somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্নগুলো আশার ভেলায় ভাসিয়ে অধীর আগ্রহে বসে আছি সুদিনের আশায়

৩০ শে মে, ২০১০ রাত ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
এ্যাজোকো (AGOCO-Arabian Gulf Oil Company), এখানকার সবচেয়ে বড় চারপাঁচটা তেল কোম্পানির মধ্যে অন্যতম। বছরপাচেক আগের ঘটনা, একটা প্রজেক্টের ব্যাপারে কথা বলতে বাবা গেলেন প্লানিং ডিপার্টমেন্টের চিফের সাথে দেখা করতে। বাবাকে দেখেই উনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কী ইন্ডিয়ান?”

-নাহ, আমি বাংলাদেশি।

তারপর ঐ অফিসারের প্রতিক্রিয়া হলো দেখার মত। রীতিমত বাবাকে জড়িয়ে ধরে তার সে কী উল্লাস! সে বললো, “জানো, আমি কানাডায় পিএইচডি করেছি, আমার সুপারভাইজার ছিলেন বাংলাদেশি এক প্রফেসর, উনি আমাকে যে পরিমান সাহায্য সহযোগীতা করেছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। তারপর থেকে সুযোগ পেলেই আমি বাংলাদেশিদের সাহায্য করার চেষ্টা করি।”

বলা বাহুল্য এই অফিসারের সাহায্যে বাবার মাধ্যমে সেবার বিশাল একটা প্রজেক্ট পেয়েছিল এখানকার এক বাংলাদেশি কোম্পানি। যাই হোক যে কারনে এত ঘটনার বয়ান তা হলো, “সেই নাম না জানা বাংলাদেশি প্রফেসরের কিছু উপকারের বিনিময় যে এত বছর পর এভাবে পাওয়া যাবে তা কী কেউ ভেবেছিলো?” আমরা অনেকেই ভাবি, “আরে ধুর, এর উপকার করে আমার কী লাভ?” এই ভাবনাটা একেবারেই ভুল। আমরা কেউ যদি কারও কোন উপকারই করি তবে তা কোনভাবেই বিফলে যায় না, অনেক বছর পর হলেও তা শতগুণ হয়ে ফিরে আসবে, এটাই প্রকৃতির রীতি। আমরা যারা দেশের বাইরে আছি তারা প্রত্যেকেই একেকজন এম্বাসেডর, আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। মানুষের প্রতি করা আমাদের ছোট ছোট উপকার, একটু মিষ্টি ব্যবহার, মিষ্টি কথা, নিদেরপক্ষে একটু হাসি হয়তো দেখা যাবে পর্বতসম ঠেউ হয়ে ফিরে আসছে।

২.
প্রায় চল্লিশ বছর লিবিয়া ছিল ইটালির কলোনি এবং ১৯৫১ সালে তারা এই এলাকা ছেড়ে যায়। কলোনি থাকলে যা হয়, অন্যায় অত্যাচার, হত্যা, লুন্ঠন সবই করেছিলো তারা; এইসবের জন্য কিছুদিন আগে ইটালি সরকার লিবিয়ার কাছে ক্ষমা চায় ঠিক এই ভাষায়,

"It is my duty, as a head of government, to express to you in the name of the Italian people our regret and apologies for the deep wounds that we have caused you,"

এতবছর পর ঠিক কী হলো যে ইটালি সরকার এভাবে ক্ষমা চাবে লিবিয়ার জনগণের কাছে? আসল কথা হলো বানিজ্য। এই ক্ষমা চাওয়ার পরপরই লিবিয়ার সাথে তাদের একটা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। চুক্তিমোতাবেক ইটালি আগামি ২৫ বছর, বছরে ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে অবকাঠামো খাতে। আর প্রতিবছর কিছু লিবিয়ানদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে ইটালিতে পড়াবে। এখানে একটা জিনিস খেয়াল করার মত, তারা কিন্তু ক্ষতিপূরন হিসানে নগদ অর্থ দিচ্ছে না, বরং বিনিয়োগ করছে। মোটাদাগে এটা বলা যায়, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এরচেয়েও শতগুণ প্রফিট তারা তাদের ঘরে নিয়ে যাবে, আর ক্ষেত্রবিশেষে এদের স্বার্থ দেখবে স্কলারশিপ নিয়ে ইটালি থেকে পড়াশুনা করে আশা উচ্চপদস্থ এইসব শিক্ষিত ছেলেপুলেরা।


৩.
কিছুদিন আগে এনওসি (NOC-National Oil Corporation, তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত যাবতীয় বিনিয়োগ, নতুন নতুন তেলক্ষেত্র অনুসন্ধান ইত্যাদি এই সংস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করে সরকার) ১২ জনের এক গ্রুপকে ইঞ্জিনিয়ারিং ও অর্থনীতি পড়ার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলো।ইন্ডিয়ান একটা গ্রুপ খুব চেষ্টা করেছিলো এদের যেন ইন্ডিয়াতে পাঠানো যায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেনি। যে সব কারনে তারা পারেনি তার মধ্যে প্রধান কারণ হলো সাধারন লিবিয়ানরা ইন্ডিয়ানদের খুব একটা পছন্দ করে না। কেন যেন এদেশের সাধারন মানুষের ধারন হিন্দুরা নোংরা প্রকৃতির হয়। এই সুযোগটা বাংলাদেশ খুব ভালো ভাবে নিতে পারে। বাংলাদেশের ৫টা পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিতে যদি প্রতিবছর প্রতিটিতে ৫ জনকে বৃত্তি দিয়ে পড়ার ব্যবস্থা সরকার করে তাহলে প্রতি বছর ২৫ জন হয়। ৪ বছরে এই ১০০ জন, এরা সবাই যখন দেশে ফিরে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করবে তখন এদের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি এই দেশে গড়ে উঠবে সেটা টাকায় হিসাব করা সম্ভব না। আর ব্যবসায়িক লাভের কথা নাইবা বললাম। যে কোন তরুন যখন একটা দেশে ৪/৫ বছর থাকে সেই দেশ সম্পর্কে তাদের এক ধরনের আবেগ তৈরি হয়, মায়ার বাধনে জড়িয়ে পড়ে। আমি দেখেছি আমাদের ভার্সিটিতে প্রতি বছর কাশ্মির, শ্রীলংকা থেকে বেশি কিছু ছেলে পড়তে আসতো, এদের এভাবে পড়িয়ে বাংলাদেশ সুদুরপ্রসারী কিভাবে লাভবান হচ্ছে সেটা আমার জানা নাই, কিন্তু লিবিয়ার মার্কেট সবে মাত্র প্রস্ফুটির হচ্ছে। এই কারনে ইউরোপ, আমেরিকা, ইন্ডিয়া, চায়না, থাইল্যান্ডের পুরা নজর এদের উপর। বাংলাদেশের কী কোন পরিকল্পনা বা মাথা ব্যাথা আছে এ নিয়ে?

কোন দেশ বাংলাদেশ থেকে কয়েক লক্ষ শ্রমিক নিবে এই খবর শুনে আমার আহ্লাদিত হয়, কিভাবে আরও শ্রমিক পাঠানো যায় সেটাই আমাদের সরকারের টার্গেট, আর আমাদের পাশের দেশ ইন্ডিয়ার টার্গেট এখানকার আইটি মার্কেট ধরার, কন্সট্রাকশন মার্কেট ধরার, কন্সালটেন্সি মার্কেট ধরা। সময় হয়েছে আমাদের নজর উচু করার, বিশ্বাস করার সময় হয়েছে আমরাও পারি। অনেক আশায় বুক বাঁধি একদিন আমাদের দেখে প্রথমেই কেউ বলবে না যে “তুমি কি ইন্ডিয়ান” বরং দক্ষিণ এশিয়ার কাউকে দেখলে প্রথমেই বলবে “ও! তুমি কী বাংলাদেশি”।
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×