আমার প্রিয় পোস্ট

সখা, নয়নে শুধু জানাবে প্রেম, নীরবে দিবে প্রাণ, রচিয়া ললিতমধুর বাণী আড়ালে গাবে গান। গোপনে তুলিয়া কুসুম গাঁথিয়া রেখে যাবে মালাগাছি। এই ব্লগের©শান্তির দেবদূত।

তৃতীয় ভুবনে --------- (ফ্যান্টাসী ছোট গল্প)

১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:০৮

শেয়ারঃ
0 0 0

১.
প্রথম যেদিন তারা একজন আর একজনের স্পর্শ অনুভব করে তখন দুইজনই একসাথে ভীষন চমকে উঠেছিলো। ভয়ও পেয়েছিলো অসম্ভব ! এক অজানা অপার্থিব ভয়। দুইজনেই ঝাকুনি খেয়ে ঘরের দুই দিকে ছুটে গিয়েছিলো। আচ্ছা, ওদের এই জায়গাটিকে কি ঘর বলা যায় ? যেখানে ওরা এতদিন ধরে আছে সেটাকে মনে হয় ওদের আবাসন বলাই যায়।

যাই হোক, প্রথম স্পর্শের বেশ কিছুক্ষণ পর একজন একটু সাহস সঞ্চয় করে অপরজনের দিকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যায়। ঐদিকে অপরজন আবার নিশ্চুপ বসে আছে, কেমন যেন গুটশুটি মেরে, মনে হয় সে একটু ভীতু টাইপের ।সে অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে আলতো করে অপরজনের হাত ধরে, এতক্ষণে সেও কিছুটা ধাতস্হ হয়ে উঠে। আস্তে আস্তে দুইজনের সব ভয় কোথায় উবে যায়, ভয়ের জায়গার গ্রাস করে তিৃব্র এক ভালোবাসা, একদম শতভাগ স্বর্গীয় ভালোবাসা।

২.
ভাবের আদান প্রদান করতে প্রথম প্রথম বেশ কষ্টহয় তাদের। প্রথমদিকে ওরা শুধু একজন আরেকজনের হাত ধরে বসে থাকতো। ইতোমধ্যে নতুন একটা ভাষা তারা আয়ত্ব করে নিয়েছে, হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে বিভিন্ন বিন্যাসের স্পর্শ এই ভাষার স্বরলিপি। তারা এর নাম দিয়েছে, "ছোয়া ভাষা"।

প্রথমজন আলতো করে ছুয়ে দ্বিতীয়জনকে জিজ্ঞাস করে, "তুমি কে ?"

আমি জানি না, আমি কে ! তুমি কি জান তুমি কে ?

প্রথমজন উত্তর দেয়, না আমিও জানি না আমি কে !

দ্বিতীয়জন একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাস করে আচ্ছা, আমাদেরকে কি কেউ এই ঘরটাতে বন্দি করে রেখেছে? আমরা কি কোনদিন এইখান থেকে মুক্তি পাবো না ?

প্রথমজন বলে, "আমরা কে, এখন কোথায় আছি, এখান থেকে কোথায় যাবো, আমি কিচ্ছু জানি না !"

সে এবার হাত ছেড়ে দিয়ে অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে দেয়ালটার কাছে এগিয়ে যায়। দেয়ালটাতে হাত দিয়ে ধাক্কা মারে, পা দিয়ে লাথি মারে, কিন্তু দেয়ালটা দাড়িয়ে থাকে অবিচল।

তারা আবার ভাবতে বসে যায়, কি আছে দেয়ালটার ঐ পাশে ? তাদের ভাবা ছাড়াতো আর কোন কাজ নেই, কিন্তু শত ভেবেও কোন কূল কিনারা করতে পারে না, ভাবতে ভাবতেই ওরা আবার গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। ওরা কি জানে যে, দেয়ালটার ঐপাশে হাজার রকমের শব্দ, হৈচৈ, কথাবার্তা হচ্ছে প্রতিনিয়ত ? জানতে পারার কথা না, ওরা তো শুনতে পায় না।

৩.
হঠাৎ একদিন, একজন অপরজনকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে উঠায়। সে একটু আড়মোড়া ভেঙ্গে ছোয়াভাষায় বলে, "কি হয়েছে ? ঘুম ভাঙ্গালে কেন ?"

প্রথমজন বলে, আমার মাথার দুইপাশে একটু স্ফিত যে দুইটা জিনিষ আছে সেখানে কিছুক্ষণ পর পর কেমন যেন একটু কেঁপে কেঁপে উঠছে, কেমন অদ্ভুত একটা হালকা ঝিমুনির মতও অনুভুতি। আমার না খুব ভয় করছে !

অপরজন কিছুক্ষণ তার মাথা ঝাকালো, ডানে বায়ে ও উপরে নিচে, কিন্তু কোন কিছু অনুভব করতে পারলো না। বেশ কিছুক্ষণ পর সে হঠাৎ তিৃব্র একটা ঝাকুনি খেল, আরেও, সেওতো অনুভব করছে ! সে আবার সবেগে মাথা ঝাকাতে থাকলো, নাহঃ ! সেই একই অনুভুতি !

এই নতুন অনুভুতির সাথে খাপ খেতে তাদের অনেক সময় লাগ। বেশকিছু দিন পরে তারা আবিস্কার করে একটা নির্দিষ্ট বিরতিতে ঘরের ছাদের উপরে অংশটা কেঁপে কেঁপে উঠে আর সেই সাথে তাদের কানেও একটা ধাক্কার মতো লাগে। দ্বিতীয়জন কিছু একটা আন্দাজ করে , অন্ধকার হাতড়ে হাতড়ে দেয়ালের কাছে যায়। এতদিনে তারা এই নিকষ কালো অন্ধকারে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। না মানিয়ে তো উপায়ও নেই, তারা যে অন্ধ।

সে দেয়ালে কান পেতে কিছু শুনার চেষ্টা করে এবং কিছু অপরিচিত শব্দও তার কানে আসে। সে হঠাৎ করে চিৎকার করে উঠে ! তার গলার চিৎকারে অপরজন ভয় পেয়ে যায়, সে নিজেও বেশ অবাক হয় ! তার গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে ! সেই শব্দ আবার সে শুনতেও পাচ্ছে !

পরবর্তী বেশকিছু দিন তাদের কেটে যায়, নতুন ভাষায় অভ্যস্হ হতে। তারা এখন না ছুয়েও মুখ দিয়ে নানান শব্দ করে ভাব বিনিময় করতে পারে।

৪.
বেশকিছু দিন পর, ঘুম থেকে জেগে চোখ খুলতেই প্রথমজন একটা ধাক্কার মতো খায় ! সে চোখ বন্ধ করে ফেলে। একটু পর আবার পিটপিট করে খুলে। সে দেখতে পায় তার চারদিক থেকে অন্ধকার ধীরেধীরে সরে যাচ্ছে ! এ এক অন্য অনুভুতি ! প্রথম বারের মত সে দায়ালটা দুর থেকে দেখে, না ছুঁয়ে। সে আস্তে আস্তে ঘরের চারদিকে দেখতে থাকে আর ভাবে কৈ যতবড় ভেবেছিলাম এত বড়তো মনে হচ্ছে না এই ঘরটা ?

এইবার সে অপরজনের দিকে তাকায় এবং চমকিয়ে উঠে ! আরে ওতো অবিকল আমার মত ! এইযে আমার মত হাত, আমার মত পা, মাথা, সব কিছুই তো আমার মত ! তাহলে কি আমিই সে বা সেই কি আমি ? আমরা দুইজন কি দুটি আলাদা সত্ত্বা নাকি একক ?

এইসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে সে তাকে ঘুম থেকে উঠায়। অপরজনেরও একই অনুভুতি, অবিকল তার মতো।

আবার তারা ভাবতে বসে, কোথায় বন্দি আমরা ? আমাদের কি এইটাই জীবন ? আমরা কি আর কখনও দেয়ালটার ঐ পাশে যেতে পারবো না ? এইটাই কি আমাদের একমাত্র ভুবন ?

৫.
হঠাৎ একদিন, প্রথমজনের চিৎকারে দ্বিতীয়জন চমকিয়ে উঠে। সে চিৎকার করে বলছে, আমাকে কি যেন নিচের দিকে টেনে নিয়া যাচ্ছে ! আমাকে বাচাও, আমার প্রচন্ড ভয় হচ্ছে , আমি তলিয়ে যাচ্ছি !

দ্বিতীয়জন আপ্রান চেষ্টা করছে তাকে টেনে তুলে রাখতে, কিন্তু পারছে না ! ধীরে ধীরে প্রথমজনের সম্পূর্ন শরীর কোথায় যেন হারিয়ে যায় ! অপরজনের ভীষন কষ্ট হতে থাকে, তিৃব্র একটা কষ্টে অনুভুতি, তার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে। তার মনে হচ্ছে সে এই জগতের সবচেয়ে অপদার্থ একজন যে তার একমাত্র সঙ্গীকে ধরে রাখতে পারেনি ।

সে ভাবতে থাকে আচ্ছা, প্রথমজনের কি মৃত্যু হয়েছে, সে কি এখন অন্য জগতে আছে। আচ্ছা, এই ভুবনের মৃত্যুর সরুপ কি এই ? ভাবতে ভাবতে হঠাৎ সে অনুভব করে কি যেন তাকেও নিচের দিকে টানছে ।

শেষ অংশ:
আফজাল সাহেব হাসপাতালের করিডরে অনেকক্ষণ ধরে হাটাহাটি করছেন, তাকে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে। এমন সময় একজন নার্স দৌড়িয়ে তার কাছে এসে বললো, "অভিনন্দন, আপনার ছেলে হয়েছে, মা ও ছেলে দুজনেই ভালো আছে, তবে !"

তবে কি ?

তবে, জমজ মেয়েটিকে আমরা বাঁচাতে পারিনি।

 

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:১৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:১৩
পারভেজ বলেছেন: অসম্ভব সুন্দর হয়েছে!!!!!
চমৎকার লিখেছেন!!
+++++++
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:১৯

লেখক বলেছেন: :) ধন্যবাদ ........ অনেক, অনেক :)

১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২০

লেখক বলেছেন: :) অনেক ধন্যবাদ :)

৩. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২৪
একরামুল হক শামীম বলেছেন: পুরোটা পড়লাম। গল্পটা ভালো লেগেছে।

কেন জানি ফিনিশিংটা তেমন চমকপ্রদ মনে লাগে নি আমার কাছে। শুরুর দিকে ভালোই জমে উঠেছিলো।
অভারঅল ভালো হয়েছে ফ্যান্টাসী গল্পটা।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ :) .......অনেক

আসলে, নতুন লেখক তো তাই মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলি ....... :(

সামনের দিকে আরও ইম্প্রোভ হবে আশা করি....... যদি ঠিকঠাক মত সমালোচনা পাই :) .......

৪. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:২৬
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: মাইগড...

দুর্দান্ত।
সমালোচনা করার কিছূ নেই।
ব্যতিক্রমি থিম।
বড় পরিসর হতে পারত।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৩৫

লেখক বলেছেন: ঠিক বলেছেন, আসলেই বড় করা যেত, তবে নতুন তো , তাই বড় করার ঝুকি নিতে ভয় করে, যদি খেই হারিয়ে ফেলি ।

আপনার মত লেখকের প্রশংসা পেয়ে সত্যি খুব খুব খুশি হয়েছি :) ........ অনেক অনেক ধন্যবাদ :)

৫. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৩০
মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: ওরে বাসরে!!!!

লিখতে থাকেন।

কেমন আছেন?
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: খুশি হয়েছি আপনার কমেন্ট পেয়ে :) ........ ধন্যবাদ .......

আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো আছি, ভাই :) ........

৬. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৩৬
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: আমি লেখক নই।
বেশী বলে ফুলিয়ে দিয়েন না।
পড়ে ফেটে যাব :)
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন: আমি কিন্তু সত্যি আপনার লেখার ভক্ত ....... অফলাইনে মুটামুটি আপনার সব লেখাই পড়ি :)

১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩০

লেখক বলেছেন: :)

৮. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৪৭
একরামুল হক শামীম বলেছেন: বড় পরিসরে হলে আরো ভালো হতো।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ২:৫২

লেখক বলেছেন: আসলেই বড় করা যেত ....... তবে নতুন তো , তাই বড় করার ঝুকি নিতে ভয় করে, যদি খেই হারিয়ে ফেলি ........ তবে আপনারা ভরসা দিলে পরবর্তীতে বড় করার ইচ্ছা আছে :) .........

১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:১৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ :)

১০. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৪৭
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: বর্ণনা তো ভালো যথারীতি, কাহিনী বেশ ব্যতিক্রম, বোঝা যাচ্ছে পুরো গল্পটি আগে থেকে বেশ কবার সাজিয়ে নিয়ে লিখতে বসেছেন; প্রথম গল্পের ছোটোখাটো ভুলগুলো এটাতে নেই একদমই, তবে শেষের দিকে কিছুটা তাড়াহুড়ো করেছেন বলে মনে হয়।

মোস্তাফিজ রিপন ভাই কই? উনার সমালোচনা আপনার বেশি কাজে লাগবে।

ধন্যবাদ।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:১০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ........

আমি মানুষের ৩টা ইন্দ্রিয়ের ডেভলাপমেন্ট নিয়ে এই গল্পটা সাজিয়েছে, স্পর্শ, বাক ও শ্রবন এবং দৃষ্টি........ বুঝতে পারছি অনেক ফাকফোকড় আছে :( ....... আসলে কল্পনায় যা দেখি ঠিক সেইরকম ভাবে লিখে ফুটিয়ে তুলতে পারি না , এখনও :( ..........

প্রতিটা অংশই আরও বড় করা যেত ....... পরবর্তীতে ইচ্ছাও আছে ........ শেষের দিকে আসলেই খুব তাড়াহুড়ো করেছি, এখন বুঝতে পারছি, ...... ধৈর্য অনেক কম :| ......

যখন লিখি, তার আগে মূল থিমটা মাথায় নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবি....... তার পর চোখ বন্ধকরে ঐ ক্যারেক্টারের সাথে একাত্ব হয়ে থাকি আরও কিছুক্ষন ...... নিজেকে ঐ ক্যারেক্টারের জায়গায় ভাবি ..... তারপর লিখা শুরু করি :) ......... সবাই কি এইভাবেই লিখে ?

আর, একবার শেষ হয়েগেলে, দ্বিতীয়বার আর পড়তে ইচ্ছা করে না :( ...... মানে রিভিসন দিতে ইচ্ছা করে নে, সবচেয়ে বড় দুর্বলাতা :| .......

:) মাথায় এমন অনেক আইডিয়া গিজগিজ করছে , কিন্তু লিখে প্রকাশ করতে গেলেই দেখি ভাবনার মত হচ্ছে না, কোথায় যেন সুর কেটে যায় ..... সময়েরও অনেক অভাব :) ........।

১১. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৪২
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: আমি মানুষের ৩টা ইন্দ্রিয়ের ডেভলাপমেন্ট নিয়ে এই গল্পটা সাজিয়েছে, স্পর্শ, বাক ও শ্রবন এবং দৃষ্টি.......

- হুমম পঞ্চইন্দ্রিয়ের বহুমাত্রিকতা বিষয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছেন আপনি পাঠকদের, এটা খুবই ভালো।

প্রতিটা অংশই আরও বড় করা যেত ....... পরবর্তীতে ইচ্ছাও আছে ........

- এধরনের গল্প বেশি বড় হয়ে গেলে কিন্তু ভালো নাও লাগতে পারে, কারণ পাঠক এমনিতেই টেনশনে থাকে যেহেতু প্রথম দিকের বর্ণনাগুলো তার কাছে বিমূর্ত; আমার ধারণা বিমূর্ত ভাবটি বেশি দীর্ঘ করা ঠিক নয়, পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে; আমি অনেককে চিনি যারা এ অবস্থায় সহ্য করতে না পেরে শেষের অংশটুকু (যেখানে চমক ভাঙ্গে) আগে পড়ে ফেলে!! ভালো লেখকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে লেখার কোন অংশে এসে পাঠক উত্তেজনার শেষপ্রান্তে পৌঁছে যাবে তা তিনি আগে থেকে বুঝতে পারেন।

যখন লিখি, তার আগে মূল থিমটা মাথায় নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবি....... তার পর চোখ বন্ধকরে ঐ ক্যারেক্টারের সাথে একাত্ব হয়ে থাকি আরও কিছুক্ষন ...... নিজেকে ঐ ক্যারেক্টারের জায়গায় ভাবি ..... তারপর লিখা শুরু করি......... সবাই কি এইভাবেই লিখে ?

- বেশিরভাগই এভাবেই লেখে, তবে অনেক সময় এমনও হয় যে মোটামুটি অগোছালোভাবে একটা টপিক মাথায় রেখে লিখতে বসে যায় লেখক, লিখতে লিখতেই গোছালো ভাবটি চলে আসে, যেটি হয়তো অনেকবার চিন্তা করলেও আসতোনা।


আর, একবার শেষ হয়েগেলে, দ্বিতীয়বার আর পড়তে ইচ্ছা করে না ...... মানে রিভিসন দিতে ইচ্ছা করে নে, সবচেয়ে বড় দুর্বলাতা .....

- হ্যাঁ এটি অবশ্য একটি দুর্বলতাই!

মাথায় এমন অনেক আইডিয়া গিজগিজ করছে , কিন্তু লিখে প্রকাশ করতে গেলেই দেখি ভাবনার মত হচ্ছে না, কোথায় যেন সুর কেটে যায় ..... সময়েরও অনেক অভাব...

- আমারও তো! :(
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: আরে এমন সমালোচনাই তো চাই !!!!!!!
বিমূর্ত ভাবটির ব্যাপারে ঠিকই বলেছেন :) .......... আর এই যে আপনার প্রতিটা পয়েন্ট ধরেধরে উত্তর দেওয়া....... দারুন লেগেছে, সত্যি বলছি :) ........।

অনেক ধন্যবাদ :) :)

১২. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৫
যীশূ বলেছেন: দারুন লেখা, দারুন আইডিয়া। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় বৈজ্ঞানিক কিছু অসংগতি থাকতে পারে।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৪৩

লেখক বলেছেন: ভালো লেগেছে শুনে খুব খুশি হয়েছি :) ........ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে শুধু কিছু কিছু না , অনেক অনেক অসংগতি আছে :( ........ :) সেই জন্যেই তো ফ্যান্টাসী গল্প হা হা হা হা ........ :)

আবারও অনেক ধন্যবাদ :)

১৩. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৮
রাব্বি বলেছেন: ব্যান উঠায়া নিছি। গল্প ভাল্লাগলো
১৪ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: ঠিকাছে ......

১৪. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:১০
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: গল্পটি ভাল লেগেছে। অনেক ভাল। সমালোচনা করার কিছু নেই। (অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন, আবার প্রাসঙ্গিকও মনে হতে পারে, মায়ের পেটে বাচ্চার যে বেড়ে ওঠা- তাতে কোন ইন্দ্রিয় আগে তৈরী হয়- স্পর্শ, নাকি শ্রবণ? এমনি জানার জন্য জিজ্ঞাসা করলাম।)

গল্পের শুরুতে 'ফ্যাণ্টাসী' কথাটা বাদ দিলে কেমন হয়? ফ্যাণ্টাসী গল্প পাঠের জন্য মানসিক প্রস্তুতি কি জরুরী?

একটি প্রশ্ন মাথায় আসলো; আপনি লিখেছেন, '...ভয়ের জায়গার গ্রাস করে তীব্র এক ভালোবাসা, একদম শতভাগ স্বর্গীয় ভালোবাসা।' এই 'শতভাগ স্বর্গীয় ভালোবাসা' কথাটি কি মায়ের পেটে বেড়ে ওঠা জমজের 'নিষ্কাম' সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহার করেছেন? না-কি ভালোবাসার কামভাবজনিত অপরাধ থেকে পাঠককে মুক্তি দিয়েছেন?

শুভেচ্ছা জানবেন। আরো গল্প চাই।
১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:৪০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ :) ........

আমি যেহেতু চিকিৎসা বিজ্ঞান লাইনের মানুষ না তাই প্রকৃত উত্তর দিতে পারছিনা....... তবে, শ্রবন ইন্দ্রিয় যেহেতু নার্ভাস সিস্টেম সাথে সম্পর্কযুক্ত আর স্পর্শ যেহেতু সারাসরি নার্ভাস সিস্টেম উপর ডিপেন্ডেন্ট, তাই মনে হয়েছে , যদি আগে নার্ভাস সিস্টেম ডেভেলাপ করে তবে সাথে সাথে স্পর্শ ইন্দ্রিয়টাও ডেভেলপ করবে এবং নার্ভাস সিস্টেম ও ব্রেন মুটামুটিভাবে ডেভেলাপ হয়ে গেলে তার পর মনে হয় শ্রবন ইন্দ্রিয় ডেভেলপ করে....... যাইহোক, ভুল হবার সম্ভোবনা শতভাগ ..........

ফ্যান্টাসী গল্পের ব্যপারে আপনার উপদেশটা সত্যি ভালো লেগেছে..... ধন্যবাদ .......

ইউ আর এ জিনিয়াস !!!!!!!! সত্যি বলছি, আমি হতবাক !!! ঠিক এই জায়গায় এসে আমি অনেকক্ষণ বসে ছিলাম , কিভাবে এই ভাই বোনের সম্পর্কটা লিখে প্রকাশ করবো !!!! একদম ঠিক ধরেছেন, কামভাবজনিত অপরাধ থেকে পাঠককে মুক্তি দিতেই এই অংশটা লিখেছি....... বস্, আপনার কি কোন উপদেশ আছে এইখানে ? জানালে সত্যি খুব খুশি হবো :) ..............

অবশেষে ....... অনেক অনেক খুশি হয়েছি আপনার টু দা পয়েন্টে আলোচনা পেয়ে......... হ্যাটস অফ টু ইউ ......... :):)

১৫ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: থ্যান্কস বস্ ..... :):)

আপনাকে তো আমার ব্লগে দেখিই না একদম :( .........

১৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ৩:১৪
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: ১। ছবিটা দেখে ভাবলাম সাই-ফাই বা স্বর্গারোহণ জাতীয় কিছু। তারপর, একটা পর্যায়ে মনে হলো অন্যকিছু। শেষে আলোর অংশে এসে যেটা ভেবেছি সেটাই হলো!
২। আমি গল্পটায় অনেক মজা পেয়েছি লেখকের চিন্তার সাথে লুকোচুরি খেলে। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
৩। গল্পের বিষয়টা অসাধারণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানজনিত তথ্য জানার দরকার নাই। আবেগী দিক থেকে গল্পটা এতই নিখুঁত যে ঐটা নজরেই পড়ে নাই আমার! ধন্যবাদ আবারো দেবদূত'দা:)
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫০

লেখক বলেছেন: :) কেন যেন আপনার কমেন্ট পড়লে খুব ভালো লাগে .......ধন্যবাদ :)

১৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৫০
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ঐ বাক্যটির ব্যাপারে আসলে কোন পরামর্শ নেই। আপনার পাঠক মন কি বলে? (সেই সত্য রচিবে যা তুমি...)
__________________________________________

গল্পে চিকিৎসাবিজ্ঞান! :)
আসলেই দরকার নেই। সত্যিই কি দরকার নেই? খুব সম্ভবতঃ গল্পে বেঠিক বলেও কোন কথা নেই। নেই?
১৬ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: আমি আসলে ঐ বাক্যটির ব্যাপারে একটু কনফিউজ্ড :( ........ধন্যবাদ :) ......।

ভালো লাগলো আপনার শেষে কেমন একটা সত্য মিথ্যার ধোয়াটে ভাব ফুটিয়ে তুলেছেন :) ........। আসলেই গল্পের বেঠিক বলে কিছু নেই, নেই ? ..... হা হা হা

ধন্যবাদ :)

১৮. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:৫০
চাচামিঞা বলেছেন: কঠিন কঠিন কঠিন.....। সত্যি ভালো লেগেছে। শেষ পর্যন্ত চমক ছিলো, এবং আমি সত্যি চমকেছি। কি আর বলবো, চালিয়ে যান....আমন আরো লিখা চাই। ১২ তম + টা আমার।
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ...... খুব খুব খুশি হয়েছি আপনার ভালো লেগেছে শুনে.......

অনেক আইডিয়া মাথার মধ্যে ঘুরঘুর করে, কিন্তু লিখতে গেলেই দেখি, কল্পনার মত হচ্ছে না..... এইটাই মনে হয় লেখক আর আমার মধ্যে ডিফারেন্স :(

এখন আর একটা লিখছি, আশা করি ২/১ দিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন :)

১৯. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৭
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আমি খোঁজ নিয়েছি আমার এক ডাক্তার বন্ধুর কাছে। ত্বকের স্পর্শই প্রথম অনুভূতি এলাকা!:)
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১১

লেখক বলেছেন: হা হা হা ........ বুঝছি, আমার লেখা আপনাকে ভালোই ভাবিয়েছে হা হা হা .......

আর একটা জিনিষ, আমার কল্পনার শক্তি মনে হয় খারাপ না ..... হা হা হা.......

অনেক ধন্যবাদ ..... :) আপনার এই কমেন্ট খুব মজা পেয়েছি ........ হা হা হা

২০. ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৬
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: হা হা... ইয়ে মানে .. আমি তাড়িত হলে অনেক সময় ধরে সেটি নিয়ে ভাবি... বদঅভ্যাস।
একঘেঁয়ে অফিসে বসে ঠাণ্ডা হচ্ছি। এখন মনে পড়লো তাই বললাম...:)

আপনার কি খবর?
২০ শে আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২০

লেখক বলেছেন: এইতো ভালো আছি, আল্লার রহমতে। নতুন গল্প লিখছি .... :) ..... ২/১ দিনের মধ্যেই পোষ্ট করবো :) :) .......।

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: :)

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩২

লেখক বলেছেন: থ্যাঙ্কু :)

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: :) অনেক ধন্যবাদ ....... কাক সাহেব ;)

২৪. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ ভোর ৪:৪১
কঁাকন বলেছেন: দারুন লাগলো

ভালো থাকুন
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৫২

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ :) .....এত আগের গল্প খুঁজে খুঁজের পড়ার জন্য আবার একটা স্পেশাল থেংক্স :) .....

২৫. ২২ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:৪৪
রাশেদ বলেছেন: খাইছে! এইটা মনে হয় অফলাইনে পড়ছিলাম।


নো সমালোচনা। সুন্দর গল্প। :(
২২ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: হা হা হা ..... এটাতো অনেক আগের পোষ্ট :) ...

এটাতে আপনার কমেন্ট দেইখা বুকটা ধ্বক্ করে উঠছিলো ;) .... নাহ্ , এটারে নিয়া কোন মিশনে নামেন নাই :) ....

২৬. ২২ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৪৩
ইসরা০০৭ বলেছেন: আপনার ব্লগে কখনও আর আসা হয়নি আজ সীমানা পেরিয়ে ভাইয়া পোষ্ট দেখে আপনার লেখা গল্পটা পড়ে গেলাম।


অসম্ভব সুন্দর হয়েছে চমৎকার করে লিখেছেন++

ভালো থাকুন।
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১:৪৯

লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। অনেক আগের লেখা। কাঁচা হাত, অনেক ভুল ভ্রান্তি, বানান ভুল ইত্যাদি রয়ে গেছে, তারপরও আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুব ভালো লাগছে। ভালো থাকুন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৯১৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নিজের কথা কি আর বলবো ...... নিজে সুখী মানুষ, পৃথিবীর সবাই সুখী হওক এই কামনা করি...... কয়লার মধ্যে কালো খুঁজি...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ