আমাদের বুদ্ধি আছে তাই আমরা বুদ্ধিমান, এর সাথে আবেগ মিশানোর ফলে আমরা মানুষ।

নিউ ইয়ার এবং আমার Nachos খাওয়া
১০ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ২:৫৬
নতুন বছরের প্রথম দিন। হাসান, ইমনের সাথে বাইরে বেরিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য কোথায় কি হচ্ছে ঢু মেরে একটু দেখা। আমার বাসার অপজিট গলিতে থাকেন ইয়ামিন ভাই। উনার আবার থিসিস জমা কয়দিন পরেই। যাই হোক, তার বাসায় গিয়ে দেখি ব্যাপক কাজ চলছে, ফিংগারপ্রিন্ট রিকগনিশনের প্রজেক্ট। কাজ একটু লাইনে এলে সেদিনের নিউজপেপারটা খোলা হল, উদ্দেশ্য - শিডিউল খোজা। হায়রে মারফি, তোমার সূত্র এখানেও খেটে গেল। কোথাও যাওয়ার সময় যখন থাকে না, এদিক সেদিক এত কালচারাল - সবই মিস। আর আজ দেখছি ১ তারিখের কোন শিডিউলই পাই না। একটা কনসার্টে তো প্রায় চলেই যাচ্ছিলাম, পরে দেখা গেল ওটা ১ তারিখ না, ৩ তারিখ...
হঠাৎ মাথায় এলো বাংলা নববর্ষে পান্তাভাত ইলিশ নাম দিয়ে বাঙ্গাল খাবার তো খাই, এই নববর্ষে আজ সব নন বেঙ্গল খাবার খাব। আরো ভাল হয় আননোউন হলে।
শর্মা হাউজের চেহারা দেখেই আবার রাস্তায় বের হয়ে এলাম। বাইরে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, ভিতরের জায়গা কিছু খালি হলে তারা ঢুকবে। অথচ তার পাশেই একটা দোকান হয়েছে নতুন, দারোয়ানটা ইনভাইট করছে তাদের খাবার টেস্ট করার জন্য, মানুষ তাকাচ্ছেও না। মজা লাগলো... পাশাপাশি দুটা দোকান -- একটার কাস্টমার লাইন ধরে, আর একটা কাস্টমারের জন্য লাইন ধরে। একটা থিওরী আছে অবশ্য এই ব্যাপারে, নতুন দোকানটা নাকি জানেই না তাদের কোথায় স্পেশালিটি -- হাসানের এই প্রশ্নের কাছে তারা ফেল মারছে ![]()
বিগ বাইটে গেলাম। তাদের chicken nugget বিএফসির মতই হবে ধরে নিয়ে অর্ডার দেওয়া হল। কিন্তু দেখলাম বড় রকমের ধরা খাইছি। এরা যেটা আনলো ওটা আসলে আলুর চপ। দেখে মনে হয় আলু কাটার সময় এক্সিডেন্টালি একটু চিকেন মেশ এর সাথে মিশে গেছে।
যাই হোক, বসুন্ধরার ফুড কোর্টে তাও জায়গা পাওয়া গেল। দক্ষিন ভারতীয় কিছু খাবার দিয়ে শুরু হল। দোসা আর দই ফুচকা। দই-ফুচকা-চানাচুর এগুলো একসাথে করলে স্বাদ কেমন হয় আগে এক্সপেরিমেন্ট করতে ইচ্ছা হয়নি। ইনকম্প্যাটিবল লাগে আমার কাছে।
বসুন্ধরা সিটিতে সমস্যা একটাই -- খাবার এর মান এর চেয়ে দাম বেশি। খালি কাপলদের জন্য সাইট এরেঞ্জ আর করলেই তো হয়না -- আমজনতার জন্য হলেও তো খাবার এর স্ট্যান্ডার্ড ঠিক রাখা উচিত। জিনিসপত্রের দাম যতটুকু বাড়ছে তারচেয়ে বেশি বাড়ছে ফাস্টফুড এর দাম। আগের চেয়ে ১০ টাকা বেশি প্রত্যেকটাই। অথচ ওগুলো বানাতে ম্যাটেরিয়াল কস্ট সেভাবে বাড়েনি।
বার আমরা খাব আইসক্রিম, ইমন খাবে কফি। সেই "দি আদি ন্যাসকাফ" কফি
। এমন সময় কফি-ম্যান আর্টিস্ট রাশিদ ভাই এর সাথে দেখা হয়ে গেল আমাদের। উনার বাসায় যাওয়ার কথা খেয়াল ছিল না। গেলে সুমাত্রা কফি মাস্ট।
আর কি খাওয়া যায় চিন্তা করছি -- হাসানের আইসক্রিম অলরেডি শেষ -- সে কফি খাবার ধান্দা করছে । ইয়ামিনদা বললেন হাসান আইসক্রিম খায় বার্গারের মত। কথাটা মনে হয় মিথ্যা না। হঠাতই প্রসংগ এলো নাচোস খাওয়ার ব্যাপারে।
নাচোস নিয়ে গত টার্মে প্রচুর কাজ করেছি। মানে অপারেটিং সিস্টেম নাচোস নিয়ে আরকি। তখন উইকিপিডিয়াতে ঘেটে দেখি নাচোস হল একটা মেক্সিকান খাবার। কম্পিউটার সায়েন্সের "রসহীন" (?) বিষয়ের সাথে একটু রস লাগানোর জন্যই বোধহয় uc-berkely এর প্রজেক্ট নাচোস এর নাম দেওয়া হয়েছে এই মেক্সিকান খাবার এর নামে। যদিও সেখানে NACHOS এর মানে বের করা হয়েছে Not Another Completely Heuristic Operating System. stanford আবার এই কাজের জন্য নিজস্ব সিস্টেম তৈরী করেছে, সেটার নাম Pintos. nachos এর মত pintos ও একটা মেক্সিকান খাবার।
প্রজেক্ট করার সময় থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল নাচোস টেস্ট করা দরকার। তবে বসুন্ধরা সিটিতে নাচোস পাওয়া যায় -- এটা জানতাম না। নাচোস নর্থ আমেরিকায় খুব একটা দামি খাবার না। তবে এখানে বিদেশি খাবার কিনা - ভাবই আলাদা
অর্ডার দেওয়া হল নাচোস। টেস্টি খাবার শুনে এসেছিলাম। মুখে দিয়ে দেখি এটা কি খাচ্ছি ? উপরে এত রসুন সস ? দেখে মনে হয় ম্যায়োনেজ - বাট ম্যায়োনেজ না। উইকিপিডিয়াতে নাচোস এর ইনগ্রেডিয়েন্ট দেখেছিলাম -- অনেক কিছু থাকার কথা, বাট সেগুলোর টেস্ট তো দুরের কথা এটা তো খাওয়ারই উপায় নেই। এরা আসলে বানাতেই পারেনি খাবারটা। দোকানের লোকটার দিকে বিরক্ত ভরে চাইলাম -- কিছু বলার ইচ্ছা হল না -- কেন হল না সেটা নিয়ে অন্য পোস্ট আসবে।
photo courtesy: wikipedia
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সন্ধ্যাবাতি। আর মেক্সিকো নর্থ আমেরিকার একেবারে নিচের দিকে হলেও তো নর্থ আমেরিকাই।
লেখা ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম ![]()
মিরাজ বলেছেন:
লেখা ভালো লেগেছিল তাই মন্তব্য করতে চাচ্ছিলাম । কিন্তু কালোবিড়াল এর কমেন্ট দেখে ইচ্ছা উবে গেল ।
ব্লগ কি মুক্ত চিন্তার জায়গা নাকি মুক্ত গালাগালির জায়গা।
ধিক, কালোবিড়াল ধিক । আপনাকে আমি স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি মনে করিনা । আমার মনের ভিতর যে স্বাধীনতার আগুন চেতনা তাতে আপনাদের মত বিকৃত রুচির মানুষের কোন স্থান নেই ।
লেখক বলেছেন: কালোবিড়ালের মন্তব্য মুছে দেওয়া হল।
মুক্ত গালাগালি করার ইচ্ছা যাদের তাদের জন্য আলাদা গ্রুপ বানিয়ে দেওয়া উচিত।
সেখানে নিজেরা নিজেদের যত খুশি গালাগালি করুক।
মিরাজ আপনাকে ধন্যবাদ।
রাতদিন ব্লগের সামনে বসে থেকে, কেও পরিবেশ নষ্ট করছে কিনা চোখ চোখ করা তো সম্ভব না।
ৃৃমম বলেছেন:
অযৌক্তিক, আপনার ব্লগে কেউ কাউকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করলে সেটা মুছে দেয়ার প্রযুক্তিগত দায়িত্ব কিন্তু আপনার। কালো বিড়ালের মন্তব্য মুছে দিন, প্লীজ।
অযৌক্তিক বলেছেন:
ধন্যবাদ ৃৃমম। কালোবিড়ালকে : ব্লগের সংগে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, আপত্তিজনক, অশ্লীল দ্বিতীয় মন্তব্যটিও মুছে দিতে হল। আপনার অন্য ব্লগারের প্রতি রাগ থাকলে নিজের ব্লগে সেটা প্রকাশ করুন। তারপর কি হবে সেটা আমার দায়িত্ব না।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
ব্লগের এক চরম ক্রান্তিকাল চলছে। কর্তৃপক্ষ নির্লজ্জভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের পোস্টগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। তাই ব্লগাররা মৌলিক লেখা থেকে বিরত আছেন। অনুরোধ করছি পরিস্থিতি ঠিক না হওয়ার পর্যন্ত মৌলিক কোন লেখা না দেয়ার জন্য। বন্ধ হোক স্বাধীনতা বিরোধীদের আস্ফালন!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া।
জুবাঈর_সাঈদ বলেছেন:
লেখাটা পড়ে খিদা লাগছিল - তবে কমেন্ট পড়ে খিদা উবে গেল ...
লেখক বলেছেন: হাহাহাহা... ব্যাপার না।...
লেখক বলেছেন: হেহে... ধন্যবাদ।
ধন্যবাদটা পাওনা ছিল , দেরীতে হলেও শোধ করলাম
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া।


















সূত্র পুরাপুরি ঠিক আছে! কিছুদিন আগে বাসার সবাইকে রাজি করালাম বাইরে যাওয়ার... কিন্তু এমন কোন জায়গা খুজে পাচ্ছিলাম যেখানে গিয়ে একটা চমক দেয়া যায়, সব জায়গায় আগে যাওয়া
লেখা ভালো লেগেছে, বাংলাদেশের দোকানগুলোর অনেক কিছুই মিস করছি, শুনে শুনে মনে মনে টুকে রাখি, দেশে গিয়ে খেতে হবে!