এই পোষ্টটা দুই আড়াই মাস আগে লিখেছিলাম। ২/৩ দিন আগে ব্লগার আরিফুর রহমান ভাইয়ের একটা পোষ্টে ঐ লেখাটার লিংক দিয়েছিলাম। কিছুক্ষন পর দেখি ঐ পোষ্টটা ডিলিট হয়ে গেছে
অনেকের অনেক কমেন্ট ছিলো, ঐ গুলার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
---------------------------------------------------------------------
ঘটনার সুত্রপাতঃ
"আপনারা যে যেভাবে আনন্দ পান সেই ভাবেই আমাদের কোম্পানির কটন বাড দিয়ে কান চুলকান। আপনাদের আনন্দই আমাদের প্রাপ্তি" -- সাদামাটা স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড উক্তি। ভালই চলছিলো কটন বাডের ব্যবসা।
কিন্তু ছিদ্রানেষী মহলেরতো আর অভাব নেই। কানাঘুসা চলতে চলতে , এক কান দু কান হতে হতে একসময় সারা দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পরলো। সমগ্র দেশের কানসমাজ একযোগে বিদ্রোহ করে বসলো। তাদের এক দফা এক দাবি,
"যেহেতু চুলকানোর কাজে কান ও কটন বাড দু'টাই দরকার, সুতরাং কোম্পানির এই উক্তি, ' কটন বাড দিয়ে কান চুলকান ' - এখানে কানের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। এখানে কটন বাডকে ডমিনেটিং পাওয়ার দেওয়া হয়েছে । তাই কোম্পানিকে কটন বাডের এই ব্যবহার বিধি নামক উক্তি পরিবর্তন করতে হবে"
মুখোমুখি সংঘাতঃ
এইদিকে কটন বাডও নিজের অধিকার ছাড়তে এক বিন্দু প্রস্তুত নয়। তাদের কথা, "যেহেতু, চুলকানোর সময় কটন বাড কোন আনন্দ পায়না, শুধু কানই একতরফা ভাবে আনন্দ পায় তাই কটন বাডকে একটু সাম্মান করে ডমিনেটিং পাওয়ার দিলে কি হয়? বরং এইটাইতো ন্যায়বিচার !"
যাই হোক শেষ পর্যন্ত সারা দেশে চুলকাচুলকি বন্ধ, কান একদিকে তো কটন বাড আর এক দিকে। মাঝখান দিয়ে কোম্পানির ব্যবসা লাল বাতি জ্বলার মতো অবস্হা !
মিটিং ও সমাধান
পরিস্হিতি গুরুত্ব বিবেচনা করে কোম্পানির এম.ডি. জরুরী বোর্ড মিটিং কল করেছেন। কিভাবে এই প্রতিকূল পরিস্হিতি পাশ কাটিয়ে যাওয়া যায় তাই নিয়ে ডিরেক্টররা নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।
একজন বললেন, "দুই পক্ষের লিডারদের কে টাকা খাইয়ে শান্ত করা হউক"
সাথে সাথে আর একজন বললেন, "তাহলে এই প্রবলেম কখনও শেষ হবে না, কিছুদিন পর আবার এই লিডাররাই নিজ থেকে আন্দোলন শুরু করবে"
কেও বললেন, "তাহলে তাদেরকে ভয়ভীতি দিখিয়ে পরিস্হিতি শান্ত করা হউক"
আর একজন বললেন, "তাহলে ঐ উক্তি চেন্জ করা হউক এইভাবে ----"কটন বাড দিয়ে কান চুলকান ও কান দিয়ে কটনবাড চুলকান"
মাত্র কিছুদিন আগে জয়েন করা, তরুন একটা ছেলে কিছু না বলে শুধু মিটিমিটি হাসছিলো । হঠাৎ এম.ডি. সাহেব খেয়াল করে বলে উঠলেন, "আপনি হাসছেন কেন ? আপনার কি আরও ব্যাটার কোন আইডিয়া আছে ?"
ছেলেটি বললো, "স্যার, আমার মনে হয় এই মিটিংটা কল করাই একটা বিরাট কৌতুক হয়েছে ! কারন, কটন বাড দিয়ে কান চুলকাবে এইটাইতো স্বাভাবিক, কান দিয়ে কটন বাড চুলকানো এইটাই তো একটা ভ্রান্তি। আমি হাত দিয়ে ভাত খাই , ভাত দিয়ে হাত খাইনা। যারা এইটাকে ইসু বানিয়ে আন্দোলন করছে তাদের কাজই অন্যের ভুল বের করা। আপনি দেখুন তারা কিন্তু কোন লজিক্যাল সমাধান দিচ্ছে না , শুধু একটা স্ট্যাবল কন্ডিশনকে আনস্ট্যাবল করছে"
এম.ডি. সাহেব বললেন, তাহলে আপনি কি করতে বলেন ?
ছেলেটি বললো, কিছুনা। আমরা যদি শুধু কয়েক মাস চুপচাপ থাকি তাহলে পরিস্হিতি এমনিতেই শান্ত হয়ে যাবে, কারন কতদিন আর না চুলকিয়ে থাকতে পারবে ? আশা করা যায়, ২/৩ মাস পর এমন চুলকানি উঠবে যে আমাদের এই ২/৩ মাসের স্টক শেষ হয়ে যাবে সুতরাং এখন প্রডাকশন বন্ধ না করে আমরা মনে হয় চালিয়ে যাওয়া উচিৎ
তাহলে চলুন আমরাও ২/৩ মাস অপেক্ষা করি কি হয় দেখার জন্য
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১০:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


