদেশ জারি করছেন। প্রতিপক্ষের বুদ্ধিজীবী যারা সরকারের কাজে একমত নয়, তাদের জন্যেই নাকি এ শাস্তির আয়োজন। সরকারের পারিবারিক সম্পত্তি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এমনটাই নাকি নতুন বাংলাদেশের রীতিনীতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার হাত-পা। একদল পা চাটা বুদ্ধিজীবী ছাড়াও সরকারের সমালোচক আছে, এবং এ সংখ্যা কোটিতেও সীমাবদ্ধ নেই। তাদের কেউ কেউ পয়সা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং দলীয় চেলাচামুণ্ডাদের পকেট ভারী করার রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের সমালোচনা করছে। প্রশ্ন উঠবে, তাদের জন্যে কোন ধরণের শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী?

বিদ্যুৎ বিছিন্ন করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তা কেবল মানসিক ভারসাম্যহীনদের মুখেই শোভা পায়। রাজনীতিবিদ নামের এসব উন্মাদদের মানসিক চিকিৎসা অনেকটাই জরুরী হয়ে পরেছে। দু বছর পর আমাদের নতুন করে পছন্দ করতে বলা হবে এসব পাগলদের একজনকে। রাজনীতিতে সক্রিয় বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের মানসিক চিকিৎসা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে আসুন গলা মেলাই। এটা খুবই জরুরি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29487306 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29487306 2011-11-21 06:53:59
লোকমান হত্যাকান্ডের ময়নাতদন্ত... আগাথা ক্রিস্টির রহস্যোপন্যাস ’মার্ডার অন দ্যা ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’ যাদের পড়া আছে তাদের জন্যে সহজ হবে লেখার প্রতিপাদ্য লুফে নিতে। ভুবন খ্যাত এই বৃটিশ লেখিকার প্রায় সব গুলো উপন্যাস নিয়ে ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে। ’মার্ডার অন দ্যা ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’ও বাদ যায়নি। লেখিকার সাহিত্য কর্মের সাথে যাদের পরিচয় নেই তাদের অনুরোধ করব ছবিটা দেখে নিতে। নরসিংদীর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকান্ডের সাথে ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ডের সূক্ষ্ম একটা সমান্তরাল খুজে বের করার জন্যে আমার এ প্রয়াস। স্বাধীনতাত্তোর ৪০ বছর নরসিংদী সহ বাংলাদেশের শহর গুলোতে যা ঘটছে তার রহস্য উন্মোচন করায় মিস কৃষ্টির তৈরী হারকোয়াল পোয়ারো অথবা মিস মারফেলের মত অন্তর্ভেদী গোয়েন্দা হওয়ার দরকার হয়না, কারণ খুনাখুনি এখানে ভাগ্য তৈরীর প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ার, ডাল ভাতের মত প্রয়োজনীয় আহার। লোকমান হত্যা সে অধ্যায়েরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সরাসরি সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আসুন দেখে নেই সে রাতে কি ঘটেছিল ইস্তাম্বুল হতে ছেড়ে আসা লন্ডনগামী ট্রেনে।

বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল হারকিউল পোয়ারোর। বেলগ্রেডের কাছাকাছি কোথাও থেমে গেল ট্রেনটা। হাতঘড়িটার দিকে তাকাতে চমকে উঠল, ১টা বাজতে তেইশ মিনিট। এত রাতে ঘুম ভাঙ্গার কথা ছিলনা তার। বাইরে প্রচন্ড তুষার ঝড়। হুইসেলের মত শোনাচ্ছে ঝড়ের শোঁ শোঁ আওয়াজ। দরজায় কেউ একজন হাত রাখছে মনে হতে উঠে বসল সে। দরজা খুলে করিডোরের দিকে তাকাল। আলো আধারের রহস্যময় করিডোরে কিমোনো পরিহিত কারও ছায়া দেখে বিস্ময়ে জমে গেল তার শরীর। একদিক ওদিক তাকিয়ে কিছু একটা খোজার চেষ্টা করল। তেমন কিছু চোখে না পরায় এক গ্লাশ পানি হাতে ফিরে গেল নিজের কামরায়।

সকালে ঘুম ভাঙ্গল মিঃ রসেটের মৃত্যু সংবাদে। খুন করা হয়েছে তাকে। বেচারার শরীরে ১২টা আঘাতের চিহ্ন। ছুরির আঘাত গুলো বেশ রহস্যময় মনে হল পোয়ারোর কাছে। কোনটা বেশ গভীর, কোনটা আবার একেবারেই কাঁচা হাতের। বুঝতে অসুবিধা হলনা খুনি একজন নয়, একাধিক। লাশের পাশে ছিন্নভিন্ন হয়ে পরে থাকা চিঠিটা পুনর্গঠনের মাধ্যমে পোয়ারো উদ্ধার করতে সক্ষম হল রসেটের আসল পরিচয়। যুক্তরাষ্ট্রের নটোরিয়াস ফিউজিটিভ রসেটের আসল নাম কাসেট্টি। কর্নেল আর্মষ্ট্রং’এর কন্যা ডেইজী আর্মষ্ট্রংকে কিডন্যাপ করেই ক্ষান্ত হয়নি এই গ্যাংস্টার, মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায়ের পরও তিন বছর বয়সী শিশুটিকে খুন করে পালিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র হতে। যাত্রীদের তালিকা ও তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই পূর্বক অদ্ভুত একটা মিল আবিস্কার করে পোয়ারো, ১১ জনের সবাই কোন না কোন ভাবে আর্মস্ট্রং পরিবারের সাথে জড়িত। কেউ আত্মীয়, কেউ পরিবারিক বন্ধু, কেউবা আবার শুভাকাঙ্ক্ষী। একমাত্র সন্তান হারানোর শোকে বেশিদিন বাঁচেননি মিঃ ও মিসেস আর্মস্ট্রং’। পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সহজভাবে নিতে পারেনি অত্যন্ত ভদ্র একটা পরিবারের এমন করুণ পরিণতি। বছরের পর বছর ধরে ওরা পরিকল্পনা করেছে প্রতিশোধের ও অপেক্ষায় থেকেছে মোক্ষম সময়ের। শেষ পর্যন্ত ইস্তাম্বুল হতে ছেড়ে আসা ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস ট্রেনটা এনে দেয় সে সুযোগ। চাপ দিতেই ১১ জন যাত্রীর সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পরে পোয়ারোর সামনে এবং অকপটে স্বীকার করে নিজদের অপরাধ। ১১ জনের সবাই একটা করে আঘাত করেছে কাসেট্টির গায়ে এবং ১২তম আঘাতটা ছিল তদন্তে বিভ্রাট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।

নরসিংদীর জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকান্ডের জট খুলতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। মৃত্যুর আগে মেয়র নিজেই নাকি দিয়ে গেছেন খুনিদের পরিচয়। মুখে মুখোশ আটা থাকলেও চিনতে অসুবিধা হয়নি মেয়রের, কারণ এদের সবাই কোন না কোন ভাবে জড়িত ছিল মেয়রের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে। কে এই লোকমান হোসেন, এমন একটা প্রশ্নের উত্তর খুজতে গেলে হয়ত লোকমান হোসেনের জীবনকে দুইভাগে ভাগ করতে হবে। এক, ছাত্রলীগের লোকমান; দুই, মেয়র লোকমান হোসেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে ছাত্রলীগের এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে স্থানীয় লোকজন শুধু লোকমান নামেই চিনত, লোকমান হোসেন হিসাবে নয়। স্থানীয় ভাগদি এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নিলেও অল্প বয়সে পা বাড়ায় অন্ধকার দুনিয়ায়। চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজি, গুম, হত্যা, সম্পত্তি দখল সহ এমন কোন কাজ নেই যার সাথে নিজকে জড়িত করেনি পরিবর্তী কালের জনপ্রিয় এই মেয়র। লোকমান নামে হাঁটু কাঁপেনি এমন দাবী করলে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু সবকিছু বদলে দেয় মেয়র নির্বাচন।

একদিকে সন্ত্রাসের স্বঘোষিত গডফাদার প্রাক্তন মেয়র আবদুল মতিন সরকার, অন্যদিকে চরিত্রহীন সাংসদ শামসুদ্দিন এসহাকের ছত্রছায়ায় নরসিংদী পরিণত হয়েছিল সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে। পৌরসভার কোটি কোটি টাকার বাজেট, শহরের মাদক সাম্রাজ্য, ভারতীয় পন্যের চোরাচালান রুট সহ আপরাধ জগতের সবটাই নিয়ন্ত্রন করতেন মেয়র ও আওয়ামী নেতা জনাব আবদুল মতিন সরকার ও তার ভয়ংকর ক্যাডার বাহিনী। অস্ত্রের মুখে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একাধিক বার মেয়র নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি নামের এই জানোয়ার জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিল নরসিংদীর বুকে। কিন্তু অবস্থা বদলে যায় যেদিন লোকমান তার প্রার্থিতা ঘোষনা দেয়। আবদুল মতিনের সন্ত্রাস মোকাবেলায় লোকমান হোসেনের সন্ত্রাস কতটা কাজ দেবে বিষয়টা নিয়ে উদগ্রীব ছিল গোটা শহর। দুজনেই ছিল আওয়ামী ঘরনার। তবে পার্থক্য ছিল এক জায়গায়, একজন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বেপারী পাড়ার, অন্যজন বেপারী পাড়ার বাইরে। লোকমান হোসেনের বিজয় টলিয়ে দেয় আবদুল মতিন তথা বেপারী পাড়ার সাম্রাজ্য। গোটা বিশেক খুনের আসামী এই আওয়ামী লীগারের ইটের ভাট সহ ঠিকাদারী ব্যবসায় নেমে আসে গহীন অন্ধকার। রাতারাতি ধ্বস নামে তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে। ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার গোপন জলসাঘরের বাতি গুলোও নিভে যায় এক ফুৎকারে। ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় হাজী সাহেবের মদ, জুয়া আর মেয়ে মানুষের জমজমাট আসর।

মোবারক হোসেন মোবা - বাংলা ভাষার কোন বিশেষণই যথেষ্ট নয় এই সন্ত্রাসীর চরিত্র হননে। ছাত্রলীগ নামের যে বিষাক্ত পুঁজ জাতির পিতা ও তার পারিবার আমাদের উপহার দিয়েছেন তার নিকৃষ্টতম উৎপাদ এই মোবা। লোকমানের ছোট কালের বন্ধু, তাবৎ অপরাধের ঘনিষ্ট সহযোগী হয়েও মেয়র লোকমানের সাথে দন্ধে জড়িয়ে যায় টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে। আশা ছিল মেয়র হয়েও লোকমান হোসেন থেকে যাবে তার আজীবনের বন্ধু ও ফ্রি পাস সরবরাহ করবে টেন্ডার সাম্রাজ্যের।

রাজিউদ্দিন রাজু - অনেকে ঠাট্টা করে বলেন মদ আর মেয়ে মানুষই নাকি কেন্দ্রীয় নেতার চালিকা শক্তি। এ দুটো আছে বলেই নাকি তিনি বেচে থাকেন। স্কুলের শিক্ষিকা, আমলাতন্ত্রের প্রতিনিধি, গ্রাম্য বধু হতে শুরু করে কাজের বুয়া পর্যন্ত হাত বাড়াতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন না নিজ অবস্থানের। নরসিংদী সদর আসনের সাংসদ না হয়েও লোকমানের উত্থান ও তার সর্বগ্রাসী প্রভাবের কারণে মন্ত্রিত্ব নিয়ে চিন্তিত থাকতেন সর্বদা। ভাল করেই বুঝতে পেরেছিলেন সামনের নির্বাচনে লোকমান মনোনয়ন চাইলে পাশ করে যাবে এবং দাবি করবে মন্ত্রিত্বের। বিনা স্বার্থে নরসিংদীর মত জেলা হতে দুজন মন্ত্রী নিয়োগ দেবেন এমন হাভাতে যে শেখ হাসিনা নন তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি এই মন্ত্রীর। তাই চারদিক হিসাব কষেই আপন ভাই সালাউদ্দিন বাচ্চুকে লেলিয়ে দিয়েছিলেন লোকমানের বিরুদ্ধে।

নজরুল ইসলাম হীরুঃ স্থানীয় সাংসদ হলেও শহরের অনেকের কাছেই একটি অপরিচিত নাম, বিশেষ করে রাজনীতির মাঠে। লোকমানের জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের কাছে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বাস করতেন এই জনপ্রতিনিধি। এও বুঝতে পেরেছিলেন সামনের নির্বাচনে দলীয় টিকেট চাইতে যাচ্ছে মেয়র লোকমান। প্রার্থী নির্বাচনের কোন মানদণ্ডেই মেয়র লোকমানকে পেছনে ফেলতে অক্ষম ছিলেন এই জগন্নাথ। হয়ত এ জন্যেই মনে মনে বিদায় চাইছিলেন মেয়র লোকমানের।

আবদুল মতিন ভূইয়াঃ শহর ও জেলা আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত নেতা। বেপারী পাড়ার প্রতিনিধি। রাজনীতির বাইরে এই নেতার পেশা কি তা বোধহয় কারোরই জানা নেই। তবে শহরবাসী দশকের পর দশক ধরে নেতাকে জেনে আসছে বটতলা বাস্ট্যান্ডের মূল চাঁদাবাজ ও সংখ্যালঘু হিন্দুদের রক্ষক-কাম-ভক্ষক হিসাবে। এটাই ছিল তার ও বেপারী পাড়া আওয়ামী লীগের আয়-রোজগার একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু সব বদলে দেয় লোকমান হোসেনের চেয়ারম্যানি। অনেকটা গায়ের জোরে ও মেয়রের একক ইচ্ছায় বাসষ্ট্যান্ড চলে যায় শহরের বাইরে। আকাশ ভেঙ্গে পরে আবদুল মতিন ভূইয়া এন্ড গংদের মাথায়। পাকা ধানে মই দেয়ার প্রতিশোধ কিভাবে নিতে হয় তা ভাল করেই জানা ছিল বেপারী পাড়া আওয়ামী লীগের।

স্থানীয় প্রশাসনঃ নামে আদর্শ হলেও কাজ-কর্মে নরসিংদী থানা বাংলাদেশের আর দশটা থানার মতই কলুষিত। পার্থক্য, এ থানা এমন একটা শহরে অবস্থিত যার বাতাসে উড়ে বেড়ায় কালো টাকার বায়বীয় বেলুন। এ বেলুনে চড়ে থানার অফিসার-ইন-কমান্ড সহ বাকি সবাই খুব দ্রুত পৌছে যেত স্বপ্নের সোনালী দেশে। শহরের পাশ ঘেঁসে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদী বছরের পর বছর ধরে চোরাকারবারীর নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহূত হয়ে আসছিল। এ পথে চোরাচালানির মূল বেনিফিসিয়ারি নরসিংদী থানার এসপি/ওসি হতে শুরু করে সাধারণ সেপাই পর্যন্ত। কিন্তু নিরাপদ আয়ের এই স্বপ্নীল রাস্তা সহসাই বন্ধুর হয়ে যায় লোকমান হোসেনের কারণে। মেয়র কঠোর হস্তে দমন করেন চোরাচালানের আর্ন্তজাতিক রুট। পুলিশ সহ প্রশাসনের অনেকের পেটে লাথি পরে মেয়রের সিদ্ধান্তে। তারা সবাই অপেক্ষায় ছিল লোকমান বিহীন এমন একটা সকালের যে সকালে নতুন করে উদয় হবে অবৈধ আয়ের সোনালী সূর্য্য।

বিচার ব্যবস্থাঃ লোকমান হোসেনকে যেদিন হত্যা করা হয় বাংলাদেশি বিচার ব্যবস্থার অধীশ্বর জনাবা শেখ হাসিনা ছিলেন প্রবাসে। হত্যাকান্ডের অপরাধ ও শাস্তি পর্ব কোন দিকে মোড় নিলে অধীশ্বরের মন জয় করা যাবে তার প্রতিক্ষায় ছিল গোটা বিচার ব্যবস্থা। শেষ পর্যন্ত উনি এলেন এবং ডেকে পাঠালেন খুনিদের প্রতিনিধি মন্ত্রীসভার সদস্য রাজিউদ্দিন রাজু ও প্রশাসনের হোমরা চোমরাদের। এবং যৌথসভায় সিদ্ধান্ত দিলেন কোন পথে হাটাতে হবে লোকমান হোসেন হত্যাকান্ডের শাস্তি পর্বকে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর বদলে যায় স্থানীয় সাংসদ নজরুল ইসলামের সুর, বদলে যায় প্রশাসনের সুর এবং রাতারাতি বদলি করা হয় থানার ওসি ও এসপিকে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা দেখা করেন লোকমান পরিবারের সাথে, আফার করেন ১ কোটি টাকার ক্ষতি পূরণ, নিহতের স্ত্রীকে টোপ দেন মেয়র পদের এবং বিনিময়ে নিশ্চয়তা চান মন্ত্রী পরিবারের কাউকে আসামী না বানানোর। পুলিশ আর র‌্যাব যখন হন্যে হয়ে খুজে বেড়াচ্ছে আসামীদের, দলীয় ছকের নীল নক্সায় আসামিরা হাজির হয় উচ্চ আদালতে এবং প্রার্থনা করে আগাম জামিনের। সরকারের প্রতিনিধি মহামান্য বিচারকরা বললেন নিজদের বিবেকের কথা, জানালেন আইন নয়, বিবেকই নাকি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে জামিনের মাঝে। জামিন না পেয়ে আসামিরা ফিরে যায় নিজেদের আস্তানায়, এবং পুলিশ জানায় কৌশলগত কারণে এদের গ্রেফতার করা যায়নি। তবে এ কৌশলটা যে ছিল প্রধানমন্ত্রীর মনোরঞ্জনের তা লোকমান পরিবারের ভাল করেই জানা ছিল।

উপসংহারঃ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্বে মাথা তুলতে গেলে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হয় অতীতে সিসিলিয়ান কোচানস্ট্রারা তার প্রমান রেখে গেছে । বাংলাদেশ নামক একটা রাষ্ট্র এখন গ্যাংস্টারদের স্বর্গভূমি, নব্য কোচানষ্ট্রাদের অভয়রাণ্য। লোকমান হোসেন ছিল তেমনি এক যুবক যে তার কালো অতীত হতে শিক্ষা নিয়ে চেষ্টা করেছিল প্রাতিষ্ঠানিক দুনীতির বিরুদ্বে রুখে দাড়াতে। ফলাফল যা হওয়ার তাই হল, কোচানষ্ট্রা কায়দায় অ্যাসাসিনেশন। লোকমান নিজেও জানত তার সম্ভাব্য পরিণতির কথা। এলাকার জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের পা হতে মাথা, দলীয় রাজনীতির অধীশ্বর হতে শুরু করে রুট লেভেল কর্মীদের অবৈধ আয়ে হাত দিলে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে লোকমান পরিণতি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। সরকারী খাতায় লোকমান হত্যাকারীর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। কিন্তু বেসরকারী খাতায় এ সংখ্যা অগুনিত। শহর ও জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে দিতে লোকমান হত্যার কোন বিকল্প ছিলনা। এ হত্যাকান্ডে কজন প্রফেশনাল কিলার ছাড়া আরও অনেকের হাত ছিল। আজকে যারা লোকমানের হয়ে চোখের পানি ফেলছে তাদের অনেকে জড়িত ছিল হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায়। সবার ছিল নিজ নিজ সমীকরণ। আগাথা কৃষ্টির উপন্যাস ’মার্ডার অন দ্যা ওরিয়েনট এক্সপ্রেস’এ ঘটে যাওয়া কাসেট্টি হত্যাকান্ডের মতই হত্যা করা হয়েছিল মেয়র লোকমানকে। এম্পি, চেয়াম্যান, পারিবারিক বন্ধু, থানা-পুলিশ, ডিসি-এসপি, রাজনীতিবিদ, আমলা সহ শহরের অনেক হোমরা চোমরাদের নেপথ্য হাত ছিল এ হত্যাকান্ডে।

দেশ নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেন, পরিবর্তনের দাবি নিয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি যেতে চান তাদের জন্যে লোকমান হত্যাকান্ড উদাহরণ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29484307 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29484307 2011-11-16 12:20:53
এ ক্রিকেট কি না খেললেই নয়? লেখাটা যখন লিখছি ক্যারিবিয়ানদের রান ৪ উইকেটে ৩২৮। দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা চলছে। সন্দেহ নেই প্র্রথম ইনিংসের লীড যোগ করে বড় ধরণের লীড নিতে যাচ্ছে সফরকারী দল। প্রায় দুই দিন বাকি থাকতে খেলার ফলাফল কোন দিকে যাচ্ছে তা ৭ বছরের একটা শিশুও বলে দিতে পারবে। এমনটাই বাংলাদেশের ক্রিকেট। এ নিয়ে দেশে বিদেশে কথা হচ্ছে। ক্রিকেটের এলিট পরিবারের বাংলাদেশের স্থান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। প্রশ্ন উঠছে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট বাংলাদেশের যোগ্যতা নিয়ে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। নিজেদের ক্রিকেটকে আমরা অন্ধভাবে ভালবাসি এবং এর সাফল্য ব্যর্থতাকে নিজেদের জটিল আর্থ-সামজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দেখি। আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সরকারও খরচ করতে কার্পণ্য করছে না। বিদেশি কোচ, ফিজিও সহ সম্ভব সবাইকে আনা হচ্ছে বিদেশ হতে। তাদের পেছনে খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রিকেটাররাও আর্থিক নিশ্চয়তা সহ সরকার হতে পাচ্ছে হরেক রকম সুবিধা। সবকিছুই হচ্ছে ক্রিকেট বাংলাদেশের উন্নতির নামে। গেল ক’বছরে কতটা উন্নতি করেছি আমরা?

অন-লাইনের বদৌলতে ঢাকা টেস্ট দেখার সৌভাগ্য হচ্ছে। ক্যারিবিয়ানদের ৩৫৫ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ইকবালের এক ওভারে ৩ বাউন্ডারি মারার ধরণ দেখেই ধরে নিয়েছিলাম কি ঘটতে যাচ্ছে। স্ক্রিন হতে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলাম ’বিখ্যাত’ এই খেলোয়ারের করুণ পরিণতি এড়ানোর জন্যে। কিছুক্ষণের ভেতর ফিরে এসে যা দেখার তাই দেখলাম, তামিম ইকবাল নেই। এর পরের দৃশ্যগুলো ছিল খুবই পরিচিত। জায়ান্টদের এক একজন মহাসমারোহে আসছেন এবং বিশ্বজয় শেষে ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। এসব দেখে হতাশ অথবা রাগ করার পর্ব অনেক আগেই উঠিয়ে রেখেছি। কারণ আনপ্রেডিক্টেবল খেলার প্রেডিক্টটেবল দল বাংলাদেশ। এই দলের বিরুদ্ধে যারাই খেলবে স্ট্রাটেজি ঠিক করতে তাদের খুব একটা মাথা ঘামাতে হয়না। ৩/৪টা ডট বল এবং ৫ম বলটা স্ট্যাম্পের বাইরে, এবং রাগান্বিত ও ক্রোধান্বিত হিরো ১৬ কোটি মানুষের রাগ ঝাড়তে দরকার হলে স্ট্যাম্প হতে ৫ হাত ডানে বায়ে বেরিয়ে প্রচন্ড মারে বলকে মীরপুর হতে মোহম্মদপুর পাঠানোর চেষ্টা করবে। এ যেন ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজির স্পোর্টস ভার্সন। মাসের পর মাস ট্রেনিং ও শত শত ঘন্টার কোচিং শেষে মাঠে নেমে ২/৩ ওভার খেলার আগেই আউট। এ আউটের জন্যে মোটেও দুঃখিত নন তারকা খেলোয়ার তামিম ইকবাল। কারণ এটাই নাকি তার ন্যাচারাল খেলা। ইদানিং এই খেলোয়াড়ের মুখে দেখা দিয়েছে নতুন রোগ, গালাগালি। অস্ট্রেলিয়ান জয়ের অর্ধেকটাই নাকি আসে মাঠের গালাগালি হতে। তাই তামিম ইকবালও চেষ্টা করছেন অস্ট্রেলিয়ানদের টেকনিক কাজে লাগাতে।

এসব ছেলেমানুষীর ক্রিকেট খেলতে খেলতে অনেক বেলা হয়ে গেছে আমাদের। কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা আর ১৬ কোটি সমর্থকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের হিরোরা মাঠে যা করছেন তা ক্রিকেটের পরিভাষায় অনুবাদ করা খুবই কঠিন। স্বভাবতই পণ্ডিতরা প্রশ্ন তুলছেন যোগ্যতা নিয়ে। আর আমরা বোকা হাবার মত বছরের পর বছর ধরে আশাহত হচ্ছি। প্রশ্ন হচ্ছে, আর কত কাল চলতে থাকবে ক্রিকেট নামের এই কমেডি?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29476221 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29476221 2011-11-01 12:32:06
আরব বসন্তের দাবানল ও আমাদের রাজনীতি...
আরব বসন্তের দমকা হাওয়ায় লন্ডভন্ড হচ্ছে একটার পর একটা দেশ। শুরুটা সাহারা মরুর দেশ তিউনিশিয়া হতে। ২৪ বছরের একচ্ছত্র রাজত্ব জাইন-এল আবেদিন বেন আলীর মনে এমন একটা ধারণার জন্ম দিয়েছিল দেশটা আসলে তার এবং এর জনগণ তার জন্মগত কৃতদাস। স্ত্রী লায়লা ও তিন সন্তান নিয়ে এভাবেই জীবন কাটাতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছিলেন দেশটার স্বঘোষিত মালিক। রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হাবিব বরগুইয়েবাকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বেন আলী অধ্যায়। শাসক হিসাবে তার সাফল্য অবশ্য হেলাফেলা করার মত কিছু ছিলনা। ক্ষমতা গ্রহনের ২১ বছরের মাথায় দেশটার পার ক্যাপিটা জিডিপি তিনগুন বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ৩৭৮৬ ডলারে। ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক বিনিয়োগ। প্রাইভেটাইজেশন, বিদেশি পুঁজি আকর্ষন ও সরকারের কার্যকারিতার প্রভূত উন্নতির কারণে এর বাণিজ্যে ঘাটতি সর্বকালের নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয় বেন আলী প্রেসিডেন্সি। ডাভস্‌ ওয়ার্লড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রাংকিংয়ে ২০১০-১১ সালে তিউনেশিয়ার অবস্থান ছিল আফ্রিকার মধ্যে প্রথম এবং পৃথিবীর ১৩৯ দেশের মধ্যে ৩২তম। ১৯৯০ সালে দেশটার দারিদ্রের হার যেখানে ছিল ৭.৪% ২০০৫ তা কমে দাড়ায় ৩.৮%এ। ঘরে বাইরে অনেক জায়গায় প্রশংসিত হয় বেন আলীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম। কিন্তু বাইরে চকচক করলেই যে সোনা হয়না তিউনেশিয়ার কথিত উন্নতি নতুন করে তা প্রমান করে গেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে বঞ্চিত করে সার্বজনীন উন্নতির দাবি যে কোন শাসকের জন্যে বুমেরাং ফিরে আসে, ইতিহাসের এ অমোঘ শিক্ষাকে উপেক্ষা করার জরায়ুতেই বোধহয় জন্ম নেয় স্বৈরতন্ত্র। তিউনেশিয়াও এর ব্যতিক্রম ছিলনা। দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে রাজত্ব করছিল অভাব, দারিদ্র, ক্ষুধা আর হতাশা। শিক্ষিত, বেকার ও প্রগতিশীল যুবসমাজকে একঘরে বানিয়ে তাদের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার মাঝেই বেন আলী স্বপ্ন দেখেছিল আমৃত্যু ক্ষমতার বিলাসি স্বপ্ন। পরের ইতিহাস কমবেশি আমাদের সবার জানা। ৩৫ বছরের জেল ও ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার জরিমানা মাথায় নিয়ে বেন আলী পালিয়ে আছেন সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে। কথিত আছে পালানোর সময় সেন্ট্রাল ব্যাংক হতে ১.৫টান সোনা নিয়ে গেছে তার পরিবার। পরিবারের বাকি সদস্যদের সবাই এখন পলাতক এবং দেশটার মিডিয়ায় প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে তাদের দুর্নীতির লোমহর্ষক কাহিনী।

বেন আলীর তুলনায় নিকট প্রতিবেশি দেশ লিবিয়ায় একনায়কতন্ত্র প্রলম্বিত হয়েছিল ৪২ বছর। মুয়াম্মার মোহাম্মদ আবু মিনায়ের আল-গাদ্দাফি ক্ষমতারোহণ ছিল তৃতীয় বিশ্বের আর দশটা দেশের মতই নীতিহীন ও অবৈধ। ২৭ বছর বয়সী সেনা অফিসার লেফট্যানেন্ট গাদ্দাফি বাদশাহ ইদ্রিসকে সরিয়ে যেদিন ক্ষমতা দখল করেন বিশ্বের কোথাও এ নিয়ে হৈচৈ হয়নি, উচ্চবাচ্য করেনি গণতন্ত্রের দাবিদার পশ্চিমা বিশ্ব, বরং সম্ভাব্য বাণিজ্যের আশায় বাড়িয়ে দিয়েছিল সহযোগিতার হাত। প্যান-আরব ঐক্য ও ইসলামী সমাজতন্ত্রের আড়ালে নিজেকে আরব বিশ্বের অধীশ্বর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার খায়েশেও উৎসাহ যুগিয়েছিল নানাভাবে। অফুরন্ত তেল ভান্ডার ও সীমিত জনসংখ্যা নিয়ে গাদ্দাফির অর্থনৈতিক যাত্রার শুরুটা ছিল অবিস্মরনীয়। কিন্তু ক্ষমতা দখলের এক বছরের ভেতর তেলের আয় নিয়ে টানাপোড়ন শুরু হয় পশ্চিমা কোম্পানী গুলোর সাথে। রেভিনিউ শেয়ারের আনুপাতিক হার পরিবর্তন না করলে তাদের বহিষ্কারের হুমকি দেন গাদ্দাফি। শেষ পর্যন্ত লিবিয়ার শেয়ার ৫০ ভাগ হতে ৭৮ ভাগ বাড়াতে বাধ্য হয় তারা। এরই মধ্য মিশরের সহযোগীতায় সেনাবাহিনীর কিছু অফিসার ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করে তাকে। বলা হয় নতুন গাদ্দাফির জন্ম হয় এই বিদ্রোহের সূতিকাগারে। কচুকাটা শুরু করেন প্রতিদ্বন্দ্বিদের। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের ক্রিমিনাল আখ্যায়িত করে পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের ভেতর ক্ষমতা সীমিত রাখার ব্যবস্থা পাকা করা শুরু করেন। জনসংখ্যার শতকরা ১০-২০ ভাগ মানুষকে নিয়োগ করেন ইনফর্মার হিসাবে। ’আইন ৭৫’ প্রবর্তনের মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে কেড়ে নেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা। ১৯৭০ সালে দেশ হতে কলোনিয়াল ইতালিয়ানদের বিদায় করে দেন গাদ্দাফি। ’খ্রীষ্টান’ ক্যালেন্ডার পালটে প্রবর্তন করেন কথিত মুসলিম ক্যালেন্ডারের। আগষ্ট মাসের নাম পালটে সন্তান হানিবালের নামে নামকরণ করেন ’হানিবাল’, জুলাই মাসের নামকরণ করেন মিশরীয় নেতা গামাল আবদেল নাসেরের নামে ’নাসের’। ৭১ হতে ৭৭ সালের মধ্যে নিজের সৃষ্টি ’আরব সোসালিস্ট ইউনিয়ন’ নামের একমাত্র রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি দেন, যা আজ্ঞাবহ দাস হয়ে বাকি জীবনের জন্যে সেবা করে যাবে গাদ্দাফি পরিবারের। এই লেখাটা যখন লিখছি লিবিয়ার স্বঘোষিত মালিক কর্নেল গাদ্দাফি শুয়ে আছেন মিস্রাতা শহরের মাংস রাখার একটা হিমাগারে। তার লাশ মাটিতে কবর দেয়া হবে না ভাসিয়ে দেয়া হবে সাগরের নোনা পানিতে তা নিয়ে দ্বিধায় আছে এক কালের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তার ২য় স্ত্রী পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী দেশ আলজেরিয়ায়। বলা হয় পালানোর আগে ২০টন স্বর্ণ পাচার করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, যার আনুমানিক মূল্য ১০ বিলিয়ন পাউন্ড।

ইয়েমেনের প্রসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতায় আছেন ২১ বছর। সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের যাত্রা ১৯৭১ সাল হতে। হাফেজ আল আসাদের উনত্রিশ বছরের ক্ষমতার যবনিকা হয় তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে, যা রাস্তা খুলে দেয় সন্তান বাশার আসাদের জন্যে। বাশার ডাইনাস্টির ৪০ বছরের শাসন মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটায় বয়ে আনে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক সংস্কার। বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় ভারী শিল্পে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। শাসনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয় ১৯৭৩ সালে। কিন্তু এত কিছুর পরও প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল আসাদ নিশ্চিত ছিলেন না শাসন ব্যবস্থায় পারিবারিক ধারাবাহিকতা নিয়ে। বিদ্রোহ দমনের নামের নামে ১৯৮২ সালে হত্যা করেন ২০ হতে ৪০ হাজার সিরিয়ান সুন্নিকে। ইতিহাসে বর্বরতম এই হত্যাকান্ড পরিচালনা করেন আসাদের ভাই রাফাত। হামা ম্যাসাকার নামে পরিচিত এই ম্যাসাকারকে বলা হয় আরব ব্রুটালিটির নিকৃষ্টতম উদাহরণ। পিতা হাফেজের পৈশাচিকতার পথ হতে সড়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিংহাসনে আসীন হয়েছিলেন সন্তান বাশার আল আসাদ। কিন্তু রক্তে যার নির্মমতার লোহিত কনিকা তার কাছে পরিবর্তন আশাকরা ছিল নেহাতই বোকামি। সিরিয়ানরা হাড়ে হাড়ে তা টের পাচ্ছে। ক্ষমতা ধরে রাখার রক্তাক্ত ধারায় নতুন অধ্যায় সংযোজন করছেন সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অবুঝ সন্তানদের ধরে নিয়ে যাচ্ছেন রাতের আধারে এবং লাশ বানিয়ে খোলা রাজপথে প্রদর্শন করছেন সতর্কতা সংকেত হিসাবে। আরব বসন্তের লু হাওয়ার মৃদু মন্দ ধাক্কা লাগছে বাদশাহ আবদুল্লার রাজতন্ত্র জর্ডানে, এই হাওয়া হানা দিচ্ছে এককালের পর্তুগীজ কলোনি ওমান সুলতানাতে, ধাবিত হচ্ছে আল্লাহর ঘর রক্ষকের দাবিদার সৌদি রাজপরিবারের অন্দরমহলে।

কেন এই বসন্ত, কোথায় এর এপিসেন্টার, এ নিয়ে হয়ত হাজার রজনীর আরব্য উপন্যাস লেখা যাবে। বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে দু’ধরণের মানুষ চোখের পানি ফেলছে মুয়াম্মার গাদ্দাফির শেষ পরিনতিতে; এক, যারা এই লৌহমানবকে ইসলামী ঝান্ডার কান্ডারি হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত (এপিসেন্টার মগবাজার); দুই, যাদের শিরা উপশিরায় প্রবাহিত আজন্ম লালিত পশ্চিমা বিদ্বেষ (এপিসেন্টার পল্টন রোড)। মার্কিন মোড়লিপনায় পৃথিবীর দেশে দেশে সংঘঠিত অপরাধের নোনা পানিতে গাদ্দাফির শেষ গোসল করাতে গিয়ে অনেকেই লিবিয়ার ঘটনাকে দেখছেন দেশটার প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করার পশ্চিমা ষড়যন্ত্র হিসাবে। অনেকে এই ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন ভবিষ্যৎ লিবিয়ার ভাগ্য হয়ত লেখা হবে সিআইএ আর পশ্চিমা বেনিয়া গুষ্টির কলমে। কিন্তু মিস্রাতার মাংসের হিমাগারে গাদ্দাফির শেষ শয্যা খুবই কি অপ্রত্যাশিত ছিল বিশ্ববাসীর জন্যে? তিনি কি সেই গাদ্দাফি নন সামান্য রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে যিনি নিজ তদারকিতে প্রকাশ্য ফাঁসি দিতেন? এই কি সেই গাদ্দাফি নন যার হুকুমে কেবল ভিনদেশিদের সাথে কথা বলার কারণে হাত-পায়ের নখ উপড়ে ৩ বছরের জেলে পাঠানো হত? গাদ্দাফি ছিলেন তেমনি এক শাসক যার ছত্রছায়ায় লিবিয়া পরিনত হয়েছিল আর্ন্তজাতিক অপরাধীদের অভয়ারণ্যে। বিমান হাইজ্যাক, বোমা পেতে গাড়ি, বাড়ি আর বিমান উড়িয়ে নিরাপদ বসবাসের একটাই আশ্রয়স্থল খুজে পেত অপরাধী চক্র, লিবিয়া। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অপরাধীরাও এ হতে বাদ যায়নি। ৮ সন্তানদের একজনকে নিজ হাতে তৈরী করেছিলেন মসনদের উত্তরাধিকার হিসাবে। তাবুতে বাস করতেন একদল তরুণী দেহরক্ষীর মাঝে, যাদের অনেকেই অভিযোগ করছে নিয়মিত ধর্ষিত হওয়ার। সন্তানদের বাদ দিয়ে কেবল স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমানের কথা বলা হচ্ছে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গোত্র ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় কেবল একটা গোত্র বাকিদের উপর আজীবন ছড়ি ঘুরাবে এটাই বা কেমন বিচার? রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কখনই তিনি মানুষ হিসাবে গন্য করেন নি। বলতেন ওরা ইঁদুর। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এই ইঁদুরের হাত হতে রক্ষা পাওয়ার জন্যে শেষ পর্যন্ত ইঁদুরের মতই লুকাতে বাধ্য হয়েছিলেন পয়ঃপ্রণালীর পাইপে।

আরব বসন্তের লু হাওয়ায় জ্বলন্ত দেশগুলো হতে শিক্ষা নেওয়ার মত এমন কিছু আছে কি আমাদের রাজনীতির জন্যে? অনেকে বলবেন ওরা আর আমরা এক নই, ওরা রাজতন্ত্রের রাজা বাদশাহ, আর আমাদের বাস ফুলে ফলে পুষ্পে ভরা গণতন্ত্রে। ওদের রক্তে খুনের নেশা, আর আমাদের রক্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নির্মল বাতাস। কিন্তু একটা সত্য আমরা বোধহয় ইচ্ছা করে ভুলে যাই, দুবেলা দুমুঠো আহারের নিশ্চয়তা দিয়ে পশুদের আটকে রাখা গেলেও মানুষকে সম্ভব হয়না। মানুষের প্রয়োজনীয়তা বহুমুখী, যার অন্যতম তার চিন্তার স্বীকৃতি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা আর ক্ষমতার অংশীদারিত্ব। হোক তা গণতন্ত্র অথবা রাজতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যক্তি অথবা পরিবারিক ভিত্তির উপর কখনোই শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারেনা। ইসলামী ঝান্ডা অথবা পশ্চিমা বিদ্বেষ খণ্ডকালীন স্বার্থ হাসিলে কাজ করলেও জনগণের সামনে তা সময়মত খসে পরে। ২০, ৩০ অথবা ৪২ বছর ধরে এক ব্যক্তি, এক পরিবারের শাসন মেনে নেয়ার মত প্রজন্মও এখন আর জন্ম নেয় না। বন্দুকের নল আর পেশির হুমকিতে প্রজন্মের মুখ আটকানো গেলেও কলম আটকানো যায়না। এখন কলমের যুগ। এক কলমই যথেষ্ট হোসনি মোবারকের মত দানব বধে। আমাদের রাজনীতিবিদেরা যদি ভেবে থাকেন স্বদেশের বসন্ত কেবল কোকিলের কুহু তান আর হলুদ শাড়ি পরিহিত ললনাদের পুজা অর্চনার জন্যে তাহলে বোধহয় ভুল করবেন। গাদ্দাফির পূজারির সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করার মত ছিলনা, বাশার আল আসাদের ভক্তের সংখ্যাও অগুনিত। তারাও পুজা দেয় দেব-দেবীর চরণে। কিন্তু একটা সময় আসে যখন পুজার ঢালি হতে বেরিয়ে আসে বিষাক্ত সাপ, ছোবল হানে দেবতার সর্বাঙ্গে।

পুনশ্চঃ খুব কি কষ্ট পাওয়ার আছে গাদ্দাফির নির্মম হত্যাকান্ডে? খুনাখুনি আরবদের রক্তের ঐতিয্য। অনার কিলিংয়ের নামে ওরা নিজের মা-বোনকে খুন করে বিনা দ্বিধায়। কদিন আগে ৮ বাংলাদেশিকে প্রকাশ্য শিরশ্ছেদের মাধ্যমে আনন্দ করেছে সৌদি জনগণ। এরা রাজাকে যেমন মাথায় নিয়ে নাচে, তার গায়ে মলমূত্র ত্যাগ করতেও সময় নেয় না। নো ওয়ান্ডার যুগে যুগে নবীদের আগমন ঘটেছিল কেবল আরব দেশে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29471518 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29471518 2011-10-24 05:21:31
৩ নারীর নোবেল লাভ ও উপেক্ষিত শেখ হাসিনার শান্তির মডেল...
একসাথে তিন নারীর নোবেল জয়, তাও আবার শান্তিতে। গুয়েতমালার সোস্যাল একটিভিষ্ট রগোবের্তা মেঞ্চুর পর নোবেল কমিটি বোধহয় ভুলেই গিয়েছিল নারীদের কথা। তাই এবারের নোবেল কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বিশ্ব নারী আন্দোলনে। শান্তিতে নোবেল নিয়ে অনেকদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেইন ওবামার নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে। দুই দুইটা যুদ্ধে লিপ্ত একটা দেশের কমান্ডার-ইন-চীফ'কে শান্তিতে নোবেল প্রদান গোটা নোবেল প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। বাংলাদেশের মাইক্রো ক্রেডিটকে পুরস্কৃত করায় বিশ্বের কোথাও প্রশ্ন না উঠলেও খোদ বাংলাদেশে বয়ে গেছে রাজনৈতিক সুনামি। গ্রামীন ব্যাংকের নোবেল প্রাপ্তি অনেকেই মনে করেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের হস্তক্ষেপের ফসল। যতদূর জানি নোবেল প্রক্রিয়াটাই এ রকম, কেউ না কেউ, কারও না কারও নাম প্রস্তাব করে যার উপর ভিত্তি করে নোবেল কমিটি নিজেদের সিদ্ধান্ত দেয়। এই কমিটির উপর একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কতটা প্রভাব তার কোন লিপিবদ্ধ রেকর্ড নেই, থাকলেও তা হবে অনেকটা গুড উইল জেস্টারের মত, যা আমরা কোন দিনই জানতে পারব না। ডক্টর মোহম্মদ ইউনুস ও তার গ্রামীন ব্যাংকের পক্ষে ওকালতি করে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন কতটা অপরাধ করেছিলেন এবং তাতে দেশ ও জাতি হিসাবে বাংলাদেশিরা কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল সময়ই তার বিচার করবে। তবে একটা সত্য না মানলেই নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অথবা সাহিত্যের উপর নোবেল নিয়ে বাকি বিশ্বের মত আমাদের আগ্রহও সীমাবদ্ধ। আমরা এক রকম মেনেই নিয়েছি চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন অথবা অর্থনীতির মত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উপর নোবেল যাবে মার্কিন অথবা ইসরাইলি কোন বৈজ্ঞানিক অথবা গবেষকের ঘরে। এসব বৈজ্ঞানিক ও গবেষকদের অনেকেই যদি ইহুদি হয় তাতেও অবাক হওয়ার থাকবেনা। এ ব্যাপারে খোদ সৃষ্টিকর্তাই বোধহয় পেয়ারের বান্দা সৃষ্টিতে বৈষম্য করে থাকবেন।

লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলেন জনসন শারলিফ এবং একই দেশের শান্তিকর্মী লিমাহ গোবি নিজ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কি ভূমিকা রেখেছেন আমার মত সাধারণ পাঠকদের অনেকেরই জানা নেই। নাম দুটি আগে শুনেছি বলেও মনে করতে পারছি না। তবে দেশটায় বছরের পর বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে এবং এই যুদ্ধে শান্তির ভূমিকায় রাজধানী মনরোভিয়া সহ অনেক শহরে বাংলাদেশি সৈন্যরা টহল দিচ্ছে অথবা দিয়েছিল তার খবর জানতাম। চমৎকার এই দেশটায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ইলেন জনসন ও তার সহকর্মী অবদান রেখে থাকলে নিশ্চয় তা পুরস্কারের দাবি রাখে। তবে পুরস্কারের টাইমিং নিয়ে খোদ লাইবেরিয়া কথা উঠেছে। এক সপ্তাহের ভেতর দেশটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিরোধী দল অভিযোগ করছে নির্বাচন প্রাক্কালে এ ধরণের একটি আর্ন্তজাতিক পুরস্কার ভোটারদের প্রভাবিত করবে। আফ্রিকার প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট নিজ দলের কাছেই ’লৌহমানবী’ নামে পরিচিত। নির্বাচিত হওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি হবেন এক টার্মের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাড়িয়েছে এ সিদ্ধান্তে। তৃতীয় বিশ্বের ক্ষমতালিপ্সু অনেক নেতা-নেত্রীর মত তিনিও দোহাই দিচ্ছেন জনগণের ইচ্ছাকে। ৭২ বছরের এই মহিলা জীবিত অবস্থায় ক্ষমতা হতে সড়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করবেন কিনা সময়ই প্রমান করবে। শুভেচ্ছা রইল আফ্রিকার এই দুই মহিলার জন্যে।

ইয়েমেনের তাওয়াকুল কারমানের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। পেশায় এই মহিলা একজন সাংবাদিক। মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষনশীল একটা দেশের নারী অধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের তিনি পথিকৃত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যেও তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে এখানেও টাইমিং’এর একটা ব্যাপার আছে। গোটা ইয়েমেন জুড়ে চলছে গণবিপ্লব। দেশটার প্রেসিডেন্ট বিদ্রোহীদের গোলার আঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রতিবেশি সৌদি আরবে। ঠিক এমন একটা পরিস্থিতিতে দেশটার একজন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকে শান্তি পুরস্কার অনেকেই চলমান আন্দোলনে পশ্চিমা দুনিয়ার নীরব সমর্থন ও উস্কানি হিসাবেই দেখবেন। সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার তাই গুরুত্ব দেয়নি তাওয়াকুলের নোবেল প্রাপ্তি খবরকে। আভ্যন্তরীণ বিতর্ক যাই থাক নোবেল কমিটি নিশ্চয তাওয়াকুলের মাঝে এমন কিছু দেখে থাকবে যা পুরস্কৃত করা যথাযোগ্য মনে করেছে। অভিনন্দন রইল সমস্য জর্জরিত দেশে সামাজিক বৈষ্যমের শিকার নারীর বিরল সন্মান প্রাপ্তিতে।

শান্তিতে তিন জন নারী নোবেল পেল অথচ এই তালিকায় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নাম নেই ব্যাপারটা কেমন যেন একপেশে মনে হল। গত একটা বছর সন্ত্রাস মোকাবিলা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠ ও স্বদেশে স্মরণ কালের সবচাইতে টেকসই শান্তি নিয়ে যথেষ্ট সোচ্চার ছিলেন শেখ হাসিনা। পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত এমন কোন আর্ন্তজাতিক সন্মেলন নেই যেখানে সদলবলে যোগ দেননি। দেশে বিদেশে নিয়মিত কথা বলেছেন শান্তির উপর। এর উপর বেশ কটা সম্মানসূচক ডিগ্রিও পেয়েছেন ইতিমধ্যে। জাহাঙ্গির কবির নানক ও মির্জা আজম নামের দুই লেফট্যানেন্ট গেল একটা বছর ধরে পৃথিবী চষে বেড়িয়েছেন শান্তিতে নেত্রীর অবদান ছড়িয়ে দেয়ার মিশন নিয়ে। মাইক্রো ক্রেডিটের মত বাংলাদেশের ’বিরাজমান শান্তি'কে মডেল হিসাবে গ্রহনের জন্যে দেখা করেছেন বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে। মিশনের সফল সমাপ্তির শেষ পর্ব হিসাবে খোদ প্রধানমন্ত্রী ছুটে গিয়েছিলেন জাতিসংঘে। ৯০ জন সঙ্গী ও কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ের নোবেল মিশন সফল না হওয়ায় নিশ্চয় আশাহত হয়ে থাকবে এ কাজে নিয়োজিত দলীয় যোদ্ধারা। সমবেদনা রইল তাদের সবার জন্যে। নোবেল প্রতিবছরের পুরস্কার। মন খারাপ করার কিছু নেই, লেগে থাকলে হয়ত সামনের বার সফল হওয়া যাবে।
তবে এর আগে এবারের ব্যর্থতার উপর একটা বিশদ অটোপসি মিশনের সফল সমাপ্তিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করি। এ ব্যাপারে আমার নিজস্ব কিছু রেকোমেনডেশনস আছে। যেমনঃ
- ক্রসফায়ারে হত্যা পর্ব সূর্যোদয়ের পরিবর্তে মধ্যরাতে সমাধা করতে হবে যাতে পশু পাখির দল পর্যন্ত স্বাক্ষী না হতে পারে। সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে এই পাখির দল ঋতু পরিবর্তনের সাথে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে উড়ে যায় এবং নোবেল কমিটির কাছে প্রকাশ করে দেয় শান্তি প্রতিষ্ঠার এই অভিনব মডেল।
- মিডিয়া নিয়ন্ত্রনে বাকশালী আইন পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। এ যাত্রায় ৪টা নয়, প্রিন্ট মিডিয়ার সবকটাকে সুযোগ দিতে হবে। শর্ত থাকবে শান্তিতে নোবেল ব্যাহত হয় এমন কোন খবর প্রকাশ করা যাবে না।
- সাগরের তলদেশে সাবমেরিন ক্যাবল কেটে ভার্চুয়াল দুনিয়ার কবর রচনা করতে হবে।
- বিরোধী দলকে রাস্তায় নয়, মোকাবেলা করতে হবে অন্দর মহলে যাতে কূটনৈতিক পাড়ায় না পৌছায় ক্ষমতা স্থায়ী করার এই মডেল।
- গোপনে বিদেশিদের হাতে নয়, শেখ হাসিনার শান্তির মডেল তুলে দিতে হবে দেশের প্রতিটা শিশু, কিশোর, তরুন ও আবাল বৃদ্ব বনিতার হাতে।
- বিদেশ ভ্রমনে ১০০/২০০ জন নয়, সঙ্গী বানাতে হবে ৫০০ জনকে, যাদের মূল কাজ হবে বিদেশের মাটিতে শেখ হাসিনার নোবেল প্রাপ্তিতে জনমত সৃষ্টি করা।

বাংলাদেশে বিরাজমান শান্তির সমুদ্রে কেবল ১৬ কোটি মানুষ অবগাহন করবে এমনটা ভাবা হবে অন্যায়। ৫ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাকিদের বঞ্চিত রেখে শেখ হাসিনার শান্তি কেবল আমরা ভোগ করবো এ হবে নাৎসিদের অপরাধের শামিল। আমাদের শত বছরের মিশন হাতে নিতে হবে। শেখ হাসিনার নোবেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করার আগ পর্যন্ত থেমে গেলে চলবে না। বাংলায় একটা কথা আছে, একবার না পারিলে দেখ শতবার। শতবার কেন, প্রয়োজনে হাজার বার চেষ্টা করতে হবে আমাদের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29462462 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29462462 2011-10-08 23:58:34
কলম ধরুন, মুখ খুলুন, লিখুন, কথা বলুন (উৎসর্গ একজন ফকির {কেবল নামে নয়} কবিকে...) হে নিদ্রামগ্ন দেশবাসি, পৃথিবীর দেশে দেশে এখন স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্রের উচ্ছেদ চলছে। ২০, ৩০ আর ৪০ বছরের লুটেরা শাসনের জিঞ্জির ভেঙ্গে বেরিয়ে আসছে সাহারা মরুভূমি হতে শুরু করে লোহিত সাগরের মানুষ। বেন আলী পালিয়েছে তিউনিশিয়া হতে, মিশরের হোসনি মোবারক নিজ গৃহে বন্দী, পায়ের তলা হতে মাটি সড়ে গেছে লিবিয়ার একনায়ক গাদ্দাফির। ইয়েমেন, ওমান আর সৌদি আরব পর্যন্ত পৌছে গেছে পরিবর্তনের সুনামি। ঠিক এমনি এক প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে গভীর হতে গভীরতর হচ্ছে পারিবারিক স্বৈরশাসনের বিষাক্ত থাবা। পিতার নামে, স্বামীর নামে, চেতনার নামে, ইতিহাসের নামে পারিবারিক শাসনের বেড়ি গ্রাস করে নিচ্ছে গণতান্ত্রিক শাসনের ঐতিহ্য। পাশাপাশি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচনের বীজ ঢুকিয়ে তার ফায়দা লুটছে বিশেষ দুটি পরিবার। রাষ্ট্রের সবগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে পারিবারিক সেবাদাস বানিয়ে দলিত মথিত করছে একদল পেশাজীবি লুটেরা। ওরা লুটছে আর আমরা লুণ্ঠিত হচ্ছি। লুণ্ঠিত অর্থে কেউ বৈজ্ঞানিক কেউবা মেহমান সেজে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছে সুদূর আমেরিকা আর ইউরোপে। কোত্থেকে আর কারা যোগান দিচ্ছে এসব অর্থ একবার ভেবে দেখেছেন কি? এই কি সে অর্থ নয় যা আপনার, আমার আর লাখ লাখ প্রবাসীর মাথার ঘাম পায়ে ফেলা কষ্টের ফসল? বিনিময়ে কি পাচ্ছি আমরা? লিবিয়ার ক্রাইসিসের শুরুতে মরুভূমির বৈরী আবহাওয়ায় মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছিল শত শত স্বদেশী। এক ফোটা পানির অভাবে নিজের প্রস্রাব পর্যন্ত পান করছে অনেকে। পাশাপাশি আমাদের কথিত গণতান্ত্রিক সরকার বলে গেছে এদের ফিরিয়ে আনার মত যথেষ্ট অর্থ নেই তহবিলে। পিতার নামে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিমান বন্দর বানাতে অর্থের কোন অভাব হয়না অথচ যাদের কারণে দেশের অর্থনীতি চালু থাকছে তাদের গন্য করা হয়েছে উটকো ঝামেলা হিসাবে।

হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা আমাদের চাইতে ভিন্ন। কিন্তু একটু গভীরে প্রবেশ করলে আমরা সহজেই বুঝতে পারব স্বৈরতন্ত্রের আসলে কোন দেশ নেই, পরিচয় নেই। ওরা সব দেশে সব কালে লুটেপুটে খায় আর রাষ্ট্রকে নিজের নিবন্ধিত সম্পত্তি হিসাবে গন্য করে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ৪০ বছর হয়ে গেল আমাদের স্বাধীনতার। কি আমাদের প্রাপ্তি? হাসিনা, খালেদা, সজিব জয় আর তারেক জিয়া? এদের আয়েশী জীবন নিশ্চিত করার জন্যেই কি এ দেশের লাখ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছিল?

তাড়াবার কি সময় আসেনি? রুখে দাঁড়াবার কি প্রেক্ষাপট তৈরী হয়নি? জবাব যদি হ্যাঁ হয় তাহলে কলম ধরুন, মুখ খুলুন, লিখুন, কথা বলুন। আসুন ওদের রাস্তা দেখাই। সে রাস্তা যে রাস্তায় বেন আলী আর হোসনি মোবারকের দল হেটে গেছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29459218 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29459218 2011-10-03 08:45:32
নোবেলের সন্ধানে হীরক রাজ্য ও শেখ হাসিনার শান্তির মডেল...
আগের টার্মেও চেষ্টা হয়েছিল। রীতিমত জোড়ালো চেষ্টা। নীরবে, নিভৃতে ও রাষ্ট্রের স্পনসরে দেশে বিদেশে ধর্ণা দিয়েছিল সরকারের থিংকট্যাংক প্রতিনিধি দল। শোনা যায় কাজটার সফল সমাপ্তির প্রত্যাশায় উচ্চ পর্যায়ে লবিস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। জাতির কপালে তখন দুর্নীতির হ্যাটট্রিক শিরোপা। চারদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটপাটের মহোৎসব। পকেটে অনন্ত ক্ষুধা আর হায়েনার হিংস্রতা নিয়ে শকুনের মত ঝাপিয়ে রাষ্ট্রকে ভাগার বানিয়ে আহার করছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল। এ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে দেশের আমলা বাহিনী। ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় ব্যক্তির সন্তুষ্টিই পৌঁছে দেয় অভীষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্যে এবং পাশাপাশি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার হরিলুটের অবাধ স্বাধীনতা। দেশীয় রাজনীতির স্বরলিপি লিখতে গেলে এই অধ্যায়টা নিয়ে লেখা যাবে বিশাল এক মহাভারত, যা ইচ্ছা করলে ঠাঁই দেয়া যাবে কার্ল মার্ক্সের ডাচ ক্যাপিটাল ও মাও সে তুং’এর লাল বইয়ের কাতারে। কার্ল মার্ক্স, ভ্লাদিমির উলিয়ানভ আর মাও এর মত শ্রমজীবি ও সর্বহারাদের ভাগ্য পরিবর্তনের পথপ্রদর্শকদের একই কাতারে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও আমলাদের ঠাঁই দেয়া অন্যায় হবেনা অভিন্ন কারণে, এরাও ভাগ্য পরিবর্তনের নিপুণ কারিগর। একজন আমানুল্লাহ আমানের বিস্ময়কর উত্থান পর্ব হতে পারে এর নয়নাভিরাম উদাহরণ। যাই হোক, এসব পুরানো কাহিনী। এ নিয়ে অনেক ত্যানা পেঁচানো হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। অনেকের কাছেই আজ তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হবেনা। তত্ত্ব বিশ্লেষণের দলীয় ফ্যাক্টরিতে এসবের রেডিমেড উত্তরও হয়ত তৈরী আছে। সময়ের চাহিদা মেটাতে এসবের বাজারজাত এখন আকর্ষনীয় ও লাভজনক ব্যবসা।

কথিত জনতার মঞ্চের নায়ক মহিউদ্দিন আলমগীর সচিব থাকাবস্থায়ই তৈরী করে নিয়েছিলেন আর্ন্তজাতিক কানেকশন। হতে পারে তা সরকারী পদের কারণে। হীরক রাজ্যের রাজা-রানীর তৈলমর্দন, নর্তন, কুর্দন আর ভাঁড়ামি দিয়ে মন জয় করারও একটা লিমিট থাকে, যা আবিস্কার ও এর ব্যবহারের ধান্ধায় ব্যাপক সময় ব্যায় করতে হয় রাজ্যের মন্ত্রী, উজির, নাজির, কোতওয়াল আর ডাজ্ঞাদের। তৈল মর্দনের বৈচিত্র্যতা একটা আর্ট, যা হীরক রাজ্যে ব্যাপক সমাদৃত ও কাঙ্খিত। এই আর্টের মূল্যায়ন করা হয় এর গভীরতা ও রাজা-রানী সন্তুষ্টির কিলোগ্রামের উপর । মহিউদ্দিন খান আলমগীর জানতেন এই বাস্তবতা এবং এই আবিষ্কারে অনেকটাই এগিয়ে যান নিজের যোগাযোগ ও যোগ্যতার দিয়ে। হীরক রাজ্যের রাজাকে খুশি করা মানে ক্ষমতার মাঠে মোহম্মদী বেগের দায়িত্ব পাওয়া। এমনি একটা লাইসেন্স পাওয়ার অভিনব পন্থা আবিস্কার করেন জনাব খান আলমগীর। পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রী জোগাড়ের মাধ্যমে রাজার মনোরঞ্জন ইতিপূর্বে কারও তৈলমর্দন ফ্যাক্টরিতে জন্ম না নেয়ায় এর একক কৃতিত্ব চলে যায় এই চতুর আমলার ক্রেডেনশিয়ালে। প্রতিমাসে একটা করে পিএইচডি, এমনটাই নাকি ছিল আমলার টার্গেট। রাষ্ট্রের কোষাগার অনেকটা আলী বাবা ৪০ চোরের সিসিম ফাঁক কায়দায় খুলে দেওয়া হয়েছিল এই ’মহৎ’ কাজের অর্থায়নে।

সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার ফোকর গলে একটা খবর বেশ আলোড়ন তুলেছিল ১৯৭৩-৭৪ সালে। নেতা শেখ মুজিবকে খুশি করার নতুন ও অভিনব পন্থা আবিস্কার করতে গিয়ে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এক ছাত্রীকে ডিগ্রী উপহার দেয় অনেকটা জন্মদিনের উপহারের মত। খবরটা বাতাসে জন্ম নেয়া, তাই সত্যতা যাচাইয়ের কোন উপায় নেই। তবে হীরক মন্ত্রীসভার বর্তমান উজির জনাবা মতিয়া চৌধুরীকে রিমান্ডে আনলে হয়ত এর আসল রহস্য বের করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে একই কায়দায় এই ছাত্রীর ভান্ডারে যোগ হয় আরও অনেক ডিগ্রী। মহিউদ্দিন আলমগীর কর্তৃক যোগাড় করা পিএইচডি তার মধ্যে অন্যতম। একটা দুইটা করে একে একে সাত-আটটা পিএইচডি ডিগ্রী এক সময় মনোরঞ্জনের কার্যকরিতা হারিয়ে ফেলে। রাজার সন্তুষ্টি লাভের প্রতিযোগীতায় বাধ্য হয়েই উজির নাজিরদের খুজতে হয় ভিন্ন পথ। এই ভিন্ন পথের বাঁকেই দেখা হয় নোবেল পুরস্কার নামক সুসম উপাদানের। জনাব মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নেত্রীত্বে একদল তৈলমর্দনকারী সন্ধানে নামেন নোবেল শান্তি পুরস্কার নামক সান্ডার তেলের। উপলক্ষ হিসাবে দাঁড় করানো হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি। কথিত আছে এ কাজে কামিয়াবের লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হয় দুর্নীতিতে হ্যাটট্রিক শিরোপা লাভের তাবৎ টেকনিক। নোবেল শান্তি পুরস্কার সিলেকশন কমিটির বেশ কজন সদস্যকে গেলানোর চেষ্টা হয় বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের নগদ নারায়ণ টনিক। খবর নোবেল কমিটির পালের গোদাদের কানে পৌছাতে সময় লাগেনি। ভেস্তে যায় খান আলমগীরের নোবেল নবুয়ত নেটওয়ার্ক। অসলো ও স্টকহোম হতে উচ্চারিত হয় কড়া হুঁশিয়ারী।

৮০ সালের চাটুকারিতা, তোষামোদী আর চোষামোদী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোন উপাখ্যান হিসাবে সংযোজিত হয়নি। স্বাধীনতার উষা লগ্নে পাইওনিয়র হিসাবে এ কাজে বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন শেখ পরিবারের অন্যতম রাজনীতিবিদ জনাব শেখ ফজলুল হক মনি। কথিত মুজিববাদ নিয়ে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ ফেলে দেয়ার মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন তিনি। ‘শেখ মুজিবের চিন্তাধারা বিশ্বকে দিচ্ছে নাড়া’ এমন সব উদ্দীপক শ্লোগান সহ অনেকটা চেয়ারম্যান মাও কায়দায় ব্যবহার বান্ধব ছোট ছোট চটি বই বাজারজাত করার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি আলোচনা ও গবেষনার মাধ্যমে নতুন এই বাদকে জাতির খাদ্য তালিকায় বাধ্যতামূলক আইটেম করার চেষ্টা করেছিলেন রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে।

আর্ন্তজাতিক ’সুদখোর’ ইউনুসের নোবেল প্রাপ্তিকে বলতে গেলে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহন করে থাকবেন হীরক রাজ্যের উজির নাজিরের দল। ’টু বি, অর নট টু বি’ কায়দায় পিতা এবং পারিবারিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগাদা হতেই হয়ত এ চ্যালেঞ্জের জন্ম। ইউনুস মাস্টার নিয়ে পুঁজিবাদী বিশ্বের উচ্ছাস বেশ কিছুটা আতংকের সৃষ্টি করেছিল হীরক রাজ্যে। তাই মাস্টারের মগজ ধোলাই ছিল সময়ের ব্যাপার। রাজ্যের গোপাল ভাড় ও নিবেদিত কোতোয়াল জনাব হানিফের মুখ হতে প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল দাবিটা, ইউনুস মাস্টারের নোবেল কেড়ে অন্য কাউকে দিতে হবে। এই অন্যটা অবশ্য কে হবেন তার রূপরেখা উন্মোচিত না করলেও আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি। ৮০ দশকের ভুল হতে ইতিমধ্যে শিক্ষা নিয়েছে হীরক রাষ্ট্র। পকেটে নগদ ধরিয়ে নোবেলে আদায় যে সম্ভব নয় মহিউদ্দিন খান আলমগীরের চেষ্টা হতেই তা প্রমানিত হয়েছিল। রাজ্যের নতুন কোতোয়ালের দল তাই এ পথে না গিয়ে আবিস্কার করল নতুন এক পথ, হীরক রাজ্যের শান্তির মডেল। এই মডেলের সার সংক্ষেপ দেশীয় বাজারে উন্মুক্ত না করে বরং তা সরাসরি এক্সপোর্ট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রাজ্যের অবলা প্রজাদের জানারও সুযোগ হয়নি তাদের রাজার জন্যে বিশ্ব বাজারে মার্কেটিং চলছে। শাটল ডিপ্লোম্যাসির অংশ হিসাবে কথিত শান্তির মডেল ইতিমধ্যে তুলে দেয়া হয়েছে বিশ্বের অনেক রাজা বাদশাদের দরবারে। অবশ্য এবার আর খান আলমগীর নন, এ কাজে নিয়োগ করা হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুন শক্তি। জাহাঙ্গীর কবির নানক আর মির্জা আযম (প্রাক্তন গোলাম আযম) নামক দুই কোতোয়ালের সৌভাগ্য হয়েছিল হীরক রাজ্যে শান্তির মডেল বাস্তবায়নের চাক্ষুস স্বাক্ষী হতে। বিডিআর নামক সরকারী প্রতিষ্ঠানে চলছে অশান্তি। এই প্রতিষ্ঠানের ৩০৩ রাইফেলধারী সিপাইরা তাদের বসদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হুমকি দিচ্ছে দাবি আদায়ের। বিদ্রোহীদের নেতা ডিডি তৌহিদকে তলব করা হয় হীরক রাজ্যের মগজ ধোলাই কেন্দ্রে। রক্তের সমুদ্র এড়ানোর লক্ষ্যেই নাকি এই নেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিডিআর প্রধান বানানোর ঘোষনা দেয়া হয় রাজ্য দপ্তর হতে। দেড় শতাধিক অফিসার ও তাদের পরিবারের অনেককে কচুকাটা করে ভাসিয়ে দেয়া হয় মলমূত্রের পাইপ লাইনে। এবার রক্তের মহাসমুদ্র এড়ানোর লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের খুন পর্ব সমাধা পূর্বক পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়। এমনটাই নাকি হীরক রাজ্যের শান্তির মডেল। মির্জা আযম ও নানক গং খুব কাছ হতে অবলোকন করতে সক্ষম হয়েছিলেন মডেলের বাস্তবায়ন। কোতয়ালদ্বয় মডেলের এই অভাবিত সাফল্যে হতবাক হয়ে হীরক রাজার পদতলে তাৎক্ষণিকভাবে তুলে দেয় ‘শান্তিকন্যা’ উপাধি। হয়ত ক্ষুদ্র উপাধির উপলদ্ধি হতেই জন্ম নিয়েছিল বৃহত্তর বিশ্ব প্রকল্পের।

’সফল’ এই মডেলকে বাংলাদেশের মত ক্ষুদ্র পরিসরে সীমিত রাখা এক অর্থে অন্যায়, পাপ। তাই নানক-আযম গং শেখ মনির মুজিববাদের কায়দায় বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবল পূর্ব ইউরোপের চরিত্রহীন দেশগুলোতে নয়, হীরক রাজ্যের শান্তির মডেল ইতিমধ্যে তুলে দেয়া হয়েছে জার্মানীর মত উন্নত দেশের হাতে। দুদিন আগে এ মডেল হস্তগত হয়েছে এক কালের পরাশক্তি রুশ সরকারের হাতে। স্থানীয় মিডিয়ার মতে জার্মানি ও রাশিয়া সহ আরও অনেক দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে স্ব স্ব দেশে এই মডেল বাস্তবায়নের। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মডেল নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ব শান্তিতে তা কিভাবে প্রয়োগ করা যার তার কৌশল নির্ধারণ করবে এবারের অধিবেশন। অসলোর নোবেল কমিটি চাইলেও এ যাত্রায় বাইন মাছের মত পিছলাতে পারবে বলে মনে হয়না। হীরক রাজ্যের অধিপতিকে যেদিন নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হবে রাজ্যের টেকনাফ হতে তেতুলিয়া পর্যন্ত হাতি নাচবে, ঘোড়া নাচবে, বান্দর গান গাইবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মডেলের বিশ্লেষণ করতে হীরক রাজাকে আমন্ত্রন জানানো হবে। রাজা শত শত পাইক বরকন্দাজ নিয়ে সফরে যাবেন এবং স্বদেশে গণশৌচাগার পর্যন্ত নিজ পিতার নামে নামকরণের স্বার্থকতা বিশ্লেষণ করবেন।

জাতি হিসাবে আমাদের দৈন্যতা, ব্যর্থতা, চটুলতা আর মানসিক বিকলাঙ্গতা নিয়ে বিশ্ব সমাজ খুব যে একটা উদ্বিগ্ন এমনটা ভাবার কারণ নেই। পৃথিবীর প্রতিটা জাতিরই নিজস্ব কিছু সমস্যা থাকে, যার চৌহদ্দিতেই বেড়ে উঠে সে জাতি। কিন্তু এই বিকলাঙ্গতা যদি ঘর হতে বের করে আর্ন্তজাতিকায়নের চেষ্টা করা হয় সময় আসবে যখন এ নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করবে বিশ্ব সম্প্রদায়। হয়ত উপহাস করবে, বিদ্রুপ করবে। দেশ শাসনে শেখ হাসিনার শান্তির মডেল, এ ধরণের একটা সস্তা ধাপ্পাবাজি কেবল নাইজেরিয়ান স্ক্যামের সাথেই তুলনা করা চলে। আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসে এ ধরণের অনৈতিক কাজের উদাহরণ দ্বিতীয় একটা পাওয়া যাবে বলে মনে হয়না।

একজন ব্লগারের সাম্প্রতিক লেখা হতে জেনেছি হংকংয়ে একটা যাদুঘর আছে যেখানে প্রদর্শিত হয় দেশটার দুর্নীতির অতীত ইতিহাস। কোন এক সহস্রাব্দে বাংলাদেশও যদি সক্ষম হয় তার অপশাসন, কুশাসন, দুর্নীতি আর ব্যক্তিপুজার কলংকিত অধ্যায় হতে বেরিয়ে আসতে সেদিন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার জন্যে হলেও প্রয়োজন হবে নতুন একটা জাদুঘরের, যেখানে কালো অক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে হাসিনা, খালেদা, এরশাদ, নিজামী আর আমিনী নামের রাষ্ট্রীয় ভন্ডদের ভণ্ডামির কলংকিত ইতিহাস.

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29450278 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29450278 2011-09-18 12:33:18
শেখ হাসিনার শান্তির মডেলে সমর্থন দিলো রাশিয়া; সহস্রাব্দের সেরা জোক!
জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তির মডেলে সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমর্থনের ঘোষণা দেয়া হয়। ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানা গেছে। আওয়ামী যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে যুবলীগের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে রাশিয়া এই ঘোষণা দেয়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুইপ মির্জা আজম এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারাকাত প্রমুখ।

প্রতিনিধি দল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি মেদভেদের পক্ষে তার উপদেষ্টা ড. আসলাম বেগ আসালনভের কাছে এবং প্রধানমন্ত্রী পুতিনের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক সহকারী ইউবি ভি উসকাভের কাছে শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের প্রস্তাবনা হস্তান্তর করে।

জাতিসংঘে ‘জনগণের মতায়ন’ শীর্ষক শেখ হাসিনার শান্তির মডেলের উপর আলোচনার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের একদিন পরই নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য রাশিয়া নিরঙ্কুশ সমর্থন এই প্রস্তাবের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিলো।

প্রস্তাবের সমর্থন দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টা আসলাম বেগ বলেন ‘শেখ হাসিনার এই মডেলের ভিত্তিতে আমাদের সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একযোগে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, এটা কেবল একটি দর্শন নয়, এটি হলো মানবতার মুক্তির সনদ। শেখ হাসিনাকে এসময়ের বিশ্বের অন্যতম ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা বলেন, ‘তার কর্মউদ্দীপনা সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক, জাতিসংঘে উপস্থাপিত প্রস্তাবে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এজন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।’

এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তির মডেলের প্রস্তাবনা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির অফিসে হস্তান্তর করে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন ‘সন্ত্রাস সঙ্কুল বিশ্বে শান্তি আনতে পারে এই মডেল।’
********************************************************************
শান্তির মডেলঃ

নমুনা ১:
বাংলাদেশের রাজনীতি আগামীতে কোন দিকে মোড় নেবে তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই বিরোধী দলকে আরো কাবু করে ফেলতে চাইছে সরকার। বর্তমানে অর্থনৈতিক টানাপড়েন, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ, পানি সমস্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ বিভিন্ন কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংসদ, প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ কোথাও ক্ষমতার ভারসাম্য নেই। সরকারের ভেতরে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতার একাধিক বলয়। এক পক্ষের ভাবনার সাথে অপর পক্ষের কোনো মিল নেই। প্রশাসনে সাবেক বামপন্থীদের দাপটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও এখন কোণঠাসা। কাজের মধ্যেও নেই ন্যূনতম সমন্বয়। এ অবস্খায় জনগণ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিরোধী দল এ অবস্খায় কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইলে জনগণ তাতে সাড়া দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কাজেই বিরোধী দলকে কিছুতেই সে সুযোগ দেয়া যাবে না। আন্দোলন ঠেকানোর মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিই সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।

নমুনা২:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ১শ’ জনের এক বিশাল বহর নিয়ে জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামীকাল শনিবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। সফরসঙ্গী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত ১২ জনের মধ্যে ৭ জন আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা। ৪ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী এবং অন্যজন গোপালগঞ্জের এক স্কুলশিক্ষক।

নমুনা৩:

দুর্নীতি ও নানা ধরনের কেলেঙ্কারির মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটে জড়িতদের ছেড়ে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম ধস সৃষ্টি করে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাত্কারী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করে রিপোর্ট তৈরি করেছে দুদকের অনুসন্ধানী টিম। টিমের প্রতিবেদনে রাঘব-বোয়ালদের বাদ দিয়ে শুধু সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাসহ তাদের ৫ আত্মীয়ের সম্পদের হিসাব নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ সুপারিশ পেশের মধ্য দিয়েই শেয়ার কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের ধরতে দুদক পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযান শেষ হয়েছে। দুদক সূত্র এ তথ্য জানায়। এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা অনুসন্ধানে দুদক টিম যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। আইন ও বিধি-বিধানের ভেতরে থেকে দুদকের পক্ষে যতটা সম্ভব, তা পরিপূর্ণভাবে করা হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দুদক কিছু করতে চায় না।

নমুনা৪:

পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবমতে, আগস্টে মূল্যস্ফীতি (মাসভিত্তিক) হয়েছে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত ৪৩ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এর আগে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ হয়েছিল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29449496 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29449496 2011-09-17 00:53:06
মনমোহন ও মেইসি, দুই মঞ্চের দুই নায়ক এবং আমাদের চাওয়া পাওয়া... একই সময়ে একই প্যারালালে দুটি নাটক মঞ্চস্থ হয়ে গেল ঢাকার মাঠে। একদিকে কর্মমুখর সরকারী মাঠ, অন্যদিকে আনন্দমুখর খেলার মাঠ। বিপরীতমুখী দুই মাঠের নায়কও ছিলেন ভিন্নমুখী দুই বিদেশি। সরকারী মাঠের মনমোহন সিং আর খেলার মাঠের লাইওনাল মেসি। উভয়ই আসলেন, দেখলেন এবং জয় করে গেলেন। নিরামিষভোজি মনমোহন বাবুকে ইলিশ দিয়ে বরণ করা হলেও মেসি বাহিনীর আপ্যায়নে কোন মাছ ব্যবহার করা হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠা একদল প্রফেশনাল ফুটবলার বাংলাদেশের ট্র্যাডিশনাল আহারাদি নিয়ে খুব যে একটা উন্মাদনা দেখাবে এমনটা মনে করার কারণ নেই। মেসিরাও হয়ত দেখায়নি। আশাকরি তা সত্বেও ’রূপসি বাংলা’ ত্রুটি দেখায়নি এসব নামি দামি তারকাদের আথিতেয়তায়। জাতিকে ৯০ মিনিটের আনন্দ দিতে ৩০ কোটি খরচ করে উড়িয়ে আনা হল দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা আর আফ্রিকার নাইজেরিয়ান ইগলদের। পাশাপাশি জাতি হিসাবে আমাদের ভাগ্য বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে উড়ে এলেন প্রতিবেশি দেশের মনমোহন সিং। মনমোহন বাবুদের আতিথেয়তায় অবশ্য ত্রুটির সুযোগ ছিলনা, কারণ এ কাজে নিয়োজিত ছিল সরকারের সবকটি প্রতিষ্ঠান।

ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত নাটক দুটি হতে জাতি হিসাবে আমাদের প্রাপ্তির কিছু রূপরেখা আগ বাড়িয়েই প্রকাশ করা হয়েছিল। মনমোহন বাবুর বাংলাদেশের সফর ও এর রাজনৈতিক ও আর্থিক লেনদেনের আগাম হিসাবে বলা হয়েছিল পানি চুক্তি হবে, সীমান্ত চুক্তি হবে, চুক্তি হবে ট্রানজিটের উপর এবং কথা হবে দুই দেশের অসম ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে। চাওয়া পাওয়ার সমীকরণ করার জন্যে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে দেশের গোটা সুশিল সমাজ। আমরা হয়ত খুব শীঘ্রই জানতে পারব এর চূড়ান্ত ফলাফল। ফুটবলের হিসাবটা কেন জানি একটু ঘোলাটে মনে হচ্ছে। সাউথ আমেরিকার দেশ পেরুর একট দৈনিকে প্রকাশিত একটা খবর পড়ে চমকিত না হয়ে পারলাম না। খবরটা ছিল মেসি বাহিনীর বাংলাদেশ সফরের উপর। গোটা আর্টিকেলটা ছিল ঠাট্টা, তামাশা, পরিহাস-উপহাসে ভরা। আর্জেন্টাইন ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশি উন্মাদনাকে তুলনা করা হয়েছে সস্তা মাতলামির সাথে। বিদেশিদের কাছে ঠাট্টা মনে হলেও আমাদের ফুটবল কর্তাদের কাছে এই সফর ছিল দেশিয় ফুটবলকে বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি হিসাবে। বলা হয়েছিল মেসি যাদু শুধু ষ্টেডিয়ামে নয় বরং ছড়িয়ে পরবে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে। ফুটবলের নতুন বস সালাউদ্দিন বলছেন এ কেবল শুরু, এরপর আসতে শুরু করবে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, বার্সিলোনা, ব্রাজিল, স্পেনের মত নামি দামী ক্লাব আর দেশের ফুটবল দল। ৩০ কোটি টাকার মত অংক খরচ করলে পৃথিবীর যে কোন দেশের যে কোন ফুটবল দলকে বঙ্গবন্ধু ষ্টেডিয়ামে নামিয়ে আনন্দ উল্লাস করা যাবে। তাতে বাংলাদেশের কংকালসার ফুটবল কতটা লাভবান হবে তার উওর পেতে আমাদের বোধহয় একটু অপেক্ষা করতে হবে। তবে এই ৩০ কোটি টাকার একটা বিরাট অংশ আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ঘুরে শেষ পর্যন্ত কার পকেটে যাবে তার হিসাব কষতে আমাদের বোধহয় সময়ের প্রয়োজন হবেনা। ফুটবল নয়, সদ্য সমাপ্ত আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচকে বরং নাইজেরিয়ান স্ক্যাম হিসাবে আখ্যায়িত করলে বোধহয় যথার্থ হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29444633 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29444633 2011-09-08 11:03:04
মনমোহন সিং, ভারত ও এর প্রতিবেশি সমস্যা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাবু মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ আগমন এখন সময়ের ব্যাপার। এ নিয়ে চলছে তুমুল আয়োজন। শাটল ডিপ্লোম্যাসিতে সরগরম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। প্রতিবেশি ৫টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে মনমোহন বাবু যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশিয় নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সক্রিয় থাকবে প্রতিবেশি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার অনেক সদস্য। এডভান্স টিম হিসাবে ওদের অনেকেই এখন বাংলাদেশে। সরকার প্রধানের নিরাপত্তা প্রতিবেশি দেশের উপর ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, তাই দফায় দফায় প্রতিনিধি পাঠিয়ে পরখ করে নিচ্ছে স্থানীয় আয়োজনের নাট বল্টু। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সমকালীন ভূমিকা বিচার করলে ভারতের এহেন আচরন অনেকের কাছে অসংগতিপূর্ণ মনে হতে পারে, বিশেষ করে পশ্চিমা দুনিয়ায় যেখানে ভারতের বর্তমান পরিচয় উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসাবে। কিন্তু আমরা যারা এই উদীয়মান শক্তির নিকট প্রতিবেশি তাদের অনেককেই অবাক করবে না একটা বেনিয়া জাতির আন্ত-প্রতিবেশি সম্পর্কের এই রুগ্ন চিত্র। পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ সহ প্রতিবেশি কোন দেশের সাথেই গ্রহনযোগ্য তেমন কোন সম্পর্কে নেই যা নিয়ে গর্ব করতে পারে আজকের ভারত। প্রতিবেশি দেশগুলোর অভ্যন্তরীন সমস্যার আড়ালে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা এতদিন সফল হয়ে আসলেও ইদানিং মুখ খুলতে শুরু করেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। এ দৌড়ে ব্রিটেনের দ্যা ইকনোমিষ্ট ম্যাগাজিন অনেকটাই এগিয়ে। পাহাড় সমান বানিজ্য ঘাটতি, সীমান্ত জুড়ে ইসরায়েলী কায়দায় কাটাতারের বেড়া, চোরাচালান বানিজ্য নিয়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বেপরোয়া মনোভাব এবং ফ্রি স্টাইল বাংলাদেশি হত্যা কোন অবস্থাতেই যে সুপ্রতিবেশীসুলভ মনোভাব প্রকাশ করেনা সাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় তার বিস্তারিত তুলে ধরেছে এই ম্যাগাজিন। এমনি এক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর টানাপোড়ন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এমনটাই আশা করছে ভারত বান্ধব বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি ভিত্তিক সম্পর্কের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতীয় কমিটমেন্ট কতটা হাল্কা তার প্রমান মেলবে অতীতের পানি বন্টন চুক্তি ও এর বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় আনলে।

মনমোহন সিংয়ের সফর হতে সার্বভৌম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ কি আসলেই কিছু আশা করতে পারে? একথা বলার আপেক্ষা রাখে না অফিসিয়াল চুক্তির যে কোন ফসল ঘরে তুলবে বাংলাদেশ। চুক্তির মাধ্যমে যোগ করার মত এমন কিছু নেই ভারতীয়দের মেনুতে যা আনঅফিসিয়ালি আদায় হচ্ছে না বাংলাদেশ হতে। গোটা বাংলাদেশ পরিনত হয়েছে ভারতীয় পণ্যের অভয়ারণ্যে। চাল, ডাল, তেল, লবন, হাস, মুরগী, গরুর পাশাপাশি দেশটার আপদমস্তক গ্রাস করে নিয়েছে ভারতীয় হাল্কা ও ভারী শিল্পে। তুলা নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক চালবাজি এক ধাক্কায় পথে বসিয়েছে দেশের গোটা স্পিনিং শিল্পকে। প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল বাংলাদেশ ঘিরে বেড়ে উঠা ভারতীয় সূতা শিল্প। পোশাক শিল্পের সুসম চাহিদা মেটানোর তাগাদা হতেই বেড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের নিজস্ব স্পিনিং নেটওয়ার্ক। কিন্তু বেনিয়া ভারতীয়রা সহজভাবে নেয়নি এই উত্থান। নিজেদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার কাজে প্রতিবেশি দেশে পছন্দের রাজনৈতিক সরকার থাকা কতটা জরুরি তার প্রমান রেখেছে আজকের আওয়ামী লীগ সরকার। এই সরকারের কাধে বন্দুক রেখেই ছোড়া হয়েছিল প্রথম ভারতীয় গোলা। হঠাৎ করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেয় স্থলপথে সূতা আমদানী বন্ধ করার। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় দেশের তাঁত শিল্পে। সূতার দাম আকাশে চড়ে রকেটের গতিতে এগিয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলস্বরূপ রাতারাতি বন্ধ হয় বাবুরহাট ভিত্তিক হাজার হাজার তাঁত। বেকার হয়ে পরে এর সাথে জড়িত কয়েক লাখ শ্রমিক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের স্পিনিং মিলগুলো। লাগামহীন মূল্যের কারণে অনেকেই পুঁজি হারিয়ে সর্বশান্ত হতে বাধ্য হয়। গায়ের জোরে টিকে থাকতে গিয়ে বাকিদের বিনিয়োগ করতে হয় অতিরিক্ত মূলধন। ভারত হতে অতিরিক্ত মূল্যে তুলা কিনে নিজদের কারখানা চালু রাখার আয়োজন সমাপ্ত করার সন্ধিক্ষণে ঘটে অলৌকিক ঘটনা। বেনিয়া ভারতীয়রা রাতারাতি সূতার মূল্য অর্ধেক কমিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয় দেশের স্পিনিং মিল গুলোকে। তাঁতশিল্প তার নিজস্ব অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কারণে মুখাপেক্ষী হতে বাধ্য হয় ভারতীয় সূতার উপর। মাঝখানে পথে বসে যায় এ কাজে নিয়োজিত স্থানীয় ভারী শিল্প। সাম্প্রতিক সময়ে একই অভিযোগ তোলা হচ্ছে দেশের চিকিৎসা খাত হতে। বড় ও আধুনিক কয়েকটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে কথায় কথায় ভারতে চিকিৎসা করার সাংস্কৃতি হালে পানি পাচ্ছেনা দেশের উচ্চ মধ্যবিত্ত ও বিত্তবান পরিবারে। আর এ কারণে পথে বসার অবস্থা হয়েছে বাংলাদেশি রুগী ভিত্তিক গড়ে উঠা ভারতের বিশাল চিকিৎসা নেটওয়ার্ক। দেশের চিকিৎসা খাতকে পরিকল্পিতভাবে অস্থির করে তোলার আভিযোগ এনেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। অর্থনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে প্রতিবেশি দেশ ভারত বাংলাদেশের জন্যে কতটা করতে ইচ্ছুক তার নগ্ন উদাহরণ বাংলাদেশি ক্রিকেট। আইসিসির পূর্ণ সদস্য লাভের পর পৃথিবীর সব দেশে খেলার সুযোগ পেলেও আমাদের সবচেয়ে কাছের দেশ ভারতে খেলার সুযোগ পায়নি আমাদের ক্রিকেট দল। কারণ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে এর লাভক্ষতির হিসাব। বাস্তবতা হচ্ছে, এমনটাই ভারতের আসল পরিচয়, লাভক্ষতি। এই লাভক্ষতির বাইরে গিয়ে প্রতিবেশি অনুন্নত দেশ বাংলাদেশের জন্যে তারা কিছু করতে ইচ্ছুক এমনটা যারা বুঝাতে চাচ্ছেন হয় তারা জাতি হিসাবে ভারতীয়দের চিনতে ভুল করছেন অথবা একই সরকারের আর্থিক সুবিধা নিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করছেন।

মনমোহন সিং বাংলাদেশে আসছেন এ দেশে আটক উলফা নেতাদের ফিরিয়ে নিতে, আসছেন সাত কন্যার জন্যে করিডোরের ব্যবস্থা করতে। আসাম, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম সহ বঞ্চিত সাতকন্যার বাকিদের বুকে দানাবেঁধে উঠা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমন করা জরুরি হয়ে উঠেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জন্যে। নিজেদের পছন্দের দল আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়। এমন মোক্ষম সুযোগ হেলায় হারানোর মত বেয়াক্কেল দেশ ভারত নয়। বাংলাদেশিদের চোখে ধুলা দিতে কঠিন কঠিন শব্দে ভরা চুক্তি নামক কাগজে তারা স্বাক্ষর করবে ঠিকই কিন্তু আওয়ামী সরকারের বিদায়ের পর এর বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিক হবে তার নমুনা পাওয়া যাবে পানি বন্টন সংক্রান্ত অতীতের চুক্তি হতে। বর্তমান আওয়ামী সরকার জোর গলায় প্রচার করছে দেশ হতে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের। সন্ত্রাসবাদের অর্থ যদি কেবল আসামের উলফা নেতাদের নির্মূল হয় সন্দেহ নেই সরকার চরম সফল এ কাজে। ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে আটক অনেক উলফা নেতাকেই তুলে দেয়া হয়েছে ভারতের হাতে। কোন আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতির ভিত্তিতে এই হস্তান্তর সম্ম্পন্ন হয়েছে তার বিস্তারিত জানতে আমাদের বোধহয় আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। একপক্ষীয় এই হস্তান্তর বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ শান্তির ক্ষেত্রে কতটা হুমকির সৃষ্টি করবে তার ধারণা পেতেও অপেক্ষার বিকল্প নেই। বাংলাদেশকে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের অন্যতম আখড়া আখ্যায়িত করতে মুখের চামড়া মোটেও মোটা করছে না বর্তমান সরকার। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাংলা ভাই আর শেখ আঃ রহমান অধ্যায়ের পর দেশের মাটিতে এমন কোন ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের নিশানা পাওয়া যায়নি যা নিয়ে বিদেশে উত্থাপনের মত কেস তৈরী করা যেতে পারে। কিন্তু সরকার এমনটাই করে যাচ্ছে অনেকটা তোতা পাখির মত। অতীতের মত বর্তমানেও বাংলাদেশের আসল সন্ত্রাসী সমস্যা এর পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা। আমাদের সবার জানা এই সমস্যার আসল জন্মদাতা প্রতিবেশি দেশ ভারত। অস্ত্র আর ট্রেনিং দিয়ে বাংলাদেশের বৈধ একটা অংশকে বিছিন্ন করার চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সরকার। ভারতীয়দের বেলায় যা বৈধ আমদের বেলায় তা সন্ত্রাসবাদ, এমন একটা হিপোক্রেসির সমাধা না করে পরেশ বড়ুয়া আর অনুপ চেটিয়াদের হস্তান্তর করা হবে আত্মহত্যার শামিল। আওয়ামী লীগ এমন একটা ফাঁদেই বোধহয় পা দিতে যাচ্ছে।

ভারতের মত বিশাল একটা দেশের সাথে স্থায়ী বৈরিতা কোনভাবেই আমাদের মত ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতির দেশের কাম্য হতে পারেনা। আজকের ভারত উন্নত বিশ্বের জন্যেও উদাহরণ। আভ্যন্তরীণ সম্পদ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কিভাবে সুসংহত করা যায় তৃতীয় বিশ্বের জন্যে ভারতীয় ভূ-রাজনীতি হতে পারে পারফেক্ট উদাহরণ। জাতি হিসাবে আমদের অনেক কিছু শেখার আছে ভারতীয়দের কাছে। কিন্তু নেংটা নতজানু অথবা ভাওতাবাজির বিরোধীতা কোনটাই এ কাজে সহায়ক হবে বলে মনে হয়না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29443094 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29443094 2011-09-05 01:26:58
'৭১ এর দেনা, মূল্য ২০০ ভরি মাত্র!
দেয়ার শুরুটা সোনিয়া গান্ধিকে দিয়ে। ২০০ ভরি সোনা দিয়ে পরিশোধ করলেন ৭১’এর ঋণ। বর্তমান বাজার দরে এর মূল্য হবে প্রায় ১ কোটি টাকা। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার যে নতুন পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে তার দাড়িপাল্লায় দাঁড় করালে এর মূল্য কি হবে তা নির্ণয় করতে আমাদের হয়ত কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ডাইনাসোর অর্থনীতির দেশ ভারতের অলিখিত প্রধান ইতালিয়ান নাগরিক সোনিয়া গান্ধি ২০০ ভরি সোনা অথবা ১ কোটি টাকা নিয়ে খুব একটা উচ্ছসিত অথবা বিচলিত হবেন ভাবার কোন কারণ নেই। এই দেওয়ার ভেতর উচ্ছাস বলতে যা ছিল তার সবটাই ছিল আমাদের। সোনিয়া গান্ধি হাসলেন, ধন্যবাদ জানালেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মৃতা শাশুড়িকে সন্মান জানানোর জন্যে। একজন প্রফেশনাল রাজনীতিবিদের যতটা করা যৌক্তিক তার সবটাই করলেন ভারত নেত্রী। এ বিবেচনায় আমাদের নেত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের মহিলা মন্ত্রীদের ভুবনজোড়া হাসি আর বিশ্ব কাঁপানো উচ্ছাস নতুন করে প্রমান করেছে কেবল নেওয়া নয়, দেওয়ার ভেতরও সুখ লুকিয়ে থাকে। আর এ সুখ প্রকাশের জন্যে চাই একটা উপলক্ষ। ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল তেমনি একটা উপলক্ষ। অবশ্য মন্দ লোকের ধারণা শাশুড়িকে নয় বরং গেল নির্বাচনে ক্ষমতায় বসানোর মূল্য পরিশোধ করেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

বোধহয় দেওয়ার কোন মন্ত্র দিয়ে গেছেন সোনিয়া গান্ধি। তা না হলে এই নেত্রীর বিদায়ের পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার কেন দেওয়ার প্রতিযোগীতায় নামবেন। প্রতিযোগিতাটা অবশ্য নিজের সাথে নিজের মধ্যেই সীমিত রেখেছেন তিনি। প্রথম ঘোষনা এলো অনুপ চাটিয়াকে দেয়ার। আসামের উলফা নেতা অনুপ চাটিয়া অনেকদিন ধরেই আমাদের হাতে বন্দী। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে নয়,ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে উপহার দেয়া হচ্ছে অনুপ চাটিয়াকে। এ যেন রাজার পদতলে প্রজা বলি দেয়ার সামন্তযুগীয় আচার! সাথে আরও দেয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর, দেশের নড়বড়ে রাস্তাঘাট, জরাজীর্ণ রেললাইন সহ ক্ষয়িষ্ণু অবকাঠামোর অনেককিছু। বিনিমিয়ে কোন কিছু দাবি করা হবে বেহায়াপনা, এমনটাই ঘোষনা দিয়েছেন সরকারের জনৈক মন্ত্রী।

এখানেই থেমে থাকেননি চ্যাম্পিয়ন দেশপ্রেমিক নেত্রী। এতদসংক্রান্ত আরও একটা খবর এসেছে আজকের পত্রিকায়।

ভারতকে বাংলাদেশের ২৬১ একর জমি দিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ঢাকা আসার আগেই বাংলাদেশের তামাবিল, নলজুড়ি ও লিঙ্কহাট সীমান্তের ২৬১ একর জমি ভারতের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া সমাপ্ত করবে হাসিনা সরকার। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাও জানিয়েছে এ খবর।

ফেলানী রক্তের সবটাই কি শুকিয়ে গেছে? নাকি কাঁটাতারে সীমান্তে এখনো ঝুলে আছে তার পরিধেয় বস্ত্র আর শুকিয়ে যাওয়া দুএক ফোটা রক্ত? বাংলাদেশিদের জীবন নিয়ে হোলিখেলায় অভ্যস্ত বেনিয়া ভারতীয়দের খাতিরযত্ন আর সেবাদাসত্ব করার যে উলঙ্গ সাংস্কৃতি চালু করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তার আসল উদ্দেশ্য কি কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাবে নীচের খবরটায়ঃ

ভারতীয় অর্থ এবং পরামর্শে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ফুটতে শুরু করে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট সম্প্রতি প্রকাশ করেছে এ ধরণের একটি প্রতিবেদন।

দুটি প্রতিবেশি দেশের সম্পর্ক কতটা অসম ও অনৈতিকতার উপর দাড়াতে পারে তার লজ্জাজনক উদাহরণ স্থাপন করতে যাচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। এবং তার সবটাই করছেন মুক্তিযুদ্ধের নামে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কজন ভারতীয় মনেপ্রাণে স্বীকার করে জানা আছে কি ভারতপ্রেমী নেত্রীর? ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দেনা শোধ করার থাকলে প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ হবে নিজের পকেট হতে দাসত্বের মূল্য শোধ করা। বিলিয়ন ডলার বানিজ্য ঘাটতি, ফারাক্কা অভিশাপ আর সীমান্তে ফেলানিদের লাশ রেখে প্রতিবেশীর দেনা শোধ করার মত তেমন কিছু নেই আমাদের। ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার দেনা শোধ যদি বাকি থাকে তাহলে বলব, কাড়ি কাড়ি অর্থ দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ই তা শোধ করে দিয়েছে সেই ৭১ সালে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29425901 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29425901 2011-08-05 12:13:12
কথা আস্তে বলেন, জিল্লুরের বিচার চলিতেছে...

’রব তেরা কোন হ্যায়?’

থতমত খাইয়্যা গেল আসামী। কি বলিতে হইবে কিছু বুঝিতে পারিল না। অসহায়ের মত চারদিকে তাকাইল। মনে হইল কাহাকে যেন খুঁজিতেছে সে। দর্শকের আসনে বসা অনেকেই বিড় বিড় কি একটা নাম উচ্চারণ করিল যাহা আসামী পর্যন্ত পৌঁছাইল না দূরত্বের কারণে। উকিল আবারও জিজ্ঞাসা করিল, ’রব তেরা কোন হ্যায়’, এইবার চড়া গলায়।

’রব মেরা হাসিনা হ্যায়’, অনেকটা যন্ত্রের মত উচ্চারণ করিল এ যাত্রায়।

মারহাবা মারহাবা শব্দে মুখরিত হইয়া গেল চারিদিক। কোর্টে বসা সবাই হাফ ছাড়িয়া বাঁচিল, যাক, শেষ পর্যন্ত মনে করিতে পারিয়াছে। বিচারক কিছু বুঝিতে পারিলেন না। তাহার দুই চোখে দুইটা আগুনের গোল্লা জ্বলিতে দেখিল আসামী। থরথর করিয়া কাঁপিয়া উঠিল তাহার সর্বাঙ্গ।

’কোন হ্যায় তেরা রব?’

’পরোয়ারদিগার, হাসিনা মেরা রব হ্যায়’

দর্শকদের আসন হইতে কেউ একজন খুক করিয়া হাসিয়া উঠিল। বাকিদের মাঝেও সংক্রামিত হইল এই হাসি। হাসির রোল পরিয়া গেল চারিদিকে। তবে বিচারক হাসিলেন না। তিনি কঠিন দৃষ্টিতে তাকাইলেন জিল্লুর দিকে। জিল্লু যাহা বুঝিবার তাহা বুঝিয়া গেল। ফাটা বেলুনের মত চুপ্‌সাইয়া গেল তাহার শরীর।

যেনতেন আদালত নহে, খোদ ঈশ্বরের আদালত বসিয়াছে আজ। গোসসায় আছেন তিনি। উপলক্ষটাও ভয়াবহ। কোথাকার কোন জিল্লু তাহার নিজের লেখা আমলনামায় হাত দিয়াছে। তাও আবার একবার নয়, একাধিক বার। ঈশ্বরের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করিয়া তাহার পেয়ারের বান্দাদের ভাগ্য নিজ হাতে লিখিবার সাহস করিতেছে।। উপায় না দেখিয়া মিনি হাশর ঘোষনা করিতে বাধ্য হইলেন তিনি। অবকাশকালীন আখেরাতে বিচার চলিতেছে জিল্লু মিয়ার। বিচারকের আসনে খোদ ঈশ্বর। উকিল হিসাবে নিয়োগ পাইয়াছেন আজরাইল। জিল্লুরের কোন উকিল নাই। ইহাই নাকি এই দুনিয়ার নিয়ম।

- বান্দা, তোমাকে আমি মগজ দিয়াছি, বিবেক দিয়াছি, বিবেচনা করিবার তৌফিক দিয়াছি, এইসব জলাঞ্জলি দিয়া কোন লালসায় তুমি কাগজে সই করিলে? তোমার কি জানা নাই এই সবের মালিক একমাত্র আমি?

’আমার নেত্রী কখনো ভুল করিতে পারেন না’, দম দেয়া পুতুলের মত বাহির হইয়া গেল জিল্লুরের মুখ হইতে। ঈশ্বর নড়িয়া চড়িয়া বসিলেন।

’হে গন্দমখোর আদম, একটু আগে বলিলে তোমার রব, এখন বলিতেছ তোমার নেত্রী, জানিতে খায়েস হয় কে এই নেত্রী, কে এই রব? বাংলাদেশি নেতা-নেত্রীদের খাতাপত্র ঘাঁটিবার ইচ্ছা হয়না আমার , ইহাতে সর্বাঙ্গ অপবিত্র হয় কেবল। বরং তুমিই বর্ণনা কর তোমার কেইস।

আগের মত আবারও কাউকে খুঁজিবার চেষ্টা করিল দর্শকদের আসনে। এন্টেনার মত চারদিকে চোখ ঘুরাইল। কিছু একটা বলিতে চাহিল, কিন্তু মুখ হইতে একটা শব্দও বাহির হইল না। এইভাবে দুইশত বছর (আখেরাতের) পার করিয়া দিল সে। ঈশ্বরের তাড়া আছে, আরেক বাংলাদেশি নেতাকে শূলে চড়াইতে হইবে আজ, তাড়াহুড়ার তাগাদা দিলেন তিনি। কিন্তু জিল্লু নীরব। সেই যে মাথা নীচু করিল ২০০ বছরেও আর সোজা হইল না। ঈশ্বর উপায় না দেখিয়া হাবিল-কাবিল ভাতৃদ্বয়কে তলব করিলেন।

হে পেয়ারের হাবিল-কাবিল, জিল্লু যখন কাগজে সই করে তোমরা নিশ্চয় ডাইনে-বামে আছিলা, কথাবার্তা যাহাই হইয়াছিল তাহা নিশ্চয় রেকর্ড করিয়াছ, হুকুম করিতেছি, বাজাও সে রেকর্ড।

বলিতে সময় লাগিল কিন্তু বাজিতে সময় লাগিল না। ঈশ্বরের আরশ কাঁপিয়া উঠিল ১৩ কোটি ডেসিবেল ক্ষমতাসম্পন্ন শব্দ তরঙ্গের শানিত আওয়াজে। বাজিতে শুরু করিল রেকর্ড।

- নানা, আছেন কেমন? তা কি করিতেছিলেন?
খটাস আওয়াজ শোনা গেল রেকর্ডে। শ্রোতাদের বুঝিতে আসুবিধা হইল না, চেয়ার হইতে দাঁড়াইতে হইয়াছে বৃদ্ধ জিল্লুকে। এমন একজন ফোন করিয়াছেন যাহার সাথে চেয়ারে বসিয়া কথা বলিবার অনুমতি নাই।

-জ্বে ভাল। আপনের দয়ায় প্রেসিডেন্টগীরি করিতেছি। দোয়া কইরেন।
- হুম! ফুলটাইম চাকরীডা দিয়া আমি বোধহয় ভুলই করছি। আপনের বিশেষ কস্ট হইতেছে নিশ্চয়?
- হে হে, কষ্ট হইলেও ইহা বড়া মধুর। অধিকন্তু আপনার সেবা আমার সুন্নত। ইহাই আমার আখিরাত, ইহাই জান্নাত।

হাত দিয়া দুই কান ঢাকিবার ব্যর্থ চেষ্টা করিলেন সর্বশক্তিমান।

- না না, এইভাবে বলিবেন না, বলিলে শরম লাগে।
- কিভাবে বলিলে শরম কম লাগিবে একখান সিদ্ধান্ত দিয়া শাসনতন্ত্র সংশোধন করিলে বিশেষ উপকৃত হইতাম। আপনি না পারিলে মোজ্জামেলকে দিয়া করাইয়া নিবেন।
- শুনিয়া মনে হইতেছে দিন দিন আপনার শক্তি বর্ধিত হইতেছে। এই শক্তি যদি এইভাবে বাড়িতে থাকে আপনের অবস্থা কি হইবে একবার ভাবিয়া দেকেছেন কি?
- না ভাবি নাই। ভাবনার ব্যাপারে আপনের কোন নির্দেশনা এখনও হাতে পাই নাই। কথায় বলে, পাইয়া করিও কাজ, করিয়া পাইও না। নির্দেশনার অপেক্ষায় রহিলাম।
- আমি সবদিক ভাবিয়া দেখিয়াছি, আপনে আমার বিশেষ পেয়ারের মানুষ, তাই আগামী ৬০ বছর প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেখিতে চাহি আপনেরে। আমি না থাকিলে আমরিকায় জন্ম নেয়া আমার নাতনিরও প্রেসিডেন্ট হইবেন এমনটাই আমার বাসনা। আপনাকে অনেকদিন বাঁচিতে হইবে। এর উপায়ও বাহির করিয়াছি ইতিমধ্যে। মন দিয়া শুনেন, আপনাকে শাদি করিতে হইবে।

জিল্লুরের শরীর দিয়া বিদ্যুতের চমক বহিয়া গেল। চোখ চক চক করিয়া উঠিল। ভাবিল, আহা, জীবন কত অম্লমধুর! ’জ্বে, আফনের আদেশ শিরোধার্য, জিল্লু হুকুমের দাস মাত্র’।

শুনিয়া বিশেষ পুলকিত হইলাম। কাজ অনেক আগাইয়্যা রাখিয়াছি। আগামীকাল আপনের ডেরায় সুরঞ্জিতরে পাঠামু। হের হাতে ডকুমেন্ট থাকব একটা, আপনাকে স্বাক্ষর করিতে হইবে ঐ ডকুমেন্টে। এইটা আসলে আপনের কাবিননামা। আমি মনে করি শুভ কাজে দেরী ভাল নহে। চটজলদি সই করিয়া জাতিকে আনন্দ দিবেন আর আপনিও পুলকিত হইবেন। বলিয়া রাখি, গত রাইতে খোয়াবে স্বঙ্গবন্ধুরে দেখছি। যাহা করিতেছি সবটাই হইতেছে উনার ইচ্ছায়।

অডিও হইতে এইবার ভিডিওত সুইচ করিল হাবিল-কাবিল ভ্রাতৃদ্বয়।

পরদিন ডকুমেন্ট সহ সুরঞ্জিত আসিল। নিজের ’কাবিননামায়’ স্বাক্ষর তর সইছিল জিল্লুরের। সুরঞ্জিতকে অন্দরমহলে ডাকিয়া ফিসফিস করিয়া জিজ্ঞাস করিল, ’তাইনের চেহারাডা কি্মুন, দেখছুইন আপনে? সুরঞ্জিত সন্দেহের চোখে তাকাইল তার দিকে। খারাপ একটা ইংগিত সহ ঝামটা মারিয়া উত্তর দিল, ’ফোয়া মাইনসের চেহারা দিয়া আফনের খাম খিতা? হুনছি তাইনেগো বাড়িত গিয়া জিয়াফত খাইছিলা, চেহারা দেকার কি সৌভাগ্য হয় নাই? যাই হোক, হেয় অহন জেলে, ফাঁসির দিন গুনতাসে। হাতে খলম নেউক্কা, সই দরখার। বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে, মাগর শেখ হাসিনায় ধরলে ছাড়ে না। বেড়াতেড়া খইরেন না, তয় আফনেরেও ছাড়ব না’।

জিল্লু কিছু বুঝিল না। কয়েক সেকেন্ড চুপ করিয়া রহিল। দেরি দেখিয়া ধমক লাগাইল সুরঞ্জিত। জিয়াফতের দিন লক্ষীপুরের তাহেরের দেয়া দামি কলমটা হাতে লইল ও ভেতরের পুলক ভেতরে চাপিয়া ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করিল। সুরঞ্জিত খেয়াল করিলে দেখিতে পাইত শুধু হাত না গোটা শরীর কাঁপিতেছে জিল্লুরের।

- বাবা হাবিল-কাবিল, আফনেরা ইডা যকন রেকর্ড খরলা, আমারডাও নিচ্চয় রেকর্ড খরছ? আমার কাহিনীডা বাজাইয়্যা হোনাওজ্ঞা। তাইনে এখৈ খায়দায় আমারেও বিয়া দিসিলা।

- রে পাপিষ্ঠ, তুই কিডা?

- হেয় আবদুস সামাদ আজাদ। হাবিল কাবিল না, ভারী গলার উওরটা এল লম্বা মত একজনের মুখ হইতে। তাহার হাতে তামাক টানার পাইপ আর গায়ে কালা হাফ কোট।


এবার দেখা যাক কাদেরকে জিল্লুর ক্ষমা করছেন বা করবেনঃ
http://youtu.be/37CNkWJD7dw
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29422473 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29422473 2011-07-30 03:23:44
বিকেলে ভোরের গল্প...
১) সে অনেক অনেক দিন আগের কথা। রাজনৈতিক শকুনদের ডানায় তখনও পাখা গজায়নি। প্রতিপক্ষের কাউকে জবাই করে টুকরা টুকরা লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার সংস্কৃতিও তখন বঙ্গভবন হতে NOC পায়নি। তেমনি এক সময়ের কথা। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে গেছি দুরের দেশ রাশিয়ায় (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)। আমার সাথে আরও বেশ কজন স্বদেশি। উদ্দেশ্য লেখাপড়া হলেও পাশাপাশি বন্ধুপ্রতীম দেশের সাথে সম্পর্ক চিরস্থায়ী করার একটা অলিখিত মিশনও (সরকারী) ছিল আমাদের তালিকায়। বয়স কম, তাই সরকারের দেয়া দায়িত্ব কতটা পালন করছি তা মাপার উপায় ছিলনা। তবে লেখাপড়ায় আমরা কেউ খারাপ ছিলাম না। বিশেষ যাচাই বাছাইয়ের পরই কেবল সরকার এ কাজে আমাদের পছন্দ করেছিল। ভালমন্দ মিলিয়ে দিন চলে যাচ্ছিল নতুন দেশে, দিন শেষে রাত আসছিল এবং ঋতুর পালাক্রমে বছরও ঘুরে যাচ্ছিল একে একে। থাকি সেন্ট পিটার্সবার্গে (তৎকালীন লেনিনগ্রাদ)। সে বছর গ্রীষ্মের শুরুতে বিশেষ একটা কাজে মস্কোস্থ দূতাবাসে যেতে হয়েছিল। ৪ রুবেল দিয়ে ১ ডলার কেনা-বেচার ব্যবসা সহ হরেক রকম অবৈধ ব্যবসায় ব্যস্ত গোটা হাইকমিশন। আমার ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ মরহুম আলাউদ্দিন আল আজাদ স্যার তখন হাইকমিশনের শিক্ষা এট্যাসে। কাজটা ছিল আসলে উনার কাছেই। সূত্র মারফত জানা গেল ছাত্রদের দেয়ার মত যথেষ্ট সময় নেই স্যারের হাতে। ইদানিং উনি ব্যস্ত মহিলাদের মন জয় করার মিশনে। কাজ হয়নি, তাই মন খারাপ করে উলটো পথ ধরলাম। রাত ১০:৫৫ মিনিটের ট্রেন ধরার জন্যে চলে গেলাম লেলিনগ্রাদস্কি বোকজালে।

বছরের এ সময়টা রাত বলতে তেমন কিছু থাকে না পৃথিবীর এ অংশে। ১১/১২ টার দিকে দিনের আলো কিছুটা ফিকে হয়ে আসে এবং ভোর ৩টার দিকে আবারও ফর্সা হতে শুরু করে। সেন্ট পিটার্সবার্গ অবশ্য এ দিক হতে বেশ কিছুটা এগিয়ে। সূর্যের রাজত্ব থাকে প্রায় ২৪ ঘন্টা, তাও আবার প্রায় ২ মাস। ঝকঝকে ট্রেনটা প্লাটফর্মে ভিড়তে মনটা হাল্কা হয়ে গেল। সারাদিনের ক্লান্তি মুহূর্তেই মুছে গেল ৮ ঘন্টার বিলাসবহুল জার্নির কথা মনে করে। নিজের রুমে ঢুকতে যাব এমন সময় গার্ডের একটা কথায় সজাগ হয়ে গেলাম। ভিভিআইপি কেউ একজন যাচ্ছেন আমাদের ট্রেনে এবং তিনি অবস্থান করছেন আমার ঠিক পরের কক্ষটায়। শ্রেণীহীন সমাজ ব্যবস্থায় শ্রেনীর বিন্যাস নেই, তাই যত বড় ভিআইপি হোক না কেন ট্রেন জার্নি করতে হবে একই শ্রেনীতে, এটাই এ দেশের নিয়ম। কামড়ায় ঢুকে ঘুমের আয়োজন সমাপ্ত করলেও পাশের কামড়ায় কে আছেন জানার জন্যে মনটা আনচান করছিল। ঠিক ১০:৫৫তেই ট্রেনটা ছেড়ে দিল। কৌতুহল মেটাতে বিছানা ছেড়ে ট্রেনের করিডোরে দাঁড়িয়ে রইলাম অনেকক্ষণ। যেই হোক না কেন দরজা খুলে তাকে বাইরে আসতেই হবে, অন্তত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। অপেক্ষার শেষে যাকে দেখলাম তাকে দেখার জন্যে গোটা সোভিয়েত ইউনিয়ন উন্মুখ ছিল তখন। আনাতোলি কারপভ । দাবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। সবেমাত্র ফিলিপিনসের বাগুইয়োতে কর্চোনোইয়ের সাথে নিজের টাইটেল ডিফেন্ড করে ফিরেছেন। উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচ গোটা জাতিকে পায়ের উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছিল বেশ কিছুদিন। দাবার ‘দ‘ পর্যন্ত বুঝিনা তখন, কিন্তু আনাতোলি কারপভকে জানতে খুব একটা জ্ঞানের দরকার হয়নি।

কক্ষ হতে বের হয়ে জানালার পাশে দাঁড়ালেন এবং আর দশটা যাত্রীর মত নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন বাইরের দিকে। কোত্থেকে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না। হাল্কা একটা সালাম দিতে মৃদু হেসে ফিরিয়ে দিলেন সালাম। কোন পুরুষের গলা এমন মিহি হয় তা কানে না শুনলে বিশ্বাস করা কঠিন। মেয়ে মানুষের গলা ভেবে কেউ যদি ভুল করে দোষ দেয়ার কোন কারণ ছিলনা। কারপভের সবকিছুই ছিল মেয়েলি। আকারে ওজনে গড় রুশদের চাইতে বেশ ছোট ও হাল্কা। একজন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অনেকক্ষণ করিডোরে দাড়িয়ে আকাশ দেখবেন এমনটা ভাবার কোন কারণ ছিলনা। শুভরাত্রি জানিয়ে কক্ষে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তেই করে বসলাম প্রশ্নটা, ’আচ্ছা লোকে বলাবলি করে আপনার মিনিটে হার্টবিট নাকি ৫০, কথাটা কি সত্য? হাসির আভাটা চাইলেও লুকাতে পারলেন না। ’এটা জানতে আপনাকে আমার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে’। হাসতে হাসতে ফিরে গেলেন নিজের কক্ষে। যাওয়ার আগে ছোট্ট একটা উপদেশ দিতে ভুল করলেন না, ’রেড মীট কম খাবেন, দেখবেন আপনার হার্টবিটও কমে গেছে’।

২) জাতির পিতা আর স্বাধীনতা ঘোষকের ব্যকইয়ার্ডে রোপিত নষ্টামির বীজ ততদিনে চারা হয়ে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে। তেমনি এক সময়ের কথা। থাকি নিউ ইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকার ছোট্ট একটা বেইসমেন্টে। জীবন একেবারেই সাদামাটা। সকালে কাজে যাই, বিকেলে ঘরে ফিরি। বন্ধু বান্ধব আর পরিচিতদের সার্কেলও সীমিত। কাজটাও খণ্ডকালীন, স্থানীয় একটা মলে কমিশন ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ বিক্রি করি। এখানেই পরিচয় হয় গোপালগঞ্জের একজনের সাথে। আসল নামটা দেয়া বোধহয় উচিৎ হবেনা, লেখার খাতিরে ধরে নেই ভদ্রলোকের নাম শীতল শর্মা। ভালমন্দ মিলিয়ে আর দশটা বাংলাদেশির মতই সাধারণ মানুষ আমাদের শীতল শর্মা। শুধু একটা জায়গায় বেশ পার্থক্য। মুসলমান শব্দটায় উনার ভয়াবহ এলার্জি। মুখের কথা বিশ্বাস করলে আমাদের মানতে হবে উনি একাধারে কবি-সাহিত্যিক, মানবতাবাদী এবং ভাল জিনিসের নিবিড় পুজারী। কিন্তু একটা জায়গায় উনি বেজায় কট্টর, মুসলমান ও ইসলাম ধর্ম। কথায় কথায় খিস্তি খেউড়ি আর মুসলমানদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার যেন উনার দৈনন্দিন কাজ। সময়টা ৯/১১’র ঘটনায় মার্কিন সমাজ ক্ষতবিক্ষত হওয়ার সময়। ইসলাম ও মুসলমান নিয়ে ঘোর সন্দেহ চারদিকে। সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে মার্কিন প্রচার মাধ্যম যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। সময়ের প্রবাহে মার্কিনিরা শীতল হয়ে আসলেও আমাদের শীতল শর্মাকে কিন্তু এ ব্যাপারে শীতল করা যায়নি। ’গরুখোর শেখদের’ নিয়ে নোংরা কটুক্তি উনার ধমনীতে যেন স্থায়ী আসন করে নিয়েছিল। ৯/১১’র ঘটনাকে মার্কিনীদের চাইতেও বেশি পার্সোনাল হিসাবে নিয়েছিলেন এবং ধর্ম হিসাবে ইসলাম কতটা সন্ত্রাসী তার বিশদ বর্ণনা দিতেন অনেকটা উন্মাদের মত। বিদেশে শত্রু তৈরীতে আমার রেকর্ডে নেই, তাই শর্মা বাবুর কথা গুলো আমল দিতে চাইতাম না। নিজে যদিও ধার্মিক নই কিন্তু তাই বলে মা-বাবা সহ ১.২ বিলিয়ন মানুষের একটা বিশ্বাসকে এভাবে ক্ষতবিক্ষত করবে, তাও আবার দেশপ্রেমের দাবিদার একজন স্বদেশি, ব্যাপারটা হজম করতে বেশ কষ্ট লাগত। কিন্তু সময় ও বাস্তবতার কারণে তা বাধ্য হয়ে গিলতে হত। একদিন ফ্যামিলি সহ বাজার করতে এসেছেন আমাদের স্টোরে। স্ত্রী আর বালবাচ্চা সহ মাথায় তুলে নিয়েছেন গোটা দোকান। জিনিষপত্র উলটপালট আর তচনচ করে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছেন চারিদিকে। পাশে বসে একজন পরিচিত কালো আমেরিকান লক্ষ্য করছিল শর্মা পরিবারের এহেন কর্মকান্ড। লোকটাকে আমি চিনি। একটু খ্যাপাটে টাইপের এবং চরম ড্রাগাসক্ত। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত গর্জে উঠল সে। চেচামেচি আর হৈচৈ শুরু করে দিল উঁচুস্বরে। ’ইউ ফাকিং মুসলমান, হোহাই ডোন্ট ইউ গো ব্যক টু ইওর ওউন কান্ট্রি এন্ড লিভ আস এলোন’। বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেল চরম মুসলমান বিদ্বেষী এই দাদা। বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছিল সাহায্যের আশায়। মুখ দিয়ে কিছু একটা বের করতে তেড়ে এল শক্তিশালী লোকটা। মনে হচ্ছিল মারতে যাবে সে শর্মা বাবুকে। কেন জানি উপভোগ করতে শুরু করলাম দৃশ্যটা। মনে হল শর্মা বাবুর পাওনা হয়ে আছে এমন কিছু। সিকিউরিটি এসে ধরে নিয়ে গেল ড্রাগাসক্ত লোকটাকে। বাবু অনেকটা কৈফিয়তের সুরে জানতে চাইলেন সাহায্যে নিয়ে কেন এগিয়ে এলাম না। অনেকদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ একসাথে ঝাড়ার সুযোগ পেয়ে সদ্ব্যবহার করতে কার্পণ্য করলাম না। ’তা দাদা আপনার শরীরের বিশেষ অঙ্গটা কাপড় দিয়ে না ঢেকে বরং নেট দিয়ে ঢাকলেই তো লোকে বুঝতে পারবে আপনি মুসলমান নন’। মাথায় লাল রংয়ের গভীর সিঁদুর দেয়া স্ত্রী কেবল ছে ছে বলতে শুরু করলেন এমন সময় সিকিউরিটি এসে শর্মা পরিবারের সবাইকে গ্রেফতার করে নিয়ে নীচে নিয়ে গেল। অভিযোগ, শপলিফটিং। এরপর আর কোনদিন এই সাহিত্যিক-কাম-মানবতাবাদী-কাম-দেশপ্রেমিকের সাথে দেখা হয়নি। অফিসে খোজ নিয়ে জেনেছি সস্ত্রীক দুইদিন জেলে ছিলেন। অবশ্য বেয়ারা টাইপের দুটো ছেলেমেয়ে এই দুইদিন কার হেফাজতে ছিল তা আর জানা হয়নি।

৩) আমার এক ফিলোসফার টাইপের আমেরিকান বন্ধু মুসলমানদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বুঝিয়েছিল অতিরিক্ত রেডমীট ভক্ষণই নাকি এই ধর্মালম্বীদের উন্মাদনার আসল কারণ। উদাহরণ হিসাবে টেনে এনেছিল কুরবানী ঈদ প্রসঙ্গ। শীতল শর্মাও মুসলমানদের নিয়ে ঠাট্টা করত তাদের গোমাংস ভক্ষণের অভ্যাস নিয়ে। মুসলমানদের সময়টা আসলেই ভাল যাচ্ছে না। তা না হলে ব্যঙের ঠ্যাং মেলার মত সমস্যা জর্জরিত বাংলাদেশের একজন ’সংখ্যালঘু’ একই দেশের একজন ’সংখ্যাগুরু’ নিয়ে এমন নোংরা, তীর্যক আর অশ্লীল কথাবার্তা বলতে সাহস পেতেন না। যাই হোক, শান্তিপ্রিয় নরওয়েতে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী ঘটনার খবরটা শোনার সাথে সাথে মাথায় বেজে উঠল শীতল শর্মা আর আনাতোলি কারপভের কথাগুলো, রেডমীট! অনেকের মত আমিও ধরে নিয়েছিলাম মুসলমানদের কাজ। অবশ্য শেখ হাসিনাকে নোবেল না দেয়ায় নরওয়েজিয়ান আওয়ামীদের কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে এমন একটা সন্দেহ যে উকি ঝুকি দেয়নি তা নয়। খুনের আসামীদের বাঁচানোর পবিত্র দায়িত্বে আছেন কিশোরগঞ্জের জিল্লুর মিয়া। বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ হতে নরওয়ের অসলো কি খুব বেশি দূর?

টিমোথি ম্যাকভেইকে যেদিন ফাঁসি দেয়া হয় সেদিন আমি টেক্সাসের ডালাসে। স্থানীয় মিডিয়া এই ফাঁসি পর্ব সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। ওকলাহোমা সিটির ফেডারেল বিল্ডিং উড়িয়ে দিয়ে ১৯ শিশু সহ ১৬৮ জন মার্কিনি হত্যার নায়ক কিন্তু রেডমীট খোর মুসলমান ছিলনা। সে ছিল উগ্র ও রক্ষণশীল খ্রীস্ট ধর্মের গোড়া সমর্থক। নরওয়ের পৈশাচিক হত্যাকান্ডের সাথেও উগ্র মৌলবাদী মুসলমানদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার নায়ক আন্ডার্স বেহরিং ব্রেইভেক নিজেকে রক্ষণশীল খ্রীষ্টান ও চরম ইসলাম বিরোধী হিসাবেই পরিচয় দিয়েছেন। ধর্ম ইটসেলফ কখনো সন্ত্রাসী হতে পারেনা হোক তা ইসলাম, হিন্দু, জুডেইজম অথবা খ্রীষ্ট। যদি তাই হত তাহলে ধর্মের কাধে চড়ে মানব সভ্যতা এ পর্যন্ত আসতে সক্ষম হত না। একজন ওসামা মানেই ইসলাম ধর্ম নয়, গুজরাটের নরেন্দ্র মোদিও হিন্দু ধর্মের আইকন নন। টিমথি ম্যাকভেই আর আন্ডার্স ব্রেইভেক ওসামা ও নরেন্দ্র মোদিদেরই একজন। ওদের একটাই পরিচয়, সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম থাকতে পারেনা, ওদের ধর্ম খুন। বন্দুকের নল আর রক্তের হোলি খেলতে গরুর মাংসই যে একমাত্র খাদ্য নয় নরওয়ের ঘটনা তা নতুন করে প্রমান করেছে। আশাকরি পশ্চিমা দুনিয়া এ হতে শিক্ষা নেবে। আর আমাদের শীতল শর্মাদেরও সময় এসেছে নিজেদের অসহায়ত্ব জাহির করার আগে অন্য ধর্মের প্রতি সন্মান শ্রদ্ধা কিছুটা বাড়ানোর। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29418945 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29418945 2011-07-24 12:01:22
একজন সিদ্দিক ড্রাইভারের কাহিনী...
আমার এ লেখা চট্টগ্রামের শোক নিয়ে নয়। আমার কলম এত নিখুঁত নয় যা দিয়ে দু'চার লাইনে এত বড় শোক তুলে ধরা যাবে। এ লেখা বরং ছিদ্দিক নামের একজন বাংলাদেশী ড্রাইভারকে নিয়ে। জ্ঞান হওয়া অবধি দেখছি ছিদ্দিক আমাদের গাড়ি চালায়। শিং মাছের মত পিছলা চরিত্র। একজন ড্রাইভার হিসাবে যতটা পাপাচার শোভনীয় তার অনেক নীচে নামতে সামান্যতম কুণ্ঠাবোধ করত না সে। তেল চুরি, গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ নিয়ে ঘাপলা বাজী, নতুন ব্যাটারী ক্রয় দেখিয়ে পুরানো ব্যাটারী স্থাপন, সময় অসময় মদ্যপান এবং বেপরোয়া ড্রাইভ করে রাস্তায় ত্রাস সৃষ্টি সবই ছিল তার নিত্যদিনের সাথী। ড্রাইভারি জীবনে গোটা দশেক বড় দুর্ঘটনা ও ৩টা মৃত্য আছে তার হাতে। চেষ্টা করেও তাকে বিদায় করা যায়নি কারণ বিকল্প হিসাবে যারা আসত তারাও একধাপ এগিয়ে থাকত। একটা নির্মান প্রকল্পে ড্রাইভারের চাকরি নিয়ে হুট করেই একদিন পাড়ি জমাল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আবুধাবীতে।

সেবার দেশে গিয়ে দেখা ছিদ্দিক মিয়ার সাথে। ছুটিতে বেড়াতে এসেছে। নিউ ইয়র্ক ফিরতে আমাকেও আবুধাবী বিমান বন্দরে ১৬ ঘন্টা কাটাতে হবে শুনে ছিদ্দিক মিয়ার চোখে মুখে শিহরন খেলে যায়। আমার আগেই ফিরে যাচ্ছে সে। ঠিকানা এবং ফোন নাম্বার দিয়ে আবুধাবীতে পৌঁছে যোগাযোগের জন্যে হাতে পায়ে ধরল। কোন অসুবিধা ছিলনা আমার। এয়ারপোর্ট নেমেই ফোন করলাম। বাতাসে উড়ে এল সে এবং উড়ন্ত চিলের মত ছোঁ মেরে নিয়ে গেল তার আস্তানায়। গর্বের সাথে পুরানো মনিবকে পরিচয় করিয়ে দিল সহকর্মী ড্রাইভারদের কাছে। বেশ ক’জন বাংলাদেশী ড্রাইভার ছোট্ট একটা রুমে পাখীর মত গাদাগাদি করে বাস করছে। সন্মান এবং শ্রদ্ধার সবটুকু উজাড় করে সবাই মিলে আপ্যায়ন করল আমায়। অনেক কথা হল ড্রাইভারদের আসরে এবং কথার ফাঁকে বেড়িয়ে এল এই ছিদ্দিক ড্রাইভারের কাহিনী। তাকে কোম্পানীর শ্রেষ্ঠ ড্রাইভার হিসাবে গন্য করছে মালিক পক্ষ এবং বলতে গেলে বাংলাদেশী ড্রাইভার গ্রুপের সবাই অঘোষিত দলনেতা হিসাবেও মেনে নিয়েছে।

এই সেই ছিদ্দিক ড্রাইভার বাংলাদেশে ড্রাইভিং সিটে বসলে যার রক্তে খেলে যায় যাত্রী নিয়ে হোলি খেলার নেশা, চোখে মুখে চিকমিক করে যার চুরি চামারির ধান্ধা। অথচ একই ছিদ্দিক আবুধাবীতে গিয়ে অর্জন করেছে মালিকের বিশ্বস্ততা এবং ড্রাইভার হিসাবে লাভ করেছে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা। তাহলে আসল ছিদ্দিক ড্রাইভারকে চিনতে কি আমাদের ভূল হয়েছিল? মীরের সরাইয়ের মত বাংলাদেশের যে কোন দূর্ঘটনায় কোন না কোন ভাবে ছিদ্দিক ড্রাইভারদের হাত থাকে, থাকে তাদের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কলঙ্কিত অধ্যায়। ছিদ্দিক ড্রাইভার মানুষ হত্যা করে হাজির হয় মনিবদের কাছে, আর আইনের ফাঁক ফোকর গলে তাদের উদ্বারের জন্যে মনিবরাও এগিয়ে যায় বিনা দ্বিধায়। এভাবেই চলছে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার বলি হয়ে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে শত শত বাংলাদেশী। আবুধাবীতে এগুলো সম্ভব নয় বলেই হয়ত বাংলাদেশের বেপরোয়া ছিদ্দিক পরদেশে বনে যায় সভ্য ড্রাইভার। আইনের শাসন একটা দেশে শুধু মানুষকেই বদলে দেয় না, সাথে বদলে দেয় তার মনুষ্যত্ব, পরিবর্তন আনে তার অভ্যাসে। কেবল আইনের শাসন নিশ্চিত করা গেলেই হয়ত ৪৫ জন কিশোরের মত হাজার হাজার বাংলাদেশিকে বাঁচানো যেত দুর্ঘটনার করুন পরিণতি হতে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29412192 http://www.somewhereinblog.net/blog/WatchDog57/29412192 2011-07-13 13:27:19