somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর একটা ডিসেম্বরের অপেক্ষায় আছে দেবদূত

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
রাস্তা দিয়ে এলোমেলো হেটে যাচ্ছে উদভ্রান্ত এক যুবক, গায়ের কাপড়ের ঠিক নেই, চুলগুলো উসকোশুষ্ক, বিড়বিড় করে কি যেন বকে যাচ্ছে আপন মনে। কত হবে ছেলেটার বয়স ? ত্রিশ বছর, বা আরও কম পঁচিশ? ছেলে বলা যাবে না কি লোক বলবো? আচ্ছা, আদমই বলি। একটু খেয়াল করলেই বুঝা যাবে আদম সন্তানটি অপকৃতস্হ।

স্বাধীন দেশে; বনীআদমরা মক্তভাবে ঘুরে বেড়াবে এটাই তার অধিকার, সেই হিসাবে পাগলেরও এই অধিকার আছে, পৃথিবীর আর কোন দেশ মনে হয় গনতন্ত্রের এই চরম উৎকর্ষতায় পৌছুতে পারেনি আমরা ছাড়া। তো! কি আর করা ! কপাল মন্দ, কিছুক্ষণের মধ্যেই রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় তাকে পুলিশ। তারপরই বাধে বিপত্তি, এই আদম বিড়বিড় করে কি বলে কেউ কিছু বুঝে না, আর পুলিশ কী জেরা করে বনী আদমের সেই দিকে কোন খেয়াল নেই।

শেষে একজন অফিসারের সন্দেহ হওয়ায় খবর দেওয়া হয় বাংলাদেশ দূতাবাসে। তারপরের ইতিহাস খুবই গতানুগতিক। তিন চার মাস আগে হতভাগা বঙ্গদেশের এই আদম সন্তানটি শেষ সম্বল নিজের ভিটে খানা বিক্রী করে নিজের বউ বাচ্চাদের অন্যের ঘরে আশ্রিত রেখে এখানে চলে আসে সুন্দর ভবিষ্যতের আশায়। স্বপ্ন দেখেছিলো এখানে এসেই কাড়ি কাড়ি টাকা পাঠাবে দেশে, সব অভাব দুর হয়ে যাবে। আর এখানে এসে তিনচার মাস ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে পথে পথে; কোন কাজ নেই, যে কোম্পানীর চাকুরির কথা বলে একে আনা হয়েছে সেই কোম্পানীও নেই, দালালও লাপাত্তা। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সে এখন সব ধরনের মানসিক চাপের উর্ধ্বে।


২.
বাবার সাথে দাড়িয়ে গল্প করছি। একটা ছেলে আশপাশ দিয়ে ঘুরঘুর করছিলো, কি যেন বলতে চায় আবার লজ্জায় বলতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর সাহস করে বলেই বসলো, "স্যার, আজকা চাইর মাস ধইরা ভাত খাই না, খবজা (শক্ত এক প্রকারের রুটি, আকারে এক হাতের মত লম্বা) খাইতে খাইতে মুখে ঘা হয়া গেছেগা"। বলেই মাথা নিচু করে ফেললো।

কত হবে ছেলেটার বয়স ? বিশ, একুশ ? আমি অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম, তার চোখের দিকে তাকানোর মত শক্তি আমার ছিলো না। পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে বললান, "কিছু কিনে খেয়ে নিয়েন"

জিজ্ঞেস করলাম, "কবে এসেছেন? কে নিয়ে এসেছে আপনাদের"?

"আসছি পেরায় চার মাসের মতন হইবো। আইসাই দেহি কোম্পানী নাই, কাম নাই" সে বললো। আর দালালের যে নাম বললো সেই নামে কাউকে চিনি বলে মনে হলো না। বাবাকে জিজ্ঞেস করতেই বললো, "দালালরা একেক জায়গায় একেক সময় একেক নাম ব্যবহার করে। আসল নাম খুব কম লোকেরই জানে। এ্যাম্বাসির সাথের ওদের দহরম মহরম। দেশেও উচ্চপর্যায়ে এদের আনাগুনা।

বাসায় এসে মাকে আজকের ঘটনা বলতেই দেখি মার চোখ চিকচিক করে উঠলো, সামলে নিয়ে বললো, "ইস্ ! তাকে বাসায় নিয়ে আসবে না ? পেট পুরে খাইয়ে দিতাম!"।

সেদিন ভাত নামছিলো না গালা দিয়ে, এক গ্লাস পানি খেয়ে গলাটা আগে ভিজিয়ে নিতে হয়েছিলো।


৩.
বিজয়ের মাস, প্রতি বছর মাসটা ঘুরে ঘুরে আসে, সেই কবে ৭১ এ বিজয় ছিনিয়ে এলেছিলাম, তারপর থেকে তিলে তিলে শুধু পরাজিতই হয়ে যাচ্ছি। এইমাসের ষোল তারিখ পুরোটা জুড়ে চলবে সরকারি আর বিরুধী দলের নানা আয়োজন, টিভি টকসো গুলোতে আলাপ আলোচনার ঝড় বয়ে যাবে। আমরা স্মৃতিরোমন্হন করে আনন্দে শিহরিত হবো, আর প্রতিদিনের মত ক্ষুধার অশ্লীল চিৎকারে কাতরাতে থাকবে ভুখা নাঙ্গা আদমসন্তান।

মন্ত্রী-আমলার চকচকে পাঞ্জাবীতে বিলাতি সেন্টের গন্ধ মউমউ করবে চারপাশ আর কোন এক নাম না জানা আদমের মেয়েবউ এর ঠোঁটে লাগবে টকটকে লাল লিপস্টিক, গায়ে গুলিস্তানের কড়া পারফিউমের গন্ধ আর টাকার কাছে পরাজিত হবে নারীত্ব আর এখানে ডলারে ভিক্ষা করবে আদম সন্তান।

ঐদিকে দালাল, চাটুকারেরা বলবে "এভরিথিং এই আন্ডার কন্ট্রোল স্যার, এভরিথিং ইজ নরমাল, মাঝে মাঝে দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, এগুলো কোন ব্যাপার না। আমরা ম্যানেজ করে নিব।" আর সবকিছু অমনি ম্যানেজ হয়ে যায়।

পরিত্যেক্ত পানির পাইপের মধ্যে শীতে জির্ণ শীর্ন শরীরে কাঁপবে শত শত ছোটলোকের বাচ্চা, আধুনিক কৃতদাস; আর তাদের শেষ রক্তবিন্দুটা চুষে চুষে আদমের প্রভুরা হাটে গিয়ে খুঁজবে কোরবানীর বড় গরু।

এই শেষ নয়, শুয়োরের বাচ্চা.....সময় আসবে একদিন এইসব ছোটলোকের, এইসব হতভাগ্য আদমের, পালানোর পথ পাবি না তখন, হারামজাদা। শুধু অপেক্ষা আর একটা ষোলই ডিসেম্বরের।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৬
৪৬টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×